
বিগত দশ দিন যাবৎ দেশের আকাশ বাতাস "মার মার" "ধর ধর" "কাট কাট" শব্দে পুনরায় মুখরিত হইয়াছে। বীরভোগ্যা বসুন্ধরার মাঝে যে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা - তাহার যে বীরের অভাব নাই তাহা এক্ষণে সর্বজনবিদিত। সুকুমার রায় ইহাদের কথা ভাবিয়াই একদা বলিয়াছিলেন - "বীর বলে বীর! ঢাল নেই তরোয়াল নেই খামচা মারেঙ্গা"। সেই খামচার ঠেলায় অস্থির ভারতবাসী অতঃপর অস্থিতে অস্থিতে টের পাইয়াছেন বীরত্ব কাহাকে বলে। কলেজ ছাত্র হইতে ইস্কুল মাস্টার, গৃহবধু হইতে চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার হইতে আইটির ভাইটি - কেহ বিন্দুমাত্র দেশদ্রোহের আভাসমাত্রও দেখাইলেই বীরপুঙ্গবগণ লাঙ্গুল শক্ত করিয়া তথায় উপস্থিত হইয়া নিজ বীরত্ব প্রদর্শনপূর্বক কদলী ভক্ষণ করিয়া পাকিস্তানকে সমঝাইয়া দিয়াছেন। ... ...

দেশে বিদেশে, স্বাচ্ছন্দ্যের শিখরে বসে, বিজয়ের কৃতি ও সফল বন্ধুবান্ধবেরা বলছে RIP. পাঁচতারায় ডিনারের মাঝে এক ফাঁকে তারা হোয়াটস্যাপে তীব্র দেশপ্রেমের মেসেজ ফরোয়ার্ড করছে, পানীয়ের গ্লাসটুকু ভরে নেওয়ার মাঝে টুক করে ছড়িয়ে দিচ্ছে দেশের মধ্যে লুকিয়ে থাকা শত্রুদের নিকেশের আহবান। বিজয়ের সাথে স্কুলে ভরতি হয়েও মাঝপথে পড়া ছেড়ে দিতে বাধ্য হওয়া বন্ধুরা পানের দোকানে আড্ডা দিতে দিতে কাঁচা খিস্তি করছে প্রতিশোধ চাইছে আর ফেসবুকে বলছে, RIP. ... ...

মধ্যিখানে আগাম খবর থাকা সত্ত্বেও জওয়ানদের 'শহিদ' ট্যাগিয়েই স্রেফ দায় তথ্যচিত্র শুটিংয়কালীন ব্যস্ত ছাপ্পান্ন-ইঞ্চির ছাতিতে রাখা যায় না সদলবলে ক্যামেরাম্যানের খিঁচিকসহযোগে কুম্ভমেলায় পা-ধোয়াধুয়ি কেসে মহান সাজা যায়...সেসব অবশ্যি জিপিএসের 'অ্যাড স্টপেজ' জিরোনো টাইমপাস। এখানে ফিসফাস চলে তবে গলা তোলা বারণ। যাবতীয় প্রশ্ন যা মোদীবিরোধী তাই দেশবিরোধী...এই সহজ ইকুয়েশনটুকু না বুঝলে সিঁড়িভাঙা অব্দি পৌঁছবেন কীভাবে! ... ...

