
এই পাঁচটা বছর বুঝিয়ে দিল। বদলে দিল। বিজেপি যখন ঘরের দোরগোড়ায় চলে এল, তখন বুঝলাম গণতন্ত্রকে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে অবজ্ঞা করার ফল কতটা ভয়ানক হতে পারে। এই পাঁচটা বছরের প্রতি আমি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। এই পাঁচটা বছর আমাকে রাজনীতি চেনাল, আমি জানলাম রাজনীতির বাইরে কিছু হয় না, কিচ্ছু হয় না। আমি জানলাম, আমার চারপাশে কত ক্লোজেট থেকে বেরনো লোকজন ঘুরে বেড়াচ্ছেন, উচ্চশিক্ষিত, সাদা কলারের লোকজন, যাঁরা সব দেখেশুনেও অন্ধভাবে সাপোর্ট করেন যোগীকে, ছাপ্পান্ন ইঞ্চিকে। মনে করেন এঁরাই আচ্ছে দিন আনবেন, এখনও, মনে করেন, এঁরাই বিকাশ আনবেন। এঁরা মনে করেন, মুসলমানরা তো “ওরকমই”। নিচু জাতকে তো “পায়ের তলাতেই” রাখতে হয়, নইলে মাথায় চড়ে বসে। “ওদের” সাথে তো “ওদের” ভাষাতেই কথা বলতে হয়। “ওরা” তো আমাদের থেকে আলাদাই, ওরা শুধু জুতোয় সোজা। ... ...

নীতিশকুমারের, বস্তুত বিজেপি-র, সমর্থকটি দাবি করবেন, “বহোত কাম হো রহা হ্যায়”। ঠিক-ই। পাটনা শহরের চতুর্দিক “কাজে” ঢাকা – ফ্লাইওভারের পর ফ্লাইওভার, নতুন নতুন সরকারি-বেসরকারি ইমারত। “কাজ” মানে এক ঢিলে দুই পাখিঃ চোখে আঙ্গুল দিয়ে আর্থনীতিক উন্নয়ন দেখিয়ে দেওয়া, স্টেট জিডিপি-র বাড়-বাড়ন্ত; পাশাপাশি, অথবা সেটাই মূল উদ্দেশ্য, রাজনৈতিক আপনজনদের আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার পথ করে দেওয়া। লোকের জন্য পথ বলতে প্রায় কিছু নেই, যেটুকুবা আছে তা ধনাঢ্যের অশ্লীল বাহনের দখলে। চতুষ্পার্শে ভর্তি নোংরা, দুর্গন্ধে টেকা দায়। ধনিকের কিছু আসে যায়না, তাদের কাচ-তোলা গাড়িতে বাইরের বাতাসের প্রবেশ নিষেধ। আর দরিদ্র মানিয়ে নিতে নিতে একেই জীবনের অঙ্গ করে নিয়েছে। করে নিয়েও বাঁচার সুরাহা হয়না। দুর্ভাগ্য যেন বিহারবাসীর সহজাত। সেই কবে শুরু হয়েছিল গ্রাম থেকে শহরে আসা – পাটনায় স্থান সংকুলান, অতএব কলকাতা। সে নগরী, ক্রমে, নিজেই হেঁপোরুগী। বঙ্গবাসী জনতাও আজ কাজের খোঁজে দলে দলে পাড়ি দিচ্ছে বিদেশ বিভুঁয়ে। অতএব, বিহারী কর্মজীবীকে কাজ খুঁজতে যেতে হয়, পঞ্জাব, হরিয়াণা, মহারাষ্ট্র, অথবা অন্যত্র। ... ...

