
আমার বড় মেয়েটি এই ঝড়জলের মধ্যে হাতে রসুনের কোয়া নিয়ে জানালার কাছে বসে আছে। নিউ ইয়র্কের ঝড়জল হারিকেন ওরফে আইরিন দেখতে চেষ্টা করছে। আইরিন নামের এক ভৌতিক ভ্যাম্পায়ারকে তাড়ানোর চেষ্টা করছে। আমাদের দেশের কালবৈশাখির মত শোঁ শোঁ করে আওয়াজ হচ্ছে। গাছের ডাল নড়ছে। পাতা পড়ছে। এরকম ঝড়বাতাস আমাদের দেশে বছরে গণ্ডায় গণ্ডায় আসে যায়। সরকার ঘুমায়। আর জনগণ তাড়া খাওয়া ইঁদুরের মত ছুটে বেড়ায়--পোকামাকড়ের মত মরে।। আবার ঘুমিয়ে পড়তে পড়তে শুনলাম, ছোটে মেয়েটা গলা খুলে গাইছে, ওরে ঝড় নেমে আয়, আয়। ... ...

সমস্যা হল পোস্ট-ইন্ডাস্ট্রিয়াল যুগে তির-ফির আর বিশেষ পাত্তা পাচ্ছে না। সভ্যতার কেরিয়ারে এখন হাই স্কুল পর্ব। গেটস স্যার চোখ রাঙিয়ে রীতিমত শাসাচ্ছেন "সাবধান! এখন থেকে কিন্তু সব বুদ্ধির খেলা'। আমরা বাঙালিরা আবার সেখানে ডবল প্রমোশন পেয়ে বসে আছি, মুশকিল! মগজাস্ত্রে ধোঁয়া দেবার তালে নিজের বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে অসীম দু:সাহসে বিড়ি ফুঁকে চলেছি। তো এই সিগারেট কান্ড, এই আমাদের, মানে এই বীর, বেপরোয়া বাঙালি যুবকদের ইমপ্রেস করার কৌশল হতে পারে কি? হতেই পারে। আমরাই যখন "আজ কা অর্জুন'। উফ:! অতই সোজা! আরে বোকারা, আমাদের আজ পুরো রাত জেগে সন্ধের ঝিলিমিলি লিখে লিখে কাল নোবেল পেতে হবে, তাই একটু মাল সিগ্গী স্টকে চাই। তোরা মীন হোয়াইল মাঠে কিছু দৌড়ঝাঁপ করে সোনা নিয়ে আয় দেখি। তা না, এই সব ফালতু অশৈল করে ভাবছিস কু থেকে সু হয়ে জাবি। আগে রুপা (গাঙ্গুলী) তো হ, একটা ক্লাস বানা, তারপর কাউন্টার পাবি। বেলেল্লাপনার টিকিট, প্রতিভার ট্যঁ¡ক খসিয়ে কাট! ... ...

কী ছিল, তুমি বললে ভোট ছিল ... ভোট ছিল কবীর, বল ছিল না। বোমা ছিল। রাজু বলে একটা ছেলের দুটো চোখ উড়ে গেল, আরেকটা ছেলে মরে গেল। পনেরোই অগাস্টে ভোট ছিল না কবীর, বোমা ছিল। রাস্তায় ফেলে রেখেছিল কেউ একটা।কে গো? আমি কী করে জানবো বলো তো কবীর, আমি কী করে জানবো? কেউ একজন, কেউ একজন ... নিশ্চয়ই কোনও পুরুতঠাকুর না। বা কোনো মৌলবীসাহেব না, বা গির্জার কোনও পাদ্রি নন, বা ধরো আন্নাকালী মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক নন বা ধরো, কোনো তাঁতি বা নাপিত নন বা ধরো, এই পশুচামড়ার ব্যবসা যাঁরা করেন, তাঁরাও নিশ্চয়ই নন। ... ...

