
হামবুর্গের হামবাগ ১৮৯২ সালের জার্মানির হামবুর্গ। কলেরা মহামারির আকার নিয়েছে। বার্লিনে বসে ডাঃ রবার্ট কফ ঘোষণা করলেন এর জন্য দায়ী ভিব্রিও কলেরি ব্যাকটেরিয়া। এবং তা ছড়িয়েছে এলবে নদীর দূষিত জল থেকে। হাসপাতালে কলেরা রোগীর ভিড় সামলাতে সামলাতে রাগে প্রায় ঘোঁত ঘোঁত করছেন ডাঃ পিটেনকোফার। “কোথাকার কে দুদিনের ছোকরা, মাইক্রোস্কোপ নিয়ে ল্যাবটরিতে সারাদিন খুট খুট করছে আর ধরাকে সরা জ্ঞান করছে।” তাঁর সহকর্মীরা জানেন ডাঃ পিটেনকোফারের মারাত্মক গোঁ। নিজের সিদ্ধান্তে তিনি অবিচল থাকেন। হাজার প্রমাণ দেখালেও নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন না। তবে তাঁরা মানুষটিকে শ্রদ্ধাও করেন। ডাক্তারবাবু অকুতোভয়। যে কোনও মহামারির খবরে দৌড়ে যান। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে ভরসা যোগান। ... ...

আমরা কোথায় যাচ্ছি, কী করি এরকম কোনও প্রশ্নই তার কাছ থেকে এল না। দিব্য হেঁটে গিয়ে ডিভানের ওপর বসল যেন নিজেরই ঘরে রয়েছে। তারপর চা আর স্যান্ডউইচ দিতে বলল, ঠিক সেই গলায় যেভাবে ও হয়তো কাফেতে ওয়েটারকে খাবার দিতে বলে। এবং ওই একই স্বরেই জানতে চাইল আমাদের সঙ্গে শোবার জন্য আমরা ওকে কত দেব। এও বলল, ভাড়া মেটাবার জন্য দুশো ফ্রাঙ্ক ওর দরকার, পরের দিন যেটা ওকে দিতে হবে। দুশো ফ্রাঙ্ক মনে হয় রফা হিসেবে ভালোই, ও বলল, কিন্তু এটুকুই ওর লাগবে। এমনভাবে ও কথা বলছিল যেন কেউ ভাঁড়ার ঘরের মিটসেফের দিকে তাকিয়ে বলছে : ‘‘উম্ম্ম্... দাঁড়াও দেখি, তোমার লাগবে হল ডিম, মাখন, একটু পাউরুটি আর অল্প জ্যাম হলে ভালো হয়।’’ একদম এইভাবে। ... ...

"নতুন সংবিধানের সাহায্যে ভারতকে স্বাধীন করা, ক্ষুধার্ত দেশবাসীর মুখে অন্ন তুলে জোগানো, নির্বস্ত্র মানুষের জন্য বস্ত্রের সংস্থান এবং প্রত্যেক ভারত কবাসীকে নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী নিজেকে বিকশিত করার পূর্ণ সুযোগ দেওয়া।" নিজের মনেই বিড়বিড় করতে করতে রাস্তা পার হই। তীব্র হর্ন কান ঝাঁঝরা করে দেয়। ... ...

শুরু হল ঐন্দ্রিল ভৌমিকের সিরিজ, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্য ধারনার অগ্রদূতদের নিয়ে - ফাদার অফ পাবলিক হেলথ। ... ...

ফিটন থেকে সেই বিকেলে নেমে আসত এক সুপুরুষ ইংরেজ যুবা। সেও সদ্য এসেছে এদেশে। ব্যাচেলর। কোন এক উইক এন্ড পার্টিতে ক্যামির ওপর তার চোখ পড়ে। নেহাত আমার অনেকটা জুনিয়র, তাই খুব অর্থোডক্স ভাবেই ক্যামির হাত ধরেছিল, বল-এ কয়েক কদম নেচেছিলও ওরা। জনকে ঘিরে তখন প্রচুর লোকজন। তবুও সে খেয়াল করেছিল এক ঝলক যে, ক্যামি আর সেই ছেলে, হ্যারি যার নাম, খিলখিল করে হাসছে। সমস্ত অভ্যাগতরা আড়চোখে দেখছিল ওদের এই বাল্যখিল্য আচরণ। ক্যামির ওপর বাংলোয় এসে খুব রাগ দেখিয়েছিল জন। সমস্ত এটিকেট ভুলে গেছিল নাকি ও? শুরু হলো তুষ্টি ভট্টাচার্য'র ধারাবাহিক উপন্যাস - সিদ্দির নৌকো। ... ...

