
আমি আজ উচাটন আত্মার মুখে / জলনিরোধক ছিপি লাগিয়ে ঘুরেছি ... ...

আলো-কে ঋদ্ধ করে হেঁটে / যাওয়া পাঠ্য টেবিল আমি / তার দেশে ছুতোরের অনাহুত ছেনি ... ...

ভালোবাসা মানে কান্না ভেজা চোখে ভালোবাসা নীল খামেদের ভেলা ... ...

যতবার পেছনে তাকাচ্ছি একটা বিরাট রেলগাড়ি ঝমঝম করে কলকাতা থেকে নাগপুর সারারাত ছুটছে। জানলার বাইরে অন্ধকার একদম স্থির, দমকা হাওয়া এসে নাড়িয়ে দিচ্ছে তপনের চুল। এ হাওয়া তো আর একভাবে বয় না। কখন সেই বেরোনোর আগে একবার চিরুনিতে হাত পড়েছিলো, তারপর এদিকে ওদিকে সরে গেছে - পশ্চিমবঙ্গের সীমা পেরোনোর অনেকটা আগে তপনের চুল এসে ছড়িয়ে পড়েছে ওর কপাল বেয়ে। ... ...

অগ্নি ছিলো সূর্যে, আকাশে বিদ্যুতে, জীবন্ত আগ্নেয়শৈলের জ্বালামুখে, অরণ্যে দাবানলে ও সমুদ্রে বাড়বানলে। কিন্তু সে ছিলো না হিমকন্থা প্রস্তরগুহায়, ছিলো না বৃক্ষচারী প্রায়মানবের সন্নিধানে। তীব্র শীতপ্রবল উত্তরী অক্ষের দেশে ছিলো কুয়াশা,ছিলো নিষ্ঠুর তুষারঝঞ্ঝা ও হিমজমাট প্রান্তর। হিমকন্থা প্রায়মানবেরা অগ্নিকে আহ্বান করেছিলো ভাষাহীন চিৎকৃত প্রার্থনায়। ... ...

সেই মেয়েটা ------ ভেলভেলেটা ...... চলতে থাকে ...... চলতে থাকে ...... চলতে থাকে ...... চলতেই থাকে ..... চলতেই থাকে। পথ শেষ হয় না, ঠ্যাঙাড়ে হীরু রায়ের বটতলা পেরিয়ে, সোনাডাঙার মাঠ ছাড়িয়ে, ইছামতি পেরিয়ে,পদ্মফুলে ভরা মধুখালি বিলের পাশ দিয়ে,বেত্রবতীর খেয়ায় পাড়ি দিয়ে পথ যে চলে এসেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে দেশ ছেড়ে বিদেশের দিকে, সূর্য্যোদয় ছেড়ে সূর্যাস্তের দিকে, জানার গন্ডি এড়িয়ে অপরিচয়ের উদ্দেশে ... ...

প্রথম যেবার স্টল করি সে কি মজা সারা রাত জেগে রঙ করছি নিজেরাই তখন তো নিজেরাই সব কিছু এমন কি পেরেক দড়িও নিজেরাই বুঝলে আলম সে ভারি মজার সব কেস সারা রাত সবাই মিলে মাঠময় তারপর রঙ খুঁজতে বেরোতাম বড় বড় স্টল বালতিতে ... ...

প্রিয় দের তখন ফুল খেলবারই দিন এমনিতে। সবই বেশ সুডৌল দেখাচ্ছে। ক্লাবমোড়ে নতুন বই য়ের দোকানে মনে আর মানে দুজনের ই ছবির বই এসেছে। এঁড়ে গুপ্ত সেইটে বা সোমনাথ হোড়ের তেভাগার ডাইরীর নতুন সংস্করণ দেখতে দেখতে কান খাড়া করে দিল্লী-কাকুর প্রাগ পোস্টিং এর গল্প শুনছে। ... ...

