
সেদিন কবুতর দুটো উড়তে পারছিল না। একটার মাথা থেকে ময়ূর-পেখমের মতো নীল পালক ক্রমান্বয়ে হালকা হতে হতে লেজ অবধি সাদা। গলার কাছে ফোলা ফোলা গাঢ় নীল পালক। আরেকটা কবুতর ছিল দুধসাদা। দুটো কবুতরের ডানাতেই লাল স্কচটেপ আটকানো ছিল। কবুতর জোড়া ফরিদ ভাইয়ের কাছ থেকে কিনেছিলাম আমি। দাম ছিল আশি টাকা। ফরিদ ভাই কিছুতেই দাম কমাচ্ছিল না। আমার সৎ মায়ের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে সেদিন সকালে একশ টাকা সরিয়ে ছিলাম আমি। ফেরার সময় লাতু কাকার ‘দি হাতেখড়ি বুকস্টোর’ থেকে একটা স্কচটেপও কিনেছিলাম। ... ...

আমি ঘুরে তাকালাম। টিল্ডা সিগারেট ফুঁকছে। তার গায়ে কোন কাপড় নেই। বিছানার চাদর মেঝেতে গড়াগড়ি খায়। ধোঁয়া তার মুখ ঢেকে দিচ্ছে। আমি কাঁপা কণ্ঠে বললাম, কিন্তু আমি যে স্পষ্ট দেখলাম? টিল্ডা বলল, সে আসে। কারণ এইরকম কিছু তার মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত ছিল। যখন ওইদিনের মত পরিস্থিতি তৈরি হয় এখানে, যেন সময়ের পুনরাবৃত্তি হয়, তখন সে আসে, আবার চলে যায়। আমি দেখতে পাই না। কিন্তু আমার ভাবতে ভাল লাগে যে সে আমার কাছাকাছি আছে। অন্তত এইভাবে হলেও। ... ...

পিছনে পড়ে রইলো যতো বিশ্বাস আর অবিশ্বাস। ভিড়টা চুপ হয়ে ফিরে আসছে। শুধু জগৎ বাউরি কী ভেবে গঞ্জের মানুষগুলোর উদ্দেশ্যে বললো, দেকলেন তো বাবুরা, মানুষটার ক্ষেমতা! উত্তরে গঞ্জের মানুষগুলো কিছুই বলছে না। ওরা ওদের দামি বাহারি পোশাকও অমন করে ছেঁড়ার প্রতিযোগিতায়ও নামছে না। জগৎ বাউরি ওদের মুখের দিকে তাকিয়েই আছে, কিন্তু ওদের মনের ভিতরের কথা কিছুতেই পড়তে পারছে না, যেমনটা সে বনবাবারটা পারতো। ... ...

খাই খাই কর কেন? এসো বোসো আহারে। দুই শো বছর পরে খাবে যা-যা বাহারে, এসো ভায়া ট্রাই করো, আজই খাও তাহারে। আরশোলা-চচ্চড়ি, গুবরের কালিয়া, মশক-পুডিং খেও সেলফি-টি তুলিয়া। আরও দু-শতক পরে, জেনে রেখো নির্ভুল, খানা মানে খাবে শুধু ক্ষুধাহরা ক্যাপসুল! কী হবে রেসিপি তার, ভারী শখ জানবার? এখানে লিখলে যদি ‘গুল’ বলে পড়ে ঢিঢি? দক্ষিণে পাড়ি দাও, কানে কানে জেনে নাও, হেঁশেলেতে যথারীতি হুঁশিয়ার আছেন ডিডি ... ...

