
সে সময় বসত ভিটা, চাষবাসের জমি ও অরণ্যের ওপর অধিকার হারিয়ে উদ্বাস্তু হন প্রায় এক লাখ পাহাড়ি। তাদের অনেকে ভারতের ত্রিপুরা, অরুনাচল ও মিজোরামে পাড়ি জমান। চাকমা ভাষায় একে ‘বড় পরং’ বা ‘মহা গোত্রান্তর’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ... ...

তো এইসব নিয়েই গুরু। গুরুর ক্যাবিনেটে অনেক আরশোলা। হিট স্প্রে করার ইচ্ছা কারুরই নেই। শুনেছি রাজহাঁস দুধ জলের মিশ্রণ থেকে কেবল দুধ ছেঁকে খেতে পারে। তাই আমিও আট বছর ধরে গোবিন্দভোগ চাল থেকে আরশোলার নাদি বেছে খাই। নাদির জন্য চাল তো আর ফেলে দিতে পারি না। যখন কিছুদিন ভাত ভালো লাগেনা, রুটি খাই। সে আটায় নাদি নেই। ... ...

সরগমের সাতসুরের কথা মাথায় রেখে লেখা সাতটি গল্পের ডালি। আজ চতুর্থ সুর। ... ...

আমাদের হাউসিং সোসাইটির একটি বিষয়ে কথা বলতে সেদিন গেছিলাম পাশের টাওয়ারে একটি ফ্ল্যাটে। দরজা খুললেন সুরঞ্জনা। ওনার স্বামী অমিতবাবু তখন নয়ডাতে শুনে চলে আসছিলাম। উনি বলেন, আসুন না, আমায় বলতে পারেন কী ব্যাপার, আমিও এই ফ্ল্যাটের জয়েন্ট ওনার। রাতে ওকে ফোনে বলে দেবো। ঘরে বসে কথা বলছি, দুটি সমবয়সী ছেলেমেয়ে - বছর পাঁচেক বয়স হবে - খেলছিল। বয়সের এত কম ব্যবধানে দুটি সন্তান হয় কি? জিজ্ঞাসা করি, ওরা কি যমজ ভাইবোন? সুরঞ্জনা হেসে বলেন, হ্যাঁ। ঐ ছোট্ট স্ফূলিঙ্গ থেকে নেটসাগরে মানবজন্ম নিয়ে কৌতূহলের জাল ফেলতে গিয়ে ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছিলাম জটিলতায়। মনে মনে প্রণাম করছিলাম অচেনা সেইসব বিজ্ঞানীদের যাঁদের বহুদিনের অন্বেষণে ক্রমশ উন্মোচিত হচ্ছে মানবশরীরের নানা বিষ্ময়কর কার্যকলাপ। শারীরবিদ্যা আমার ক্ষেত্র নয়। তাই জাল ফেলে প্রাপ্ত ধারণার কিছুটা ধরতে চাইলাম রম্যরসময় আঙ্গিকে। এটা সিরিয়াস অ্যাকাডেমিক নিবন্ধ নয় - নিছক শখের মজদুরী। ... ...




সুশির জন্ম হয়েছিল প্রিজার্ভেশনের প্রয়োজনে, আনন্দের জন্য নয়। শুনতে অবাক লাগলেও এমনটাই নাকি খাদ্য ইতিহাস নিয়ে যারা নাড়াচাড়া করেন তাঁদের দাবী! আজকের দিনে সুশি রেষ্টুরান্ট জাপানের বাইরে অনেক জায়গাতেই বিলাসিতা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু এই খাবারের শুরু হয়েছিল একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে, মাছ টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনে। প্রায় ৭০০ থেকে ১০০০ বছর আগে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় (সম্ভবত বর্তমান মিয়ানমার বা মেকং নদী অঞ্চলে) জেলেরা আবিষ্কার করেন যে কাঁচা মাছকে ভেজানো ভাতের সাথে মিশিয়ে রাখলে মাছ দীর্ঘদিন ভালো থাকে। ভাতের গাঁজন প্রক্রিয়া মাছকে পচন থেকে রক্ষা করত। একসময় এই ভাত ফেলে দিয়ে শুধু মাছটুকুই খাওয়া হতো। ... ...


