এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • বিবেকি কন্ঠ ও মার্কিন সরকারের বদমাইশি

    shyamal
    অন্যান্য | ২৯ জুন ২০০৮ | ৩৫৯২৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • h | ০২ জুলাই ২০০৮ ০৮:৩৭400315
  • এই থ্রেডে অথবা এখন ওপরেরে দিকে থাকা কোনো একটা থ্রেডে 'রিমি' একটা কথা বলেছেন সেইটা আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। সেটা হল 'সব ই তো হোলো, দু পক্ষই শুনলাম, কিন্তু নতুন কি হলো, নতুন চিন্তা ভাবনা তো কিসু পাইলাম না' ইত্যাদি।

    এইটা খুব ই সইত্য কথা। বড় বড় কর্পোরেট মিডিয়া যা ডিবেটের ফ্রেমওয়ার্ক ঠিক করে দেয় আমরা তাতে পক্ষ নি ই মাত্র। এবং রজ্জুতে সর্প ভ্রম করে তাকেই ভাবি ডিবেট করা।

    নতুন কথা কইতে গেলে বড় মিডিয়ার বাইরে ভাবাটাও বোধায় একটা পার্ট অফ প্রসেস।

    ধন্যবাদ রিমি।
  • Ishan | ০২ জুলাই ২০০৮ ০৮:৪৬400316
  • শেষ পোস্ট টা নিয়ে গোটা দুই কথা।

    এক। ঠিক কথা, পৃথিবীতে অনেক রকম শক্তি থাকবে, তাদের সঙ্গে নেগোশিয়েট করতে হবে। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, ইইউ, এগুলো এই নেগোশিয়েশনের একেকটা ফর্ম। কোম্পানিরা দল পাকিয়ে মনোপলি বানায় এই জন্যই। ক্রেতারাও দল পাকায় একই কারণে। নেগোশিয়েশনের সুবিধে হবে বলে। জোট পাকাবনা, একা-একাই নেগোশিয়েট করব, এই রিয়েলিজম শক্তিমানের পক্ষের রিয়েলিজম। দুর্বলকে নেগোশিয়েট করতে গেলে জোট পাকাতেই হবে। সেটা দুর্বলের রিয়েলিজম। এতে আপত্তিটা ঠিক কোথায়?

    দুই। "জাতীয় স্বার্থ' বড়ো গোলমেলে কথা। জাতীয় স্বার্থের কারণেই ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট আজ বোধহয় ৬০ হাজার কোটি টাকা (সঠিক ফিগারটা কেউ দেবে?)। এটা সো কলড "জাতীয় স্বার্থ'তে কাজে লাগে। কিন্তু জাতির কোনো কাজে লাগেনা। এই জাতীয় "জাতীয় স্বার্থ' বস্তুত: ষাঁড়ের গোবর। কারো কোনো কাজে লাগেনা, শুধু যুদ্ধব্যবসায়ী বড়দাদের পেট ভরানো ছাড়া।
    অন্যদিকে সীমান্ত টেনশন কমানো, লোকালি দল পাকানো, দল বেঁধে নেগোশিয়েট করা, এটা আরেকরকমের রিয়েলিজম। শর্টকাট নয়, কিন্তু লং টার্মে ফলদায়ক। এতে শ্যামলের আপত্তিটা কোথায়?
  • Ishan | ০২ জুলাই ২০০৮ ০৮:৫০400317
  • হনুকে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় অবাধ চলাচল, অবাধ ব্যবসা আর একটি কমন ইকনমিক অথরিটি, এই মূহুর্তের একটি বৃহৎ ইস্যু হওয়া উচিত। অ্যালং উইথ জাতিসত্বা ও তার অধিকার। সেইটা মেনস্ট্রিমে কোথাও নাই। কিন্তু থাকা উচিত। এবং আনা উচিত।

