
কাদম্বিনীকে কোন ছাঁচেই ঠিকঠাক ফেলা যায় না, তিনি স্নেহময়ী মাতৃমূর্তি নন, বিদ্রোহিনী নন, সন্ন্যাসিনীও নন - আবার এই সবই। তাঁর ছবিটা এই রকম - ফিটন চেপে এক মহিলা যাচ্ছেন শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে, রোগী দেখতে। হাতে কুরুশ-কাঠি, অপূর্ব সূক্ষ্ম কাজের লেস বুনছেন যাতায়াতের সময়টুকুতে, বিধবা বড় ননদের জন্য হিন্দু মতে রান্না করছেন, পূত্রবধূকে লিখছেন, ‘কাল বিকালেও রাঁধুনি আইসে নাই। আজও ক্যাঁও ক্যাঁও করিয়াছে শরীর ভাল না। কাল আসিবে কি না জানি না।’ আবার বিহার, ওড়িশায় খনিমজুর মেয়েরা কেমন আছেন, তা সরেজমিনে দেখে রিপোর্ট দিচ্ছেন সরকারকে। ... ...

লক্ষ্মীদেবী নমো নমো মাতা ফ্যান্টাস্টিক। তোমারে স্মরিব মাগো ঘুরি দিগ্বিদ।। ছয়দিন কর্মস্থলে আসি আর যাই। পথে পথে কত লক্ষ্মী দেখিবারে পাই।। ট্রেনে লক্ষ্মী বাসে লক্ষ্মী অফিসে লক্ষ্মী মা। টিভিতে কাগজে দেখি নাই পরিসীমা।। সপ্তম দিবসে মাতঃ রবিবার বলে। বাড়িতে ব্রেকফাস্ট মাগো লুচি আলু ছোলে।। ... ...

ক্লিক করে পড়তে থাকুন নারীদিবসের বিশেষ লেখাগুলি। ... ...

আজ আমি এক ডাক্তার দিদির গল্প শোনাবো। ডাঃ পারমিতা মুৎসুদ্দি। আমার প্রথম পোস্টিং খড়গ্রাম হাসপাতালে যোগ দেওয়ার থেকেই শুনে যাচ্ছিলাম এখানে একজন মহিলা ডাক্তার আছেন। যিনি বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। হাসপাতালে তখন চরম অবস্থা। আছি দুজন মেডিকেল অফিসার। আমি আর ডাঃ সঞ্জীব রায়। আরেকজন অবশ্য ছিলেন। আমাদের বিএমওএইচ ম্যাডাম। কিন্তু তিনি অনেকটা গেছোদাদার মত। কোথায় যে কখন থাকতেন বলা ভারি শক্ত। অত কঠিন অঙ্ক করতে পারলে কি আর ডাক্তারি পড়ি। আমরা দুজন চিকিৎসক মিলে খড়গ্রাম ব্লকের সাড়ে তিনলক্ষ মানুষের ষাট বেডের একমাত্র হাসপাতালটি চালাতে গিয়ে নাকানি চোবানি খাচ্ছিলাম। এর উপর আবার সঞ্জীবদা সকাল, সন্ধ্যে প্র্যাকটিস করত। ফলে আমি কথা বলার একজন লোকও পাচ্ছিলাম না। ... ...

সোনাগাছি এলাকায় দুর্বার ও আপনে আপের সৌজন্যে বেশ কয়েকবার যাওয়া হয়েছে, কিন্তু ডক্টর স্মরজিত জানা বা টিংকু খান্নার সঙ্গে যৌন কর্মীদের মাতৃত্বসংক্রান্ত সুবিধে অসুবিধে নিয়ে তেমন কথা হয়নি কখনো। তাই ওই এলাকায় যাদের সঙ্গে মুখোমুখি কথা হয়েছে সেইরকম মা ও সন্তানের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাই এই লেখার ভিত্তি। বিশেষ করে মায়েরা, কারণ মা হবার দীর্ঘ সময়কালে নিজেদের প্রয়োজন ও ঝুঁকির কথা তাদের থেকে বেশি কে আর জানে ! ... ...