সমাজ ছেড়ে অরণ্যবাসী হয়ে কৃচ্ছ্রসাধন করাকেই তপস্যা বলে, এমনই জানতাম। কিন্তু গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলছেন - "ফলের কামনা শূণ্য, একনিষ্ঠ ব্যক্তিরা পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে, কায়িক, বাচিক ও মানসিক এই তিন প্রকারে যে তপস্যা করেন, তাকেই সাত্ত্বিক তপস্যা বলে"। অর্থাৎ অরণ্যে নয় এই নাগরিক সভ্যতার ক্রোড়ে বাস করেও তপস্যা করা সম্ভব - কীভাবে? ... ...

"গতানুগতিকতা ছেড়ে নতুন পরিবেশে গেলে অনেক সময় চমকপ্রদ ফল পাওয়া যায়। বিশেষ করে, ওই উদ্যানবাটিকা ছিল মহারাজ বেণের স্বপ্ন! অসুস্থ হওয়ার আগে তিনি অজস্রবার ওখানে গিয়েছেন, নির্মাণকাজের পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রত্যেকটি খুঁটিনাটি তিনি নিজে হাতে সাজিয়েছেন! সেই স্বপ্নপূরণ নিজের চোখে দেখার অনুভূতি তাঁকে উদ্দীপিত করতে পারে”! ... ...
সহজ করে বলতে গেলে, ১৯৭১-এর পরে যে রাজ্যগুলির, বা যে অঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি হয়েছে, তাদের সিটের ভাগ অর্থাৎ রিপ্রেজেন্টেশন বাড়বে, আবার ঠিক উল্টোদিকে যে রাজ্যগুলি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করেছে, তাদের সিটের ভাগ, অর্থাৎ ক্ষমতা কমবে। আরও ভোঁতাভাবে বলতে গেলে, উত্তরের রাজ্যগুলির, বিশেষতঃ গোবলয়ের আসন-সংখ্যা বাড়বে, যে বাড়ার মাশুল দেবে ভারতের বাদবাকি রাজ্যগুলি। ভেবে দেখুন, ভারতের জনসংখ্যা এখন সবার থেকে উপরে, সাধারণ মানুষের সামান্য সামাজিক সুরক্ষা নেই, ন্যূনতম মানবাধিকারও তাদের কাছে স্বপ্ন – অথচ, এই পরিস্থিতিতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য শাস্তিই বিধেয়, পুরস্কার নয়। কতোটা বাড়বে সেটাও সহজেই কষে ফেলা যায় জনবৃদ্ধির হার (টোটাল ফার্টিলিটি রেট) ও সাম্প্রতিক জনঘনত্বের তথ্য-উপাত্ত থেকে। সরকার বলছে, সব রাজ্যেরই আসন বাড়বে। কেউ হারবে না। কিন্তু অঙ্কটা একটু ভালো করে দেখা দরকার। ২০১১ সালের সেন্সাসের ভিত্তিতে ৮৫০ আসন বণ্টন করলে: •হিন্দিবলয়ের আসন ৩৩% থেকে বেড়ে হবে ৩৮%, গোটা হিন্দিবলয় ধরলে মোট ১৩৩টি নতুন আসন। •সমস্ত পাঁচটি দক্ষিণী রাজ্য মিলিয়ে পাবে মাত্র ৪৪টি নতুন আসন। •উত্তরপ্রদেশ একাই পাবে ৫৮টি নতুন আসন, গুণতিতে পুরো দক্ষিণের চেয়েও বেশি। •দক্ষিণের মোট আসন শেয়ার ২৪% থেকে কমে হবে ২১%। •এমনকি গোয়া ২টি আসন থেকে কমে ১টি হয়ে যাবে। ... ...

