পোড়া ঘা শুখিয়ে আসে শাহাজাদি জাহানারার। মুখে হাসি ফোটে তাঁর, গান হয়, সুর বেজে ওঠে মহলের কোনায় কোনায় আনন্দের বাতাস বইতে থাকে মনে মনে। শাজাহান ভাবেন সে বাতাস সত্যি হবে কবে।আবার ঘা ফিরে এল, কিছু কিছু জায়গায় পুঁজ গড়াচ্ছে, এই করে করে মাস গড়িয়ে বছর পার হয়ে যায় – আট মাস আট দিন বিছানায় শুয়ে থাকার পর বেগম সাহেব নিজে উঠে এলেন শাহেনশাহের ... ...
কদিন ধরে একটা ভাবনা শাহেনশাহ শাজাহানের মনে খচখচ করছে, রাতের বেলা স্বপ্নে দেখা দিয়েছেন বেগম মুমতাজ মহল। তিনি যমুনার জল থেকে সরাসরি উঠে এসেছেন, তাঁর সারা গায়ে জলের ফোঁটারা টপটপ করে ঝরছে কিন্তু বিশাল যমুনার দিগন্ত বিস্তারি খাতে কোথাও এক ফোঁটা জল নেই। শুধু বালি, ধু ধু করছে বালির চড়া তার ওপর দুটো চখাচখি বসে। তারা কি ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে পাতলা জলের ... ...
হতাশাই আমাদের মত শুভাশুভ বোধ (রিডেম্পশন) বর্জিত বুদ্ধিজীবীদের প্রাপ্য। হিন্দুস্থানের মিশ্র সংস্কৃতির অপার সাগর থেকে মুখ ফিরিয়ে মূলত ইংরিজি কসমোপলিস নির্ভর শিকড়হীন মনন চর্চার ঠ্যালা বুঝতে হবে। সংঘ পরিবার শুধু হিন্দী ভাষী অঞ্চল নয় সারা দেশের জন্যই এক বিশ্বাসযোগ্য হিন্দুত্ববাদী ন্যারেটিভ বানিয়ে ফেলেছে। আর পশ্চিমবাংলায় আমরা আঞ্চলিক বাঙালি গুমোর নির্ভর প্রয়োজনবাদী ... ...
বেশির ভাগ বাংলা ফিকশনের বই বিক্রি সে রকম হয় না। কবিতা কিস্যু হয় না। প্রকাশকরা টাকা নিয়ে বই ছাপায়। লেখকরা পায়রা ওড়ানোর সখে পয়সা দিয়ে বড় মাঝারি ছোট প্রকাশকদের থেকে বই বের করে। কারণ লেখকরা ভদ্দরলোক, পুরুষ ভদ্দরলোককে বাবু বলে। মহিলা ভদ্রলোকদের কী বলা হবে এখনও ঠিক হয়নি। পুরুষ ভদ্দরলোকরা আগে রাঁড়ের বাড়ি যেত। আমার পূর্বজরাও যেতেন। ওনারা বলেকয়ে ... ...
ঔরঙ্গজেব-দিলরাস বানুর সম্পর্ক নিয়ে সরাসরি আলোচনা কম। এক চিঠিতে তাঁকে দিলরাস বানু সম্পর্কে বলতে শোনা যায় যে উনি ছিলেন, ‘‘বড্ড একগুঁয়ে, কিন্তু শেষ দিন পর্যন্ত আমি তাঁকে ভালবেসেছি আর মনে আঘাত লাগে এমন কোন কাজ করিনি।’’ এসব কাঠ কাঠ কথা বললে আর গল্প জমে!------ তাহলে?------ কী?------ গল্প জমবেই না?------ জমবে।------ জমবে?------ আলবাত।------ কী সে গল্প কী সে কথা?------ বহু প্রাচীন সে কথা। পুরনো সে গল্প।------ কী তা? কী কী তা?------ বলছি।------ বল।------- রাবিয়ার কথা বলছি।------- ঔরঙ্গজেব-দিলরাস বানুর গল্পে রাবিয়া আসছে কোথা থেকে?------ ঔরঙ্গজেব দিলরাস বানুকে মৃত্যুপূর্ব উপাধি দেন রাবিয়া উদ দৌরানি বা এ যুগের রাবিয়া।------ কেন দিলেন এই উপাধি?------ দিলেন ... ...
