
আমার দাঁতে অনেকটা জীবন জড়িয়ে গেছে। জার্মান শেফার্ড জিভ ইচ্ছে মত ক্লান্ত হয়। ঐ সব ফাঁকফোকর ঘুরে 'তাড়ানো তাড়ানো' পরিচ্ছেদ গুলোতে চরম ক্লান্তি ওর। অন্য সময়ে ওকে ভার্মিয়ের বলে ডাকতেও ইচ্ছে করে কোনো কোনো দিন। ভালোই। গুঁড়ো গুঁড়ো না তাড়ানো জীবন অনেক ক্ষণ ধরে জিভের আঁচে দমপুখ্ত,'চাওয়াদের' ঝিকমিকে সব চে ভালো বাসাটা থেকে আখরোট-বাসরে সেঁধিয়ে যায়। রোজ রোজ। অহনের সব বেলাগুলো, বার্ষিকগতির রাস্তায় পড়ে পাওয়া ঋতুরা,আমার শৈশব,কৈশোর,আমার প্রৌঢ়ত্ব,ইন্তেকাল,একমাত্র ওই টের পায়। জিভটা। আমার ভার্মিয়ের। ... ...

রাতের চন্দ্রাহত জানালায় একফালি নরম কলজে রেখে এসেছি। জানালা বন্ধ করেছি ঠিকঠাক। এখন ভোরের অপেক্ষায় অ্যাশট্রে জ্বলছে নিভছে। জানলায় রেখে আসা কলজের টুকরোটায় আমার ইতিহাস কতখানি মিশে আছে, আর কতখানি তাতে এ শহরের স্বাদ- গন্ধ- রং, তা জানি না। শুধু মনে পড়ে জেসিকা আমাকে বলেছিল- সাধারণ মেয়েরা ভাল থাকে, খারাপ থাকে। ডাইনিরা শুধু জেগে থাকে। চিরকাল। অনন্তকাল। ... ...

নিরালম্বের বাবা বৃকোদর ইংরেজ জমানার ফাঁসু¤ড়ে। সন্ধ্যেবেলা একশো ওয়াট বালেÄর নীচে ম হ'য়ে বসে থাকেন। চা-মু¢ড় খান। আর মাঝে মাঝে "হুম' শব্দে আওয়াজ ছাড়েন। হয়তো এই ¢ন¢খল সংসারকে বু¢ঝয়ে দেন -- "আ¢ম আ¢ছ'। আছেন তো বটেই। বদহজম, বদরাগ আর বদন¢সব -- এই ¢তন ¢নয়ে ¢ত¢ন রী¢তমত আছেন। বদহজমের জন্যে পাড়ার হো¢মওপাথের স® প্রায়ই আলোচনা হয়। "এখনকার স¢ব্জ পর্যন্ত... বুঝলে ডাক্তার। এখনকার স¢ব্জ পর্যন্ত যেন কেমন ¢বষাক্ত হ'য়ে গেছে। তখন ক¥মড়ো খেলে... বুঝলে ডাক্তার ("বুঝলে ডাক্তার'টা তাঁর কথার মাত্রা)।' ... ...

জলপাত্রটি কানায় কানায় ভরা।তলায় নীল নুড়ি।লালচে বেগুণী পাখনায় জল কাটে, ঘাই দেয়। নুড়ি ছুঁয়ে উঠে আসে। জলপাত্রের কাঁচদেওয়ালে বিম্বিত হয় সে। সিয়ামিজ ফাইটার। লড়ে যায় নিজের প্রতিবিম্বের সঙ্গে। এক দানা, দু'দানা, তিনদানা খাবার-দিনে তিনবার। জল পাল্টানো সপ্তাহে একদিন। পুরোনো টেবিল। দাগধরা।টেবিল ঘিরে চেয়ার।চার, পাঁচ,ছয়। কিম্বা তার বেশি। মর্নিং টী, লাঞ্চ, আফটারনুন টী। ওরা চা খায়।কফি। সূপ, কাপ নুডলস,স্যান্ডউইচ। টেবিল ঘিরে ওরা ক'জন। প্রতিদিন। ... ...