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনীর ফলে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যার প্যাটার্ন বিষয়ে (আরো) দু-চার কথা। মূলতঃ দু-দফায় বিভিন্ন বিধানসভা আসনে বাদ যাওয়া নামের সংখ্যার সঙ্গে ওই সব আসনে জনগোষ্টীগত বিন্যাসের কোন সম্পর্ক আছে কি না তা খতিয়ে দেখার একটি প্রয়াস। ... ...

কেউ কেউ বলেন আম্বেদকর কল্যাণকর পুঁজিবাদের ( Welfare Capitalism) পক্ষপাতী ছিলেন। জানিনা, এরকম ধারণার ভিত্তি কি। একথা ঠিক, তিনি রাজনৈতিক অধিকার অর্জনের আগে সামাজিক সংস্কারের পক্ষপাতী ছিলেন যেটা বুঝতে তৎকালীন কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ ভুল করেছিলেন। আমাদের দেশের বামপন্থী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দও একই ভুল করেছিলেন। আমাদের প্রশ্ন, দুই ধরনের সংগ্রাম একসঙ্গে চলার কী অসুবিধা ছিল বা এখনই বা কী আছে ? দ্বিতীয়ত,আম্বেদকর আজ বেঁচে থাকলে দেখতে পেতেন আধুনিকতা আর নাগরিকতার মধ্যে দলিতদের যে মুক্তিসন্ধান তিনি করেছিলেন তার চালিকাশক্তি থেকে দলিতরা আজও শত যোজন দূরে। তার কারণ আধুনিকতার গোটা ব্যবস্থাটা কিন্তু শেষপর্যন্ত বড় পুঁজির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ... ...

আজকে এই যে গা ঝাড়া দিয়ে নিজের জাতি পরিচয়কে ফেলে দিয়ে ধর্মীয় পরিচয়কে আঁকড়ে ধরতে চাচ্ছেন, তা করে কী রক্ষা হবে? কালকে ধর্ম পরিবর্তন করলে বা ধর্মের প্রতি বিশ্বাস হারায় ফেললেই তো সব শেষ। ধরেন কেউ "বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি" বলে বুদ্ধের শরণ নিয়ে নিলো তখন? জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক বলে মাংস খাওয়া বাদ দিয়ে দিলো, তখন? ধর্ম পরিচয় বদলে যাবে না? রাগ কইরেন না। আমি বলতে চাচ্ছি ধর্ম পরিচয় পরিবর্তন করা যায়, করে মানুষ। বহু মানুষ ধর্ম পরিবর্তন করছে। কিন্তু আপনার জাতি পরিচয়? ওইটা কীভাবে মুছবেন? এই দুনিয়ায় বেঁচে আছেন যতদিন, যদি এই ভূখণ্ডেই বিয়ে শাদী করে সন্তান জন্ম দিয়ে থাকেন তাহলে আপনি তো অবশ্যই এবং আপনার সন্তানও কোনদিন নিজের জাতি পরিচয় মুছতে পারবে না। এখন আপনি যতই ঘাউরামি করেন আর যাই করেন। ... ...

