
---- "অ বৌদি, কি কর গো? ভাবলাম যাই দেখে আসি, তোমরা কেমন আছ?" ---- "আরে এসো এসো, আয় রমা, এই তো এখানে এসে বস।" ... ...

এসব ক্ষেত্রে যা হয় আর কি। প্রিয়জনদের কথা মনে পড়ে। মনে হয় / যদি তিনি এখানে থাকতেন কি আশ্চর্য হতেন কি আনন্দ পেতেন। ... ...

বার এর টয়লেটের দেয়ালে / কোন করুণ হোমোসেক্সুয়াল / বা হারিয়ে যাওয়া মেয়ের মোবাইল নম্বর / মনে পড়ে যায় অশ্রুতপূর্ব কোন সোনাটার ... ...

রোদে ধান, ছায়ায় পান / বাঁচতে চান তো অল্প খান। / কী বলছেন, মন আনচান? / পঙ্কজ মল্লিকের গান ... ...

এ পৃথিবীতে প্রিয় বলতে অসুখ, মৃত্যু, কিছু বিপর্যয় শুধু; / বাকি সব অশালীন - / প্রত্যহ মেয়েদের চুলে তেল মখা, কথোপকথন ইত্যাদি। ... ...

মৃত্যু, আমিও যাপন করেছি নিশিরাত / মৃত্যু, এদেরো রাত্রিরা মরে রোজ রোজ / মৃত্যু, রাত্রি ঝরলে কি হয় বলছি / মাথায় একটা লাইন ঘুরছে, লিখেনি? ... ...

যে কবি, সে কবি হতে চায় না কোনোদিন; / জোৎস্না তো চাঁদের, চাঁদ ফিরে পেতে চায়? / জল কি ডাঙার কাছে রেখে যায় হীণ / স্রোতের আক্ষেপ? শুধু বহতা শেখায়। ... ...

অনেকটা বিকেল হয়ে গেছে। এইবার আমি অলিখিত কৃষ্ণগহ্বরগুলো নিয়ে আরেকবার বেড়াতে চাই সারাটা অঞ্চল। এখন কিছুটা ভালো, যদিও সেই কতবার বিউটি অ্যান্ড দা বিস্ট নামক তীব্র আশাবাদী ... ...

দোহাই পাঠককুলকে, ভুল বুঝবেন না। এই লেখার প্রতিটি চরিত্রই জলজ্যান্ত। সব কটি অক্ষরই নিতান্ত ব্যক্তিগত। এটাকে নৈর্ব্যক্তিক ইয়ার্কিমুখী কাল্পনিক কথোপকথন ভাববেন না। এটি এক সিরিয়াস দলিল, মন দিয়ে পড়লে দুই প্রজন্মের বিভেদ ও বিভাগের সব রহস্যের চাবি কাঠি একেবারে আপনার হাতের মুঠঠিতে, হুঁ। ... ...

দ্যাশে ফির্যা পুzI / থিম - চীz - পিzI / হবু গবু রাzI / বুলবুল ভাzI ... ...

আমি যেখানে কাজ করতে যাই, সেখানকার পোষাকি নাম করোনারি কেয়ার ইউনিট। সেখানে ইউনিফর্ম পরা রোগীরা সার বেঁধে শুয়ে থাকেন যে যাঁর নিজস্ব বেডে। নানানরকম যন্ত্রপাতি দিয়ে তাঁরা তাঁদের নিজস্ব মনিটরের সঙ্গে বাঁধা। মনিটর হরদম মেপে যাচ্ছে তাঁদের হার্ট রেট, রেসপিরেটরি রেট, রক্তচাপ, ই.সি.জি.। যন্ত্রের ইনফ্রা রেড বিকিরণ মাপছে এমনকি রক্তের অক্সিজেন মাত্রাও। ... ...

সড়ক পথে ভারত থেকে বাংলাদেশ যাওয়াটা বেশ মনোরম। প্রচুর বাস হয়েছে, মাশুলও নগন্য, আর চারপাশ দেখতে দেখতে বেশ যাওয়া যায়। বর্ডারে আগে বেশ ঝামেলা করত কাষ্টমস কিন্তু এখন বাসওয়ালারাই সামলে নেয় সবকিছু,কিছু প্যাকেজ হয়ে থাকবে। সকালে এখানে বাসে উঠে পড়ো আর তারপর ওরাই সব দেখে-শুনে নেবে। ভোর ছটায় কোলকাতা থেকে বাস ছেড়েছে আনুমানিক সন্ধ্যে ছ'টায় ঢাকায় নামিয়ে দেবে, বাসে ওঠার আগে থাকতেই সেটা জানা। বেনাপোল বর্ডারে পৌঁছাতে যা সময় লাগে তার আধ ঘন্টা আগেই পৌঁছালো বাস, ইমিগ্রেশন কাষ্টমস সেরে নিয়ে বাস আবার চটপট ঢাকার পথ ধরলো দেড় ঘন্টার মাথায়। বাসে যিনি অ্যাটেন্ড্যান্ট, তিনি বললেন আজ সবকিছুই খুব তাড়াতাড়ি মিটে গেল, বিকেল পাঁচটার মধ্যেই ঢাকায় পৌঁছে যাব ইন্শাল্লাহ। আমি পেট্রাপোল থেকে চট্টগ্রামে বাবাকে ফোন করে জানিয়ে দিলাম যে পাঁচটার মধ্যে পৌঁছে যাব, আর জানতে চাইলাম তারপরে কিভাবে চট্টগ্রামে যাওয়া হবে? ... ...