তাহলে বোধহয় নিয়ম করে দিতে হবে ট্রাফিক লাইটের ধরো বেশ কিছুটা আগে থেকে হর্ণ বাজবে না।অসম্ভব, হাসপাতালের সামনে হর্ন বাজানো বারণ। বাজে না? হুঁ, এস এস কে এম হাসপাতাল, বাঙ্গুর হাসপাতাল দেখো না, প্রতিটা হাসপাতালের সামনে যেন আরও দ্বিগুন উৎসাহে লোকে, গাড়ীর সব চালকেরা হর্ন বাজায়। কেউ কোনো নিয়ম মানে এ দেশে?ঠিক, তাহলে ওই প্রচণ্ড আওয়াজ, হর্নের আওয়াজ মানে এক সেকেণ্ড সামনের গাড়ীটা স্টার্ট নিতে দু সেকেণ্ড দেরী করল কি পেছনের সব কটা গাড়ী এক সাথে ভ্যা ভ্যা ভ্যা ভ্যা ভো ভ্যা ভি ভ্যা আরম্ভ করে দিল কারও ধৈর্যের বালাই নেই। এর মধ্যে কি করে লোকে গান শুনবে! এতো গেল একটা দিক, আর একটা দিক আমি ভাবছিলাম, কবীর ভাবছিলাম ধরো ওরই মধ্যে কেউ একজন শুনে ফেলেছেন ... ...

এই হাজার দশেক ছেলে মেয়ে চাকরি পাবে পুলিশে মকবুল, খারাপটা কী? -আহা হা খারাপ কেন হবে কবীর সুমন, দশ হাজার ছেলেমেয়ের চাকরি, সোজা কথা! চাট্টিখানি কথা! তবে কি,আমি ভাবছিলাম চাকরি তো আরও নানান ক্ষেত্রে হতে পারতো। এই পুলিশেই দশ হাজার চাকরি, মানে, পুলিশেই? -তোমার কী মনে হয় কবীর ? কাউন্টারটা দাও। -অ্যাঁ এটা তো আমার বলার কথা,আজকে তুমি আমায় কাউন্টারটা দাও। দেখ মকবুল, আমার মুখ দিয়ে তুমি কিছু বের করতে পারবে না। -পারবো, পারবো। একদিন না একদিন ঠিক পারবো। কাউণ্টারটা দাও। আরে, এই সবেতো আমি নিলাম। -তাতে কি? কাউন্টারটা দাও শোনো কবীর সুমন, আমি ভাবছিলাম কি, কী চমৎকার একটা পলিটিকাল চাল চাললেন দেখো এই রাজনীতিক। অসামান্য এঁর মেধা, কী তীক্ষ্ণধী। ... ...

এই পৃথিবীতে দুই তান্ত্রিক গুরু আছে। তাদের নাম হল ধনা আর গণা। তারা তন্ত্রবিদ্যায় খুব পারদর্শী। কী বলছেন? কেমন তাদের তন্ত্রবিদ্যা? বলব, বলব। বলব বলেই তো গপ্পো ফেঁদে বসেছি। কিন্তু তাদের বিদ্যার পরিচয় দেবার আগে তাদের নিজেদের পরিচয়টা আরেকটু খোলসা করে জেনে নিলে বেশ হয়। লোকে বলে ধনা আর গণা হল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দুই তান্ত্রিক। তবে তাদের মধ্যে কে কার থেকে বড় তান্ত্রিক তা নিয়ে বেশ তর্ক আছে। এটুকু বলে নিই যে বয়সে গণা ধনার থেকে অনেকটাই বড়। গণার বাবা-কাকারাও কিন্তু তান্ত্রিক ছিল, তারা নানা দেশে তাদের বিদ্যার চর্চা করত, যেমন এথেন্স, স্পার্টা, মেসোপটেমিয়া, ভারত (মানে আজকের ভারত যে ভূগোলে সেইখানে) ইত্যাদি প্রভৃতি। গণা তার গুরুজনদের বিদ্যাকে আরো প্রসারিত করে তাদের মুখোজ্জ্বল করেছে। এখন গণা আজ ইউরোপ তো কাল আমেরিকা তো পরশু ভারত, থুড়ি ইন্ডিয়া করে বেড়ায়। গণার এখন খুব ডিমান্ড। পৃথিবীর সব দেশই গণাকে চায়। ... ...

টেমস নদীর বাতাস আজ বড়ই সুখকর। নদীতীরের শহর লন্ডনে আজ রাজবাড়ির "শাহী-বিবাহ'অনুষ্ঠিত হইতেছে। রাণীমা এলিজাবেথের বড়নাতির বিবাহ। মাতৃহারা নাতি রাজকুমার উইলিয়ামের সহিত তার ইউনিভারসিটির আটপৌরে সহপাঠিনী কেট মিডলটনের শুভ পরিণয়ে বাকিংহাম রাজপ্রাসাদের আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হইতেছে সানাইয়ের অণুরণন। সর্বত্র উড়িতেছে ইউনিয়ান জ্যাকের নীলে লালে শুভেচ্ছা বার্তা। দশ বছরের ঘনীভূত প্রেম আজ পূর্ণতা পাইতে চলিয়াছে। চারিদিকে সাজোসাজো রব। পৃথিবীর বিভিন্নপ্রান্ত হইতে নিমন্ত্রিত রাজদূতেরা আসিয়াছেন। উপস্থিত পাঁচশত সংবাদগ্রাহকেরা। যাঁরা রাজকীয়তাকে অতি রাজকীয় করিবার জন্য আসিয়াছেন। ... ...

