
ডেভিড লিভিংস্টোন। আফ্রিকায় বেপাত্তা। কিংবদন্তি মানুষটির খোঁজে আফ্রিকা পৌঁছেছেন মার্কিন সাংবাদিক হেনরি মর্টন স্ট্যানলে। জাঞ্জিবার থেকে শুরু হল আফ্রিকার গভীরে অভিযান। প্রথম লক্ষ্য বাগামোয়ো শহরে পৌঁছে পাক্কা দেড় মাস আটকে সেখান থেকে একে একে রওনা হয়েছে অভিযানের মোট পাঁচটি কাফেলা। চলছে অভিযানের মূল কাহিনি। স্ট্যানলের সেই বিখ্যাত সফরনামা ‘হাও আই ফাউন্ড লিভিংস্টোন’। এই প্রথম বাংলায়। চলছে সিম্বামওয়েন্নি থেকে উগোগো অঞ্চলের চুন্যো জনপদের উদ্দেশে বেরিয়ে ভয়ংকর মাকাটা জলা-অঞ্চল পার হয়ে এবারে এক বিপুল জনহীন প্রান্তর পার করার কথা। তরজমায় স্বাতী রায় ... ...

দক্ষিণ ইওরোপের আইবেরিয়ান উপদ্বীপের দেশ। প্রাচীন রোম সাম্রাজ্য, মধ্যযুগীয় মুসলমান শাসন, প্রাক-আধুনিক ঔপনিবেশিক শক্তি, আধুনিক কালে দীর্ঘ স্বৈরতন্ত্র ওপরে গণতন্ত্রের মিশ্রণে বিচিত্র রঙিন সংস্কৃতি। ঠিক পর্যটক হয়ে সাইট-সিয়িং নয়। কখনও শিক্ষার্থী, পরে তরজমাকার হয়ে এদেশের নানা শহরের অন্দরমহলে উঁকি-ঝুঁকির অভিজ্ঞতা। একিস্তিতে কুইম্ব্রা ও তার আশপাশ। প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্য থেকে মধ্যযুগীয় পোর্তুগালের দুনিয়ায় ঘোরাফেরা। ঋতা রায় ... ...

আমাদের এই ভাঙা-চোরা, কালি-ঝুলি মাখা অপুষ্টিতে ভুগতে থাকা যে গণতন্ত্র আছে সেটাকে রক্ষা করাই আমাদের এখন প্রধান কাজ। ভবিষ্যৎ প্রমাণ করবে, কিন্তু এই মুহূর্তে বলা যায়, সেই কাজে বাঙালি একটা বড় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করল, এবারের ভোটে বিজেপিকে রুখে দিয়ে। বাঙালি বজেপির বিরুদ্ধে একটা শক্তিকে চেয়েছিল। বিজেপিও তার বহুমাত্রিক, সর্বগ্রাসী আক্রমণ দিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছিল কে তার প্রধান শত্রু। সিপিএমের ‘বিজেমূল’ প্রচারে মানুষ একেবারেই কান দেয়নি। বাঙালির কাছে এই মুহূর্তের বাস্তবতা এটাই যে, তৃণমূল নেত্রী মমতা ছাড়া তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য কোনও শক্তি ছিল না। যারা তাঁকে ভোট দিলেন, তাঁদের অনেকেই তৃণমূল নেত্রী অতীতে কী কী বলেছেন, কী কী করেছেন এই সব অসংখ্য প্রশ্ন এবং তর্ক সরিয়ে রাখলেন। বিজেপির পরাজয় তারই পরিণতি। ... ...