ফ্রান্সের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ফ্রান্সিস হল্যান্ডের আমলে ৩৬টি যুদ্ধবিমান ক্রয়ের এই নয়া রাফাল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপরেই তিনি এক-একটি ফরাসি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নরেন্দ্র মোদীর সরকার বলপূর্বক তাঁদের বাধ্য করেছে অনিল অম্বানীর সংস্থাকে পার্টনার হিসেবে এই প্রকল্পের অংশীদার করতে। ব্যাবসার স্বার্থে এই চুক্তিটি হাতছাড়া করতেই এই গা-জোয়ারি মেনে নেন তাঁরা। ফ্রান্সিস হল্যান্ডের এই দাবি দ্যসল্ট সংস্থার মুখপাত্র মেনে নিতে চাননি। কিন্তু ফাঁস-হওয়া তথ্য থেকে পরিষ্কার, সংস্থার বহু কর্মকর্তা চাননি, ভারতীয় অফসেট পার্টনার হিসেবে অনিল অম্বানীর সংস্থাকে বেছে নেওয়া হোক। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই চুক্তির প্রাক্-শর্তই ছিল, রিলায়েন্সকে শরিক হিসেবে নিতে হবে। এদিকে মোদী সরকারের প্রতিনিধিরা, বিজেপি-র নেতারা বুক ফুলিয়ে বলে বেড়ান, রাফালে অনিল অম্বানীর সংস্থাকে অন্তর্ভুক্তিকরণ একান্তই দ্যসল্টের সিদ্ধান্ত। ভারত সরকারের নাকি এই সিদ্ধান্তে কোনও ভূমিকাই নেই। দ্যসল্ট কেন এমন অনভিজ্ঞ দেউলিয়া সংস্থাকে শরিক হিসেবে অগ্রাধিকার দেবে, যারা অতীতে এমন কোনও কাজ করেনি? দ্যসল্টের তরফে এই অস্বস্তিকর প্রশ্ন সবসময়েই এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ... ...

সেনাবাহিনীর জীবনবীমার প্রিমিয়ামের টাকা এদের শেয়ার কিনতেই লগ্নি হয়েছে। এবং এই টাকা কিন্তু সরকারের দেওয়া নয়। কত টাকা? একটা মোটামুটি হিসেব ধরা যাক - ভারতীয় সেনা (শুধু মিলিটারি) তে জেনারেল এর সংখ্যা কমবেশী ৩৫০ জন - এরা জীবনবীমা বাবদ প্রিমিয়াম দেন মাসে ৫০০০/- অর্থাৎ বছরে ৬০০০০/- টাকা - ৩৫০ x ৬০০০০/- = ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। জওয়ান এর সংখ্যা কমবেশী ১৩ লক্ষ - এরা দেন মাসে ২৫০০/- অর্থাৎ বছরে ৩০০০০/- টাকা - মোট ১৩,০০,০০০ x ৩০০০০/- = তিন হাজার ন’শো কোটি টাকা। সব মিলিয়ে বছরে মোট তিন হাজার এগারোশো কোটি টাকার মত - এই বিপুল অঙ্কের টাকার দায়ীত্ব কার? ফান্ড ম্যানেজমেন্ট কে করেন? ভক্তবৃন্দ জানতে চান না - আপনি জানতে চাইলেও পাবেন না - কারণ এর কোন সদুত্তর কারো কাছে নেই। একটি ডুবন্ত কোম্পানির শেয়ার কিনতে এই টাকা লগ্নি করা হয়েছে এবং হচ্ছে - অথচ কোম্পানি বা সেনাবাহিনী কোন তরফেই এই টাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে কোন সদুত্তর নেই। আমাদের মহান সেনাবাহিনী যখন দেশের সেবা করতে নিজের প্রাণ হাতে করে যুদ্ধ করেন, সিয়াচেনে দাঁড়িয়ে পাহারা দেন, তখন তার পরিবারের ন্যুনতম নিরাপত্তা বিধানে সরকার বাহাদুর উদাসীন থাকেন - তাঁকে দেখিয়ে ভোট কেনাটা বেশী জরুরী। ... ...

ভূতের মতো কান্ড যেমন নির্বোধ অতি ঘোর যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন চৌকিদারই চোর আপনারা ভোটের ভিডিও দেখেছেন, ভাটের ভিডিও দেখেছেন। দুই যোগ করে যা হয়, এই হল সেই বস্তু। এই বাজারে আঁচ না পোয়ালে পিছিয়ে পড়বেন। ... ...

পুলাওয়ামা ঘটনার পর দেশপ্রেম আচমকা বেড়ে গেল সবার। তারিখটা আবার প্রেমের দিবসেরও। যাতে এইবার কেন জানি না ভগৎ সিং এর ফাঁসি ঠিক হয়ে ওঠেনি। তা, এই ঘটনার পর দেশের প্রধাণমন্ত্রী তো ভাষণে ফাটিয়ে দিতে থাকলেন। এক সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পর বাইরে থেকে আওয়াজ পেয়ে বারান্দায় এসে দেখি মিছিল চলছে জনা পঞ্চাশ লোক, মোমবাতির বদলে হাতে মোবাইলের ফ্লাশলাইট। স্লোগান শুনলাম একবার ভারতমাতা কি জ্যায় পিছু পাঁচবার করে পাকিস্তান মুর্দাবাদ। বলা বাহুল্য পড়শী দেশের উল্লেখের সময়ে তাদের জোশ যেন ফেটে ফেটে বেরোচ্ছিল। পরে শুনি এই মিছিল ছোট ছোট করে সারা দেশে বেরিয়েছে, কলকাতাতেও। যেন রাস্তার ধারে পাকিস্তান বসে বিড়ি বাঁধছে বলে খবর, এরা খুঁজে বেড়াচ্ছে। ... ...