কথা ফুরালেও কিন্তু আমার পথ কখনও ফুরায় না। চলতে চলতে, হাঁটতে হাঁটতে ঢুকে পড়ি সাকচি মার্কেটে। বিষ্টুপুরের গোপাল ময়দানে। আলো আঁধারি মেশা নভেরাম হোটেলের চাউমিনে। পথ এখানে বিস্তৃত। পথ এখানে মায়াবী। গভীর, ঋজু, কালো কোবরার মত বিষাক্ত, ভয়ার্ত, অথচ রহস্যময়ী। এই পথ আমাকে টানে। পথের দৃশ্য, তার চারপাশের ফেলে রাখা বিস্কুটের প্যাকেট, জলের মোচড়ানো বোতল, ভাঙা চশমার কাচ... ছেঁড়া চপ্পল, পানের থুতু, কফের দাগ... কেমন যেন এক অস্তিত্বের সম্মুখীন করে তোলে। আর আমি হাঁটি। আর পরবর্তীকালের পাদটীকার মত জুড়ে ফেলি নিজেকে। ... ...

যখন আমি রান্নাঘরে হামলে পড়লাম দেখি যে কার্ল তখনও খায়নি। সবজায়গায় খুঁজলাম আমি, কিন্তু একটু খুদকুঁড়োও পেলাম না। একটা খালি বোতলও কোথাও নেই যেটা দিয়ে আমি কিছু টাকা পেতে পারি। আমি ক্ষেপে গেলাম একেবারে। ছুটে বেরুলাম, ঠিক করলাম ক্লিশির কাছের ছোট রেস্তোরাঁটায়, যেখানে মাঝামাঝেই খাই, ওখানে ধার চাইব। রেস্তোরাঁর ঠিক সামনে পৌঁছে আমি আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারলাম না। ফিরে এলাম। দুম করে যদি চেনা কারুর সাথে দেখা হয়ে যাবার মতো মিরাকল কিছু ঘটে এই আশায় এদিক সেদিক ঘুরতে লাগলাম। এইভাবে অন্তত একঘন্টা গোঁত্তা মেরেছি, যতক্ষণ না একেবারে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে বিছানায় শুয়ে পড়াটাই মনস্থ করলাম। রাস্তায়, আমার এক রাশিয়ান বন্ধুর কথা মন পড়ল, বুলেভার ছাড়িয়ে এখান থেকে কাছেই থাকে। ... ...

আমাদের দেশের নিম্ন মধ্যবিত্ত বা দরিদ্র অংশের মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সচেতনতায় যাদের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ সেইরকম কিছু মানুষের সঙ্গে আলাপ করা গেল। অঙ্গনওয়াড়ি ও আশাকর্মী (ASHA- Accredited Social Health Activists)। প্রবল প্রতিকুল আবহাওয়ায় দাঁড়িয়েও যারা অক্লান্ত। লক্ষণীয় বিষয় যে এঁদের প্রায় সবাই মহিলা কর্মী। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে অঙ্গনওয়াড়ি ও আশা কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি করা হবে বলে ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জীবন জ্যোতি বীমা যোজনা ও প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনার আওতায় ... ...

এই ঘটনা আমাদের অনেকগুলো ব্যর্থতাকে দেখিয়ে দেয়, কিছু বিশ্বাসের মূলে আঘাত করে। প্রথমতঃ আমাদের প্রচলিত ব্যবস্থার ব্যর্থতা। একজন নিরপরাধ তরুণ, সে প্রচলিত ব্যবস্থার ওপর বিশ্বাস রেখেছিল, এক বছর ধরে কষ্ট-অপমান-উদ্বেগ সহ্য করেছিল এই বিশ্বাসে যে তার বিশ্বস্ততাই তাকে রক্ষা করবে। করল না। শেষ অবধি তাকে আইনের আশ্রয় নিতে হল। দ্বিতীয়তঃ মানুষ যত শিক্ষিতই হোক পরশ্রীকাতরতা তার যাবতীয় জ্ঞানের গরিমা, তার মানবিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করে দিতে পারে আর তৃতীয়তঃ আমরা যতই বড়াই করি যে মেধাই আমাদের একমাত্র মাপকাঠি, আসলে জন্ম-ধর্ম-জাতি-লিঙ্গ অনেক পরিচয়ই আমাদের কাছে গুরুত্ব পায়। ... ...

মুর্শিদাবাদের এক গ্রাম। বাবলাবোনা-রসুলপুর। মাটির আঁকাবাঁকা রাস্তায় হাঁটছি। বাঁ দিকে কৃষি খেত। ডানদিকে বসতি, গাছপালা। প্রবল রোদ ও গরম। হাঁটতে হাঁটতে দেখি কাঁঠাল গাছের ছায়ায় এক বৃদ্ধ। তাঁর সামনে ছেঁড়া ফাটা ঘাসের বস্তা, খুলে রাখা সস্তা প্লাস্টিক জুতো, একটা লাঠি, গামছা ও মাথল। বৃদ্ধর সামনে দাঁড়াতেই চোখ পিটপিট করে মুখ তুলে চায়লেন। সঙ্গে একগাল হাসি। উদ্দেশ্য জানাতেই তিনি রাজি। জটলা করলেন আশেপাশের মহিলা ও বাচ্চারা। ... ...

গল্পটা একজন উজ্জ্বল যুবকের, অনেক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়ে যিনি কানপুর আই আই টি-র মত প্রথম সারির একটা প্রতিষ্ঠানে ঢুকতে পেরেছিলেন। কিন্তু গল্পটা শুধু তাঁর সাফল্যের নয়, চাকরী পাবার পর সহকর্মীদের তরফ থেকে তিনি যে অহেতুক শত্রুতার শিকার হয়েছিলেন, আর যেরকম শান্তভাবে অথচ দৃষ্টান্তমূলক দৃঢ়তার সঙ্গে তার মোকাবিলা করেছিলেন এটা আসলে সেই গল্প। মানুষের চরিত্র ও নীতিবোধ যে কতখানি ভঙ্গুর হতে পারে, পরশ্রীকাতরতা যে মানুষের নিজস্ব আচরণ কিভাবে ধ্বংস করে দিতে পারে সেটা চাক্ষুষ করার জন্যও গল্পটা সকলের জানা দরকার। ... ...

সেই দিনটাও ছিল বর্ষারই দিন, শেষবিকেলের দিক। কাফে ওয়েপলারে এক নবাগতাকে লক্ষ করলাম। আমি বেরিয়েছিলাম কেনাকাটা করতে, আমার হাত ভর্তি হয়ে আছে বই আর কিছু ফোনোগ্রাফ রেকর্ডে। সেদিন নিশ্চয়ই আমেরিকা থেকে একটা অপ্রত্যাশিত অর্থপ্রাপ্তি ঘটেছিল যার ফলে কেনাকাটা যা করেছি তারপরেও কয়েকশো ফ্রাঙ্ক তখনও আমার পকেটে। আমি বসে আছি ওই এক্সচেঞ্জের জায়গাটায়, ক্ষুধাময় এক মহিলামহল পরিবেষ্টিত হয়ে; ক্রমাগত খুঁচিয়ে যাওয়া বেশ্যার দল আর যা কিছু আমার সামনে দিয়ে যাচ্ছে সেসবে আমার কোনও প্রতিবন্ধকতাই হচ্ছিল না, কারণ আমার চোখ তখন একনজরে তাক করে আছে মোহসঞ্চারী ওই নবাগতা সুন্দরীর দিকে, যে অনেকটা তফাতে কাফের দূরবর্তী কোণে বসে আছে। তাকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় সুন্দরী এক যুবতি বলেই মনে হল যে তার প্রেমিকের সাথে দেখা করবে বলে এসেছে এবং নির্ধারিত সময়ের অনেকটা আগেই চলে এসেছে। ... ...

