এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • গল্পের টই

    M
    অন্যান্য | ১৫ ডিসেম্বর ২০০৯ | ১৩০১২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • M | ২৩ জানুয়ারি ২০১০ ২৩:২৮424859
  • ধ্যাৎ, কিগো ও ও ও ও
  • M | ২৩ জানুয়ারি ২০১০ ২৩:৪২424860
  • তা সেই ফ্যামিলিটি একটা আগুন জ্বালিয়ে তার পাশে বসে ছিলো, আর ওদের একটা মেয়ে খাবার বানাচ্ছিলো, আর আমিও গুটি গুটি গিয়ে ওদের কাছে বসে পড়লাম,আর ওরা খুব সন্দেহ নিয়ে আমার দিকে তাকাচ্ছিলো, আমার এত খিদে পেয়েছিলো যে আমি খালি আমায় কিছু খেতে দিতে বলছিলাম, আর ওরা আমার হোয়ারবাউটের খোঁজ নিয়ে চলছিলো।আমি ও সব বানিয়ে বানিয়ে বলে যাচ্ছিলাম, ওরা শেষে আমায় খেতে দিয়েছিলো, আর থাকতেও, ওদের কোনো আত্মীয় এসেছিলো যারা ঐ পৌষমেলাতে তেলেভাজার দোকান দেবে, ঠিক হলো আমায় তাতে কাজে লাগিয়ে নেবে।

    শ্রী ই ই ই ই

    অর্ক ----

    চলো, খাবার ডাক পড়েছে, তাড়াতাড়ি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।

    শ্রী-র অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলো, এইরে---
    শুতে যেতে হবে শুনেই ভয় পেয়ে গেছে বেচারী, উফ্‌হ্‌হ বিয়ের আগে কত ফিসফাস আলোচনা যে ব্যাপারটা ঘিরে তা যে এত কষ্টকর কে জানতো।

    অর্ক ফিক করে হেসে ফেলে, চলো, আজ ও ভয় পাবে নাকি?আমি কি খুব কষ্ট দি?

    ধ্যেৎ, লজ্জা পায় শ্রী। আর মনে মনে বলে না চাইলেও দাও বইকি।

    আজ কিন্তু গল্পটা শেষ করবে।জানো আমি গল্পের বই শেষ না করে থামতে পারিনা।

    ওরে হতভাগী ! এটা গল্পের বই নয়, একটা সত্যি ঘটনা।
  • ranjan roy | ২৪ জানুয়ারি ২০১০ ০৫:৪৬424861
  • বড়মা,
    এটা অন্যরকম অসাধারণ গল্প। গল্পের বাঁধুনি চমৎকার, প্লীজ বেশি গ্যাপ দেবেন না!
  • M | ২৪ জানুয়ারি ২০১০ ০৮:০৭424862
  • রঞ্জনদা আবার আপনি বললেন কেনো ও ও ও ও ও ও ও ও???????????????
  • ranjan roy | ২৪ জানুয়ারি ২০১০ ১২:০১424863
  • ও: সরি ই ইইইইইইইইইই!
    আজকাল এত বেশি ভুল করছি ফলে এতবার সরি বোলতে হচ্ছে যে সরির ভ্যালু কমে যাচ্ছে।
  • nina | ২৫ জানুয়ারি ২০১০ ০৩:৫৮424864
  • কিকিয়াআআআআ, মুআআআ
  • M | ২৫ জানুয়ারি ২০১০ ১৯:০৪424865
  • গভীর রাত্রে নতুন বউ আর নতুন বর গলা জড়িয়ে গপ্প করছে।আসলে একুশ বছর আর আঠাশ বছরের কাছ থেকে আর কি ম্যাচিওরিটি আশা করা যায়?

    আরে শোননা, তারপর সকালে সেই পরিবারের গিন্নির টনক নড়লো, বুঝিবা গভীর রাত্রে নিজেদের মধ্যে কিছু শলাপরামর্শ হয়েছে, বললো তোমাকে কাজ আমরাই জোগাড় করে দেবো,খেতে দেবো আর থাকতে দেবো, পরিবর্তে তুমি তোমার কাজের পয়সা আমাদের দিয়ে দেবে।

    স্বাভাবিক, এক গরীব রাস্তার পরিবার,পাঁচ মেয়ে আর দুই ছেলে আর স্বামী স্ত্রী, নটা মানুষের জীবনযাত্রা চালানো সোজা নয়,দেখো তবু তারা আমায় আশ্রয় তো দিলো,আসলে ওদের তো কিছু হারানোর নেই, খালি জীবন চালানো তাই বোধহয় খুব ফোকাসড হয় ওরা, অযথা জটিল চিন্তায় দিন নষ্ট করার সময় ওদের নেই।