এই সব পড়ে নিশ্চয় বুঝছেন যে এইরকম তুশ্চু বিষয় নিয়ে কিবোর্ড চালানোয় আপনার এবং আমার- উভয়েরই অযথা সময় নষ্ট হচ্ছে। তবে লিখতে গেলাম কেন? বুলবুলভাজায় বেশ একটা নিম্নবর্গের যন্ত্রণা ইত্যাদি গোছের লেখা লিখব বলে? নাকি সেই স্টাইল অনুসরণ করব বলে যেখানে অতি নগণ্য সংবাদের মধ্যে মহৎ লেখকেরা গরীব মানুষের স্বেদ-ক্লেদ-দু:খ-যন্ত্রণার ছবি খুঁজে পান? আজ যখন সাব-অল্টার্ন ব্যাপারস্যাপার বেশ জাতে উঠেছে, তখন গুছিয়ে এই টাইপের লেখা লিখতে পারলে দু চারটি হাততালি আর পিঠ চাপড়ানি সুনিশ্চিত। সত্যি বলতে কি, এই সব হাততালি পিঠ চাপড়ানি বেশ উপভোগ করি এবং এই লেখার পিছনে যে এই সব কিছু কাজ করছে না- এই রকম মিথ্যা কথাও বলব না। এবং এই খবর পড়ে আমার এক চিলতে বিবেকের দংশন হয় নি। বুকে এক ফোঁটা কান্নও জমে নি। কারুর অন্যায় অবিচারের উপর বিন্দুমাত্র রাগ হয় নি। ... ...

১৯৯৫ সালের বইমেলায়, নির্ঝঞ্ঝাটে বই দেখার জন্য একটি অপেক্ষাকৃত ফাঁকা দোকানের সন্ধানে ঘুরতে ঘুরতে "থীমা"তে যে বইটির প্রচ্ছদ দেখে থমকে দাঁড়িয়েছিলাম, তার নাম "থোড় বড়ি খাড়া"। লেখক কল্যানী দত্ত। কমলা রঙের হার্ড কভারে সাদাকালো ছবি আঁকা, ১৩১ পৃষ্ঠার কৃশকায় বইটির প্রতিটি পাতায় যত্নের ছাপ। প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ পূর্ণেন্দু পত্রী। এমন নয়নশোভন বই বাঙ্লায় খুব যে বেশী দেখা যায় তা নয়। ... ...

জুন মাসের সকাল। অস্ট্রেলিয়ার রেডিও নোভা ৯৬.৯এর ব্রেকফাস্ট শো। হোস্ট দু'জন। মেরিক আর রস। কথায় কথায় বেলা গড়াচ্ছে। প্রশ্ন তুললেন মেরিক ওয়াটস-প্রস্টিটিউটরা কেন তাঁদের হাই প্রোফাইল ক্লায়েন্টদের নামধাম গোপন রাখেন। সঙ্গে সঙ্গে একটি ফোন কল। "আমি একজন প্রস্টিটিউট। We may have defamation cases brought against us. I mean, as I'm anonymous, I can say I've seen Michael Costa... ' সঙ্গে সঙ্গে লাইন কেটে দিলেন হোস্টদ্বয়। ... ...

দিল্লীতে বহু অসম্ভবকে সম্ভব করা যায় যে বস্তুটির সাহায্যে, চলতি ভাষায় তার নাম "যুগাড়"। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, বিহার থেকে লোকজন স্রেফ এই "যুগাড়"এর ভরসায় চলে আসে দিল্লীতে। এসে শুরু করে যে কোন রকম একটা ব্যবসা। হতে পারে কোন দোকান, কিম্বা সাইবার কাফে, অথবা ট্রাভেল এজেন্সি। রেসিডেন্শিয়াল এরিয়ায় গড়ে ওঠে পরপর দোকান। জমজমাট হয়ে ওঠে এলাকা। কিন্তু রেসিডেন্শিয়াল এরিয়ায় রাস্তার পাশে পাশে দোকান হওয়া বে-আইনী। তাতে কি, "যুগাড়" আছে না! "যুগাড়" জানেন না? ... ...

