
রূপ-রস-বর্ণ-গন্ধ সহ যে সর্বব্যাপী অডিওভিস্যুয়াল এফেক্ট তৈরী হয় তাঁর লেখার ছত্রে ছত্রে, যেভাবে সন্ধ্যে নামে, বর্ষা আসে, ফুলের গর্ভাধান হয়, মাটির গন্ধ, ঘামের গন্ধ মিশে যায় মুলারি বাইয়ের রূপ বর্ণনায়, পৃথিবীর কোন ক্যামেরার ক্ষমতা আছে তাকে তুলে ধরে? ... ...

-এ মা ! তুমি টি শার্ট পরে আছো কেনো ? রাতুলের রিনরিনে গলার খিল খিল হাসি যেন একটা পাহাড়ি ঝর্ণার মত উপচে বেড়িয়ে এলো কম্পিউটার স্ক্রিনথেকে ! আর সে হাসির ছোঁয়াচ লেগে গেলো আমার পেশাদারিত্বের মুখোশ পরা আপাত গোমড়া মুখেও ! ... ...

ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি আমাদের দেশ নাকি স্বাধীন,গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, সার্বভৌম একটি রাষ্ট্র। তা বড় হবার সময়ে এই সব শব্দ গুলির অর্থ ই কেমন যেন গুলিয়ে যেতে লাগল। কেউ শেখালেন ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়, তো অন্য কেউ বোঝালেন,এর চেয়ে ইংরেজরা নাকি ঢের ভালো ছিল! স্বাধীনতা ধুয়ে কি জল খাব, ইত্যাদি। ... ...

ক্লাব থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, রাজনৈতিক নেতা থেকে সমাজসেবী -অনেকের ধারণা প্রতিবন্ধী মানুষদের কিছু দান করলে করলে পরমকরুণাময় ঈশ্বর খুশি হয়ে থাকেন তাই ‘পূণ্য’ লাভ সম্ভব হয়। সেই চেতনা প্রবল হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসে। রাজা আসে রাজা যায়, মন্ত্রী আসে মন্ত্রী যায়, প্রতিবন্ধী মানুষদের অবস্থার পরিবর্তন আদতে সোনার পাথর বাটি। তবে হেলেন কেলারে’র মত প্রতিবন্ধকতাযুক্ত মানুষ যখন বলেন ‘আমার প্রতিবন্ধকতার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ’। তখন মনে হয় প্রতিবন্ধী মানুষদের জীবনে কিছু তো আছে গর্ব করার মত। প্রতিবন্ধকতার জন্য মানুষগুলো হয়ত প্রতি মুহুর্তে নতুন নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারে। প্রতিবন্ধকতার জন্য জগতকে অন্যভাবে দেখতে পারে কিছুটা আলাদা করে!! ... ...


আমার আগের ব্লগ "কয়েক দশকে সঙ্ঘ ভেঙ্গে যায়?" এর সূতোয় পাঠক রমিত প্রশ্ন করেছিলেন আজকাল সেভাবে তারকা আর দেখা যায় না কেন? ওনাকে জানিয়েছিলাম এ বিষয়ে আমার কিছু চিন্তাভাবনা আছে যা নিয়ে পরবর্তী ব্লগে লিখব। সেই বিষয় নিয়েই আমার ভাবনা চিন্তাকে সংহত করার প্রয়াস রাখলাম এই কিস্তিতে। রমিতকে ধন্যবাদ বিষয়টি উস্কে দেওয়ার জন্য। ... ...

এই মধ্যবিত্ত থেকে ক্রমশঃ তলিয়ে যেতে থাকা মানুষগুলোকে না রিপাব্লিকান, না ডেমোক্র্যাট - কোন পলিটিকাল এস্ট্যাব্লশমেন্টই নিজেদের ভাবেনি। এর সঙ্গে আর একটা জিনিস বুঝতে হবে। অ্যামেরিকানরা ধর্মভিরু লোক। তারা চার্চে যায়। তাদের সবাই যে ইভেঞ্জেলিকাল তা নয়, কিন্তু বহু অংশই। আবার তারা ইউনিয়নেও চাঁদা দেয়। এরাই সুইং ভোটার। এদের ইভেঞ্জেলিকাল টাল্লি দেখে ডেমোক্র্যাটরা ধরে নেয় এর রিপাব্লিকানদের ভোটার। আবার রিপাব্লিকানরা ধরে নেয় এরা তো ঘরের লোক, ভোট দেবেই। এদের নিয়ে ভাবার কিছু নেই। ঠিক সময়ে প্রো-লাইফের কলকাঠি নাড়লেই হবে। ... ...

সাধারণ চরিত্র অভিনয়ের থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার চরিত্র অভিনয়ে কতটা নিষ্ঠা ও পরিশ্রম লাগে তার সার্থক দৃষ্টান্ত হতে পারেন সৌমিত্রবাবু। ২০১২ সালে ২৫শে জুলাই সৌমিত্রবাবুর গলফগ্রীনের বাড়িতে নেওয়া এক সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বর্তমান আলোচনা। ... ...


পাঁচটি চেনা গল্প, বিভিন্ন জনের রচনা, রঙ-রসও তাদের আলাদা। মিল একটাই, অন্তিম পংক্তিগুলি যেন কবিতার মত ডানা মেলে, গল্পের আওতায় আটকে থাকতে চায় না। আর সেই শেষ শব্দগুলির মধ্যে দিয়েই তাদের অন্তরে পৌঁছনোর চেষ্টা। ... ...


কিন্তু এটা কি করে হল? রবীন্দ্রনাথের গান এরকম একজন অন্য ভাবে অন্য কথায় অন্য সুরে বেমালুম গেয়ে দিলেন ! ... ...

কোম্পানির খাস-নিয়ম, যেখানেই আস্তানা গাড়বে সেখানেই যাজক আর স্কুলমাস্টার থাকতে হবে। তাই কোম্পানির কলকাতায় আছেন রেভারেন্ড বাটলার আর রেভারেন্ড কেপ। কিন্তু কলকাতায় তখন গির্জা কোথায়? একটা ঠেকনা-দেওয়া আস্তানায় প্রভু যীশুর ভজন-পূজন চলছে। সেও আবার আদতে পর্তুগীজদের গির্জা। মুর্গিহাটার আওয়ার লেডি অব দ্য রোজারি। কোম্পানির এলাকায় ফ্রেঞ্চ বা পর্তুগীজ পাদ্রীদের ঢোকা মানা। আর্মেনিয়ান চার্চ আছে একটা। কলকাতার প্রথম চার্চ। কিন্তু প্রটেস্টান্ট ইংরেজ সাহেবরা সেখানে যান কি করে? এর আগে লোকজনের থেকে চাঁদা তুলে একখানা গীর্জা বানানো হয়েছিল বটে, আজকের রাইটার্স বিল্ডিং এর জায়গাতেই। পর পর দুটো বিপর্যয়, ১৭৩৭ সালের বিধ্বংসী ঝড় আর বন্যা আর ১৭৫৬ য় সিরাজ-উদ-দৌলার আক্রমণে সে গির্জা আর নেই। ... ...

আমার আগের ব্লগ আয় তবে বেঁধে বেঁধে থাকি'র সুত্রে আসা কিছু ভাবনা আরেকটু বিশদে। মুলতঃ আমাদের জীবন থেকে ক্রম-অপসৃয়মান যুথবদ্ধতার ছায়া এবং সেই প্রক্রিয়াতে প্রযুক্তি কীভাবে ব্যক্তিযাপনকে করে তুলছে আরো সহনীয় তারই সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ। সেই প্রসঙ্গেই প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সামাজিক মূল্যবোধের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে দু-চার কথা। ... ...


অবাক না হলে কি আর প্রশ্ন জাগে? অবাকের নেপথ্যে থাকে এক রকমের ভ্রান্তি, আর তাই বোধ হয় দুর্গা মন্ত্রে ও স্থান পেয়েছে ভ্রন্তি। কয়েক দিন পরে দুর্গা পুজো, এই মন্ত্র উচ্চারণের আগে একবার ঢুঁ মেরে আসি চলুন ভ্রান্তির আঁতুড় ঘরে ... ...

সম্প্রতি এই বছরের পদার্থ বিদ্যায় নোবেল পুরষ্কার ঘোষণা হয়েছে। কৃষ্ণ গহ্বর নিয়ে কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বিশ্বশ্রুত গণিতজ্ঞ রজার পেনরজ, অ্যান্ড্রিয়া গেজ এবং রেইনহার্ড গঞ্জাল এই বছরের নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন।....... নোবেল প্রাইজ তিনি পাননি, কিন্তু এই বছরের পদার্থ বিদ্যার নোবেলের সাথে জড়িয়ে গেছে আদ্যপান্ত এক বাঙালি অধ্যাপকের নাম। অমল কুমার রায় চৌধুরি বা ছাত্রদের AKR। কিন্তু কেনও? কি করেছিলেন তিনি? ... ...

সময়টা ২০০২। তখন কলেজের বেশ কয়েকজন বন্ধুবান্ধবের মতো আমিও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পর এম.বি.এ. করার কথা ভাবছি। চাঁদা তুলে পোস্টাল কোচিং-এ এনরোলমেন্ট, জেরক্স করে স্টাডি মেটিরিয়াল ভাগ করা, দল বেঁধে পেপার সলভ্, গ্রুপ-ডিসকাসন চলছে। ... ...

লৌহ স্তম্ভ কেন ক্ষইছে না তা খুঁজতে গেলে কি কি জিনিস টার্গেট করবে গবেষকরা? প্রথম ধারণা করা হবে যে আবহাওয়ার একটা ব্যাপারটা আছে। মানে যেখানে এই স্তম্ভ খাড়া ছিল আগে এবং এখন দিল্লিতে, সেখানে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা কি স্তম্ভের জন্য ভালো ছিল? অর্থাৎ বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশী নেই – শুকনো বাতাস! যেই কারণে দীঘার হোটেলের বারান্দার গ্রীল কলকাতার হোটেলের গ্রীলের থেকে অনেক বেশী তাড়াতাড়ি ক্ষয়। দ্বিতীয়ত, সেই প্রায় ষোলশো বছর আগে যারা বানিয়েছিল ওই স্তম্ভ তারা কি ধাতুর সাথে অন্য কিছু স্পেশাল মিশিয়েছিল? তৃতীয়ত, ধাতুর সাথে বানাবার সময় কিছু না মেশালেও পরে কি স্তম্ভকে সুরক্ষা দেবার জন্য তাতে কিছু্র প্রলেপ বুলিয়েছিল? ইত্যাদি ইত্যাদি। ... ...

হাতে আসা একটি বই পড়ার সুত্রে আসা কিছু ভাবনা। প্রধানত, যূথবদ্ধতার প্রতি আমাদের সামাজিক আকর্ষণ এবং কিভাবে তা পালটে যাচ্ছে প্রযুক্তির হাওয়ায় -- এই সব নিয়ে আপাত বিচ্ছিন্ন কিছু চিন্তাভাবনা। ... ...