এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • স্বামী বিবেকানন্দ-একটি নির্মোহ ব

    Biplab Pal
    অন্যান্য | ১৫ জানুয়ারি ২০১২ | ১০৭৮৫৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Biplab Pal | 69.*.*.* | ১৫ জানুয়ারি ২০১২ ০৮:৪৪514912
  • (১)

    স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে লেখার সমস্যা অনেক-যদিও তার রচনাবলী আমি খুব ছোটবেলা থেকে পড়ছি। তার প্রতিষ্ঠিত বিদ্যায়তনেই আমার শিক্ষা- তবুও বিবেকানন্দকে নিয়ে মৌলিক কিছু চিন্তা লিপিবদ্ধ করা বেশ কঠিন কাজ। মূল সমস্যা এই যে, বিদেশে যাকে ক্রিটিক্যাল দৃষ্টিভংগীতে প্রবন্ধ লেখা বলে, সেই ধরনের লেখা বিবেকানন্দের ওপর নেই। বিবেকানন্দের জীবনী ভাষ্যকাররা মহান বিবেকানন্দর সন্ধানেই লিখে গেছেন। অবস্থা এত খারাপ, একবার বিবেকানন্দর ওপর সব থেকে বড় স্যোশাল ফোরামে আমাকে তাড়ানো হয় এই অপরাধে যে আমি একটি নিরীহ তথ্য দিয়েছিলাম- শেষ জীবনে বিবেকানন্দ অনুতাপ করেছিলেন, কেন গৃহী না হয়ে সন্নাস্যী হয়েছেন-আরেকবার জন্মালে আর সন্ন্যাসী হবেন না, বে-থা করে গৃহীই হবেন।

    তথ্যটি সত্য। শুধু তাই না, বিবেকানন্দ নিজের মায়ের দেখভাল করতেন, ভাইএর চাকরির জন্যে তদারকি করেছেন এবং পৈত্বৃক বসত বাড়ির শরিকি মামলার সাথেও ছিলেন। এর কোন কিছুই যদিও তাকে ছোট করে না, তবুও তার ভক্তবৃন্দ তাকে “সাইক্লোন সন্ন্যাসী” হিসাবেই দেখতে পছন্দ করেন বেশী।

    সমস্যা আরো বেশী গভীরে। গান্ধী, নেহেরু, নেতাজি থেকে আপামর মহান ভারতীয় নেতারা যে “একটি” ব্যক্তিতে আপ্লুত ছিলেন তিনি বিবেকানন্দ। সাম্প্রতিক অতীতের প্রায় সবকটি জরিপে,তিনিই সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ভারতীয়-গান্ধীর থেকেও স্বামীজি বেশী জনপ্রিয়।

    তার বাণী ভারত সহ পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িতে দিতে কেন্দ্রীয় সরকার প্রায় ১৫০ কোটি টাকা খরচ করবে এই বছরে। শুধু সেকালের টাটা রা না, একালেও ভারতের প্রায় সব সবশ্রেণীর নেতাদের ( কর্পরেট, রাজনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ) প্রথম পছন্দের নাম স্বামীজি। ডান, বাম, হিন্দু, মুসলমান, খৃষ্ঠান প্রায় সব শ্রেনীর লোকের কাছেই তিনি প্রিয় ব্যক্তিত্ব। নহেরু, গান্ধীকে নিয়ে অনেক মতভেদ। ভারতীয় জাতিয়তাবাদিরা এদের পছন্দ করে না। বিবেকানন্দকে নিয়ে কোন সমস্যা নেই। প্রবীর ঘোষের মতন হাতে গোনা কয়েকজন যুক্তিবাদি বা নরসিংহমের মতন গবেষক ছারা, আর কেঐ সেই অর্থে বিবেকানন্দের সমালোচনা করেন নি।

    (২)
    কিন্ত এখান থেকেই আমার প্রশ্ন শুরু। বিবেকানন্দ ভারতকে বা এই পৃথিবীকে কি দিয়ে গেছেন, যে আজকে সবাই তাকে সর্বকালের সেরা ভারতীয় বলে মেনে নিচ্ছে?

    তিনি দর্শন শাস্ত্রে মৌলিক কোন অবদান রাখেন নি। প্রাচীন ভারতীয় দর্শনকে, আধুনিক মোরকে হাজির করেছেন। এটা ঠিক বিবেকানন্দ রচনাবলী না পড়লে ভারতীয় দর্শন গভীরে বোঝা সম্ভব না। ধর্ম জিনিসটা ঠিক কি-সেটাও বিবেকানন্দ পড়েই আমার শেখা। তিনি একজন আধুনিক ভাষ্যকার। এই পর্যন্ত।

    বিবেকানন্দের রাজনৈতিক এবং সমাজ চিন্তা বালখিল্যতা বললে কম বলা হবে।

    প্রথমে তার রাজনৈতিক চিন্তার বিশ্লেষনে আসব। ভারতের উন্নতির জন্যে বৃটিশ শাসনের হাত থেকে মুক্তি দরকার-সেই নিয়ে তার সংশয় ছিল না। বৃটিশ ভারতের রাজনৈতিক কাঠামোতে কিভাবে দরিদ্র ভারতীয়রা নিষ্পেষিত হচ্ছে, নিচূ জাতের লোকেরা শোষিত হচ্ছে, সেই নিয়ে তিনি সরব ছিলেন। সেই জন্যেই তিনি ভারতীয় বিপ্লবীদের মন্ত্রগুরু। কিন্ত মুক্ত ভারতের রাজনৈতিক ভিত্তি কেমন হবে-তার জন্যে জাপানকে আদর্শ মনে করতেন। জাপানের ন্যাশালিস্টিক ফ্যাসিজম তার ভাল লেগেছিল। অতীতকে স্মরণে রেখে, জাতিগর্বে উৎসাহিত হয়ে, বস্তুবাদি উন্নতি করতে হবে। জাপানের মতন “ডিসিপ্লিনড” জাতি চাইছিলেন তিনি।

    ”OnlyIwantthatnumbersofouryoungmenshouldpayavisittoJapanandChinaeveryyear.EspeciallytotheJapanese, Indiaisstillthedreamlandofeverythinghighandgood.Andyou, whatareyou? …talkingtwaddleallyourlives, vaintalkers, whatareyou? Come, seethesepeople, andthengoandhideyourfacesinshame.Araceofdotards, youloseyourcasteifyoucomeout! Sittingdownthesehundredsofyearswithanever-increasingloadofcrystallizedsuperstitiononyourheads, forhundredsofyearsspendingallyourenergyupondiscussingthetouchablenessoruntouchablenessofthisfoodorthat, withallhumanitycrushedoutofyoubythecontinuoussocialtyrannyofages–whatareyou? Andwhatareyoudoingnow? …promenadingthesea-shoreswithbooksinyourhands–repeatingundigestedstraybitsofEuropeanbrainwork, andthewholesoulbentupongettingathirtyrupeeclerkship, oratbestbecomingalawyer–theheightofyoungIndia’sambition–andeverystudentwithawholebroodofhungrychildrencacklingathisheelsandaskingforbread! Istherenotwaterenoughintheseatodrownyou, books, gowns, universitydiplomas, andall?”

    অর্থাৎ তার মতবাদ এই রকম- অভুক্ত জাতিকে আগে খেতে দিতে হবে। ভারতের ধর্মীয় সংস্কার এবং অহংকার ছেরে, আগে জাতিকে খাওয়ানো পড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পেটে ভাত না থাকলে, বস্তুবাদি উন্নতি না হলে, সেই জাতির আত্মমর্যাদা থাকে না। সেই জন্যে জাপানের থেকে শেখ!