‘কোয়ায়েট্ ডেইজ ইন ক্লিশি’ গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয় ফ্রান্সে, অলিম্পিয়া প্রেস থেকে, ১৯৫৬ সালেই। আমেরিকায় মিলারের ‘ট্রপিক অফ ক্যান্সার’-এর ওপর দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে চলা অশ্লীলতার অভিযোগ তথা আইনি নিষেধাজ্ঞা ১৯৬৪-৬৫ নাগাদ উঠে যাবার পর ওঁর অন্যান্য বইয়ের সাথে এই উপন্যাসিকাটিও আমেরিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৬৫ সালে। প্রকাশক, গ্রোভ প্রেস। মিলারের ফোটোগ্রাফার-বন্ধু জর্জ ব্রাসেই ওঁর ‘হেনরি মিলার : দ্য প্যারিস ইয়ার্স’ বইতে জানিয়েছেন যে, মিলারের মতে (‘কোয়ায়েট্ ডেইজ ইন ক্লিশি’র) ‘টাইটল ইজ কমপ্লিটলি মিসলিডিং’। ... ...

ফিরভি ইঁয়াদ আ গ্যয়ে, তো কেয়া করে! খুদকো ডাঁটে কেয়া? ইঁয়াদকো রুখ দে কেয়া?" বলতে বলতে জল গড়িয়ে পড়ছিল ওঁর তুবড়ে যাওয়া গাল বেয়ে। গালের খাঁজে এসে ভেঙে ভেঙে ছড়িয়ে যাচ্ছিল সে নিম্নগামী নুন জলের স্রোত। চিবুক ছুঁয়ে সে জল পড়ে যাওয়ার আগেই তার উপর পশমের আস্তিন বুলিয়ে নিচ্ছিলেন মানুষটা। স্বজনের স্মৃতিতে বৃদ্ধ চোখে ভরে আসা মুক্তোজল, বড় দামী। ফেলা যায় না যে! তিনি মহম্মদ আতাউল্লা। তুরতুকের বাসিন্দা। ভারতের শেষ গ্রাম হিসেবে পরিচিত কাশ্মীরের এই তুরতুক। কয়েক কিলোমিটার দূরেই পাকিস্তান সীমান্ত। এই তুরতুক গ্রামের মানুষেরা এখনও নিজেদের পরিচয় দেন বাল্টিস্তানি বলে। বছর কয়েক আগে বাল্টিস্তানই নাম ছিল এই প্রদেশের। আর দেশের নাম ছিল পাকিস্তান। তার পরে এল সেই চরম অস্থির বছরটা, ১৯৭১। মানচিত্রের সঙ্গেই ছারখার হয়ে গেল শতশত জীবন, পরিবার, সম্পর্ক, ভালবাসা। সীমান্তকে দিব্যি রেখে ভাগ হয়ে গেল জমিন। কিন্তু মানুষগুলোর ভাগ হওয়া তো জমিনের মতো সহজ নয়! সে যে কঠিন, বড় কঠিন! সেই কঠিনেরই শিকার হয়ে 'ভারতীয়' বনে গেলেন বাল্টিস্তানি আতাউল্লাজি। আজ থেকে বছর পঞ্চাশ আগে, বয়স তখন ২০। তখন রক্তে ফুটছে দেশপ্রেম। ভেবেছিলেন, যে করেই হোক ফিরে পাবেনই নিজের জায়গায়। ভেবেছিলেন, প্রিয়জনদের কাছে যাবেনই ফিরে! ভেবেছিলেন যুদ্ধের ক্ষমতা বুঝি ভালবাসার চেয়ে বেশি! বোকা ছেলে! ... ...

পরিবর্তনশীলতা মানেই খামখেয়ালিপনা (arbitrariness) নয়। - একদল মানুষ একটি বস্তুকে জল নামে চেনে। কিন্তু, যেহেতু শব্দ-জল আর বস্তু-জলের মধ্যে পরিবর্তনশীল ‘কিছু একটি’ আছে বলেই তারা হঠাৎ বস্তু-জলকে ‘স্থল’ বলে ডাকতে শুরু করে না। নামকরণের সময় সচেতনে বা অবচেতনে তারা নামের মাধ্যমে বস্তু/ বিষয়টির কোনও একটি মুখ্য বৈশিষ্ট্য যেন প্রকাশ পায় (বা নাম থেকে বস্তু/ বিষয়টিকে কিছুটা হলেও চেনা যায়) –সে’টুকু খেয়াল অবশ্যই রাখে। এমনকি একজন ‘মাতাল’কে দেখে ‘পেটে জল পড়েছে’র মতো (ব্যঞ্জনামূলক) মন্তব্য করার সময়ও সে সচেতনে/ অবচেতনে বা অভ্যেসে (ঐতিহাসিক সংগঠন বজায় রেখে) মদ ও জলের পানযোগ্যতা, তাদের তরল অবস্থা, ইত্যাদি ধর্মের (ক্রিয়াবৈশিষ্টের) একটি তুলনামূলক সংশ্লেষ সেরে ফেলে। ... ...

জামুকে দেখলে টুনুর মনে হয় ইতিহাস বইয়ের খানিক টুকরো যেন হেঁটে চলে বেড়াচ্ছে। কতরকম অজানা সব গল্প যে বলে। সরলা নেমে দেখেন ছেলে বেশ পরিস্কার শার্ট প্যান্ট পরে ভব্যিযুক্ত হয়ে এসেছে। খাবার বেড়ে সামনে বসে কথা বলতে বলতে খেয়াল করলেন এও আজ একটু অন্যমনস্ক। হুঁ, হাঞ্জি আর ঘাড় নেড়েই কাজ চালাচ্ছে। ওর হিন্দিবাংলা মেশানো তড়বড়ে কথা আজ নেই। খেয়ে হাত মুখ ধুয়ে, থালা গেলাস মেজে ধুয়ে রেখে কিছু কাজ আছে কিনা জিগ্যেস করে তারপর ইতস্তত ভাবে জানায় ওর একটা আর্জি আছে মা’জির কাছে। ঢোলা শার্টের পকেটে হাত গলিয়ে তুলে আনে একটা কাগজে মোড়া পাতলা কি যেন। ঐ জিনিষটা সে সরলার কাছে রেখে যেতে চায়, ওর থাকার কোন ঠিক নেই, এটা আরেকজনের জিম্মা করা জিনিষ, চুরি হয়ে গেলে উপরওলার কাছে অপরাধী হয়ে যাবে জামু। সরলা বলেন যার জিনিষ তাকেই দিয়ে দিলে তো হয়। জামু নাকি জানেই না সে মানুষ কোথায়। আবার ওর মুখ থমথমে হয়ে যায়, চোখদুটো কেমন অচেনা। ... ...

আন্তর্জাতিক আইনও স্পষ্টভাবে বলেছে যে অভিবাসীদের জেলে আটকানো যাবেনা, এবং তাঁরা অপরাধী নন। জাতিসংঘের শরণার্থীদের নির্দেশনার হাইকমিশনারের নির্দেশ অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত আটক শিবির গুলিতেই কেবল কাউকে আটকে রাখা যাবে। নির্দেশনাগুলি বলে যে, সরকার “শরণার্থী বা অভিবাসীদের, অপরাধ আইনের অধীনে বন্দী ব্যক্তিদের থেকে আলাদা করে কোন জায়গায় রাখতে” বাধ্য। ২0১২ সালে প্রকাশিত জাতি সংঘের নির্বিচারে আটকদশার বিষয়ে কার্যনির্বাহীপরিষদের (UN Working Group on Arbitrary Detention) রিপোর্টে, নয় নং নীতিতে বলা হয়েছে "শরণার্থী বা অভিবাসীদের রক্ষণাবেক্ষণ, এই উদ্দেশ্যটির জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি পাবলিক জায়গায় করা দরকার; তবে বিবিধ বাস্তব কারণে যদি সেটা করা সম্ভব নাও হয় সেক্ষেত্রেও তাঁদের অবশ্যই আইনতঃ অপরাধীদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা কোন জায়গায় রাখা উচিত।" UNHRC এও বলে যে আটক-আদেশ কোনভাবেই শাস্তি্মূলক নয়। জেলখানা, কারাগার এবং কারাগার বা জেলের মত ু’রে যেসব জায়গা ব্যবহার করা হয় সে সব জায়গাগুলিকে এ বাবদে ব্যবহার করা উচিত না। ... ...

