
চীনের বিশাল পাঁচিল যতই বিখ্যাত হোক না কেন, এই মুহুর্তে যে ছোট্ট পাঁচিল দুই প্রতিবেশী দেশের মাথার ব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে তা হলো মেক্সিকান পাঁচিল। ২০০০ সালের মাঝা মাঝি নাগাদ USA সরকার মেক্সিকান আমেরিকান সীমানা বরাবর নতুন পাঁচিল বানায় বেআইনি অনুপ্রবেশ আটকানোর জন্য। প্রায় ১৫ মাইল লম্বা এই পাঁচিল বানানো হয় মেটাল টিউব মাটি তে বসিয়ে, যার মধ্যে ঢালা হয় কনক্রীট। মাইল প্রতি খরচ পড়ে প্রায় পাঁচ মিলিয়ান ডলার। ... ...

ইতালির টাসকানিতে চতুর্দশ শতাব্দীতে তৈরী হয়েছিল বারবিয়ানা চার্চ। ছবির মত উপত্যকাকে সাক্ষী রেখে পাহাড়ের মাথায় গড়ে ওঠা এই গীর্জায় ১৯৫৪ সালে বদলি হয়ে আসেন ফাদার মিলানি। পুরো নাম ডন লোরেঞ্জো মিলানি। এই অল্পবয়স্ক যাজকের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে মাথা ঘামানোর বাতিক ছিল। ফ্লোরেন্সের যে গীর্জা থেকে তাঁকে বদলি করা হয় সেখানে তিনি একটা নৈশ বিদ্যালয় চালু করেছিলেন, অচিরেই যা প্রভূত জনপ্রিয়তা লাভ করে। এহেন মিলানি বারবিয়ানাতে এসেও খোঁজ-খবর করতে শুরু করেন সেখানকার প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে। এবং যা দেখেন তাতে তাঁর চোখ কপালে উঠে যায়। বারবিয়ানায় ছড়িয়ে থাকা কুড়িটি খামারের বাচ্চা ছেলেমেয়েদের শিক্ষার অবস্থা তখন শোচনীয়। ... ...

নাতাশা স্টট, সেনেটর, ডেমোক্র্যাট; ক্যারল ব্রাউন, সেনেটর, লেবার; জুডিথ ট্রোথ, সেনেটর, লিবারাল; কেরি নেটল, সেনেটর, গ্রীন। অস্ট্রেলিয়ার এই মহিলা সেনেটররা রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতাকে সরিয়ে রেখে আপাতত: একজোট দুটি বিলের সমর্থনে। অ্যাবরশন পিল RU 486 এর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য একটি বিল, অন্যটিতে প্রেগনেন্সি কাউন্সেলিংএর বিজ্ঞাপনে সত্যভাষণের দাবী। চারটি মেয়ে, দুটি বিল-বিষয় অ্যাবর্শন। নিছক মেয়েলি প্রসঙ্গ? আসুন, দেখা যাক। ... ...

ডটার অফ ফরচুন লিখেছেন ইসাবেল আলেন্দে। ফ্লেমিঙ্গো প্রকাশন। ১৯৯৯। স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছেন মার্গারেট সেয়ার্স পেডেন। লাইব্রেরী'র র্যাকে এক একটি বই এর মেরুদণ্ড স্পর্শ করতে থাকি -- আঙ্গুল সরে যেতে যেতে হঠাৎ তুলে আনে এই ছোট্টো পেপারব্যাক। মলাট সিপিয়া রঙের একটি মেয়ে -- ভিক্টোরিয়ান পোশাকে লেস কলার, তাতে একটি সুন্দর ব্রুচ আটকানো। কানে ঝোলা দুল, কালো ফাঁপানো চুলে খোঁপা আর খুব বড় বড় কালো চোখ। আমি তুলে আনি বই টি -- বই এর নাম ডটার অফ ফরচুন। ইসাবেল আলেন্দে চিলেয়ান লেখক, বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়াবাসী। ... ...

আজ আমাকে শহরের বৃষ্টি বড় কাহিল করেছিল। পাঁচতারা হাসপাতালটি থেকে বেরিয়ে যাকে দেখলাম, তাকে হুমায়ুন আহমেদ বলেন ঝুম- বৃষ্টি। ঝুম জলেরা সরু-মোটা নালে আকাশ থেকে নামতে নামতে মাঝ-আকাশে অথবা মাটির মধ্যস্থতায় একে-অন্যে মেশে নিলাজ। এই জল-চালাচালিতে বাহিরদেয়ালটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে গেলে আকাশজল মাথায় নিয়ে আমি কেন যে ছুটে যাই, বোধের অগম্য। ... ...

