
তারুন্য পেরিয়ে এসে এখন আমি জানতে চাই কাকে বলে স্তন, / আর স্তনমন্ডল? / আমার কুকুরগুলো তোমার স্তনের দিকে তাকিয়ে থাকে / তাকিয়ে থাকে / বরফের ছাদের নিচে; মাকড়শা জাল বিছিয়েছে তোমার স্তনের ত্বকে।/ / আকর্ষণীয় না হোক, তবু আমার শরীর আছে। আমার শরীর থেকে/ তোমার শরীরে পৌছতে/ যে সেতু দরকার তা নির্মাণ করতে আমি মিন্ত্রী পাবো কোথায় ? / / টাকাপয়সা আর সামাজিক সম্পর্কের দাম আছে। কিন্তু আরও সময় নিতে/ আমি রাজি, / লিওনার্দোর মোনালিসা আর বতেরোর মোনালিসা যে আলাদা দুজন/ আলাদা সন্দেহজড়িত মেঘ আর উইনিং কন্ট্রাসেপশান, / এটা স্বীকার করে জানতে চাই/ ... ...

একটা কথা আছে, শিশুরা ফুলের মতো সুন্দর। অবশ্যই। মিষ্টি হাসি, আধো আধো কথা। প্রিয়জনকে দেখলেই ছুটে আসা। কিন্তু ছোটদের মধ্যে নিষ্ঠুরতাও থাকে। সময় ও সমাজের প্রভাবে মানবিক হয়ে ওঠে। মানবিক নয়, বলা উচিত প্রাণবিক। পৃথিবীর সকল প্রাণীর মধ্যে নিষ্ঠুরতা কাদের মধ্যে বেশি? ... ...

গুরুচণ্ডা৯-তে আপনার কমেন্ট বক্সে বা লেখার পাতায়, হরিদাস পাল হোক কি খেরোর খাতা, কেমন করে ছবি জুড়বেন। একসময় এই কাজটি সরাসরি করা যেত। ভবিষ্যতেও আবার তাই করা যাবে আশা করা যায়। কিন্তু বর্তমানে আমাদের একটু ঘোরানো পথে কাজটি সারতে হচ্ছে। কেমন করে? জেনে নিন এখানে আর তারপর ঝপাঝপ ছবি আটকে দিন গুরুচণ্ডা৯-র পাতায়। ... ...

আশার কথা, এই মিছরির ছুরির থেকে এবার রাষ্ট্র বেরিয়ে পড়েছে। ন্যায়, অন্যায়, ধর্ম, খাদ্য নানান সংহিতা তৈরি হচ্ছে। রাষ্ট্র আর মুখ লুকিয়ে থাকতে রাজি নয়। দেশদ্রোহীদের কড়া হাতে শায়েস্তা করা হবে। পুলিশ চাইলেই যে কাউকে দেশবিরোধিতার জন্য টেনে নিয়ে চলে যেতে পারে। কারণ রাষ্ট্র মানেই লেফট রাইট লেফট রাইট লেফট রাইট। কিন্তু আগামীদিনের ভারতবর্ষ ঠিক কেমন হয়ে উঠতে পারে? ধরুন আমাদের বুকশেলফ ভরে উঠতে পারে বিভিন্ন সংহিতায়। কী খাব? তার জন্য খাদ্যসংহিতা। কী পরব? তার জন্য পোশাকসংহিতা। কী রকম চুল কাটব? তার জন্য কেশসংহিতা (পুরুষের জন্য একরকম, মেয়েদের জন্য আরেকরকম), কাকে বিয়ে করব? তার জন্য সংহিতা (বিবাহসংহিতা), কার সঙ্গে প্রেম করব? তার জন্য সংহিতা (প্রেমসংহিতা)। এর পর ধীরে ধীরে বেরোবে কাশিসংহিতা, হাঁচিসংহিতা, পাদসংহিতা, মিলনসংহিতা, কন্ডোমসংহিতা, ইত্যাদি প্রভৃতি। ... ...


