
পরীক্ষার ফলাফল এখন বিজ্ঞাপনের বস্তু। এই বিজ্ঞাপনের সূত্র ধরেই উঠে আসে নানান ভাবনা। অবশ্য যাঁরা ভাবতে ভালোবাসেন তাঁদের কাছে ভাবনার বিষয় হয়ে ওঠে সামান্য একটা ঘটনা যা অনেকের কাছে আর তেমন জটিল বলে, চিন্তনীয় বলে মনেই হয়তো হয়না। টনি ক্লোর আমাদের নতুন চিন্তার খোরাক জুগিয়েছেন। ... ...

বঙ্গীয় সুধীজনেরা নিশ্চয়ই সকলেই অম্বিকেশ মহাপাত্রের নাম জানেন। সেই গ্রেপ্তারটি হয়েছিল, পূর্বতন সরকার আসার ১ বছর পরে। এবং রোদ্দুর রায়ের গ্রেপ্তার হয়েছিল শেষ পর্বে। দুটো নিয়েই প্রতিবাদ-হইচই হয়েছিল প্রচণ্ড, সংবাদমাধ্যম তাতে নেতৃত্ব দিয়েছিল। ঠিকই করেছিল। তা বাদে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে ১৫ বছরে কুরুচিকর মিম-মন্তব্যের জন্য কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে শুনিনি। ... ...

এর মধ্যে এসে যায় নতুন কেন্দ্রীয় সরকার। তারা ধীরে-সুস্থে পুরো মিডিয়াটাকেই কিনে ফেলে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুরু হয় 'সংগ্রাম'। সেখানে ওই ওয়েস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি কোনো দুর্নীতি করেনা, হাজার-হাজার কোটি টাকা মেরে দেওয়া কোনো দুর্নীতি না। এটাকে বলে বাদ দেবার রাজনীতি। বরং পুরোটাই পেশ করা হয় কর্পোরেট স্টাইলে। শাইনিং মধ্যবিত্ত মার্কেট ইকনমির আনন্দে নাচতে শুরু করে। ... ...

শিক্ষা মানুষের জীবনবোধকে আলোকিত করে। একালে শিক্ষা নিয়ে সমাজ ভাবনার স্তরে খুব বড়ো রকমের পরিবর্তন এসেছে। শিক্ষায় সফলতা বলতে এখন নম্বর পাওয়াকেই বোঝায়।আর এই নম্বরের পুঁজি সংগ্রহ করতে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক সকলেই। সবাই নিজের নিজের ভাবনার জায়গা থেকে এই তথাকথিত সাফল্যের মূল্যায়নে ব্যস্ত। আমরাও খোঁজার চেষ্টা করলাম। ... ...

এই সিরিজের আগের দুটি পর্ব ছিল শিবের গাজন। এই পর্ব থেকে থাকবে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা। এই পর্বের ভ্রমণের সময়কাল - ৬ ও ৭ই অক্টোবর - ২০১২ - শনিবার ও রবিবার ... ...

সেদিন রবিবার। সন্ধ্যায় শোরুম বন্ধ। আকাশটা মুখ গোমড়া করে আছে। একটু একটু করে মেঘ জমছে। সন্ধ্যা নেমে আসার আগেই চারিদিক অন্ধকার করে এসেছে। বঙ্কুর ভালো লাগছে না ; ভাবল সিম্পির ঘরে গিয়ে এক কাপ চা খেয়ে আসে। ভর সন্ধ্যায় বঙ্কু এলো সিম্পির ঘরে। দুজনে চা নিয়ে বসল। ওরা গল্পে মশগুল হয়ে গেল। বাইরে টিপ টিপ বৃষ্টি। গল্প করতে করতে ওরা দেখল ঝির ঝির বৃষ্টি মুষল ধারায় পরিণত হল। সেই সঙ্গে প্রচণ্ড ঝড়। সিম্পি বলল, “ বঙ্কুদা, এই অবস্থায় তুমি বাড়ি যেতে পারবে না। একটু বসে যাও। আমি খিচুড়ি বসিয়ে দিচ্ছি ; খেয়ে যাও। “ বাইরে ঝড়বৃষ্টি, গরম খিচুড়ি, সঙ্গে সিম্পি --- মুহূর্তের মধ্যে একটা মনোরম ছবি ফুটে উঠল বঙ্কুর চোখের উপর। বঙ্কু ‘না’ করল না। ... ...

