
এ দেশের মায়ের নাম নদী, বাপের নাম গদি। যুগে যুগে চারণ কবি গান গেয়েছেন - "রাম তেরি গঙ্গা ময়লী হো গয়ি-ই-ই-ই-"" আর তাতে রামের বয়ে গেছে। তিনি কি আর গঙ্গার জলে কুলকুচি করতে যাবেন? "বাঙালী লেখক" সন্দীপন লিখেছিলেন দেশের সত্তর ভাগ লোক যে জল পান করে তাতে ওদের অন্তত: একবার ছোঁচাতে রাজি হওয়া উচিত - বা, এই রকম কিছু। ""বা-লে""র কথায় কান দিতে হলে অবশ্য মাথার দুদিকে দুটো কান থাকা আশু প্রয়োজন, আর কে না জানে গদিতে বসার প্রাথমিক শর্ত ও-দুটোকে প্রবেশদ্বারের বাইরে রেখে আসা? কিন্তু মাইরি, বেঁচে থাকা ক্যান্টার করে দিল গ্লোবালাইজেশন আর তার মাসতুতো ভাই প্রাইভেটাইজেশন। ... ...

বাংলাদেশ কিসে চ্যাম্পিয়ন বলুনতো? ফুটবলে না, ক্রিকেটে না, বাস্কেটবল বা ভলিবল দুরে থাক, এমনকি হা-ডু-ডু তেও না। বিগত পাঁচ বছর ধরে আমরা এমন একটা বিষয়ে চ্যাম্পিয়ান হয়ে আসছি, যেটার কথা আমাদের শিশুরা কখনো তাদের সাধারণ জ্ঞান বইয়ে খুঁজে পাবে না। অ্যাল্,ছি ছি, শিশুদের এর মধ্যে টানা উচিত নয়, এটা একেবারে অ্যাডাল্ট ওনলি ব্যাপার। ... ...

অনেক মানুষের মত মুকেশ আজকাল ঘরে ফেরে খুব ক্লান্ত চরণে, সঙ্গী তার সবজি বিক্রির নিজস্ব ঠেলাখানি। খুব ভোরে দিন শুরু হয় তার, দক্ষিণ দিল্লীর উপান্তে তার ঘিঞ্জি বাসা। সেখান থেকে এক ঘন্টা দূরে পাইকারি বাজার, সেখান থেকে আরো এক ঘন্টার পথ সবজিমান্ডি। এই তার চেনা পৃথিবী এবং এর বাইরেও যে আরেকটা পৃথিবী আছে, প্রতিদিনের চেনা পৃথিবীর বাইরের সেই পৃথিবীটা তাই কখন দ্রুত পালটাতে শুরু করেছিল মুকেশ টের পায়নি। পাবার কথাও নয়। অথচ রোদের তাপ বাড়তে থাকলে একসময় সে বাধ্য হয়ে ছায়া অনুসন্ধান করে এবং অনেকের মত জানতে পারে রাস্তার উল্টোদিকে নতুন রিটেল চেনের কথা, সেখানে ঠাণ্ডাঘরে সবজি জমানোর কৌশল, উপভোক্তাদের বদলে যাওয়া পছন্দ এরকম কিছু দরকারি অদরকারি কথা। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। সম্বল বলতে পড়ে থাকে তাদের ছেড়ে আসা গ্রামের বাড়ি। তাদের ঘর। আহা। সেখানে ফেরার আবছা পথ, বিনির্মাণকামী। ... ...

অবশেষে হুগো শাভেজও পথে এলেন। বোঝা গেল, ক্ষমতার নাম আসলে বাবাজি। এবং বিকল্প টিকল্প নয়, তার পথ আসলে একটিই। মাসখানেক আগে ব্যান করা হল ভেনিজুয়েলার জনপ্রিয়তম টিভি চ্যানেল গুলির মধ্যে একটিকে, যার নাম রেডিও ক্যারাকাস টেলিভিশন বা সংক্ষেপে আরসিটিভি। টেকনিক্যালি অবশ্য ঠিক ব্যান না, ভেনিজুয়েলা সরকার আরসিটিভির সম্প্রচারের লাইসেন্স রিনিউ করেনি মাত্র। নি:সন্দেহে ব্যানের চেয়ে জিনিসটা শুনতে ভালো, কিন্তু সুনামি শব্দটা শ্রুতিমধুর বলে তো আন্দামানের লোকজনের তাতে কিছু উপকার হয়নি। তাই হরেদরে ব্যাপারটা একই হল, কারণ আইনত: লাইসেন্স বিনা ভেনিজুয়েলার আকাশে কোনো ফ্রি চ্যানেল সম্প্রচার করা অসম্ভব। ... ...