মেয়ে বলতেই যোনি-জরায়ু-স্তন সবর্স্ব এক ব্যক্তির রূপ আমাদের সামনে হাজির করা হয়। ভুলে যাওয়া হয় তার বাইরেও তার একটা সচল হৃৎপিন্ড আছে—আছে ক্ষুধাভরা জঠর—সবার ওপরে আছে এক সৃজনশীল মস্তিষ্ক। রাষ্ট্র সংঘের হিসেব বলে: বিশ্বের মোট কাজের ঘণ্টার ৬৭% করেন মেয়েরা কিন্তু বিশ্বের মোট ব্যক্তিগত আয়ের ১০% মেয়েদের। বিশ্বের মোট অশিক্ষিতের ২/৩ মেয়েরা। বিশ্বের মোট সম্পত্তির ১%-এরও কমের ওপর মেয়েদের অধিকার। ... ...

প্রতীচীর বার্ষিক আলোচনা সভায় পশ্চিমবাংলার নানা প্রান্ত থেকে আসা বিভিন্ন স্তরের স্বাস্থ্যকর্মী, যেমন, এ এন এম, আশা, চিকিৎসক, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, এবং সমাজের অন্যান্য কর্মস্তরের দেড় শত মানুষের দু দিন ব্যাপী “স্বাস্থ্য পরিচর্যার উন্নতিতে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কর্মীদের ভূমিকা” শীর্ষক সভায় আলোচিত প্রশ্নোত্তর নিয়ে কথাবার্তা। ... ...

ফাতিমা বিবির নবজাত সন্তানের মৃত্যুর পর অবশেষে তিনি নিজের পঞ্চম সন্তানের জন্মদানের জন্য সরকারি প্রসূতি সদনে এলেন। তিন মেয়ে এবং এক ছেলে – তাঁর এই সবকটি সন্তানই বাড়িতে জন্মেছে। তাঁর মা জামিলা জানান, “ছেলেটি অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়। তাই এইবারে আমরা হাসপাতালে এসেছি।” ... ...


যেমন ধরেন ওই নোটবন্দী খেলা — পারবে? কোনও সুস্থ মাথার লোক (গাঁজা ফাঁজা না খেয়ে) ভাবতেও পারবে না যে এভাবেও টাইট দেওয়া যায় নিজের দেশের জনতাকে। আর যা কারণ ঠাউরালেন তাতে হেসে খুন হই আর কি। গোলাপী খেলনা নোটের ভেতর থেকে মাইক্রোচিপ অবধি খুঁজে পেল টিভি অ্যাঙ্কর (এমন অ্যাঙ্কর থাকলে ১৯১১ সালে হিমশৈল অবধি দৌড়ে পালাত, টাইটানিক দেখে, ধাক্কা মারা তো দূরস্থান)। আর সেই সরল গোলগাল ফুচকার মতো যুক্তি, যা কিনা ফুটো না করিলে তাতে হায় মশলা আলু বা টকজল কিছুই ঢোকে না, এমন দুর্দম, অনমনীয়। কী? না এতে জাল নোট আটকাবে - পাড়ার রঙিন ফোটোকপি দোকানদার অবধি হেসে খুন, এই নোট আবার জাল করতে হয় নাকি? এ তো এমিনিই এত জ্যালজ্যালে। আবার ধরেন, এতে নাকি টেরোরিজম চুপসে এই অ্যাত্তটুকুন হয়ে যাবে। তা তো কই… ... ...

পলান সরকার একার উদ্যোগে গড়ে তুলেছিলেন এক চলমান গ্রন্থাগার। ঝোলা ভর্তি বই নিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে তিনি বই পৌঁছে দিতেন বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে, পাঠকের দরজায়। নিজের বই পড়ার অভ্যাস তিনি চারিয়ে দিয়েছিলেন প্রত্যন্তে ও প্রান্তে। থেমে গেল পলান সরকারের চলা, কিন্তু তাঁর তৈরী পাঠকদের মননে তাঁর কীর্তি থেকে যাবে, থেকে যাবে তাঁর স্বপ্ন। তিনি যে আলোকবর্তিকাটি জ্বালিয়ে দিয়েছেন আজীবনের সঞ্চয়ে ও শ্রমে, তা আলো দেবে ভবিষ্যতকে। পলান সরকারকে নিয়ে দু'টি লেখা, লিখেছেন হাসনাত কালাম সুহান ও দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম। ... ...

