
অস্বীকার করবার প্রায় কোনও জায়গাই নেই যে ছোটবেলায় আমাদের অনেকেই প্রায় নিয়ার-পারফেক্ট শুদ্ধাচারী ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতিতে বড় হয়েছিলাম। হিন্দি গান শোনা ছিল মহাপাপ, গাওয়া তো উচ্ছন্নে যাওয়ার স্পষ্ট লক্ষণ ছিল। ছোটখাটো বিচ্যুতি, এই যেমন অনুপ জালোটা, মান্না দে এটুকু বাদ দিলে বাংলাময় ছিল আমাদের জীবন। পাড়া কালচারে বড় হয়েছি আমরা। গ্রাম নয়, আবার পুরোদস্তুর শহরও নয়, মফস্বল সংস্কৃতিতে কাজ করত পাড়া-কালচার। শুভানুধ্যায়ী কাকু-জেঠিমা-মোড়ের সিগারেটের দোকানের স্বপনদা, এঁদের স্নেহদৃষ্টির ছায়াতেই আমরা বড় হয়েছি। প্রায়শই ... ...

সেটা ছিলো একটা নিমবসন্তের কাল। মন্দমন্থরে নেমে আসা দুঃসময়ের কালো ছায়ার দিন। ভারতবর্ষ অনেক পালাবদল দেখেছে। বিংশশতক পড়ার পর এইবার প্রথম মানুষকে এতোটা নিষ্ঠুর ভবিতব্যের সম্মুখীন হতে হলো। বিশ্বযুদ্ধের চাপে পর্যুদস্ত ঔপনিবেশিক দস্যুদের কেউ যেন মরণকামড় দিতে প্ররোচিত করেছিলো। 'ভালো' ইংরেজরাও মুখোশ ছিঁড়ে মন্দ ইংরেজদের সঙ্গে একাত্মবোধ করতে শুরু করেছে। ভারতবর্ষ সাম্রাজ্যের লক্ষ্মী। সেখান থেকে নিহিত স্বার্থে আঘাত কোন হিজ ম্যাজেস্টিস অনারেবেল সাবজেক্ট সহ্য করবে। ১৯১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারতসচিব মন্টেগু মহা ... ...

বৈশম্পায়ন কহিলেন - হে রাজন! একবিংশ শতকের প্রথম ভাগে বঙ্গভূমিতে আধুনিক মধ্যবিত্ত বাঙালি নামক এক অদ্ভুত জীবের আবির্ভাব ঘটিবে যাঁহারা নিজ নানাবিধ কার্যকলাপের দ্বারা বঙ্গদেশকে প্রকম্পিত করিয়া তুলিবেন। আমি এক্ষণে সেই বিচিত্রবুদ্ধি বাঙালিদের ক্রিয়াকলাপ কিছু কিছু বর্ননা করিব। আপনি শ্রবণ করুন। হে নরবর! এই আধুনিক মধ্যবিত্ত বাঙালিগণ সিটি সেন্টারে গিয়া ২০০ টাকার দ্রব্য ১২০০ টাকায় ক্রয় করিয়া আপনার 'স্ট্যাটাস' বজায় রাখিবে কিন্তু রিকশাচালক অধিক ৫ টাকা চাহিলে তাহার সহিত আধঘন্টা ঝগড়া করিয়া পরম তৃপ্তিল ... ...

চলতি বছরের গ্লোবাল অর্গানাইজেশন অফ পার্লামেন্টারিয়ান্স এগেইন্স্ট করাপশন (আ), সংক্ষেপে গোপাক পুরষ্কারের জন্য পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেসের মুকুল রায়, মদন মিত্র, কাকলি ঘোষদস্তিদার এবং সুব্রত মুখার্জ্জি মনোনয়ন পেলেন। সংস্থার পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকেও পুরষ্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়, কিন্তু তিনি তা বিনম্রচিত্তে প্রত্যাখ্যান করে দু আঙুলে হাওয়াই চটির স্ট্র্যাপ দেখিয়ে বলেছেন, মুকুল মদন কাকলি সুব্রত আমার চার পিলার। উপস্থিত সাংবাদিকরা এই সূত্রে ওভারব্রিজ প্রসঙ্গ উত্থাপিত করলে মমতা মধুর হেসে নব ... ...