২০১৬ এর SLST এর নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ ও শূন্যপদে কারচুপি, প্যানেলে গোলমাল, মেরিট লিস্টে সব তথ্য দেওয়া ও অন্যান্য বেশকিছু দাবিতে কলকাতার মেয়ো রোডে অনশনে বসেছেন চাকুরি প্রার্থীরা। তাদের অনেকগুলি দাবির মধ্যে মূল দাবি হল তাদের সবাইকে চাকরি দিতে হবে। যদিও তারা এমপ্যানেল্ড নন, ওয়েট লিস্টেড কিন্তু তাদের বক্তব্য এস এস সি শূন্যপদ চেপে দিয়েছে এবং ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতি হয়েছে কিনা বলতে পারব না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ।কিন্তু শূন্যপদ কমে যাওয়া নিয়ে যে দাবিটা হচ্ছে তা আসলে কতখানি সঠিক তা দেখা যেতেই পারে। আসুন পুরো ব্যাপারটার ওপর আলো ফেলা যাক। বিষয়টি আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে খুব সরল। এত দিন এস এস সি হল না তাও সীট কেন ততখানি বাড়ল না। ভিতরে অনেক কথা আছে। এক এক করে আলোচনায় আসা যাক। ... ...

কেন এই আন্দোলন নায্য আন্দোলন। এই যে ৭ বছরে তৈরি হয়েছে হাজার ভ্যাকেন্সি,সেই তুলনায় নিয়োগ হয়েছে খুবই কম। ফলাফল? স্কুলগুলো ধুঁকছে শিক্ষকের অভাবে,বেকারত্ব বাড়ছে আর আমাদের মতন স্থায়ী শিক্ষকদের ওপরে চাপ বাড়ছে। আমরা overburdened। কিন্তু তাতে সরকারে কি কিছু এল গেল? নাঃ কাঁচকলা। কিসসু এল গেল না। শুধু আমরা দেখলাম ক্রমশ ভেঙ্গে পড়ছে,সংকুচিত হচ্ছে সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা,দলে দলে শিশুরা গিয়ে ভর্তি হচ্ছে প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে আর যাদের সামর্থ্য নেই তারা আর পড়ছে না। হ্যঁা মিড ডে মিল,ড্রেস,ব্যাগ দেওয়া সত্ত্বেও তারা ড্রপ আউট,কারণ কে পড়াবে তাদের? শিক্ষক কই? আর উল্টোদিকে একটা গোটা দশককে আমরা চোখের সামনে শিকার হতে দেখছি বেকারত্ত্বের,সমস্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও। ... ...

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম বিজ্ঞপ্তি তে ১১-১২ স্তরে শূন্যপদ ৬২১৩, আর তার দুবছর বাদে ইন্টারভিউ এর আগে হলো ৫৭১২। তৃতীয় কাউন্সেলিং এর জন্য রাখা ৮২২ টা পদ কমে হলো ৪৯০। কি বললেন?ও সেই কনভার্সন? দারিভিট? তার মানে আপনি বলছেন ওই ভ্যানিশ হয়ে যাওয়া পদগুলোর একটা বড় অংশই আমরা নবম দশম এ দেখতে পাবো? একই সাথে বলতে চাইছেন যে দারিভিট কাণ্ডের মতো ঘটনার জন্য যাদের গাফিলতি দায়ী তারা সবাই দুস্টু ছেলে তাই শূন্যপদ নিয়ে ছেলেখেলা বা পৃথিবীর ইতিহাসে নজির সৃষ্টি করে ঘোষিত বিজ্ঞপ্তির চেয়ে শূন্যপদ কমে যাওয়া কোনো অপরাধ নয়? আপনি আজকের পশ্চিমবঙ্গে দাঁড়িয়ে বলতে চাইছেন যে নিয়োগে 'হয়তো' দুর্নীতি হয়েছে? ... ...