    লোকটি রিক্সা চালায়, আর তখন পৌষমেলা শুরু হবে তো, তাই কাজ চলছিলো, ওর এক ছেলে কাঠগোলা থেকে কাঠ, তাছাড়া বাঁশ আর ত্রিপল আর যা যা লাগে অস্থায়ী দোকান ঘর বানাতে সেসব সাইকেল ভ্যানে টেনে নিয়ে যেত, ঠিক হলো ও টানবে আর আমি পিছন থেকে ঠেলবো, কারন ওটা খুব ভারী হয়।আর যেহেতু ও চালাচ্ছে তাই ওর মজুরী ছিলো কুড়ি টাকা আর আমার পনেরো, এটা দৈনিক মজুরি। আমার কিছু করার ছিলো না, বরং একটা ব্যবস্থা হলো, কাজেই আমি মেনে নিলাম।
  • M | ২৫ জানুয়ারি ২০১০ ১৯:২০424866
  • পৌষমেলায় প্রচুর বিভিন্ন ধরনের দোকান হয়,ঘর সাজানোর জিনিস,সাজার জিনিসের দোকান, খাবারের, ডেকোরেটিভ আইটেমের,ইত্যাদি। আর বিভিন্ন প্রদেশ থেকে লোকেরা আসে বিক্কিরিবাটা করতে। এই দোকানগুলোতে নানান কাজ থাকে আর প্রচুর লোককে কাজ দেওয়া হয়, আর এরা সবাই ফ্লোটিং। অ্যান্ড ডার্লিং, ইউ কান্ট ইমাজিন যে এই লেবারদের বেশিরভাগটাই অন্য প্রদেশের লোক, মোটে পনেরো কি কুড়ি শতাংশ হয়তো বিরভূমের লোক।

    এই সময় অনেক সেলসম্যানের দরকার হয়,বিভিন্ন লেবেলের।এখানকার স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েরাও এই সময় সেলসম্যানের জব করে।

    তো মেলা তো শুরু হতে চললো, মাল বওয়ার কাজ ও শেষ।কাজেই আমার নতুন কাজের খোঁজ চললো।

    এখানকার একজন ক¾ট্রাক্টর ছিলো, যে কিনা ক¾ট্রাক্টে লোকের বাড়ী বানিয়ে দিতো, মানে মিস্ত্রীদের ব্যাপারটা দেখতো। তো সেই লোকটি একটা পেট চুক্তির হোটেল দিয়েছিলো, আমার নতুন কাজ ঠিক হলো সেই হোটেলে।

    ওয়েট, পেট চুক্তিটা কি কেস?

    আরে পেট চুক্তি হলো পেট ভরে খাওয়ানো, ধরো তুমি যতটা ভাত ডাল তরকারি খেতে পারবে, ঐ একই পয়সায় খেতে পারো।কেবল মাছ বা মাংসের পিসটা তোমাকে গোনা গুনতি দেওয়া হবে।

    ওহ!

    তারপর?
  • M | ২৫ জানুয়ারি ২০১০ ১৯:৫০424867
  • আর বলোনা, কাজ তো চলছে আর আমার মাথায় ঘুরছে, এরপর কি? তো এর ওর সাথে গল্প করতে করতে জানলাম যে কিছু লোক আছে যারা মেলায় ঘুরেই জীবিকা নির্বাহ করে।

    দাঁড়াও, দাঁড়াও! তুমি নাকি ভালো বাংলা জানোনা? এ শব্দটা কি করে বললে?

    মানে?

    না মানে বুনা বললো যে দাদা র এর ফুটকি আর যাবতীয়তে ফুটকি লাগে সেগুলো ভুলে যায়, স/শ/ষ দের ও একই জ্ঞানে দেখে!

    দেখো আমি ছোটবেলায় সাউথে কাটিয়েছি, এখানে এসে আফটার মাই ট্যুর আমি বাংলা শিখেছি, কাজেই-- তবে বলা তো হয়েই থাকে। আর বুনা আর কি কি বলেছে?

