
কমল অর্চনার চুলের মুঠি ধরে তাঁকে চেয়ার থেকে টেনে তোলে এবং তাঁর মাথা দেওয়ালের দিকে ছুড়ে দেয়। দেওয়ালে মাথা ধাক্কা লাগার ঠিক আগে চুল ধরে হ্যাঁচকা টান মেরে নিজের দিকে নিয়ে আসে। এই পদ্ধতিতে অত্যাচার চলে ১৫-২০ মিনিট ধরে। অর্চনা আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলেন না। তাঁর মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা বেরোচ্ছিল। সারা শরীরে অসহনীয় যন্ত্রণা হচ্ছিল তখন অর্চনার। তাঁকে চেয়ারে বসতে বলা হল। কিছুক্ষণ পর আদিত্যকে রুণু নির্দেশ দিল অর্চনার চুল ধরে ঝুলিয়ে রাখতে। আদিত্য ঝাঁপিয়ে পড়ে অর্চনার চুল এত জোরে টানে যে তাঁর মাথার কিছু চুল ছিঁড়ে যায়। ... ...

আমি ভয় করবনা ভয় করব না/দুবেলা মরার আগে মরব না ভাই মরবনা..." আশা করছি ভালভাবেই এই কোভিডযাপনের নিভৃতবাসের বাকী কটা দিন কাটিয়ে উঠব। উঠবই... ... ...

বাবার কথা মনে পড়লেই একটা গন্ধ নাকে আসে অবিকল ... সদ্য জ্বালানো উইলস ফ্লেকের গন্ধ, আমি চিনি ... আবছা একটা ছবি ভেসে ওঠে - বাইরের পেশেন্ট দেখার ঘরের কাঠের চেয়ার, জানলার ঠিক ধারেই, বাবা মুখের সামনে লাইব্রেরী থেকে আনা একটা বই ধরে আছেন ... মুখ দেখা যাচ্ছে না, শুধু রেক্সিনের বাঁধাইয়ের আড়াল থেকে এক-একটা রিং উড়ে উড়ে জানলা দিয়ে বেরিয়ে মেঘ হয়ে যাচ্ছে ... ... ...

সুচিত্রা সেনকে নিয়ে আমারো বেশ আগ্রহ আছে। তাঁর সিনেমা আমার ঠাকুরদা শেষবেলায় দেখেছেন। বলেছিলেন, বাহ, এই মাইয়াডা দেখি অভিনয় জানে! তাঁকে বাবাও পছন্দ করতেন। আমার ভাতিজা ভাগ্নেভাগ্নিনীরাও করে। সমগ্র বাঙালিরই প্রিয় প্রিয় নায়িকা সুচিত্রা সেন। আমি এই সুচিত্রা সেনকে নিয়ে একটি গল্প লিখেছি। যা হয় আরকি। আমি যেহেতু কোনো পত্র পত্রিকায়, বলা যায়, লিখি না। এক বৈঠকে লিখি না। ইচ্ছে হলে লিখি। ইচ্ছে হলে লিখি না। একটু একটু করে লিখি। শব্দ সংখ্যার ধারধারিনা। তাই গল্প বড়ো হয়ে যায়। গোপনে বলি আপনাকে, আমার ঠাকুরদা সুচিত্রা সেনকে কিডন্যাপ করেছিলেন। এটা সত্যি মনে করে মজা পাই। আরেকটা কথা। আমার গল্পের অনেক চরিত্র বাস্তব। আবার আমার পরিচিতিদের নামধামও অবলীলায় বসিয়ে দেই গল্পে। অনেকে এজন্য গোস্যা করেন। অনেকে খুশি হন। সে যাই হোক না কেনো যারা পড়বেন এটাকে গল্প হিসেবেই পড়বেন। এই গল্পের রবি ঠাকুরও একবার চরিত্র হয়ে এসেছেন। সুচিত্রার জন্য না এসে পারেননি। সুচিত্রা সেন বলে কথা। ... ...

কমল নিজের ডান হাত দিয়ে লতিকা গুহর বাঁ গালে ভয়ংকর জোরে চড় মারতে শুরু করে। এতটাই নির্মমভাবে কমল চড় মারছিল যে অর্চনার মনে হয়েছিল লতিকার চোখ কোটর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসবে। বেশ কিছুক্ষণ চড় মারার পর লতিকাকে চেয়ারে বসানো হয়। অর্চনা দেখেন, লতিকার গাল ভয়াবহ রকম ফুলে গিয়েছে এবং তাতে স্পষ্ট আঙুলের দাগ। ... ...