কাকে বলব শুভ বুদ্ধি আর কাকেই বা বলি অশুভ বুদ্ধি? পুলওয়ামা কান্ডের পরে সেটাই গুলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।নিতান্ত ছা-পোষা গেরস্ত মধ্যবিত্ত মানুষেরা এতকাল সুখে সোস্যাল-মিডিয়ায় সেলফি-যাপন করছিল। তারাও হঠাৎ হাল্লা রাজার মতন যুদ্ধু- যুদ্ধু বলে লাফিয়ে উঠল। যারা সেই তালে তাল মেলাতে রাজী নয়, তাদের নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের ঝড় উঠল।এই অবধি হলে ঠিক ছিল। এসব চেনা ঘটনা। এ রকম দেশাত্মবোধের জোয়ার ২০১৬ সালেও দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবার ঘটনা গড়িয়ে চলল আরো একটু দূর। একদিকে রাজ্যপাল থেকে সেনা-নেতা, সব তাবড় লোকেরা কাশ্মিরীদের বয়কটের ডাক দিচ্ছেন – পুরো দেশটাকে একটা বাইনারীতে ভেঙ্গে ফেলার মরিয়া চেষ্টা, অন্য দিকে সামান্যতম বিরোধীমতের আভাসে সোস্যাল মিডিয়ায় ভয় দেখান, যৌন-হেনস্থা, নোংরাতম কথা বলা পেরিয়ে শুরু হল বাড়ি ধাওয়া করে হেনস্থা, ভাঙচুর। এবং চাকরী থেকে তাড়ানো। কারণ? ... ...

এত বড় ধরনের জঙ্গি হানা কীভাবে ঘটতে পারল,সেনা চলাচলের সময় সমস্ত সুরক্ষাবিধি ঠিকমত মানা হয়েছিল কীনা - এই সমস্ত প্রশ্নকে আমল না দিয়ে শাসক দলের দিক থেকে বেছে নেওয়া হল যুদ্ধোন্মাদনা তৈরির পথ। সেনাবাহিনীর প্রতি দেশবাসীর বৃহত্তর অংশের আবেগ এবং পাকিস্থানের প্রতি দীর্ঘলালিত বৈরিতার মনোভাবকে পুঁজি করে যুদ্ধের আবহ গড়ে তোলা হল।সার্জিকাল স্ট্রাইক -২ থেকে শুরু করে পুরোদস্তুর যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে চায়ের দোকান থেকে ফেসবুকের ওয়াল, ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে নামজাদা টেলিভিশন চ্যানেলের নিউজরুম – সর্বত্র ব্যাপক উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়ে গেল। অচিরেই শত্রুর তালিকা বাড়তে শুরু করল এবং পাকিস্থানের পাশাপাশি কাশ্মীরী আম জনগণকেও শত্রু তালিকায় ঢুকিয়ে ফেলা হল। কাশ্মীরী ব্যবসায়ীদের পণ্য বয়কটের ডাক দেওয়া হল, কাশ্মীরের মানুষজনকে দেশের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে রাজ্যে ফিরে যাবার হুমকি দেওয়া হল। আমাদের কোলকাতা শহরেও হুমকির মুখোমুখি হলেন এক কাশ্মীরী চিকিৎসক, যিনি বহুবছর এই শহরে ডাক্তারী করছেন। বিভিন্ন রাজ্যে কাশ্মীরী মেলা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, কাশ্মীরের ছাত্র সহ বিভিন্ন মানুষদের হেনস্থা নিগ্রহ করা হচ্ছে – এরকম উদ্বেগজনক ভিডিও আমরা সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পেতে শুরু করলাম। ... ...

নারদ কহিলা মাগো ইদানিং দেখি। ঘরে ঘরে ক্যানসার স্ত্রী রোগ এসব কী! লক্ষ্মী কহেন এই কুস্বাস্থ্যের মূল। অসুস্থ অভ্যাস আর শিক্ষাগুলি ভুল।। আজ হইতে শুনে রাখো আমার আশয়। ঋতুকথা নহে আর লজ্জার বিষয়।। ঋতুকালে ‘বস্ত্রখণ্ড’ নাহি নিও কভু। তব সুস্থতা লাগি দিয়াছেন প্রভু।। ‘স্যানিটারি ন্যাপকিন’ মূল্য নহে বেশি। স্ত্রীরোগকে দূরে রাখে দৃঢ় থাকে পেশী।। পেশী দৃঢ় থাকে যদি জানো কি তখন। প্রতিরোধ করা যায় জরায়ু স্খলন।। অপরিচ্ছন্ন বস্ত্রখণ্ড রোগ আনে শত। শতরোগে জীর্ণ নারী কষ্ট পাবে কত।। আরো বলি শরীরের পরিণতি হলে। তবেই কন্যারে নিও বিবাহের স্থলে।। বিবাহ করিবে যবে হবে অষ্টাদশী। দু’বৎসর পতিসহ থাকো হাসিখুশি।। ... ...