    কিকরে আনা হবে জানিনা যদিও। :)
  • Arijit | ০২ জুলাই ২০০৮ ১১:৩৪400318
  • শ্যামলের "জাতীয় স্বার্থ'-এর সাথে আমি সোনামুখ করে হপ্তা দেওয়া আর দাদা যখন বলবেন তখন পিছন ফিরে দাঁড়ানোর (যাতে দাদা তাঁর পায়ের সুখ করতে পারেন) তফাত খুঁজে পেলুম না।
  • r | ০২ জুলাই ২০০৮ ১৪:৩৬400319
  • দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া না দক্ষিণ এশিয়া?
  • kallol | ০২ জুলাই ২০০৮ ১৭:১৭400320
  • ঐ তো অজ্জিত, ভুল করলে। পরিবার-পাড়া-দেশ - এই সবের ক্ষেত্রে আইন আছে না! গুন্ডা/তোলাবাজের বিরুদ্ধে থানায় যাওয়া যায়। অভিযোগ করলেই পুলিশ এমন হুড়ো দেবে যে গুন্ডারা সব ভয়েই মরে যাবে। না না হাসবে না। সিরিয়াস।
    কিন্তু আর্ন্তজাতিক ক্ষেত্রে তো আইন নেই, তাই জোর যার মুলুক তার চলবে। আর UNO! ওতে লোক হাসবে।
    আর, ইরাকে তেলের জন্য যায় নি আমেরিকা। প্রমান? তাহলে কি আমেরিকাতে তেলের দাম বাড়তো?
    এই তঙ্কÄটি বেশ। যে দেশের কোং তারা সেই দেশে দাম বাড়ায় না (যদি অবশ্য ব্যাপারটা তার হাতে থাকে)। তেলের দাম যারা ঠিক করে তাদের মধ্যে তো আমেরিকা নেই! বা থাকলেও কেউ পত্তাই দেয় না আমেরিকাকে। তাই আমেরিকতেও তেলের দাম বেড়ে যায়!!!
  • shyamal | ০২ জুলাই ২০০৮ ১৯:৫৭400321
  • ভারত সব সময়ে একা একা নিগোশিয়েট করেনা। WTO তে আমেরিকা, ই ইউ যাতে চাষে ভর্তুকি কমায় তাই ব্রেজিলের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। তা বলে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করবেনা এরকম মাথার দিব্যি কে দিয়েছে?
    দল পাকিয়ে নিগোশিয়েট করতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় দলের মধ্যে স্বার্থের তফাৎ আছে। তাতে দর কষাকষি দুর্বল হয়।
    আমি তো দেখছি ই ইউএর অনেক দেশ যথা ফ্রান্স, জার্মানী ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করেছে।

    আর ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট এক লাখ কোটি টাকা বছরে। শুনতে বিরাট হলেও, এটা বার্ষিক জিডিপির আড়াই শতাংশের কম। পাকিস্তান, চীন থাকতে কজন ভারতীয় এই বাজেট কমাতে রাজী হবেন সন্দেহ আছে। আপনি বললেন এটা জাতির কোন কাজে লাগেনা। অথচ পৃথিবীর প্রতিটা দেশে প্রতিরক্ষা বাজেট আছে। তাহলে বলতে হয়, পৃথিবীর সাত বিলিয়ন লোক বোকা আর আপনি ঠিক।