    আপাত দৃষ্টিতে বিবেকানন্দের এই “মহান ভারত সঙ্কÄ¡র” শক্তিশালী লেখনীতে আমিও উদ্বেলিত হতাম। কিন্ত সমস্যা হচ্ছে এই, ইউরোপ, জাপানে ফ্যাসিজিমের উত্থানের পেছনেও ঠিক এই ধারনাই কাজ করেছে। রাজনৈতিক শক্তি দিয়ে জাতিকে গণউত্থানের এই চেষ্টা ফ্যাসিজমের ধাত্রীগৃহ এবং জাপানে উনি যেটা দেখেছেন সেটা একটা প্রাক-ফ্যাসিস্ট সমাজ। তার লেখাতে গণতান্ত্রিক ভারত অনুপস্থিত। বরং বিবেকানন্দের ভারতের সাথে “ফ্যাসিস্ট জাপানের” মিল পাওয়া যাচ্ছে। তার রাজনৈতিক ধারনাতে সবথেকে বেশী অনুপ্রাণিত ছিলেন নেতাজি। এবং নেতাজির মধ্যেও ফ্যাসিজমের ভূত এমন ভাবে চেপে বসেছিল, তিনি হিটলারের সহযোগী হতে রাজী হলেন। নেতাজি জার্মানীতে তিন বছর ছিলেন (১৯৪১-৪৩)-এবং এমন একটা সময়ে যখন জার্মানী গোটা ইউরোপকে ধর্ষন করছে। এর পরেও তিনি অবলীলা ক্রমে নাৎসিদের সাথে একসাথে থাকলেন তিন বছর কারন ফ্যাসিজমের প্রতি তার দুর্নিবার আকর্ষন ছিল। নেতাজীর রচনাবলি পড়লে পরিস্কার হয়, তিনি ছিলেন বিবেকানন্দের রাজনৈতিক মানস সন্তান। তবে আমার এই সিদ্ধান্তও হবে অকালপক্ক-সেই প্রসঙ্গে পরে আসছি।

    এবার আসি আমেরিকান সমাজ প্রসঙ্গে। স্বামীজি দেখলেন, আমেরিকাতে ব্যবসায়ীরা সমাজ গড়ে-তারাই সব থেকে বেশী সন্মান পায়। আর ভারতে ব্যবসায়ী সমাজকে সঙ্গত কারনেই চোর ডাকাতের সাথে তুলনা করা হয়। সেই অবস্থা আজকে ১০০ বছরেও বদলায় নি। কারন আমেরিকাতে ধণতন্ত্র এসেছে কৃষকদের বণিক হিসাবে রূপান্তরের সাথে সাথে। আর ভারতের ধনতন্ত্রে বণিক শ্রেনী পরজীবি একটা কমিউনিটি যা বৃটিশরা তৈরী করে দিয়ে গিয়েছিল। আমেরিকান ধণতন্ত্রের সমস্ত ভালদিক গুলি তার চোখে পড়ল এবং তার উচ্ছাসিত প্রশংসা করেছেন তিনি। আমেরিকান লিবার্টিকে বা মানবমুক্তিকে উন্নতির প্রথম সোপান হিসাবে ঘোষণা করলেন।

    ব্যাপারটা হল এই যখন যেটা ভাল লেগেছে, সেটাকেই তিনি মডেল করে দিতেন। জাপানের তিনি উচ্ছাসিত প্রসংশা করেছিলেন-কিন্ত জাপানিজরা সেই সময় মোটেও মুক্ত সমাজ ছিল না। আমেরিকাতে গিয়ে তিনি যা বলেছেন, সেটা মানতে গেলে, জাপানের সমাজের মতন নিকৃষ্ট সমাজ নেই-কারন তারা খুবই ফ্যাসিস্ট এবং টোটালাটারিয়ান রিপাবলিকে বিশ্বাস করত। আবার আমেরিকার মতন মানব মুক্তি দিতে গেলে, আমেরিকান ব্যক্তিস্বতন্ত্রবাদকেও মেনে নিতে হয় যা ভারতীয় দর্শনের সামাজিক কর্তব্যের সম্পূর্ন বিপরীত। এই সাথে আমেরিকান ব্যাক্তি স্বতন্ত্রবাদ আর ভারতীয় দর্শনকে মহান করতে সত্যিই মার্কেটিং এর মহান ক্ষমতা লাগে!

    মোদ্দা কথা সামাজিক দর্শনের ব্যাপারে তার লেখাযোখা প্রায় শ্লোগান সর্বস্য। অভিজ্ঞতা নির্ভর। এম্পিরিসিজম থেকে স্ট্রাকচারালিজমে তিনি যান নি। গভীরে তিনি ঢোকেন নি- গভীরে ঢোকার মতন রাজনৈতিক, সামাজিক বা ঐতিহাসিক জ্ঞান তার ছিল বলে মনে হয় নি।

    এই ধরনের পরস্পর বিরোধিতা বিবেকানন্দ চরিত্রের ছত্রে ছত্রে। তাতে অসুবিধা নেই। এর থেকে বোঝা যায় তিনি মুক্তমনের অধিকারি ছিলেন, তার মনে দ্বন্দ ছিল। এবং মনে দ্বন্দ থাকাই মনের উন্নতির প্রাথমিক শর্ত। নিজের অভিজ্ঞতার কাছে তিনি স্‌ৎ থেকেছেন। কিন্ত রাজনৈতিক বা সামাজিক দর্শনের চর্চা তিনি গভীরে গিয়ে করেন নি।

    (৩)
    এবার আরেকটি বিতর্কিত টপিকে আসি। নারীমুক্তি নিয়ে বিবেকানন্দের ভাবনা।

    ইউরোপ এবং আমেরিকাতে তার শিষ্যর থেকে শিষ্যা বেশী ছিল। নারী মুক্তি এবং নারীর অধিকারের সাম্যতা নিয়ে তিনি দেদারসে শ্লোগান দিয়েছেন। এবং বেদান্তের চোখে নারী-পুরুষ সমান সেটা তার লেখাতে অনেকবার এসেছে। কিন্ত হিন্দু ধর্মে নারীর অবস্থান বা সব ধর্মে নারীর অবস্থান এত বাজে কেন-সেই নিয়ে কোন বিশ্লেষন তিনি করেন নি। করলে, ধর্মের সাথে ঐতিহাসিক সামাজিক শক্তির গুলির বিন্যাস তার চোখে পড়ত। বরং এই ব্যাপারে তার লেখালেখি অনেকটাই চটকদারি মন্তব্য-
    Thesoulhasneithersex, norcastenorimperfection.”

    “Thebestthermometertotheprogressofanationisitstreatmentofitswomen.”

    ”Thereisnochanceforthewelfareoftheworldunlesstheconditionofwomenisimproved.”

    “Womanhassufferedforaeons, andthathasgivenherinfinitepatienceandinfinitepreserverance.”

    “Theideaofperfectwomanhoodisperfectindependence.”