ডেভিড লিভিংস্টোন। আফ্রিকায় বেপাত্তা। কিংবদন্তি মানুষটির খোঁজে আফ্রিকা পৌঁছেছেন মার্কিন সাংবাদিক হেনরি মর্টন স্ট্যানলে। জাঞ্জিবার থেকে শুরু হল আফ্রিকার গভীরে অভিযান। প্রথম লক্ষ্য বাগামোয়ো শহরে পৌঁছে পাক্কা দেড় মাস আটকে সেখান থেকে একে একে রওনা হয়েছে অভিযানের মোট পাঁচটি কাফেলা। চলছে অভিযানের মূল কাহিনি। স্ট্যানলের সেই বিখ্যাত সফরনামা ‘হাও আই ফাউন্ড লিভিংস্টোন’। এই প্রথম বাংলায়। চলছে সিম্বামওয়েন্নি থেকে উগোগো অঞ্চলের চুন্যো জনপদের উদ্দেশে বেরিয়ে ভয়ংকর মাকাটা জলা-অঞ্চল পার হয়ে এবারে এক বিপুল জনহীন প্রান্তর পার করার কথা। এই পর্বে এমপাওয়াপাওয়া পৌঁছনোর কথা। তরজমায় স্বাতী রায় ... ...

ভারতবাসীর মনে হিমালয় পর্বতমালা এক রোমান্টিক ধারণায় অবস্থিত। আমরা ছোটবেলা থেকেই উত্তরে গিরিরাজ হিমালয় এবং তার ভাবগম্ভীর একটি মূর্তিকে কল্পনা করি ধর্মীয় অনুষঙ্গে। সেখানে দেবতাদের বাস, হিন্দু দর্শনের বহু তীর্থ এই হিমালয়ে অবস্থিত। হিমালয়- যা দুর্গম, যা উচ্চ, যা ভয়ংকর সুন্দর। কিন্তু কয়েক দশক ধরে যেভাবে উন্নয়নের নামে এখানে গাছ কাটা হয়েছে এবং ভয়ঙ্কর সব বাঁধ তৈরি করা হয়েছে তা নিয়ে সমতলের তেমন কোনো মাথাব্যথা নেই। সময়ের সাথে সাথে স্থানীয়দেরও অনেকেই উন্নয়ন মানে চাকরি এই আপ্তবাক্য মেনে নিয়েছেন। কিন্তু সুন্দরলাল বহুগুণার মত মানুষ বরাবর আন্দোলন করেছেন। সুন্দরলাল গোটা বিশ্বের কাছে চিপকো আন্দোলনের মাধ্যমে হিমালয়ের ভয়াবহ পরিবেশ ধ্বংসকে তুলে ধরেছিলেন। তিনি দেখিয়েছিলেন কীভাবে অরণ্য ধ্বংসের ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ায় কাজের সন্ধানে পুরুষদের দূরদূরান্তে যেতে হয়। থেকে যান মেয়েরা, যাদের উপর থাকে সমস্ত দায়িত্ব। ... ...
.jpg)
পশ্চিমবঙ্গের কাছ থেকে বাংলাদেশ যেমন তিস্তার জল পাওয়ার দাবী তুলেছে, তেমনি আমাদেরও একটি উল্টো দাবী জানানোর জায়গা রয়েছে বাংলাদেশের কাছে। সেটাও নদীর জল নিয়েই। যে সমস্ত নদী বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢোকে, তার মধ্যে যেমন দক্ষিণ দিনাজপুরের আত্রেয়ী, যমুনা আর উত্তর দিনাজপুরের কুলিক রয়েছে। এই নদীগুলোর ওপর ‘রাবার ড্যাম’ দিয়ে জল আটকে রেখেছে বাংলাদেশ। এটি হল জাপানি টেকনোলজি। দেখতে অনেকটা লম্বা টিউবের মত। যেখানে বাতাস ভরে ড্যামের আকৃতি তৈরি করে নদীর জলের প্রবাহ রোধ করা হয়। আর তার ফলে ভারতের দিকের নদী পাড়ের স্থানীয় এলাকার মানুষেরা জল সংকটে ভুগছে। চাষের ক্ষতি হচ্ছে। ... ...