২০১৯-এর নির্বাচনে ওই রকম জাতীয়তাবাদী প্রচারে বাংলা থেকে ১৮টা আসন বিজেপির পায়। শুধুমাত্র বামের ভোট রামে গেছে বললেই কিন্তু এই সমস্যা থেকে মুক্তি নেই। নিজেদের দলেরও সমালোচনা তৃণমূলকে করতে হবে। কেন নীচের তলায় এতো ক্ষোভ তৈরি হল তা পর্যালোচনা করতে হবে। শুধুমাত্র অঞ্চল স্তরের নেতাদের দুর্নীতির কারণে ক্ষোভ বেড়েছে তা কিন্তু নয়। নীচের তলার নেতাদের দাদাগিরিও ও ঔদ্ধত্যও আছে। যে রোগে ৩৪ বছরের বাম শাসনের পতন হয়েছিল, সেই একই রোগে কিন্তু তৃণমূলও আক্রান্ত। বিরোধীশূন্য রাজনীতি আসলে দক্ষিণপন্থী উত্থানের সিঁড়ি সেটা আরো একবার আজ বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীকে মনে করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন। ... ...
মধ্যবিত্ত নাগরিক সমাজ যতই উন্নাসিক হোক না কেন, স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, সমব্যাথী, সবুজ সাথী প্রকল্পগুলি গরিব মানুষের পছন্দের। যে কোন নির্বাচনে গরিব মানুষের ভোট নির্ণায়ক হয়। এবারও যাবতীয় দুর্নীতি সত্ত্বেও গরিব মানুষ মনে করেছেন তৃণমূল থাকলে তাঁর প্রাপ্তিযোগ হবে। কারণ বিজেপি দীর্ঘ দিন ধরেই বড়লোকদের পার্টি বলে পরিচিত। ... ...

কবীর সুমন সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তার বাড়ির সামনে বাজারে যে-মাসি ক্যানিং থেকে রোজ এসে শাকসব্জী নিয়ে বসেন, তাঁর সারাদিনে জলবিয়োগের কোনও জায়গা ছিল না, সরকার বাজারে একটি ‘পথের সাথী’ নামক স্নানাগার করে দিয়েছেন যেখানে স্নান-পায়খানা-পেচ্ছাপ ছাড়াও খানিক বিশ্রামও করা যায়। ‘পথের সাথী’ এখন বড় রাস্তার ধারে দৃশ্যমান। সংস্কৃতি মানে কেবল গান-বাজনা-গল্প-কবিতা লেখা নয়, এই ‘পথের সাথী’ নির্মাণ বা নির্মাণের ভাবনাও একটা সংস্কৃতি। ওই মাসি সারাদিন কীভাবে টয়লেটবিহীন হয়ে কীভাবে থাকেন, কী আশ্চর্য, কেউই ভাবেননি আগে! বাংলার বিপুল এই নারীসমাজ দু’হাত ভরে নিজেদের মেয়ে মমতাকে জানিয়েছেন কৃতজ্ঞতা ও আশীর্বাদ। ... ...

দেলিরিও। ইংরেজি তরজমায় ‘ডিলিরিয়াম’। বাংলায় অর্থ ‘প্রলাপবিকার’। লেখক লাউরা রেস্ত্রেপো। প্রথমজীবনে স্কুলশিক্ষক। পরে সাংবাদিক ও সাহিত্যিক। এ উপন্যাসে মেলে নারকো-টেররিস্ট পাবলো এস্কোবার কীভাবে একটি দেশের সর্বনাশ করেছিল তার ছবি। গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের মতে, সাংবাদিকতা, তদন্ত এবং সাহিত্যগুণ তিনটির সম্মিলন ঘটিয়েছেন লেখক এই উপন্যাসে। পড়লেন জয়া চৌধুরী ... ...

কমলা দাস। ছদ্মনাম মাধবীকুট্টি। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর কমলা সুরইয়া। লিখেছেন মালয়ালম্ ও ইংরেজিতে। তাঁর আত্মজীবনী। অনাবৃত—কলকাতার শৈশব, মালাবারের বাড়ি, বম্বের যাপন, সমকাম, শরীরী প্রেম, যৌনতা, বিষাক্ত দাম্পত্য...। বাংলা তরজমায় পড়লেন তৃষ্ণা বসাক ... ...

লুইস সেপুলভেদা। ঔপন্যাসিক, চলচ্চিত্র নির্দেশক, চিত্রনাট্যকার, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক কর্মী। স্বদেশ চিলে। ১৯৭৩ সালে ক্ষমতাসীন আউগুস্তো পিনোশে সরকার প্রথমে কারারুদ্ধ ও পরে নির্বাসিত করে। কিছুকাল একুয়াদরবাসী। সান্দিনিস্তা বিপ্লবে সক্রিয় অংশগ্রহণ। পরে জার্মানির হামবুর্গ শহরে পাকাপাকি বসবাস। কোভিড-আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন ২০২০-র ১৬ এপ্রিল। তাঁর বিখ্যাত নভেলা ‘দ্য ওল্ড ম্যান হু রিড্স লাভ স্টোরিজ’ পড়লেন ঋতা রায় ... ...