সেকালে ভর্তৃহীনা নারীর প্রতিভাবান পুত্রদের সমাজবরেণ্য হতে কোন বাধা ছিল না, এখানে দেবর্ষি নারদের কথা শুনলাম, উপনিষদের ঋষি সত্যকামের কথা শুনেছি রবীন্দ্রনাথের কবিতায় - "জন্মেছিস ভর্তৃহীনা জবালার ক্রোড়ে"। নারদ অবশ্য এখানে তাঁর মায়ের নামটি প্রকাশ করলেন না - "বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণের দাসী" বলেই মায়ের পরিচয় পর্বটি সেরে ফেললেন। ... ...

পৃথিবীর ঘনায়মান খাদ্য সংকট বিপুল সংখ্যক মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিকে এক প্রশ্ন চিহ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। একদিকে বিশ্ব উষ্ণায়নের হাত ধরে নেমে এসেছে এক অনিশ্চিত জলবায়ু পরিবর্তন; অন্যদিকে হানাহানির রাজনীতি মানুষের জীবনে নূন্যতম খাদ্যের জোগানকে নিয়মিত অনিশ্চিত করে তুলেছে। আমরা কি দুনিয়াজোড়া এক খাদ্য সংকটের আভাস পাচ্ছি? ... ...



মহর্ষি ভৃগুর চোখে চোখ রেখে বললেন, “এই আয়োজন ও অনুষ্ঠানের জন্য আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ, মহর্ষিঠাকুর। এমন রাজসিক আয়োজন মহারাজ অঙ্গের প্রাসাদের উপযুক্ত। কিন্তু মহর্ষিঠাকুর, আমি জানি পৃথু ও অর্চ্চি কোন অবতার নয়, ওরা আমার পুত্র বেণের মানসপুত্রও নয়। এ সমস্তই আপনার বানিয়ে তোলা, সাজানো ঘটনা”। মহর্ষি ভৃগু কোন উত্তর দিলেন না, মহারাণি সুনীথার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। ... ...

"একা বেড়ানোর আনন্দে" - এই সিরিজে আসবে ভারতের কিছু জায়গায় একাকী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। এটি পর্ব - ৩৫। রাস্তায় আড্ডারত স্থানীয় তিন তরুণকে শুধোই, আউলিকা প্যায়দল মার্গ কিধর? ওরা বলে, মত যাইয়ে। আমি বলি, কিঁউ? বিজ্ঞের মতো ওরা জানায়, চড়াই বহুত হ্যায় আঙ্কল, থক জায়েঙ্গে। কথা না বাড়িয়ে একটু এগিয়ে অন্যজনকে শুধোই। তিনি রাস্তা বুঝিয়ে দেন। জিজ্ঞাসা করি, খুব চড়াই, পারবো না? তিনি বলেন, চড়াই ভালোই, তবে না পারার মতো কিছু নেই। আমরা স্থানীয়, তাই সোয়া ঘন্টা লাগে। আপনার না হয় দ্বিগুণ লাগবে। ইচ্ছে যখন হয়েছে, ঘুরে আসুন। অসুবিধে হলে ফিরে আসবেন। এই হচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গির তফাৎ। ... ...

বাঃ, অতি বিচক্ষণ ও উত্তম বিবেচনা, মহামুনি কশ্যপ। আপনাকে আরেকবার প্রণাম। আমার অনুচরেরা গরুর গাড়িতে সোনার মুদ্রা আর নানান উপহার দিয়ে আপনাকে সঙ্গে নিয়ে আপনার আশ্রমে পৌঁছে দিয়ে আসবে। আর কাল সকালে, আপনার আশ্রমে পৌঁছে যাবে পাঁচশ’ সবৎসা তরুণী গাভী। তারপর আমার অনুচরেরা কাল সকালে আপনাকে কৃষিজমিও দেখিয়ে দেবে, সেখান থেকে পছন্দমতো, যতটা খুশি আপনি নিয়ে নেবেন। ও হ্যাঁ, ভালো কথা, এই দানেও যদি আপনি সন্তুষ্ট না হয়ে থাকেন, কোন সংকোচ করবেন না, মহামুনি। ... ...