৬ই জুলাই রাতে শুতে যাবার আগেও মার্ক জানত না যে সেদিন পার্কে ঘুরতে যাওয়া বাচ্চাদের মধ্যে তার বাবাকে আবার জীবিত দেখতে পাওয়ার সৌভাগ্য তারই হবে! সেই রাতেই মৃত্যুর দিক থেকে দেখতে গেলে অফশোর তেলের রিগ-এ ঘটে যাওয়া এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে বড় দূর্ঘটনায় ১৬৭ জন প্রাণ হারান – মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে। ছয় তারিখে অফশোর অ্যাকোমডেশনে রাতে ছিলেন মোট ২২৮ জন, এর মধ্যে বেঁচে গিয়েছিলেন মাত্র ৬১ জন – মার্কের বাবা তাঁদের মধ্যে একজন। ... ...

সামাজিক প্রকল্পগুলির জোরেই নিজস্ব ভোট ধরে রেখেছে তৃণমূল। অতিরিক্ত ভোট মিলেছে সুস্পষ্ট বিজেপি-বিরোধী অবস্থানে। সুচিন্তিত ভাবে মহিলা ও সংখ্যালঘুদের বড়ো অংশ বেছে নিয়েছেন এই দলকেই। বিজেপি-র সর্বভারতীয় বিপদ সম্যক ভাবে বুঝতেই পারছেন না মূলধারার বাম নেতৃত্ব। বিরোধী ভূমিকাপালনের বদলে নিজেদের ভেবেছেন ‘গভর্নমেন্ট ইন ওয়েটিং’। জনবিচ্ছিন্নতা চরমে। বামশূন্য বিধানসভায় বিজেপি-র উত্থান দুশ্চিন্তার। জানালেন দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। আলাপে নীলাঞ্জন হাজরা ... ...

দুর্বারের এ. জি. এম বা রিট্রিট যখন হতো লাঞ্চ ব্রেক - এ আমরা থালা হাতে খাবার লাইনে দাঁড়াতাম। উনিও তাই করতেন। সারাদিন যখন আলোচনা হচ্ছে, প্রেজেন্টেশন হচ্ছে তখন উনি এক রকম, আবার সেই মানুষটাই মিটিং এর বাইরে যখন দেশ-বিদেশের কথা বলতেন তখন একেবারে খুব কাছের বন্ধুর মতো কথা বলতেন। একটা জিনিস খুব অবাক করতো আমাদের। সমস্ত বিষয়ে ওনার অবাধ বিচরণ অর্থাৎ বিজ্ঞানে যতটা দক্ষ ততোটাই ইতিহাস-ভূগোল সমাজতত্ত্ব সব বিষয়ে। যৌনকর্মী দিদিদের প্রতি যে মমত্ব ওনার দেখেছি তা ভোলবার নয়। একজন নেত্রীর অপারেশনের সময় সস্ত্রীক সারাদিন হাসপাতালে থেকেছেন। আবার কোন নেত্রী অসুস্থ হলে কিভাবে কোনো ভালো জায়গা থেকে তাকে সুস্থ করা যাবে তার চেষ্টা করেছেন সব সময়। ... ...

"আমরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। তাই স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়বে সেটাই স্বাভাবিক। তার জন্য সরকারকে দায়ী করা মোটেই উচিত নয়!” – ভক্তদের এই প্রচার নিশ্চয়ই আপনার মোবাইলস্ক্রিনে ভেসে উঠেছে বেশ কিছু বার। ভক্তদের চরিত্রই হল অর্ধসত্যর উপর নিজেদের নির্মাণকে খাড়া করা। ওপরের তথ্যটাই যদি আপনি দেশের জনসংখ্যার নিরিখে দেখেন, তাহলে, একদম শুরু, মানে ২০২০-র প্রথম থেকে ৬ মে ২০২১ পর্যন্ত ভারতে ১০ লাখ মানুষ প্রতি (per million) সর্বমোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা *১৫,৪২৯ / ১৬৮*। বিশ্বে আমাদের স্থান *১১৩ / ১১০* নম্বরে। এই পরিসংখ্যান অর্থাৎ প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যার কতজন সংক্রমিত / মৃত - অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে একবার দেখে নেওয়া যাক। ... ...