জনপ্রিয় পাক্ষিকের ধারাবাহিক উপন্যাসে বাউল সাধনত্ত্বের বিশদ কিছু বিবরণে বিব্রত, বিরক্ত পাঠককুল। মাঝপথে উপন্যাস পাঠ বন্ধ করেছেন অনেকেই। শুনতে পাই। নিজে যখন পড়ি, একটি ক্ষীণতনু পুস্তকের কথা মনে আসে। অনেকদিন আগে পড়া। একযুগ? তা' হবে হয়তো। খুঁজে বার করে আনি বইটি। জখম শিরদাঁড়া, পাতাগুলি ঈষৎ হলদে। 'গভীর নির্জন পথে'। লেখক সুধীর চক্রবর্তী। প্রথম সংস্করণ ১৯৮৯। প্রকাশক -আনন্দ। সে'সময় চল্লিশ টাকা দাম ছিল বইখানির। ... ...

সবাই খালি অ্যাডেরে দোষে। অ্যাড না থাকলে আপনি কি হারাইবেন তার জলজ্জ্যান্ত উদাহরণ হল এ দশকের কামাল ধামাকা (আক্ষরিক অর্থে) কম্পমান কন্ডোম। হিন্দুস্থান ল্যাটেক্স চুপকে চুপকে স্টাইলে বাজারে ছেড়েছেন ক্রেজেন্ডো, কন্ডোম "দ্য" কম্পমান। শুভকার্যের সময় এই সর পে লাল টোপি রাজ কাপুর স্টাইলে থিরথিরিয়ে কাঁপবে। পাশের ঘরে শুয়ে থাকা গুরুজনের কান লাল হয়ে যাওয়া নিবারণার্থে ঝুমঝুমিটা শুধু বাঁধা হয় নি। সর্বজ্ঞ সার্ভেতে জানা গেছে রবারটুপিময় সেক্ষকার্যে পুরুষেরা আনন্দ পাচ্ছেন না। তাই কন্ডোমের জনপ্রিয়তা বাড়াতে তাকে কিঞ্চিৎ "কাঁপিছে দেহলতা থরোথরো" রূপ দেওয়া হল মাত্র। ১২৫ টাকায় তিনটি কম্পমান টুপি, নিরাপদ সেক্ষকার্য এবং বিনিপয়সার পেলভিক থ্রাস্ট। ঘোমটার আড়ালে খেমটা নাচার দুরারোগ্য অভ্যাসের জন্য জনসাধারণ সম্পূর্ণ স্বদেশী এবং পাবলিক সেক্টরজাত এই উদ্ভাবনের খোঁজ পান নি। নইলে এতদিনে চন্দ্রিলের হাত থেকে এই নাজুক চীজের কোনো রক্ষে ছিল! ... ...


কানে স্ট্যান্ডিং ওভেশন পাবার পর, অবশেষে আমেরিকা জুড়ে শুভমুক্তি পেতে চলেছে, মাইকেল মুরের নবতম ছবি সিকো। এবার তিনি আক্রমণ করছেন আমেরিকার হেলথ কেয়ার সিস্টেমকে। এবং সেই নিয়ে যথারীতি আমেরিকা তোলপাড়। চ্যানেলে চ্যানেলে মাইকেল মুর। ওপ্রা উইনফ্রির সঙ্গে মাইকেল মুর। সরকার আপনার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে, ভয় পাচ্ছেন? সুইট একটি হাসি হেসে মাইকেল জানালেন নট অ্যাট অল। সানফ্রানসিস্কোয় দশ হাজার নার্স মিছিল করছেন স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে। সঙ্গে কে? কে আবার, মাইকেল মুর। বিভিন্ন টক শো তে উপস্থিত হবার ফাঁকে টুক করে ডেমোক্র্যাট নেতাদের সঙ্গে এক আধখানা মিটিং সেরে নিচ্ছেন, কে আবার মাইকেল মুর। ... ...

অনেক কেলেঙ্কারীর মাঝে সরকার আমাদের আলোচনার টপিক বাড়ানোর জন্য কিছু কিছু সার্ভেও করে থাকে। এই রকমই একটি সার্ভে, যা সম্প্রতি ভারত সরকার এবং দুটি সহযোগী এনজিও একসাথে করেছিল ভারতে শিশুদের সামাজিক অবস্থান জানতে, তুলে এনেছে কিছু চমকপ্রদ তথ্য। ... ...