বেজায় গরম। ফ্যানের তলায় দিব্যি চুপচাপ শুয়ে আছি, তবু ঘেমে অস্থির। টেবিলের উপর মোবাইলটা ছিল, ফেসবুক দেখবার জন্য যেই সেটা তুলতে গিয়েছি অমনি মোবাইলটা বলল, 'ডিজিটাল'! কি আপদ! মোবাইলটা ডিজিটাল বলে কেন?চেয়ে দেখি মোবাইল তো আর মোবাইল নেই, দিব্যি গোটা একটা ডিজিটাল দেশ প্যাটপ্যাট করে আমার দিকে চেয়ে আছে!আমি বললাম, 'কি মুশকিল! ছিল মোবাইল, হয়ে গেল একটা দেশ।'অমনি দেশটা বলে উঠল, 'মুশকিল আবার কি? ছিল সাদ্দাত হাসান মান্টো, হয়ে গেল রাজকাহিনী। এ তো হামেশাই হচ্ছে।'আমি খানিক ভেবে বললাম, 'তা হলে তো ... ...

গুজরাতের একটি বিমানবন্দরে সম্প্রতি মোষ চড়ে বেরানো এবং তৎজনিত অসুবিধা খবরের কাগজ এবং ফেসবুক প্লাবিত করে আমাদের এই উপলব্ধি তে নিয়ে আসে আসলে গরু ভেড়া পাখি এবং তাবৎ জীবজগতের উপযুক্ত স্থান হোল চিড়িয়াখানা। তাহাদের ইতস্তত বিচরণ সভ্যতার পক্ষে ভীষণ বিরক্তিকর বাতিরেক অন্য কিছু নয়। ভাবা যায় প্রধানমন্ত্রীর রাজ্যের অন্যতম এয়ারপোর্ট এ কিনা মোষ ঘুরে বেড়াচ্ছে ? যেমন উত্তরবঙ্গ থেকে আমরা মাঝে মাঝেই খবর পাই যে আবার তিনটে হাতী ট্রেনে কাটা পড়েছে। শিলিগুড়ি থেকে আলিপুরদুয়ার পর্যন্ত এই ট্রেন পথটি ত ... ...

“ছোট্টমোরগ ঘাড় উঁচু করে স্বপ্ন দেখেপ্রাসাদের ভেতর রাশি রাশি খাবার!”(একটি মোরগের কাহিনী/সুকান্ত ভট্টাচার্য)মাথার কাছে অনবরত বেজে চলেছে মোবাইলটা। আমি তখনো ঘুমের ঘোরে। আমি তখনো স্বপ্নে। হাতড়ে হাতড়ে খুঁজে চলেছি তাকে যে আমার এই মুহূর্তের ঘুম নষ্ট করছে। স্বয়ংক্রিয় দূরাভাষের যন্ত্রটি জানাচ্ছে এই এতো ভোরের সংবাদ সুখের নয়। পূর্বের অভিজ্ঞতা বলছে এই বার্তা এনে দিতে পারে অমোঘ নিষ্ঠুর পরিণতি। ঠিকুজি, কুলজি বলছে এই বংশের বেশিরভাগ মৃত্যু শীতকালীন। এবং ঊষা লগ্নে। জড়তা, স্বপ্ন, আখ্যানের অঙ্গ ... ...

লেবু বেশী কচলালে তেতো হয়ে যায় – তবে কিনা যত বড় লেবু তত বেশী সময় লাগবে তেতো হতে, ততক্ষণ আপনি কচলে যান। আমার ক্ষেত্রে এই কচলানোটা ঠিক কবে শুরু হয়েছিল ঠাওর করতে পারছি না, কিন্তু আপাতত আমি রীতিমত ফেড-আপ – বিদেশী খাবারের সাথে আমার কত ফ্যামিলিয়ারিটি, সেই বোঝানোর জন্য বাঙালী তথা জানাশুনা ভারতীয়দের নিদারুণ প্রচেষ্টা দেখে দেখে! কার বাড়িতে দিদিমা পিৎজা বানাতো – দাদু তিনতলার ছাদে অলিভ গাছ লাগিয়ে ছিলেন, কার মামা ছোটবেলায় বার্গার খেয়ে খেয়ে এখন পুরোপুরি অবিস এবং অম্বলের রুগি, কার দেশের বাড়িতে পাঁঠা দিয়ে থাই ... ...