শ্রীমতীদের শোবার ঘরের জানলার গ্রিলের জাল দিয়ে এক ফালি আকাশ ধরা যায় রোজ। আজ ধরা পড়েছে দুটো কালো পাখি। কাক না চিল কে জানে। পাখিদুটো আকাশে কাটাকুটি খেলে পাখা মেলে। দুরে দুরে বিন্দু হয়ে আবার ফিরে আসে। যায় আর আসে।তারপর হারিয়ে যায় কখন যেন, থেকে যায় শুধু শ্রীমতীর মনের পাতায় অন্যমনস্ক আঁকিবুকি। সুখের, দু:খের, ভালোবাসার, ঘেন্নার। প্রথমের, শেষের। ... ...

গুরু কয়েছেন স্যাভেজের মধ্যে যেমন সেজ, ঠিক তেমনি জানার মধ্যে জান লুকিয়ে আছে। এই যে গুরুর কাছে সমাদ্দারস্যার আসেন, ওনার কাছ থেকেই না জানলাম কিভাবে তিরুপতির থেকে কাটাচুল এনে উনি "বালকুন্তল" ব্র্যান্ড উইগ বানিয়ে বাজারে ছাড়েন। স্পেশাল মাল ওনলি ফর টেকো বাচ্চাস। এই সমাদ্দার স্যারের থেকে কম জেনেছি! মধ্যমগ্রামে ফ্ল্যাটের পার স্কোয়ার ফিট হাজার হয়ে গেছে, অশোকনগর হরিদাস নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয়ের হেডমাস্টারের গরুভাড়া দেওয়ার সাইড বিজনেস আছে, চাম্পাহাটি স্টেশনের এক মাসির কাছে বেস্ট সবরিকলা পাওয়া যায়, মায় "যাহাদের লিঙ্গে তিল থাকে তাহাদের কামভাব প্রবল হয়" এত অব্দি। ... ...

মৃত্যু - যাতনা প্রকৃত বর্ণনা দেওয়া অসম্ভব। তবু আমি তোমাকে তার কিছু বর্ণনা দিচ্ছি। আল্লাহ'র শপথ করে বলছি, আমার কাঁধের উপর যেন, বাযোয়া নামক বিশাল পাহাড়টি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার আত্মা যেন সূচের ছিদ্র দিয়ে টেনে বার করা হচ্ছে। আমার পেট যেন কাঁটায় ভরপুর। আর আসমান ও যমীন যেন একত্রে মিশে গেছে আর আমি তাতে পিষ্ট হচ্ছি। ... ...

গোলমালটা ঠিক কিভাবে শুরু হল বলা খুব কঠিন। কলম্বিয়ান ছেলেটা একটা পাইথন পুষেছিল, সেটাও কারণ হতে পারে। এভাবে বললে অবশ্য ডাক্তারকেও দোষ দেওয়া যায়, কারণ কালো ইঁদুরের বদলে সাদা ইঁদুর খাওয়ানোর প্ল্যানটা ডাক্তারেরই ছিল। নেট ঘেঁটে দেখেছিল, যে, কালোর চেয়ে সাদা ইঁদুরের পুষ্টিগুণ নাকি বেশি। ... ...

শরীরের সুড়ঙ্গ ধরে ঢুকে যাছে, ঠোঁট ফাঁক করে কষ বেয়ে নেমে আসছে ফেনা ফেনা। বস্তুটা যে কি তাও যদি ভালো করে জানতাম। যারা কমলালেবু খায় তারা একে বলে প্রেম। বাকিরা কেউ বলে ছ্যাঁচড়ামো, কেউ বলে উদ্ভিদ, কেউ বলে হ্যারি পটার। বইমেলার ধুলোর গন্ধ ময়দান ছেড়ে বাইপাসে পালাচ্ছে। তাই দেখে উড়ন্ত এলোজাহাজ ঐ নেমে গেল গভীর বিকেলে। এই ধোঁয়া ধোঁয়া অন্ধকারের ইমেজে মিশে যাচ্ছে সেই সন্ধিক্ষণ। নাকি আমার বিভ্রান্তি সবটাই। দিবাস্বপ্ন। হ্যালুসিনেশন। ... ...