প্রয়াত হলেন প্রদীপ চৌধুরী। হাংরি আন্দোলনের পুরোধা এই কবি তাত্ত্বিক ভাবে কবিতাকে বুঝতে চেয়েছিলেন। শিক্ষিত ও মুখরোচক শব্দের প্রতি তাঁর কোনো আনুগত্য নেই। নান্দনিকতার অজুহাতে কবিতায় যা কিছু বর্জন করা হয়, তাদেরই নিজের কবিতায় স্থান করে দিতে চেয়েছেন। লিখছেন রাহুল দাশগুপ্ত ... ...

যারা এতদিন বিভিন্ন জনসভায় মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়ে কান্নাকাটি করছিলেন, ভোট মিটতেই এবং করোনা বাড়তেই যে যার ঘরে গিয়ে খিল এঁটেছেন। যখন মানুষের জন্য কাজ করার, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সবচেয়ে বেশি দরকার তখন এই রকম কয়েকটি তরুণ যুবক ছাড়া কারোরই পাত্তা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রত্যেকটি পাড়ায় পাড়ায় এখন এরকম ছেলেদের বেশি দরকার। তারা যদি পাড়ার প্রতি বাড়ির অসুস্থ রোগীদের খবর রাখে, তাঁদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন সহ অন্যান্য সহজ শারীরিক পরীক্ষা গুলি করতে পারে এবং রোগীর অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতালে ভর্তির ব্যাপারে সাহায্য করতে পারে তাহলে বিপর্যয় অনেকটাই এড়ানো যেতে পারে। ... ...

ছোট থেকেই বাড়িতে, বৃহত্তর পরিবারে বামপন্থার আবহাওয়া, জলবায়ু সবই ছিল। ছিল মুক্ত চিন্তাও। রুশ ও চিন দেশের সাহিত্য পড়া হত নিয়মিত। মামার বাড়িতে আসত সোভিয়েত দেশ, সোভিয়েত নারী। ঝকঝকে ছাপা। রঙিন ছবি। মনে আছে আমার এক পিসির কাছ থেকে একবার মাত্রওস্কা পুতুল উপহার পেয়েছিলাম। মা পুতুলের ভিতর আর একটা পুতুল। তার ভিতর আর একটা। তার ভিতর আরও একটা। সবশেষে একটা খুদে মেয়ে পুতুল। বাবা কিনে আনতেন সোভিয়েত দেশের রূপকথা। ইভানের গল্প। যে রাতেরবেলায় শস্য পাহারা দিত। আর ছিল ঠাকুরমার ঝুলি। রেডিওতে গল্পদাদুর আসরে বা অন্য কোনও অনুষ্ঠানে বুদ্ধুভুতুম আর লালকমল নীলকমল শোনাত। আমরা ভাইবোনেরা শুনে শুনে সেগুলো মুখস্ত করে ফেলতাম। আর ছিল আবোলতাবোল। সহজপাঠ। এইসব মিলিয়েই বড় হয়ে ওঠা। মোটের ওপর পরিবারের জলবায়ু ছিল মুক্তচিন্তার বামপন্থী দর্শনের। ... ...

কর্পোরেট অফিস আর কলকাতায় পার্থক্য অনেক। কলকাতায় সোমেশ্বরই ছিল বস, অতএব সাধারণভাবে অফিসের চালচলন, ম্যানেজার আর অন্য কর্মচারীদের মধ্যে সম্পর্ক, ওঠাবসা ইত্যাদি, ঠিক নিয়ন্ত্রণ না করলেও সোমেশ্বরের রুচি আর পছন্দের ছাপও পড়ত তাতে। কর্পোরেট অফিস অন্য রকমের। সেখানে অনেক ডিপার্টমেন্ট, অনেক কমিটি, বিদেশী ভিজিটর্স, নানা রকমের প্রেজেন্টেশন আর পার্টি। বেশির ভাগ কাজের দিনগুলোতেই যেহেতু ট্যুরে থাকে সোমেশ্বর, অতএব নিজের কাজের বাইরের এসব ব্যাপারে ও থাকেই না প্রায়। মুম্বইতে থেকেও এক-আধটা সান্ধ্য পার্টিতে না গেলে চলে না, কাজেই সেটুকুই ওর জনসংযোগ। কিন্তু ওকে যে বিশেষ কেউ লক্ষ্য করে, তা-ও মনে হয়না। ... ...