ঝুনুদির বাবা শান্তি চক্রবর্তী এবং উমাকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। উমাকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম দুই মেয়ের অল্প বয়সে বিয়ে দিলেও ছোট মেয়ের দেননি। সে অবশ্য আমার সেজদি এবং ছোটবোনের ক্ষেত্রেও খাটে। সেজদির বিয়ে হয় ২১+ বয়সে। ছোটবোন এম এ বিএড পাস করার পর ২৪ বছর বয়সে। মেজদির সহপাঠিনী ও প্রাণপ্রিয় সই ঝুনুদি গ্রামের প্রথম মেয়ে যে কলেজে ভর্তি হয়। ঝুনুদি পঞ্চম শ্রেণি থেকেই বাবার স্কুলে পড়তে যেতেন। তিন কিলোমিটার দূরে, পলাশনে। সেখান থেকে মাধ্যমিক পাশ করে উচ্চ মাধ্যমিক পড়তে যান ছয় কিলোমিটার দূরে শ্যামসুন্দর কলেজে। ... ...

নিঃশব্দে এসে দাঁড়াল রামালি। “ভল্লাদাদা, হানোর জন্যে আমরা সবাই মনে হচ্ছে ডুববো”। ভল্লা তীক্ষ্ণ চোখে রামালির দিকে তাকাল, বলল, “হুঁ। কিন্তু কী করা যায়?” “সরিয়ে দেওয়া ছাড়া আর তো কোন পথ দেখছি না”। ভল্লা ভীষণ অবাক হল। রামালির মতো ছেলের মুখে এমন নির্বিকার সিদ্ধান্তের কথা, ভল্লা আশা করেনি। ... ...

ভোরের ফ্লাইট। যখন শহরে ঢুকছি তখন আবছা আলো। ট্যাক্সির জানলা থেকে দেখি আট তলা দশ তলার অ্যাপারটমেনট, ধূসর বর্ণ, বহুকাল দেয়ালে কোন রঙের পোঁচ পড়ে নি। বাতাসে টু স্ট্রোক এঞ্জিনের ফেলে যাওয়া আধ পোড়া পেট্রোলের গন্ধ। আমার হাতের চিরকুটে লেখা ঠিকানা দেখে ট্যাক্সি আমাকে যেখানে নামিয়ে দিলো সেটা একটা টিপিকাল কমিউনিস্ট আমলের পাঁচ তলা অ্যাপারটমেনট ব্লক। কাচের জানলা হয়তো পঞ্চাশ বছরের পুরনো। দু পাশে ফ্ল্যাট, মধ্যিখানে ওপরে যাওয়ার সিঁড়ি। নিচের তলায় একটি দরোজার সামনে লাইন দিয়ে মোটামুটি নীরবে দাঁড়িয়ে আছেন বেশ কিছু মানুষ। কেউ কেউ ধূমপানে রত। এতো বছর সিটি ব্যাঙ্কে কাজ করছি ততদিনে অন্তত পঞ্চাশটা দেশে সিটি ব্যাঙ্কের ব্রাঞ্চ দেখেছি তার সঙ্গে এ একেবারে মেলে না। ঠিক জায়গায় এসেছি কিনা সন্দেহ হলো। দোতলায় যেতে হবে জানা ছিল (প্রিভে প্রশদিয়ে)। মাঝের সিঁড়ির দরোজায় বেল নেই, পরিচিতি জানানোর ওঠে না। সে সিঁড়ির চেহারা বড়ো বাজারের কোন পুরনো বাড়ির মতো, দেওয়ালে পানের পিকটাই যা নেই। দোতলায় উঠে চমকাতে হলো। হলদে রঙের একটা ঝাঁ চকচকে দরোজার ওপরে সিটি ব্যাঙ্ক লেখা দেখে। এমনকি এন্ট্রি ফোন! বেল টিপলে এক মহিলার কণ্ঠ শোনা গেলো। তিনি ঘণ্টি বাজিয়ে আমাকে দরোজা ঠেলতে বললেন -একেবারে স্টেট অফ দি আর্ট ! যিনি দেখা দিলেন তাঁর নাম ইওয়ানা, এতক্ষণ তিনি আমার পথ দেখছিলেন বলে জানালেন। এক নজরেই বোঝা গেলো এটি একটি স্ট্যান্ডার্ড তিন কামরার কমিউনিস্ট কালের ফ্ল্যাট যার তুল্য দেখেছি সারা পূর্ব ইউরোপে। ঢুকতেই বাঁ হাতে টয়লেট, ডাইনে রান্নাঘর, হলের তিন দিকে তিনটি ঘর। উত্তরে টালিন বা সেন্ট পিটারসবুরগ ( পূর্ব ইউরোপের ডায়েরি প্রথম পর্ব পশ্য, ছবি সহ) থেকে দক্ষিণে স্কোপয়ে অবধি সমস্ত অ্যাপারটমেনট একই বিশ্বকর্মার প্ল্যান বা মর্জি মাফিক তৈরি। তফাৎ শুধু ঘরের সংখ্যায়, দুই বা তিন। তবে এ ফ্ল্যাটের অন্দরের চাকচিক্য আছে- সিটি ব্যাঙ্ক বলে কথা ! যদি লন্ডন থেকে আমাদের ডেপুটি সিইও ডেভিড গিবসন হঠাৎ এসে হাজির হন, তাঁর কাছে মুখ দেখানোর উপায় থাকবে না। বাইরেটা দেখেই অবশ্য তিনি মূর্ছা যেতে পারেন। ... ...