মাঝে মাঝে এমন হয় যে, গভীর রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে চোখ দুটো না খুলেই যখন অন্ধকারের গায়ে কান পাতি, নিস্তব্ধ রাতের ভিতরের কোন একটা উৎস থেকে খুব মৃদু ভাবে তবলার বোলের মত শব্দ ভেসে আসতে থাকে। একটা বা দুটা আঙুল দিয়ে খুব আদুরে ভঙ্গিতে যদি বাজানো হয় - সেটা ঠিক তেরে কেটে ধিন হয় না, বদ্ধ ঘরের দরজার এপাশ থেকে ভেতরের গুম-গুম শব্দ শুনতে পেলে যেমন লাগে, অনেকটা সেরকম। ... ...

যা চলে, তাই গাড়ি - না, ভুরু কুঁচকে তাকানর কিছু নেই এতে। আরে না, তা বলে গালে হাত দিয়ে ভাবতেও বলছি না। বলার কিছু নেই, শোনার কেউ নেই, তবুও কাগজে ছেপে তো আর পরিবেশ দূষণ করছি না যে হুট করে কেউ চেপে ধরবে। এই অনবাদী, বাস্পীয় মায়াভূমি বিস্তারে বহু যোজন। আমি লিখব - চালাব - কখনো দাঁড়িয়ে যাব চড়ুই পাখি দেখে। মাঝে মাঝে চিৎকার করে বলে উঠব - যা চলে তাই গাড়ি। ... ...

---- "অ বৌদি, কি কর গো? ভাবলাম যাই দেখে আসি, তোমরা কেমন আছ?" ---- "আরে এসো এসো, আয় রমা, এই তো এখানে এসে বস।" ... ...

আসলে তো একটাই দিন। আমার মনে হয় কোথাও যেন সব আমানত আছে, আমি একটু একটু করে নিই, রুটি ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাওয়ার মতন। আমার টাকা পয়সা তো নাই। কোনদিন ছিলও না। সেগুলো সব রাত, আছে হয়ত, কিন্তু চিনতে পারিনা, খুঁজে পাই না। দেহের বয়স বাড়ে, আমার দিনের হিসেব রাখতে রাখতে ছিঁড়ে পড়ে ক্যালেন্ডারের পাতাগুলি। বাড়িতে বাড়িতে ক্যালেন্ডার পাল্টায়। আমার কখনও জীবন একপাতা, কখনও বারো পাতা, ঘন্টা টাইমের হিসাব থাকে সব শব্দের অন্ধকারে, কারখানা, টাইম-কল, পারে এসে লাগা ভটভটি। আমরা সবাই হিসাব করি। ... ...

যদিও এ সম্পর্কে নতুন তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন ছিল না, তবু সম্প্রতি অপিমোড-পুরনারী জনমত সমীক্ষায় আবার প্রমাণিত হয়ে গেছে, পুরুষের চেক লুঙ্গি, বর্ডার সহ বা ছাড়া, নতুন যুগের ব্যস্ত মহিলাদের অথবা ব্যস্ত অথচ কিছুটা নির্বাক যুগের মহিলা দের জীবনেও, শ্রেণী নির্বিশেষে, বিবাহ ও প্রাক বিবাহ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে গভীর বিতর্কের যন্ত্রনা ও তৎজাত মানসিক নি:সঙ্গতা ও অবসাদ বয়ে আনছে। প্রতিবাদ ও জমে উঠছে। এ প্রতিবাদ অনর্থক ট্রাফিক জ্যাম তৈরী করে না, পরীক্ষার্থীর, রুগীর, আপিসেচ্ছুক কর্মীর হয়রানি করে না। ... ...