এ এক্কেবারে নতুন জিনিস হয়তো নয়, একটু তবু নতুনই বটে। অন্তত: আজ থেকে তিরিশ বছর আগে এরকমটা কেউ ভাবেনি। বা হয়তো ভেবেছে, জানতে পারেনি কেউ, ফলে বাজারে বিক্রি হয়নি, ইয়েস, যেটা নিয়ে আজ কথা বলতে চলেছি - মশা মারার র্যাকেট। দেখেছেন নিশ্চয়ই। আলবাৎ দেখেছেন। ব্যাডমিন্টন র্যাকেটের মতন দেখতে, শুধু একটা নাইলন স্ট্রিং লেয়ারের বদলে তিনটে মেটাল তারের লেয়ার থাকে। চার্জ দিয়ে রাখতে হয়। তারপর প্লাগ থেকে খুলে সুইচ অন করে, মশাকে ফেদার কর্ক ভেবে লাগাও ব্যাকহ্যাণ্ড ফোরহ্যাণ্ড স্ট্রোক। মশার বডি, মেটাল তার স্পর্শ করলেই স্পার্ক। প্রথমে পিট্পিট্ করে, তারপর তারে আটকে যাওয়া মশাটার থেকে - একটু কাছ থেকে দেখলে ভালো বোঝা যায় - খানিক ধোঁয়া বেরোয়। তারপর ফট্ করে জোরে আওয়াজ হয়, আলোসহ। এই সময় পোড়া গন্ধটা পাওয়া যায় মশাটার থেকে। সারা ঘরে গন্ধ হয়ে যায়। আড়াই হাজার ভোল্ট কারেন্ট মশাটার গায়ে ঢুকে গেছে, তাই, মশাটা মারা যায়। অবভিয়াসলি, এবং সন্দেহাতিত ভাবে। ... ...

বিপ্লব শেষ করে নেপালের মাওবাদীরা ক্রমশ: ক্ষমতার জুতোয় পা গলাচ্ছেন। নেপালের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের দায়িত্ব হাতে পেয়েছেন মাওবাদী মন্ত্রী কৃষ্ণ বাহাদুর মাহারা। এতদিন টিভিতে নেপাল সুন্দরী প্রতিযোগিতার সরাসরি সম্প্রচারের তুমুল বিরোধিতা করে আসার পর, দপ্তরের দায়িত্ব হাতে পেয়েই মন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, বাস্তব পরিস্থিতির পর্যালোচনার পর, সম্প্রচার বাতিল করা সম্ভব নয়। দুর্জনে দাবী করেছেন, যে, বাস্তব পরিস্থিতি বলতে এখানে সরকারি চ্যানেল আর সুন্দরী প্রতিযোগিতার মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিকেও বোঝানো হচ্ছে। ... ...

চুমু কান্ডের পর এখন কিষ্কিন্ধাকান্ড -- শিল্পা শেঠি আর রিচার্ড গেরের বংশদন্ড। যদ্দুর যা জানা যাচ্ছে, প্রকাশ্য মঞ্চে এই যুগলের চুম্বনের দৃশ্যে ব্যথিত হয়ে জনৈক আইনজীবী জয়পুরে একটি জনস্বার্থ মামলা ঠুকেছিলেন। সেই মামলার শুনানিতে কোর্টে চুমু খাবার দৃশ্যখানি মাগনায় দেখানো হয়। সত্যযুগ হলে এর পর অগ্নিপরীক্ষা এবং সীতার পাতালপ্রবেশ হত। কলিযুগ বলে অন্য ব্যবস্থা, মেরেকেটে তিন মাসের জেল -- ভিডিও ক্লিপিং খুঁটিয়ে দেখে জনৈক বিচারক জানিয়েছেন, যে, এটি অত্যন্ত যৌন উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ। অতএব অবিলম্বে রিচার্ড গেরেকে হাজতে পোরা প্রয়োজন। আর শিল্পার ভূমিকাও অত্যন্ত নিন্দনীয়, কারণ শিল্পা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করে গেরেকে প্ররোচিত করেছেন, অতএব তাঁকেও সমন ধরানো প্রয়োজন। ... ...

