
ভোর সাড়ে তিনটেয় অ্যালার্ম বাজলেই যাঁরা লাফিয়ে উঠে পড়েন তাঁরা নমস্য ব্যক্তি। অসসি ঘাটে যেতে হবে। তার জন্য বড়রাস্তা অবধি পৌঁছে অটো ধরতে হবে। যদিও সবাই ভরসা দিয়েছেন কাশীতে সারারাত অটো চলে, কিন্তু সে এই একটেরে গাইঘাটে পাওয়া যাবে কিনা কে জানে! এইসব সাতপাঁচ ভেবে দুজনে উঠেই পড়েন। তৈরী হয়ে বেরোতে চারটে পঁচিশ। আকাশ ঘোর অন্ধকার, গলিপথ শুনশান। এমনকি ষাঁড় বা কুকুরেরাও অনুপস্থিত। আর ঝকঝকে পরিস্কার, একফোঁটাও নোংরা, প্ল্যাস্টিক কিচ্ছু নেই। তার মানে রাত্রে এসে পরিস্কার করে যায় আর সকাল হতেই লোকে নোংরা করতে শুরু করে। ... ...



রম্য ... ...

"নারীর জন্ম হয় কলঙ্ক, কুলক্ষণ, অমঙ্গল, নারীর কোন আত্মা নেই, নারীর জন্ম হয়েছে সেবার জন্য, নারী স্ত্রীকে বিক্রি করতে পারে, স্ত্রী হচ্ছে বাড়ির সম্পদ, জিনিসপত্রের মত, নারী তার স্বামী থেকে অন্য কোথাও যেতে পারবে না, নির্যাতন চালালেও!" এমন কথা যে বিশিষ্ট ইসলামিক বক্তা বলেছেন তার নাম হচ্ছে আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ। তার আরও কুৎসিত কুৎসিত কথা আছে, জঘন্য রকমের মিথ্যাচার আছে। এমন একটা ব্যক্তিকে জনাব তারেক রহমান ইফতারের দাওয়াত দিয়েছেন। এই লোককের কাছে গিয়ে তিনি মাথা পেতে দিয়েছেন আমরা দেখেছি, মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে দেওয়ার ছবি, ভিডিও আমরা দেখছি।কত চমৎকার না? শুধু এই একজনকেই না, আরও আছে, - আল্লামা মুফতী আব্দুল মালেক সাহেব, আব্দুল হামিদ(পীর সাহেব মধুপুর), শাহ সালাহউদ্দিন (পীর সাহেব নানুপুর), মাওলানা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী, শায়খ আহমাদুল্লাহ সাহেব! সুন্দর এই সব মানুষগুলোই আসছিলেন প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াতে। কবে? - ৭ মার্চ ২০২৬! দেশ কোন তরিকায় চলবে বুঝা যায়? ৭ মার্চ যে একটা বিশেষ দিন তা আর বলার উপায় নাই এই দেশে। আক্ষরিক অর্থেই নাই। একজন সাতই মার্চের ভাষণ বাজিয়েছে দেখে তাকে থানায় দিয়ে আসছে। থানা আবার তাকে আটক দেখিয়েছেও! কেন? বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানো নিষিদ্ধ না? কবে হল এই নিষিদ্ধ? কেউ জানে না। তারা এখনও জেলেই সম্ভবত। আরেকজন ফেসবুকে পোস্ট করেছে, এরপরে রাতে গেছে বুয়েটের হলে সেহেরি খাইতে, খাওয়া থেকে তুলে এনে তাকে পিটিয়ে আধমরা করে শাহবাগ থানার সামনে রেখে গেছে! ... ...

‘হে পাক পারওয়ার দিগার, হে বিশ্বপালক, আপনি আমাকে লহমায় একজন তুখোড় রাজাকার ক'রে দিন। তাহ'লেই আমি দ্বীনের নামে দিনের পর দিন তেলা মাথায় তেল ঢালতে পারবো অবিরল, গরিবের গরিবী কায়েম রাখবো চিরদিন আর মুক্তিযোদ্ধাদের গায়ের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বানিয়ে নেচে বেড়াবো দিগ্বিদিক’... ... ...

যে ব্যক্তি অন্য কারো উদ্বেগের কারণ হন না এবং নিজেও কোন কারণেই উদ্বিগ্ন হন না। সকল আনন্দ, অমর্ষ, ভয় এবং উদ্বেগ থেকে মুক্ত যাঁর মন, তিনিও আমার অত্যন্ত প্রিয়। [অভিলাষের বস্তু না পাওয়ার যে দুঃখ, তাকেই বলে অমর্ষ।] ... ...