পশ্চিমবঙ্গের সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের মসনদ ধর্মান্ধ হিংস্র মৌলবাদী শক্তির হাতে চলে যেতে পারে, এমন সম্ভাবনায় আতঙ্কিত ছিলেন এ রাজ্যের গণতন্ত্র-প্রিয় মানুষ। ফলপ্রকাশের পর যখন দেখা গেল যে তা ঘটেনি, তখন তাঁরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও, উঠে এসেছে এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন। এ রাজ্যের পূর্বতন ক্ষমতাসীন বাম শক্তি, বিশেষত তার বড় শরিক সিপিএম, কি মৌলবাদী শক্তিকে গোপনে সাহায্য করেছে? অর্থাৎ, তাদেরকে ক্ষমতা থেকে যারা হঠিয়েছে, সেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি ক্রোধ ও প্রতিহিংসা বশত তাদের কর্মী ও সমর্থকেরা কি বিজেপি-কে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনতে চেষ্টা করেছিলেন? নির্বাচনের আগে থেকেই এ হেন সম্ভাবনার কথা হাওয়ায় ভাসছিল কোনও কোনও মহলে, এবং নির্বাচনের পর তার ‘প্রমাণ’ মিলেছে বলে দাবি করছেন কেউ কেউ। প্রশ্ন হচ্ছে, নির্বাচনী ফলাফল থেকে সত্যিই এমন ইঙ্গিত মেলে কি? সেটাই আজ আমরা এখানে পর্যালোচনা করে দেখব। ... ...

তথাকথিত ক্যুইয়ার কমিউনিটিতে বেশ কয়েকজন ছেলে মেয়ে আমার আছে। অদ্ভুত একটা মাতৃত্বের অনুভুতিতে সত্যিই তাদের জন্য অপত্যস্নেহের এতটুকু ঘাটতি নেই। Happy Mother's Day ... ...

নিচের স্টুডিওতে ঢুকে কবিগুরুর মূর্তিটার সামনে দাঁড়িয়ে পড়লেন বৃদ্ধ। ভাস্কর্যের গায়ে হাত বোলাতে বোলাতে যেন অনেক দূর থেকে বললেন, "সুধীর কিন্তু কাজটা খুব ভালো করেছিল, বল। আমার যেখানে যত মূর্তি দেখেছি --, " তারপর মজদুরমন্ডলীর ছেলেটির দিকে তাকিয়ে কৌতুকের গলায় বললেন, "এটা কিন্তু তুমি বল নি -- কত লোক যে আমার ছবি এঁকে আর মূর্তি বানিয়ে সংসার করছে এত বছর!" এই প্রথম শব্দ করে হাসতে শোনা গেল বুড়ো মানুষটিকে। সবাই তখন বাইরে জনতা সামলাতে ব্যস্ত। ... ...

সৌমেন গুহ একটা বই লিখেছিলেন, লোয়ার কোর্টে রুণুর বিরুদ্ধে রায় বেরোনোর পর। পাবলিশিং ইয়ার- ১৯৯৭। Battle of Archana Guha Case - Against Torture in Police Custody: Arguments, Counter-arguments and Judgement at the Trial Court। ... ...

গণতন্ত্রে শেষ কথা বলে জনতাই। একুশের বাংলার নির্বাচন এই সত্যিটাই আবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল। ঝুড়ি ঝুড়ি টাকা ওড়ালে বা ধর্মের চোনা দিয়ে গোমূত্র খেলে বাংলাকে জেতা যায় না। মাছ প্রিয় বাঙালি ধোকলাকে ডাবল ইঞ্জিনে চাপিয়ে সোজা পগারপার করিয়ে তবে ছেড়েছে। বাঙালির সঙ্গে পাঙ্গা নেওয়া কী এতই সহজ! ... ...

আমার মতে, যিনি ফ্যান আবিষ্কার করেছিলেন তিনি পৃথিবীর সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক। যেকোনো মুহূর্তে খুলে মাথায় পড়তে পারে জেনেও নিচে আরামে শুয়ে থাকতে পারা, শুধুমাত্র আরামের জন্য - এ জিনিস পৃথিবীর সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দর্শন। ... ...