আমার ওয়ং দেখা শুরু In the Mood for Love ছবিটি দিয়ে। প্রথম বার দেখার পরেই এক ঝটকায় ছিটকে যায় আমার অভ্যস্ত ইউরোপীয় সিনেমা পঠনপদ্ধতি, চশমা, স্থান ও সীমানাগত বোধ। ব্যক্তিগত স্থান ও সময়বোধের স্বচ্ছন্দ, চৌকশ মেপে নেওয়া পরিচিত গন্ডীর মধ্যে বাসরত পরিচিত চেতনাগুলি কেঁপে ওঠে। পরিচিতি এক ধরনের স্বাচ্ছন্দ্য প্রদান করে - এ ভ্রান্তির সত্যতা থেকে জন্ম নেয় পরিচিতির অপরিচিত অস্বাচ্ছন্দ্য। ওয়ং-এর ছবি স্থান নির্ভর, শহর নির্ভর - হংকং নির্ভর বলতে হয় আরো শুদ্ধ করে বলতে গেলে। ... ...

চাদ্দিকে এখন অপহরণ অপহরণ হাওয়া। লোকে গপগপ করে চা আর লেড়ো বিস্কুট সহযোগে সাতসকালে গিলছে তাজা নিউজপ্রিন্ট,খবরের কাগজের পোয়াবারো, হাইটেক তদন্ত করে শিগগিরিই ভারত্ন পুরষ্কার পেতে চলেছে বঙ্গের পুলিশ। পাব্লিকেরও মস্তির শেষ নেই, এইফাঁকে শিখে নেওয়া যাচ্ছে অপহরণের নতুন নতুন কায়দা, শার্লক হোম্স টোম্স ছাড়ুন, স্বপনকুমার, হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিকই শুনছেন, স্বয়ং স্বপনকুমার অব্দি গোয়েন্দা গপ্পে এইরকম অপহরণের কাহিনী লিখতে নির্ঘাত ভির্মি খেতেন। ... ...

এখন সকাল ছটা। বাইরে ঝোড়ো হাওয়া, সঙ্গে বৃষ্টি। কিন্তু এখনো সেই কালান্তক হারিকেন আসেনি। ওটা দুপুর নাগাদ এসে পৌঁছবে বলছে খবরে। ঘরে আলো জ্বলছে, ঝটচলছে, খবরে দেখাচ্ছে ঘূর্নীঝড় ক্যাট্রিনাকে। ওটা উপকূলে আছড়ে পড়েছে, এখন এদিকে এগিয়ে আসছে। ... ...

উত্তরদিকে পেন্ডল হিল মাথা নিচু করে দেখছে। বড়সড় বাচ্চার মত, আধপাগলা জেমস যেমন, কিছু একটা দেখলো তো দাঁড়িয়ে গেল অমনি, ঠোঁটের কোণ দিয়ে লালা গড়িয়ে পড়ছে তো পড়ছেই। রোদ এসে ধুয়ে যাচ্ছে ছককাটা সবুজ মিডো। সাদা-কালো ফুটকিগুলো চরে বেড়ানো গরু আর ভেড়ার পাল। আলসেমো করে সাড়ে দশটায় ঘুম থেকে উঠে খেয়াল হল গতরাতের পাউরুটির টুকরো-টাকরা গুলো নি:শেষ। হুইটফ্লেক্সের প্যাকেটটা মেঝেয় গড়াগড়ি খাচ্ছে, ঠিক যেখানে আজ্ঞাচক্রের কালির দাগ শুকিয়ে প্রসঙ্গহীন, বুঝভুম্বুল। অগত্যা আইসল্যান্ড। ... ...

আমরা কোনদিন সার্কলের থিওরেম প্রমাণ করি নি, মানে করতে পারি নি। বৃত্তের উপপাদ্য প্রমাণ করতে করতে কেটে গেছে আমাদের ইস্কুল বয়স। এটা আমাদের দোষ। অনেকটা বাংলা ব্যাকরণ বইতে দোষবাচক বিশেষণের উদাহরনে যেমন লেখা থাকত 'ছেলেটি রোগা- এটি তার দোষ', সেইরকম দোষ। আমরা ভৌতবিজ্ঞান পড়েছি, ভ্রামক পড়েছি, উদস্থৈতিক কূট পড়েছি - সাইন্স কুইজে রেটর্ট কে বকযন্ত্র বলে প্রবল খোরাক হয়েছি। ... ...