ঔরঙ্গজেব আলমগীরের প্রধান বউ দিলরাস বানু বেগমের কুড়ি বছরে পাঁচ ছেলেমেয়ে হয়। তাঁদের জন্মের গড় পার্থক্য চার বছর। শাজাহানের প্রধান বউ মুমতাজের হয় উনিশ বছরে চোদ্দ জন ছেলেমেয়ে। দুই বেগমই পোস্টপার্টাম - সন্তান জন্মের পরের জটিলতায় অকাল মৃত্যু বরণ করলেন। মধ্য বা প্রাক আধুনিক যুগে জন্ম নিয়ন্ত্রনের কথা ভেবেছে কে? অতএব শাজাহান বা ঔরঙ্গজেবের মাথাতেই বা তা কেন ঢুকবে? অন্য ... ...
রিচার্ড ইটন ভারতের ইতিহাসের দুই যুগের কথা বলেছেন -চতুর্থ থেকে চতুর্দশ শতক সংস্কৃত যুগ। দশম থেকে অষ্টাদশ পারসিক যুগ। শেলডন পোলক বলেছেন সংস্কৃত ও পারসিক কসমোপলিস বা ভাবনা কেন্দ্রের কথা। ওনাদের কথা বললাম এ জন্য যে ওনারা হিস্ট্রিকে অর্থাৎ অতীতের সত্যিকে ডিকলোনাইজ বা কলোনির প্রভাব মুক্ত করেছেন। এটা করলেই দেখা যাবে ভারতে চারশো বছর সংস্কৃত ... ...
বঙ্কিমের রাজসিংহ কেন বাঙলা ঐতিহাসিক উপন্যাসের পুরো গুষ্টিটাই গুলগাপ্পার জঞ্জালে ভরা। বড় সাহিত্যিকরা নানা এজেন্ডা নিয়ে গুলই মেরেছেন আর আমরা এখনো সেসব গিলছি। ১৯৯২এর বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার পর দক্ষিণ এশিয়ার মিশ্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের যা গঙ্গা যামুনি তেহজিব বলে পরিচিত তার নানা দিক নিয়ে প্রচুর কৌতূহলদীপক আলোচনা/গবেষণা হয়েছে আর আমরা হিন্দুত্ব দূরস্থান, নেহেরু প্রমুখ জাতীয়তাবাদেৱ নির্মাতাদের পচা ন্যারেটিভগুলো হিস্ট্রি বলে এখনো গিলছি। এতে অবিরত দেশভাগের ন্যারেটিভই জিতছে আর হিন্দুত্ব সেটাই চায়। এর বাইরে গিয়ে সত্যকে সামনে আনতেই হবে। এটাই এযুগের সবচেয়ে বড় গোয়েন্দা কাহিনীর প্রজেক্ট। সত্যমেব জয়তে। জয় হিন্দ। ... ...
প্রথম বিয়ের পর শাহাজাদা ঔরঙ্গজেব মাস তিন মহা আনন্দে আগ্রায় কাটিয়েছিলেন তারপর তাঁর ছুটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ষোলোশো সাঁইতিরিশের চৌঠা সেপ্টেম্বর। তিনি রওনা হচ্ছেন দাক্ষিণাত্যে সুবেদারি সামলাতে। এই সন তারিখ শাজাহান পাদশানামায় লিখিয়ে রেখেছিলেন এর থেকে তাঁর কড়া অনুশাসনের একটা আন্দাজ পাওয়া যায়, বাদশাহী যতেক তম্বি সুড় সুড় করে মানতে হচ্ছে নববিবাহিত শাহাজাদা ঔরঙ্গজেবকেও, অগত্যা নতুন বউ নিয়ে তিনি ধূলো মেখে ... ...
ক্রিকেট মাঠের শব্দেরাউপল মুখোপাধ্যায়এসব উচ্চারণকে কি বলবে বুঝতেই পারছে না সুবীর। এসবকে কোন অর্থবহ বলে মনে হয় নি তার। একি শুধু কথা, কথার কথা আর তার জড়ানো উচ্চারণ? সব শেষে কথাই শুধু পড়ে থাকে বলে কেনই বা মনে হচ্ছে তার? সে শুধু শুনছিল 'আই ল ল ল ল... লা, আই ল ল ল ল... লা আওয়াজ। সুজিত স্যার যা অনবরত বলে চলে তিনটি ক্রিকেট নেটকে কভার করতে করতে। আরো অনেক কিছু বলে, হিন্দী-বাংলা মিশিয়ে বলতেই থাকে সুজিত ... ...