মাস্ক পড়া-হাত ধোওয়া-দূরত্ব বজায় রাখা-বাড়িতে থাকা এর পরেও কিছু দায়িত্ব থেকে যায়। করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গের পর স্বাস্থ্যব্যবস্থার যে অবস্থা হয়েছে, তার উন্নতি করতে হলে নাগরিকদের তরফে স্বাস্থ্যে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানো, সরকারি পরিষেবার ক্যাপাসিটি বাড়ানো, পরিষেবাপ্রদানকারীদের সাহায্য এবং সর্বোপরি স্বাস্থ্যনীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবি তোলা এবং জনমত তৈরি করা প্রয়োজন, করোনার আগামী তরঙ্গ বা প্যান্ডেমিক মোকাবিলা করতে গেলে। ... ...

কত প্রতিশ্রুতি ধুলায় মিশে যায়, কত আশা নীলকণ্ঠ পাখি হয়ে উড়ে যায়। চঞ্চলা সরলা বালিকা, আস্তে আস্তে পাষাণী অহল্যা মত পাথুরিয়া হয়ে যায়। ... ...

এইচ আইভি আক্রান্ত মানুষের জীবনে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধে শরীর সুস্থ থাকলেও, প্রতিদিন মানসিক ভাবে ভালথাকাটাও ভীষণ জরুরি। অথচ আমরা যতটা শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবি মানসিক স্বাস্থ্য কে সেভাবে গুরুত্ব দিই না। বহু মানুষ বিভিন্ন কারণে নিজের শেষদিন পর্যন্ত এইচ আইভি রিপোর্টটাকে গ্রহণ করতে পারেন না। যতই সরকারি ভাবে প্রচারে সামাজিক বৈষম্য দূর করার চেষ্টা চলুক না কেন, আত্মবৈষম্য বা সেল্ফ স্টিগমার কারণে আত্মবিশ্বাসের অভাবে মানুষ যে কোনও সময় ভালনারেবল হয়ে উঠতে পারে। সেখানে আমাদের মত অন্য যৌনতার মানুষের ভালনারিবিলিটি আরও বেশি। সামাজিক নীতিপুলিশির কারণে অনেকেই সেগুলো থেকে বেরোতে পারেন না। এমনই কিছু কথা... ... ...

অনেকদূরের ইতিহাসের গল্প যেন ঝাপসা পর্দার ওপারের অপসৃয়মাণ ছবির মতন, এই কেউ একটু পর্দাটা তুলে ধরলো আর অমনি হাজার-হাজার ঝালর, চৌকি, পাইক-বরকন্দাজ, রাজারাণীর এক অদ্ভুত জগতের একটা টুকরো ঠিক চোখের সামনে। তখন মনে হবে যেন আসলেতে কিছুই অতীত নয়, সময় যেন বিশাল একটা মানচিত্র, এই মুহূর্তটুকু যেন তাতে একটা নিকোনো ঠাকুরদালান, নাটক হবে বলে সেজেগুজে উঠেছে সকাল থেকে। সেই বিস্তীর্ণ রঙ্গমঞ্চে আজকের নাটকঃ ক্যারেনসেবিসের যুদ্ধ। ... ...

শহরের বাইরে দাঁড়িয়ে শহরের দিকে তাকালে একটা অদ্ভুত আভা দেখা যায় রাত্রের দিকে, সেটা গাঢ় হয় ক্রমশঃ তারপর একসময় কেউ যেন ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দেয় একটা বিশাল মোমবাতি ...যাদের ঘুম নেই তারা বোঝে রাত গভীর হলো, এবং এই বিশাল অন্ধকারের নীচে তারা এই মুহুর্তে বোধহয় সম্পূর্ণ একা ... অথচ এক একটা রাত্রে জেগে থাকে একটা দূরের বারান্দা, আর এক এক রাত্রে কেউ জিগ্যেস করে ফেলে, "জেগে আছিস? একটা ফোন কর না !" ... ...

গত দুই বছরের আক্ষরিক অর্থেই ‘বাংলা দখলের’ প্রস্তুতি ও দুর্ভেদ্য পরিকল্পনা এখন ক্লাইম্যাক্সে। যেন তেন উপায়ে রাজ্যের বিরোধী দলের সরকারটিকে সরিয়ে দেওয়ার সঙ্গে দেশ দখলের নিগূঢ় যোগ। তাই গোটা দেশ থেকে নেতা নেত্রীরা উড়ে আসছেন বাংলায়। ... ...

এই মামলার অন্যতম আইনজীবী, বিশিষ্ট বলে খ্যাত, মানবাধিকার রক্ষক আইনজীবী হিসেবে প্রায় সর্বমহল স্বীকৃত, এই মামলা বেচে দেবার চেষ্টা করেছিলেন পদ আদায়ের জন্য। সরকারি পদ। ... ...