
"বইপত্তর" সেকশনে একটা বইয়ের কথা আছে - "গ্নু লিনাক্স ইশকুল" - মধ্যমগ্রামের "জি-এল-টি" অর্থাৎ "গ্নু লিনাক্স ঠেক"-এর প্রচেষ্টা - যাঁরা সদ্য সদ্য কম্পু ব্যবহার করতে শুরু করেছেন বা যাঁরা বেশ কিছুদিন ব্যবহার করছেন সকলেই টার্গেট। ... ...

দ্যাখেন তো ওই বিষন্ন গ্লিসারিন জবজবে টিভি সিরিয়াল আর স্টেনগানের প্রদর্শণী কিছু ধ্বজামার্কা সিনেমা। কেন, কার্গিল ধামাকায় মিডিয়া যখন ধূপধুনো জ্বেলে "ওং মিলিটারায় নমস্তুতে" জপছিল তখন তো মশাই আপনি করজোড়ে নতজানু, পঞ্চপ্রদীপ জ্বেলে আরতি করতেও বাকি রাখেননি। স্কুলের কচিমাত্রেই তখন অনিবার্য স্লোগান : ভারতীয় সেনা, দেশপ্রেম আর বন্দেমাতরম। এই ক'বছরেই সব ভুলে সাফ! ক'টা পুলিশ ঠেঙিয়েছে বলে ছি ছি করছেন? আরে ছো:। পুলিশ কি একটা মানুষ হল? সহবতের একটা ক্র্যাশ কোর্স কলকাতা পুলিশে জন্যে যে অবিলম্বে দরকার সে কথা ভেবেছেন? বর্ষবরণের রাত। ... ...

দেওয়ালীর হইহুল্লোড় শেষ হতে না হতেই, "মস্ত্' পাবলিক বছরশেষের মস্তির যোগাড়যন্তর শুরু করে দেয়। প্লেনের টিকিট, হোটেল বুকিং, পার্টির খবরাখবর; হ্যাপা কি কম নাকি! আর "আজকাল সস্তার টিকিট পেয়ে যত অ্যারাগ্যারা লোকও প্লেনে চাপে মশাই"। আগে থেকে ভাল ডীল দেখে বুক না না করলে, শেষে একগাদা গচ্চা যাবে। কটা ছুটি বাঁচল বছরশেষে নেবার জন্য, কটা সামনের বছরে ক্যারী ফরোয়ার্ড করানো যাবে, কটা সিকলীভ, কটা ক্যাজুয়াল, কার সাথে কাকে নেওয়া যাবে; এইসব হিসাবনিকাশও পাশাপাশি কষে ফেলতে হয়। ... ...

নেপালের আকাশে নাকি এখন লাল তারা জ্বলজ্বল করে জ্বলছে। স্বৈরাচারী রাজা পিছু হঠেছেন। ক্ষমতাচ্যুত হলেন বলে। এখন একদা বিপ্লবীদের হাতে গণতন্ত্রের বিজয়পতাকা। দীর্ঘদিনের বিরাট লড়াইয়ের শেষে এসেছে বিজয়। বিজয়ী বীররা তাই নামিয়ে রেখেছেন অস্ত্র। সেই অস্ত্রের পরিমান এতই বেশি, যে, ভারত থেকে পাঠানো হয়েছে অস্ত্র রাখার কন্টেনার। সেখানে অস্ত্রশস্ত্র জমা রাখার পর তালা বন্ধ করে একটি চাবি নিয়েছেন প্রচন্ড। অন্য ডুপ্লিকেট চাবিটি ঠিক কার কাছে জমা আছে, সেটা এই মূহুর্তে জানা না গেলেও, এই আনন্দের মূহুর্তে আমরা আর সেসব নিয়ে মাথা ঘামাবোনা। আজ আনন্দের দিন। আজ বহুদিন পরে বিজয় এসেছে ফিরে। আজ আমরা, অর্থাৎ আমি আর আমার চিরপুরাতন পাড়াতুতো প্রেমিকা খেঁদি, হলইবা রিমেক, শাহরুক খানকে দেখব মন দিয়ে। ... ...

পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের উপদ্রব বেড়েছে আর বিহারে নাকি ডাকাতের। বিশেষ করে ব্যাঙ্ক ডাকাতের। বিহার পুলিশের বড়োকর্তারা এই নিয়ে একাধিক গম্ভীর মিটিং এবং তৎসহ প্রচুর চা, বিড়ি, সরকারি পেট্রোল এবং টিএ বিল খরচার পর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, যে, আসলে দোষটা মোবাইল ফোনের। কেন মোবাইল ফোন, গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা দক্ষিণমেরুর পেঙ্গুইনদের এ ব্যাপারে কেন দায়ী করা হচ্ছেনা, সে নিয়ে বিশদ তথ্য না পাওয়া গেলেও, সংবাদে প্রকাশ, ব্যাঙ্কে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে, যে, ডাকাতরা ডাকাতির কাজে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। যুক্তি মারকাটারি সন্দেহ নেই। ... ...