    বলবো কেন? থামবে না, তারপর বলো।মাথা দিয়ে গোঁতাতে থাকে শ্রী।

    উফ্‌হ্‌হ কি করছো? বলছি,

    তো আমাদের ভারতবর্ষে বিভিন্ন ধর্মস্থানে বা অন্য কোন ভাবে তুমি যদি হিসেব করো দেখবে সারা বছর কোন না কোন মেলা হচ্ছে, আর এই লোকগুলো ও একটা থেকে আরেকটায় ঘুরে বেড়ায়। ফলে আমি নিশ্চিন্ত হলাম অন্তত কোনো না কোনো কাজ জুটিয়ে নিতে পারবো।

    হুম! তুমি যদি কাজ জোটাতেই থাকতে তো আমার কি হতো? উম্‌ম্‌ম্‌ম, অন্য কারোর সাথে বিয়ে হতো। একটু উদাশ হয়ে যায় শ্রী। কিছু বুঝি মনে পরে যায়।এই ছেলেটার সাথে সারা জীবন কাটাতে হবে, কিভাবে কাটাবে তাই ভাবছিলো বিয়ের আগে। তারপর ধ্যুৎ যা হবে দেখা যাবে বলে ঝপাং করে বিয়েটা করেই ফেলে। মা বাবার ঘ্যানোর ঘ্যানোর সহ্য করার চাইতে এটা ভালো মনে হয়েছিলো। মনে হয়েছিলো পাত্তা না দিয়ে দিব্যি নিজের মতো থাকবে। এরা তার কে বা হয়, কাজেই। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে না, এ বেশ ভালোই বন্ধুর মতোন।

    একটা মজার ঘটনা ঘটেছিলো, জানো!

    কি?

    আরে শোনোনা, ঐ মেলাতে যারা কাজ করতো তারা বেশীর ভাগ ই গরীব ঘর থেকে আসা।ফলে তাদের এক মাত্র লক্ষ্য ছিলো পয়সা আয় করা। কি বা করবে তারা, ওদের জীবনটাই অন্যরকম।কিন্তু আমি তো অন্যরকম পরিবেশে বড় হয়েছিলাম।অভাব অনটন কি জিনিস আমি জানতাম না।তাই আমার খুব সব কিছু ঘুরে ঘুরে দেখতে ভালো লাগতো।আমি আমার কাজের শেষে ঘুরে ঘুরে সব দেখতে থাকতাম।

    একদিন একটা নতুন বিয়ে হওয়া কাপল এলো, ওরা ও ঐ মেলা শেষ হবার সময়টা দেখতে এসেছিলো।আমি তখন একটা বন্ধুক ছোঁড়া হয় না, অমন একটা দোকানে আমার যথাসর্বস্ব দু টাকা থেকে এক টাকা দিয়ে বন্ধুক ছুঁড়ছি।জানো শ্রী, ঐ দোকানদার ও কেমন আমায় বিশ্বাস করেননি।আমার কাছ থেকে আগে পয়সা চেয়ে নিলো। ভাবলো আমার কাছে পয়সা নেই।

    তারপর?
  • M | ২৫ জানুয়ারি ২০১০ ২০:৪৬424329
  • তারপর সেই নতুন কাপলের ছেলেটি মেয়েটিকে বললো তুমি গুলি ছুঁড়বে? মেয়েটি সঙ্গে সঙ্গে রাজি, আর এলোপাথারি শুট করছিলো, তারপর কি খেয়াল হলো, লোকটিকে জিগাসা করলো আমরা ঐ জ্বলন্ত মোমবাতিটাকে গুলি করতে পারি? লোকটি বললো, নিশ্চয়, আর ঐ শিখাটাকে মারলে ওটা নিভে যাবে।তখন ছেলেটিকে বললো, তাহলে ঐ মোমবাতিটাকে নেভাতে হবে তোমায়।ছেলেটি খুব কেতা নিয়ে চেষ্টা করলো কিন্তু পারলো না, আমি দেখছিলাম ওদের কান্ড, আমি তখন এক টিপে সেটাকে নিভিয়ে দিলাম।আর ছেলেটি কি রেগে গেলো, বাপরে! দু চোখ দিয়ে আগুন ঝড়িয়ে চলে গেলো।

    অনেক রাত হলো এবার ঘুমাও।

    শ্রী ঘেঁষে শুতে যেই গেলো, অর্ক চেঁচিয়ে উঠলো, এই দুরে, দু উ উ উ রে, আমি এভাবে ঘুমোতে পারিনা।

    শ্রী ঘুম ভরা চোখে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলো, ভারী আদরে মানুষ হওয়া মেয়ে, ভারী অভিমানি।

    আমিও পারিনা,বলে দুরে খাটের এক কোনে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। আর অর্ক ও মিচকি হেসে চুপ করে থাকলো, আর কিছুক্ষন পরে নিজেও ঘুমিয়ে পড়লো।
  • M | ২৫ জানুয়ারি ২০১০ ২১:১২424330
  • বৌভাতের তিন দিনের মাথায় ই অর্ককে শিলিগুড়ি ফিরতে হয়েছিলো, কাজ থেকে বেশীদিনের ছুটি মেলেনি।যাওয়ার সময় শ্রী খুব হাসিখুশী থাকার চেষ্টা করছিলো আর আসলে যে তা লোকদেখানো সেটা অর্ক ভালোই বুঝেছিলো।