ধ্বংসের মাঝেই লুকিয়ে থাকে পুনর্নির্মাণের বীজ। অন্ধকার যত লম্বা হয় ভোরের আলোর পথ ততই ত্বরান্বিত হয়। আর বসন্ত হল পুনর্নির্মাণের ঋতু। প্রবল শীতের দাপটের পরে বসন্তে রিক্ত শুষ্ক গাছের ডাল সবুজ পাতায় ভরে ওঠে। রঙীন ফুলের ভারে আনত বৃক্ষশাখার দৃশ্য সভ্যতার পুনর্নির্মাণেরই চিরন্তন জয়যাত্রা ঘোষণা করে। ধ্বংস দেখেছে অনেক আমাদের এই প্রিয় বাসভূমি। কিন্তু বার বার আমরা, এই অমৃতের সন্তানেরা আমাদের সব সৃজন, মেধা ও শ্রম দিয়ে সেই ধ্বংসস্তূপের উপর গড়ে তুলেছি নতুন সভ্যতার ইমারত। প্রতিবার আমাদের সাধনার ফল হয়েছে আগের থেকে মহৎ, আগের থেকে সুমিষ্ট। আগের থেকে উন্নত। উন্নততর। ... ...

মান - শব্দটা শুনলেই প্রথমে মনে হয় 'মান সম্মান'-এর কথা। অনেকের অবশ্য থমাস মান-এর কথা মনে হয়, তবে আমি সেই দলে নই। কূটকচালি করার পক্ষে একটা আদর্শ সাবজেক্ট। বড় অদ্ভুত জিনিস, পাবার সাথে সাথে ফাউ হিসেবে আসে হারাবার ভয়। ছাতা-র সাথে মিল লক্ষনীয়, ফুটো হলে তো কথাই নেই। প্রাণীকূলের মধ্যে মানুষের কাছেই এর কদর বেশী। অনেক মানুষের কাছে, 'মান' > 'প্রাণ' -- অন্য প্রাণীদের নিয়ে এতটা শোনা যায় না। লোকে সাধারনত: এ জিনিস খুইয়ে হতাশ হয়ে বসে থাকেন, মান-সম্মান খুইয়ে রিল্যাক্স করে আরামসে শুয়ে আছেন এরকম মানুষ থাকলেও তাদের কথা খুব একটা আলোচনা হয় না। ... ...

পশ্চাদ্দেশ দেখানোর ঐতিহ্য আমাদের বহুদিনের। সেই পুরাকালের কথা, যখন একাই মঞ্চ কাঁপাতেন সুমন চাটুজ্যে আর তাঁর বাক্যগুলি যাদুকরের ছুরির মতো মঞ্চ থেকে উড়ে এসে আমাদের বুকে বিঁধে ঝাঁকে ঝাঁকে লক্কা পায়রা উড়িয়ে দিত, সেযুগে একদা সুমনবাবু অকস্মাৎ মঞ্চে পিছনঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন, ও বলেছিলেন, ওমুক সংবাদপত্রের শ্রী অমুক চন্দ্র অমুক, এই দেখুন আমার পশ্চাদ্দেশ। বলাবাহুল্য, সাংবাদিকটি সেদিন প্রেক্ষাগৃহের প্রথম সারি আলো করে বসে ছিলেন। সুমনের যুক্তি ছিল অতীব সিম্পল। আপনাদের আছে সংবাদপত্র, আমার আছে মঞ্চ। কাগজে আপনি যা খুশি লেখেন, কোনো জবাবদিহি করেননা, মঞ্চেও আমি যা খুশি করব। কোনো জবাবদিহিতে বাধ্য নই। আহা, যেন, তোমার আছে বন্দুক, আর আমাদের আছে ক্ষুধা। মনে আছে, এই আঁভাগার্দ বিপ্লবীয়ানায় মুগ্ধ ও হতচকিত আমরা, কাগজে কাগজে প্রতিবাদের ঝড়কে হেলায় উড়িয়ে দিয়ে সে যুগে কত বিমোহিত করতালিতে ভরিয়ে দিয়েছি প্রেক্ষাগৃহ, আর যাদুকরের ঝোলা থেকে বেরোনো পায়রারা উড়ে গেছে এদিক-সেদিক দুনিয়াদারির পথে। ... ...