নব্বই দশক নাগাদ, মুক্ত অর্থনীতির আবির্ভাবের সাথেসাথেই আপনি জানতে শুরু করলেন, যে, সরকারি হাসপাতাল সাক্ষাৎ নরক, সেখানকার ডাক্তারেরা ফাঁকিবাজ দুর্ব্যবহারী ইত্যাদি ইত্যাদি - আর, হ্যাঁ, এখন কলকাতাতেই এসে গিয়েছে বিশ্বমানের চিকিৎসা, চিকিৎসাপরিষেবা, ওই পাঁচতারা হোটেলতুল্য হাসপাতালগুলিতে। এই একই সময়ে নেতামন্ত্রীরা ধীরে ধীরে নিজেদের চিকিৎসার জন্যে যেতে শুরু করলেন বেসরকারী হাসপাতালে।অর্থাৎ, বেসরকারী হাসপাতালই যে উন্নততর পথ, তা সামাজিক মান্যতা পেয়ে যেতে থাকলো।ঝাড়া সিকি শতকের মগজধোলাইয়ের পরে, আপনাকে যদি কেউ উল্টোটা বোঝাতে আসে, কেউ যদি বলেন আপনাকে, যে সংখ্যার চিকিৎসক মিলে যে সংখ্যার রোগী সামলানো হয় সরকারি স্বাস্থ্যকাঠামোয়, আর সেই চিকিৎসার রেজাল্ট অধিকাংশ অসুখের ক্ষেত্রেই বিশ্বের গড়ের চাইতে কম নয়, একে যদি আপনি সাফল্য না মানেন, একে যদি আপনি দক্ষতা বলে স্বীকার না করেন, তাহলে আপনার কাছে দক্ষতার সংজ্ঞা ঠিক কী? ... ...

মেডিসিনের মানুষমুখী, মানুষের রোগ-মুখী নয়, হয়ে ওঠার জন্য আমরা পুনরায় পাঠ করছি “আরোগ্য-নিকেতন” ২০১৯ সালে! আরোগ্য-নিকেতন উপন্যাসে জনস্বাস্থ্যের কথা নেই, বরঞ্চ রয়েছে ব্যক্তি রোগীর চিকিৎসার কথাই। কিন্তু কেন্দ্রীয় চরিত্র জীবন মশায় এবং তাঁকে ঘিরে থাকা মানুষেরা এমনভাবেই সমাজে নোঙ্গর ফেলে আছে যে সমাজ-স্থিত ব্যক্তির চিকিৎসার মধ্য দিয়ে জনস্বাস্থ্যেরও একটি রেখাচিত্র, ionchoate চেহারা ধরা পড়ে। ... ...