তবে ওয়ার্ল্ড কাপটা কিন্তু দেখছিলাম। না না হেলিকপ্টার শট, পাল্লু স্কুপ বা টেরী উংলী দেখতে নয়; আসলে দেখতে চাইছিলাম ধোনি আর তার সাঙ্গপাঙ্গরা [একমাত্র সচিন বাদে। ভগবানের আবার আঞ্চলিকতা কি?] কি রকম ল্যাজে গোবরে হয়। শরদ পাওয়ার চোট্টামি করে ইডেন থেকে একমাত্র ভালো ম্যাচটা সরিয়ে দুটো পচা পচা ম্যাচ রেখে দিল। কিচ্ছু বলিনি; জাস্ট ওয়াচ করে গেছি। টিভি-রেডিও-খবরের কাগজে বিশ্বকাপ নিয়ে মিডিয়ার মাতামাতি নতুন কিছু নয়। মেরী বিস্কুটের লাকি কুপনে ফাইনালের টিকিট কিম্বা এক কিলো বাসমতি চালের সাথে গাভাস্কারের সই করা ব্যাটও পুরোনো হয়ে গেছে। থালা-বাটি-গ্লাস, ডেকরেটরের বাঁশ, ডায়বেটিসের বড়ি, সুইসাইডের দড়ি, সাবান-স্যাম্পু-ক্রিম, বনমুরগীর ডিম, দাদের মলম, পার্কারের কলম -কাজের অকাজের সব জিনিসকেই এসময় বিশ্বকাপের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। সেটাই রেওয়াজ। ওসব আমরা বড়ো একটা গায়ে মাখি না। ... ...

সরাসরি শান্তিনিকেতন থেকে গুরুর প্রতিবেদন। ... ...

বাঁদরামির জ্ঞানের নির্মাণে আর একটি জায়গা ছিল মানুষের সত্তা বা এসেন্স বা লোগোসের খোঁজ। প্রশ্নটা পুরোনো - "মানুষ' বলতে আমরা কি বুঝি? মানুষের শাঁসটা কি আর খোসাটাই বা কি (এখানে অবশ্য ধরে নেওয়া হচ্ছে যে শাঁস আর খোসা আলাদা বিষয়)? এই প্রশ্নের জবাবে পশ্চিম একটা ভাবনার স্ট্রাকচার বানায় যার নাম ডুয়ালিজম বা দ্বিত্ত্ববাদ। অনেক ডুয়ালিস্ট মডেলের সাথে আমরা পরিচিত, যেমন পুরুষ/নারী, প্রকৃতি/সংস্কৃতি, পূর্ব/পশ্চিম, মন/শরীর, আমি/তুমি, সুস্থ/পাগল, শাঁস/খোসা ইত্যাদি। এবার "মানুষ' নামের তাত্ত্বিক সমস্যাতে ফেরা যাক। মানুষ একদিকে যেমন জৈবিক, প্রাকৃতিক আবার সে একইসাথে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিও বটে। এখন প্রশ্ন হল এই ডুয়ালিটিতে কোনটা শাঁস, কোনটা খোসা? পশ্চিম বাছাই করে আমাদের বলে দিয়েছে যে দুর্গামূর্তির খড়ের গোঁজের মত জৈবিক সত্তাটাই মানুষের এসেন্স আর মূর্তির ওপরের রংচং আসলে সংস্কৃতি। মানুষের প্রকৃতি আসলে জৈবিক, বায়লজিকাল। এই স্বত:সিদ্ধ থেকে তাই বলা যেতেই পারে যে যেহেতু বাঁদর মানুষের পূর্বপুরুষ, তার মধ্যেও সেই একই জৈবিক বৈশিষ্ট্য থাকবে। অর্থাৎ মানুষ আর বাঁদরের হার্ডওয়্যারটা একই, পার্থক্য শুধু সফটওয়্যারে। তাই বাঁদরামির গবেষণা পশ্চিমি সাহেব-মেমদের আত্মানুসন্ধানের চেষ্টা (গবেষণা করা ব্যাপারটা প্রাকৃতিক না সাংস্কৃতিক?)। ... ...

আর প্র্যাক্টিকালি সেটাই তো দরকার। জয়-বীরু কি চিরদিন তোদের আগলাতে থাকবে? আজ নয় কাল তো তোদের হাতেই হ্যান্ড-ওভার দিয়ে যেতে হবে না কি? তারপর গ্রামে গ্রামে গড়ে উঠবে গ্রামরক্ষী বাহিনী। পাঠশালা-স্কুল-কলেজে, খেতে-খামারে, পথে-ঘাটে, হাটে-বাজারে, গাছের ডালে, খড়ের চালে শোভা দেবে উন্নততর বামের উন্নততর কমান্ডো ফৌজ। বন্দুক প্রশিক্ষণও তো সেই জন্যেই। তারপর আসুক না শালা মাওবাদী। সঙ্গে সঙ্গে দুরুম। শুধু তাই নয়, দৈনন্দিন জীবনের যেকোন সমস্যার অব্যর্থ সমাধান। ছেলে ভাত খেতে চাইছে না? দুরুম। ডালে নুন বেশী হয়েছে? দুরুম। পরীক্ষায় নম্বর কম দিয়েছে? দুরুম। ধার করে শোধ দেয় না? দুরুম। অনাহার-অপুষ্টি-অশিক্ষা-দু:খ-দারিদ্র্য-জ্বর-জ্বালা-যন্ত্রণা সবকিছু থেকে মুক্তি। দুরুম। দুরুম। দুরুম। ... ...

তাই নামিলেন নীচে। অবশেষে। ফ্লাইট দু মিলেনিয়াম লেট, অথচ আপেক্ষিকতার সূত্র মেনে জৈবিক ক্লকে দেবানন্দীয় স্থবিরতা। বেথলেহেমে প্রথম স্টপ। গন্তব্য নেতাজি আন্তর্জাতিক। চেলা বোঝায় রকেট থেকে এইসা ধোঁয়া- মনে হল, খোদ গড, রজনীকান্ত নকল করে ধূম ছেড়েছেন। বাঙ্গালী ভক্তদের কলকাকলিতে অশান্ত ওয়েটিং এরিয়া দেখে ঘোর সন্দ, যার নামে বিমানবন্দর তিনিই মুখ তুললেন বুঝি? হল না, টি আর পি স্কেলে মেগাতর ভাবুন। তৃতীয় ভুবন পরিদর্শনে ত্রিভুবনেশের পুত্র স্বয়ং হাজির!! যুগ বদলেছে। আকাশপথের পুরানো রুটে আজ একটার বদলে পঁচাশটি তারা। ছবি মেলাতে গিয়ে পদে পদে ঠকবেন। কল্পনাপ্রবণ আঁকিয়েদের কাজ দেখে ভেবেছিলেন, চে গুয়েভারা, চন্দ্রিল ভাট, আর জন লেননের ককটেল, তাই না? দূর, এ তো পাতি কদমছাঁট। তবে হ্যাঁ, সেই মায়াভরা চোখ, সেই শান্ত স্থির চলাফেরা, সেইই হাত তোলার মোলায়েম কায়দা। (এক প্রখ্যাত র:স: গায়িকা গলা ফসকে বিস্মবিষ্ট 'কা-লো?' থ্রো করেই ইনস্ট্যান্ট অপ্রস্তুত, মুদ্রাদোষের অজুহাতে শেষরক্ষে।) ... ...

এই তো মানবাধিকার নিয়ে এত হইচইয়ের পরেও, দেশে-বিদেশের অনেক চাপের পরেও বিনায়ক সেনের মতো একজন হাই প্রোফাইল লোকের যাবজ্জীবন কারাদন্ড কি হয়নি? দেশে-বিদেশে প্রচার করে, ফিল্ম শো করে, সই সংগ্রহ করে, কোনো বাপের ব্যাটা সেসব আটকাতে পেরেছে? মানবাধিকার কর্মীদের সমস্ত আঘাত তিনি বুক পেতে নিয়েছেন। মিডিয়ার সব ঝড়ঝাপ্টা সামলে দিয়েছেন। সমস্ত রাজনৈতিক বিরোধিতাকে উড়িয়ে দিয়ে জঙ্গলমহলকে খাঁকি পোশাক আর মিলিটারি বুটে মুড়ে দিয়েছেন। সবই তো মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য। এর পরেও,এত কিছু করার পরেও, তাঁর ক্ষমতার উপর এত অবিশ্বাস? তাঁকে লেঙ্গি মেরে এলাকা পুনর্দখলের চক্রান্ত? এ কি রেগে যাবার জন্য যথেষ্ট কারণ নয়? যথেষ্ট অবিশ্বাস, যথেষ্ট আঘাত নয়? পৌরুষ আর প্রেমে আঘাত পেলে মানুষ কত কিছু করে। আর এ তো ইংরিজি লেখায় সামান্য দুটো বাংলা শব্দ। হতেই পারে। ... ...

এবং শেষপাতে, ভিসি কা ইনসাফ! তিনি জানিয়েছিলেন, ঘটনা নিয়ে তদন্ত হবে| সে তদন্তের টিকিও আজ পর্যন্ত দেখা গ্যালো না| তিনি জানিয়েছিলেন, সব্বাই পরীক্ষা দেবে| কেউ দিলো না| মাসখানেক আগের কথা, বাহান্ন ঘন্টার ঘেরাওয়ের পর, যে রফা হয়েছিল, তাতে অধ্যাপকরা ওনার সাথে কথা বলে এসে জানান যে সিসিটিভি বসানোর সিদ্ধান্তের পুরোটা নিয়েই ফের আলোচনা করা হবে| মিটিং ডাকা হলো, কিন্তু তাতে আলোচনার বিষয় বদলে গ্যালো| এরপরেও ওনার বিশ্বাসযোগ্যতা খুব থাকবে কি? ... ...

এক ঝাঁক কচিকাঁচাদের আঁকা সুনিপুণ শিল্পকর্ম, গুরুচন্ডা৯র বিবর্ণ বৃদ্ধদের তরফে একটা অক্ষম প্রচেষ্টা, সেই সব শিল্পকর্মকে একটা পাতায় ধরিয়ে ফেলার। ধরানো গেল কিনা, তা জানাবেন পাঠক। ... ...

এতদিন মল প্রাঙ্গণে গিয়ে যাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়তেন, কী কিনবেন, আদৌ কি কিছু কিনবেন, নাকি কাঁধখোলা সুন্দরীদের দেখে-টেখেই বাড়ি চলে আসবেন, এই নিয়ে কনফিউশনে জর্জরিত হতেন, কফির দাম কেন দেড়শো টাকা আর চুল কাটতে ছশো টাকা দেবার কোনো মানে আছে কিনা এই নিয়ে মানসিক অন্তর্দ্বন্দ জীর্ণ হতেন, তাঁদের জন্য সুখবর। আর চিন্তা নেই। মুদ্রণের বাজারে এসে গেছে সুবিখ্যাত পত্রিকা গোষ্ঠীর নবতম অবদান - "কী কিনি"। নাম দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। "বিকিনি"র সঙ্গে ধ্বনিগত মিল থাকলেও আসলে এটি কোনো হেঁজিপেঁজি বস্তু নয়, যে কিনলেন, পরে ফেললেন আর কিস্তিমাত। এটি একটি সিরিয়াস অ্যাফেয়ার। "বিকিনি", নয়, "কী কিনি"। পরা নয় পড়তে হয়। রীতিমতো মাসিক পত্রিকা। লম্বা-চওড়া। আকারে মোটামুটি চোদ্দ ইঞ্চি বাই দশ ইঞ্চি। আর প্রকারে কেনাকাটার এনসাইক্লোপিডিয়া বিশেষ। ... ...

গত লোকসভা নির্বাচনে এইরকম একটি আপাত:নিরীহ শব্দ আমাদের খবরের কাগজের পাতায় উঠে এসেছিল। কথাটা হল "নিরপেক্ষ", অর্থাৎ যিনি কোন পক্ষেই মতামত দেন না। শব্দটা প্রশংসাসূচক। কিন্তু সত্যিই যিনি কারুর সাতে-পাঁচে থাকেন না, কাউকে ভালো-মন্দ বলেন না, তাঁকে ভালো বলার বা ভাবার কি কোন কারণ আছে? এইরকম লোক কিন্তু কোন অন্যায়েরই প্রতিবাদ করবেন না; ভেবে দেখুন তো, বাস্তবে তেমন লোকের ওপর আপনি কতটা ভরসা করতে পারবেন? আর আদালতের জজসাহেব এইরকম নিরপেক্ষ হলে তো কোন মামলারই কোনদিন নিষ্পত্তি হবে না! ... ...

কর্তৃপক্ষ, তাঁদের পক্ককেশের কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে বেশী বোঝেন, তাই তাঁরা ছাত্র-ছাত্রীদের এই উপকারটা করেই ছাড়বেন, আর ছাত্র-ছাত্রীরা তা হতে দিতে নারাজ। কেউ কেউ বলছে, বিকেল-রাত্রে ক্যাম্পাসে ছাত্র-ছাত্রীরা গাঁজা খায়, মদ খায়, এগুলো ধরা পড়ে যাবে বলে নাকি ছাত্র-ছাত্রীদের এই নজরদারিতে আপত্তি। গুরু, যখন এস্টেট সেকশনে গিয়ে বারবার বলা হয়েছে যে বাস্কেটবল কোর্টের পাশে বাইরের লোকজন এসে তামাক-পাতা খেয়ে ঝামেলা করছে, তখন তো গার্ডরা কেউ আসতেন না সামলাতে, সে ঝামেলা তো ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের মত করেই বুঝে নিয়েছে এতদিন। কিম্বা, ক্যাম্পাসে ছেলেমেয়েরা চুমু খায় ও আরো নানা কিছু। তো? তাদের চুমু খাওয়ার লোক আছে, সাহসও আছে; আপনার নেই! এই ফ্রাস্ট্রেশন বুঝি :) আরেকটা কথা হলো, ক্যাম্পাসে মাওবাদীরা ঢোকে, সেটা আটকাতে হবে। ঢোকে তো ঢোকে। সে তো তিনোমুলও ঢোকে, পোমোরাও ঢোকে। সিপিয়েমের তো ঢোকার কিছু নেই, তারা ওখানেই থাকে :) এই যে দেবলীনা ক্যাম্পাসে এসে মিটিং করলো বলে এতো নকশাবাজি করলো আইবি, তারপর? সে তো সবার চোখের সামনেই ঘুরে বেড়ায়! সিসিটিভি দিয়ে কী আটকাতে চাইছেন? আর, মাওবাদীদের জন্য ক্যাম্পাসে ক্যামেরা বসাতে হবে, এই আব্দারটা কার? রাজ্য সরকারের, নাকি পুলিশের? তাহলে কি পুলিশের কথাতেই চলবে বিশ্ববিদ্যালয়? নাকি, আসল কারণটা হলো, ক্যামেরা কেনার ষোলো লাখ টাকা? ... ...

ভেতরের যন্ত্রপাতির খবর রাখাও একটু দরকার। কারন আপনারা ভালই জানেন যে কোন কিছু কারো একচেটিয়া হয়ে যাওয়া প্রতিযোগিতার প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। যেমন, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা বামফ্রন্টের একচেটিয়া হয়ে যাওয়া, কিম্বা মা-মাটি-মানুষের কথা, রামধনু জোটের একচেটিয়া হয়ে যাওয়া। আমরা যারা মধ্যপন্থী পরিবর্তনশীল তাদের কাছে সুস্থ 'বিকল্প' থাকা উচিত প্রত্যেকটি জিনিসের। ... ...

ভারত সরকার দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্ত ডিভাইড মুছে ফেলতে তৎ্পর.. তার জন্য তাঁরা বহুবার লোক হাসিয়েছেন। তবে আমরা হাসব না.. এতদিনে আমরা জেনে গেছি .. মা মাটি মানুষের জন্য কাজ করতে গেলে কিছু ভুলত্রুটি হয়ই.. আর তাতে নিন্দুকে হেসেই থাকে.. কিন্তু তার জন্য ভোট কিছু কম পড়ে না..তাই না হেসে আমরা ভারত সরকারের সমস্ত ডিভাইড মুছে দেবার অস্ত্র ঞ্ছআমজনতার কম্পিউটারঞ্জ এর ওপর এই লেখায় কিছু আলোকপাত করব। ভারত সরকারের নানা বিভাগ নানা সময় মা মাটির মেশিন বা আম আদমি কা কম্পিউটার বানাতে জান প্রাণ লড়িয়ে দিয়েছে। ফলে বেরিয়েছে নানা অদ্ভুত যন্ত্র। নিচে গত দশ বছরের হিসেব দেখুন... ... ...