আমাদের একটা ছোট মফ:স্বল ছিল। গঙ্গার তীরে তীরে পাটকল আর স্টিলের বার,টায়ার আর লেদ-মেশিনের কারখানা দিয়ে সাজানো মফ:স্বল এরকম অনেকই তো থাকে। ভূগোল বইতে বলে হুগলী শিল্পাঞ্চল। গঙ্গাকে হুগলী নদী বলে, বই পড়ে জানছিলাম। ... ...

কোন কোন দিন এমন হয়। হয়তো শাওয়ারের তলায়। চোখ বোজা।জল পড়ছে। কেউ যেন ডাকল আমার নাম ধরে। চেনা গলায়।কোন্দিকে কার্টেন, কোথায় টাইলস -হাতড়ে বেড়াই। সাবানের ফেনা ছুঁয়ে থাকে পা।সর্বাঙ্গ ঘিরে অঝোরে জল আর মৃত্যুভয়।বাষ্পে ভরা স্নানঘর। ধোঁয়া ধোঁয়া। ... ...

মন খারাপের সাথে মন ভালোর কোনদিন আলাপ হয়নি। নাকি হয়েছিলো? কে জানে, আমাকে বলে টলে নি কেউই। এসব আলাপ হয়েছিলো - হয়নি - হতে পারতো ব্যপার গুলো বড্ডই গোলমেলে। কি দরকার? ... ...

যতবার পেছনে তাকাচ্ছি একটা বিরাট রেলগাড়ি ঝমঝম করে কলকাতা থেকে নাগপুর সারারাত ছুটছে। জানলার বাইরে অন্ধকার একদম স্থির, দমকা হাওয়া এসে নাড়িয়ে দিচ্ছে তপনের চুল। এ হাওয়া তো আর একভাবে বয় না। কখন সেই বেরোনোর আগে একবার চিরুনিতে হাত পড়েছিলো, তারপর এদিকে ওদিকে সরে গেছে - পশ্চিমবঙ্গের সীমা পেরোনোর অনেকটা আগে তপনের চুল এসে ছড়িয়ে পড়েছে ওর কপাল বেয়ে। ... ...

অগ্নি ছিলো সূর্যে, আকাশে বিদ্যুতে, জীবন্ত আগ্নেয়শৈলের জ্বালামুখে, অরণ্যে দাবানলে ও সমুদ্রে বাড়বানলে। কিন্তু সে ছিলো না হিমকন্থা প্রস্তরগুহায়, ছিলো না বৃক্ষচারী প্রায়মানবের সন্নিধানে। তীব্র শীতপ্রবল উত্তরী অক্ষের দেশে ছিলো কুয়াশা,ছিলো নিষ্ঠুর তুষারঝঞ্ঝা ও হিমজমাট প্রান্তর। হিমকন্থা প্রায়মানবেরা অগ্নিকে আহ্বান করেছিলো ভাষাহীন চিৎকৃত প্রার্থনায়। ... ...

সেই মেয়েটা ------ ভেলভেলেটা ...... চলতে থাকে ...... চলতে থাকে ...... চলতে থাকে ...... চলতেই থাকে ..... চলতেই থাকে। পথ শেষ হয় না, ঠ্যাঙাড়ে হীরু রায়ের বটতলা পেরিয়ে, সোনাডাঙার মাঠ ছাড়িয়ে, ইছামতি পেরিয়ে,পদ্মফুলে ভরা মধুখালি বিলের পাশ দিয়ে,বেত্রবতীর খেয়ায় পাড়ি দিয়ে পথ যে চলে এসেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে দেশ ছেড়ে বিদেশের দিকে, সূর্য্যোদয় ছেড়ে সূর্যাস্তের দিকে, জানার গন্ডি এড়িয়ে অপরিচয়ের উদ্দেশে ... ...