দিনান্তে যেটুকু বাড়ি ফেরা জড়িয়ে ধরে একটা মানুষ বাঁচে তার গায়ে কতটা ‘আমি’ লেগে থাকি আর কতটা ‘আমার’ সেটা কি ঠিক করে কেউ জানে? এই ‘আমার’-টা কিন্তু কাঠবেড়ালী বা পাশবালিশ যা খুশি হতে পারে। অথবা শুধু একটা অবস্থান হতেও বা আটকাচ্ছে কে? মনের শরীর বর্জন, ভীড়ের সামিল গর্জন থেকে নিজের অবস্থান, তারপর?...... হোক না সে আমার থেকে বিদ্যা-বুদ্ধি-পাড়ায়-অবস্থায় একেবারে চন্দ্রবিন্দু-কেটি মেলুয়া আলাদা, হোকনা অন্য, অচেনা, আনকোরা, হোকনা কঠিন, কোন সহজ জিনিসটা রাত জাগার ভালোলাগা এনে দেয় শুনি?আড়ালে থেকে যাওয়াদের ... ...

ওরা তোমাকে হত্যা করে কোথায় কবর দিয়েছেআমাকে কিছুই জানালো নাসেই থেকে পুরো স্বদেশ তোমার কবর হয়ে গেলোমাতৃভূমির প্রতি ইঞ্চি মাটিতে, যেখানে তুমি নেই সেখানেও তুমি জেগে উঠলে।ওরা ভেবেছে, তোমাকে গুলি করে হত্যা করবেকবর দিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দেবে।কিন্তু ওরা মূলতঃবিপ্লবের বীজ বপন করেছে।(এপিটাফ/ এর্নেস্তো কার্দেনাল/ অনুবাদ-পারভেজ চৌধুরী)এক অন্তর্বতী আলোর গহ্বরের মধ্যে দিয়ে এঁকে বেঁকে চলেছে যে স্মৃতির মালা সেই উপাখ্যানের পুরোভাগে এক মানুষ জ্যোতির্বলয়ের মাঝখান ... ...

ঘরকন্না ও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর গল্পযে জীবন ফড়িং-এর দোয়েলের, মানুষের সাথে তার যে দেখা হয় না, সেকথা জানাই ছিল। কিন্তু যেসব জীবন মানুষের-মানুষীরই, তাদের আশেপাশেই থেকেও সেইসব জীবনের সাথেও যে মানুষের আসলে দেখা হয় না, তাও মাঝে মাঝে এমনভাবে জানতে পেরে অবাক হতে হয়। এই ক’দিন আগে আনন্দবাজারে প্রকাশিত প্রবন্ধ ‘ঘরের কাজের জন্য মাইনে দেবেন না কেন ?’ পড়ে নানাজনের কাছ থেকে পাওয়া মতামতগুলো পড়তে পড়তে কথাগুলো মনে হল। সেদিনটা দোলের ছুটির পরের দিন, কাগজের প্রিন্ট বেরোয় নি তাই লেখাটা শুধু আবাপ’র ওয়েব স ... ...

(এই লেখাটি সংক্ষিপ্ত আকারে আ বা প তে প্রকাশিত হবার পর অনেক মতামত এসেছে। সে নিয়ে কিছু লিখতে গেলে মূল লেখাটাও হাতের কাছে থাকা দরকার। তাই এখানেও)হ্যাঁ, নারীকে নিয়েই কথা আসে সারাবছর, অজস্র কথা। জীবন এফোঁড়-ওফোঁড় করে চলে যায় নানারঙের কথা। সেইসব কথার পিঠে চড়ে আসে ভাবনারা। প্রশ্নেরা। ঘুরে বেড়ায় আলগোছে। নারীদিবসের আশেপাশে এইসব ভাবনাগুলো জমাট বাঁধে, মাথায় চড়ে বসে। আমাদের তাগাদা দেয় পুরোনো পড়া ঝালিয়ে নিতে। আর সেই পুরোনো পড়া পুরোনো ভাবনা নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতেই কোথাও কোথাও নতুন কথাও জুড়ে যায় জায় ... ...