বছর আট নয় আগে সদ্য বীরভূম থেকে আসা এক ছাত্র কলেজে কলেজ সুলভ মুক্তির স্বাদ পায়নি। কেবল বছরের বিশেষ একটা সময়ে নিজের আদলে মুক্তির খোলা মাঠে দৌড়ে যেত হাফ সোয়েটারে। সে বড় সুখের সময় ছিল যখন বছরের ঐ কটা দিন প্রথম অর্ধের পর কলেজ ছুটি হয়ে যেত ছেলেটির নিজস্ব নিয়মে। রোদ্দুর মেখে ভাঁজ করা নিদাঘ ডানা মেলে দেওয়া ছিল নিপাট সারল্যে। ছিল তখনও পর্যন্ত কোলকাতার রাস্তাঘাত সম্পর্কে অবহিত না থাকা জনিত ভয় এবং কলেজ গেট থেকে বের হতেই বাস থেকে ""বইমেলা, বইমেলা, ময়দান, বইমেলা'' চিৎকারে সেই ভয় নামক কুয়াশার পাতলা হতে হতে মিলিয়ে যাওয়া - অপূর্ব সে আলো। বাস ঢুকছে, দেখা যাচ্ছে বইয়ের স্টল, প্যাভিলিয়ন, জমতে থাকা মাথা, তৎক্ষণাৎ নেমে পড়া সেই জমিনেই - টিকিটের লাইন - দ্রুত পায়ে ঢুকে পড়া আকাঙ্খিত মরুদ্যানে, সম্মোহিত প্রাণ। ... ...

বাংলায় চুরি ক্রমশ: বাড়ছে-- মরুদ্যান শুকিয়ে গেল বলে। হপ্তা দুই আগে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর গোঁফচুরি হয়ে গেল। একটি বন্ধুত্বের সাইটে ছবি-টবি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর একটি "ফেক' প্রোফাইল বানিয়েছিলেন জনৈক যুবক, তাই নিয়ে মিডিয়ার হুল্লোড় যেন যৌবনের জলতরঙ্গ, রুধিবে কার পিতৃদেব। মুখ্যমন্ত্রীর আইডেন্টিটি চুরি হয়ে যাচ্ছে, সম্মানহানি হচ্ছে, রাজ্যের ভাবমূর্তি ম্লান হচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি থেকে শুরু করে থেকে শুরু করে কোনো কোনো গপ্পের গোরু "ইহা একটি চক্রান্ত' পর্যন্ত পৌঁছে গেল। তাও কপাল ভালো, এর মধ্যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কালো হাত কেউ দেখতে পাননি। (অবশ্য দেখতে পেলেও নির্ঘাত চেপে গেছেন, এই শিল্পায়নের বাজারে মার্কিন বহুজাতিক নিয়ে প্রশ্ন তোলার বুকের পাটা আর কোন বাপের ব্যাটার আছে?) ... ...

আলপটকা বৃষ্টি হয়ে স্টার থিয়েটারে, অধুনা সিনেমা, দুফোঁটা জল ঢুকেছে বলে কত কথা! নাকি, সেখানে তখন মুখ্যমন্ত্রী ভাষণ দিচ্ছিলেন। হাতিবাগানে তো আর প্রখর বর্ষাকালেও জল জমে না! গোমুখ্যু ইঞ্জিনিয়ার আর আকাট রাজমিস্ত্রির হাতে পড়েই নেথাৎ, আহা, অমন ঐতিহ্যঘৃতগন্ধী বিল্ডিংটা মবলগ চুলকে গেল গা! সাংস্কৃতিক শীর্ষনেতৃত্বের জমানায় তাই প্রকৃত কালপ্রিট ঢুঁড়ে, দামড়ে সিধে করার প্রেসকপি নোটিস গেছে বলে শোনা যায়। এসব শাক সরিয়ে শহর কলকাতার জলনিকাশী ব্যবস্থার কানকো উল্টে যাঁরা লাল না কালচে বিচারের বেহায়া আঁতলামো মারাচ্ছেন, তাদের জন্যে চালুনি ছাড়া অন্য কোনো নাম বরাদ্দ নেই। ... ...