আমি বললাম, “এই বাচ্চা গ্রামীণ হাসপাতালে রেখে কী করবে। কান্দিতে রেফার করে দাও।” “বাড়ির লোককে কান্দি নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছি। কিন্তু ওরা নিয়ে যাবে না। বাচ্চাটির বাবার বক্তব্য এই সন্তান জোর করে বাঁচিয়ে কোনও লাভ নেই। ও কোনও দিনই সুস্থ জীবন পাবে না। তার থেকে এ বাচ্চা মরে যাওয়াই ভাল। ওরা তো বাচ্চা হাসপাতালে রেখেই মাকে নিয়ে চলে যাবে বলছিল। কোনও রকমে আটকেছি।” আমি বললাম, “তাহলে আর কি। এখানেই থাকুক বাচ্চা। বাড়ির লোককে ভালো করে বুঝিয়ে সই করিয়ে রাখো। তারপর যা হওয়ার হবে।” কিন্তু যা হ’ল তাকে খুব ভাল বলা যায় না। পরের দিন আমার ২৪ ঘণ্টা অনকল ডিউটি। সকাল সাড়ে সাতটার সময় হাসপাতালে ঢুকতে গিয়ে দেখি প্রায় সমস্ত গ্রামের লোক জড় হয়েছে হাসপাতালের সামনে। আশেপাশের গ্রাম থেকেও ভ্যানে করে, হেঁটে অনেক লোক এসেছে। সবাই বাচ্চাটাকে একবার চোখের দেখা দেখতে চায়। যারা ইতিমধ্যে দেখার সুযোগ পেয়েছে তারা অন্যদের কাছে গল্প করছে। এবং তাদের গল্পের গরু মাঝে মাঝেই গাছে উঠে যাচ্ছে। একজন বলছে, ‘দেখে এলুম রাক্ষস বাচ্চাটা জন্মানোর পর পরেই হামা দিতে শুরু করেছে।’ আরেকজন বলছে, ‘রাক্ষসটা ঘন্টায় ঘণ্টায় লম্বায় বাড়ছে। জন্মের পরে যা দৈর্ঘ্য ছিল ইতিমধ্যে তার দ্বিগুণ হয়ে গেছে।’ যারা এতক্ষণেও বাচ্চাটার দর্শন পায়নি তারা অধৈর্য হয়ে উঠেছে। সবাই দল বেঁধে হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঢোকার চেষ্টা করছে। আমি চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলাম। ওয়ার্ড ফাঁকা করতে চাইলাম। লোকজনকে বোঝাতে চাইলাম এটা মোটেই রাক্ষস নয়। ... ...

ফরসা করার ড্রাগগুলি কি রকমের আর সেগুলি কি ভাবে শরীরের ত্বকের উপর ক্রিয়াকরে থাকে ? এগুলির বেশীর ভাগই একপ্রকার পেট্রল জেলী বা ওই জাতীয় জেলপলিমারের বেসে মিশিয়ে কিছু সুগন্ধ রসায়নের নির্ষাস দিয়ে তৈরী করা হয়।আর কিছু গাছপালা যা ৬০ বছর আগেও আগাছা মনে করে গরু ছাগলকে আটকানোর জন্য মাঠে বেড়ার কাজে ব্যবহিৃত হত যেমন আ্যলুভেরা এখন সর্বঘটে কদলী। কাজেই একটু আ্যলুভেরার জেলী তাতে মিশিয়ে দিয়ে জিনিষটিকে প্রায় প্রাকৃতিক নির্যাস ঘোষনা করা হয়।এবারে একটু কালো শরীরের বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করলে দেখা যাবে যে সূর্যের অতি বেগুনী আলো ও গরম আবহাওয়ার মাত্রারিক্ত প্রভাব যা মানুষের ক্ষতিকারক সেগুলো থেকে বাঁচার জন্য প্রকৃতি এক ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছে। এক অতি প্রয়োজনীয় আ্যমিনো আসিড,টাইরোসিন, এ কাজের প্রধান রসায়ন।এবারে টাইরোসিনেজ এনজাইমের দক্ষতায় এই টাইরোসিন প্রথমে অতি প্রয়োজনীয় ডোপা নামক রসায়নে পরিবর্তীত হয়ে বেশ কয়েক এনজাইমের ধাপে ধাপে প্রভাবে কালো রঙের পিগমেন্ট, মেলালিন, তৈরী করে থাকে। এই মেলানিন তৈরীর সংযুক্ত এনজাইম প্রক্রিয়াকে মেলানোজেনেসিস বলা হয়ে থাকে।এই মেলালিনই হলো কালো রঙের উৎস যা ত্বকের নিচে অবস্থান করে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির ক্ষতির হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে। এখানে বলে রাখা ভালো যে অতি বেগুনী রশ্মিও তিন প্রকারের আর এর মধ্যে শুধু একটি একটু ক্ষনের জন্য গায়ে পড়লেই পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি তৈরী করে থাকে। যার শরীরে মেলানিন কম বা নেই সে ফরসা আর যার শরীরে খুব বেশী সে খুব কালো। ... ...