    গল্পটা শেষ করোনি কিন্তু।

    তুমি যখন শিলিগুড়ি যাবে তখন সারাদিন গল্প করবো।

    অর্ক চলে যাওয়ার পরে পুরো বাড়ীটা কিরকম ফাঁকা হয়ে গেলো।একজন মানুষ কিভাবে সারা বাড়ী জুড়ে থাকে! যেদিকে শ্রী চাইছে সেইদিকেই অর্কর না থাকা ও অনুভব করছে।

    শ্বশুর বাড়ীর দিন গুলো ক্রমশ: বিষময় হয়ে উঠতে লাগলো শ্রী এর কাছে। মানসিক ভাবে যন্ত্রনা যে কতরকম দেওয়া যায় তা অনুভব করতে শুরু করলো শ্রী। শারিরীক অত্যাচার কি এর থেকেও কষ্টকর হতে পারে?

    বেচারী একা ছাদে বসে থাকে।খায় না। আর খেলো কিনা সেটাও কেউ খোঁজ নেয় না। শ্রীকে বিয়ের আগেরদিন পর্যন্ত্য মা খাইয়ে দিয়েছে। মা বলে ওর নাকি খিদে বোধটাই নেই। বেচারী মনে মনে মাকে বলে, মা এখন আমার খুব খিদে পায়, কিন্তু আমি যে চেয়ে খেতে পারিনা মা।

    এমনি করে দিন যায়।

    জন্মদিনের আগে শ্রী একটা চিঠি পায়, আর একটা গ্রিটিংস কার্ড। অর্কর পাঠানো। চিঠিতে যা লেখা আছে তা মোটামুটি এরকম যে ও খুব অসুস্থ ছিলো তাই চিঠি দিতে দেরী হলো, এখন ভালো আছে।

    এটা পড়ে শোনাতেই বাড়ীতে হুলুস্থুল বেঁধে গেলো। ছেলেটা ওখানে অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে,আর ইনি এখানে কলেজ করছেন, এজন্যই কি ছেলের বিয়ে দেওয়া? শ্রীর মা বাবাকেও খবর দেওয়া হলো। বাবা এসে বললেন, ঠিকিতো, বিয়ে হয়ে গেছে আবার পড়াশুনা কিসের? সংসারটাই ঠিক করে করুক ও। ছেলেটা যদি অসুস্থ হয়েই পড়ে এভাবে তাহলে কি করে চলবে?কেউ আর মনে রাখলো না যে ছেলেটা এতদিন এভাবেই ছিলো, আর জ্বর হওয়া একটা স্বাভাবিক ঘটনা।

    যাহোক, শ্রীর কলেজকে ছুট্টি করে তাকে শিলিগুড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা হলো।

    শ্রী যখন শিলিগুড়িতে গিয়ে পৌঁছায় তখন অর্ক কাজে বেরিয়ে গেছিলো, আসলে ওকে জানিয়ে আসা হয়নি।কাজেই বাড়ীওয়ালাদের ঘরেই ওদের থাকতে হলো সন্ধ্যে পর্যন্ত্য।

    সন্ধ্যের সময় বাবু এলেন।
  • M | ২৬ জানুয়ারি ২০১০ ০৭:৩৩424331
  • ইস গো! আমার টইটা কেবল অনাথের মতো খালি ডুবে যায়।:(
  • M | ২৬ জানুয়ারি ২০১০ ০৭:৫২424332
  • আবার ভাসিয়ে দিয়ে আরেকদফা ঘুমুতে গেলাম।
  • pi | ২৬ জানুয়ারি ২০১০ ০৭:৫৮424333
  • লিখে দিয়ে গেলে পারতে তো :)
  • de | ২৬ জানুয়ারি ২০১০ ১০:০০424334
  • বম্ম,
    আট্টু লিখে গেলে না????
  • ps | ২৬ জানুয়ারি ২০১০ ১৩:৩৮424335
  • কতক্ষণ বসে থাকব?
  • ranjan roy | ২৬ জানুয়ারি ২০১০ ১৪:৪৮424336
  • এমন চমৎকার জমিয়ে দিয়েছে যে এটুকু কনসেশন দেয়া যায়। অ্যাই, কেউ বড়মাকে বকবে না।
  • M | ২৬ জানুয়ারি ২০১০ ১৪:৫২424337
  • শিলিগুড়ির মানুষরা খুব উষ্ণ আথিতেয়তা দিতে জানে।বাড়ীওয়ালারা মানুষ বড় ভালো ছিলো,ওদের মেয়ে আর জামাই একটা প্ল্যান করলো যে অর্ক আসলে ওকে অবাক করে দিতে হবে। সেই মতো অর্ক কাজ থেকে ফিরলেই বাড়ীর মেন সুইচ অফ করে দেওয়া হয়, আর তখন বেচারী সবে মাত্র চাবি খুলে ভিতরে ঢুকেছে।একটা হারিকেন নিয়ে ওরা ঢুকে পরে অর্কর ঘরে।

    আরে মানসদা আপনারা?