শূন্যে দুলছে একটা শিশুদোলনা। হা-হা হাওয়ায় ওদিক যাচ্ছে, এ দিক আসছে, একটা শিশুদোলনা। পালনা। কয়েকমাস আগে একটা হরর মুভি দেখেছিলাম এক জনপ্রিয় হিন্দি নিউজ চ্যানেলে। সত্যি ঘটনা, তবে ভয়ঙ্কর ঘটনাগুলোকে গ্রাফ, স্কেচ, নাট্য রূপান্তর ইত্যাদি আর চাটনি আচার সহযোগে এমনভাবে পৌঁছে দেওয়া হয় আমাদের ড্রয়িং রুমে, মনে হতেই পারে যে, আমরা রাত এগারোটায় মুভি চ্যানেল খুলে কোনও ভয়ের সিনেমা দেখছি। ... ...

২০০১ এর জানুয়ারীতে এক আমেরিকান সাংবাদিক হিসেবে এলাহাবাদের মহাকুম্ভে আসেন আসরা। দলাই লামা কে দ্যাখেন সে-খানেই, অযুত তীর্থযাত্রীর সঙ্গে এক মন্ত্রোচ্চারণে অংশ নিতে। বৌদ্ধ ধর্মগুরুর হিন্দু মন্ত্রোচ্চারণের তীব্র স্পিরিচ্যুয়াল অভিঘাতে, ভারতে জন্ম হওয়া ( জন্ম : ১৯৬৫ ) এই মুসলিম মেয়েটির ভিতর-আত্মা ছাপিয়ে ওঠে একটি প্রবল স্রোত--- তাকেও হাঁটতে হবে একটি তীর্থযাত্রায়, অমন-ই অযুত মানুষের প্রার্থনার মাঝখানে... সে ঠিক করে ফেলে, সে হজ-যাত্রিণী হবে। ... ...

আমরা পশ্চিমবঙ্গবাসীরা অনেকেই কলকাতার "মেট্রো সংস্কৃতি'র সাথে পরিচিত। ঝকঝকে তকতকে ট্রেন, ঝকঝকে স্টেশন, পরিচ্ছন্ন সাবওয়ে, ট্রেনে ওঠার জন্য সুশৃঙ্খল কিউ ইত্যাদি, যা অনুপস্থিত হাওড়া, শিয়ালদা ও অন্যান্য সাবার্বান স্টেশনে। অন্যান্য রেলওয়ে স্টেশান মানেই যেন বিশৃঙ্খলার সংজ্ঞা। অথচ একই উপভোক্তারা মেট্রোয় উঠতে গেলে অনেকটাই শৃঙ্খলার পরিচয় দেন। কলকাতা মেট্রো, ভারতে প্রথম, চালু হয় ১৯৮৪র অক্টোবর মাসে। তবে পনেরো কুড়ি বছর আগের সেইসব সোনালী দিন আর নেই। ... ...

এই সিনেমাটা আসলে আমেরিকায় যাওয়া বিভিন্ন কিসিমের ভারতীয়দের জীবনের টুকরো টুকরো কোলাজ। সিনেমাটা সম্ভবত স্লোডাউনের সময়ে বানানো। একটা অ্যাপার্টমেন্টে কিছু ব্যাচেলর ছেলে থাকে, ঐ বডি শপিংয়ের মাধ্যমে আমেরিকায় চাকরি করতে এসেছে, এবং সফ্টওয়্যারের চাকরি। স্লো ডাউনের জেরে তারা চাকরি খোয়ায়। ভুলভাল কিছু ফান্ডা দিয়ে তাদের চাকরি খেয়ে নেয় বস। এর মধ্যে দুটো ছেলে একদম বিন্দাস টাইপের, চাকরি গেছে তো কি হয়েছে, আমাদের ট্যালেন্ট আছে, ওর'ম চাকরি আবার পাবো টাইপের। ইন্টারভিউয়ের জন্য কল এলেও বেজায় রোয়াব দেখায়, কত মাইনে দেবেন, কিসের ওপর কাজ, টিম সাইজ কত বড়, ক্লায়েন্ট দেসি না আমেরিকান, এই সব জিজ্ঞেস করে ফোন কেটে দেয়। ... ...