পাহাড় ও সমতলের ভাষাগত সংখ্যালঘু, তথা আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে আদিবাসীর মাতৃভাষায় পাঠের ওই বেহাল চিত্র প্রায় একই। পার্বত্য চট্টগ্রাম, বৃহত্তর উত্তরবঙ্গে, কক্সবাজার ও পটুয়াখালিতে ব্যক্তি উদ্যোগে বেশ কয়েক বছর ধরে চলছে অল্প কয়েকটি চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়। ব্রাকসহ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থাও এগিয়ে এসেছে এ ক্ষেত্রে। অনেক দেরিতে হলেও ২০১৪ সালে প্রথম খোদ সরকারই এগিয়ে আসে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে। তবে আর সব সরকারি প্রকল্পের মত চার বছরে মুখ থুবড়ে পড়েছে এ উদ্যোগ। বাংলাদেশের প্রায় ৭০টি আদিবাসী জনগোষ্ঠির ২৫ লাখের বেশী মানুষ হাজার বছর ধরে বংশপরম্পরায় ব্যবহার করছেন নিজস্ব মাতৃভাষা। পাশাপাশি বাঙালির সঙ্গে ভাব বিনিময়ে তারা ব্যবহার করেন বাংলা। প্রতিটি আদিবাসী জনগোষ্ঠির রয়েছে নিজস্ব প্রাচীন ভাষা, রীতিনীতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। ... ...

......উনি দিব্যি হেসে উঠলেন। একেবারেই একটা তাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন, ঠিক মন্তব্য নয়, প্রশ্ন! তার প্রশ্নের ধরনের দেখে সকলে ইতস্তত: করেও হেসে উঠল। তিনি মজা পেলেন। যে বলেছিল, সে একটা উত্তর দিল আমতা আমতা করে। তিনি আরো এমন একটি মন্তব্য করলেন, সকলে আরো বেশ খানিকটা হেসে উঠলো। এই "উনি"টি কোনো কমেডিয়ান নন, অনুষ্ঠানটিও কোনো পাড়ার জলসা নয়, যে এমন ছ্যাবলামো অনায়াসে করা যায়! অনুষ্ঠানটি চলছিল দেরাদুনে, ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের বিভিন্ন স্বপ্নের প্রকল্প পেশ করছিল ওনার সামনে। দেশের প্রধানমন্ত্রীর সামনে। হ্যাঁ, ঘটনাচক্রে উনি দেশের প্রধানমন্ত্রীও বটে। ... ...

গত ত্রিশ বছরে ভারতীয় শ্রমিকের প্রকৃত মজুরি বাড়েনি, যদিও তার প্রত্যেক বছর তার গড় উৎপাদনশীলতা বেড়েছে সাত শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে দেশের সরকারের অন্যতম প্রধান কাজ হওয়া উচিত ছিল তাদের জন্য একটি ভদ্রস্থ মজুরির ব্যবস্থা করা। তা না করে সরকারি মদতে পুঁজিপতিদের অক্লান্ত চেষ্টা চলছে কি করে স্থায়ী কাজের সুযোগ কমিয়ে সেই কাজগুলোকে ইনফর্মাল বা অসংরক্ষিত ক্ষেত্রে ঠেলে দেওয়া যায়। আরো প্রকটভাবে বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে স্থায়ী অস্থায়ী, ঠিকা ও ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের মধ্যে। যদিও এইরকম বেতনবৈষম্য দেশের আইন অনুযায়ী একেবারেই বেআইনী। একটা শক্তিশালী ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন পারতো রাশ টেনে ধরতে কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অনেক চেষ্টা করে ট্রেড ইউনিয়নগুলির শক্তি হরণ করা হয়েছে। নিও লিবেরাল অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সেগুলোর গঙ্গাপ্রাপ্তিই অবধারিত। অথচ দেশজুড়ে শ্রমিক মরণপণ লড়াই দেবার জন্য প্রস্তুত, মারুতি কারখানা, মুন্নারের চা শ্রমিক বা মুম্বাইয়ের সাফাই শ্রমিকরা সেকথা প্রমাণ করে দিয়েছে। কতো প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে তা হয়েছে ! নিও লিবেরাল অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক পুঁজি চলাচল করে দ্রুত। ভারতে সুবিধে না হলে চীনে বা অন্য কোথাও। ফলে বেশি মিলিট্যান্ট আন্দোলন গড়ে তোলার ঝুঁকি অনেক। ... ...