    এরপরেই আবার লিখলেন, ভারতে “নারীর” আদর্শ হচ্ছে মা-ইউরোপে “স্ত্রী”

    আরো লিখলেন, ভারতে নারীকে দেবীজ্ঞানে গৃহে পুজো করা হয়। যদিও বাস্তব হচ্ছে, ভারতে সেই সময় এবং কিছু কিছু সমাজে এখনো নারীর অবস্থান গৃহের গাভীর থেকে কিছু কম। গৃহবধূ হত্যায় ভারত সবার ওপরে। পৃথিবীতে প্রায় ৫৪০ রকমের “বিবাহের” সন্ধান পাওয়া গেছে-এর মধ্যে মোটে চার রকমের বিবাহে বরকে পণ দেওয়া চালু আছে। ভারতীয় সমাজ তাদের অন্যতম। এবং ভারতে মেয়েদের এই বাজে আর্থসামাজিক অবস্থানের জন্যে হিন্দু ধর্মের দায় সব থেকে বেশী।

    হিন্দু ধর্মে জাতিভেদের বিরুদ্ধে বিবেকানন্দ যদিও বা কখনো সখনো লিখেছেন ( আবার বিদেশে জাতিভেদকে সমর্থন ও করেছেন ) হিন্দু ধর্মে নারীর করুণ অবস্থানের বিরুদ্ধে তিনি এক লাইন ও লেখেন নি। হিন্দু সমাজে নারী দুরাবস্থা নিয়ে অবশ্যই লিখেছেন। কিন্ত তার উৎসস্থল যে হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলি সেটা স্বীকার করেন নি, বরং এটাই দেখানোর চেষ্টা করেছেন, আদি বৈদিক সমাজে নারীর স্থান ছিল উঁচুতে- ব্রাহ্মনদের চক্রান্তেই এই অবস্থানের অনুন্নতি

    Inwhatscripturesdoyoufindstatementsthatwomenarenotcompetentforknowledgeanddevotion? Intheperiodofdegeneration, whenthepriestsmadetheothercastesincompetentforthestudyoftheVedas, theydeprivedthewomenalsoofalltheirrights.OtherwiseyouwillfindthatintheVedicorUpanishadicageMaitreyi, Gargi, andotherladiesofreveredmemoryhavetakenplacesofRishisthroughtheirskillindiscussingaboutBrahman.InanassemblyofathousandBrahmanswhowerealleruditeintheVedas, GargiboldlychallengedYagnavalkyainadiscussionaboutBrahman.Sincesuchidealwomenwereentitledtospiritualknowledge, whyshallnotthewomenhavesameprivilegenow? Whathashappenedoncecancertainlyhappenagain.Historyrepeatsitself.Allnationshaveattainedgreatnessbypayingproperrespecttowomen.Thatcountryandthatnationwhichedonotrespectwomenhaveneverbecomegreat, norwilleverbeinfuture.Theprincipalreasonwhyyourraceh! ! ! ! assomuchdegeneratedisthatyouhavenorespectfortheselivingimagesofShakti.Manusays, “Wherewomenarerespected, therethegodsdelight;andwheretheyarenot, thereallworksandeffortscometonaught.”Thereisnohopeofriseforthatfamilyorcountrywherethereisnoestimationofwomen, wheretheyliveinsadness. (V7.p.214-15)

    সমস্যা হচ্ছে পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোন সমাজ আসে নি যা পুরুষবাদি ছিল না। অধিকাংশ নৃতঙ্কÄবিদদের মতে অতীতের নারীবাদি সমাজের কল্পনা একধরনের মিথ []

    নারীবাদের উত্থান মূলত শিল্প বিপ্লবের সাথে এবং শিশুমৃত্যু হার কম হওয়ার সাথে সাথে। যার জন্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধর সময় থেকে নারীরা কাজে যাওয়া শুরু করে। সব ধর্মই নারীকে ঘরে ঢুকিয়েছে-কারন সমাজের রিপ্রোডাক্টিভ ফিটনেস বজায় রাখতে সেটাই দরকার ছিল। হিন্দু ধর্ম কোন কালেই তার ব্যতিক্রম ছিল না- বরং তা পুরুষবাদি সমাজের উঙ্কÄল উদাহরণ।

    মোটামুটি বিবেকানন্দ জীবনীতে যেটুকু দেখছি- বিদেশী নারীর কাছে তিনি নারীবাদি, হিন্দুর কাছে তিনি হিন্দু, বিদেশীদের কাছে তিনি আধ্যাত্মিক, জাপানীদের কাছে তিনি জাপানের জাতিয়তাবাদের ভক্ত!

    মোদ্দা কথায়, হিন্দু ধর্মের দোষগুলিকে ঢেকে যেভাবে তিনি হিন্দু ধর্মের মার্কেটিং করেছেন, তা এক কথায় অসাধারন।

    (৪)
    এর পরেও আমি লিখব বিবেকানন্দ কিছু কিছু দিকে সত্যিই অসাধারন ছিলেন। সেটি হচ্ছে তার সাংগঠনিক ক্ষমতা এবং মানুষকে ভাল কাজের জন্যে অনুপ্রেরিত করার ক্ষমতা। মানবিক শক্তিগুলির এবং গুণের বিকাশের জন্যে তিনি জ্ঞানের থেকেও উপলদ্ধির ওপর জোর দিতেন। সফল সংগঠক হতে গেলে মার্কেটিং করার দক্ষতা লাগেই এবং তার কাছে বিশুদ্ধ জ্ঞানের প্রত্যাশা করাটা ঠিক না। মানবসেবায় সফল সার্থক বিবেকানন্দকে মেনে নিতে আমার আপত্তি নেই। আপত্তি আছে “সমাজ বিপ্লবী, সং স্কারক” বিবেকানন্দকে মেনে নিতে।

    আমার মূল আপত্তি অন্ধ বিবেকানন্দ ভজনায়। বিবেকানন্দ সংস্কার মুক্ত, নির্ভীক ভারত চেয়েছিলেন। তার সাধ শতবর্ষে যে ভারত আমরা পাচ্ছি, সেই ভারত কিন্ত আজো অন্ধ কুসংস্কারে নিমজ্জিত। উত্তর প্রদেশে ভোট হচ্ছে জাতের ভিত্তিতে। আজও। বরং পশ্চিম বঙ্গে জাতপাত তুলনামূলক ভাবে অনেক কম-এবং সেই কমার পেছনে বাংলাতে বাম আন্দোলনের ভূমিকা আছে। বিবেকানন্দের প্রচার বা বাণীতে ভারতের জাতিভেদ বা হিন্দু ধর্মের বজ্জাতি যার বিরুদ্ধে বিবেকানন্দ সরব ছিলেন-কিছুই কমে নি। বধূহত্যা অব্যাহত।

    তাহলে বিবেকানন্দের ভুলটা কোথায় ছিল? কেন তার জাতিভেদ মুক্ত, সাম্যের আদর্শে দীক্ষিত নীর্ভিক ভারতের আজও জন্ম হল না?