প্রভাবশালী মুসলমান রাজনৈতিক নেতা এ বাংলা কম দেখেনি। শেরে বাঙ্গাল ফজলুল হক, সুরাওয়র্দী, ঢাকার নবাব খ্বাজা সলিমুল্লা বাহাদুর, আবদুল গনি খান থেকে আজকের সিদীকুল্লা চৌধুরী, অনেকে এসেছেন। কিন্তু এই প্রথম একজন ধর্মগুরু সরাসরি রাজনীতিতে এলেন, তাও ফুরুফুরা শরীফের মতো সারা উপমহাদেশের কাছে মান্যতাপ্রাপ্ত এক মাজারের পীরজাদা। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা তার রাজনৈতিক দিশা। না, তিনি শুধু মুসলমানেদের হয়ে কথা বলছেন না। তার দাবী অনুযায়ী তিনি নিম্নবর্ণের হিন্দু, আদিবাসী এমনকি অন্য সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়েরও প্রতিনিধি। এখানেই হিসাব পাল্টালেন পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকি। ... ...

পিপলস বুক সোসাইটি আমাকে বলেছিল, অতিবৃষ্টিতে বাঁধাইখানায় জল ঢুকে ফর্মা নষ্ট হয়ে গেছে। যারা নতুন লিখতে এসেছিলেন, তাঁরা বইটি পড়তে চান, পি বি এস-এ গিয়ে খুঁজে পান না। আমি হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। এরপর সরকার বদলেছে। ২০১৩ সালে বইমেলায় আমাকে পি বি এস-এর একজন ডাকলেন, আসুন আসুন। আমি পি বি এস-এ যেতাম না বই নিয়ে ঐ ব্যাপার হয়ে যাওয়ার পর। বিরক্ত হয়েই ওঁদের প্যাভিলিয়নে ঢুকে দেখি নিরুদ্দিষ্টের উপাখ্যান স্বমহিমায় বিরাজমান। সেই চল্লিশ টাকা দাম। দশ বছর আগের দাম। ঝকঝকে ফর্মা। সেই পুরোন ছাপা। কী হয়েছিল এতদিন? তাঁরা বললেন ফর্মা হারিয়ে গিয়েছিল, খুঁজে পেয়েছেন আবার। ভুল জায়গায় রক্ষিত হয়েছিল। মিসপ্লেসড। এমন হয় আমি শুনিনি আগে। না কি বইটি তাঁরাই বাজার থেকে তুলে নিয়েছিলেন অদৃশ্য চাপে। কিন্তু পি বি এস-এর মানুষগুলি আমার প্রিয়জন। প্রত্যেকে আদর্শবাদী। ত্যাগী। আমি অনীক পত্রিকায় তিরিশ বছর এক নাগাড়ে লিখেছি। দীপঙ্কর চক্রবর্তী এবং রতন খাসনবিশ পরম শ্রদ্ধার মানুষ। অনীকের সঙ্গে পি বি এস সরাসরি যুক্ত না হলেও অনীক পত্রিকা পি বি এস থেকেই বিক্রি হয়। ওঁদের ভিতরে বন্ধুতার সম্পর্ক। অনীক এবং পি বি এস-কে আমি আলাদা করে দেখতাম না। এই ঘটনায় সব গোল পাকিয়ে গিয়েছিল। মনে পড়ে যায় তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই কথা, যাঁরা পার্টি করেন, তাঁদের কাছে সাহিত্য শিল্পের চেয়ে দলের মূল্য বেশি। নিরুদ্দিষ্টের উপাখ্যান উপন্যাস কিন্তু এক দলের নিন্দা করে অন্য দলের সমর্থনে লেখা তথাকথিত পার্টির লেখা নয়। এই উপন্যাস বামপন্থী দলের প্রতি বিষোদ্গারের নয়। কিন্তু ভিখারী পাশোয়ানের নিরুদ্দেশের ঘটনা সেই সময় হিমালয়ের চেয়ে ভারি হয়ে উঠেছিল সরকারের কাছে। পার্টির কাছে। একটি মানুষ যে কত তুচ্ছ, কত অবহেলার-- প্রশাসন, পুলিশ এবং বিত্তবানের কাছে, সেই লেখাই এই লেখা। উপন্যাসটি মুখে মুখে রটেছিল। এক সংবাদপত্রে এর আলোচনা করেছিলেন বিখ্যাত এক লেখক। মুখে আমাকে বলেছিলেন অনেক কথা, মা লিখ। ২৫০/৩০০ শব্দ কোনোরকমে লিখেছিলেন। এই রিভিউ নিয়ে সেই ভবিষৎবাণীই করেছিলেন পি বি এস কর্ণধার প্রশান্তবাবু। মৃণালবাবুর ছবি করা নিয়েও তিনি বলেছিলেন, হবে না। ... ...