    এই হারিকেন নিয়ে এলাম,

    সেকি কেন?

    এই জন্য, বলে শ্রীকে ঠেলে দেওয়া হয়।

    অর্কতো এত অবাক আর খুশী যে ভেবলে বোকা বোকা একটা হাসি দেয়, আর সবাই হো হো করে হেসে ওঠে আর দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে পালিয়ে যায়।

    আর মুহুর্তেই আলো জ্বলে ওঠে।

    শ্রী চারিদিক অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখে, দুটো ঘর, একটার ভিতর দিয়ে আরেকটা।প্রথমটার এ মুড়ো থেকে ও মুড়ো পর্যন্ত্য একটা দড়ি ঝুলছে, আর তাতে ঝুলছেনা এমন জিনিস নেই।

    ডিভানের উপর রাশিকৃত ফাইল আর আরো জামা কাপড়, টাওয়েল।টি টেবিলেও তাই।

    আর আরেকটা ঘরে রাজ্যের ওষুধের পেটি আর ছড়ানো ছেটানো ওষুধ।

    অর্ক দাঁত বের করে বলে এই হলো অর্কর সংসার।(ঠিক যেন অপুর সংসার বলতে চাইলো)
  • M | ২৬ জানুয়ারি ২০১০ ১৫:১২424338
  • শ্রী, কোমড় বেঁধে ঘর সাফ করতে শুরু করলো পরদিন সকালে, উফ! এত নোংরা নিয়ে মানুষ থাকে কি করে?

    প্রথমেই একটা বড় খালি ওষুধের পেটিতে সব নোংরা কাপড় জামা জড়ো করে রাখলো, তারপরে ঘরের মাঝের বিকট দড়িটাকে খুলে ফেলে দিলো ট্র্যাশে,বিরাট লোহার র‌্যাকটাতে ওষুধ সব দিলো গুছিয়ে,আর অদরকারি জিনিস গুলি বিরাট ট্রাঙ্কটাতে ভরে সেটার উপরে নিজের একটা সুন্দর ওড়না পেতে দিলো।ডিভানের চাদর বদলে সেটাকে টান টান করে পাতলো।সমস্ত বই খাতা আর ফাইল গুছিয়ে রাখলো ট্রাঙ্ক টেবিলটার উপরে আর কিছু স্পাইশি পত্রিকা, যেমন সানন্দা, ভ্রমন যা সে বয়ে এনেছিলো তা রাখলো টেবিলের নিচের র‌্যাকটাতে।সব আসবাব আর বিরাট আয়নাটাকে মুছে ঝকঝকে করে ফেললো।
    বেড রুমটাতে ছোট্ট একটা কিউট আলমারি আছে, ওটার মাথায় মিউজিক সিস্টেমটাকে তুলে দিলো।তাতে করে প্ল্যাগ পয়েন্ট টা কাচে পাওয়া গেলো আর দেখতেও ভালো লাগছে।এবার আলমারিতে সব গুছিয়ে ফেলে ডান হাত দিয়ে ঘাম মুছে নিজের রাশিকৃত চুলে হাত দিয়ে খোপা বেঁধে নিলো।এবার শাড়িটাকে কোমড়ে গুঁজে চললো রান্না ঘর সাফা করতে,আর কি কান্ড!একটা আরশোলা এসে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করলে এর বিরুদ্ধে আর জনাকয়েক এদিক সেদিক থেকে উঁকি দিতে লাগলো।তাই দেখে তো পরি মরি করে ছুট, ও কাকু! ও কাকীমা---

    কি হয়েছে, ওনারা ছুটে এসেছেন,

    আরশোলা!

    বোঝো কান্ড! নিভু স্প্রে টা দাও তো, কাকু কাকীমাকে বললেন।

    আরে তুমি তো ঘরটাকেই পাল্টে দিয়েছো!
    এর জন্যেই একটা মেয়ে দরকার হয় সংসারে।

    বিকেলে অর্ক ফিরেতো নিজের ঘরটাকেই চিন্তে পারছিলো না।

    এবার বলো তারপর কি হলো?