    কারনটা এই যে বিবেকানন্দ হিন্দু ধর্মকে আক্রমন করেন নি। বরং লোককে আরো হিন্দু ধর্মে গর্ব অনুভব করতে বলেছেন। তার চিন্তায় হিন্দু ধর্ম ভাল- সমাজ তাকে বাজে বানিয়েছে। এগুলি, যেকোন সমাজ বিজ্ঞানীর কাছে অসম্ভব বালখিল্য চিন্তা। ফুকোর ক্ষমতার তঙ্কÄ দিয়ে এই ব্যাপারটা দেখলে দেখা যাবে বিবেকানন্দ ” কেন্দ্রীয় শক্তি” হিসাবে সেই হিন্দু ধর্মের কথাই বলছেন। এই ধরনের চিন্তাতে “ধর্মের বিরুদ্ধে” রাজনৈতিক শক্তিগুলি দুর্বল হয়। যেটা মুসলিম দেশগুলিতে আরো বড় সমস্যা। কোরান ভাল, মুসলমানরা খারাপ- এই ধরনের চিন্তা আসলেই কোন ধর্ম বিরোধি রাজনৈতিক শক্তির জন্ম দিতে পারে না। আর ধর্ম বিরোধি রাজনৈতিক শক্তির জন্ম না হলে, কোন দেশের ধর্মীয় সংস্কার সম্ভব না। যেটা ভারতের রাজনীতিতে সব থেকে বড় বাস্তব। এখানের গোবলয়ে মার্ক্সীয় পার্টিগুলিকেও জাত ধর্মের সমীকরণ মানতে হয়।

    ********************

    []Whymenrule- Atheoryofmaledominance:StefanGoldberg

    http://www.amazon.com/Why-Men-Rule-Theory-Dominance/dp/0812692373
  • ridhhiman | 108.*.*.* | ১৫ জানুয়ারি ২০১২ ০৯:৪৬515403
  • http://www.enlightennext.org/magazine/j21/vivekananda.asp?page=2

    একটা ফোরাম থেকে এটা পেলাম। বিবেকানন্দের বিবর্তন নিয়ে চিন্তা। কিছু কথোপকথন। সাংখ্য দর্শনে কি বিবর্তন নিয়ে বলা আছে?
    ঘনাদাকে আর দেখি না। জ্যোতিষ টই উধাও।
  • Ghanada | 223.*.*.* | ১৬ জানুয়ারি ২০১২ ২১:৪৪515514
  • আমাদের একটা মুশকিল আছে! স্বামীজীকে আমরা খণ্ডিত ভাবে জানতে পারি। কারণ, তাঁর পুরো জীবনী ঠিক সেই ভাবে প্রকাশিত হয় নি। ইংরেজী থেকে শুরু করে বাংলা ভাষাতে প্রচুর বই লেখা হয়েছে, তাঁকে নিয়ে। কিন্তু বিবেকানন্দ কিন্তু সব জায়গাতেই খণ্ডিত ভাবে উপস্থিত।
    বিবেকানন্দকে খণ্ডিতভাবে না জেনে সামগ্রিকভাবে জানতে তাঁর ‘বাণী ও রচনা’, ‘পত্রাবলী’, নিবেদিতার লেখা ‘স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়াছি’, শঙ্করীপ্রসাদ বসুর লেখা ‘বিবেকানন্দ ও সমকালীন ভারতবর্ষ’ নামে কিছু বই পড়াটা খুব-ই জরুরি।
    স্বামী বিবেকানন্দের অনেক বাণী আছে। তার মধ্যে আমার যেটা খুব পছন্দ সেটা হল:-
    “খালি পেটে ধর্ম হয় না…”
    প্রথমেই কিন্তু নরেন্দ্রনাথ হিসেবে, রামকৃষ্ণকে নিজের গুরু বলে স্বীকার করেন নি। তিনি তাঁর ধ্যানধারণার বিরুদ্ধের প্রায়ই বিদ্রোহ প্রকাশ করতেন। তবু রামকৃষ্ণের ব্যক্তিত্বের আকর্ষণে বার বার তাঁকে দেখতে যাওয়াটা অভ্যাস হয়ে গেছিল। প্রথম দিকে রামকৃষ্ণের তুরীয় আনন্দের ভাব ও দর্শনকে কেবলমাত্র মনগড়া কল্পনা বলে মনে করতেন। ব্রাহ্মসমাজের সদস্য হিসেবে তিনি মূর্তিপূজা ও বহু দেবদেবী বাদের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছেন। রামকৃষ্ণ ছিলেন কালীর উপাসক। অদ্বৈত বেদান্ততঙ্কÄকেও নরেন্দ্রনাথ নাস্তিকতা ও পাগলামি বলে উড়িয়ে দিতেন; এবং মাঝে মাঝেই তা নিয়ে বিদ্রুপ করতেও ছাড়েন নি।
    রামকৃষ্ণের ধ্যানধারণা গ্রহণ করতে না পারলেও নরেন্দ্রনাথ তা একেবারেই উড়িয়ে দিতে পারতেন না। কোনো মত গ্রহণ করার আগে তা যাচাই করে নেওয়াই ছিল নরেন্দ্রনাথের স্বভাব। তিনি রামকৃষ্ণকে বহুবার পরীক্ষা করেন। রামকৃষ্ণও কোনোদিন তাঁকে যুক্তিবর্জনের পরামর্শ দেননি। তিনি ধৈর্য সহকারে নরেন্দ্রনাথের তর্ক ও পরীক্ষার সম্মুখীন হন এবং তাঁকে সকল দৃষ্টিকোণ থেকেই সত্য পরীক্ষা করতে বলেন। পাঁচ বছর সান্নিধ্যে থেকে নরেন্দ্রনাথ এক অশান্ত, বিভ্রান্ত, অধৈর্য যুবক থেকে এক পরিণত ব্যক্তিতে রূপান্তরিত হন। ঈশ্বরোপলব্ধির জন্য তিনি সর্বস্ব ত্যাগে স্বীকৃত হন এবং রামকৃষ্ণকে নিজের গুরু রূপে স্বীকার করে নিয়ে গুরুর কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করেন।

    ১৮৯৩ সালের ১১ ই সেপ্টেম্বর শিকাগোতে বিশ্ব ধর্ম মহাসভায় বিবেকানন্দ তাঁর ধর্মীয় চিন্তাধারাকে পাশ্চাত্যের সামনে আনেন। বিবেকানন্দ যে বিশ্বমানবতাবাদের তত্ব উপস্থিত করেছিলেন,তা সবাই সমর্থন করেছিলেন। তিনিও সকল সমাজের সমর্থন অর্জন করেন।অযুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু দর্শনের সার্বজনীন সত্য প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি এরপর প্রতিষ্ঠা করেন বেদান্ত সোসাইটি এবং ভারতে রামকৃষ্ণের ধর্মীয় সমন্বয়বাদ ও “শিবজ্ঞানে জীবসেবা”র আদর্শ বাস্তবায়িত করার জন্য স্থাপনা করেন রামকৃষ্ণ মিশন নামে একটি সংস্থা। রামকৃষ্ণ আন্দোলন ভারতের অন্যতম নবজাগরণ আন্দোলন রূপে বিবেচিত হয়। আপনারা সবাই জানেন,এই সংস্থার প্রধান দপ্তর হল পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার বেলুড় মঠে।
  • dd | 122.*.*.* | ১৬ জানুয়ারি ২০১২ ২২:১৯515625
  • বিপ্লব পালের লেখাটা ভাল্লাগ্লো। একটা ছোটো কিন্তু ৩৬০ ডিগ্রী আলোচনা।

    মনিষীদের কে শ্রদ্ধা আমাদের দেশে নির্বিচার ভক্তিতে পৌঁছে যায়। সেখানে শুধুই আবেগ আর প্রশ্নাতীত আনুগত্য। গুরুবাদ আর কি। মনিষী তো দুরস্থান, গুরু,বাবা মা, সবাইকে নিয়েই এইরকম বাড়াবাড়ি আমাদের এতই সহজপাচ্য যে কবীর সুমন চমৎকার ডিগবাজি খেয়ে বুক ফুলিয়ে বলতে পারেন তাঁর মাতৃসমা মহাশ্বেতাদেবী আজ্ঞা করেছিলেন, তো ওটা তো মাতৃআজ্ঞা, তাই তিনি নিরুপায়। মানতেই হবে। এ এক পরম্পরা। ইয়ানি কি ঐতিহ্য।