    কল্লোল কি বলতে চাইছ যে আমেরিকা ইচ্ছা করে তেলের দাম চার টাকা করেছে? আমেরিকান সরকারকে অত শক্তিশালী ভাবার কোন কারণ নেই।
  • Blank | ০২ জুলাই ২০০৮ ২২:০৭400322
  • প্রতিরক্ষা বাজেট খায় না গায়ে মাখে, তাই নিয়ে বেশির ভাগ লোকের ই মাথা ব্যথা নেই। প্রতিরক্ষা বাজেট কমিয়ে অন্য জায়গায় ভর্তুকি দিয়ে নিত্য প্রয়োজনিয় জিনিসের দাম কমাতে চাইলে চালাক, বোকা সব লোকই ভয়ানক রাজি হবে।
  • arjo | ০২ জুলাই ২০০৮ ২৩:৩৯400325
  • এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে প্রতিরক্ষা খাতে খরচ করা হবে না এটা অত্যন্ত ইমপ্র্যাকটিকাল। ও থাকবেই থাকবে। নইলে পাকিস্তান কেলিয়ে পাট করে দেবে। চীনেও দিতে পারে। এমনকি জিরো করলে বাঙলাদেশেও দিতে পারে।
  • umesh | ০২ জুলাই ২০০৮ ২৩:৫৯400326
  • এটাই তো মজা। এই যুদ্ধ-যুদ্ধ ভাব, দেশ গুলোর মর্ধে টেনশন জিইয়ে রেখে অস্ত্র বিক্রি করা।
    দেশে দেশে যুদ্ধ টা শুধু বিজনেস এর মর্ধে বজায় রাখলে সারা পৃথিবী তে কতো টাকা বেঁচে যেত বলো তো?
    এটা নিয়ে শ্যামল দা কি বলেন?
  • lcm | ০৩ জুলাই ২০০৮ ০০:০১400327
  • ইউ এস-তে গ্যাসোলিনের দামের সাথে তো সরকারের বুদ্ধির কিছু নেই...

    মোটামুটি কারেন্ট ডাটা :

    translated to per US gal in US$ app.
    May-Jun 2008

    ণোর্বয় ১০।৩৩
    টুর্কেয় ১০।১৪
    ণেতেহ্‌র্‌লন্‌দ্‌স ১০।১১
    এর্মন্য ৯।১৬
    ঈতল্য ৮।৭৮
    ঊ ৮।৭৪
    পইন ৮।১০
    রনএ ৮।০৬
    ঔথ ওরেঅ ৭।৩৮
    ইঙ্গপোরে ৬।৭৫
    যপন ৬।০৬
    আউস্ত্রলিঅ ৫।৭৫
    অনদ ৫।১৫
    ঈন্দিঅ ৫।১৫
    ঊআ ৪।১০
    হিন ৩।০৫ (গোত। সিবি্‌সদ্য)
    ঊআ ১।৪০
    অতর ০।৮৩
    এনেউএল ০।১৯

    হ্‌ত্‌ত্‌প://এন।য়িকিপেদিঅ।ওর্গ/য়িকি/অসোলিনে্‌উসগে্‌অন্দ্‌প্রিইঙ্গ
    US$/gal-এ সর্ট করলেই দেখতে পাবে।
  • shyamal | ০৩ জুলাই ২০০৮ ০০:১২400329
  • এল সি এমের দেওয়া মিলিটারী বাজেটের টেবলটা অ্যাবসলিউট ফিগার দিচ্ছে। এটা কিন্তু PPP দিলে ঠিক হয়। চীনে সৈন্যের মাইনে আমেরিকার চেয়ে অনেক কম।
    এখানে দেখুন বিভিন্ন দেশ জিডিপির কত শতাংশ মিলিটারীতে খরচা করে http://tinyurl.com/35rak7


    আমেরিকা ৪%, চীন ৩.৮%, ভারত ২.৫%, পাকিস্তান ৩.২%।
    এই নেশনমাস্টার সাইটে কোটি কোটি তথ্য আছে। চাইলে একবছর এটা পড়ে কাটানো যায়।
  • shyamal | ০৩ জুলাই ২০০৮ ০০:৫৯400330
  • উমেশ বলেছেন কত টাকা বাঁচবে অস্ত্র রপ্তানী না করলে।

    পৃথিবীর জিডিপি ৬০০০০ বিলিয়ন।
    এর মধ্যে সব দেশ মিলিয়ে প্রতিরক্ষার খরচ : ১২০০ বিলিয়ন। অর্থাৎ জিডিপির ২%।
    পৃথিবীতে মোট প্রতিরক্ষা (অস্ত্র) রপ্তানী ৩০ বিলিয়ন।
    অর্থাৎ মোট প্রতিরক্ষা খরচের ২.৫%। আর পৃথিবীর মোট জিডিপির ২০০০ ভাগের এক ভাগ।