"আষাঢ় মাসের বিকেলে ছোট হল্ট স্টেশনে বসে আছি।আকাশ মেঘলা, লোকজন তেমন নেই।চোখে না পড়ার মতো চা দোকান। পাশে কদমগাছে অজস্র ফুল ফুটে আছে। হঠাৎ দেখি কিছু লোকজন দল বেঁধে প্ল্যাটফর্মে উঠে এল।গ্রাম্যদেশের মানুষ সব।কথা বলতে বলতে যাচ্ছে। বেশ ঝলমলে জামাকাপড়।বুঝলাম, হাট থেকে ফিরছে। সামনের লোকটির কাঁধে একটা কাপড় জড়ানো খাঁড়া।অল্প কিছু অংশ বেরিয়ে আছে, আলো লেগে অল্প চমকাচ্ছে। কদিন পরে নিশ্চয়ই কোনো জাগ্রত থানে বলির ব্যাপার আছে। ---- " ... ...

১ মে, কিঙ্গারু হেরা। জানজিবারে একটা প্রচণ্ড ঝড়ের খবর শুনেছি। শুনছি যে প্রতিটি বাড়ি ও জাহাজকে নাকি ধ্বংস করেছে। এমনই রটেছে। আর ওই একই বিধ্বংসী ঝড় বাগামোয়ো ও হুইন্ডের উপর দিয়েও বয়ে গেছে। এমনটাই লোকেরা বলছে। তবে এতদিনে আমি মোটামুটি জানি যে আফ্রিকানরা কেমন বাড়িয়ে কথা বলে। তবে দেশের ভিতর দিকে ঝড়ের যা প্রভাব দেখে এসেছি, তার থেকে মনে হয় এটা গুরুতর ক্ষতি করতেই পারে। শুনলাম যে বাগামোয়োতে নাকি শ্বেতাঙ্গরা এসেছে, আমার খোঁজখবর করতে এই দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের তোড়জোড় চলছে। ... ...

কে এই পেটানোর নেতৃত্বে? অভিযোগ, এই লোকটি স্থানীয় তৃণমূল নেতা। নাম তাজিমুল হক। ডাকনাম জেসিবি। একটি বুলডোজার কোম্পানির নামও জেসিবি। ইনিই বোধহয় আস্ত বুলডোজার। অভিযোগ, যে, ইনি পিটিয়েছেন তো বটেই, নৃশংস মারধরের পরেও আহত দুই যুবক-যুবতীকে পুলিশের কাছে যাওয়া তো দূরের কথা, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালেও যেতে দেওয়া হয়নি। তাঁদের সাহায্য করলে জীবন্ত পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়ার পর, রবিবার রাতে উত্তর দিনাজপুরের পুলিশ জেসিবি-কে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু তার আগেই কে ভিডিও ছড়িয়েছে তার সন্ধানে গ্রামে দাপিয়েছে জেসিবি'র বাহিনী, সন্দেহের ভিত্তিতেই তারা মাসুদ নামের এক যুবকের বাড়ি ভাঙচুরও করে দিয়েছে। ... ...