    মেরুদন্ডহীন,ব্যক্তিত্বহীন, স্বাধীন স্বত্তা নেই, চিন্তা নেই - শুধু আজ্ঞা পালনকারী এক আজীব জীব। পাব্লিকে দিব্বি খেয়ে নেয়।
  • I | 14.*.*.* | ১৬ জানুয়ারি ২০১২ ২২:২৫515736
  • বিপ্লববাবুর লেখাটি খাসা !
  • rimi | 75.*.*.* | ১৬ জানুয়ারি ২০১২ ২২:৩৩515847
  • বিপ্লববাবুর এই লেখা, বলা বাহুল্য, আমারো ভালো লাগল। আর গুরুবাদ, বাবা মা বাদ ইত্যাদি ব্যপারে ডিডিদাকে বিরাট ক। :-)
  • name | 69.*.*.* | ১৭ জানুয়ারি ২০১২ ০০:৪৪515958
  • বিবেকানন্দ নাকি বলেছিলেন : এই বিবেকানন্দ কি করে গেল সেটা আরেক জন বিবেকানন্দ ছাড়া কেউ বুঝবে না। তো, বিপ্লববাবু তো বুঝে টুঝে মূল্যায়নটায়ন করেই ফেল্লেন আবার কিছু লোকেদের সেসব ঠিকঠাক মনে হল। তা বিপ্লববাবুই কি নতুন স্বামীজী? তাঁকে যাঁরা বুঝছেন তাঁরাও স্বামীজী? দেড়শো বছরে এতগুলো বিবেকানন্দ হল গেল, চোখের সামনে দেখছি, পড়ছি, তবু বলে না কি স্বামীজীর ভারত হয় নি? একটা বিবেকানন্দ যদি বিশ্বকে তোলপাড় করতে পারেন তবে এতগুলো স্বামীজী তো অবশ্যই ভারতবর্ষকে বদলে দেবেন বা দিয়েছেন। তবে কি স্বামীজী ঠিক পথেই চলেছিলেন? কিন্তু লেখাটা তো বলছে উনি ভুল করেছিলেন (কি ভুল করেছিলেন তাও ত্রিকালদর্শী লেখক বলেছেন)। সব শেষে আমি পড়েছি সমস্যায় ... সুধীজন সাহায্য করুন, বিবেকানন্দের ভুল ধরতে পারার জন্য তাঁকে অতিক্রম করা ব্যক্তিত্ব (বা ব্যক্তিত্ব-সমূহের) জন্ম হয়েছে বিবেকানন্দ-পথে বা ভাবধারা পরিচালিত শিক্ষায়তনে। যদি তাঁকে অতিক্রম করে যাওয়াটা সার্থকতা হয় তবে স্বামীজী ঠিক পথেই চলেছেন কিন্তু, লেখক, যিনি সেই পর্যায়ে উঠেছেন তিনি স্বয়ং বলছেন স্বামীজী ভুল ছিলেন। কোনটা সত্যিকারের ভুল বা ঠিক... গুলিয়ে যাচ্ছে...
  • biplab pal | 63.*.*.* | ১৭ জানুয়ারি ২০১২ ০০:৫২516069
  • বিবেকানন্দকে খণ্ডিতভাবে না জেনে সামগ্রিকভাবে জানতে তাঁর বাণী ও রচনা , পত্রাবলী , নিবেদিতার লেখা স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়াছি , শঙ্করীপ্রসাদ বসুর লেখা বিবেকানন্দ ও সমকালীন ভারতবর্ষ নামে কিছু বই পড়াটা খুব-ই জরুরি


    FYI:

    True.ButIdidthosebeforeIturned18.IwaseducatedinRKMNarendrapur.
  • name | 69.*.*.* | ১৭ জানুয়ারি ২০১২ ০২:০৩516180
  • আঠারো হবার আগেই পড়েছিলেন? তারপর মানসিকতা অনেক, অনেক বদলেছে বিপ্লববাবু। ফিরে পড়ুন বইগুলো। তারপর লিখবেন। লেখা পালিয়ে যাচ্ছে না। টই থাকবে। আপনিও থাকবেন। ঘাবড়াবেন না, আমরা-ও সঙ্গে আছি, থাকব। বাইশ বছরেরও আগেকার টিন এজার সুলভ দৃষ্টি ভঙ্গীটুকু শুধুমুধু বিবেকানন্দ সার্ধ শতবর্ষের সময় তুচ্ছ নাম কুড়াবার জন্য প্রকাশ নাই বা করলেন! সময় নিন, স্বামীজীর ১৭৫ বছরের উৎসব পালনের সময় পরিনতমনস্ক বিপ্লববাবুর লেখা পড়তে পাবো আশায় থাকলাম। কেমন?
  • Su | 86.*.*.* | ১৭ জানুয়ারি ২০১২ ০২:০৯514913
  • বিবেকানন্দ ভারত কে কি দিলেন না দিলেন সেই প্রশ্নটা একটু তুলে রেখে যদি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাচিভমেন্টের কথাটাই ভাবা হয় সেটাই তো সাগর মহাসাগর পেরিয়ে সুনামি হয়ে ওঠে বুকের মধ্যে।
    সিমলে পাড়ার মধ্যবিত্ত -- (নিম্ন মধ্যবিত্ত বলা যায়কি? যেতেও পারে! ডোন্নো!) পরিবারের একটি বেকার যুবক। তখনকার ছাঁদনাতলায় প্রিন্সের নাতি, কিম্বা হাবিলদার অথবা রায়বাহাদুর কোনোরকমই তকমাহীন অতি বাস্তববাদী একটি নিখাদ নির্ভেজাল ভারতীয়।
    আমি আমেরিকার কথা ছেড়েই দিচ্ছি -- ইংল্যান্ডে এসেছেন- শুধু ভাবছি ১০০ বছর আগের ইংল্যান্ড -- আরো অনেক বেশি কনজার্ভেটিভ, নাক উঁচু, কলোনিয়াল প্রভুদের দেশ! এসে এক অতি সাধারন বাড়ির মধ্যবিত্ত যুবকের দেওয়া উদাত্ত ভাষণ হাঁ করে শুনছেন! কেমন লাগে মশাই দেখতে!
    এতোদিন এদেশে থাকার পরে বুঝেছি কলোনি চলে যাবার পরে প্রভুদের নাক ভাঙলেও মচকায়নি এট্টুসও ! তবে তখন না জানি কেমন ছিলো!
    তিনি তো প্রিন্স দারকার নাতি নন, কিম্বা নিদেন পক্ষে অরবিন্দ ঘোষের মত সিভিল সার্ভেন্টের পো ও নন! তবে!?????
    শুধু বাহুবলে? একার জোরে? সেল্ফ মেড?
    মেয়েলি বং পুরুষকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাতে পারেন যদি একটাও পুরুষ -- তিনি বিবেকানন্দ!
    স্বপ্নে বুঝি এখনো বাঙালি মেয়েরা এমন পুরুষকেই চায়!!!! ফেমিনিন বাঙালি পুরুষজাতিকে হয়তো আরো বহুবছর উত্তিষ্ঠিত জাগ্রত মন্ত্র জপ করতে হবে তার ধারে কাছে পৌঁছবার জন্যে!
  • biplab pal | 63.*.*.* | ১৭ জানুয়ারি ২০১২ ০৩:১৪515024
  • মি:
    [] আমার জীবনে বিবেকানন্দের প্রভাব বেশ বেশী। এখনো তা আছে। এবং থাকবেও হয়ত। কিন্ত
    তার মানে ত এই না, যে তার সামাজিক এবং রাজনৈতিক চিন্তায় যেসব ভুল ছিল-সেগুলো নিয়ে আমি আলোচনা করব না, বা লিখব না। বিবেকানন্দ যখন এসব লিখেছেন, তখনা তার বয়স আমার থেকে কমই ছিল। ফলত এটা হতেই পারে, তার চিন্তা ম্যাচিওর করার সময় পায় নি। সামাজিক এবং রাজনৈতিক চিন্তা সঠিক ভাবে করতে আরো বেশী অভিজ্ঞতা দরকার ছিল। উনি বেঁচে থাকলে, এটা নিশ্চয় শুধরে নিতেন।

