এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • এফ ডি আই বিল: ইনফর্মড্‌ ডিবেটের অপেক্ষায়

    ranjan roy
    অন্যান্য | ২৪ নভেম্বর ২০১১ | ৪২৪৬১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • biplab pal | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ০৬:১৫500536
  • আমি পরিস্কার ভাবেই অর্গানাইজড রিটেলের বিরুদ্ধে। ভারতে এবং আমেরিকাতেও। ওয়ালমার্টের জন্যে কিভাবে অনেক উন্নত স্থানীয় প্রোডাক্টের দোকান [ ১৫০ বছরের ] উঠে যায় তার সাক্ষী আমি। মেরীল্যান্ডের ইস্টার্ণ শোরে প্রচুর দোকান উঠে গেছে। আমার অফিসের পাছে আছে জিনা ফ্লাওয়ার। ফুল সাপ্লাই দেয়। আমাজনের প্রাইসিং এর চোটে সে দোকান তুলে দেবে বলল-আমি গতমাসে বিবাহ বার্ষিকীতে ফুল কিনতে গিয়ে এই সংবাদ শোনালো জিনা বুড়ি।

    ওয়ালমার্টে জিনিসের স্টান্ডার্ড সেই ১৯৮০ সালে ভারতে যা স্টিলের ফার্নিচার পাওয়া যেতে তার থেকেও অনেক অনেক খারাপ। সাপ্লাইয়ার দের শোষন করতে করতে এমন একটা যায়গায় নিয়ে এসেছে ওয়ালমার্ট, সাপ্লাইয়ার দের ক্ষমতা নেই কোয়ালিটি প্রোডাক্ট বানানো। যারা কোয়ালিটি বানাচ্ছে, তারা ইকমার্সের সাহায্য নিয়ে আমেরিকাতে মুখ তুলেছে। রিটেল থেকে সরে যাচ্ছে। মোদ্দা কথা ওয়ার্গানাইজড রিটেল আইন করে বন্ধ করা উচিত। কারন এটা উৎপাদনকে ধ্বংশ করে। আমি নিজে অনেক উদাহরন দিতে পারি।
  • debu | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ০৮:১১500547
  • মুদির দোকানের ধারের খাতাটা উঠে যাবে
    visa/master card ভালো ব্যব্‌সা করবে
  • bb | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ০৯:১১500558
  • শান্তনু - মেট্রো কিন্তু খুচরা ব্যবসা করতে পারে না। তারা শুধু মাত্র পাইকারী লোককে বিক্রি করতে পারে, তাই তাদের impact কম।
    এটা সত্যি যে walmart ইত্যাদি এলে short-term এ আমাদের মত সাধারণ জনতা লাভবান হবেন, কারণ তথাকথিত ফড়েরা করে খেতে পাবেন না। আর এই জন্যই বিজেপি বা তৃণমুল এই বিলের বিরোধিতা করছে। কারণ এই 'ব্যওসায়ী" জনতা এদের ভোট বেস। বামেরা বিরোধিতা করছেন অনেকটাই তাঙ্কিÄক কারণে, যার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে খুচরো বিক্রেতা মার খাবেন যাদের bargaining ক্ষমতা কম হওয়ার ফলে, তাদের চেয়ে walmart সস্তায় বেচতে পারবেন। এর কিছুটা দেখা যায় আজকাল বাচ্চাদের খাতা কিনতে গেলে। আগে এই শিল্প কুটীর শিল্প ছিল আর তার ফলে মানে অত উন্নত ছিলনা, কিন্তু দামও কম ছিল। কিন্তু এই শিল্প 'খুলে' দেওয়ার পর ITC, ক্যামলিন ইত্যাদি আসার ফলে গুণ্‌গত মান বেড়ে গেছে, কিন্তু দাম ও বেড়ে গেছে অনেক। তাই আমাদের ছেলেরা ঝাঁ চকচকে খাতায় পড়াশুনা করে আর গ্রামের গরীব ছেলেরা সেই মান্ধাতার আমলের খাতায় (আরেক সুক্ষ শ্রেনীবিভাদের সৃষ্টি হয় এই ভাবেই)।

    অবশ্য অনেক দেশই কিন্তু walmart ইত্যাদি আসার পরও দুই ব্যবস্থাই রাখতে পেরেছে। এক এই বড় বড় সংস্থা তাদের big format এর কারণে শহরের মধ্য দোকান খুলতে পারেন না আর তাই পাড়ার কিরানা দোকান বেচে থাকে।
    দুই - সার্ভিস দিয়ে অনেক পাড়ার দোকান টিকে আছে।এরা ফোনে অর্ডার নিয়ে হোম সার্ভিস দেন যা এই বড় সংস্থারা দিতে পারেন না। অথবা ধারে মাল দেওয়া। তাই এই ছোট দোকানরা নিজেদের স্থান খুজে নেন। কিন্তু প্রতিযোগিতাটা অনেক অসম হয়ে যায়।
  • kallol | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১০:২৫500569
  • ব্যাঙ্গালোরে প্রচুর হাইপার সিটি, বিগ বাজার, রিলায়েন্স, স্পার জাতীয় বিইইশাল বড়ো বড়ো দোকান আছে। আমার বাড়ি থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে দুটি বিগবাজার, একটি রিলায়েন্স, একটি স্পার আছে। আর এই গোটা এলাকা জুড়ে শয়ে শয়ে ছোট-মাঝারী দোকানও আছে। সবই তো ঠিকঠাকই চলে দেখি।
    আমার অবশ্য একেবারেই ওপর ওপর দেখা। তবু, কোন ছোট-মাঝারী দোকান তো উঠে যেতে দেখিনি।
  • pi | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১০:২৯500580
  • এই 'মাৎস্যন্যায়' ডকুমেন্টারিটা এখানে দেখেছে কেউ ?

    http://canvaspix.wordpress.com/2010/07/21/retail/

    অনেকগুলো সাক্ষাৎকার আছে, ছোটো দোকানীদের।
    ডকুতে আসেনি এরকম আরো বেশ কিছু সাক্ষাৎকার আমার কাছে ছিল, খুঁজে দেখতে হবে। বেশিরভাগই কিন্তু অসুবিধার কথা, বিক্রি কমে যাবার কথা জানিয়েছিলেন। উত্তরপাড়ায় 'মোর' আসার পর বেশ কিছু ছোটো দোখা, মানে যেগুলো খুবই ছোটো, এক চিলতে ঘরে একটু আয়োজন, সাইনবোর্ড টুকুনিও নেই, অমুকের দোকান, তমুকের মুদীঘর এমনি নামেই পাড়ায় পরিচিত ছিল, তাদের কিছু উঠে যাবার কথাও জানি।
  • pi | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১০:৩৪500591
  • আর হ্যাঁ, এখানে ওয়ালমার্ট ইত্যাদি নিয়ে বিপদার সাথে সহমত। অ্যাকচুয়ালি, লোক্যালি এগুলোকে বেশ ভালোভাবেই প্রতিরোধ করার চেষ্টা করা হয়। নতুন কোন আউটলেট খোলার কথা হলে, অন্যত্র এগুলোর ফলে 'নেট' কতজন জীবিকা হারিয়েছে, সেসব তুল্যমূল্যের হিসেবপত্তর দেওয়া হয়।স্থানীয় কাগজগুলোতে যা দেখেছি। এখন এরকম কোন নতুন প্রস্তাব এলে নাগরিকদের ফোরাম রীতমত দাবীদাওয়া জানায়, এত স্থানীয় লোককে চাকরি দিতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে সেগুলো মানা হয় বলেও দেখেছি।
  • achintyarup | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১১:০৫500602
  • ৪২ট শহরের প্রতিটিতে নিশ্চয়ই একাধিক বিগ প্লেয়ার খেলা করবে।

    খুব খুব ছোটো চাষীদের কাছ থেকে এই বড় খেলোয়াড়দের মাল কেনার পদ্ধতিটা কিরকম হতে পারে?

    কৃষিজ পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার সরকারের। তার মানে সামান্য হলেও কিছু সরকারি বাবুর দোতলা বাড়ি হয়ে যেতে পারে ওয়ালমার্টের টাকায় :-)
  • pi | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১১:২৫500613
  • অন্য আরেকটা টইতে, একটা পেপারের স্টাডি দিয়েছিলাম। বম্বেতে শপিং মল হবার এফেক্ট নিয়ে। শান্তনুদার সাথে তাই নিয়ে কথাও হয়েছিল মনে হয়।

    কিন্তু এই যে আপাতদৃষ্টিতে অনেকেরই মনে হয়, না, এগুলো আসাতে পাড়ার দোকানের তেমন কিছু তো হয়নি, তার একটা কারণ, আমার মনে হয়, মল হলে লোকের কেনাকাটাই বেড়ে যায়। এই গুচ্ছ স্কিম, এই কিনলে এই ফ্রি, কি পরের অন্য কেনাকাটায় অমুক ছাড় .., এত টাকার অমুক জিনিস কিনলে তমুক জিনিসে অমুক ছাড় .. এর ঠ্যালায় পড়ে লোকজন নিত্যই অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে চলে ( নিজের উদা: দিয়েই বলতে পারি :(( )। বাবার কাছে এবার গিয়ে শুনছিলুম। কোন একটা মল, নাম মনে নেই, তারা কীসব স্কিম চালু করেছিল, এত টাকার জিনিস কিনলে কত কিলো চিনি ফ্রি ! এর ঠ্যালায় বাড়িতে যে কী পরিমাণে অদরকারি জিনিস ঢুকেছে সে তো পরের কথা। তার চেয়েও সমস্যা হয়েছে বাড়িময় কিলো কিলো চিনি :)। লোক ডেকে ডেকে সেগুলো বিতরণের গল্প শুনছিলুম :)
    আর একবার গেলে মোটামুটি লুপে ফেলে দিতে পারে।
  • ranjan roy | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১১:২৭500624
  • ম্যাক্সিমিন,
    আপনি একদম সঠিক। কিন্তু এই ধরণের ট্র্যানজাকশনের লেভেলটা বেড়ে গেলে কোয়ান্টাম অফ মানি সাপ্লাই না বাড়ুক, ভেলোসিটি অফ মানি সার্কুলেশন কি একটু বাড়বে না?
    আমার ইকনমিক্সের থিওরিটিক্যাল পড়াশুনো একটু প্রিমিটিভ লেভেলের; কোলকাতা ছেড়ে ছত্তিশগড়ে গিয়ে পড়াশুনো শেষ করার ফলে।:))))
    আমাদের সময়(১৯৬৭)তে কেয়ার্নক্রস, স্যামুয়েলসনদের লেখা টেক্‌স্‌টবই রিজার্ভ বেঞ্চে চলে গেছে। ফার্স্ট ইয়ারে পড়তে হচ্ছে হেন্ডারসন কোয়ান্ডট্‌, বমল, রায়ানদের মাইক্রো। ছত্তিস্‌গড়ে অধ্যাপকরা এঁদের বইয়ের ব্যাপারে জানতেন না।

    আপনার মিডলম্যানদের বিশালত্বের ব্যাপারটা মনে হয় ঠিক, এদের গুরুত্বও কম নয়।
    কিন্তু আমি বলতে চাইছি এদের লেভেলটা হোমোজিনিয়াস নয়, হেটারো। তার বড় কারণ আমেরিকার ( বিপ্লব বাবুর উদাহরণে)তুলনায় আমাদের অনুন্নত পরিকাঠামো। বিশেষ করে রাস্তাঘাট-যানবাহনের স্থিতি। তাই কয়েক কিলোমিটার দূরের
    দুটো বাজারের মধ্যে দামে এত ফারাক দেখা যায়।
    আর এই খানেই ছোট দোকানদারদের টিঁকে থাকার মত কিছু
    সুরক্ষা দ্বীপ তৈরি হয়। হোম ডেলিভারি বা ধারে জিনিস দিয়ে, যেমন বিবি বলেছেন, আর কিছুদিন পরে রিটেল আউটলেট থেকে বাল্ক পারচেজ করে দু'টাকা বেশি দামে পাড়ার দোকানে বিক্রি করে। এতে কাস্টমারও খুশি। সময় ও ভাড়ার জন্যে অতিরিক্ত ব্যয় বেঁচে যায়। হারায় বড় দোকানের উৎসবের পরিবেশের মধ্যে ঘুরে ঘুরে কেনাকাটার আনন্দ, সেটা অবশ্যি ক্ষণস্থায়ী।
    এবারে একটু লিংকেজের কথা তুলি। এর ফলে কিছু গাঁয়ের রাস্তাঘাট ভাল হবে। ট্রাক/বাসের সংখ্যা বাড়বে। কাঁচামাল শহরে চলে যাওয়ায় কৃষিপণ্যের দাম বাড়বে। ফলে অধিকাংশ গ্রামবাসী, চাষী হওয়ায়, লাভবান হবেন। কিন্তু যাদের আয় কৃষিনির্ভর নয়, তাঁদের বেশি দামে জিনিস কিনতে হবে। ফলে বাস্তবিক আয় কমে যাবে। কিন্তু বাড়বে রোজগার। কাছাকাছি গাঁয়ের প্রাইমারি বা সেকন্ডারি পাশ ছেলেমেয়েদের ( যাঁরা স্বাভাবিক ভাবেই জমিতে সারপ্লাস) রাস্তা বানানোয়, ট্রান্সপোর্টের হেল্পার/ কন্ডাক্টর? ড্রাইভারের পেশায়, আউটলেট গুলোর গাঁ থেকে প্রকিওরমেন্টের কাজে এবং আউটলেটে সেলস্‌পার্সন, সিকিউরিটি, কাউন্টারক্লার্ক ইত্যাদির জন্যে কাজ করার সুযোগ আসবে। মলের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে কথা বলে এটা দেখেছি।

    খুব দামি কথা বলেছেন বিবি। বামেদের বিরোধিতা অনেকটাই তঙ্কÄগত; আর ডানেদের ফড়েগোষ্ঠির স্বার্থরক্ষায়।

    পাইয়ের বক্তব্য খুব মন দিয়ে পড়লাম এবং দেখলাম।
    আমার পারসেপশন এক্টু আলাদা।
    মল ইত্যাদি না খুললেও খুব ছোট্ট পুঁজি নিয়ে, সামান্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার(সাইনবোর্ড না থাকা ইত্যাদি), অল্প একধরণের স্টক নিয়ে খোলা দোকান জন্ম থেকেই দুর্বল রুগ্‌ণ শিশুর মত। কারণ এঁদের কাছে রিজার্ভ নেই, উপভোগের প্রবৃত্তি বেশি( এঁরা নিজেরাই সাবসিস্টেন্স লেভেলে বাঁচেন), আয়ের বেশির ভাগটা দোকানে আবার বিনিয়োগ না করে খেতে পরতেই খরচ হয়ে যায়। আবার কারো অসুখ হলে দোকানের স্টক বেচে চিকিৎসায় লাগাতে হয়। কাজেই মল আসার আগেও আমাদের সবার পাড়াতেই এমন কিছু দোকান খুলতে এবং বন্ধ হতে দেখেছি।
    তাই মল বা বড় রিটেলের রাঘববোয়াল প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে এভিডেন্স হিসেবে এদের না ধরে একটা রিপ্রেজেন্টিটিভ বা অপ্টিমাম সাইজের দোকান কি ভাবে এদের উৎপাতে বন্ধ হয়ে গেল সেই তথ্য দিতে হবে।
  • pi | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১১:৩১500636
  • রঞ্জনদা, ডকুটা পুরোটা দেখলেন ?
  • pi | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১১:৩৩500647
  • পেপার বা আগের আলোচনার লিংকটা পেলে দিচ্ছি।

    কিন্তু আমার একটা অন্য প্রশ্ন আছে।এই সব রিটেইল চেন চালু না করে কি প্রাথমিক উৎপাদকের এক্সপ্লয়েটেশনের সমস্যা কমানো যায় না ? সরকার উদ্যোগী হলেই করা যায় মনে হয়।
  • Biplab Pal | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১১:৩৪500658
  • খুচরো বিণপন ক্ষেত্রে বা দেশী রিটেলে বিদেশী বিনিয়োগের বিরোধিতা করেছে তৃণমূল-এই ব্যপারে বাজার আনন্দর সম্পাদকীয় বক্তব্য:

    " কারণ, যাঁহাকে রাজ্য চালাইতে হয়, অর্থ সংস্থানের কথা ভাবিতে হয় তাঁহার পক্ষে বাস্তববাদী হওয়া ভিন্ন উপায় নাই। দু:খের কথা, শ্রীবন্দ্যোপাধ্যায় চোখ বুজিয়া থাকিলেন। ‘পরিবর্তন’-এর হাওয়ায় ভর করিয়া তিনি পশ্চিমবঙ্গের মসনদে অধিষ্ঠিত হইয়াছেন। কিন্তু, তাহা নিতান্তই বাহ্যিক পরিবর্তন। মানসিকতায় কোনও পরিবর্তন আসে নাই। একুশ শতকের বিশ্ব-অর্থনীতি কোন পথে হাঁটিতেছে, তাহা বুঝিতে তিনি ব্যর্থ। খুচরা বিক্রয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আসিলে আখেরে যে সাধারণ মানুষেরই লাভ, এই কথাটি তিনি বুঝিয়াও বুঝেন নাই।"

    আনন্দবাজারের সম্পাদকীয় কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ লেখেন আমি জানি না। তাদের কাছে আমি শুধু কিছু তথ্য পেশ করতে চাইব
    (১) ১৯৭৮ সালে আমেরিকান বাজারে, নিয়ন্ত্রনমূলক আইনের সংখ্যা ছিল ৮০,০০০/ বর্তমানে, সংখ্যাটি ২,৪০,০০০ ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ বাজার সরকারকে টেকাতে, ধণতন্ত্রের তথা উদার অর্থনীতির পীঠস্থানে রেগুলেশনের সংখ্যা তিনগুন বাড়ানো হয়েছে তিন দশকে মধ্যে। এবং তার সবটায়, আরো স্বাস্থ্যপূর্ণ বাজারের জন্যে।

    (২) যে রেগুলেশনগুলো বাড়ানো হয়েছে, তার মধ্যে সবথেকে বেশী যে আইনটি বারবার বলপ্রয়োগ করে চাপাতে হয়েছে-তার নাম এন্টিট্রাস্ট। অর্থাৎ দুটি প্রতিযোগী কোম্পানী কখনো একসাথে মিশে বা গোপনে দামের শলা করে বাজারে একাধিপত্য কায়েম রাখতে পারবে না। অর্থাৎ কোন কোম্পানী যাতে বাজারকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারে, তার জন্যে আমেরিকাতে সরকার সব থেকে বেশী আইন জারী রেখেছে।

    (৩) এবার আসি আমেরিকাতে অর্গানাইজড রিটেলের প্রসঙ্গে। ওয়ালমার্টের জন্যে বহু স্থানীয় মুদিখানার দোকান উঠে গেছে। এমন কিছু দোকান যা ওয়ালমার্টের আগমনে উঠছে উঠছে করছে, তাদের সাথে আমি কথা বলে বুঝেছি ছোট ব্যবসায়ীদের কি যন্ত্রনা। ওশান সিটি যাওয়ার পথে রুট ৫০ এর ওপর ১৫০ বছরের পুরানো একটা দোকানে একবার বাটার আর স্থানীয় চকলেট কিনেছিলাম। সেইবারই মালিকিন আমাকে বলেছিল-এর পরের বার আর আমদের দেখতে পাবেন না-এখানে ওয়ালমার্ট এসে গেছে। কি অদ্ভুত। ২০১০ সালেই দেখেছি সেই দোকানে ঝাঁপ নেমে গেছে। এছাড়ার আরো অনেকের সাথে আমার কথা বলার সৌভাগ্য হয়েছে-নিজের চোখে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পিকেটীং দেখেছি ওয়ালমার্টের বিরুদ্ধে।

    (৪) অনেকের ধারনা অর্গানাইজড রিটেল-মানে এই সব ঝকঝকে মল বানিয়ে -কি দারুন কেনাকাটার অভিজ্ঞতা দেবে! খুব ভুল ধারনা খাওয়াচ্ছে বাজার আনন্দ আর বাংলা মিডিয়া। অর্গানাইজড রিটেলের ক্ষেত্রে উৎপাদক পুরো দিশে হারা হয়ে যাবে। ওয়ালমার্টের উৎপাতে শুধু ব্যবসা বন্ধ হয় নি-স্থানীয় যেসব দুধ, দই ইত্যাদির উৎপাদন ছিল-তারাও ঝাঁপ টেনেছে। কারন ওয়ালমার্ট ভেন্ডরকে যে পয়সা দেয়, তাতে শুধু বড় বড় উৎপাদকরাই পারে সাপ্লাই দিতে। স্থানীয় অর্থনীতি ভেঙে যাবে-যা আমেরিকার বহু শহরে হয়েছে। এমন একটা টাউন দেখেছিলাম ভার্জিনিয়াতে- মাইনিং টাউন অক্সিডেন্ট। খুব কম লোকের বাস। তাও আগে শহরে বেশ কিছু দোকান ছিল-আশে পাশে কিছু শাক সব্জির উৎপাদন হত এককালে। ওয়ালমার্ট আসার পর সব দোকান বন্ধ। শুধু একপায়ে ওয়ালমার্ট দাঁড়িয়ে!