বঙ্গীয় শিক্ষাব্যবস্থার নতি কোন অভিমূখে যাইতেছে, তাহা অধুনা প্রবর্তিত "গ্রেড" ব্যবস্থার ফলাফল হইতে অচিরেই নিরূপণ করা যাইবে। এমনিতেই "ছাত্রানামধ্যয়নং তপ:" - এই মূলমন্ত্রটি বর্তমান ছাত্রসমাজ সম্পূর্ণরূপে বিস্মৃত হইয়াছে; তদুপরি উহাদিগের মন ভুলাইবার যাবতীয় সরঞ্জাম ইতোমধ্যেই সর্বত্র মজুদ। সর্বোপরি গোদের উপর বিষফোঁড়ার ন্যায় সাম্প্রতিকতম সংযোজন, "গ্রেড" প্রথার প্রবর্তন। ... ...

ভবিষ্যতের ডানা থেকে খসে পড়া দু-একটা পালক কখনো কখনো বর্তমানের মায়াবী আলো-বাস্তবতায় ভাসতে ভাসতে অতীতে গিয়ে ল্যাণ্ড করে। ধুলোরোদ আর আবছায়ার মারাত্মক কম্বিনেশন থেকে তাকে চিনে নেওয়ার মতো রুস্তম মার্কেটে এখনো খুব একটা নেই। পুজোপ্যাণ্ডেলের নিয়ন-পাটাতনে ঝিনচ্যাক ছেলেমেয়েগুলো যখন ঘ্যামসে জানিয়ে দিচ্ছিল - ""নবনগর থেকে এসেছেন বিপুল প্রামানিক। আপনি হারিয়ে গেছেন। আপনার বাড়ির লোক আপনার জন্য ....'' তখন লাইনে দাঁড়ানো না-দাঁড়ানো ঝারিপ্রবণ তাবৎ বিস্ময়কুৎকুৎ বাঙালী পাব্লিকের গ্রে-ম্যটারে শুড়শুড়ি লেগেছিল কি? ... ...

অবধারিত পরনিন্দা পরচর্চা, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যার সরল সমাধানসূত্র নির্ণয় এবং আপৎকালে পিঠটান ছাড়াও আমরা আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকি - বিজ্ঞান গবেষণা। সবাই নয়, কয়েকজন (বাকিরা অবশ্যই মতামত রাখেন)। এবং আমাদের অর্থাৎ কিনা গবেষকদের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। আহা, আর কিইবা চাইতে পারো? ভারতবর্ষের ন্যাজে খেলানো রাজনীতি ছেড়ে তুমি পেয়েছ গবেষণা ... ... ...

শিশুকাল থেকে শুনে আসছি একপ্রকার পতঙ্গ শিকারী ফুল আছে। বিনয়ের সাথে আমরা বলতেই পারি,সত্যি কথা। এই অপরূপ মোহিনী ফুলটি, আহা, নাম তার মিডিয়া। ইমোশন রূপ পতঙ্গ, তা সে সস্তাই হোক বা তার তিন প্রকার রূপভেদই হোক, সুতোর টান অতীব নিঁখুত। পরতে পরতে সাজানো ক্রীম আর ক্যারামেল, মাঝে একটু বিরতি,- বুদ্ধিদীপ্ত অ্যালমন্ড। নেহাত গদগদ ভাব অসহ্য ঠেকলে একটু আধটু মরিচ মিশিয়ে দেওয়া - যা আমরা হামেশাই করে থাকি সঠিক অভিপ্রায় ব্যতিরেকেই। এই মিডিয়ার বহুরূপ। আমাদেরই মনন ও উৎকর্ষের খুপরি জরিপ করে তার এই দিন দুগনি রাত চৌনি শ্রীবৃদ্ধি। মৃত্যু নেই, জরা নেই। শুধু ফুলে ওঠা আছে, ফেঁপে ওঠা অমৃত বেলুন। এঁকে নমস্কার কর। ... ...

"আমরা সমাজটাকে চারটে ভাগে ভাগ করেছি।'' মার্ক্স এঙ্গেলস কি অপর গোলার্ধ কাঁপানো কোনো দেড়েল অর্থনীতিবিদ বা সমাজতাত্বিক নয়, এ ঘোষণা একটি প্রাইভেট সংস্থার প্যানেল রিসার্চ ফিল্ড সার্ভেয়ারের। ভারতবর্ষের জনসংখ্যার, একশ কোটি জনসংখ্যার, চারটি "SEC" অর্থাৎ "Social Economical Class"A, B, C, এবং D। অমর্ত্য সেন বিগলিত হবেন, মনমোহন সিং উৎফুল্ল ও আবুল কালাম মশাই আত্মহারা হয়ে পড়তে পারেন এমন সহজ সাধারণ আর্থসামাজিক পরিকাঠামো বিভাজনে এবং আমাদের দাবি ব্যপারটাকে অবিলম্বে পাঠক্রমের অন্তর্ভূক্ত করা হোক। ... ...