    আরেকটি তথ্য অনুযায়ী ২০০৮ এর শেষে ভারতের জিডিপি হবে ১২০০ বিলিয়ন। ২০১৩ র শেষে ২০০০ বিলিয়ন।
  • kallol | ০৩ জুলাই ২০০৮ ০১:৩৪400331
  • যতদূর জানি আমেরিকা সরকার তেলের দাম নিয়ে কিছু বলার এখতিয়ারই রাখে না। তেলের দাম বাড়ায়-কমায় তেলের কোং গুলো। তাদের ওপর সরকারের কোন নিয়ন্ত্রন নেই। বরং তারাই সরকারকে নিয়ন্ত্রন করে।
  • Ishan | ০৩ জুলাই ২০০৮ ০১:৫৩400332
  • দাঁড়ান দাঁড়ান। এখানে জিডিপি একটি ইররেলিভ্যান্ট ব্যাপার। সরকারি খচ্চা আর জিডিপি আলাদা জিনিস। সোজা বাংলায় বুঝুন।

    সরকার বছরের শুরুতে বলল আমরা বিভিন্ন খাতে ১০০ টাকা খরচ করব। তো, তার মধ্যে দেখা যাচ্ছে ১০ বা ১৫ শতাংশ চলে যাচ্ছে অস্ত্র কিনতে। টাকাটা সামান্য নয়। সেটা না গেলে কি হত? সেই টাকা দিয়ে অনেক কিছু হত। উদাহরণস্বরূপ তেলে টাকাটা ঢাললে ভারতবর্ষে তেলের দাম ট্যাক্স ফ্যাক্স দিয়েও এখনকার অর্ধেকেরও কম হয়ে যেত। সম্ভবত: আরও কমে যেত।

    এখানে জিডিপি আসছে কোত্থেকে? সরকার জনতার পকেট থেকে ট্যাক্স নিচ্ছে। তার শতাংশের হিসেব করুন।
  • Ishan | ০৩ জুলাই ২০০৮ ০২:০২400333
  • এখানে আরও মজা আছে। স্বঘোষিত মার্কিনপন্থীরা সব জায়গায় এই জিডিপির হিসেবটা করেন না। সেগুলো শুধু সিলেক্টেড কিছু সেক্টরে করা হয়। যেখানে ওনাদের বক্তব্যের সুবিধে হয়।

    যেমন ধরুন, ভারত সরকারের এ বছরে ভরতুকির খাতে খরচা ধরা আছে, যতদুর মনে পড়ে ৫০-৬০ হাজার কোটি টাকা (একটু কম বেশি হতে পারে)। শ্যামলবাবুরা যখন ভরতুকি তুলে দেবার কথা বলবেন, তখন কিন্তু বলবেন না ঐ টাকাটা জিডিপির ১ শতাংশেরও কম, বা সামান্য বেশি। তখন বলবেন, সরকারি কোষাগারের ৫ বা ১০ শতাংশই শুধু ভরতুকি দিতে বেরিয়ে যায়। বা সরকারি কর্মচারিদের মাইনে দিতে। তখন জিডিপির হিসেব দেখাবেন না, কারণ শতাংশটা খুব কমে যাবে, দেখতে বাজে লাগবে।

    তো, সেই হিসেবটা ঠিকই আছে, সকরারের খরচে খামোখা জিডিপি আসবেই বা কেন। কিন্তু প্রবলেম হল, যেই প্রতিরক্ষার খরচ এল, তখনই স্ট্যান্ডার্ডটা পাল্টে গেল। এখন ১ লক্ষ কোটি টাকা টা খুব বেশি লাগছে বলে জিডিপির শতাংশ দেখিয়ে ওটা কামাবার চেষ্টা।