একটা ভিডিও ক্লিপ বাজারে এসেছে। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের কোনো এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন, যেটা কলকাতায় হচ্ছিল, সেখানে এক স্বামীজি আছেন বলে দর্শক আসনের সামনের দিক থেকে সব মহিলাদের তুলে পিছনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভিডিওটা মোবাইলে তোলা। কথা ভালো শোনা যাচ্ছেনা। কিন্তু কোনো মহিলা যে সামনের সারিতে বসবেনা, এটা ঘোষণা করা হচ্ছে, সেই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ভিডিওর সত্যমিথ্যা অবশ্য আমরা যাচাই করিনি। কিন্তু এর তো খবরও বেরিয়েছে।স্বামীনারায়ণ মন্দিরের স্বামী জ্ঞানবৎসলকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি করে আনা হয়। তিনি খুব সম্ভবত মহিলাদের মুখ দেখেননা। তাই তিনি আসার আগেই আয়োজকরা সামনের সারি থেকে সব মহিলাদের তুলে পিছনে পাঠিয়ে দেন। শুধু তাইই না, খবরে এও বেরিয়েছে, ব্যাকস্টেজে যে মহিলারা কাজ করছিলেন, তাঁদেরও পাঠিয়ে দেওয়া হয় পিছনের সারিতে। ... ...

এবার আমরা দেখে নেই কিভাবে চালু হতে যাওয়া নতুন আইন বিধিতে পুলিশ রাজ কায়েম করা হয়েছে। একটা উদাহরণ নেওয়া যাক, ভারতীয় সংবিধানের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হিসেবে বাক স্বাধীনতা, সভা, সমিতির অধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকারের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। এই দিকে নজর রেখে সুপ্রিম কোর্ট বারবার ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ আইন বাতিল করতে বলেছে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট বলেছেন, সরকারের বিরোধিতা মানে রাষ্ট্রের বিরোধিতা নয়। পুরানো আইন অর্থাৎ আইপিসি ১২৪(এ) ধারায় স্থগিতাদেশ দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন কাউকে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় অভিযুক্ত করা যাবেনা। কিন্তু নতুন আইন অর্থাৎ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৫০ ও ১৫২ ধারায় কৌশলে রাষ্ট্রদ্রোহ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এই নতুন সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, যদি কেউ বা কারা ইচ্ছাকৃতভাবে বা জেনেশুনে বক্তব্যে অথবা লিখিত, বা সাংকেতিক চিহ্ন দ্বারা, বা দৃশ্যমান উপস্থাপনা দ্বারা, বা বৈদ্যুতিন যোগাযোগ দ্বারা, অথবা আর্থিক উপায় ব্যবহার করে বা অন্যভাবে উত্তেজিত বা উত্তেজিত করার চেষ্টা করে যাতে বিচ্ছিন্নতা বা সশস্ত্র বিদ্রোহ বা নাশকতামূলক কার্যকলাপ, বা কেউ যদি বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপে উৎসাহিত করে যার দ্বারা ভারতের সার্বভৌমত্ব বা একতা বা অখণ্ডতাকে বিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয় তবে তা উক্ত ধারায় শাস্তি যোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। এক্ষেত্রে শাস্তির যেখানে আগে নূন্যতম ৩ বছর থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন ছিল তা নতুন আইনে নূন্যতম ৭ বছর থেকে যাবজ্জীবন করা হয়েছে। ... ...

আমাদের রাজ্যে সম্প্রতি শিশুচুরির গুজবে গণপিটুনির ঘটনা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পুলিস এসে কোনোরকমে আক্রান্ত ব্যক্তিকে না বাঁচালে এগুলি সবই লিঞ্চিংয়ের নজির হয়ে উঠত। মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি, ভবঘুরে, মহিলা-ছাড় পাচ্ছেন না কেউ। যদিও সারা বছর ধরেই পশ্চিমবঙ্গের গ্রামাঞ্চলে ছেলেধরা, গরুচোর বা ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটতেই থাকে। এগুলি সাধারণত খবরের কাগজের ভেতরের পাতায় ছোট্ট খবর হিসেবে থাকে। পুলিসও নাম-কা-ওয়াস্তে একটা তদন্ত করে কেসগুলি মিটিয়ে দেয়। এই ঘটনাগুলি গ্রামের মানুষ প্রায় ঐকমত্যের ভিত্তিতে ঘটিয়ে থাকেন। এর পেছনে যে কারণগুলি তারা দেখান তা হচ্ছে (১) পুলিসি অকর্মণ্যতা, (২) দীর্ঘসূত্রী বিচার ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা আর (৩) গ্রাম বা অঞ্চলের সুরক্ষা। ... ...