টালিগঞ্জের নায়করা অফিস টাইমে মেট্রোরেলে চড়ে বিক্ষোভ দেখাতে গেছেন, তাঁদের জন্য মেট্রোরেলের চাট্টি কামরা বে আইনী ভাবে সংরক্ষিত ছিল, যাত্রীরা সেখানে উঠতে গেলে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেওয়া হয়, ইত্যাদি ইত্যাদি বলে যাঁরা বাজার গরম করার চেষ্টা করছেন, তাঁরা চক্রান্তকারী। জনমানসে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাই তাঁদের একমাত্র কাজ। তাঁরা ভুলে গেছেন, নায়করা হলেন জাতির মুখ। ফিল্মে রোমান্স এবং অ্যাকশন করে তাঁরা জগৎ উদ্ধার করেন। একাই একশ জনের মহড়া নেন, পিটিয়ে দেশের শত্রুদের প্যান্টুল খুলে দেন, সোজা কথা? সত্যি কথা বলতে কি, তাজমহল, শচীন তেন্ডুলকার আর বলিউড ছাড়া দেশে আছেটা কি? পার্লামেন্ট আর রাষ্ট্রপতিভবন? ছো:। ... ...

বাপ-পরদাদা যখন মাতৃগর্ভে তারও আগে থেকে, আমরা আছি দাদা। সেই কবে সেকেন্দার কাকু যখন হেলেদুলে এসেছিল, আমরা লাইন দিয়ে পিছন পেতে দিয়েছি। ক্যাঁত শব্দে সীলমোহর প্রাপ্তি এবং হাতে হাতে শোধ - যেমন চলাও তেমনি চলি, যেমন বলাও তেমনি বলি। অথচ শালা ঐ বিশ্বাসঘাতক পুরু! হতচ্ছাড়া শুধু লাইনে এল না তা নয়, বলে বসলে কিনা, ""ঘুঘু দেখেছ ফাঁদ তো দেখনি! আমার মাটিতে গাড়ু হাতে বসতে এলে আমিও ক্যাঁতাব!'' অত:পর,-""গওয়া হ্যায়, চাঁদ তারে গওয়া হায়'' এবং কাকু শেষ অব্দি "বাপি বাড়ি যা' কেস হয়ে ফুটে গেল। কিন্তু আমরা তো আর ফুল নই যে ফুটে উঠে দোলে দোদুল দোলে। ... ...

মা হজ্জ্বে যাবেন। মায়ের সাথে আমার দেখা করতে যাওয়ার কথা ছিলো নভেম্বরের শেষে। কিন্তু বাংলাদেশের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাবা বারণ করলেন তখন যেতে, বললেন, এখন এলে আটকে পড়বে। প্রায় প্রতিদিনই হরতাল আর অবরোধ। এই সময়ে এসো না। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আসার দরকার নেই। আসার দরকার নেই, শব্দটা বেশ পীড়াদয়ক। বাপের কাছেও যেমন তেমন মেয়ের কাছেও। ডিসেম্বরের ১৫তারিখে মায়ের ফ্লাইট ছিল। সেটি ক্যানসেল হয়ে যাওয়ায় যাত্রাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অবশেষে তারিখ পড়ে ২৯শে ডিসেম্বর। আগে থেকে ঠিক করা হজ্জ্ব প্রোগ্রামের সব কিছু ওলট পালট হয়ে যায়, বেশ ভোগান্তি হয় মায়ের। মায়ের ফেরার সময়ে আমি যেতে পারিনি নিজের কিছু অসুবিধে থাকায়। মার্চের প্রথম সপ্তাহে ভিসার জন্যে পাসপোর্ট জমা দিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন অফিসে গিয়ে দেখি তিন সারির লম্বা লাইন। ... ...