বই কীকরে বন্ধু হয় বুঝিনা। কোনকালেই অবশ্য ঠিক বই এর পোকা নই। নিজেকে ওভাবে প্রজেক্ট করতেও আলাদা করে কোনো ভালো লাগা বোধ হয়না। শুনি অনেকে বলে বই তাদের শ্রেষ্ট বন্ধু। যেন কাক সমাজ্বন্ধু। ফেসবুকে শেয়ার করে এরকম লিখে যে : অনলি বুকস ক্যান এক্সেপ্ট ইউ এস ইউ আর। এরকম একজন কে মুসোলিনির বক্তৃতা সংকলন পাঠালুম এক কপি আর সমুদ্র জ্যোতিষ। পত্র না পাঠ করেই ফেরত। কেন ভাই ? তুমি যেমন ঠিক তেমনটি এক্সেপ্টেড হলনা ? বেশি খোঁচাতে ভাল্লাগেনা। বন্ধুসন্খ্যা এমনিতেই তলানি তে। খোঁচাই না। বরং লক্ষন্বিচারে বিশ্ ... ...

চড়ুই পাখি ও ভোরের রোদ্দুর-----------------------------------মেয়েরা বড়ো হলে মায়ের বন্ধু হয়ে ওঠে। একটু বড়ো হলেই তাদের পরস্পর কলকাকলির মধ্যে বাবা যেন বেশ বেমানান। বাবা কি মেয়েদের 'বন্ধু' হয়ে উঠতে পারে। বোধ হয় না। বাবার সঙ্গে অনেক কথা বলা যায়, কিন্তু 'বন্ধুত্ব'..........? সেটার স্তর আলাদা। পাহাড়ের সঙ্গে কি বন্ধুত্ব হয়। পাহাড় মেঘ দেয়, ছায়া দেয়, সবুজের শান্তি এনে দিতে পারে। কিন্তু তার তো নদীর ভাষা জানা নেই। সে শুধু প্রতিধ্বনি ফিরিয়ে দিতে পারে। মা আর মেয়েরা সেই ভাষা জানে, নিজের মতো ... ...

অনি দত্ত ও রায়না রায় ভূমিকা: ‘প্রথম’ বনাম ‘তৃতীয়’ লিঙ্গহিজড়ে এবং অন্যান্য প্রান্তিক লিঙ্গ বা যৌনতার মানুষদের প্রতি আমাদের সমাজে একটি ঘৃনা-মিশ্রিত কৌতুহল কাজ করে | এরা কি, কোত্থেকে এল, কেন বা কিভাবে এরকম হল? আমরা ভেবে থাকি, বা আমাদের পারিপার্শ্বিক সমাজ থেকে শিখি, যে যেই লিঙ্গ পরিচয় বা যৌন-আচরণকে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়, অর্থাৎ যৌনাঙ্গের ভিত্তিতে নির্ধারিত ‘পুরুষ’ ও ‘নারী’ পরিচয় এবং পুরুষ-নারীর মধ্যে ... ...

“ও আলোর পথ যাত্রী...এযে রাত্রি...এখানে থেমো না...”এমনিতেই পড়াশুনো আমার ধাতে সয় না। তার ওপর গরমের ছুটি। সকালে একপাতা হাতের লেখা আর সন্ধ্যেবেলা ঢুলতে ঢুলতে দাদার পাশে বসে কোনো মতে কয়েকটা ভাগ, দুই তিনটে যোগ আর মুষ্টিমেয় আনা খানেক গুণ করলেই আমাকে আর দেখে কে। মা সরস্বতী তখন আমার এ্যালুমোনিয়ামের পড়ার বাক্সে বন্দি। আর নকশাল তখন গরমের চোটে নীচের বারান্দায় নামা দূর অস্ত, দানা পানি খেতেও ভুলে যায়। কন্টিদের বাড়ির ছোটো পেয়ারা গাছটার ওপর বসে থাকে। আর মাঝে মাঝে একটু একটু উড়ে গিয়ে পুকুরপাড়ে বিজয় কাকু ... ...