যে-কোনো রূপে সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবির নেপথ্যে থাকে ‘অন্য’-কে চিহ্নিত করে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার দুরভিসন্ধি, সে বিষয়ে নিরন্তর চেতাবনি সুকুমারী ভট্টাচার্যের লেখালিখি। চতুর্বর্ণ ব্যবস্থায় সামাজিক সুস্থিতি এবং সহাবস্থান ছিল, কিংবা এই উপমহাদেশে ইসলামের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব কায়েমের আগে সমাজে নারীর মর্যাদা ছিল অতি উচ্চ— ইত্যাকার ভ্রান্ত ধারণা নস্যাৎ করেন তিনি। দেখিয়েছিলেন বৈদিক যুগে শূদ্র ও অবর্ণদের প্রতি ব্রাহ্মণ্য নিষ্ঠুরতা, নারীকে কার্যত এক হস্তান্তরযোগ্য সামগ্রী করে রাখার প্রয়াশ। তাঁর রচনা শুধু বৌদ্ধিক চর্চার জন্য নয়, জীবনযাপনের জন্যও অপরিহার্য। লিখছেন ইতিহাসকার রণবীর চক্রবর্তী ... ...

সংস্কৃত প্রথম প্রেম। ইতিহাস দ্বিতীয়। ১৯৩০-এর দশকে খ্রিশ্চান মহিলাদের পক্ষে সংস্কৃত শেখা ছিল এক দুরূহ লড়াই। জিতেছিলেন। প্রথাগত পড়াশোনা ইংরেজি ও সংস্কৃততে। বল নাচের ক্লাস বয়কট করে চেয়েছিলেন উদয়শঙ্করের নৃত্যশৈলীর তালিম। হয়নি। বিপ্লবীদের গোপনে সাহায্য। বাড়িতে লুকিয়ে কমিউনিস্ট কর্মীদের আশ্রয়। এবং নিজের লেখালিখির কথা। স্কুলজীবন থেকে শেষ বয়স—স্মৃতিচারণ। আলাপে ইতিহাসের অধ্যাপক কুমকুম রায় ... ...

নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনী জয়ে কেঁদেছিলেন। বিপুল পাণ্ডিত্যপূর্ণ গবেষণার পাশাপাশি সহজ ভাষ্যে সাধারণের পাঠযোগ্য লেখালিখি করেছেন প্রচুর। মগ্ন থাকতেন রবীন্দ্রনাথে। সমাজসচেতন বামপন্থী। তবু যা শিক্ষণীয়, নিঃসংকোচে নিতেন ভিন্ন মতের মানুষের কাছ থেকেও। স্মৃতিচারণে কন্যা ইতিহাসবিদ তনিকা সরকার। আলাপে ইতিহাসকার রণবীর চক্রবর্তী ... ...

মহাভারত মহাকাব্যের এই সার কথা। সে মহাগ্রন্থের এমনতর পাঠই শিখিয়েছিলেন সুকুমারী ভট্টাচার্য। এবং শিখিয়েছিলেন প্রাচীন নানা গ্রন্থ যথাযথ পাঠ করে সেগুলিকেই করে তোলা যায় কুসংস্কার ও মিথ্যার প্রবল প্রচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অস্ত্র। লিখছেন তাঁর ছাত্রী ও সংস্কৃতের অধ্যাপক বিজয়া গোস্বামী ... ...

ঋগ্বেদে কবি নেম ভার্গব ঘোষণা করেছেন, ইন্দ্র নেই, কারণ কেউ তাঁকে দেখেনি। চার্বাক দর্শন বস্তুজগৎকেই একমাত্র অস্তিত্ব বলে মনে করেছে। তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ বলে, যতদিন জীবন আছে যজ্ঞ ক’রে যাওয়া উচিত, কারণ মৃত্যুর পর মানুষের কী হয় তা অজ্ঞাত। ‘বেদে সংশয় ও নাস্তিক্য’ গ্রন্থে সুকুমারী ভট্টাচার্য তুলে ধরেছেন বৈদিক সাহিত্যে প্রশ্ন, সংশয়, অবিশ্বাসের উত্তরাধিকার। লিখছেন ইতিহাসের অধ্যাপক কণাদ সিংহ ... ...