নিনি দৌড়াচ্ছে, নিনি দৌড়াচ্ছে, খুব দৌড়াচ্ছে স্কুলের মাঠে। সামনেই স্পোর্ট্স। ওর খুব ইচ্ছে রিলে রেসে নাম দেয়, খুব একটা ভাল দৌড়াতে পারে না বলে বাকীরা ওকে রাখতে চাইছে না। তা দিদিমনি বলেছেন ও যদি সবিতা আর রিমার সাথে সমানে সমানে দৌড়াতে পারে তবেই ওকে নাম দিতে দেবেন। ... ...

সংবাদে প্রকাশ, যে মেয়েদের হোস্টেলে জনৈকা ছাত্রী তার পুরুষ বন্ধুকে নিয়ে প্রবেশ করার অপরাধে হোস্টেল এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়টির সুপ্রাচীন জীর্ণ ভবনে যেহেতু ঐতিহ্যপূর্ণ বাস্তুঘুঘুদের বাসস্থান, অতএব, আমরা এই মূহুর্তে ভুলে যাব, যে ছেলে এবং মেয়েদের আলাদা খোঁয়াড়ে ভরে রাখাটা প্রাগৈতিহাসিক একটি প্রথায় রূপান্তরিত হতে চলেছে সারা বিশ্ব জুড়ে, ভুলে যাব, যে এই অ্যান্টি ব্যারাকিং মুভমেন্ট ... ...

কাত্তিক মাসে রাত্তিরবেলা / ভুতে মারে ঢিল ভুতে মারে ঢেলা / এর টিকি ধরে ওর গুরু চ্যালা ... ...

না, দোষ দেই না কাউকেই। আমি নিজেই তো বালিতে মুখ গুঁজে। তবে সাংস্কৃতিক জগতে যারা খুব মন দিয়ে ঐ ইমেজ গুলো ছড়াচ্ছিল্লেন তারাও ব্যবসায়ী। তাদের কবিতা, গান, নাটক এই সবের সাথে নোংরা পাজামা, কানে গোঁজা বিড়ি, অবিন্যস্ত চুল, সোনাগাছিতে উন্মত্ততা, মাদ্যিক কাল্ট - এরাও পণ্য। এমারজেন্সীর এক গুঁতো এদের সবাইকে ল্যাংটো করে দিয়েছিলো। মুখ গোঁজার জন্য অত বড় মরুভুমি আর ছিলো না। ... ...

প্রতিটি ইহুদিরই নাকি একটি নিজস্ব ইজরায়েল আছে, প্রতিটি ভারতীয়ের যেমন আছে একটি নিজস্ব পাকিস্তান। সেভাবেই, প্রতিটি প্রজন্মেরই একেকটি নিজস্ব সত্তর দশক আছে। নিজের সত্তর নিয়ে লিখছেন তীর্থঙ্কর দাশগুপ্ত। ... ...

ট্রেনে আসল ভিড়টা হয় বিকেলবেলা। সাহেবরা খুব ঘড়ি ধরে চলে,পাঁচটা বাজতে না বাজতেই অফিস ফাঁকা। তাই সন্ধে নামার আগে ট্রেনে পা রাখাই দায়। আর মেঘও করে সাধরনত বিকেল-সন্ধ্যার মাঝামাঝি,যাকে বলে গোধূলি। এই রকমই একটা বিকেলবেলা, ক্লান্ত, গৃহাভিমুখী জনতা, ঝিরঝিরে বৃষ্টি, অক্লান্ত,ভেজা-ভেজা, রেশমের মত। আকাশ আলো হলদে হয়ে যাওয়া, ক্ষয়াটে, পান্ডুর অথচ স্বচ্ছ, বাইরে ভিতরে দেখতে পাওয়া যায়। ... ...

রক ভিজে গেছে বলে চায়ের দোকানে বর্ষার দিনে গুলতানি করছেন? পাড়ার মোড়ে হেজিয়ে হেজিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন? পাশের বাড়ির মেয়ের স্কার্টের দৈর্ঘ্য নিয়ে আলোচনায় অরুচি এসে গেছে? জীবনে উত্তেজনার নতুনতর খোরাক খুঁজছেন? হাতে প্রচুর সময়, কিন্তু তা দিয়ে কি করবেন জানা নেই? কিচ্ছু ঘাবড়াবেননা। ফোকটে দেশসেবা করার মোক্ষম সুযোগ এখন আপনার সামনে। ... ...