ঘরে আলো খুব কম, দেওয়ালের রঙ সাদা নয়, কেননা সার দেওয়া গ্রামাফোন রেকর্ডেরাও ঢেকে গেছে পোস্টারে পোস্টারে এবং আলো সত্যিই খুব কম। শেষ হয় অরুন্ধতি কন্ঠ বিস্তর কূটকচালির পর, যার সবটা আমার পক্ষে এখানে দেওয়া সম্ভব নয়, তবু শেষটুকু দি, কেননা আমাদের কাছে ভাষা ছাড়া কিছুই নেই প্রমাণযোগ্য। শেষে স্লোগান সমবেত হয় ও সকলে উঠে দাড়ায়... ইন এবিলিটি টু সি অ্যা ওয়র্ল্ড ইন টার্মস আদার দ্যেন দোজ দ্য এস্টাবলিশমেন্ট হ্যাজ সেট আউট ফর ইউ, ইফ ইউ আর নট বিশি, ইউ আর তালিবান। ইফ ইউ ডু নট লাভ আস, ইউ হেট আস। ইফ ইউ আর নট গুড, ইউ আর ইভিল। ইফ ইউ আর নট উইথ আস, ইউ আর টেররিষ্ট।... সেদিন শনিবার সকাল, তখন ও কানে আসেনি নন্দীগ্রাম, এক ঘন্টা ভারতীয় সঙ্গীতের অনুষ্ঠান এবং সেখানে গেলে দেখা পাব এক ভারতীয় বন্ধুর, এর বেশি কিছু ভাবিনি! ... ...

বাসে উঠলেও শোনা যাবে "পিছন দিকে এগিয়ে যান'। ফ্লুরোসেন্ট হাইলাইট : "এগিয়ে'। সমকালে যে শব্দটিতে, অনিচ্ছাতেও, "অগ্রগতি' আর "উন্নয়ন'-এর দিকে অবধার্য আঁকশিটান। আমরা কিন্তু আরো স্পেসিফিকালি, ফোকাস করব অন্য একটি রিলেটেড অংশশব্দ : "গতি' তে। যে গতি, পথ ফুরোবার পরেও জেগে থাকে, অনবধান অভ্যাসে। নিউটন "জাড্য' নাম দেন। ... ...

১৮৫৪ সালে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি সিয়াটল উপজাতির লোকদের লোকদের নির্দেশ দেন তাদের বসতি এলাকা ছেড়ে চলে যেতে। কেননা সেখানে তৈরি হবে আধুনিক শহর। তার উত্তরে উপজাতি প্রধান "বড় সাদা সর্দার' আমেরিকার রাষ্ট্র পতিকে যে চিঠিটি দেন, ইংরিজি থেকে তার একটি যথাসম্ভব মূলানুগ অনুবাদ এখানে প্রকাশ করা হল। ... ...

আমেরিকা মহাদেশে এখন প্রতিযোগিতার হাওয়া। এমনিতেই আমেরিকায় বচ্ছর বচ্ছর একটি মেগামোচ্ছব কাম মহাপ্রতিযোগিতা হয়, যার নাম অস্কার। দুনিয়া জোড়া ফিল্ম দিগগজদের নাক সিঁটকানোর পরেও আহা, তাহার গ্ল্যামার বেড়েই চলেছে। এবং নিয়ম করে প্রতি বছর শোনা যাচ্ছে, একটি ভারতীয় সিনেমা এবার "বিশ্বজয়ী' হবেই। কার বিশ্ব, কে জয় করে, এসব কূট প্রশ্ন তুলে জিনিসটাকে ঘুলিয়ে দেবার দরকার নেই, মোদ্দা জিনিসটা যা হচ্ছে, বচ্ছরভর ঢাক বাজছে, ঢোল বাজছে, সাতমন তেল পুড়ছে, কিন্তু রাধিকা নাচিতেছেনা, দিনশেষে মার্কশিটে গোল্লা নিয়ে হাসি-হাসি মুখে (হাসি-হাসি, কারণ অংশগ্রহণটাই আসল, জয় নয়) বাড়ি ফিরছে যুগন্ধর হিন্দি সিনেমা। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি, প্রতিযোগিতার শেষে "ভালো খেলিয়াও পরাজিত' তকমা নিয়ে ফিরছে কি যেন একটা ভারতীয় সিনেমা। ... ...