    শ্রী, তুমি একটা পাগল! এভাবে এই গল্প শুনতে চাইছো!
  • Nina | ২৭ জানুয়ারি ২০১০ ০১:৫৫424340
  • অম্মো শুনতে চাইছি--তর সইছে না-----এগো এগো ---গপ্পটা নিয়ে। হিহি একটু ঘ্‌হুম না হয় কমবে--কমুকগে--:-)
  • de | ২৭ জানুয়ারি ২০১০ ১২:১৫424341
  • মারো জওয়ান হেঁইয়ো!! আম্মো ঠেলে দিয়ে গেলুম :)
  • M | ২৭ জানুয়ারি ২০১০ ১৩:০৪424342
  • :)
  • M | ২৭ জানুয়ারি ২০১০ ১৩:৫৯424343
  • তারপর আর কি ! কত জায়গায় যে থাকলাম,কখন ও রাস্তায়, কখন ও রেল লাইনের ধারে,কখন ও শিয়ালদার পাশের গির্জাটার কাছের ফুটপাথে, কখন ও কারোর বাড়ীতে, আর কত কত ঘটনা।

    উ: আচ্ছা, ঘটনা গুলো এলোমেলো ভাবেই বলো।

    অর্ক ভাবে এ সত্যি শুনতে চাইছে, না ওকে নিয়ে মজা করছে? আগে যতবার লোকে শুনেছে সবাই ওকে ঘৃনার দৃষ্টিতে দেখেছে, ওর মনে আছে বাড়ীতে ফেরার পর ওর সাথে কাউকে মিশতে দেওয়া হতো না, পাছে তারা খারাপ হয়ে যায়।বেচারী একা একা দিন কাটাতো আর সারাদিন গিটার বাজাতো, বাজনায় ভুলে থাকতো সব ব্যাথা, অপমান।

    জানো, আমি যখন মেলা শেষ হলো তখন ঐ দোকানদারের কাছে কাজ করতে শুরু করলাম, ও মিস্ত্রিদের নিয়ে কাজ করতো, তো আমায় ইঁট বওয়ার কাজ দিলো।মাথায় ছটা থেকে আটটা ইঁট বইতে হতো। আমি পারছিলাম না, তাই দেখে আমাকে ওর বাড়ীতে কাজে লাগিয়ে দিলো, ঘরের কাজ।

    আবার গির্জার পাশে যখন থাকতাম তখন এক বুড়ির কাছে ছিলাম, সেই বুড়িতো আমাকে নাত জামাই করবে প্রায় ঠিক করেই ফেলেছিলো।

    আবার শিয়ালদা স্টেশনে ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ও কতদিন থেকেছি। তখন শসা বিক্রি করতাম। যেদিন প্রথম গেলাম, নতুন একটা পাজামা পরে, ছুরি নতুন, কিন্তু যারা বিক্রি করে ওখানে তাদের সময় আর ট্রেন ভাগ করা থাকে।আমি তো জানতাম না, আমার সব কেড়ে নিয়ে ফেলে দিয়েছিলো ওরা।

    আহারে! অতটুকু বাচ্চা, ওদের মায়াদয়া নেই?

    না শ্রী, মায়া দয়া ঐ জীবনে থাকা সম্ভব নয় গো।বেঁচে থাকার লড়াই ওটা।

    তারপর?
  • M | ২৭ জানুয়ারি ২০১০ ১৪:১২424344
  • একবার ঠিক করলাম, চিত্তুর চলে যাবো, ওখানে আমার ছোটবেলা কেটেছে, তো আমি ট্রেন কোনটা জানতাম, কারন প্রত্যেক বছরেই আমরা মামা বাড়ী আসতাম,প্রথমে আমি ট্রেনের মাঝখানে যে লোহার চুম্বকটা দিয়ে বগিগুলো জোড়া থাকে তার উপর বসে যাচ্ছিলাম,সেই ট্রেনে পরে আমার এক বন্ধু জুটে যায়।সে আমার থেকে কিছুটা বড়, ও ও যাচ্ছিলো কাজের খোঁজে, আমি সাউথইন্ডিয়ান ভাষা মানে অন্ধ্রের ভাষা জানি, আর ও বড়, দুজন দুজনকে সাথী করে চলে গেলাম। কি বিন্দাস দিন ছিলো সেগুলো!

    তারপর আমাদের বাড়ীর কাছে স্টেশনে আমি ছিলাম, কি মজা জানো কেউ আমায় চিনতেও পারেনি।ওখানে তখন এখনকার মতো জমজমাট ছিলো না। একদিন রাত্রে শুনি সবাই হই হই করে স্টেশনের লাগোয়া জমি দখল নিতে ছুটেছে, আমিও গিয়ে খানিকটা জায়গা নিয়ে ফেললাম,যখন বাড়ী যাবো তোমায় দেখাবো, আজ সে জায়গাটা থাকলে আমার কত আয় থাকতো ভাবতে পারো?