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, গুরুতর দুর্নীতিতে লিপ্ত হলেও সহজে কোন তালিকাভুক্ত হাসপাতালকে তালিকা থেকে বার করা যাবে না। জালিয়াতিকে পাঁচটি শ্রেণীতে বিন্যস্ত করা হয়েছে। কোন এক শ্রেণীতে তিনবার অভিযুক্ত না হলে তাকে তালিকা থেকে বার করা হবে না। মানেটা এরকম বিভিন্ন শ্রেণীতে জালিয়াতি করার মোট অন্তত ১০টা সুযোগ পাবে একেকটা হাসপাতাল। ... ...

নর্মাল ডেলিভারির সুফল অনেক বেশি। কিন্তু মেডিক্যালি প্রয়োজনীয় হলে সিজার করতে হবে। এর বাইরে ডাক্তারের "ইচ্ছে" বা মায়ের/বাড়ির লোকের "ইচ্ছে"কে আমরা যত বেশী মর্যাদা দেব, তত বেশী মা ও শিশুর স্বাস্থ্যহানি ঘটবে। ... দিনের শেষে সিজার নামক এপ্রোপিয়েট টেকনোলজি বা যথোপযুক্ত প্রযুক্তিকে কাঠগড়ায় তুলে লাভ নেই। প্রযুক্তির ব্যবহার বা অপব্যবহার, সবটাই আমাদের হাতে। সচেতন হওয়ার সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ... ...

এক্সডি আর মেডিসিনের কোর্স হলো দু'থেকে তিন বছরের। বর্ষার ক্ষেত্রে আমায় তিন বছরই দিতে হয়েছিলো। রোগ বাসা বেঁধেছিলো বড্ডো বেশি গভীরে। এই তিনবছর বর্ষার দাদা নিয়ম করে প্রত্যেক ভাই-দুজে বর্ষাকে নিয়ে গেছে। আবার কথা মোতাবেক ফেরতও দিয়ে গেছে। বর্ষার এখানে থাকা প্রায় সাত বছর হতে চললো। বর্ষা যখন এসেছিলো, তখন খড়ি ওঠা শনের নুড়ি জড়োসড়ো একটা রোগে ভোগা বাচ্চা। সেই বর্ষাই এখন আমার ওয়ার্ডের সবথেকে স্টাইলিশ মেয়ে। রাউন্ডের সময় সবথেকে টিপটপ হয়ে বসে থাকে। ঝকঝকে হাসি, পনিটেইল চুল, নেলপালিশ পা। আমি খুনসুটি করি--" হেব্বি লাগছে তো রে ভাই..", বর্ষা সরস্বতী পুজোর দিনের মেয়েদের মতো হাসে। ... ...

ডাঃ খান বললেন, “বাজে বকিস নে ঐন্দ্রিল। বাষট্টি পেরিয়ে তেষট্টি হল। আমার এখন এক এবং একমাত্র লক্ষ পঁয়ষট্টি ক্রস করে এই হেলথ সার্ভিস থেকে পালানো। মাঝরাতে এসব ঝামেলার রোগী দেখলে কাউন্সিলিং তো দূরের কথা, গালি দিতে ইচ্ছে করে।” ... ...

কোনভাবেই শিডিউল H তালিকায় থাকা ওষুধ প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি করা যায় না, এবং বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করাও যায় না। বছরে দেড় হাজার কোটি টাকার (এই হিসেবেটি বছর তিনেকের পুরোনো) ওপরে ব্যবসা ষ্টেরয়েড ক্রিমের, তার প্রায় দুই তৃতীয়াংশ কোন প্রেসক্রিপশন ছাড়াই, যার প্রায় পুরোটাই অপব্যবহার, পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশে যেটা সম্ভব নয়। ... ...