সেন্টিমেন্ট নিয়ে এঁদের কোনো মাথাব্যথা নেই। বাঙালির সংস্কৃতি স্থানবিশেষের উপর নির্ভরশীল নয়, বলে এঁরা মাইক ফোঁকেন। ময়দানপ্রেমীদের পিছনে ছুরি মেরে অবলীলায় সল্টলেকে দৌড় দেন, এবং অলৌকিক ক্ষমতাবলে এমন একটি বইমেলার উদ্বোধন করে দেন, যেখানে একটিও বই নেই। এছাড়াও, বইহীন বইমেলায় প্রবেশ করতে হলে যে কোনো টিকিট লাগবেনা তা বুক ঠুকে জানিয়ে জনসাধারণকে কৃতার্থ করেন। ... ...

অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এই প্রবন্ধের বিষয়বস্তু নয়। এইটুকু হোমো-স্যাপিয়েন্সত্ব এখনো অবশিষ্ট আছে যে ওদের নিয়ে ক্যাওড়ামো করলে পাব্লিক ভালোভাবে নেবেনা। তাই বৈধই সই। তাছাড়া যেসব ব্যতিক্রমী পাঠকবর্গ (লিঙ্গ নির্বিশেষে) সমস্তরকমের হ-য-ব-র-ল লেখা পড়ার আগে মনোযোগ দিয়ে শিরোনামটি পড়ে নেন এই ডিস্ক্লেমার তাদের জন্যও নয়। এ হলো বৈধ অনুপ্রবেশের ব্যতিক্রমী গপ্পো। আর এই উত্তর-আধুনিক, উত্তর-ঔপনিবেশিক আর উত্তর-গুরুচন্ডা৯ যুগেও অনুপ্রবেশ আর বৈধ শব্দদুটি পাশাপাশি কি করে সহবাস করে সেই নিষ্পাপ ভাবনায় যারা আবিল হচ্ছেন, তাদের প্রভূত সহানুভূতি আর একচিমটে তিতিক্ষা ফ্রীতে দিয়ে আসুন যাওয়া যাক পরের প্যারায়। ... ...

রিচার্ড লেয়ার্ড "হ্যাপিনেস" নামের একটা চোদ্দ অধ্যায়ের বই লিখে পেঙ্গুইন থেকে ছাপিয়েছেন বলে নয়, অনির্বাণ চাটুজ্জে সে বইয়ের রিভিউ লিখে এ সংখ্যার গায়েগতরে দেশ-টার দাম তিরিশ টাকা করার পথে সাহায্য করেছেন বলেও নয়, লেখাটায় উন্নয়ন আর জি.ডি.পি.র সঙ্গে সুখে থাকার গুরুচণ্ডা৯য় অসমীকরণের রাজনৈতিক ফোড়ন রিক্যাপিচুলেটেড বলেও নয়, "ব্রেন ফিজিওলজী", "ইলেকট্রোএনসেফ্যালোগ্রাম" আর "ব্রেন স্ক্যান" বিজ্ঞানস্ট্যাম্পগুলো মাঠে নেমেই কী-বোর্ড চুলকে দিল। অর্থনৈতিক গবেষণার প্যারামিটার নেওয়া হচ্ছে মানুষের ভালো থাকার বোধটিকে, এবং তা স্রেফ ডিক্লারেশন নির্ভর নয় আর, হাই ফাই যন্ত্রপাতি প্রমাণিত। অর্থাৎ প্রশ্নাতীত একটি থিওরাইজেশনের পথ তৈরি হচ্ছে। ... ...