কার্লোস ফুয়েন্তেসের নাম আমি প্রথম শুনি এখানেই। The Crystal Frontier এর আলোচনা পড়ে আগ্রহী হই ফুয়েন্তেস সম্বন্ধে। আর ঠিক সেইসময়ই একদিন "বার্নস অ্যান্ড নোবলস" এ গিয়ে দেখি ফুয়েন্তেসের ২-৩ টি বই অসম্ভব কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ঝাঁপিয়ে পড়ে যে বইগুলি কিনলাম, এই Inez বইটি তার অন্যতম। দুইখানা ঠাসবুনোট লাভ স্টোরি একসাথে বুনে তৈরী এই উপন্যাসটি। যা এক কিশোরীর বিনুনীর মত ঝলমলিয়ে দুলে ওঠে, ডগায় বাঁধা অস্বছ কিন্তু স্বপ্রভ কৃস্ট্যালের দ্যুতিতে চোখ ধাঁধিয়ে দিয়ে। ... ...

বইয়ের প্রচ্ছদে "হিশেব"- বানান এভাবেই দেয়া আছে। লেখকের নাম যখন হুমায়ুন আজাদ, এ বানান তখন আর অবাক করেনা আমাকে। হুমায়ুন আহমেদ আর হুমায়ুন আজাদ দু'জন ভিন্ন মানুষ। প্রথমবার নাম শুনে অনেকেই দু'জনকে গুলিয়ে ফেলেন, সে জন্যেই এটা বললাম। আমার পড়া হুমায়ুন আজাদের প্রথম বই - "সব কিছু ভেঙ্গে পড়ে"। মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে লেখা বই। সব রকম সম্পর্ক। বাবা-মা'র সাথে, ভাই বা বোনের সাথে, স্বামী-স্ত্রী বা পুত্র-কন্যাদের সাথে। সে বইয়ের মূল চরিত্রে ছিলেন একজন প্রকৌশলী, যিনি সড়ক বানান, আর ব্রীজ। মানে সেতু। ব্রীজ বানাতে বানাতে একসময় মানুষের সম্পর্কগুলোকেও তিনি ব্রীজ বলে ভাবা শুরু করেন। একসময় দেখা যায়, এ সম্পর্কগুলো তার বানানো ব্রীজগুলোর মতই কী অসহায়ভাবে ভেঙ্গে পড়ছে! বই পড়ে যে কখোনো যন্ত্রনা পাওয়া যায়, হুমায়ুন আজাদের বই পড়ার আগে আমার এই ধারনাই ছিলো না। অসম্ভব যন্ত্রনা দেয় তাঁর বই,অথবা বলা ভাল - পীড়া দেয়। নিজেকে নিজের মুখোমুখি দাঁড় করায়। চারপাশের সোজা সরল জগতের ধারনা এক লহমায় উড়িয়ে দিয়ে তিনি যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখান, কেমন করে আমাদের চারপাশের সব কিছু ভেঙ্গে পড়ছে। ... ...

এখন গরমকাল - বেজায় গরম, যাকে বলে "পীক সামার" - গোটা ইংল্যাণ্ডে লোক হাঁসফাঁস করছে। করবে নাই বা কেন,প্রধাণত: শীতের দেশ, সেখানে দুম করে বত্রিশ-তেত্রিশ-কোথাও পঁয়ত্রিশ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা অস্বস্তিকর তো বটেই। তুমুল জল্পনা - উনিশশো এগারোর রেকর্ড (সাঁইত্রিশ ডিগ্রী)হয়তো ভাঙতে পারে। সকালের মেট্রোতে খবর - "Commuters in London are travelling in temperatures higher than those in which cattle are transported ... ...

আমরা নেশায় বাঁচি। এটাকে অবশ্য বাঁচার নেশাও বলা যেতে পারে। হাতের কাছে অনেক সহজ নেশা আছে যেমন ইলেক্টিকের কারেন্ট খাওয়া, এটা অবশ্য মাঝে মাঝে খেয়ে থাকি। বেশ ঝিমঝিম ভাব লাগে, কখনও হাত পা ছিটকে ফেলে, কখনও টান দিয়ে ধরে রাখে অদৃশ্য বাঁধনে। ফলে ভ্যারিয়েশন আছে। এটা আপনর কোনদিনই সাপের ছোবল খাওয়ার মত একঘেয়ে লাগবে না। রাহুলদের শ্যাম্পেনে কোকেন মিলিয়ে খাওয়ার আইডিয়াটাও গুচ্ছ। মাঝে সাঝে চলতে পারে,রোজ নয়। কিন্তু নেশা তো রোজ চাই, বেঁচে থাকতে যখন হচ্ছেই। আর যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সেটা হাইটেক হতে হবে। টেক তো টেক না টেক তো না টেক, একবার তো সি। দেখাই যাক না, টেকনো নেশা না হলে কেন বেঁচে থাকা? সুতরাং আখ্যান আরম্ভ। ... ...