সেই হুকুম শিরোধার্য করে ছেনুকে পা দিয়ে আওয়াজও করতে হচ্ছে এখন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। কি আর করা যাবে? চমচম আংটির জন্য এটুকু তো করতেই হবে। যেখানে সেই দ্বাপর যুগে স্বয়ং কেষ্ট মহারাজ স্যমন্তক মণির জন্য আকুলি বিকুলি করতেন, কোহিনুর পেতে নাদির শা থেকে রঞ্জিত সিং সবাই হাত বাড়িয়েছেন সেখানে ছেনু তো কোন ছার! ছোট্ট থেকেই ওর চোখ দিদির হাতের নানা কারুকাজময় চমচমের মতো দেখতে চকচকে সোনার আংটিটার দিকে। সোনা কাকে বলে, তার কত দাম বা বদ্দিই বা কোথা থেকে আংটিটা পেয়েছে কিছুই ছেনুর জানা ছিলনা। কিন্তু আংটিটা হাতে পরলে ছেনুর মনে ভারি আনন্দ হতো। বারবার বদ্দির থেকে চমচম আংটিটা (ছেনুরই দেওয়া নাম) নেওয়ার জন্য বায়না করলেও বদ্দি এমনিতে কিছুতেই সেটা হাতে দিত না। ... ...

মন্দা কাটার পর ২০১১ সাল নাগাদ শুরু হয় দ্বিতীয় বিপ্লব। মল তৈরি হতে থাকে দ্রুতগতিতে। বড়, মাঝারি শহরগুলো ছেয়ে যেতে শুরু করে মলে। একটা হিসেব পাওয়া যায়, যে, ২০১৭ সালে, গোটা ভারতে ৬০০ টার মতো মল তৈরি হয়ে গিয়েছিল। এর বেশিরভাগটাই ২০১১র পরে। মলগুলো নানারকম ছিল, কিন্তু যদি কেউ ২০১১র পরের মলগুলোর একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য মনে করে দেখেন, তো মনে করতে পারবেন, এগুলো আগের মলগুলোর থেকে আলাদা। নতুন মলগুলোয় এবং পুরোনো গুলোও বদলে ফেলা হয় এমন ভাবে, যে, সেগুলো আর শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়, সময় কাটানোর জায়গা হয়ে ওঠে। সম্পূর্ণ শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত, অজস্র রেস্তোরাঁ, খেলার জায়গা এবং অবশ্যই একটি মাল্টিপ্লেক্স। আন্দাজ করা যায়, মলের দোকানগুলো জিনিস বেচলেও, মলগুলো আসলে বিক্রি করছিল জীবনযাত্রার ধরণ। শনিবার বা রবিবার মধ্যবিত্তরা সময় কাটাতে মলে আসবে, মলগুলোই হবে গন্তব্য, এবং লোকে এসে পড়লে পয়সা তো খরচ করবেই, এইটাই ছিল লক্ষ্য। ভারত সরকার, প্রত্যক্ষে বা পরোক্ষে, এই পুরো প্রক্রিয়াটার পিছনে ছিল, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এই পুরো সময়টাতেই বিক্রির ক্ষেত্রে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের নিয়মকানুন শিথিল করা হয় এবং মলগুলোর একটা বড় অংশই ছিল বিদেশী পুঁজির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ। এরই মধ্যে ২০১৬ সালে হঠাৎ একদিনের ঘোষণায় ভারতে চালু করে দেওয়া হয় নোটবন্দী। নগদ টাকায় লেনদেন কার্যত দীর্ঘদিনের জন্য খোঁড়া হয়ে যায়। একই সময় চালু হচ্ছিল ই-কমার্সের নানা ব্যবস্থা, অ্যাপ, এবং টাকাহীন লেনদেনের নানা ব্যবস্থা। নোটবন্দীর ক্ষেত্রে কারণ দেখানো হয়েছিল, কালো টাকা উদ্ধার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কয়েকবছর পরে দেখা যায়, প্রায় কোনো কালো টাকাই উদ্ধার করা যায়নি, ফলত গোটা নোটবন্দীকেই একটা বৃহৎ কেলেঙ্কারি বলা যেতেই পারে। এই সময় সরকারকে সরাসরি দেখা গেছে অ্যাপ দিয়ে লেনদেনের পৃষ্ঠপোষকতা করতে। সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে, অ্যাপ, বড় খুচরো কোম্পানি, এবং মলগুলোর সুবিধা করে দিতেই এই সিদ্ধান্ত। শুধু এদেরই সুবিধা করে দিতে নিশ্চয়ই না, আরও অনেক সুবিধাভোগীও অবশ্যই ছিল, কিন্তু এরা যে সেই তালিকার অন্তর্গত, সে নিয়ে সন্দেহের বিশেষ অবকাশ নেই। ... ...