    [] জিডু কৃষ্ণমূর্তির নাম নিশ্চয় শুনেছেন। জিডুর চিন্তার গভীরতা বিবেকানন্দর চেয়ে অনেক বেশী। খুব সঙ্গত কারনে আমেরিকান দার্শনিক মহলে জিডুর নাম তাও আসে। বাকী এ শতাব্দির সেরা যারা দার্শনিক- স্যার পপার, কুন, রে ভাস্কর, দেরিদা, ফুকো- এদের লেখার মধ্যে বিবেকানন্দ কখনো আসে নি। রে ভাস্করের লেখায় সামান্য এসেছেন। বিবেকানন্দ অত শক্তিশালী চিন্তাবিদ হলে, এদের লেখাতে উনার চিন্তাও আসত। পপার বা ফুকো সামান্য পড়লেও বুঝবেন, বিবেকানন্দের সমাজ বা রাজনৈতিক দর্শনের চিন্তা বেশ দুর্বল।অআর মার্কস ঠিক ঠাক বুঝলেম, বিবেকানন্দের আদর্শবাদি সমাজবাদের সমস্যাগুলি না বোঝার ত কোন কারন থাকে না।

    []& ২ পয়েন্টের প্রয়োজন ছিল না। কিন্ত লিখলাম যেহেতু আপনি লেখাটা ছেরে লেখককে নিয়ে পড়েছেন। আমি অনুরোধ করব, আমি যে পয়েন্টগুলি তুলেছি-সেগুলো নিয়ে আলোচনা করতে।
  • Sibu | 108.*.*.* | ১৭ জানুয়ারি ২০১২ ০৩:১৮515135
  • সু-র লেখাটা দারুন লাগলো। ভিভেকানন্দ অ্যাজ ম্যাটিনী আইডল :-)।

    আমার ধারনা ছিল, নরেন দত্ত গ দাধর চাটুয্যের পাল্লায় পড়ার দরুন বাংলা ভাষা একটি মারকাটারী সাহিত্যিক থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। আজ জানলাম, বঞ্চনা শুধু কলেজ স্ট্রীটের নয়, টালিগঞ্জেরও।
  • Su | 86.*.*.* | ১৭ জানুয়ারি ২০১২ ০৩:২৯515246
  • ম্যাটিনি আইডল কেন হবে! বালাই ষাট!
    যে মানুষটার সামনে এতো প্রলোভন সঙ্কেÄও শুধু আর কে মিশনের জন্যে -- ম্যান অন আ মিশন হয়ে রইলেন তিনি আর হাজারটা বাঙালি 'গৃহী' বা সন্ন্যাসীর চেয়ে আলাদা নন?
    ক্ষণে ক্ষণে প্রেমে পড়া বাঙালি পুরুষের কবিঙ্কÄ দেখে তো হেজে মজে গেছে রে ভাই!
    ইয়েস! নরেন দত্ত! যার পিছনে কোনো ব্যাক আপ ছিলনা! সেইখান থেকে এতোদুরে ওঠাকে তামাশা করে দেখতে পারে বং কাঁকড়ারাই!

    বেশি লিখি টিখিনা -- ট্যারাটেরি পোষায়না ভাই! শেষমেশ একটা কথা বলে যাই বাঙালির ঘরে ঘরে বিবেকানন্দ জন্মাক!
    মেয়েদের স্বপ্ন, মায়েদের স্বপ্ন পূরণ হোক! বাঙালি তথা ভারতবাসীর ও স্বপ্ন পূরণ হোক!
    তথাকথিত ন্যাকাবোকা কবি প্রেমিক টাইপ বাঙালি ছেলেরা বদলে গিয়ে বিবেকানন্দ হোক- সোজা মেরুদন্ডের- অতি বাস্তববাদী আরো আরো অনেক কিছু! ব্যাস! আফনারা লিখতে থাকুন -- আমি পড়তে থাগবো -- প্রমিস
  • Sibu | 108.*.*.* | ১৭ জানুয়ারি ২০১২ ০৩:৩৫515337
  • আচ্ছা, বঙালীনির এত বেম্মোচারী পছন্দ কেন?

    সিরিয়াস প্রশ্ন:

    সহায়-সম্বলহীন অবস্থা থেকে দুনিয়া অনেক বেশী বদলে দেবার মত কাজ আরো অনেকেই করেছে। এই যেমন দরা যাক হিটলার।

    আর উনি পোচ্চুর লোককে ঢপ দিতে পেরেছিলেন। তাথে্‌থকে উনি বড় দার্শনিক, এটা কি করে প্রমান হল?
  • Sumit Roy | 68.*.*.* | ১৭ জানুয়ারি ২০১২ ০৪:৪৫515348
  • @ বিপ্লব পাল: এই বইটা দেখতে পারেন (দেশে দুর্লভ, আমেরিকায় পাওয়া যাবে), আপনি যা বলছেন তার সঙ্গে অনেক মিল আছে।
    N.P.SIL:SwamiVivekananda:AReassessment (March1997) SusquehannaUniversityPressISBN0945636970
  • aranya | 144.*.*.* | ১৭ জানুয়ারি ২০১২ ০৪:৫৫515359
  • শিবু, বিবেকানন্দ ঢপ-ও দিয়েছিলেন নাকি? কি সেই ঢপ?
  • Sibu | 108.*.*.* | ১৭ জানুয়ারি ২০১২ ০৫:০২515370
  • যোগ, ঈশ্বর, ঢপের অভাঅব কি?
  • biplab pal | 69.*.*.* | ১৭ জানুয়ারি ২০১২ ০৫:০৮515381
  • @ বিপ্লব পাল : এই বইটা দেখতে পারেন (দেশে দুর্লভ, আমেরিকায় পাওয়া যাবে), আপনি যা বলছেন তার সঙ্গে অনেক মিল আছে।
    N.P.SIL:SwamiVivekananda:AReassessment ( March1997 ) SusquehannaUniversityPressISBN0945636970


    Yes, Ireadselectedportionofthebook.ButMrSil'scriticismwasratherpersonalandhetookextremepositionagainstVivekananda,

    Ididn'ttoeonMrSil'sline- myquestionsareratherphilosophicalinnature-
    Whatishiscontribution?

    Didheaddanythingtopolitical, socialorpurephilosophy?