উনুনের আগুনে টগবগ করে ফুটছে কড়াইয়ের জল। সেই জলে ঠাকুমা হাত বাঁচিয়ে কোরার মণ্ড দিয়ে দিলো। একটু পরেই রঙ বদলে সাদাটে হয়ে ভেসে উঠলো কোরার মণ্ড। ঠাকুমা মণ্ডটাকে আরোও কিছুসময় ফুটতে দিলো। এরপর ঠাকুমা উনুন থেকে কড়াই নামিয়ে জল ঝরিয়ে নেয় কোরার মন্ডের। ধোঁয়া ওঠা মণ্ডকে লোহার খুন্তা দিয়ে ঠাকুমা অনেকগুলো টুকরো করে নিলো। ... ...

এক একটা কাউন্টিং টেবিলে কতজন কাউন্টিং এজেন্ট থাকবেন তা নির্ভর করবে সেই নির্বাচনী ক্ষেত্রে কতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনটি মুখ্য দল নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে কথাবার্তা হচ্ছে বলে সর্বত্র কেবল তিনজনই থাকবে এমন নয়। তিন, তের সতেরো, যে কোনো সংখ্যাই হতে পারে। এবং চুপটি করে চেয়ারে বসে ইভিএমের ওপর নজর রাখা সম্ভব হয় না। সামনের সারিতে আসার জন্য ঈষৎ ফ্রেণ্ডলি বা কখনো আনফ্রেণ্ডলি গুঁতোগুঁতি চলতেই থাকে। এখানে সামাজিক দূরত্ব অসম্ভব, তাই কি করে স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিক সার্টিফিকেট দেবেন যে কোভিড বিধি মেনে ব্যবস্থা হয়েছে সেটাও ভাবার বিষয়। ... ...

দেড় বছর ধরে যে অতিমারী চলছে, তার মোকাবিলায় রাজ্যের তৃণমূল সরকার আর কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের মধ্যে কোন তফাত দেখলেন কি ভোটাররা? তারও উত্তর রবিবার নির্বাচনের ফলে থাকবে হয়ত। নাকি থাকবে না? সিপিএমের কমিউনিটি ক্যান্টিন কি ভোটারদের প্রভাবিত করেছে? নাকি বিপদের সময়ে ত্রাণমূলক কাজ করার সঙ্গে সরকার চালানোর যোগ্যতার কোন সম্পর্ক নেই --- এমনটাই ভোটারদের রায়। সে প্রশ্নের জবাবও খুঁজছিলাম। টিভিতে জনমত সমীক্ষা দেখানোর সময় যেভাবে ইস্যুভিত্তিক মত দেখানো হত, বুথফেরত সমীক্ষায় তেমন দেখলাম না। ফলে এ প্রশ্নের উত্তরও পেলাম না। ... ...

নিজের সঙ্গে কথা বলেন কবিরা অনেকসময়ই। ম্যানিফেস্টো লেখেন। কবিরা যে ম্যানিফেস্টো লিখে নিয়ে তারপর কবিতা লিখতে বসেন তা আদৌ নয়, কবিতা লিখতে লিখতে হয়তো কোনো ম্যানিফেস্টোর প্রয়োজন বোধ করেন। এমন মুহূর্ত আসে যখন নিজের সঙ্গে একটা কড়ার করে নিতে হয়। তার আগে পরে যা আছে তা যে সাধনধন নয়, তা নয়। তবু নিজের সঙ্গে নিজের সাধনা নিয়ে কথা বলতে হতে পারে। আপন মনে কথা, সত্তো ভোচে। কবি শঙ্খ ঘোষের প্রয়াণদিনে তাঁর তেমনই একটি কবিতা স্মরণে অমিয় দেব ... ...

সপ্তদশ শতক। শাহ জাহান বাদশার হেঁশেল। মুঘলাই খিচুড়ির রোশনাই। আর তারই মধ্যে একটির নাম খিচড়ি দাউদখানি! সে নাম যেমন রহস্যময়, তেমনই বিচিত্র সে খানা—বলছে খিচড়ি, কিন্তু চাল নেই! নীলাঞ্জন হাজরা ... ...