মরার আগে লোকটার ওই অস্ফুট আওয়াজটা হানোর কানে বারবার ফিরে আসছে। হানোর পেটের ভেতরটা মুচড়ে উঠল। তার মাথার মধ্যে গমগম করছে সেই আওয়াজ “ওঁখ্”। সমস্ত শরীর দুমড়ে তার বমি আসছে। সে উবু হয়ে বসে পড়ল মাটিতে। ... ...

ভোর পাঁচটার সময় আমরা মাকাটা নদী পেরোতে শুরু করি। কিন্তু এর পরেই ছয় মাইল জুড়ে রয়েছে একটি লম্বা হ্রদ, যার জল মৃদুভাবে ওয়ামির দিকে বয়ে গেছে। এখানে জলস্রোতগুলির সঙ্গম: চারটি নদী এক হয়ে গেছে। কিগোংগোর স্থানীয়রা আমাদের সতর্ক করেছিল যে আমরা যেন এখন পেরনোর চেষ্টা না করি, কারণ এখানে আমাদের মাথার ওপরে জল; কিন্তু আমি সবাইকে শুধুমাত্র একটি ইঙ্গিত দিয়েছিলাম, আর তারপর নিজেদের পথে চলতে শুরু করলাম। ... ...

হাসদেও অরন্য বাঁচাও সংঘর্ষ সমিতির (HABSS) আহ্বায়ক, যিনি সবুজ রক্ষার লড়াইয়ে সারা বিশ্বের নজর কেড়েছেন সেই ‘গোল্ডম্যান’ বা ‘গ্রীণ নোবেল’ পুরস্কার প্রাপক অলোক শুক্লা বলেছেন, “হাসদেও-আরন্দ বনাঞ্চলের হাতিদের জন্য একটি মুক্ত কারাগার উপহার দিতে চলেছে সরকার ও আদানি গ্রুপ।” কেন এটা বলছেন তিনি? তাঁর যুক্তি, রাজস্থান বিদ্যুৎ উৎপাদন নিগম যা কিনা আদানি গ্রুপ পরিচালনা করে তারা ‘পারসা ইস্ট ও কাঁটা বাসন’ কোল ব্লকের জন্য বরাত পেয়েছে। এরজন্য ৪ লক্ষ গাছ কেটে ফেলা হবে। ইতিমধ্যেই ৩০ হাজার গাছ কাটা হয়ে গেছে। অনতি বিলম্বে কাটা পড়বে আড়াই লক্ষ। হাতিরা যাবে কোথায়? শুক্লা বলেছেন, “হাসদেও অরণ্যের পূর্ব দিকে আগে থেকেই একটি কয়লা খনি আছে। দক্ষিণ পূর্বে শিল্প শহর কোরবা। দক্ষিণ পশ্চিমে হাসদেও নদ। বাকি রইল পশ্চিম এবং উত্তর পশ্চিম সীমান্ত যেখানে আদানি গ্রুপ কয়লা খনির জন্য গাছ কাটতে শুরু করেছে।” ... ...

UGC NET বর্তমানে এমনই এক পরীক্ষা যেখানে মেধা বা শ্রমের কোনও জায়গা নেই, থাকার মধ্যে আছে কেবল আন্দাজ এবং একমাত্র আন্দাজ। নেট-এর গণ্ডি পেরিয়ে যারা আশা করে নিজ পছন্দের বিষয় নিয়ে গবেষণা করবে বা আপাত ভাবে JRF এর টাকায় অস্বচ্ছল বাড়িটিকে আর্থিকভাবে সাহায্য করবে ও ভবিষ্যতে একটি স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবনের প্রত্যাশায় রাতের পর রাত, মাসের পর মাস পরিশ্রম করে চলেছে - তাদের স্বপ্নকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলছে রাষ্ট্রের মামদোবাজি। ... ...