    WhenIamlookingforit-IamgettingaBIGvoid.
  • aranya | 144.*.*.* | ১৭ জানুয়ারি ২০১২ ০৫:৪০515392
  • বিবেকানন্দের লেখা খুবই কম পড়েছি। যোগ বা ঈশ্বর নিয়ে ঠিক কি বলেছিলেন - যদি শিবু বা অন্য কেউ একটু সংক্ষেপে লেখেন, খুশী হব।
    রাজনীতি, সমাজনীতি, দর্শন - এসব ঠিক ট্যানজিবল ব্যাপার নয় আমার কাছে, ভাল বুঝিও না এইসব। দূর্দশাগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করা, শিক্ষার প্রসার - এগুলো বুঝি। বিবেকানন্দ প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ মিশন এই ব্যাপারগুলোয় অগ্রণী, সেজন্য তাকে কুর্নিশ জানাই। বিপ্লব-ও এই মানবসেবার ক্ষেত্রে বিবেকানন্দকে নম্বর দিয়েছে মনে হয়।
  • Sibu | 108.*.*.* | ১৭ জানুয়ারি ২০১২ ০৬:০৪515404
  • মানবসেবা, সহিত্য ইত্যাদি ব্যাপারে আম্মো নম্বর দিয়েছি। ফিলোসফি, যোগ ইত্যাদিতে নম্বর কেটেছি।

    রচনাবলী কপি করনের টাইম নাই ভাই অরন্য। আমরা সবাই ২৪-ঘন্টার দিনে অপারেট করি। বিবেকানন্দ রচনাবলী হাতে পেলে চিঠিপত্র বা পরিব্রাজকের ডায়েরী পড়ব। রাজযোগ বা বক্তৃতাগুলো পড়ে টাইম নষ্ট করব না। তুমিযদি মনে কর সে সবে কিছু সার আছে, তো লেখ। কনভিন্সড হলে আবার পড়ে দেখব সিওর।
  • aranya | 144.*.*.* | ১৭ জানুয়ারি ২০১২ ০৬:২৫515415
  • আমার অবস্থাও শিবু, তোমারই মত। ২৪ ঘন্টায় দিন ইত্যাদি, রচনাবলী পড়ার-ই সময় নাই, কপিকরণ দূরস্থান।
    তবে কোন সুধীজন এখানে অল্পকথায় লিখলে, নিশ্চয়ই পড়ব। আর না পড়া অব্দি যোগ/ঈশ্বর বিষয়ে বিবেক-বাণী সার বা অসার এ নিয়ে কিছু কইতেও নারব।
  • Sibu | 108.*.*.* | ১৭ জানুয়ারি ২০১২ ০৬:২৯515426
  • প্রথম কথা যোগ ঈশ্বর ইত্যাদি নিয়ে বিবেকবানী অল্প বয়েসে পড়েছি। তাতে ঐ ষড়চক্র ইত্যাদি বাঁধাবুলী ছাড়া কিছু পেয়েছি বলে মনে পড়ছে না। আর ঈশ্বর নিজেই বাকোয়াস। সে পোদৈ বলুক আর বিবেকানন্দই বলুক।
  • a | 208.*.*.* | ১৭ জানুয়ারি ২০১২ ০৭:৩২515437
  • ইয়ে হয়েছে, আমি কিসুই পড়িনি বিবেকানন্দ। কিন্তু একটা অতি ছোট্ট কথা বলি, প্র্যাক্টিকালি দেখতে গেলে আজ অবধি RKM এর সমতুল্য একটি সোশাল organization দেখলাম না (ভারত সেবাশ্রম সংঘও অতটা বিশাল নয়, আমার ধারণা, ভুলও হতে পারে)। আর এরকম organization যে যে বাণী বা মিশন স্টেটমেন্টের ভিত্তিতে তৈরী হয়েছে, তার রচয়িতার সামাজিক ডাইনামিক্স সম্পর্কে গভীর অভিগ্যাতা নিয়ে আমার কোন সংশয় নেই।

    হয়তো অত্যন্ত ভারত স্পেসিফিক ইমি্‌প্‌লমেন্টেশন, কিন্তু নানদালেস অন গ্রাউন্ড আর প্র্যাক্টিকালি সফল। ঐ যে কিসব নাম বল্লেন, ফুকো, দেরিদা এসব জীবনে পড়িনি মহায়, কিন্তু যদ্দুর জানি এত বছর ধরে মানুষের সেবা করে জাচ্ছে এইরকম সমাজ তথা সংগঠন এদের বাপ চোদ্দপুরুষ এলেও বানাতে পারত না।

    এছাড়া, বিবেকানন্দের রাজনৈতিক তথা আধ্যাত্মিক ইনক্লিনেশন তথা গভীরতা সম্পর্কে আমার মন্তব্য জিরো। আমি ওনাকে একজন অসামান্য organizer হিসাবে শ্রদ্ধা করি, এই পর্যন্ত। বিপ বাবুর বাকি কথাগুলোকে কাউন্টার করার মত যোগ্যতা আমার নেই, আর গুরুবাদ তথা বিনা প্রশ্নে মেনে নেওয়া বিষয়ে ওনার বক্তব্যে ক দিলুম।
  • a | 208.*.*.* | ১৭ জানুয়ারি ২০১২ ০৭:৩৩515448
  • ওহো মিস করে গেলুম, বিপ বাবুকে একটা অনুরোধ ছিল। ধর্ম জিনিসটা ঠিক কি সে নিয়ে আরেকটা টই খুলুন না, সেটা নিয়ে একটু মারপিট করা যায়।
  • rimi | 75.*.*.* | ১৭ জানুয়ারি ২০১২ ০৭:৫২515459
  • বাঙালী মেয়েদের বেম্মচারী পছন্দ কারণ বেম্মচারীরা অন্য মেয়েদের দিকে আড়চোখে তাকাবে না :-(

    হ্যাঁ,আমার পরিচিত একজন লোকও বিবেকানন্দকে খুব বীর মনে করতেন, আর মনে করতেন রবীন্দ্রনাথের পাল্লায় পড়েই বাঙালী যুবসমাজ উচ্ছন্নে গিয়েছে। যে পুরুষ নারীশক্তির মতন ভীষণ শক্তির সঙ্গে লড়াইতে অবলীলায় জয়ী হন, তিনি বীর তো বটেই। ঐ পরিচিত ভদ্রলোকও কবিতা আওড়ানো এবং কথায় কথায় প্রেমে পড়াকে চূড়ান্ত ন্যাকামো মনে করতেন।

    ডি: আমি কিন্তু এখানে কেউ এসে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারবেন না বলে তাঁর সম্পর্কে লেখাকে আদৌ অন্যায় বলে মনে করি না। অতএব যে আমাকে যতই খারাপ মনে করুক না কেন, কারুর সম্পর্কে কিছু বলার থাকলে আমি সেইটা বলবই। পুরোনো ইতিহাস মাথায় রেখে এই ডি: খানা দিয়ে রাখলাম:-)))
  • Biplab Pal | 69.*.*.* | ১৭ জানুয়ারি ২০১২ ০৮:২৪515470
  • ওহো মিস করে গেলুম, বিপ বাবুকে একটা অনুরোধ ছিল। ধর্ম জিনিসটা ঠিক কি সে নিয়ে আরেকটা টই খুলুন না, সেটা নিয়ে একটু মারপিট করা যায়।


    ধর্ম নিয়ে আমার অসংখ্য লেখা আছে। আগে ব্লগ ছিল না। পিডিএফ ছিল।

    এখানে স্ক্রাইবডে ধর্মের ওপর লেখা আমার প্রায় ৪০ টা প্রবন্ধ পাবেন।
    http://www.scribd.com/biplabpal2000

    ধর্মের আর্কাইভটা এখানে ( http://www.scribd.com/collections/2336815/Religion
    )

    ধর্মের ওপর আমার একটা ইংরেজি ব্লগ ও আছে-তাতেও ১০ টি মতন লেখা আছে। যেখানে
    ধর্ম সম্মন্ধে আমার যা কিছু বলার বলে গেছি। আর নতুন কিছু বলার নেই!

    http://biplabspiritualism.blogspot.com/2007/09/essence-of-being-born-into-this-world.html
  • name | 69.*.*.* | ১৭ জানুয়ারি ২০১২ ১৪:৩৫515481
  • মি: বলে (১৭ জানু, ৩:১৪-তে) কাকে লিখেছেন বুঝিনি বিপ্লববাবু তবে আপনার পয়েন্ট তিনটি পড়ে আমোদ পেলুম। যদি আমাকেই হয় তাই উত্তর দিয়ে গেলুম।
    ১ নং : বিবেকানন্দ যে বয়েসে লিখেছিলেন আর আপনি যে বয়েসে পড়েছেন ... একই বয়েস তাই একই ম্যাচিওরিটি! হ্যা হ্যা হ্যা, সরি সরি। না, না হাসছি না। হ্যা হ্যা হ্যা।
    কি থেকে আপনার মনে হল কিছুদিন পর বিবেকানন্দ নিজের দৃষ্টিভঙ্গী বদল করতেন? রবীন্দ্রনাথ কি আঠারোতে লেখা ভানুসিংহের পদাবলী ফিরে লিখেছিলেন সভ্যতার সংকট লেখার সময়? বিবেকানন্দ ইস বর্ন বিবেকানন্দ, বুঝলেন?