বন্ধু সুদীপ্তার বিয়েতে গিয়ে খেয়েছিলুম পেনেটির গুঁফো। বন্ধুদের বাড়ি পানিহাটিতেই। কিন্তু ওরা এই মিষ্টির সন্ধান জানত না। খোঁজ দিয়েছিলেন মীনাক্ষী ম্যাডাম। মীনাক্ষী সিংহ। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের পড়াতেন। এই সেদিন সুদীপ্তাই হোয়াটসঅ্যাপে একটা শর্টফিল্ম পাঠাল। তনুশ্রীশংকরের মেয়ে অভিনীত ছবি, ‘থার্ড আই’। তাতে দেখি, মীনাক্ষী ম্যাডামও অভিনয় করছেন। সুদীপ্তার বাবা ম্যাডামকে নেমন্তন্ন করতে গিয়েছিলেন। পানিহাটিতে বাড়ি শুনে ম্যাডামের স্বামী জানতে চেয়েছিলেন, ‘তাহলে গুঁফো খাওয়াবেন তো?’ সুদীপ্তার বাবা অবাক হয়েছিলেন। মিষ্টির এমন পুরুষালি নাম শুনে। তবে তিনি খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। গুঁফো বেশ পুরনো যুগের মিষ্টি। এখনকার দোকানদার আর ওই মিষ্টি করেন না। উনি কিন্তু অনেক খুঁজেপেতে, পুরনো দোকানদারকে ধরে বিশেষ অর্ডার দিয়ে মেয়ের দিদিমণির স্বামীর অনুরোধ রক্ষা করেছিলেন। গুঁফো আসলে সন্দেশ। কিন্তু ভিতরে রসালো পদার্থ থাকে। কামড় বসালে সেই রস রসিকের গোঁফে লেগে যায়। গোঁফে লাগে বলেই এমন নাম। ... ...

রাতদুপুরে আমার ধুনুচির ’পরে পরি নামছে। অবিকল পাশের বাড়ির ঠিকে ঝি-র কলেজে পড়া মেয়েটির মতো। তার মুখ জ্যোৎস্না রাতের আলোয় দেখা ঝিলের জলে ভাসমান মেঘ। এই আমি, তারই হাতে হাত রেখে খুলে রাখছি আমার মহাজাগতিক বৃষ্টিবাকল। ... ...

কবিতা থেকেই খুঁজতে চাই কার বাড়ি রানাঘাট, কার মেদিনীপুর, কার শিমুলপুর, কার বাড়ি অজয় নদীর ধারে। স্থানাঙ্ক জানা মানে শুধু স্থান নয়, অবস্থানও। কোন কবির কোন ঝোঁক, তাও বেরিয়ে আসতে পারে। কে কোন জাতীয় মদ খান, কার কোন পোশাক প্রিয়, কে চাইবাসা কতবার গেছেন, কে ধলভূমগড়, এই নিয়ে বহু চর্চা হয়েছে। গায়ত্রী চক্রবর্তী প্রসঙ্গ এখনো বিনয় প্রসঙ্গ এলে যেন আগে এসে পড়ে। কিন্তু, আগে তো কবির কবিতা পড়ি, কবিতা নিয়েই আলোচনায় প্রবৃত্ত হই। সেখানে কবিকে খুঁজতে চাওয়াই তো সঙ্গত। রবীন্দ্রনাথের ' কবি কোনখানে তোর স্থান' বলে একটি লাইন মনে পড়ে গেল। ... ...