কিছুদিন আগে গুরুচন্ডালিতে একটি লেখা লিখেছিলাম পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষা, জীবিকা এবং আয়ের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে। কিন্তু সে লেখা ছিল শুধুই পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে। বর্তমান লেখাও একই বিষয়ে। কিন্তু এখানে আমি পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতির তুলনা করলাম সর্বভারতীয় পরিস্থিতির সঙ্গে। ... ...

সেদিনের সেই ঘটনার পর মার কথা শুনে মনটা শান্ত হয়ে গেছিল। তারপর থেকে আর কারুর কোনো কথাই গায়ে মাখি না। আইনষ্টাইন বলেছিলেন there is no limit of human stupidity. আমার মনে হয় ওনার মন্তব্যটা human insensitivity র ক্ষেত্রেও সমান প্রযোজ্য। Now I have learnt how to ignore certain things in life and move on. বলতে পারেন এই কাজ করতে গিয়ে এটাই আমার সব থেকে বড় প্রাপ্তি। ... ...

নির্বাচন বা ভোট ব্যবস্থার জন্ম হয় প্রাচীন গ্রীসের অ্যাথেন্স শহরে, খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে। অনেক ঐতিহাসিক এই সময়টিকেই গণতন্ত্রের জন্মকাল বলেছেন। তখনকার অ্যাথেন্সে এই ভোট ব্যবস্থা সর্বজনীন ছিলো না, কেবলমাত্র পুরুষ নাগরিকরা ভোটে অংশগ্রহণ করতেন। এটিকে বলা হতো — ‘সরাসরি গণতন্ত্র’। সেই সময় ভোটের জন্য পাথর, ধাতব চাকতি বা কখনো টুকরো মাটির পাত্র ব্যবহার করা হতো, যা ছিল এক ধরনের প্রাচীন ব্যালট। আধুনিক গণতন্ত্রের জন্ম হয় প্রথম শিল্প বিপ্লবের কোলে — জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম, একজাতি রাষ্ট্র গঠন, সামন্ততন্ত্রকে দেশীয় পুঁজিপতিদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করবার মধ্য দিয়ে। ... ...

ভারতের সংবিধানে বাধ্যতামূলক বুনিয়াদি শিক্ষাকে অধিকার হিসেবে বলা হয়েছিল। সেখান থেকে কোন মন্ত্রণায় আজকের শিক্ষালয়গুলি গোটা দেশে শ্মশান হয়ে গেল? তারই কিছু কাটাছেঁড়া এই নিবন্ধে... ... ...

এটা একজন সাহসী মেয়ের সত্যি গল্প। সেই মেয়ে সাহস করে অত্যাচারী বর, ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছিল। সে আমাকে তার জীবনের ঘটনা বলে অনুরোধ করেছিল আমি যেন পরিচয় গোপন করে ওর কথা আমার পরিচিত সবাইকে জানাই। পরিচয় গোপনের কারণ ও জেনেছে শর্মাজিদের জাল সারা ভারতে ছড়ানো, তাই ভয় পায়। ভয় পায় সনৎকেও আজও। আমি মেয়েটির এবং বাকীদের নাম বাসস্থান বদলে দিলাম। খুব খুশী হব যদি সুনন্দিনীর কামব্যাক স্টোরি প্রদীপের মত ছুঁয়ে আলো জ্বালাতে পারে ওরই মত মার খাওয়া মেয়েদের জীবনে। মার খেয়ে, শারীরিক মানসিক অত্যাচার সয়ে আবার ঘুরে দাঁড়িতেচগে, জীবনের ঝুঁটি পাকড়ে ধরে নিজের হাতে নিয়েছে জীবনের দায়িত্ব এমন বারোজন সাহসিনীর সত্যি কাহিনী নিয়ে জয়ঢাক থেকে ২০২৫এর বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছিল দ্বাদশ ফিনিক্স বইটি। এই বারোজন ফিনিক্সপাখীর একজন সুনন্দিনী। ও ছাড়াও বাকী এগারোজনের অনেককেই আমি চিনি, জানি তাদের লড়াই, জেদ, হতাশা, ভাঙতে ভাঙতে কোনরকমে সবটুকু শক্ত জড়ো করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা। গার্হস্থ্য হিংসার আগুন থেকে বেরিয়ে আসা এই বিজয়িনীদের কাহিনিগুলো ছড়িয়ে যাক বাংলাভাষী মানুষের ঘরে ঘরে। ... ...