    তারপর এক কাশ্মিরি শালওয়ালার সাথে খুব ভাব হয়ে গেছিলো, আমার তার সাথে কাজের জন্য চলে যাবার কথা ছিলো।আমার ছোট্ট মনে এটাই মনে হলো যে চলেই তো যাবো, বোনের জন্য একটা খুব সুন্দর ফ্রকের কাপড় কিনলাম,ভাবলাম মাসির বাড়ী গিয়ে এটা দিয়ে আসি, তারপর চলে যাবো।
  • M | ২৭ জানুয়ারি ২০১০ ১৪:৩৯424345
  • কি কান্ড!

    তোমার এটা মনে হলো না যে দিদিরা তোমায় আটকাতে পারে?

    না, সেটাই অদ্ভুত, তো শোনোনা, বড়দি উঠোনে দাঁড়িয়ে দাঁত মাজছিলো,আমি একটা গাছের আড়াল থেকে উঁকি মারছিলাম, ওখানে কে রে, বলেই এসে দেখে ধুলো মাখা আমি, দেখেই ওমা! অর্ক? বলে আমার হাত শক্ত করে চেপে ধরে প্রথমে খানিক ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদলে আর তারপরে আমায় ঘরে ঢুকিয়ে শিকল তুলে দিলো।

    ব্যাস আমার ট্যুর শেষ।

    শ্রী ভেবেছিলো একে কোনো বন্ধনে জড়াবে না।কিন্তু এখন ভাবনা একশো আশি ডিগ্রী ঘুরে গেলো। শ্রী বুঝলো একে বাঁধা যাবে না।অবশ্য বেশী চেপে ধরা সম্পর্ক শ্রী এর ও সয় না। বড় হাঁপ ধরে যায়।সব সময় ডেনড্রাইটে আঁটা হয়ে থাকার দরকার কি তা কিছুতেই শ্রী এর মাথায় ঢোকেনা।বরং পাশাপাশি চললেই তো হয়।এই কনসেপ্টটাই আদ্ধেক লোকের মাথায় ঢোকানো যায় না।

    অর্ক সেই দিনগুলো দেখতে পায়, তিনবছর পড়াশুনা না করে আবার শুরু করা যে কতটা কঠিন তা ও জানে।

    আর তখন ওদের একের পর এক খারাপ সময় যাচ্ছে।বাবা চিত্তুর থেকে ফিরে বিহার, এখান সেখান করে শেষে পলাশীতে কাজ নেন। কিন্তু পলাশীতেই তার কাজের ইতি হয়ে যায়। উনি তখন সুগার মিলের ম্যানেজার ছিলেন আর বোর্ড অব ডিরেক্টরের সবাই কলকাতাতে, একদিন, তখন সিজন টাইম, দেখলেন রাত্রে এক লরি চিনি বেরিয়ে যাচ্ছে, তিনি গিয়ে ধরলেন। তখন সেই স্মাগলাররা তার সাথে এক রফাতে আসতে চাইলো। তারা বললো প্রতি রাত্রে এক লরি করে মাল বেরিয়ে যাবে তার পরিবর্তে তাঁকে এক মোটা টাকা দিয়ে দেওয়া হবে। তিনি ছিলেন খুব সৎ আর কঠিন মানুষ।কলকাতাতে খবর পাঠান, কিন্তু কোনো লাভ হয় না। উল্টে তাঁর জীবন সংশয় দেখা দেয়।ফলে কাজে জবাব দিয়ে চলে আসেন।

    অর্কর মনে একটা কথা সব সময় ভাসে যে বাবা বলতেন, সবাই করাপ্টেড কিন্তু বাঙালীদের মতো হাত পা শুদ্ধু কেউ খেয়ে ফেলেনা।ভারী ভেঙ্গে পড়েছিলেন তিনি। এরপর বাকি জীবন টিউশন করে কাটিয়ে দেন।অর্কর চোখে একটা দৃশ্য খুব ভাসে যে তার অমন বাবা ও রেশনের দোকানের লাইনে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন এটা যে তাঁর জন্য কতটা অপমানকর তা সেদিন অর্কর বুঝতে কোনো অসুবিধা হয়নি।
  • M | ২৭ জানুয়ারি ২০১০ ১৪:৪০424346
  • আমি এক্ষুনি ক্ষী ক্ষান্ড! লিখে ফেলেছিলুম।:(
  • M | ২৭ জানুয়ারি ২০১০ ২০:৫১424348
  • ক্যামন ইসে শোনালো!:(
  • M | ২৭ জানুয়ারি ২০১০ ২০:৫১424347
  • এটা একটা ঘ্যান ঘ্যানে বড় গপ্প হয়ে যাচ্ছে, তাও শেষ করবো, এরপর আরেট্টা, তারপর ট্রিলজি হলে গ্যাগসাসা,গুকার আর গোবেল আমার চাই।
  • M | ২৭ জানুয়ারি ২০১০ ২১:০২424349
  • বেচারি শ্রী এর ভারী ঝঞ্ঝাট,কোনোদিন রান্না করেনি, একটা খাতায় কিছু রেসিপি লিখে নিয়ে এসেছিলো, তা কেবল ই কার্য্যক্ষেত্রে কাজ দিচ্ছে না, একেতো রান্নার কোটা বাটা কমপ্লিট করে রাঁধতে বসতে হয়, তাও ছাতার ফোড়ন আর কিছুতেই মনে থাকে না,বীজগনিতের ফর্মুলাকেও হার মানিয়ে দেয়।কাজেই তেল কড়াইতে দিয়েই ছুট,