যার হবার কথা ছিল মাথার মণি, সে হয়ে গেল গলার কাঁটা। ভূস্বর্গ কাশ্মীর, তার অবস্থান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শান্তিকামী জনগণকে নিয়ে যে কোন রাষ্ট্রের সাধনার ধন হতে পারত। কপালদোষে তাকে নিয়েই গলার কাঁটা বেঁধে যাওয়ার মতো হাঁসফাঁস অবস্থা ভারতের। না পারা যাচ্ছে গিলতে, না ওগরাতে। আর এই দুরবস্থার পেছনে আছে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক অবিশ্বাস, শাসকের ভ্রষ্টাচার, দমন ও শাসিতের মরীয়া বিদ্রোহ, চরমপন্থার জলঘোলা করা এবং অবশ্যই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের লম্বা নাক ঘন ঘন গলানো। দুই দেশই নিজের স্বার্থে যে ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে চলেছে তার নাম কাশ্মীর। তবে এখন আর সে ভূস্বর্গ নয়, রক্তাক্ত, অসন্তুষ্ট এক নরকসদৃশ ঠাঁই যেখানে আত্মঘাতী জঙ্গী নিরাপত্তার ঘেরাটোপ অনায়াসে টপকে বিস্ফোরণে খতম করে দিতে পারে সেনা জওয়ানদের, আবার অন্যদিকে পাঁচশর বেশি নিরপরাধ নাগরিক শিকার হন নির্বিচার পেলেট গানের। তাদের মধ্যে শিশু, নারী, বৃদ্ধ অনেক। মৃত্যু, বিকলাঙ্গতা, অবিশ্বাস, সন্ত্রাস আর ষড়যন্ত্র যেখানে রাজ করে সেই ভূখণ্ডই আজকের কাশ্মীর। ... ...

ইংরেজিতে একটা শব্দবন্ধ রয়েছে -a gift that keeps on giving. একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের শাসকরা এরকম একটা উপহার আবিষ্কার করেছে - low scale conflict বা ক্ষুদ্র আকারের সংঘাত।এ যেন সোনার ডিম দেওয়া হাঁস, হাঁসটাকে যতদিন বাঁচিয়ে রাখা যায়,ততদিন সোনার ডিম দেবে।ইজরায়েলের প্যালেস্তাইন, রাশিয়ার চেচনিয়া,আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্য,ভারতের কাশ্মীর,এই সংঘাতগুলো দীর্ঘকালীন সময় ধরে চলছে,তার প্রধান কারণ এটাই যে এই সংঘাতগুলো মিটিয়ে ফেলায় মুনাফা নেই। ... ...

পুলওয়ামা বিস্ফোরণ পরবর্তী সময়ে দাঁড়িয়ে দেশজুড়ে যে জিঙ্গৈজমের রবরবা, তা যে মব মানসিকতা সেকথা বলার অপেক্ষা রাখেনা। যে চারাগাছে গত কয়েকবছর সারজল পড়েছিলো নিয়মিত, আজ তা মহীরূহে পরিণত। সেই একই রেটরিক, যুদ্ধ চাই যুদ্ধ চাই চিৎকার, সেই ইশকুল-কলেজ-অফিস ফেরত ভারতবাসীর আইপিএলসুলভ আবাল মস্তি নিয়ে যুদ্ধের গজল্লা ---কিচ্ছু পাল্টায় নি। যেমন পাল্টায়নি কাশ্মীর নিয়ে মানুষের সীমাহীন অজ্ঞতা, যদিও গুরুচন্ডা৯ প্রকাশিত কাশ্মীরের প্রথম সংস্করণ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এই অবস্থায় কীই বা লেখা যায়? আমার জানা নেই কোন ভাষায় লিখলে, কোন শব্দ ব্যবহার করলে মানুষকে অন্য মানুষ সম্পর্কে সচেতন করা যায়। ... ...