বিরাট উদ্যমের পরেও বাংলায় সাম্প্রদায়িকতা জয়ী হয়নি। বর্ণহিন্দু আসনগুলিতে কংগ্রেস বিপুলভাবে জিতলেও, মুসলমান আসনে মুসলিম লিগ একেবারেই ভালো করেনি। বেশিরভাগ আসনে জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ পার্টি হয় মূলত মুসলমান চালিত কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ দল, ফজলুল হকের কৃষক-প্রজা পার্টি ( মুফাফফর আহমেদ এবং নজরুল ইসলাম উভয়েই এই পার্টির ঘনিষ্ঠ ছিলেন)। ফজলুল হক কংগ্রেসের সঙ্গে জোট সরকারের প্রস্তাব দেন। ১৯০৫ সালের ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে বাংলায় হিন্দু-মুসলিম উভয়ের প্রতিনিধিত্বে ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের সম্ভাবনা তৈরি হয়। এবং শুনতে আশ্চর্য লাগলেও গান্ধির নেতৃত্বে ধর্মনিরপেক্ষ দল কংগ্রেস দ্বিতীয়বার ধর্মনিরপেক্ষতার পিঠে ছুরি মারে (প্রথমটি ছিল কেবলমাত্র হিন্দু আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত)। কংগ্রেস জানায়, তারা জোট সরকারে অংশগ্রহণ করবেনা, সমর্থনও দেবেনা। ফজলুল হক বাধ্য হন মুসলিম লিগের সঙ্গে জোটে যেতে। ... ...

লারপেন্ট সাহেবের দপ্তরের ভার নিলাম আমি। প্রথম দিন অফিসে ঢুকে মনে হল ভুল করে কোন ছাপাখানায় চলে এসেছি না তো? পর পর দাঁড়িয়ে আছে ফোটোকপি মেশিন। হু হু করে কপি হচ্ছে দিস্তে দিস্তে কাগজ। বান্ডিল বান্ডিল অডিট রিপোর্ট। ৩৩৫৪ টা গ্রাম পঞ্চায়েত, ৩৪১ টা পঞ্চায়েত সমিতি আর ১৮ খানা জিলা পরিষদ। পৌরসভা আর কর্পোরেশনও পিছিয়ে নেই। চারদিকে শুধু কাগজ কাগজ আর কাগজ। বসার জায়গা নেই, চলা ফেরার জায়গা নেই। ফাইলের পেছনে চাপা পড়ে যাচ্ছে মানুষের মাথা। উন্নয়নের খতিয়ান কাগজবন্দি করে চলেছে লোকাল অডিট অফিস। এমন অদ্ভুত অফিসে এর আগে কাজ করিনি। ... ...

"সকল শোকের কাছে পড়ে থাকে পাথরের হাত একটি বিষণ্ণ গাছ ছায়া নামে সূর্য ডুবে যায় কোথা যায়, কার কাছে নামিয়ে রেখেছে তার সারা দিন ভার" শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের চারটি কবিতা ... ...

সমিধ বরণ জানার কবিতা ... ...

হাজার বছর আগের কবিরা এমনকি আজকের ফেসবুকে স্টেটাস আপডেট দেওয়া কবিদের সঙ্গেই যেন কিভাবে এক অলীক আত্মীয়তায় রয়েছেন। তাই, কাহ্নু, কৃত্তিবাস, জয়, বিনয়, সুনীল, মৃদুল, জয়দেব(বসু), সোমনাথ যেন নিরবচ্ছিন্ন কালপ্রবাহে একই সূত্রে বাঁধা, কিন্তু তাদের দেশ একই।সে আমাদের বাংলাদেশ, আমাদেরই বাংলা রে।মনে পড়ে গেল সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের এই কবিতায় সত্যজিৎ রায়ের কথা। মনে পড়ে গেল বিভূতি ভূষণ। অপুর হাতে ধরা গ্লোব, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের এই কবিতা আবৃত্তি করে অপু এই পুরস্কার জিতেছিল। সুদুরের পিয়াসী, কৌতূহলী, অপু এই গ্লোব সবসময় হাতে রাখত, সত্যজিতের ‘অপরাজিত’ সাক্ষ্য দেয়। কিন্তু এও মনে পড়ে গেল সত্যেন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথের অভিযোগ: ' সত্যেন করতেন কিছু/যদি না ছুটতেন ছন্দের পিছু পিছু'। ... ...