"লিখতে বসে বেশ গুরুগম্ভীর ভূমিকা লিখব ভাবছিলাম। ফ্যাসিবাদ, মানুষের অধিকার নিয়ে বড়সড় কিছু লিখব ভাবছিলাম। হল না। তাই যা দেখেছি তাই লিখেছি। ব্যক্তি মানুষের দেখার চোখের কিছু ভুল ত্রুটি থেকে গেল হয়তো। কুড়ি মার্চ বিকেলে প্রেস ক্লাব প্রথম যাই। হোলির সপ্তাহ। পরিবারের সাথে সময় কাটাবো বলে তিনটে দিন ছুটি নিয়েছিলাম। একুশ তারিখ নেহাত ই উৎসুক হয়ে দেখতে গেছিলাম এস এস সি র অনশন মঞ্চে। শোস্যাল মিডিয়া তে কদিন ধরে বিভিন্ন পোস্ট থেকে অনশন র কারণ অথবা এই কদিনে অনশনের জন্য বিভিন্ন দুর্ভোগের কথা কানে আসছিল।..." -এসএসসি যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের প্রত্যক্ষদর্শীর প্রতিবেদন ... ...

প্রকাশিত হল নারীদিবস পর্ব তিন। এবারের বিষয় শরীর, মন, স্বাস্থ্য ইত্যাদি। নারীদিবসের লেখালিখির ব্যাপারে আমরা অসম্ভব সাড়া পেয়েছি, যেজন্য সমস্ত লেখাগুলি প্রকাশ করতে তিনটি পর্বের প্রয়োজন হল। তবে, যেমন আগের পর্বেই বলা হয়েছে, মেয়েদের ইস্যুগুলি তো কেবল নারীদিবস কেন্দ্রিক নয়। এগুলি সারাবছরের ব্যাপার। তাই দিনক্ষণ পেরিয়ে গেলে ক্ষতি কিছু নেই। আবার কৌতুহল্লোদ্দীপক লেখা পেলে দিনক্ষণ ছাড়াই যেকোনো সময়ে আমরা প্রকাশ করে থাকি, এবং ভবিষ্যতেও করব। ক্লিক করে পড়তে থাকুন নারীদিবসের বিশেষ লেখাগুলি। ... ...

আমি রেগুলার জিমে যাচ্ছি এখন --একটু ভদকা চলতেই পারে,সবচেয়ে কম ক্যালরি--বল? একটা ছোট পেগ দে ভাই --মাত্র 55 ক্যালরি। কি বানাবি --ব্লাডি মেরি না স্ক্রু ডাইভার? যাই হোক--সঙ্গে যোগ হল অতিরিক্ত চারশো ক্যালরি। এক দু সিপের পর --'চিকেন উইথ চিজ' এক টুকরো দাঁতে কাটতে নেওয়া হল--আরো অতিরিক্ত চারশো ষাট ক্যালরি। এক পেগের পর--আর একটু-- ... ...

রোদে যেও না, রং পুড়ে যাবে। শোনো, তুমি কালো, রং ফর্সা হবার ক্রিম মাখো, নইলে কেউ ফিরে দেখবে না। তুমি বেঁটে। কষ্ট হোক,তাও হিল পরো। নইলে বেগুন গাছে আঁকশি দিতে হবে বলে পাত্রপক্ষ বাতিল করে দেবে। তুমি লম্বা, মানে ঢ্যাঙ্গা। এমনভাবে সাজো যাতে একটু কম লম্বা দেখায়। নয়তো ছেলেরা কমপ্লেক্সে ভুগতে পারে। তোমার চোখে এত বেশি পাওয়ার! লেন্স পরো। হাত পা খড়খড়ে? সর্বদা ব্যাগে রাখো হ্যান্ডলোশন। শরীর কে যত্নে রাখো, যাতে সারাদিন আগুনের পাশে বসে রাঁধলেও ত্বক সুন্দর থাকে। ক্লান্তির ছাপ যেন না পড়ে এতটুকু। পত্রিকা জ্ঞান দেয়, রান্না করতে করতে মুখে মেখে নিন টোম্যাটোর রস; পোড়া ভাব কেটে যাবে। আপিস যাবার সময় ব্যাগে রাখুন ফাউন্ডেশন আর গয়না। টয়লেটে ফ্রেশ হয়ে বিয়েবাড়ি চলে যান। পার্টি থাকলে আরেক সেট্ পোশাক রাখুন সঙ্গে। শরীরকে যত্নে রাখুন, আগলে রাখুন সতীচ্ছদ। সাইকেল চড়িস না বেশি মেয়ে, হাইমেন্ ছিঁড়ে যেতে পারে। নাচ ? বস্তি প্রদেশের অতিরিক্ত ব্যবহার মেয়ে মানুষের ভালো নয়। আস্তে হাঁটো। ধীরে মৃদুস্বরে কথা বলো। চোখ আনত অনাঘ্রাত থাকো। তোমার শরীর তো নিবেদনের জন্য। ... ...