    ও কাকীমা, ঐ লাল ডালে কি ফোড়ন হয়?

    কাকীমা ও ভারী মজা পান।খুব স্নেহ ভরে সংসারের খুঁটি নাটি শেখান।আর শ্রী ও ভারী অবাক হয়, এরা তার কেউ হয় না অথচ কত সহজে কত আপন করে নিয়েছে।আর যারা সত্যি কারের আপনজন তারা সবাই সব সময় মনে করিয়ে দেয় সে পরের বাড়ীর মেয়ে।

    পাড়ার লোকেদের সাথেও খুব ভাব হয়ে গেছে তার। আসলে অর্ক খুব মিশুকে আর সুন্দর স্বভাবের ছেলে, সেই গ্রাউন্ড তৈরী করে রেখেছিলো, ফলে শ্রীকে আপনাতে কারোর অসুবিধা হয়নি।

    একি আজ এত তাড়াতাড়ি চলে এলে?শরীর ঠিক আছে তো?

    হ্যাঁ আজ বিকেলে গুবলু মেরেছি।

    অদ্ভুত ভাষা তুমি ব্যবহার করো, গুবলু কি?

    ফাঁকি,

    ভালো করেছো।

    তুমি কিন্তু আরেকটা গল্প শোনাও নি।

    কোন গল্প?

    সেই তোমার কে যেন ছিলো, তার গল্প।

    আমার খুব কষ্ট হবে শ্রী।

    তাও শুনবো।
  • M | ২৭ জানুয়ারি ২০১০ ২১:৫৭424351
  • সেটা এক শীতের শুরুর সন্ধ্যে।

    আমি ব্যাগ ঝুলিয়ে শিলিগুড়ি যাবার রকেট বাসে উঠে আমার সিট খুঁজছি, তুমি তো জানো টু আর থ্রী সিটার হয়।আমারটা টু এর দিকে।ওমা সিট পেয়ে আমার বিশ্বাস ই হয় না। আমার সিটের পাশের সিটে যিনি বসে আছে তিনি একটি মেয়ে।মনটা আনন্দে লাফিয়ে উঠলো।প্রত্যেকবার জঘন্য সব পাশের যাত্রী নিয়ে যেতে হয়।আমি ভাবতে লাগলাম কার মুখ দেখে উঠেছি আজকে।

    তিনি আবার ঠিক উল্টো, আমায় দেখেই খালি মাপতে লাগলো যে সারারাত ধরে কার পাশে বসে যেতে হবে।

    এমনি করে কৃষ্ণ নগর এসে গেলো, এবার নামতে হবে, আর মেয়ে গুলো এমন হয় যে বিশ্বাস করবে না অথচ কাজ বাগানোর সময় আবার অন্যরকম।

    খবরদার!

    ওক্কে বাবা! ঠিকাছে।

    সারারাত বেশ গল্প করতে করতে কেটে গেলো।মেয়েটি থাকে শিলিগুড়িতে,মাটিগাড়ার কাছে।এখানে যাদবপুরে তার মামা বাড়ী এসেছিলো।সে নিউ চামটার কাছে কোনো স্কুলের টিচার।

    বাব্বা! এত্ত গল্প হয়ে গেলো? শ্রী-র মুখ কালো হয়ে গেলো।

    এইজন্যই শোনাতে চাইনি।

    কি জন্যে?

    কিছুনা!

    বেশ, তারপর?

    তারপর আর কি, সকাল হয়ে গেলো, ও নেমে যাবে, যাবার আগে বলে গেলো, আবার দেখা হলে ভালো লাগবে আর আমরা পরস্পরের ঠিকানা জেনে নিলাম।কোথা থেকে যে অত বড় রাত কেটে গেলো তা জানতেও পারলাম না।

    ও!

    তারপর?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় প্রতিক্রিয়া দিন