ভোর ছটায় যখন ইমন, হিয়াকে স্কুলের মেন গেটের সামনে নামিয়ে দিয়ে গ্যালো তখন আকাশে প্রায় মধ্য রাত। জানুয়ারির মাঝামাঝি, গাড়ির ড্যাশবোর্ডে বাইরের তাপমান দেখাচ্ছে শুন্যে-র পঁচিশ ডিগ্রী নিচে। রাস্তায় বরফের পুরু চাদর, সাইডওয়াকের বরফ কেটে তৈরী করা পায়ে চলার রাস্তা টুকু বাদ দিলে বাকি চরাচর, ঘাস জমি, স্কুলের ফ্রন্টইয়ার্ড, ব্যাকইয়ার্ড প্রায় সবটাই উপর্যুপরি তুষারপাতে হাঁটু সমান। তবে এনিয়ে বিশেষ আশ্চর্য্য হওয়ার কিছু নেই। বছরের এই সময়, এই তাপমান আর এই বরফের পাহাড় নিয়মমাফিক। স্কুলের সামনে একটা হলুদ ক ... ...

একজন কিশোর ছিল, একেবারে একাআরও একজন ক্রমে বন্ধু হল তার।দুয়ে মিলে একদিন গেল কারাগারে;গিয়ে দেখে তারাই তো কয়েক হাজার!(জেলখানার কবিতা/বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)জানলা গুলো ছিল একদম ঘরের মাথার কাছে। মানে যেখানটায় কড়িকাঠ। ওখান দিয়ে দিনের প্রথম আলো এসে পড়ে। এক ফালি আলো মেঝেতে লুটোচ্ছে। দিনের প্রথম সূর্যের আলো। একটা লোক দুমড়ে মুচড়ে পড়ে আছে মেঝেতে। আধো আলো আধো অন্ধকারে ভালো করে দেখা যায় না তাকে। লোকটার ঠোঁটের পাশ দিয়ে মানে কষ বেয়ে পড়ছে রক্ত। মাঝে মাঝে কেঁপে উঠছে শরীরটা। আবার স্থ ... ...

কতগুলি বিন্দু ও রেখা এসে দাবী করে, তারা প্রকৃতি হয়ে উঠবে। খামচা খামচি করল বউ ও সতীনেরা, এই যে হিজিবিজি, কাটুমকাটাম, চাউ চাউ ডুডলস ও ঝালমুড়ি ডুয়েলে, একবার আর্মি ও এক্সট্রিমিষ্ট দাঁত খিচালো পাতার জংলাছাপ বোরখায় মুখ ঢেকে, তফাৎ যাও বস্তাপচা তুৎলে ওঠা ভুত ও ভবিষ্যৎ, রবীন্দ্রনাথ-শরৎচন্দ্র ইত্যাদি একদা চরিত্রহীন। এর পর ছাতিম। রেখারা সমবেত হয়, অমিতাভ নীরবতা পালন করেন অথবা সারে যাঁহা সে আচ্ছা, কানুনকাননে। নীচে সই করেন গণেশ হালুই। ল্যাব উঠে গেলে একদিন ইরফান দা দৃকের একাউন্টস ঘরে বসে হিসাব করেন, ডলার পাউণ্ ... ...

ব্যাকগ্রাউন্ডে তারস্বরে বাজছে'খোকাবাবু যায়। লাল জুতো পায়বড় বড় দিদিরা সব উঁকি মেরে চায়'খোকাবাবু বললেন, বড়দিদি, আমার কেরিয়ারটা শেষ হয়ে যাবে। হাতে তিরিশটা ভেঙ্কটেশ। পেছনে আরও তিরিশটা। আর দশটা বছর সময় দিন। 'লাল জুতো পায়' টা এডিট করে গটগটিয়ে হেঁটে ঢুকবো পার্লিয়ামেন্টে। বড়দিদি বললেন, আমি কোনও কথাই শুনবো না খোকা। হয় তুমি এবারেই দাঁড়াবে, নয় কোনওদিনই দাঁড়াবে না। পাশ থেকে হাকিমসাহেব ফিক করে হেসে বললেন, খোকার মনটা ভালো, টাকা খায় না, তবে শালা কার ঘাড়ে কটা মাথা যে ওর ... ...