    একে বাংলায় বলে দাবল স্ট্যান্ডার্ড। বুইলেন শ্যামলবাবু?
  • lcm | ০৩ জুলাই ২০০৮ ০২:০৫400334
  • পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশ যত টাকা মিলিটারি বাজেটে খরচ করছে, তার প্রায় অর্ধেক করে ইউ এস। এটা একটা ইকনমি। যুদ্ধ বিমান/হেলিকপ্টার তৈরী হবে, তার ইঞ্জিন-এর অর্ডার পাবে লকহিড মার্টিন বা ইউনাইটেড টেকনলজিস, যুদ্ধে অন্যান্য সাজ সরঞ্জাম লাগবে, তার অর্ডার পাবে হ্যালিবার্টন বা বেকটেল। অনেক লোকের কাজ হবে, অনেক এক্স সি-ই-ও (চেনি সাহেব)-র সম্পদ বাড়বে ...। এবং এ সবই হবে, জনগণের ট্যাক্সের পয়সায়।
    কিন্তু এসব চালিয়ে যেতে গেলে তো মাঝে মধ্যে যুদ্ধ চাই, মান্ধাতা আমলের কিছু হেলিকপ্টার সেখানে ধ্বংস হবে, আরও উন্নত যুদ্ধযন্ত্র তৈরী করবার বাহানা তৈরী হবে। তাই তো দশ বারো বিশ বছর অন্তর একটা ইরাক চাই, ইরান চাই। এবং, টনি ব্লেয়ার থেকে জন হাওয়ার্ড, যাদের মিলিটারি বাজেট বড়, তারা সবাই এতে সঙ্গত দেবে। নইলে এই সব শিল্প টিকবে কি করে। যুদ্ধশিল্পকে কি লুপ্তপ্রায় হতে দেওয়া যায়?
  • lcm | ০৩ জুলাই ২০০৮ ০২:০৮400336
  • কিন্তু যুদ্ধু তো এমনি এমনি করা যায় না। তেনাদেরও তো বিবেক বলে একটা বস্তু আছে! তাই, এখানে nation building এর মতন জিনিস দেখানো হবে, wmd বলে বস্তু আমদানি করা হবে, যুদ্ধের মাধ্যমে দেশে দেশে গনতন্ত্র ইনজেকশন(টীকা) করে দেওয়া হবে।
  • Ishan | ০৩ জুলাই ২০০৮ ০২:১১400337
  • দুই নম্বর কথা। প্রতিরক্ষা খাতে খরচা কমানো একটি অবাস্তব ব্যাপার। কারণ চিন বা পাকিস্তান তাহলে মেরে দেবে। একদম ঠিক কথা।

    কিন্তু, প্রশ্ন হল, চিন বা পাকিস্তান আপনাকে মারবে কেন? কারণ তারা আপনার শত্তুর। পাড়াপ্রতিবেশির সঙ্গে এমনই সম্পর্ক করে রেখেছেন, যে, বন্দুক কিনে লোড করে বাড়িতে না রাখলেই মহা বিপদ। সমস্যা সন্দেহ নেই।

    তো, এটা সমাধানের দুটো উপায় আছে। আধপেটা খেয়ে বছর বছর নতুন নতুন বন্দুক কিনুন। মেশিনগান কিনুন। বেপাড়ার দোকানদারের হাতে ভাত না খেয়ে জমানো টাকা গুলো তুলে দিয়ে আত্মপ্রসাদ লাভ করুন, আহা আমার কত্তো বন্দুক। কত্তো মানুষ মারার খেলনা।

    অথবা। একটু প্রতিবেশির সঙ্গে ভাব জমানোর চেষ্টা করুন। মুখ দেখাদেখি করুন। কমন ইন্টারেস্টের কথা বলুন। টেনশন কমান। আস্তে আস্তে বন্দুকের খরচা কমিয়ে আনুন।