আমি মাঝেমাঝে ভাবতে চেষ্টা করি, ১৯৯১ সালের ৩১ ডিসেম্বর বিকেলে যখন শেষ লড়াই চলছে হীরকদের, তখন কী ভাবছিল সে? কিংবা সেই শান্ত নির্জন পাহাড়ে যখন ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে দাঁড় করানো হচ্ছিল তাকে ? কয়েক মুহূর্ত বাদেই তো সব আবারও শান্ত হয়ে যাবে। কিসের স্বপ্ন দেখছেল আই অহমের ডেকা লরা? স্বাধীন আসামের স্বপ্ন না আলফা পতাকার উদীয়মান সূর্য? ভেবেছিল আবার আগের মত হিংস্র প্রবল নিষ্ঠুরতা ফিরে আসবে রমরম করে? ভেবেছিল এই দিল্লী নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রযন্ত্র আবারও শাসন করবে আসামের মাটি? আজ ঐ যারা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র তুলছে তাকে মুছে দিতে, তাদেরই মালা চন্দনে বরণ করে নেবে আই অহমের ভূমিপুত্রেরা? আজ যাদের সে অপ্রাসঙ্গিক করে দিয়েছে আসামের ক্ষমতা অলিন্দে, কাল তারাই তার/তাদের অস্তিত্বকে অপ্রাসঙ্গিক করে দেবে, মুছে দেবার চেষ্টা করবে ইতিহাসের পাতা থেকে। ... ...

পুরকাইতদার স্কুলের দোতালায় আড্ডা জমে উঠলো। দেশ, সমাজ, নোটবাতিল, গোরক্ষার পাশাপাশি ফেসবুকের বিভিন্ন মানুষ আলোচনায় উঠে আসতে লাগলেন। পুরকাইতদা শুধু ভোজনরসিক নন, কিংবা চরম অতিথিবৎসল বললেই তাঁর মূল্যায়ন সম্পূর্ণ হয় না। ক্রমশ ‘সামসুদ্দিন পুরকাইত’ সাহেবের কর্মকান্ডের আঁচ পাওয়া গেলো। বেশ কিছু বছর আগে বাচ্চাদের স্কুল গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন পুরকাইতদা। কিন্তু পর্যাপ্ত পয়সার অভাবে তা বাস্তবায়িত হতে পারছিলো না। এমন সময় দেবী লক্ষ্মীর মতো নিজের বিয়ের গহনা বন্ধক দিয়ে স্বামীর হাতে পয়সা তুলে দিয়েছিলেন পুরকাইতভাবী। সেই সুমহান সিদ্ধান্তের ফসল এই স্কুল। স্কুলঘরের দোতালায় বসে কথাগুলো বলতে বলতে পুরকাইতদার চোখে কিছু করতে পারার পরম তৃপ্তির জলকণা চিকচিক করে উঠছিলো। আচমকা ফ্যাকাসে হাসি সহযোগে বলে উঠলেন - “এই যে স্কুল, আপনাদের ভাবী ছাড়া সম্ভব হতো না। ... ...

কোবরাপোস্টের দাবী অনুযায়ী তাদের সাংবাদিক পুষ্প শর্মা কালনিক একটি সংস্থা শ্রীমদ্ভগবতগীতা প্রচার সমিতির কর্মকর্তা জনৈক আচার্য সেজে দেশের বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সংবাদ সংস্থার (যার মধ্যে খবরে চ্যানেল, নিউজ পেপার এবং ওয়েব পোর্তাল সবই আছে) কর্তাব্যাক্তিদের অ্যাপ্রোচ করেন টাকার বিনিময়ে একটি বিশেষ আইডিওলজিকে প্রোমোট করতে। এটি তিনটি ফেজে বিভক্ত। প্রথম ফেজে গীতার বাণী প্রচারের মাধ্যমে, দ্বিতীয় ফেজে বিরোধী দলের নেতানেত্রীদের রিডিকিউল করার মাধ্যমে এবং তৃতীয় ফেজে সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে একটি রাজনৈতিক দলের সুবিধামতো অ্যাগ্রেসিভ প্রোমোটিং করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ... ...