লক্ষ্য করে দেখবেন, ইদানীং বঙ্গীয় মধ্যবিত্ত সমাজের (মধ্যবিত্ত বোল্ড এবং আন্ডারলাইন সমেত) যাবতীয় তক্কোবাজির শুরু হয় আবেগ দিয়ে, তারপর ঢোকে সি পি এমাদি, এবং শেষে নির্জলা খেউড়। সিঙ্গুর-নন্দীগেরাম, সি এ বি নির্বাচন থেকে বইমেলা- সবেতেই মোটামুটি একই প্যাটার্ন দেখা যাচ্ছে। বলতেই পারেন যে "তুমি কোতাকার কোন হনু এলে বাওয়া যে গাছের ডালে ন্যাজ ঝুলিয়ে জ্ঞান মারাচ্চো?" আম্মো আলাদা কিছু নই। সেই আবেগ, সি পি এমাদি এবং খেউড়। তবে জিনগত মর্ষকামিতার জন্য খালি আয়নায় তাকাই আর দেখি নৈনিতালের একটা ভ্যাদভেদে পুরোনো আলু। তো এই আলুকিত সমাজের জ্ঞানীজনেরাই যখন এই সব বাচালতা পড়ে থাকেন, অতএব নিজেদের নিয়ে চর্বিতচর্বণ করাই ভালো। আপাতত: মিডিয়ার এই চর্বিতচর্বণের ফোকাল পয়েন্ট হল বইমেলা। ... ...

২০০৭ সাল। মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকায়, কচ্ছ থেকে ইটানগরে সেই বার্তা রটি গেল ক্রমে। কোনও খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন বেরলো না, টিভি রেডিওর কোনও চ্যানেলেই সম্প্রচারিত হল না সেই খবর, তবু এক কী আশ্চর্য ইথার তরঙ্গে অসমুদ্রহিমচলের তাবৎ যুবাকূলের কর্ণপটহে প্রবেশ করিল সেই বার্তা। আকূল করিল প্রাণ। পনেরো থেকে পঞ্চান্ন সমস্ত ভারতীয় যুবকের দল এক নিমেষে চার্জড হয়ে গেল। দীর্ঘ দু মাসের উপোসের দিন শেষ। শালা, ভাগ্যিস মাঝের ফেব্রুয়ারি মাসটা আঠাশ দিনের ছিল! ... ...

মানুষ হয়ে জন্মগ্রহণ করার অহঙ্কারে অন্যজীবকে হেয় করাই যেন আমাদের জন্মগত অধিকার। বিশেষত: বাঁদরদের ওপর আমাদের আক্রোশ যেন একটু বেশীই। কথায় কথায় রেগে গেলেই আমারা একে অপরকে "বাঁদর" বলে আখ্যা দিই। "বাঁদরামো ঘুচিয়ে দেব" বলে গাল পাড়ি। সত্যি কথা বলতে কী, রাগ হবে নাই বা কেন? এ ধরাধামের সবচেয়ে উন্নততম জীব আমরা। সমাজনীতি, অর্থনীতি, রাজনীতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রভৃতি শাখায় আমাদের পান্ডিত্য অপরিসীম! আর আমাদের পূর্বপুরুষ কী না ওরকম একটি ইতর প্রাণী! তবে আজ এই শ্লাঘাকে কিন্তু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন আমাদের পূর্বপুরুষেরা। ল্যাজ খসিয়ে মাতব্বরি মারার দিন শেষ। আগে আমাদের শরীরে ছেড়ে গিয়েছিল "অ্যাপেনডিক্স' নামক ক্ষুদ্র ও আপাত নিরীহ একটি অঙ্গকে এখন শুনছি এইচ.আই.ভি ভাইরাসটিও নাকী তাদের দান। গেরোটা এখানেই। সময় সুযোগ পেলে অ্যাপেনডিক্সকে কেটে বাদ দেওয়া যায়। তাতে প্রাণনাশের ঝুঁকি কম, কিন্তু একবার এইচ.আই.ভি ভাইরাস শরীরে ঢুকলে আর নিস্তার নেই। মরিবেই মরিবে। ... ...