    এর মধ্যে কোনটা করবেন সে আপনার ব্যাপার। কিন্তু না খেয়ে বন্দুক জমানোর শখকে কাইন্ডলি রিয়েলিজম বলবেন না।
  • nyara | ০৩ জুলাই ২০০৮ ০২:১৩400338
  • লসাগুর মতন আমারও মনে হয় স্বেচ্ছা যুদ্ধর অন্যতম মোটিভেশন আসলে ট্যাক্সপেয়ারের পয়সা বড় বিজনেসের তহবিলে ফানেল করা।
  • arjo | ০৩ জুলাই ২০০৮ ০২:১৫400339
  • প্রতিরক্ষা বাজেট তো ট্যাক্স পেয়ার দের পকেট থেকে আসে। টোটাল প্রতিরক্ষা খরচ/টোটাল ট্যাক্স পেয়ার একটা ভালো ইন্ডেক্স।
  • shyamal | ০৩ জুলাই ২০০৮ ০২:৩৫400341
  • ঈশানবাবু,
    মনমোহন সিং বলেছেন না, আপনি বন্ধু চুজ করতে পারেন, পড়শী নয়। পাকিস্তানকে যদি আপনি ভদ্রতা, সভ্যতার প্রতীক বলে মনে করেন, আমার কিছু বলার নেই। আমি ডন কাগজ রেগুলার পড়ি। আপনি তো খুদা কে লিয়ে দেখেছেন বোধ হয়। তাতে যে ভাই আমেরিকা গেল, সে বলছে আমরা তো ভারতকে শাসন করেছি হাজার বছর। এই নির্বোধ মানসিকতা পাকিস্তানীদের আছে। আপনি আশা করি চান না যে ভারতের কিছু অংশ পেশোয়ার অঞ্চলের মত তালিবান ইনফেস্টেড হোক।
    কাজেই নিজের প্রতিরক্ষা ছাড়া উপায় নেই। চীন কিছু মাদার টেরেসা নয়।
    সাড়ে তিন বার কিন্তু পাকিস্তানই আক্রমণ করেছে ভারত নয়।
  • arjo | ০৩ জুলাই ২০০৮ ০২:৩৫400340
  • ঈশান আরও একটা ব্যপার আছে। যুদ্ধ ইত্যাদি যেমন সমর্থন করা যায় না। আবার অন্যদিকে প্রতিবেশির সাথে সাংঘাতিক ভাব ভালোবাসা হয়ে হলায় গলায় বন্ধুঙ্কÄ হবে এটাও খুব অবাস্তব বলে মনে হয়। আমেরিকা যদি এক এক্সট্রিম হয় তাহলে প্রতিরক্ষা বাজেট জিরো হবে এটাও আর একটা এক্সট্রিম। চারজন বাঙলী একত্র হলে তিনটে সরস্বতী পুজো হয় আর এতো পুরোপুরি দেশের ব্যপার। ভারতে তো বিজেপি, শিবসেনা, কংগ্রেস, সিপিএম হাজার মুণির হাজার মত। কোনো কমন ইন্টারেস্টও নেই। বিজেপি এলে পাকিস্তানকে বাঁশ দেবেই দেবে। সিপিএম চাইবে চীনের মন জুগিয়ে চলতে। দরকার হলে তিব্বতে সেনাও পাঠাবে। গত কয়েক হাজার বছরে যা হয় নি। তা হঠাৎ করে হয়ে যাবে তা মনে হয় ঠিক নয়।
  • Ishan | ০৩ জুলাই ২০০৮ ০২:৪৯400342
  • সব ছেড়ে এবার সিনেমা? সিনেমার পর্দায় যখন একজন নির্বোধ পাকিস্তানির কাল্পনিক চরিত্রকে দেখা গেছে, তখন আর সন্দেহ কি, যে গুষ্টিশুদ্ধ পাকিস্তানবাসীই নির্বোধ ও মানবেতর? ইহাই রিয়েলিজম। আমেরিকার শিক্ষা। :)

    হ্যাঁ, আমি চাইনা পাকিস্তানের কিছু অংশের মতো ভারতে কোনো এলাকাও তালিবান ইনফেস্টেড হোক। সেইজন্যই আমি আমেরিকার থেকে দূরে থাকতে চাই। আমেরিকা খুশি হলে আমার দেশে চাট্টি তালিবান বানাবে, অস্ত্রশস্ত্র দেবে, তারপর পছন্দ না হলে তালিবান মারার নাম করে আমার এলাকায় বোম মারবে, ঐ আফগানিস্তানেই আমি সেটা হতে দেখেছি। এবং তা থেকে শিখেছি। রিয়েলিস্টরা সেসব দেখেননি। দেখলেও শেখেননি। ওনাদের শিখতে নেই। কারণ ওনারা রিয়েলিস্ট। রিয়েলিজম সর্বশক্তিমান, কারণ তাহা সত্য।
  • Ishan | ০৩ জুলাই ২০০৮ ০২:৫৬400343
  • আর্য।