“আমার আরও কিছু বলার আছে, যা শুনে হয়তো তোমাদের গলা ছেড়ে প্রতিবাদ করতে ইচ্ছে হবে। একান্ত অনুরোধ, কোরো না – আমার বিশ্বাস, আমার কথা শুনলে আখেরে তোমাদের ভালোই হবে। তোমাদের জানিয়ে রাখি, আমার মতো একজনকে হত্যা করলে আমার থেকে বেশি আহত তোমরাই হবে। কোনো কিছুতেই আমার ক্ষতি হবে না; এই মিলেতোস বা আন্যুতোসের পক্ষে আমায় আঘাত করা সম্ভব না, কারণ কোনো ফালতু লোকের পক্ষে তার থেকে উচ্চস্তরের মানুষকে আঘাত করা অসম্ভব। আমি অস্বীকার করছি না – আন্যুতোস চাইলে তেমন লোককে মেরে ফেলতে পারে, নির্বাসন দিতে পারে, তার নাগরিক অধিকারও কেড়ে নিতে পারে; আর বাকিদের মতো তারও মনে হতে পারে – লোকটাকে খুব খানিক কড়কে দেওয়া গেল, কিন্তু আমি তা মানি না। কারণ, ও যে পাপ করছে—অন্যায্যভাবে একজনের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পাপ—তার বোঝা অনেক, অনেক বেশি।” ... ...

১৯৫০-এর দশকে ফ্রান্স আলজেরিয়ায় তাদের ঔপনিবেশিক শাসন টিকিয়ে রাখতে মরিয়া ছিল। অন্যদিকে, মিশরের গামাল আবদেল নাসের তাঁর ‘প্যান-অ্যারাবিজম’ মতবাদের মাধ্যমে আলজেরীয় বিপ্লবীদের (FLN) অস্ত্র ও নৈতিক সমর্থন দিয়ে যাচ্ছিলেন। ফ্রান্সের কাছে নাসের ছিলেন এক ‘সাধারণ শত্রু’, যিনি উত্তর আফ্রিকায় ফরাসি সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দিচ্ছিলেন। ফ্রান্সের নীতিনির্ধারকরা তখন মনে করেছিলেন যে, নাসেরের এই ক্রমবর্ধমান প্রভাব রুখতে হলে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে একটি শক্তিশালী সামরিক শক্তিতে রূপান্তর করা জরুরি। ১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকটের প্রাক্কালে সম্পাদিত গোপন ‘সেভয়ে প্রোটোকল’ (Protocol of Sèvres) ছিল এই পারস্পরিক স্বার্থের চূড়ান্ত প্রতিফলন। ... ...

আমি হাতে ভর দিয়ে শুয়ে ডোমাকে দেখছিলুম। মেয়েটাকে কেমন সারসের মতো দেখাচ্ছে না! ওকে তো আমি, লোক না এলে, নিজে হাতে ময়লা কাউন্টার সাফা করতে দেখেছি। খদ্দেরের উলটি-ও। বাজারে দাঁড়িয়ে এস্পারাগাসের আঁটি ভেঙে কচি না বুড়ো পরখ করতে। ছুরপিওয়ালার সঙ্গে ঝগড়া করতে। বেঁটেখাটো পাওয়ারহাউস একখানা। সে কেমন এই নীল আলোর মধ্যে, হাল্কা পার্পল রঙের একটা সারসের মতো গলা উঁচু করে সবার থেকে পৃথক হয়ে গেছে হঠাৎ। আর প্রদীপ.... ... ...


তবে কি ফাঁস হয়ে গেছে মহর্ষি ভৃগুর সব ষড়যন্ত্র? ... ...

আমি এই প্রবন্ধে মূলত দুটো প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছিঃ এক, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কী ধরনের পেশা এবং শিল্পে যুক্ত এবং দুই, পশ্চিমবঙ্গে কী ধরনের শিক্ষা থাকলে গড়ে কীরকম আয় করা যায়। আমার কাজটি ২০২৩ এর পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভের ওপর নির্ভরশীল। এবার বলি যে প্রশ্নের উত্তর এই প্রবন্ধে খুঁজতে যাওয়া বৃথা তা হল পশ্চিমবঙ্গের এই প্যাটার্ন সাম্প্রতিক না বরাবর ছিল এবং এই প্যাটার্ন কি শুধু পশ্চিমবঙ্গের না অন্য রাজ্যেও দেখা যায়? এই দুটি প্রশ্নের উত্তরই জরুরি এবং তা দেওয়া সম্ভব। কিন্তু এই প্রবন্ধে তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় নি। ... ...

সার্বজনীন শিক্ষার অধিকার সেদিনই কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, যেদিন মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। মাতৃভাষা মাধ্যম না হলে শিক্ষা সম্পূর্ণ হয় না। ... ...