সরগমের সাতসুরের কথা মাথায় রেখে সাতটি গল্পের ডালি। আজ তৃতীয় সুর গা.... ... ...
প্রবল বিরোধিতা পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলের তরফে এবং নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রায়শই তর্ক, সাক্ষাৎকারে "গেট লস্ট" হয়ে যাওয়ার ঘটনা, নির্বাচন শুরু থেকে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনের সমস্ত আধিকারিকদের অন্যত্র পাঠিয়ে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন করার চেষ্টা নির্বাচন কমিশনের তরফে এই রণংদেহি মেজাজেরই প্রতিফলন। নির্বাচন কমিশন যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে ব্যাট করছে না বা তার তথাকথিত নিরপেক্ষ চরিত্র বজায় রাখছে না, সে সম্পর্কে সন্দিহান সব পক্ষই। ... ...
সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন করেছিলেন, "শুধু পশ্চিমবঙ্গেই এতো অশান্তি, অসুবিধে কেন?" এর উত্তর সহজ। পশ্চিমবঙ্গের বিচারাধীন তালিকায় যে সাম্প্রদায়িক ঝোঁক স্পষ্ট দেখা যায়, সেই এক-ই প্যাটার্ন অন্য রাজ্যে নেই। এই কথা আমরা ও অন্য বিশ্লেষকরা শুরুর দিন থেকেই বহুবার বলেছেন এবং বলেই যাচ্ছেন, এবং তথ্যও সেই এক-ই দিকনির্দেশ দেয়। সঙ্গের ছবিতে দেখুন, তামিলনাড়ুর জেলাভিত্তিক বাদ পড়ার হার ও মুসলিম জনঘনত্বের মানচিত্র। দুই মানচিত্রের মধ্যে কোনো সাযুজ্য নেই। যেমনটা ছিলো পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে, বিচারাধীনের হার ও মুসলিম জনঘনত্বের মধ্যে। ... ...

এদিকে নোবেলের ম্যানের আরেক কিচ্ছা বের হয়ে আসছে। তারা যেহেতু বিশ্বাস করত আগের সব খারাপ তাই লীগ সরকার যে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করে আসছিল তা তারা বাদ দিয়ে দিয়েছিল! ফলে টিকা নাই হয়ে যায় দেশ থেকে। যেখানে বাংলাদেশের এই টিকাদান কর্মসূচি দুনিয়া জুড়ে প্রশংসিত হয়ে আসছে সেখানে আমাদের শিশুরা টিকা পায় নাই। হামের টিকা পায় নাই! এখন এর ফল আসা শুরু হয়েছে। প্রায় দুইশ শিশু মারা গেছে এই কয়দিনে! প্রথমে বিএনপির স্বাস্থ্য মন্ত্রী লীগের ঘাড়ে দোষ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। বহু বছর ধরে টিকা বন্ধ এমন একটা কথা বলে বসে। পরে দেখা গেল না, শুধু টিকা না, এর মধ্যে টিকা দানের জন্য লীগ সরকার পুরস্কারও পেয়েছে তখন সুর পরিবর্তন করা হল। এখন মোটামুটি তারাও বলা শুরু করছে যে ইনুস সরকার হামের টিকা নিয়ে সর্বনাশ করেছে যার ফল ভুগছে শিশুরা। আমরা জানি শুধু হাম না, আরও অনেক কিছুই সেই সময় ইনুস সরকার বাতিল করেছে। জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য যে ক্যাম্পেইন চলত এখন আর তা চলে না। সব বন্ধ। এইডসের ওষুধ সরকারি ভাবে দেওয়া হত, যক্ষ্মার চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়া হত। এইসবই এখন বন্ধ। ইনুস সরকার বন্ধ করে গেছে! হামের বিপদে আমরা এখন পড়েছে, বাকি গুলোর জন্য বিপদে পড়ব না? কিন্তু! কিন্তু আপনি এইসবের কিছুই সংসদের আলোচনায় পাবেন না! এতগুলো শিশু মারা গেল, সংসদে এই নিয়ে তেমন কোন কথাই নাই। উল্টো এনসিপির এক নেতা, সারজিস আলমের একটা ভিডিও দেখলাম সেখানে জুলাই সনদ বাতিল হয়ে যাচ্ছে, মানুষ ওইটা নিয়ে কথা না বলে কেন হামের টিকা নিয়ে কথা বলছে তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে! এনসিপির নেতারা যদিও তাদের জুলাই আন্দোলনের জন্য দায়মুক্তি পেয়ে গেছে। তবুও তারা এখন জুলাই সনদ নিয়ে পড়ে আছে। হামের কারণে শিশুর মৃত্যুও তাদের কাছে গৌণ হয়ে যাচ্ছে। হাসনাত বলেছে আবার জুলাই হবে! জুলাই সনদকে বাস্তবায়ন করার জন্য তারা আবার জুলাই আনবে! ... ...