    ২ নং : না, মশায়, ঐসব ফুকো কৃষ্ণমুর্তি দিয়ে আমায় বিবেকানন্দকে দেখতে হবে না। আমি প্রদীপ ধরে সূর্য দেখিনা। আর দেখবও না। যত্তসব।

    ৩ নং : মার্ক্স দিয়েও আমাকে বিবেকানন্দের সমাজ চিন্তা বুঝতে হবে না। বিশ্বের তো বাদই দিলাম, ভারতের কটা রাজ্যে ঐ রাজনৈতিক সামাজিক ভাবনায় লোক কতটুকু কাজ করছে আর উপকৃত হচ্ছে আর বিবেকানন্দের ভাব ধারায় অনুপ্রাণিত লক্ষ লক্ষ সন্ন্যাসী-গৃহী মিলে যে কাজ করছেন সারা জগত জুড়ে তাইতেই আমি চাঁদমালা আর চাঁদের তফাত সাদা চোখেই দেখতে পাই। বই পড়ে নয়।
    আর সব শেষে, ভুল ধরার আগে, মানে আপনি স্বামীজীর ভুল ধরার আগে, শুধু জানতে চাইব দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য আপনার কোনও অবদান আছে? বিবেকানন্দের প্রভাব আপনার জীবনে সব চেয়ে বেশী বললেন তাই জিজ্ঞাসা করি। বিবেকানন্দের ভাষায় নইলে আপনাকে "বিশ্বাসঘাতক" বলতে হয় যে! গরীব দেশের মানুষের পয়সায় পড়াশোনা করে বিদেশে আপন সুখ সাচ্ছন্দের ধান্দায় থেকে ফ্যালাসফি কপচাচ্ছেন! যদি সত্যই বিবেকানন্দের কাজকে (যে কাজ মানুষকে নিয়ে, তাদের রাজনীতি নিয়ে, তাদের প্রতিদিনের সমাজকে নিয়ে, তাদের প্রত্যেকের প্রতিদিনের জীবন দর্শনকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়ে চলেছে) সেই সব কিছুকে অতিক্রম করে গিয়ে থাকে যদি আপনার "দেওয়া", তবে আপনার ভুল ধরার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন নেই। বিবেকানন্দকে নেতা না মেনে, আপনাকে মানতেও কোনও অসুবিধা নেই।
  • name | 69.*.*.* | ১৭ জানুয়ারি ২০১২ ১৪:৪৭515492
  • এসিচি যখন, তখন শিবুকেও বলে যাইন কারণ ভাটে বেচারী ঝগড়া করতে পেলো না বলে দুক্ষু করছিল। কেন বাঙালিনী ব্রহ্মচারী পছন্দ করে ? যদিও রিমি উত্তর দিয়ে দিয়েছে, তবুও অন্য ভাবে বলি।
    মেয়েরা বড্ড অ্যাম্বিশাস মশায়। তাই ওরা সন্ন্যাসী বা ব্রহ্মচারীকে বেশী পছন্দ করে সংসারীগুলোর তুলনায়। বিবেকানন্দই বলেছিলেন নিবেদিতাকে, "একটি সর্ষের বীজ আর সুবিশাল সুমেরু পর্বতে যে পার্থক্য, গোষ্পদ আর মহাসাগরের মধ্যে যে পার্থক্য -- সংসারীর সঙ্গে সন্ন্যাসীর ঠিক ততটুকুই পার্থক্য।" বিশালের প্রতি মানুষের মুগ্‌ধতা, আকর্ষণ, ভালোবাসা খুবই স্বাভাবিক। তবে হ্যাঁ, সে জন্য গোষ্পদের কোনও প্রয়োজন নেই মহাসাগরের প্রতি ঈর্ষান্বীত হয়ে বিরূপ মন্তব্য করার। তাতে তাকে আরও-ই ছোটো দেখাবে।

    দ্বিতীয়ত, ঠিকই আপনি পরিব্রাজকের ডায়েরী ইত্যাদি পড়ুন। যে যেমন নিতে পারে! মহাপুরুষেরা সকলের জন্যই ব্যবস্থা রেখে যান। কেউ কেউ শুধু-ই বোঝে "কাল ছিল ডাল খালি, আজ ফুলে যায় ভরে" আবার কেউ কেউ "আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ"এর রসাস্বাদন করতে পারে। অনেকেই এই দুয়েরই মধ্যে স্বচ্ছে বিহার করতে পারে। কিন্তু, যে শুধু বোঝে "হাঁক পাড়ে ও ঔ, ভাত আনো বড় বৌ", তার কাছে এই সব চেতনার রং-টং ঢপের চপ আর বাঁধাবুলি ইত্যাদি ছাড়া কিছু নয়। সেই জন্য আগে নিজের মুল্য বুঝুন, নিজেকে নম্বর দিন, তারপর রবীন্দ্রনাথের নম্বর কোথায় কাটবেন আর বিবেকানন্দের নম্বর কোথায় দেবেন সেই সব ভাববেন, কেমন?
  • siki | 122.*.*.* | ১৭ জানুয়ারি ২০১২ ১৫:১৬515503
  • সইত্যের খাতিরে একটা কথা না কয়ে পারচি না, সু যেমন কইলেন, বাঙালির ঘরে ঘরে জন্ম নিক বিবেকানন্দ, তো বলছিলাম কি, এমনটি হলে তো বাঙালি জাতি লুপ্ত হয়ে যাবে!

    বিবেকানন্দর একটা কবিতা আবৃত্তি করে ফার্স্ট হয়েছিলাম স্থানীয় বিবেকানন্দ মিশনের প্রতিযোগিতায়। সেই ক্লাস এইটে।

    সেই এক বিরাজিত অন্তরে বাহিরে
    সব হাতে তাঁরই কাজ
    সব পায়ে তাঁরই খেলা
    তাঁরই দেহ তোমরা সবাই
    কর তাঁর উপাসনা
    ভেঙে ফেল আর সব পুতুল প্রতিমা।
  • name | 69.*.*.* | ১৭ জানুয়ারি ২০১২ ১৫:২২515515
  • বা:, সুন্দর শমীক, এখনও মনে আছে ছত্রগুলো এত স্পষ্ট?
    এই কবিতা পংক্তির সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে, সত্যের খাতিরে আমিও বলে যাই, বাঙালী জাতি লুপ্ত হোক, শমীক, ক্ষতি নেই, "মানুষ" জাতিটা বাঁচুক। আর কিচ্ছুটি চাইবার নাই!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন