এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • গল্পের টই

    M
    অন্যান্য | ১৫ ডিসেম্বর ২০০৯ | ১৩০০০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Nina | ২১ ডিসেম্বর ২০০৯ ০৭:২০424561
  • আরে বাহ! তার মানে মলিকায়ে গজলের মতন মনটা আমার----ইস!গনের ক্ষমতাটাও কেন হলনা। রঞ্জন, আপনি কি রীতা গাঙ্গুলীর Ae Mohabbat পড়েছেন? আমার পড়ার ইচ্ছে আছে। রীতা গাঙ্গুলীকে দেখতেও আমার বেগম আখতারের মতন লাগে, মনে হয় মা ও মেয়ে।
    গপ্পের বেপরোয়া বিন্দাস মেয়েই প্রেমের পরোয়া কল্ল, আর সেই নরম, ক্যাবলা ছেলে দিব্ব্যি বিন্দাস আর একট মেয়ের গলয় মালা পরিয়ে দিল! ছেলেগুলো যা তা!
    M এখানে সবই এত ভাল লেখে, আমার ভয় নাগে রে লিকতে। আর মার কথা বলতে গেলেই আমার বড্ড কষ্ট হয়। কিছুদিন যাক তারপর চেষ্টা করব।
  • ranjan roy | ২১ ডিসেম্বর ২০০৯ ১১:৫১424572
  • নীনা,
    হ্যাঁ, পড়েছি, বেশ ভালো লেগেছে। আর কুমারপ্রসাদের ""কুদরত রঙ্গিবিরঙ্গী''। হেব্বি!
    ছেলেদের ব্যাপারে আপনার তিরস্কার মাথা পেতে মেনে নিলাম।
    মনে হয়- ""দিল হ্যায় কি মানতা নহীঁ'' আর "" এ দিল মাঙ্গে মোর'' সম্ভবত: ছেলেদের ক্ষেত্রে বেশি প্রযোজ্য, খানিকটা নিজেকে দিয়ে বুঝতে পারি।:))))))

    "" ঐ তো দেখুন ফাঁসির আসামী দাঁড়িয়ে,
    লোকটা তো যাবে জীবনের মায়া ছাড়িয়ে,
    সামনে মরণ বাড়িয়ে চরণ থমকে,
    তবুও তাহার বুকের রক্ত গমকে,
    --কারণ কী তার?
    মেয়েমানউষ।''
    ( বার্তোল্ড ব্রেখট্‌)।
  • M | ২১ ডিসেম্বর ২০০৯ ১২:৪১424583
  • নিনাদিদিয়া,
    হুম ! ওভাবে ভাবিনি, কষ্ট পেয়োনা। আর সবাই ভালো লেখে মানে? আমি লিখতে পারিনা তাও তো লিখি,আর এটা তো গপ্পের টই, নো সিরিয়াস কিছু, আর সিরিয়াস লোকজন যাদের সব কিছু নিয়ম অনুযায়ী ঠিক ঠাক চাই তারা এটা এড়িয়ে যাবেন নিশ্চয়, চিন্তা কি? তুমি না সেদিন বললে আমায় নিয়ে কে কি ভাববে সেটা তার প্রবলেম।আমার কি?

    রঞ্জনদা,
    আমার সিরিয়াস মুহুর্তে ক্যামন হাসি পেয়ে যায়।
    একবার মনে আছে, ফ্লাগ তোলা হচ্চে,আমি ঐ যে তিনজন ফ্ল্যাগ তুলতে যায় সেই তাদের মধ্যে ছিলুম,এবার সবাই চৌকো মতোন সার বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে, আর প্রেসিডেন্ট(আমাদের এইট বেহালা স্কাউট এন্ড গাইড গ্রুপের) মশাই ক্যামন একটা নমো আর স্যালুটের মাঝামাঝি কি করলেন, আর আমি কুলকুল করে হেসেই চলেছি ঐ গম্ভীর মুহুর্তে। তাপ্পর আমায় সবার সামনে কান ধরে মুলে দেওয়া হলো, আর তাপ্পরেও আমি হাসছি। শেষে আমায় যিনি শাস্তি দিচ্ছিলেন তিনি ফিক করে হেসেই গম্ভীর হয়ে গেলেন।

    এখনো তেমন একটা হাসি পাচ্ছে।
  • ranjan roy | ২১ ডিসেম্বর ২০০৯ ২২:০৯424594
  • হাসির ব্যাপারে ভীষণ মিল দেখছি।
    গ্র্যাজুয়েশনের সময় ম্যাথস্‌ এর এইচ ও ডি'র চেম্বারে ভুল সময়ে হেসে ফেলেচিলাম। উনি ভীষণ রেগে গিয়ে আমাকে রেগুলার হিসেবে পরীক্ষার ফর্ম/টাকাপয়সা জমা দেয়ার পরেও অ্যাটেন্ডান্স কম বলে প্রাইভেটে বসতে বাধ্য করেছিলেন।
  • Nina | ২২ ডিসেম্বর ২০০৯ ০৪:৪৫424605
  • M, তুই ভাল লিখিসনা কেডা কয়? তার কান দে, মুলে দেই। আর সব্বাই লিখলে পড়বে কে? দাঁড়া সাহস যোগাড় হলে দেখা যাবে---

    রঞ্জন,
    হে হে আর 'মেরি বিবি কি শাদী " ওটাও চালু হয়ে গেছে, কি মজা।
    শুনেছি বার্তোল্ড ব্রেখেট নাকি চান করতে পছন্দ করতেন না---হি হি হি তাই বোধহয় রক্ত গরমের কবিতা লিখলেন----
  • M | ২২ ডিসেম্বর ২০০৯ ১৩:৪২424616
  • হাসি নিয়ে আরেকটা গপ্প:

    ধরা যাক এগুলো এবরো খেবরো গপ্প;

    একটা সাধারন কলেজে পাশের ক্লাস চলছে।এই পাশে পাঁচটা মাত্র মেয়ে। বিন্দাস পাঁচজন। সবাই যখন কেরিয়ার নিয়ে ব্যস্ত এরা লোকের পিছনে লাগা নিয়ে ব্যস্ত।মানে জ্বালানো।অন্য কিছু নয়।

    একটা বিচ্ছু মোষ্ট।দ্যাখ ! দ্যাখ! জেজি-র পিছন পুরো ফ্ল্যাট।এত্ত সুন্দর ট্রাউজারটার বারো!

    খিঁক, গ্লুব, ঢক(এগুলো হাসি গিলে নেবার শব্দ)

    একজন পারেনি। খিঁক খিঁক!

    ইস্‌স্‌স্‌স, এত্ত হ্যান্ডসাম স্যারের একি খুঁত বলতো।

    খি খি।

    কি হলো? হাসছো কেন?(এটা স্যরের গম্ভীর বিরক্তি,ভারী মন দিয়ে বোঝাচ্ছিলেন)

    না মানে, হি হি হি হি।

    আরেকবার এমন করলে ক্লাস থেকে বের করে দেবো।

    সবাই মুখ লাল করে বসে আছে, যেকোনো মুহুর্তে আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরন ঘটে যাবে, আর চোখ গুলো তো হাসছে, স্যর খচে গিয়ে মরিয়া চেষ্টা, বোকারা এভাবে হাসে, যত্তসব সিলি ব্যাপার।

    হু হু হো হো খি খি।এটা দুরারোগ্য ব্যাধির মতো ছড়িয়ে গেলো। স্যরের ও রেগে গিয়ে বেগে গমন।

    দু তিন দিন একই ব্যাপার চলছে।ঠিকাছে, টেষ্টের সময় দেখে নেবো। স্যারীয় থ্রেট।

    টেষ্ট পরীক্ষা, বিরাট হলে এদের সিট, দুদিকে কুড়ি থেকে পঁচিশটা বেঞ্চ,মোট পঞ্চাশটা মতো।

    যথারীতি সবার খাতা এদিক সেদিক।একজন আরেকজনের থেকে টুকছে, কিন্তু জ্ঞান টনটনে, না বুঝে টুকবে না, আরেকজন বুঝিয়ে দিচ্ছে হাত নেড়ে।একজন আবার বাংলা থেকে ইংরাজীতে ট্রান্সলেট করে টুকছে, আরেকজন উল্টোটা।পুরো কিলিগিজি। তারমধ্যে খুদে আবার বার বার বাথরুমে ছুটছে, ও স্যরি, টয়লেটে।সেসময় অমন ই বলা হতো।এগুলো অবশ্য দেওয়া নাম। তো শেষে খুদেকে স্যর জিগাসা করলেন, কি বাবা কিছুই কমন পড়ছে না? বারে বারে যাচ্ছিস কেন? সেও কাঁদো কাঁদো হয়ে জানালো একপিস চোতা ও মিলছে না। সেই স্যর একটু চুকচুক করলেন সমবেদনায়।

    এ হেন সময় শনির মতো জেজির আবির্ভাব। আর ঢুকে একটা দরজার পাশে এসে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়ালো ঠিক সেখানেই সেই পাঁচটার একটা বসে আছে।আর ধারে কাছেই বাকিগুলো।যে যার পারলো গুছিয়ে নিলো আর মনে মনে কি বিরক্তি, কেন খামোকা একে ঘাঁটানো হয়েছিলো সেই নিয়ে।এবার ঘন্টা পড়ে গেলো, আর পাঁচ মিনিট।এদিকে যার পাশে স্যর দাঁড়িয়ে তার মুল খাতাটা হাওয়া, শেষে সে বেপরোয়া হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে হাঁক পারলো আমার খাতা কার কাছে? শিগ্গিরি দে।

    ওমা! সেই খাতা অন্যদিকের রো এর পিছন থেকে জিগজ্যাগ করে এগিয়ে আসছে।প্রায় তিন মিনিট নিলো আসতে। নিয়েই কাঁচুমাচু মুখে স্যারের দিকে তাকিয়ে-- জমা দেই?

    স্যর গম্ভীর হয়ে পিছন ফিরে চলে গেলেন। কিন্তু ক্যামন মনে হলো যেন হাসি চাপতেই চলে গেলেন।
  • ranjan roy | ২২ ডিসেম্বর ২০০৯ ২৩:৫৪424627
  • বড়মা,
    মনটা ভালো হয়ে গেল। সীনটা কল্পনা করে আমিও খিক্‌ খিক্‌।
    রত্না বল্ল-- হয়েছেটা কি?
    ওকে পড়ালাম। ও এখন ফিক্‌ ফিক্‌।
    তবে তোমরা ভারি দুষ্টু ছিলে, পড়াশোনা করতে না। আমরা খুব ভালো ছেলে ছিলাম।:))
    তবে আমার এক বন্ধু ফিজিক্সের স্যারকে বলে ছিল-- ওসব জানা আছে। সব বাবারাই ফার্স্ট হত, আর কোন স্যারই কখনো টুকলি করেনি।
  • Nina | ২৩ ডিসেম্বর ২০০৯ ০৮:২৭424638
  • কি বিচ্ছু মেয়েগুলোন রে বাবা--বেচারা পেছন-কাঁচা জেজি :-))
  • M | ২৩ ডিসেম্বর ২০০৯ ০৯:৩৫424649
  • :)
  • koli | ২৩ ডিসেম্বর ২০০৯ ১৮:৪৪424661
  • কি ভালো গল্প!!! :)
  • db | ২৪ ডিসেম্বর ২০০৯ ১৩:০৮424672
  • আজ সক্কাল সক্কাল বেলা এক বন্ধু একটা গুল দিল। বলে কিনা জানিস আমাদের এখানে যা ঠান্ডা পড়েছেনা ! কি বলব ভাই সকালবেলা আপিস যাবার অগে চান করব বলে ইমারশান হিটারেঅ এক বালতি জল গরম করে রেখে ইয়ে করতে গেছি। তার পর চান করতে যাব বলে জলটা নিতে গিয়ে দেখি সেটা জমে বরফ ! কি আর করি চান না করেই আপিসে চলে এলুম।
  • koli | ২৭ ডিসেম্বর ২০০৯ ১৬:২৮424683
  • :D
  • ranjan roy | ২৭ ডিসেম্বর ২০০৯ ১৭:১৩424694
  • নীল আকাশের গল্প
    -----------------------
    সেটা ছিল আমার প্রথম গ্রাম দেখা, কোন গাঁয়ে আমার প্রথম দিন।
    বিয়ে হয়ে স্বামীর ঘর করতে এসেছি। স্বামীদেবতাটি গ্রামীণ ব্যাংকের ম্যানেজার। ছত্তিশগড়ের আদিবাসী এলাকায় কাঠঘোরা তহসীলের ছুরি গ্রাম। আদ্দেক জনসংখ্যা তাঁত বুনে খায়, আর দশ কিলোমিটার দূরে এনটিপিসির ২১০০ মেগাওয়াটের থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রথম চিমনিটি সবে আকাশে মাথা তুলছে।
    একটি দোতলা পাকাবাড়ি। নীচে ব্যাংক, ওপরে ম্যানেজারের থাকার কোয়ার্টার।খাড়া সিঁড়ি বেয়ে ছাতে উঠলে চোখে পড়ে নীল পাহাড়ের সারি।
    তা' প্রথম দিনেই বেসুর বাজলো। হেড অফিসের কাজে আলাভোলা স্বামীদেবতাটি সক্কালে চলে গেছেন বিলাসপুর। সন্ধ্যে নাগাদ ফিরবেন। আমার এখানে কোন পরিচিত নেই, কথাবলার লোক নেই।
    সারাদিন কাটলো রান্নবান্না করে আর ট্রানজিস্টারে গান শুনে। বিকেলের দিকে রাস্তার ধারের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াচ্ছি আর নীল আকাশ দেখছি। ছোটবেলা থেকেই আমি আকাশের মেঘের মধ্যে নানারকম চেহারা দেখতে পাই। এটা আমার প্রিয় খেলা, যেন সিনেমা দেখছি।
    এভাবে কতক্ষণ কেটে গেছে জানিনা। সূর্য ঢলে গেছে পাহাড়ের পেছনে আর দ্রুত নেমে আসছে অন্ধকার।
    কিছু কথাবার্তার আওয়াজে নীচে তাকিয়ে দেখি জনাচারেক লোক ব্যাংকের সামনে দাঁড়িয়ে। ভাবলাম হয়তো আমার ""উনি'' ফিরে এসেছেন। ঝুঁকে কাউকে ঠিক স্পষ্ট দেখতে পেলাম না।
    সিঁড়ি দিয়ে একটা পায়ের শব্দ ওপরে উঠে আসছে। আমি বারান্দা থেকে ঘরে গেলাম।
    একি! এতো আমার স্বামী নয়।
    আগন্তুক কুচ্‌কুচে কালো বছর চল্লিশের প্রৌঢ়। পরনে সাদা পাজামা আর গেঞ্জি, চকচকে সাদা দাঁতের পাটি।
    --- আপনি কে? আর এভাবে এসেছেন কেন?
    লোকটি হেঁ-হেঁ করে হেসে বল্লো-- আপনি আমাকে জানেন না, নতুন এসেছেন। আমি আপনাদের মকান-মালিক। গোটা গাঁয়ের ছোটা-দাউ।
    --- আমার স্বামী বাড়ি নেই। এখন যান, কাল আসবেন।
    সে চেয়ার টেনে বসতে বসতে বল্লো--- আপনি ঠিক বুঝতে পারেন নি। আপনার স্বামী খবর পাঠিয়েছেন যে আজ ইউনিয়নের কাজে আটকে গেছেন, কাল ফিরবেন।
    কড়া গলায় বল্লাম--- উঠুন, আর সোজা নীচে নেমে যান। নইলে আমি লোক ডাকবো।
    -- নীচে যে চারজন দাঁড়িয়ে আছে তারা আমারই লোকজন। আমি এ'গাঁয়ে যখন ইচ্ছে যার বাড়িতে ইচ্ছে ঢুকতে পারি, এমনকি রাত কাটাতে পারি-- কেউ কিছু বলতে পারি না।
    আমার ভেতরে কিছু একটা ফেটে গেল। বাবার কথা মনে হল। বাবা ভোপালে যে এতসব নাটক করিয়েছে তার নায়িকারা এমন অবস্থায় কী করতো?
    মনের ভেতরে কেউ বল্লো-- বেটি! হিম্মৎ না হার।

    দৌড়ে রান্না ঘরে গিয়ে একটা তরকারি-কাটার ছুরি তুলে নিয়ে এলাম।
    -- আপনি একমিনিটের মধ্যে নীচে নেমে যাবেন, নাকি হ্যাঁচড়াতে হ্যাঁচড়াতে নিয়ে গিয়ে রাস্তায় ফেলবো?
    তারপর সোজা ব্যালকনিতে গিয়ে চেঁচাতে লাগলাম।
    -- আরে! এখানে একটা লোক জবরদস্তি ঢুকে বসে আছে আর বলছে ও নাকি যখনখুশি কারো ঘরে ঢুকতে পারে, রাতও কাটাতে পারে? এই গাঁয়ে কি মানুষ নেই? নাকি খালি মড়ারা থাকে!

    লোকটা দম দেয়া পুতুলের মত তিড়িং করে উঠে দাঁড়ালো আর এক মিনিটে রাস্তায়।
    আর চেলাচামুন্ডারাও অদৃশ্য!
    খানিকক্ষণ পরে আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামলো সঙ্গে দমকা হাওয়া। চারদিকের সব বাতি গেল নিভে, ঘুর্ঘুট্টি অন্ধকার।
    প্রথম দিন অন্ধকারে মোমবাতির আলোয় নীচে নেমে একটা একটা করে ব্যাংকের দরজার পাল্লা বন্ধ করা আর সির্ফ দুটো মোটা মোমবাতির ভরসায় সারারাত কাটিয়ে দেয়া আমার সারাজীবন মনে রইলো।
    পরের দিন স্বামী ফিরে এলে সব জানালাম, কিন্তু কোন অনুযোগ করিনি। কেমন যেন প্রথম রাতেই বুঝে গেছলাম যে সারাজীবন অবেক লড়াই একাই লড়তে হবে। ( চলবে)
  • ranjan roy | ২৭ ডিসেম্বর ২০০৯ ২২:২০424705
  • নীল আকাশের গপ্পো
    ---------------------
    (২)
    আজ যখন ভাবতে বসি যে এক অজানা পরিবেশে অমন গা-শিউরে ওঠা ঘটনা বা দুর্ঘটনার মোকাবিলার সাহস বা বুদ্ধি কোথ্‌থেকে পেয়েছিলাম তখন মনে পড়ে ছোটবেলার পরিবেশ।
    মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে জন্মে ভোপালে বড় হয়েছি। তিন বোন আর এক ছোট্ট ভাই। পুঁজি বলতে বাবা-মার হার-না-মানা জিদ।
    মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপাল। নবাবী আমল পেরিয়ে শিল্পনগরী ভোপাল নতুন সাজে সাজছে। আজাদ ভারতের শিল্পনগরীর শৃংখলায় একটি সংযোজন- ভারত হেভি ইলেক্ট্রিক্যাল্‌স লিমিটেড।
    পিপলানী সেক্টরে আমাদের ছোট্ট ডুপ্লেক্স্‌ কোয়ার্টার, একটুকরো বাগান আর শিল্পনগরীর ব্যস্তজীবনের মধ্যেও বাচ্চাদের আধুনিক শিক্ষা দেবার সমস্ত সুযোগ।
    বাবা-মা পারলে বাচ্চাদের সর্ববিদ্যাবিশারদ করতে চায়!
    এই ড্রইংয়ের ক্লাস, সেলাইয়ের ক্লাস, একটু কত্থক, একটু মাতৃভাষা বাংলা শেখো; নাটকের জন্যে ঘরে একবার বাবার কড়া চোখের সামনে রিহার্সাল দাও, তারপর আবার আসল জায়গায় মহলা দিতে যাও। মনটা বিদ্রোহ করতো। ধ্যুৎ!
    ভাগ্যিস আমাদের ছিলেন এক ""সাবাস্‌'' কাকু। উনি বাচ্চারা যাই করুক, বলতেন-- সাবাস্‌!
    কবাড্ডী খেলে আবার পড়তে বস।
    খাবার টেবিলে সবাই একসাথে বসতাম। সেখানেও এক খেলা।
    আজকের দিনের ঘটে যাওয়া ঘটানা সবাইকে এক এক করে বলতে হবে, কিন্তু খেয়ল রাখতে হবে যেন রিপিট না হয়।
    একেকদিন তো খাওয়া-দাওয়া শেষ হতে চাইতো না। ভাই-বোনের সম্মিলিত হাসির হররায় পাড়ার লোক জেনে যেত --কেউ একজন জিতলো বুঝি!

    বাবা মাত্র সাতবছর বয়সে পিতৃহারা হয়ে পূববাংলার যশোর থেকে বেরিয়ে নানান জায়গায় হোঁচট খেতে খেতে ভেসে বেড়াতে বেড়াতে কিশোর বয়সে এসে হাজির হলেন হাওড়া-বম্বে লাইনের বিলাসপুর শহরে, জ্বালানী কাঠের ঠিকেদার বড় ভগ্নীপতির কাছে।
    ছোটো শালাকে নিয়ে উনি সঙ্গে নিয়ে শুরু করলেন জঙ্গল থেকে লাক্ষা সংগ্রহের ব্যবসা। দিন কাটতে লাগলো ঘোড়ায় চড়ে জঙ্গলে ; -- চরৈবেতি, চরৈবেতি!
    টেঙ্গনমারা, খোংগ্‌সরা আরও কত জায়গার নাম। কখনও কখনো রাত কেটেছে পাহাড়ের ওপর মোষবাথানে গোয়ালাদের আড্ডায়, অগ্নিকুন্ডের পাশে।
    শেষমেষ ভগ্নীপতি উদ্যোগ নিয়ে বিয়ে দিলেন এক বারো বছরের মেয়ের সাথে, তখনও সর্দা আইন চালু হয় নি যে!
    আর আমার বাবা, বিবাহিত বাবা পড়াশুনো শুরু করলো স্বাধীনতার পর নতুন শুরু হওয়া আইটি আই, বিলাসপুরে।
    তারপর কিচুদিন রেলওয়ে, অল্পদিন জবলপুরের অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি হয়ে ঘাঁটি গাড়লেন ভোপালে, সেই১৯৫৬ থেকে।
    আমার মা নিজের সার্জন পিতৃদেবকে হারালেন মাত্র দেড় বছর বয়সে। বড় হলেন পিসেমশায়ের বাড়িতে। তখনও দেশ স্বাধীন হয় নি।পিসের বনেদী পরিবারে ইংরেজ রাজপুরুষদের আনাগোনা ছিল। তার ফলে মায়ের প্রাইমারী স্তরের শিক্ষাদীক্ষা হল এক মিশনারী স্কুলে। কিন্তু বারোবছর বয়সে বিয়ে!
    ফলটা পেলুম আমরা।
    মায়ের দৈনন্দিন জীবনে পরিপাটি, প্ল্যানিং, সন্ধেবেলায় একটু গান, একটু সেলাইকড়াই, আচারব্যবহারে শালীনতা -- এগুলো অল্পবয়সী বৌ গীতারাণীর সহজপাঠ। ফলে দুরন্ত স্বামীদেবতা ও ছোট্ট বাচ্চারা সবাই কেমন পোষ মেনে গেল!।
  • M | ২৭ ডিসেম্বর ২০০৯ ২৩:৩৯424716
  • তারপরে?
    :)
  • Nina | ২৯ ডিসেম্বর ২০০৯ ০৫:২৩424727
  • আরে বাহ! রঞ্জনের লেখার ফ্যান তো ছিলামই, এবার রঞ্জনার ও লেখার ফ্যান হোয়ে গেলাম---চলুক চলুক--
  • aishik | ২৯ ডিসেম্বর ২০০৯ ১১:৪৯424738
  • এটা কিন্তু সত্যি গল্প।ও রন্‌জন বৌদি, এরপরে কি হল?
  • Nina | ৩০ ডিসেম্বর ২০০৯ ০৬:৫৮424749
  • রঞ্জন ও রঞ্জনা দুজনেই কি বেড়াতে গেলেন---লেখা যে থেমে আছে আর আমরা গালে হাত দিয়ে বসে আছি
  • Manish | ৩০ ডিসেম্বর ২০০৯ ১৮:২৯424760
  • ভোর হলো
    টই খোলো
    দাদা দিদি
    লেখোরে
  • ranjan roy | ৩০ ডিসেম্বর ২০০৯ ২৩:১০424772
  • কাল রাত্তিরে লিখবো। এর মধ্যে আমাদের দুজনকেই দুবার বিলাসপুর সিভিল লাইনস্‌ থানায় যেতে হয়েছে। ফোঁড়া পাকছে যে!
    আর আমাকে ইনকাম লিকেজ অডিট এর তারিখ সামলাতে কাল ও আজ বাইরে থাকতে হচ্ছে।

    ডি: এটা রত্নার ১৫দিন আগে ক্যান্সারে প্রয়াত বাবার প্রথম বার্ষিক শ্রাদ্ধে ভোপালে হিন্দিতে পড়ে শোনানো স্মৃতিচারণ।
    প্রথম লিখলো। আমি বাংলা অনুবাদ করে এখানে দিলাম ওর অনুরোধে।
    গুরু ও চন্ডালেরা মাপ করবেন। বৌয়ের সব কথা শুনতে নেই। কিন্তু একটা-দুটো কথা না শুনলে কি চলে?
    কার ঘাড়ে ক'টা মাথা!
  • Nina | ৩১ ডিসেম্বর ২০০৯ ০৫:৩৮424783
  • রঞ্জন
    এমন বউ, আর এমন কথা
    যে না শোনে তার নেই মাথা!!
    আপনদের হর-পার্বতী পাঁচালী শোনার অপেক্ষায় রইলাম।
    HAPPY NEW YEAR
  • ranjan roy | ০২ জানুয়ারি ২০১০ ২০:২৫424794
  • নীল আকাশের গল্প
    ------------------
    (৩)
    বাবা বিলাসপুরে আইটিআই পাস করে কিছুদিন ওখানেই পার্টটাইম ইন্সট্রাক্টর। খালি সময় পেলেই ফুটবল। বিলাসপুরে রেলের ফুটবল স্টেডিয়াম, বিভিন্ন টুর্নামেন্ট তখনও ছিল, এখনও আছে। টিমের জন্যে জলখাবার বানিয়ে, বন্ধুদের ঘরে ডেকে আগামী ম্যাচের স্ট্র্যাটেজি তৈরি হত।
    তারপর জিতলে পরে ঘরে পুরো দলকে ডেকে খাসির মাংস-লুচি দিয়ে ফিস্টি!
    এমনি আনন্দঘন পরিবেশ আমাদের ঘরে লেগেই থাকতো।

    ভোপালে হেভি ইলেক্ট্রিক্যালে কাজ করার সময় অবসর সময় নিয়ে নিলো নাটকের নেশা।
    বাবা লেগে পড়লো কোলকাতা থেকে পাশ করে চাকরি করতে আসা নতুন ছেলেমেয়েদের নিয়ে বাংলা নাটকের পরিবেশ তৈরি করতে।
    একসময় বিলাসপুরে বাঙালী সমাজের কালীবাড়ি ও স্টেজ তৈরি করতে গায়ে খেটে ইঁটবয়ে ( কারসেবা করে :))))) নিজেকে ধন্য মনে করতো, এখন হয়ে গেল ভোপালে বাংলা নাটকের
    পরিচালক, -একমেবাদ্বিতীয়ম্‌!
    সে কত রকম নাটক!
    ঐতাহিসিক, সামাজিক, কমেডি,--আবার নক্‌শালদের পশ্চাত্তাপের (?) নাটক--"" এ আমি চাইনি!''।
    সেসব দিনগুলোয় বাবা অফিস থেকে ফিরে কোনমতে নাকেমুখে দুটো গুঁজে সোজা দৌড়তো রিহার্সালে।
    কাস্টিং, প্রপস্‌, সেটস্‌, মেক আপ, কস্টিউম--- সবকিছুর দায়িত্বই যে একটা লোকের ঘাড়ে!
    বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় প্রইজ পাওয়ার দিন শুরু হল।
    আর অভিনয়! রামকৃষ্ণদেবের ভূমিকায় বিশেষ নাম হয়েছিলো। নিজে দীক্ষিত ভক্ত।
    তবু ছোট্ট রত্নার আদৌ ভালো লাগতো না নিজের বাবাকে কখনো জমিদার, কখনো অফিসের ক্লার্ক, কখনও বা পাগলের পোশাকে স্টেজে দেখতে পাওয়া।
    জতক্ষণ নাটক চলতো ততক্ষণ ভয়ে কাঁটা হয়ে থাকতাম-- কি জানি! কেউ যদি বাবাকে পর্দার ওপার থেকে অদৃশ্য করে দেয়!
    দৌড়ে চলে আসতাম বাইরে, কোয়্‌হায় বাবা! হতাশ হয়ে আকাশে মেঘের আনাগোনা-- সেখানে তাকিয়ে দেখতাম বাবা একা নয়, আরও অনেক লোকজন।
    রিটায়ারমেন্ট এর দিন এগিয়ে আসতে লাগলো আর বাবার নাটকের উৎসাহ কমতে লাগলো। বলতো ভোপালে জন্মানো নতুন প্রজন্ম ভালো করে বাংলাই শিখতে চায় না তো বাংলা নাটক!
    শুরু হল হোমিওপ্যাথির চর্চা। ওষুধের বিশাল স্টক আর বইপত্তর। বিলাসপুরের এক নামী ডাক্তারের দশ বছরের কেস স্টাডির রেকর্ড জেরক্স করীনে একমাস ধরে পড়লো, নিজেও মেটিকুলাসলি রেকর্ড রাখতে লাগলো। সেই নাটকের মত পাগলামি, নাওয়া-খাওয়ার ঠিক নেই।
    নাম ছড়াতে লাগলো, কিন্তু ওষুধের দাম নেবেনা।
    রঞ্জন অনেক করে বোঝালো যে অন্তত: ওষুধের দাম নিন, নইলে লোকে ওষুধ মন দিয়ে খাবে না।
    তখন ভারত সেবাশ্রম আর রামকৃষ্ণ মিশনে দুদিন বিনে পয়সায় দেখতে লাগলো, বাড়িতে ওষুধের দামটুকু নিয়ে।
    বল্লো--- ভগবান আমাকে অনেক দিয়েছেন। এখন আমার উচিৎ সমাজের জন্যে কিছু করা। তা শুধু চিকিৎসায় নয়, লোভী প্রোমোটারের শ্যামল-সবুজ জমির জবর্দখল ঠেকাতে গড়ে তুল্লো এক পর্য্যাবরণ সমিতি। সেখানে এক সবুজ বন গড়ে উঠলো।
    কিন্তু রঞ্জনের ওপর রেগে গিয়ে কয়েকমাস কথা বন্ধ হল।
    ওর কোলকাতা যাওয়ার সময় কিছু দুÖপ্রাপ্য অষুধ আনতে দেয়া হত।
    সেবার একটা ওষুধ পাওয়া গেল না,--- ""নিগান্ডু আমেরিক্যানা''।

    তা রঞ্জন এসে বল্লো-- বাবা, আপনার ঐ ""গান্ডু আমেরিক্যানা'' পাওয়া যাবে না।
    -- তুমি নাম ভুল করেছ তাই; ওটা নিগান্ডু!
    --- না বাবা, আমেরিক্যানরা সাম্রাজ্যবাদী হয়, গান্ডু হয় না, তাই।

    বাবা রেগে আমাকে বল্লো-- রঞ্জন কি ভদ্রতা ভুলে গেছে!
  • ranjan roy | ০২ জানুয়ারি ২০১০ ২০:৪২424805
  • নীল আকাশের গল্প
    ------------------------
    (৪)
    আমাদের সেই হাসিখুশি জিন্দাদিল বাবা কেমন যেন গম্ভীর হয়ে যেতে লাগলো। বুড়ো বয়সে একটা ফিয়েট চালাতো। লাল-ক্রস লাগানো সেই গাড়ি ভোপালের এ-মুড়ো থেকে ও -মুড়ো অব্দি লোকের চোখে পড়তে লাগলো।
    আমরা যদি বলি-- আজকাল কি স্টেজের চেয়ে রোগীর খাট তোমার কাছে বেশি চার্মিং লাগছে?
    জবাবে কষ্ট করে একটু হাসলো, আমাদের বাবা হাসতে ভুলে যাচ্ছে?

    কিন্তু নাটক যাকে একবার ধরে তাকে কি এত সহজে ছাড়ে?
    প্রখ্যাত অভিনেতৃ জয়া বচ্চনের মা সেবার হিন্দিতে স্বামী বিবেকানন্দের ওপর একটি নাটক করাচ্ছেন।
    রামকৃষ্ণের পার্শ্বচরিত্র যেন কিছুতেই ফুটছে না! ওনার মনে পড়লো ঘোষদাকে।
    --- দাদা, একটু দেখিয়ে দিন।
    কদিন রিহার্সালের পর বল্লেন--- দাদা, কিছু মনে করবেন না, এই ভূমিকাটি আপনাকেই করতে হবে যে! না, কোন ওজর-আপত্তি শুনছি না।
    নাটকের জন্যে পুরনো প্রেম জয়ী হল। বাবা কিন্তু-কিন্তু করে রাজি হল।
    শো' এর একসপ্তাহ আগে বাবার হার্নিয়ার অপারেশন!
    মিসেস ভাদুড়ি হাল ছাড়লেন না।
    --- দাদা, তারিখ একমাস পিছিয়ে দিলাম। আপনি সেরে উঠলে তবে হবে।
    বাবা অভিভূত। একমাস পরে রবীন্দ্রভবনে হল সেই নাটক। বাবার মুখে অনেকদিন পরে হাসি ফুটলো।

    এরপর ডাক এল আরেক ভূমিকায় অভিনয়ের। না, ডাকতারের ভূমিকা তো অনেকবার হল, ঘোষদা এবার এক ক্যান্সার-পেশেন্টের ভূমিকা করে দেখান তো!
    বাবা চ্যালেঞ্জ স্বীকার করলো। (চলবে)
  • ranjan roy | ০২ জানুয়ারি ২০১০ ২১:২৮424816
  • নীল আকাশের গল্প
    ---------------------
    (৫)
    আজ সেই নাটক অভিনীত হবে, নাম ভূমিকায় শ্রী মহীতোষ ঘোষ। মেক আপ উনি নিজে করছেন, লোকের ভীড় জমা হচ্ছে।

    পর্দা উঠলে আমরা দেখলাম---- মি: ঘোষ ডাক্তারদের সঙ্গে রোগ নিয়ে কথা বলছেন। উনি নিজেও ডাকতার যে! হোক না হোমিওপ্যাথি!
    দ্বিতীয় দৃশ্যে আমরা দেখলাম কেমোথেরাপি দিয়ে চিকিৎসা। প্লেটলেট কমলে রক্ত দেয়া ইত্যাদি। অধৈর্য্য রঞ্জন বলে উঠলো-- এটা কি ডকুমেন্টারি হচ্ছে নাকি!
    তৃতীয় দৃশ্যেদেখলাম তিন অংকোলজিস্ট একমত যে ফুসফুস অনেকখানি ড্যামেজ হয়েছে।
    ফুসফুসে পাস ভরে গিয়ে শ্বাসের কষ্ট বেড়ে গেল। তবে তিনটে কেমোর পর একটু যেন আরাম, অভিনেতার মুখে পুরনো হাসি ফিরে এল।
    দ্বিতীয় অংক প্রথম দৃশ্য। মাঝরাত। রোগী ঘুমুতে পারছে না, ছটফট করছে। যে আসে তাকেই অনুরোধ করে-- তোমরা যাও, আমাকে একটু ঘুমুতে দাও, কতরাত ঘুমুইনি।
    সকালবেলা ঘুম আসে। কিন্তু ডাক্তার রাউন্ডে আসবেন। নিয়মমাফিক ওয়ার্ড বয় রোগীদের তুলে দেয়। অভিনেতা রাগত অবস্থায় বলছেন-- আমাকে ছেড়ে দাও, ঘুমুতে দাও, ডাক্তার বুঝবে।
    দ্বিতীয় দৃশ্য। এবার ব্লাডরিপোর্ট দেখে স্পেশালিস্টরা বললেন--সেক্‌ন্‌ডারি লাইন অফ ট্রিটমেন্ট শুরু করতে হবে। তাহ্লে নাটক তিন অংক অব্দি চলবে।
    পাব্লিক হাততালি দিল।--- হোক, হোক, শুরু হোক। আমরা রাজি।
    বাবা চেক সাইন করে ছেলের হাতে দিল-- ওরে, তোরা অনেক করেছিস, এবার আমার অ্যাকাউন্ট থেকে তোল।

    তৃতীয় দৃশ্য। সেকন্ডরি লাইন অফ ট্রিটমেন্ট শুরু হল।
    কিন্তু একি! বাবা একি মেকাপ করেছে? চোখের চারপাশে এত কালো রঙ? মুখের চামড়ায় এতগুলো ভাঁজ? দর্শকদের কী কমিউনিকেট করতে চাইছে? আর চেহারা এত কংকালসার?
    আমি দর্শকদের মাঝখান থেকে উঠে পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে মাথা উঁচু করে বাবকে দেখার চেষ্টা করছি--- ঠিকমত দেখতে পারছি না যে!
    হ্যাঁ, এবার্দেখতে পেলাম। সেই রাত্রির দৃশ্য। চঞ্চল চোখের তারা এদিক -ওদিক ঘুরছে, কাকে যেন খুঁজছে। আরে, আমার বড়দিও দেখি স্টেজে উঠেছে।
    ফেবারিট মেয়েকে দেখে চোখের জল বাধা মানছে না। কিছু বোলবে বলে মেয়ের হাতটা শক্ত করে চেপে ধরলো, কিন্তু গলা দিয়ে অস্পষ্ট ঘড়-ঘড়- আওয়াজ ছাড়া কিছু বেরুলো না।
    দর্শকেরা খুশি। বা:, বহুদিন বাদে ঘোষদা স্টেজে উঠে ফাটিয়ে দিচ্ছেন।
    আবা র এর নধ্যেই কথা চলছে--লাস্ট সীনে সবাইকে মিলিয়ে দেয়া হবে তো! হ্যাপি এন্ডিং চাই যে!
    আরে! এবার ডাক্তারেরা ঘিরে ধরেছে। নাটক যে তিন অংক অব্দি টানতে হবে। পাব্লিক পয়সা দিয়েছে যে!
    রাত্তির সাড়ে চারতে। বাবার দুটো হাত জোড় করে বাবা মকে অস্পষ্ট স্বরে বল্লো-- ক্ষমা!
    তারপর দর্শকদের দিকে হাত তুলতেই পরদা পড়ে গেল।
    পাব্লিক উঠে দাঁড়িয়ে সমানে হাততালি দিচ্ছে। সবাই গ্রীনরুমে গিয়ে অভিনেতার সঙ্গে হাত মেলাতে চাইছে। তারপর এক এক করে বেরিয়ে আসছে।
    আমি এবার বরাবরের মত বাবার মেকাপের বাক্সো, পোষক সব সামলে নিয়ে গোচ্ছচ্চি। আমাকে যে বরাবর বলতো-- সাবধানে গুছিয়ে রাখবি, আগামী শো' তেযেন কোন গন্ডগোল না হয়।
    সব গুছিয়ে তো নিয়েছি, কিন্তু পাব্লিকের ভীড়ে বাবার কাছে পৌঁছুতে পারছি না যে। কী করি?
    সেই আকাশের দিকে তাকালাম। কি জানি, আকাশ কোনদিন আমার নীল মনে হয় নি। কিন্তু আজকের কথা আলাদা। বাবার চেহারা নীলরঙা চুলে ঢাকা। খালি একজোড়া বড় বড় চোখ তাকিয়ে নজর রাখছে মেজমেয়েটা মেক-আপ, প্রপস, পোষাক ঠিকমত গুছিয়ে রাখছে তো? ( শেষ)
  • Du | ০২ জানুয়ারি ২০১০ ২২:১০424819
  • একা একাই উঠে দাঁড়াই কম্পুর সামনে। এ ছাড়া আর কিছু করার ছিলনা।
  • M | ০২ জানুয়ারি ২০১০ ২৩:১৮424820
  • সেই, আমিও.........
  • ranjan roy | ০২ জানুয়ারি ২০১০ ২৩:২৮424821
  • ডি: আমি ব্যক্তিগত সমস্যা সামলাতে গুরু'র ওপেন ফোরামকে ব্যবহার করার জন্যে লজ্জিত। যদি কোন নিয়ম ভেঙ্গে থাকি তাহলে একবারটি মাপ করবেন। আমি নিরুপায়।
    আসলে আমার স্ত্রী রত্নার ক্যাথারসিস এর দরকার ছিল।
    হয়েছিল কি আমার মার চোখের অপারেশন হওয়ার সময় ডাক্তার খুব সাবধানে দু'মাস থাকতে বলে। চোখে ঢোকা একদম চলবে না। দায়িত্ব ছিল রত্নার। ফলে মার অপারেশনের তিন দিনের মাথায় যখন ওর বাবার মৃত্যুসংবাদ এল তখন ও ডিসিশন নিল যে শ্বাশুড়িকে জানানো চলবে না। ফলে ও বাপের বাড়ি গেল না। তিনমাস ধরে বিলাসপুরে মাকে জানিয়ে গেল -- চিন্তা করবেন না, আপনার বেয়াই সেরে উঠছেন।
    বোনেরা আসলে বলেছে-- কান্নাকাটি ওপরের ঘরে গিয়ে।
    এই লেখাটা ওর একবছরের বুকের ভেতর চেপে রাখা কান্নাটাকে বের করে দেয়া, আর কিছু না। কোন সাহিত্য মূল্য নেই।
    ওর বাপের বাড়িতে শ্রাদ্ধ বার্ষিকীতে সবাই এটাকে ঠিকমত বোঝে নি বা ঠিক স্পিরিটে নেয় নি। আমি বল্লাম-- গুরুচন্ডালীর বন্ধুরা ঠিক বুঝবে, তাই ওর লাইফ পার্টনার হিসেবে একটু সাহায্য করলাম, বাংলায় অনুবাদ করে। এইটুকুই।
  • M | ০২ জানুয়ারি ২০১০ ২৩:৪৫424822
  • রঞ্জনদা,
    আমি তো গুরুতে আড্ডাই মাত্র, তাও এখানে অল্প কিছুদিন হলো এসেছি, আপনাকে কি বলবো বুঝতে পারছিনা,কিন্তু অনেকেই তো এখানে মনের কথা নানান ভাবে লিখে যায়,আপনার লজ্জিত হবার কোনো কারন খুঁজে তো পেলামনা।

    আমি আমার তরফ থেকে বলে যেতে পারি, আপনাকে এভাবে বলতে দেখলে খুব খারাপ লাগবে,এত সুন্দর একটা লেখা, যেটা কিনা মনের গভীর কষ্ট থেকে আসা, তার সঙ্গে এমন পোষ্ট, ভীষন প্রতিবাদ।
  • SB | ০৩ জানুয়ারি ২০১০ ০০:১২424823
  • মারাত্মক লেখা!!
  • kk | ০৩ জানুয়ারি ২০১০ ০১:১৩424825
  • রঞ্জন দা,
    কুর্নিশ নিন।
    আমি রোজনামচা লিখতে এসেছিলাম। কিন্তু এই লেখা পড়ার পর আর কিচ্ছু লিখতে পারবো না।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে প্রতিক্রিয়া দিন