সত্যি বলতে কি খবরটা পড়ে প্রথমে বেশ রাগ হয়েছিল। কাজল লাগাতে না পারা আত্মহত্যার কোন কারণ হল! তারপর ভাবলাম আমিই বা তবে খুঁজেপেতে স্মাজ-ফ্রি কাজল কিনি কেন? রোজ না হোক, যেদিনগুলোতে পড়াতে হয়, সেমিনার দিতে হয়, কমপ্যাক্ট দিয়ে তেলতেলে মুখ মেরামত করি কেন? হয়ত কাজল ধেবড়ে গেলে আত্মহত্যার ইচ্ছে জাগে না। কিন্তু নিজেকে সুন্দর দেখানোর মহাযজ্ঞে আমিও নাম লিখিয়েছি এবং এর মধ্যে কোথাও আমার নিজস্ব সৌন্দর্যাকাঙ্খা লুকিয়ে নেই। যদি চুল না আঁচড়ে, টি-শার্ট আর র্যাপ অ্যারাউন্ড পরে, তেলতেলে মুখে ক্লাসে ঢুকলে আমার একটুও সমালোচনা হবে না এমন ভরসা কেউ দিত, তাহলে আমি একদম এসব করে সময় নষ্ট করতাম না। ... ...

অনেক ভেবেও অঙ্কটা মেলাতে পারেনা ও। ছোট থেকেই আর পাঁচটা ছেলের থেকে ও একটু আলাদা। সবাই যখন খেলার মাঠে দাপিয়ে বেড়াত, ও তখন ঘরে বসে ছবি আঁকত নয়ত গান শুনত। ঠাম্মা বলত, সমু আমাদের লক্ষ্মী ছেলে ... ...

ডিসেম্বর মাসে তার গ্রীনকার্ড সরকার থেকে বাজেয়াপ্ত করা হল। আলেহান্দ্রো এদেশে আসেন ইমিগ্রান্ট হয়ে। ১৭ বছর তার কোন বৈধ পরিচয়পত্র ছিলনা। পড়াশোনায় মেধাবিনী আলেহান্দ্রো অনেক পরিশ্রম শেষে, যোগ্যতা প্রমাণ করে গ্রীনকার্ড পেতে সমর্থ হন। অ্যাবরশন বিরোধী বিল নিয়ে কাজ করতে করতে অ্যাক্টিভিস্ট হয়ে ওঠেন তিনি। অ্যাবরশন বিরোধী বিক্ষোভ ও অবস্থানের জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। 'রাষ্ট্র-বিরোধী' - এই অভিযোগ দেখিয়ে তার গ্রীনকার্ড কেড়ে নেওয়া হল গত শীতে। অ্যাবরশন নিয়ে আন্দোলন এদেশে পুরাতন ঘটনা। কন্সারভেটিভ নারীরা বিশ্বাস করেননা, তাহারা অপমানিত জীবন কাটাইতেছেন, তাহাদের স্বাস্থ্য-শরীর সম্পর্কিত ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে বাধা আরোপ করা হইতেছে অথবা তাহাদিগকে ধোঁকা দেওয়া হইতেছে। পক্ষী যেরূপ বাঁধা থাকিলেও বন্ধনকারীর শিখানো বুলি আউড়াইতে চাহে ... ...

দোলের দিন পাড়ায় প্রভাতফেরি হল। কী সুন্দরী সব মহিলা, সুবেশ পুরুষ, খোল দ্বার খোলের সঙ্গে অভিজাত পদক্ষেপে হেঁটে যাচ্ছেন। যে তরুণের বাইকে চেপে প্রেস ক্লাবে যাচ্ছিলাম সে বলল,দেখছেন রাস্তাও লালে লাল, আর আবীরের গন্ধমাখা। অসাধারণ গদ্য আর কবিতা পড়লাম কিছু। সত্যি অসাধারণ। এমনকি যেখানে ছেলেমেয়েরা অনশনে বসেছে সেখানেও বাঁধানো বেদীর মস্ত গাছে নতুন কচি পাতা। শুধু বাইশ দিনের উপোসে শুকনো মুখগুলোতে বসন্ত অনুপস্থিত। হাতে প্ল্যাকার্ড, রোদ এড়াতে ছাতা আর ফুটপাথে বিছানো ত্রিপলের ওপর ক্ষিদে আর আশাভঙ্গের অভিঘাতে শুয়ে আছেন যারা, তারা এ দেশের হবু শিক্ষক। ... ...

কিছু কিছু কাজ শোনা যায় অ-মহিলাজনোচিত। কিছু কিছু কাজ মেয়েরা পারেননা বা করেননা। সব সময়েই। এখানে রইল কয়েকটি উল্টো দৃষ্টান্ত, এমন কিছু মহিলার কথা, যাঁরা সমসময়ের ধারণাকে উল্টে শুধু বাইরে বেরিয়েছেন তাই নয়, সফলও হয়েছেন তথাকথিত উটকো পেশায়। আমেরিকা অস্ট্রেলিয়া সাইবেরিয়া বা নিকারাগুয়া নয়, এই মহিলারা আছেন বা ছিলেন ধারেকাছেই, হাতের নাগালে। এপার ও ওপার বাংলায়। তাঁদের কথা নিয়েই বেরোলো নারীদিবস পর্ব দুই। এখানেই অবশ্য শেষ নয়, এর পর তৃতীয় কিস্তিও আসবে। আমরা ঠিক দিবস মেনে লেখা বার করিনা, ফলে দিনক্ষণ চলে গেলে ক্ষতি ... ...

আমার তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষ। দাদার হঠাত মৃত্যু। পড়া ছেড়ে ঘরে ফেরা। সংসার আর চলে না। আমার মাথার উপর এসে পড়ল সব। মাত্র দুই বিঘা জমি তখন সম্বল। প্রাইভেট পড়িয়ে পয়সা এনে চলে না সংসার। পাশাপাশি চাষীদের দেখে চাষ শুরু করলাম। কোদাল হাতে প্রথম দিন চোখের জলে ভিজে গেল জমি। পয়সা নেই, রোদে থাকতে পারি না ঘণ্টার পর ঘণ্টা, চাষের পদ্ধতি জানি না, সবটাই প্রতিকূল। শুরু করলাম চাষের বই পড়া। শুনতে শুরু করলাম আকাশবাণীর চাষের আলোচনা রেডিওতে। সেখানে জানলাম জমির মাটি পরীক্ষা প্রথম কাজ। মাটি নিয়ে গেলাম। ল্যাবরেটরিতে। সেখানে লোকজন আমাকে দেখে খুব অবাক। আমি নিজেই চাষী পরিচয় দেওয়ায় তারা খুব অবাক। ... ...

মিরোনা খাতুন নামে এক উজ্জ্বল মশালের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। পুরুষদের পেশাদার ফুটবল দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন মিরোনা খাতুন। বহির্বিশ্বে এমন নজির দেখা গেলেও ভারতীয় উপমহাদেশে এই দৃষ্টান্ত এটাই প্রথম।বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন লিগে ঢাকা সিটি এএফসি ক্লাবের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়ে দেশের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে গেছেন মিরোনা। কোন প্রকার দয়া বা কারো করুণায় এই দায়িত্ব পাননি মিরোনা। এএফসি বি লাইসেন্স প্রাপ্ত কোচ তিনি।কোচিংয়ের যাবতীয় শর্ত মেনেই মিরোনাকে দেওয়া হয়েছে ঢাকা সিটির দায়িত্ব। নিজে ছিলেন দীর্ঘদিন জাতীয় দলের খেলোয়াড়।জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়ে নৌ বাহিনীতে এথলেট হিসেবে খেলেছেন কিছুদিন। তারপরেই করেন এএফসি বি লাইসেন্সের কোর্স। ফলাফল পেশাদার গোটা একটা ফুটবল দলের প্রধান কোচ এখন তিনি। মিরোনার অবশ্য এখানেই থেমে যাওয়ার ইচ্ছা নাই ... ...