    (৫) ওয়ালমার্ট আমেরিকান বাজাএর কোয়ালিটিও সাংঘাতিক কমিয়ে দিয়েছে। ওয়ালমার্টের যেকোন জিনিস যেমন সস্তা -ঠিক ততটাই বাজে। সেদিন ওয়ালমার্ট থেকে একটার সস্তার স্ক্রু ড্রাইভার কিনলাম-স্ক্রু খোলার বদলে, ড্রাইভারের মুন্ডীগেল ঘুরে। এত বাজে কোয়ালিটি ভারতেও দেখি নি। ওরা ভেন্ডরদের পয়সা কমাতে কমাতে এমন জায়গায় এনেছে, আর কোন কোয়ালিটি সাপ্লায়ার নেই ওয়ালমার্টে।

    এন্টিট্রাস্ট আইন যদি ক্রেতাদের কথা ভেবে করা হয়ে থাকে অর্গানাইজড রিটেল বন্ধেও আইন দরকার। ভারতে খাবারের দাম যে হারে বাড়ছে-সেখানে খাবারের সাপ্লাই চেইন উন্নত না করে, মল বানানো দৃষ্টিকটুই শুধু না-সম্পূর্ন ভুল দিকে একটা দেশকে চালনা করা। আর সেই ভুল পথে চালনা করতে বাজার আনন্দের চেয়ে পারদর্শী আর কে আছে?
  • ranjan roy | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১১:৪৮500669
  • আমার বক্তব্যের বেসিস হল গাঁয়ে ব্যাংকের লোন ফলো আপ করতে গিয়ে একটি ছোট দোকান কেন এবং কি ভাবে টিঁকে থাকে এবং কেন বন্ধ হয়ে যায় সেগুলো পেশাগত এবং নিজস্ব আগ্রহে কাছ থেকে দেখা।
    উন্নত টেকনলজি এবং উন্নত পরিষেবা একটা বড় ফ্যাক্টর। ষাটের দশকে অটোমেশন বিরোধী আন্দোলন অনেকের মনে আছে। আমার ইউনিয়ন বেফি কোলকাতায় হংকং ব্যাংকে মেশিন ঢুকতে না দেয়া নিয়ে আন্দোলনের সফলতার কথা খুব গর্বের সঙ্গে বলত। আজ?

    ম্যানুয়াল রেলওয়ে রিজার্ভেশনের সময় লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে শেষে খালি হাতে বাড়ি ফেরার বিভীষিকা এখানে নতুন প্রজন্মের অনেকেই হয়ত ভোগেন নি। আজ?
    এতে গাঁ-শহর, শ্রমজীবি-কৃষক-ব্যবসায়ী সবাই লাভবান হয়েছেন।
    কয়লার উনুন আর গ্যাসের কথা ভাবুন। বিজলীর স্টোভের কথা ভাবুন।
    ব্যাংকে সবাই ভাবতাম কম্প্যুটারাইজেশনের ফলে চাকরি যাবে। কারো যায়নি।
    কিন্তু একদশক নতুন রিক্রুটমেন্ট বিশেষ হয় নি। এখন আবার বিশাল রিক্রুটমেন্ট হচ্ছে। একটু তফাৎ আছে। আগে ব্যাংকে
    ম্যাট্রিক পাশ হলেই নিয়ে নিত। প্রথমে ডেকে ডেকে, তারপর পরীক্ষা দিয়ে। এখন গ্র্যাজুয়েট এবং কম্প্যুটার জানা চাইছে।
    মনে হয় আমরা ইডিওলজিক্যাল কারণে দুই বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে থাকি।খোলা বাজার বা পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত বাজার।
    মনে হয় দরকার দুটোর সুবিবেচিত সংমিশ্রণ।
    সরকারকে প্লেয়ার না হোক, আম্পায়ার হতেই হবে। লাগামহীন ঘোড়ার মতই পূর্ণ খোলাবাজার মাফিয়ার তুল্যমূল্য হবে, আজকের আমেরিকার মত। আবার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে স্তালিনের রাশিয়ার ইকনমি হবে, কোথাও একট ব্যালান্‌স্‌ড্‌ দরকার। আর এটা বুঝতে হবে কোন কিছুই আনমিক্‌স্‌ড্‌ ব্লেসিং হতে পারেন। দেখতে হবে কার লাভ হচ্ছে এবং কার ক্ষতি, আর কতখানি? নীতিনির্ধারকদের এইসবগুলো ইস্যু অ্যাড্রেস করতে হবে।
  • ranjan roy | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১১:৫৭500691
  • এখানে ব্যাংকিং সেক্টরের দুজন হাতে গরম অভিজ্ঞতা প্রাপ্ত আছেন যাঁরা বিদেশি এবং ক্লাস ব্যাংকিংয়ের ফলাফল নিয়ে তথা আধুনিকীকরন নিয়ে অনেক ভাল করে বলতে পারবেন। একজন রূপংকর সরকার। রূপংকরদা অফিসার্স অ্যাসোদিয়েশনের একজন বিবেকসম্পন্ন ওয়েল ইনফর্মড লীডর ছিলেন, বর্তমানে অবসর জীবন কাটাচ্ছেন।
    আর আছেন ইতিহাস, দর্শন ও সংগীতে বিশেষ রুচিসম্পন্ন শিবাংশু। হায়দ্রাবাদের এস বি আইয়ের স্টাফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কলেজের বর্তমান এইচ আর চিফ হিসেবে
    শিবাংশু সারা ভারতের ব্যাংকিংএর পরিবর্তনের ছবিটা ভাল করে জানেন।
    এঁরা যদি ওই সেক্টরের সঙ্গে তুলনা করে আলোচ্য সমস্যার ব্যাপারে আমাদের কিছু জানান তবে বড় ভাল হয়। শিবু এবং আকা কিছু বলবেন আশায় আছি। এলসিএম, দ্রি?
  • Bratin | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১২:১৫500702
  • আমি ব্যাপার টা জানি না কিন্তু জেনে নিতে চাই। তার মানে মূল সমস্যা টা কি 'অল্প কিছু লোকের অসুবিধে' বনাম ' বেশী লোকের সুবিধে'?
  • pi | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১২:২৫500713
  • পরিষেবার আধুনিকীকরণ, সুবন্দোবস্ত করা এগুলো তো অবশ্যই কাম্য। ঝাঁ-চকচকে ফ্যাক্টরের জন্য যেমন অনেকেই মলে যেতে আগ্রহী হন, অনেক সুবিধা প্রকৃতপক্ষে বেশি আছে বলে যেতে চান এমনও অনেকে আছেন।

    মল মানেই নাক সিঁটকাতে হবে এমন তো না :)
    ওখানে অনেক ব্যবস্থাই ভালো। বলা ভালো, বেটার। কিন্তু ঐ প্রাথমিক উৎপাদনকারীদের এক্সপ্লয়েটেশন কামান সংক্রান্ত আগের প্রশ্নটার মতই এখানেও একি প্রশ্ন আছে। এগুলো আনার জন্য এই রিটেইল চেন ই আনতে হবে ?

    এক জায়গায় কেনাকাটা করার সুবিধে দরকার হলে নানা ছোট ছোট দোকান সমবায় করতে পারে ( এরকম তো কিছু আছেও), বিক্রি ব্যবব্‌স্‌থায় পরিবর্তন আনতে পারে। মলের অনেক ভাল ব্যাপাই তো সেখানে ই®¾ট্রাডিউস করা যায়।
    কোলকাতায় সরকারি কো অপারেটিভগুলোর এখন কী অবস্থা ?

    আর, ঐ প্রাথমিক উৎপাদকেরাও যদি সমবায় করে জিনিসপত্র বিক্রি করেন, ওঁদের এক্সপ্লয়েটেশনও অনেক কমতে পারে।
  • dd | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১২:৩৯500724
  • কিন্তু লোকে এতো থিওরী কপচাচ্ছে কেনো? ওয়ালমার্ট গোছের শয়ে শয়ে শপিং মল তো দেশেই অলরেডী আছ। একই ফর্মাট।

    লুরুতে আমার বাড়ীর থেকে হাঁটা পথে বিশাল বিগ বাজার আর মোর। এছাড়াই শিগ্গির আসছে স্পার।

    বিদেশী মল আর আর নতুন কি করবে যাতে এতো কান্নাকাটি শুরু হোলো?
  • ppn | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১৩:১৫500735
  • হ্যাঁ, এইটা আমারো প্রশ্ন।
  • ppn | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১৩:২৪500747
  • আর ছোটখাটো দৈনন্দিন জিনিসের জন্য সপ্তাহে এক-আধবার বিগ বাজারে যাওয়া ঠিক আছে। কিন্তু গেলেই প্রচুর সময় নষ্ট। উইকেন্ড ছাড়া সম্ভবই নয়। ছোট পরিবারে কার অত সময় আছে। তখন অগতির গতি পাড়ার ছোট্ট দোকান।
  • pi | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১৪:২২500758
  • ফরেনের জায়ান্ট রিটেইলারদের নিয়ে এক্সট্রা কী সমস্যা তা নিয়ে কিছু কিছু তাঙ্কিÄক এরকম কিছু বলছেন :

    Imagine if Wal-Mart, the world’s biggest retailer sets up operations in India
    at prime locations in the 35 large cities and towns that house more than 1
    million people. The supermarket will typically sell everything, from
    vegetables to the latest electronic gadgets, at extremely low prices that will
    most likely undercut those in nearby local stores selling similar goods. Wal-
    Mart would be more likely to source its raw materials from abroad, and
    procure goods like vegetables and fruits directly from farmers at preordained
    quantities and specifications. This means a foreign company will
    buy big from India and abroad and be able to sell low – severely
    undercutting the small retailers. Once a monopoly situation is created this
    will then turn into buying low and selling high.
    Such re-orientation of sourcing of materials will completely disintegrate the
    already established supply chain. In time, the neighbouring traditional
    outlets are also likely to fold and perish, given the ‘predatory’ pricing power
    that a foreign player is able to exert.


    অনেক 'সেফগার্ড' তৈরি করে ধীরে ধীরে এϾট্র দেওয়া উচিত, শেষমেশ এরকম কিছু বলছেন মনে হল।

    কেউ পড়ে দেখে বোঝাতে পারেন।

    http://www.indiafdiwatch.org/fileadmin/India_site/10-FDI-Retail-more-bad.pdf
  • pi | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১৪:২৩500769
  • আর রঞ্জনদা যে ধুঁকতে থাকার সমস্যাটা বল্লেন, সেটা তো আনর্গানাইজড সেক্টরেরই সমস্যা। তাকে অর্গান্যাইজ করার উপায় কি একমাত্র এই বিদেশি জায়ান্টদের এϾট্র দেওয়া ?
  • maximin | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১৪:৩২500780
  • পাই যেহেতু তোমার আগ্রহ আছে, জিজ্ঞেস করছি কোন কাগজ পড়ো? ফিনানশিয়াল টাইমস তোমাদের ইন্সটিতে সাবস্ক্রাইব করা হয় নিশ্চয়ই?
  • maximin | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১৪:৩৩500791
  • নিউজ রিপোর্টের সঙ্গে মতামত (এবং তর্কাতর্কিও) থাকে।
  • h | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১৮:১৭500802
  • রঞ্জন দা,আম্পায়ারের ভূমিকায় সরকারের চাপ হল, সে একাধারে আম্পায়ার,অনিয়ন্ত্রিত বাজারে নিয়ন্ত্রিত কোং এর পলিসি নির্ধারক এবং এক অর্থে প্রতিযোগী আর প্রতিযোগিতায় প্রা: কো: হেরে গেলে তাকে ঠ্যাকনা দেওয়ার কাজে দায়িঙ্কÄ প্রাপ্ত। তো বেলারি মাইন্স যে চ্যাঁড়ামো হলো বা সেটা তো আর যাই হোক সুস্থ প্রাইভেট সেক্টর এর বিজ্ঞাপণ না।
    রেল এর টারিফ ফাঁকি দেওয়ার গল্পটাও তো জানা। প্রাইভেট সেকটর মানে এফিসিয়েন্সি আর এমপ্লয়মেন্ট এটা বল্লে, এমনকি স্টক মার্কেট প্রেমীরাও হারাহাসি করবে। বেলারি র থেকে কোল ইন্ডিয়ার দর বেশি, যদি মার্কেট লজিক ই মানি, দর তদ্দিন ই বেশি থাকবে, যদ্দিন divestment প্রক্রিয়া চলবে, তার পরে বেল আউটের আবেদন শুরু হবে, ইমিডিয়েটলি আফটার দ্য হনিমুন। এই ধরণের বিতর্কে গাম্ভীর্য্য বজায় রেখে কথা বেশিক্ষন বলা মুশকিল।

    এইবার ওয়ালমার্ট বা টেসকো এলে দেশী পুঁজি কম্পিট করতে বাধ্য হবেন, অতএব কনজিউমার চয়েস বাড়বে, এই লজিক টা মজার, করণ মোনোপোলি র জন্য বিখ্যত বিজনেস এলে কম্পিটিশন বাড়বে এই দাবী সিরিয়াসলি হাস্যকর।

    তো এই মডেলে খুব স্বাভাবাবিক ভাবেই divestment এর জন্য আলাদা মিনিস্ট্রি আছে, আর প্রফুল প্যাটেল বা অরুন শৌরি টাইপের লোক জন দ্বারা তার রক্ষনাবেক্ষন চলছে, অন্যদিকে ইনফ্রাস্ট্রাকচারে বিরাটাকারে বিদেশি পুঁজি নিয়ন্ত্রন সহ আসছে। বিপি তাড়া দিচ্ছে বেসিন প্রকল্পের জন্য খবর দেশে বিদেশের প্রায় সব কাগজেই বেরিয়েছে।

    এখন এই টই এর ধারা দেখলে বুঝবেন, এই প্রা: বনাম পা: ডিবেটে সাধারণ মানুষের আগ্রহ কমে গেছে (উদা : সি এস টি সি র পেন্‌শন বন্ধ হওয়ায় পপুলার রেজিস্টান্স কিসু হয় নি বা ধরুন সরকারি কর্মচারী দের ডি এ দিলে বাজার দর বেড়ে যায় এই যুক্তি প্রায়শ: চায়ের দোকানে শোনা যায়।) এটা ট্রেড ইউনিয়ন মুভমেন্টের সাধারণ সমস্যা, দীর্ঘস্থায়ী সিম্প্যাথাইসার পাওয়া ক্রমশ কঠিন। আমার লজিক হল, এটাও সরকারি পলিসি র ই ফল, পাবলিক সেক্টরে বা অক্সিলিয়ারি চাগরি করে কটা মানুষের আর সংসার চলে, যে যা পারে তাই করে নিজের মত। অর্থাৎ এই ডিসকানেক্ট ও পলিসির ই ফল। যদি সরকারি চাকরি আর আজ কাল কেউ কর্তে চায় না কেসটা সত্যি হত, তাইলে মাওবাদী সমস্যা সমাধানে এস পি ও নিয়োগ এর বিচিত্র সলুশন বাজারে চলতো না।

    অতএব ইনফরমেশন এর অভাবে ডিবেট করা যাচ্ছে না তা ঠিক না, যেটা টই এর হেডিং এর সাজেশন। অভাব টা অন্য কিছুর, প্রাচুর্য্য টাও, বড় মিডিয়াতে অন্তত অন্য কিছুর।
  • h | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১৯:১৩500813
  • গার্ডিয়ান, অকস্ফ্যাম আর ইন্ডিপেন্ডেন্ট কাছাকাছি সময়ে গত দশকে কয়েকটা সার্ভে আর স্টোরি করেছিলো। মোদ্দা বিষয় ছিলো, একটা ব্রিটিশ দিনে প্রয়োজনীয় খাবার কোদ্দিয়ে আসে। চা কফি থেকে রাতের মিল অব্দি। তাতে তিন চারটে উত্তর ও তো জানা গোছের খবর বেরিয়েছিল। এক বড় স্টোরের বাজার সরকার দের বেঁধে দেওয়া দামেই ফার্ম প্রডিউস বিক্রি হয়। ইথিওপিয়ার কফি থেকে থাইল্যান্ড বা ব্রাজিল এর মুর্গী পর্যন্ত। এবং টু এক্সটেন্ড দ্য লজিক অফ কম্পিটিটিভ প্রোকিউরমেন্ট, ইন্দোনেসিয়া বা বাংলা দেশের তৈরি জামাটামা ও একই ভাবে এসে পৌছয় লন্ডনের হাই স্ট্রীট এ।

    এবং গরীব দেশে কৃষি ইনশিয়োরেন্স এর বালাই বিশেষ নাই।

    তো বড় স্টোর নিজের দাম ই দেবে। ইন ফ্যাক্ট বিলেতে ব্রিটিশ প্রডিউস বা ইউরোপিয়ান প্রডিউস এর দাম বেশি।সেগুলো পশেরা বা মুর্খ জাতীয়তাবাদীরা কিনে থাকেন, আমাদের ফ্যাব ইন্ডিয়ার মত। স্বদেশি জিনিস সম্পর্কে আদেকলামো ও বেশিদিন টেকেনি। টেস্কো, সস্তার মার্কেট, পুরোটাই ইম্পোর্ট নির্ভর। ওয়ালমার্টের মডেল আলাদা কিসু হওয়ার কথা না।

    এখনও মহাজনের ঠিক করা দামেই জিনিস বিক্রি হবে। তবে ভার্টিকাল কনসোলিডেশন এর তঙ্কেÄ, ছোটো মহাজনেরা বড় মহাজন দের ফ্রান্‌চাইজি হবেন, এগুলো ও সব ই জানা। খারাপ লজিস্টিক্স এর ফলে দিল্লি বা ভারতের অন্যত্র কত জিনিশ কত নষ্ট হয় তাই নিয়ে বিবিসি দেখবেন মাঝে মাঝেই খুব প্যাসনেট খবর করে, ভারতীয় বাচ্চা ছেনছিটিব প্রেজেন্টার রাই করেন। তো সেটা লজিস্টিক্স এর ব্যবস্যায় কর্পোরেটাইজেশন এর লজিক। যতটা কর্পোরেট এসেছে, তার থেকেও মাইক্রো লেভেলে অ্যাকসেস চাই। অ্যাকসেস হয়তো এখনি আছে, চমস্কির সেই অনবদ্য ভাষা, শুধু অ্যাকসেস নয়, ক®¾ট্রাল ও চাই। ( এই বক্তৃতাটা, আমার নিজের কানে শোনা, লন্ডনে, ২০০৩।)

    তো ভ্যালু চেন এ যাঁরা তলার দিকের মাল বেচবেন, তাঁদের পক্ষের জনসমর্থন তৈরি হতে বেশি সময় লাগবে না। আজ যাঁরা জমি বা বাজার অধিগ্রহন এর সময় ঢিল ছুঁড়ছেন তাঁরাই হই হই করে বড় বড় ব্যাগে বিগ বাজারের থেকেও ওয়াল মার্ট কত শস্তা বলে মাল কিনবেন।

    অতএব বিতর্কে ইনফর্মেশনের অভাব কিসু নাই। অর্থনৈতিক অভিজ্ঞতা রাজনৈতিক রেজিস্ট্যান্স এ কখনো তৈরি করবে, কখনো করবে না। এটা আমরা বিক্রি হয়ে যাওয়ারা সবচেয়ে বেশি জানি। তো সেটা দিয়ে ঠিক দুটো মতাদর্শ সম্পর্কে আসুন আসুন মেপে দেকি টাইপের আলোচনা খানিকটা অর্থহীন। নিবেদনের তো একটা তর্কহীন সুখ আছে।
  • h | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১৯:১৬500824
  • oxfam এর বিজ্ঞাপণ টা মনে পড়েছে, মালউই র এক মহিলা পেঁয়াজ চাষী কে নিয়ে ছিলো। আবেদন ছিলো wta র কয়েকটি ধারা বাতিলের।
  • h | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ২০:৫৪500835
  • আর সেই যে ব্যাপারটা, সরকারের পক্ষ থেকে অসংখ্য ইনটারভেনশন করে, ধীরে ধীরে ইনটারভেনশনহীন বাজার তৈরি করতে হয় বা টিঁকিয়ে রাখতে হয় আরো কিছু ঘন ঘনত ইনটারভেনশন করে, এই টা তো সবচেয়ে হাস্যকর।
  • pi | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ২১:০১500846
  • ওয়ালমার্টের মতন দোকান কীভাবে খুব কম দামে জিনিস দিতে পারে ( বাজে কোয়ালিটির পয়েন্ট বাদ দিয়েও), সেটা তো আশা করি সবারই জানা। তাদের আরো ব্‌য়্‌ববসা করতে দেওয়ার অর্থ সেই এক্সপ্লয়টেশনকে আরো বৈধতা দেওয়া নয় কি ?

    না মিনিদি, ওটা পড়িনা। ওয়ালমার্ট নিয়ে ঐ তর্কগুলো এখানের স্থানীয় কাগজেই দেখেছিলাম।
  • nyara | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ২১:১৫500858
  • আমি হনুর সঙ্গে একদম একমত। এখন ভারত, ইথিওপিয়া, ভারত প্রভৃতি দেশগুলিতে এখন চাষীভাইরা যেরকম শাঁসেজলে আছেন, ওয়ালমার্ট-টর্ট এলে তাদের সর্বনাশ হয়ে যাবে। তারা খুব গরীব হয়ে যাবে গা।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত মতামত দিন