সেদিন কিছুক্ষণ পরে পরেই শুনি এই যে আসতেছে হেফাজতে ইসলাম শাহবাগের দিকে। আমি কোনদিন মিটিং মিছিলে যাই নাই। মারামারি করার ছেলে আমি না। জীবনে দুই একবার মারামারির যে ঘটনা তা হচ্ছে আমিই মার খেয়ে বাড়ি ফিরেছি! সেই আমি বসে আছি রাস্তায়। রোড ডিভাইডারের মধ্যে গাছ লাগানো ছিল, কাছের সাথে বাঁশ দিয়ে খুঁটি দেওয়া ছিল। আমি দৌড়ে এগুলা একটা বাঁশ নিলাম, আমার সাথে আরেকজন, আমরা দুইজন একটা বাঁশ ভেঙে দুই টুকরা করে নিলাম। একবার হেঁটে মৎস্য ভবনের দিকে যাই, আবার হেঁটে শাহবাগ আসি। এসে বসে থাকি, উত্তেজনায় টগবগ করে রক্ত ফুটছে। আবার টিএসসির দিকে যাই। আবার শাহাবাগ। এই চলল সারাদিন। মঞ্চে কে কী বলছে তা ঠিকমত শুনিইও নাই। পুরো বিষয়টা ছিল অস্তিত্বের প্রশ্ন। বিকালের দিকে পাকা খবর আসল তারা আগানো শুরু করছে এদিকে।এক সাংবাদিক মোটর সাইকেলে করে এসে খবর দিল এইটা। তারা এদিকে আসতেছে। পুলিশ সামনে আমরা পিছনে। আমরাও আগানো শুরু করলাম। মৎস্য ভবনের দিক থেকে আসতেছে। আমরা আগাচ্ছি। পুলিশ সামনে থেকে কিছু টিয়ার শেল মারল। হুট করেই কী হল জানি না, সবাই দৌড় দিল, মানে আক্রমণ! পুলিশকে অতিক্রম করে আমরা রমনা পার্কে ঢুকে গেলাম। হেফাজতের কর্মীরা শেষ মুহূর্তে সাহস হারায়। তারা শাহবাগে না এসে কাকরাইলের দিকে চলে যেতে চাচ্ছিল সম্ভবত। আমাদের শুরু ধাওয়া দেওয়া। এখন অনেকেই বলে যে ওরা আসলে আক্রমণ করতে আসে নাই, এদিক দিয়ে চলে যেতে চাচ্ছিল! মানে যুক্তির কোন আগামাথা নাই আর কী! এখানে, এই শাহবাগকে ঘিরেই ওদের এই আন্দোলন, এর উপর দিয়ে ওরা চলে যাওয়ার জন্য আসতেছিল? সারাদিন তাণ্ডব চালিয়ে এখন এই পথে বাড়ি ফিরতে চাচ্ছিল ওরা? ... ...

বেদজ্ঞ ঋষি শৌণক, এই (ভাগবত) পুরাণ কথক সূত্রধর অর্থাৎ সূতকে বলছেন, "আপনি বেদ ছাড়া সকল শাস্ত্রেই পারদর্শী"। অর্থাৎ সূত্রধর যেহেতু অব্রাহ্মণ - তিনি সব শাস্ত্রে পারদর্শী হতে পারেন - কিন্তু বেদের বিদ্যায় তিনি 'লবডংকা'। ঋষি শৌণকের এই আত্মশ্লাঘা ও শ্লেষটুকু বেশ লক্ষ্যণীয় বিষয় সন্দেহ নেই। ... ...

একটা বেশ বড়সড় রাস্তার মাঝে দাঁড় করিয়ে ছোকরা বলে নামো, এসে গেছি। অ্যাঁ! হোটেল কই? (বোর্ড আছে কিন্তু তার পাশে তো গভীর শুন্য) এই তো নীচেই। কই কই? এই তো পাশের সিঁড়ি দিয়ে অল্প একটু নামলেই… অগত্যা সীমন্তিনী আর ইমনবাবুকে টা টা করে সেদিকে এগোলাম। তা দেখলাম MMTতে প্রায় ঠিকই লিখেছে। গাড়ি হোটেলের দরজা অবধিই যায় বটে তবে মাঝে সাতষট্টিটা সিঁড়ি আছে। মানে হোটেল আর রাস্তা একই তলে অবস্থান করলে সামনাসামনিই হত, ব্যপারটা 2D থেকে 3D হয়ে যাওয়াতেই একটু ইয়েমত হয়ে গেছে। ... ...



আর তো কয়েক ঘণ্টা। তারপরেই বোঝা যাবে বাঙালির আসল মিরজাফর কে? সেটা কি বিজেপিতে আস্থা রাখা বাঙালি নাকি বামের ভোট রামে দেওয়া সিপিএম। ... ...