কোফু লশেমি বিশুদ্ধ সিনেমায় বিশ্বাস করেন। তাই কিছু বেয়াড়া সিনেমা ফ্যনাটিক বাদে তাঁর সিনেমা কেউ দেখে নি। কোফু লশেমির সিনেমা যখন দেখানো হয় তখন পর্দাটাকে রাখা হয় হলের মাঝখানে। আর তাকে ঘিরে গোল হয়ে চেয়ারে দর্শক বসে থাকেন। তবে চেয়ারগুলো যেন গায়ে গায়ে না থাকে। দুজন দর্শকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব প্রায় তিন ফুটের মত। ন্যাড়া হলঘরে মধ্যে একটা পর্দা রেখে সিনেমা দেখা প্রায় তন্ত্রাভ্যাসের পর্যায়ে চলে যায়। বিখ্যাত ফিল্ম সমালোচক জারিদে কাদা এই সিনেমা সম্পর্কে বলেছেন: " Here cinema is not an art from but a ritual, not an expression but a blank, not something to marvel at, but something to have intercourse with '. ... ...

এবার একটু ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটটি খতিয়ে দেখা যাক। বছরটা বাস্তিল পতনের, আগেই বলা হয়েছে। ইংল্যান্ডে তখন "পাগলা' রাজা তৃতীয় জর্জের রাজত্ব। ব্রিটেন আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে হার স্বীকার করেছে কয়েক বছর আগে। বছর পনেরো আগে, ১৭৭৫ সালে এসে গেছে জেমস ওয়াটের স্টিম ইঞ্জিন। গ্রেট ব্রিটেনে শুরু হয়ে গেছে বহু আলোচিত শিল্পবিপ্লব। লন্ডন, লোকসংখ্যার বিচারে, বিশ্বের বৃহত্তম শহরে পরিণত হতে চলেছে। অষ্টাদশ শতকের শুরুতে, লন্ডনের জনসংখ্যা ছিল ছয় লক্ষ, আর ১৭৫০ সালে সাত লক্ষ। এই সংখ্যা ১৮০০ সালে যা পরিণত হয় দশ লক্ষে, এবং ১৮৫০ সালের মধ্যে কুড়ি লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। অথচ, অষ্টাদশ শতক ইংল্যান্ডের ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে আছে ... ...

আসলে ঠিক ছিল "লা কোয়েন্টা" প্রোজেক্টের অমিতাভদের সাথে জিম করবেট ন্যাশনাল পার্কে যাব ২০০৬ এর ২৬শে জানুয়ারীর ছুটিটায়। তাই ২৭শে শুক্রবার, ছুটিও নিয়ে রেখেছিলাম। ২৩ তারিখ অমিতাভ বলল ওদের গ্রুপের একজনের স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তাই ওরা কেউই যাচ্ছে না। যা: তাহলে কি হবে? আমার তো মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত তৈরী হয়ে আছে যাবে বলে। কি করা যায়? শুরু করলাম খোঁজখবর। কিন্তু খুব বেশী সুবিধা হল না। অত কম নোটিশে জিম করবেট ব্যবস্থা করা, তাও একলা একলা, প্রায় অসম্ভব। ... ...

এক মুরগি এবং এক শুয়োরের ভেতরে খুব বন্ধুত্ব। মুরগি ও শুয়োর হাঁটছে পথ দিয়ে, আর আলোচনা করছে দেশের ও সমাজের উন্নতির কথা। বলাবলি করছে, সারা দেশের লোক এখন উন্নয়নের চেষ্টায় কতটা আত্মত্যাগ করছে, কত বড় বড় কাজ করছে সবাই, কত স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে। মুরগি বলে ওঠে হঠাৎ, চলো বন্ধু, দেশের জন্য, লোকের জন্য আমরাও কিছুটা আত্মত্যাগ করি। রোজ সকালে আমরাও কিছুটা খাদ্য জুগিয়ে দেশের মানুষকে উন্নয়নের কাজে সহায়তা করি। ... ...

শারীরবৃত্তের ফাঁদে আটকে থাকো তুমি, এপ্রিলের অক্ষরমালা / রমণ চেনাতে গিয়ে করেছ এ যাবৎ যেরূপ গভীর ভণিতার ছল / অথচ গেয়েছি যে গীতিমালা, সুস্পষ্ট, নিবিড় ওই মেঘঘুমে ... ...

এইতো অনাবাদী বহুদিন ঢেউগুলো পোষাক বদলে ফেলে / আরো এক রাত্রিহীন পথ তার হিসেবের খাতা খুলে খুলে / দেখিয়েছে সন্ধে থেকে চুঁয়ে আসা আলো। ... ...