আমি পুরুষ বলিয়া আমার একটি লিঙ্গ আছে। এবং একটি লিঙ্গ আছে বলিয়া আমি পুরুষ। এই দুইটি বাক্যের আপেক্ষিক সত্যাসত্য সম্পর্কে কূটতর্কে না গিয়া বলা যাইতে পারে মূলত: লিঙ্গের ব্যবহার দ্বিবিধ- প্রস্রাবত্যাগ এবং বীর্যক্ষরণ। এই প্রকৃতিদত্ত একনলা বন্দুকটিকে সুরক্ষিত রাখা আমাদের জন্মগত অভ্যাস। সর্বপ্রকার আচ্ছাদন খুলিলেও লিঙ্গের ক্ষেত্রে আমরা এ মোহ আবরণ খুলিতে কুন্ঠিতবোধ করি। নান্দনিকতার প্রশ্রয় বিনাও ইহা স্বাভাবিক কারণ ইহা আমার আত্মপরিচয়। নারীগণের যোনি আবরণ সম্পর্কেও একই কথা প্রযোজ্য। তবুও আক্রান্তের সুরক্ষা এবং অস্ত্রের সুরক্ষার মধ্যে যৎকিঞ্চিৎ পার্থক্য করিলে ক্ষতি নাই। ... ...

বিশ্বায়িত অর্থনীতিতে ভারতের অংশগ্রহণের প্রধান যোগসূত্র হিসেবে যখন স্বীকৃত হচ্ছে তথ্য-প্রযুক্তির মত মেধাভিত্তিক শিল্প, তখন কৃষি বনাম শিল্প : রাজ্য স্তরে এই বিতর্ককে কেন্দ করে রক্তাপ্লুত চাপান উতোর বড়ই বেমানান। বুঝতে অসুবিধা হয়, কৃষি অর্থনীতিকে কেন উন্নয়নের বিপুল কর্মযজ্ঞে নিজের জায়গা করে নিতে এত বেগ পেতে হচ্ছে। কৃষিজমিকে নিয়ে কাজিয়ার গল্পটা এতাবৎ আমরা কৃষি সমাজের শ্রেণীবিন্যাসের মধ্যেই আবদ্ধ দেখতে অভ্যস্ত ছিলাম। জোতদার-বর্গাদার বা মধ্যচাষি-ভূমিহীন চাষির চিরন্তন দ্বান্দ্বিক সম্পর্ককে মুছে দিয়ে কৃষি ও শিল্পের দ্বান্দিকতায় দেশের ইসিহাস যে আবার অবগাহন করবে তা আমাদের হিসেবের মধ্যে ছিল না। ... ...

দুটো দিনে সবাই মালগাড়ির চেন ঝোলানোর শব্দ একটু না একটু শুনতে পেলো। যে যেখানেই থাক, খানিকটা টংলিং টংলিং সব্বার কানে..... দুটো দিনে। ঠিক এক মাস দশ দিনের দূরত্বে। পায়েস রাঁধার দিন,ধূপ জ্বালানোর দিন। কাছাকাছি। মোটে এক মাস দশ দিনের দূরত্বে। লীলা মজুমদার; বন্ধ চোখের পাতার তলায় ঝাঁপতাল ফিসফিসিয়ে থেমে যায়;কোথায় একটা মালগাড়ি টংলিং থামিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে; হয়তো একটা বর্মীবাক্স আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যায়। জলমানুষ ফিরে যায় তার মায়ের কাছে। এক্ষুনি, অনেকগুলো ছোটবেলার মনে পড়ছে গাঢ় হাসির মধু রঙা লীলা মজুমদারীয় রসকে,যার মধ্যে দিয়ে টলটলে আশাবাদীত্ব মনের মধ্যে চুঁইয়ে যেতো। অনেক গুলো লাল নীল ছোটবেলা... ... ...

এখন চারিদিকে বসন্তের বাতাস বিশ্বাস ভাঙ্গার গন্ধে ভারী হয়ে আছে, ক্রমাগত পাড় ধ্বংস হবার আওয়াজের মাঝে নদীর চড়ায় জেগে উঠছে না কোনো বিকল্প আশ্রয়ের জায়গা, নন্দীগ্রামের তাজা ঘা এখনো শুকোয়নি। বাদ-প্রতিবাদের রাজনীতিতে লাশের সংখ্যাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কতগুলো মানুষকে মারলে পরে তবে গণহত্যা বলা যায় তাও প্রশ্ন উঠছে আনাচে কানাচে। তা চলুক, আমরা বরং চোখ রাখব খুব একটা সাম্প্রতিক ঘটনায়, নন্দীগ্রাম কান্ড উত্তর সময়ে মনে রাখেনি হয়ত বেশি কেউ, এই অস্থির বেদনাময় সময়ে ছোটখাটো অন্য অনেক ঘটনা চোখের সামনে ঘটতে দেখলেও নিউরন ফেল মেরে যায়, কিন্তু তাতে বিষয়টি পাল্টায় না, পাল্টে যায় শুধু বলার ভঙ্গী। ... ...