    সাংঘাতিক ভাব-ভালোবাসা হবার তো দরকার নেই। প্রতিরক্ষা-বাজেট জিরো করারও দরকার নেই। শুধু অস্ত্র-প্রতিযোগিতাটা বন্ধ হলেই হয়। আর মিনিমাম আদান-প্রদান।

    আমার মনে হয়না, এই মূহুর্তে ভারত, পাকিস্তান বা চীন, কেউই অন্য দেশটিকে দখল করে নেবার স্বপ্ন দেখে। ওতে লাভের চেয়ে লোকসান বেশি। কিছু সীমান্ত এলাকা নিয়ে ডিসপিউট থাক্বে। অস্বাভাবিক কিছু না। কিন্তু সেগুলো পিসফুলি মিটিয়ে নেওয়া খুব অসম্ভব কিছু না।

    একটা কথা অবশ্যই ঠিক, যে, ভারতের জাতীয় দলগুলো কেউই এটা করার জায়গায় নেই। সে আর কি করা যাবে। সবই কপাল। :)
  • shyamal | ০৩ জুলাই ২০০৮ ০২:৫৮400344
  • শুধু আমেরিকার দোষ দিলে হবে? সে সময়ের পাকিস্তানি সরকারের পুরো মদত ছিল তালিবান বানানোয়। আই এস আইয়ের নিজের হাতে তৈরী এই তালিবান। আমেরিকা এদের পয়সা, অস্ত্র দিয়েছে সোভিয়েতকে বাঁশ দেওয়ার জন্য। কিন্তু বুমেরাং হয়ে গেছে এখন। কিন্তু তা বলে আই এস আইয়ের রোলকে কিছুতেই কম করা যায়না।

    আপনি যদি ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তানকে এক লেভেলে নামাতে চান, করুন, কিন্তু পৃথিবীর কোন দেশের সরকার তা করেনা। কন্ডি রাইসের লেখাটা তো কাল দিলাম।

    মনে রাখবেন ভারতে আমেরিকা অতিশয় জনপ্রিয় আর পাকিস্তানের লোকেরা হেট করে।
  • Ishan | ০৩ জুলাই ২০০৮ ০৩:০৭400345
  • আফগানিস্তানকে আমি ভারতের সঙ্গে তুলনা করব? কেন করতে যাব? আফগানিস্তানে একদা একটি প্রগতিশীল ধঁচের সরকার ছিল। সে আর যাই করুক পাথর ছুঁড়ে মানুষ মারা সমর্থন করতনা। আপনার পরম প্রিয় আমেরিকা তাদেরকে সরিয়ে সেখানে তালিবান সরকার বানিয়েছে। বোমা বন্দুক নিয়ে স্লাইট পুতুল খেলা করেছে। তারপর খেলা ফুরোলে দেশটা বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়েছে। এবং আরেকতি পুতুল সরকার বসিয়েছে।

    রিয়েলিস্ট ভগবানকে ধন্যবাদ, যে, ভারতে আমেরিকা "বন্ধু' হয়ে ঢোকেনি। তাই এসব হয়নি। সেই জন্যই এখনো আফগানিস্তান-ভারত তুলনীয় নয়। আমেরিকা একবার ঢোকার চান্স পেলেই তুলনীয় বানিয়ে দিত। কি বলেন? :)
  • Ishan | ০৩ জুলাই ২০০৮ ০৩:০৯400347
  • আরেকটা কথা। পাকিস্তান কি সাধু? একদম না। ভারত কি সাধু? একদম না। কিন্তু এরা কেউই আমেরিকার মতো বিপজ্জনক না। দুইটি নর্মাল ও বজ্জাত লোকের, চেষ্টা করলে বন্ধুত্ব হলেও হতে পারে, কিন্তু হেবো মস্তান আর প্যালারামের কখনও বন্ধুত্ব হয়না।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন