
মিডিয়া কিভাবে আমাদের প্রভাবিত করছে। ... ...

রেখা ঢাকায় থাকে, স্বামী একটি বড় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির প্রডাকশান ম্যানেজার। উন্নত বাসা, সিকিউরিটির চোখ সর্বত্র, বাসায় সাহায্যকারী লোকেরও নেই অভাব। তারপরো এক ফোঁটা চোখ বোঁজা আর দম নেয়ার অবকাশ নেই রেখার! ওর কেবলি মনে হয় এই বুঝি ছেলেটাকে কেউ ভুলিয়ে ভালিয়ে নিয়ে গেল! অথবা, এই বুঝি সে কোন অ্যাকসিডেন্ট করল! ... ...

অনেক ভারি-ভারি জিনিস লেখা হল, এবার অন্য কথা শুনুন। এটা জীবনস্মৃতির গল্প। রবীন্দ্রনাথ তখন সদর স্ট্রিটের বাড়িতে থাকতেন। কলকাতার রাস্তা সে সময় একদম ফাঁকা-ফাঁকা। ভোরবেলা বারান্দা থেকে এদিকে ফ্রিস্কুল স্ট্রিট, ওদিকে ভিক্টোরিয়া আর ওপাশে ভবানীপুর অবধি দেখা যায়। রবীন্দ্রনাথের তখন রাইটার্স ব্লক চলছে, তাই ভোরে উঠে বারান্দায় বসে থাকতেন, যদি কোনো অনুপ্রেরণা আসে। ভিক্টোরিয়ায় দেখতেন বুট-পরা সায়েব মেম, প্রাতঃভ্রমণে। ফ্রিস্কুল স্ট্রিট শুনশান। অন্যদিকে কিছু বাঙালি লোকজন, চটি পরে চলেছে। এক মহিলাকে প্রায়ই দেখতেন উচ্চকিত স্বরে কথা বলতে বলতে চলেছেন। যেমন জোরালো কণ্ঠ, তেমনই দাপট। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ আবার একটু বিষণ্ণ ধরণের লোক, এইসব দেখে কবিতা আসেনা। কিন্তু জেদ তো কম না, তাই বসেই থাকতেন। কাদম্বরী প্রায়ই এসে তাঁর পিছনে লাগতেন, তবু বসে থাকতেন। ... ...

হ্যাঁ, আমার এরকম একটা ঘটনা আছে, এবং এখন পর্যন্ত আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারোরই তা জানা নেই। তবে এই অবিশ্বাসী ও অর্বাচীন ডাক্তারটিকে সে কথা জানানোর বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই আমার। শৈশবের দিনগুলিতে বার্ষিক পরীক্ষার পরপরই নানুবাড়ি যাওয়া ছিল আমাদের জন্য রুটিন ওয়ার্কের মত। নানুবাড়ির পেছনে একটা জংগলের মত ছিল - সেখানে আমরা কাজিনরা সবাই দল বেঁধে আউটিং করতাম, বিভিন্ন রকম এডভেঞ্চারে মেতে উঠতাম। এমনি এক আউটিংয়ে দলের লোকজন একটু বেশীই ছিল, আর জংগলটাও খুব ভরতি হয়ে ছিল গাছে-লতায়-পাতায় যাদের বাঁধন টুটে সামনে এগোনো কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল! কিছুটা এগুনোর পর হঠাৎ একটা অদ্ভুত দেখতে অচেনা বুনো ফুল আমার চোখে আটকে দেয়; এতটাই বিভোর হয়ে যাই যে খেয়ালই করিনি কখন দলছুট হয়ে গিয়েছি। ... ...

তদন্তে নতুন ক্লু এসেছে। বাইরে কয়েকটা ফচকে ছোঁড়াছুড়ি স্লোগান দিচ্ছে, এজেন্সির বড়বাবু ওসবে কান না দিয়ে ক্লাস সেভেনের ব্যাকরণ বই খুলে বাগধারা চ্যাপ্টারটা পড়ছিলেন, চুড়ি-পরা বিষয়ে তদন্তের জন্য, এমন সময় ধড়মড়িয়ে ছোটোবাবু এসে বললেন, স্যার ওদের মনে হয় ভিতরে চর আছে। শুনুন কী বলছে। বড়বাবু কান খাড়া করে শুনলেন, বাইরে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে স্লোগান হচ্ছেঃ পরব চুড়ি মারব চড় / জাস্টিস ফর আরজিকর। ... ...

লেকি চলে যাওয়ার পর, আমি দরজি’র দিকে ফিরলাম, “এটা কি বেশ অদ্ভুত একটা ব্যাপার না? লেকি’র পক্ষে এটা কি করে না জেনে থাকা সম্ভব? তার বন্ধুটি কোথায় আছে, কি করছে – সে কিছুই জানবে না? লেকির কথাটা, মানে, স্যানগে যে লেকির সাথে কোন সাথে যোগাযোগই করছে না – সত্যি হলে কিন্তু ভয়ের যথেষ্ট কারণ রয়েছে … এই এত বড় শহরে যেকোন কিছু ঘটতে পারে স্যানগে’র সাথে, ” আমি বললাম টিভি সংবাদে আসা নিখোঁজ মহিলাদের দুর্ভাগ্যজনক কাহিনীগুলোকে মাথায় রেখে। দরজিকে খুব একটা বিচলিত মনে হল না, বরং সে মনে হয় আমার এই উদ্বেগে এক প্রকার আমোদই অনুভব করল। “তুমি খুব বেশী টিভি দেখছো ইদানিং” সে বলল। ... ...

বাবার বয়েস হয়েছে; কিন্তু তার চেয়ে বেশী বয়েসীরাও তো হেসে-খেলে, ঘুরে-ফিরে জীবন যাপন করছে, সমাজ-সেবা, ওরশ-মাহফিলে মশগুল থাকছে। কিন্তু বাবা আরো বছর পাঁচেক আগে থেকেই যেন কবর দেখতে পাচ্ছেন সামনে! তার কোথায় কি আছে, আর কিভাবে সেগুলো ভাগ হবে, তা নিয়ে আমাদের ভাইবোনদের সাথে বেশ কয়েকবার বসা হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। গেল বছর, যত দেনাপাওনা আছে, তাও চুকিয়ে ফেললেন। শুধু এক পাওনাদারকে নিয়েই ঘটে গিয়েছিল বিপত্তি। প্রায় তিরিশ বছর আগে বিপদে পড়ে সামান্য ক’টা টাকা হাওলাৎ করেছিলেন; কিন্তু দিনের পর দিন খুঁজেও পাওয়া গেল না লোকটিকে। পরে যখন জানা গেল, তিনি মারা গেছেন, আর তার কোন ওয়ারিশও নেই, তখন কিছু অভাবী মানুষ খুঁজে নিয়ে তাকে দান করে দিতে হল সেই টাকাটা! ... ...

মানুষের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ধর্মের অছিলায় বিনোদনের এই আসরের ঔচিত্য, কোন ধর্ম, সংস্কৃতি, শিক্ষা দিয়ে প্রতিপাদন করা যায় না। তবুও এই মোচ্ছব আজ ঘরে ঘরে। ... ...

কতক্ষণ এভাবে পড়েছিল মনে পড়ে না। হঠাৎ ক্ষুদে জানালাটা দিয়ে ভেসে আসে আযানের সুর, আর সঙ্গে সঙ্গেই তার হুঁশ ফেরে। বাথরুমটা থেকে বেরিয়ে মিতু সোজা নামাযে বসে পড়ে আর দু'হাত তুলে খোদাকে ডাকতে থাকে, ‘হে পরওয়ারদিগার, এই বিপদ থেকে আমায় পরিত্রাণ দাও! ষড়যন্ত্রকারীদের ধ্বংস করে দাও! আমি তোমার অসহায় বান্দী! তুমি ছাড়া আমাকে বাঁচানোর আর কেউ নাই!’ ... ...

রক্তের সম্পর্ক ঠিক কতটা জোরালো হয় তা আমার জানা নেই, তবে এটুকু জেনেছি যে তোমাদের কাছে পাওয়া স্নেহ ভালবাসা সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। ... ...

‘বলেন স্যার, এইডা হয়? চলে কোথাও?’ ম্যানেজারের দরাজায় দাঁড়িয়ে শুনতে পেল ডেইজি, তেমনি মিহি গলায় যেন কুঠার ঠুকে যাচ্ছে লোকটা। অথচ সে আর তার ইনচার্জই শুধু জানত ব্যাপারটা, ম্যানেজারকে এসব ছোটখাট বিষয় কখনো জানায় না তারা। সে যে বকা শুনার ভয়ে, তা নয়। আসলে এমন দৈনন্দিন খুঁটিনাটিগুলো নিয়ে ম্যানেজারের মনোযোগ ভঙ্গ করার রেওয়াজ নেই ব্যাংকে। ... ...

হঠাৎই সভাকক্ষে হাসির মৃদু ঢেউ বয়ে গেল! কিন্তু সেই হাসি থামতে না থামতেই এক কম বয়সী লোক, বোধ করি, সভার তরুণতম আলোচক, উঠে দাঁড়ালেন। মুহূর্তেই সব চোখ তার দিকে ঘুরে গেল। লোকটির চোখে-মুখে খেলে যাচ্ছিল অলৌকিক এক আভা, বিজ্ঞানীরা একে ভাল করেই চেনেন; তাদের ভাষায় এ হচ্ছে ইউরেকা লাইট। আস্তে আস্তে বোমাটা বের করতে শুরু করলেন সেই তরুণ তার শ্মশুমন্ডিত মুখের গোপন দুয়ার থেকে, "একটা চিন্তা এসেছে আমার মাথায়! জানি না আপনাদের কাছে কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে, তবে আমার মনে হচ্ছে, কাজে দেবে। ওদেরকে আবার এক জায়গায় দাঁড় করিয়ে দিতে হবে আমাদের। আবার আগের মত স্থবির, আনত করে দিতে হবে। “ ... ...



প্রথম দোকানটিই গাট্রাগোট্রা ছিল, কিন্ত নতুন মামিকে কেন যেন আকৃষ্ট করতে পারে না, ‘বেশী ভীড়, কিছুই দেখা যায় না ঠিকমতন।‘ কিছুক্ষণ পর মোরসালিন একটি শুকনো দোকানের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে নতুন মামি প্রথমে দ্বিধায় ভুগলেও কি মনে করে ঢুকে পড়েন। কাতান, বেনারসি, জামদানি - সব জাতেরই ছিল। কয়েকটি তো বেশ লাগলো মোরসালিনের। কিন্তু মামি ওগুলো ধরেন, টিপেন, সুতো মাপেন, ফুল-পাতা-নক্ষত্র-নকশার লাইন ঘাট পরীক্ষা করেন মন দিয়ে, জ্যামিতিক সূত্র অনূসরিত হয়েছে কিনা খালি চোখের স্কেলে মেপে নিতে চান, এভাবে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলে মোরসালিনের দিকে ফিরে বলেন, “চল অন্য কোথাও।“ ... ...


একটা বাচ্চা মেয়ে আর সাথে তার থেকে ছোট একটা ছেলে, মনে হয় ভাইবোন, রাস্তার ওপারে দাঁড়িয়ে ওদের রং খেলা দেখছিল। মজা পেয়ে মাঝে মাঝে হাততালি দিচ্ছিল। ওদের গায়েও একটু আধটু রং ছিটকে এসে লাগছে। তাতেই ওদের কি আনন্দ। এর মধ্যে কখন যেন বাচ্চা দুটো গুটি গুটি রাস্তা পার হয়ে ওদের কাছটায় এসে দাঁড়িয়েছে। হয়ত রঙের ছোঁয়া আর একটু বেশি পাওয়ার লোভে। কিছু পরে মেয়েটা করুণ সুরে বলল—আমাদের একটু রং খেলতে দেবে গো! টুটুন জিজ্ঞেস করল- খেলবি যে তোদের কাছে রং কোথায়? মেয়েটা বলল—আমাদের রং কেনার পয়সা নেই। ... ...

কেয়া আসবে। আজ ওর জন্মদিন। একটা গিফ্ট কিনে রাখা উচিত ছিল আমার; আসলে ভাবছি, নতুন গল্পটাই কেয়ার জন্মদিনের উপহার হোক। ... ...

ওদিকে শামুক বারবার দৌড়ে বাবার কাঁধে উঠে পড়তে চাইছে, কিন্তু নাগাল পাচ্ছে না। আজ দুপুর থেকেই তার মাথায় একটা ঝোঁক চেপেছে, ফলের খালি সাজিটা বাবার মাথায় পরিয়ে দেবে। এক সময় হতাশা জেগে উঠে তার অন্তরে, “কবে যে ছোট হবে নানাটা!” ... ...

পুলসিরাত পার হয়ে যখন শেষমেষ তারা ঢুকলো অফিসটাতে, তখন দেখা গেল সেলিম ভিজলেও তার বসের মত কাকভেজা হয়নি, ফ্যানের বাতাসে একটুখানি বসলেই চলছে। ওদিকে বসের সামনে মেলে ধরা হয়েছে দীপুর টি-শার্টটা। ... ...