মৃত্যুর আগে পর্যন্ত প্রতিটি মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য আন্তরিক ভাবে লড়েছি। সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামোর অভাব হয়তো ছিল, কিন্তু তা বলে চুপ করে বসে কারও মৃত্যু মেনে নিই নি। অনেক রোগী বেড পাননি। তবু মেঝেতেই রোগীর শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এমন কী নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও চেষ্টা করেছি। শুধু আমি একা নই, আমার সাথে অন্যান্য চিকিৎসক এবং জুনিয়ার চিকিৎসকরাও আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। নার্সদিদিরা, ওয়ার্ডবয় ভাইরা সাধ্যের বাইরে গিয়েও অনেক সময় সাহায্য করেছেন। ... ...

সর্বোপরি, আবার একবার বলি- স্টেরয়েড নিয়ে অযথা ভয় পাবেন না কিন্তু সতর্ক থাকুন। স্টেরয়েড একটি আশীর্বাদ। স্টেরয়েড আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যার অন্যতম স্তম্ভ। স্টেরয়েডের যুক্তিযুক্ত ব্যবহার অসংখ্য মানুষকে রোগমুক্তি দিয়েছে। ভবিষ্যতেও দেবে। এবং, এটা ভাবুন- যখন লাভক্ষতির হিসেব করবেন তখন যদি লাভের ঘরে অনেক বেশি জমে তাহলে সামান্য সাইড-এফেক্টের দুশ্চিন্তা ভুলে থাকাই শ্রেয়। দুর্ঘটনা এড়ানোর ভয়ে কে কবে রাস্তায় নামা বন্ধ করেছে? ... ...

জাওয়া ফুল কী জানেন? জাওয়া ফুল আসলে ফুল নয়, তিন বা পাঁচ বা সাত রকমের দানাশস্যের অঙ্কুর, যা তারা বপন করেছিলো নিজের নিজের শালপাতার থালায় সাত দিন আগে, আর অঙ্কুরোদ্গম করিয়েছিলো রোজ সন্ধ্যেতে জল ছিটিয়ে। পুজোর পর চলবে হাঁড়িয়া পান আর সারা রাত ধরে নাচ; নাচে যোগ দেবে মেয়ের দল আর ধামসা-মাদল নিয়ে ছেলেরা। পরের দিন সকালে, ঐ যে মেয়েরা লুকিয়ে রেখেছিলো ভিজে বালিতে দানাশস্য ছড়ানো জাওয়াগুলো, সেগুলোর থেকে অঙ্কুরিত বীজ উপড়ে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেবে তারা, আর সেগুলো ছড়িয়ে দেবে নিজের নিজের বাড়িতে। করম উৎসব বন্ধুত্বেরও উৎসব। বীজ ভাগ করা হয়ে গেলে মেয়েরা পরস্পরকে পরিয়ে দেবে রাখী, এই রাখীর নাম করমডোর। এখন থেকে ওরা করমসখী... ... ...

বাঙালি হিন্দু মেয়েরা নদীতে নাইতে যায়। সিরাজের চরেরা নৌকো নিয়ে ঘুরঘুর করে খবর জোগাড় করে। মেয়েদের তুলে আনে। এইসব করতে গিয়ে সিরাজ রানি ভবানীর মেয়ে তারা সুন্দরীর পিছু ধাওয়া করেন। কিছু সুবিধে করতে পারেন নি। ভরা বর্ষায় বা জোয়ারের সময় পারাপারের নৌকোগুলোকে ইচ্ছে করে ধাক্কা দিতেন, কখনো নৌকো ফুটো হয়ে যেত আর তখন সাধারণ গাঁয়ের মানুষকে ছেলে বুড়ো মেয়ে নির্বিশেষে জলের মধ্যে নাকানি চোবানি খাইয়ে দারুণ মজা পেতেন! অনেকে হয়তো ডুবে যেত কিন্তু উনি খুব আমোদ পেতেন! ... ...