"নানান জ্বালায় জ্বলে মরি, তাইতো একটু নেশা করি..." নানান জ্বালায় জ্বলে নেশা নাহয় নাই করলেন। নেশা করতে গেলেও তো পয়সা লাগে। কিছু না পেলে, বিনেপয়সায় জল মেলে। তাই খেয়ে থাকব। সে কথাও অতীত। এখনই জলের লিটার কুড়ি টাকা। এমন একদিন খুব বেশি দূরে নেই যেদিন জল আর সোনা একই মূল্যে বিকোবে। জ্বালানি গ্যাসের দাম এখনই হাজার ছুঁয়েছে। বিদ্যুতের পুরো ব্যবস্থাটাই তো এ রাজ্যে চিরকালই এক মনোপলি ... ...
এক ভোরের শিশির, হিমেল চাদরে ঢাকেশীতের শরীর। দুই একা থাকলে, মনের আশমানে বাদল ঝরে। তিন ভুল করলে সজাগ হতে হয় নিজেকে নিয়ে। চার ভোর আকাশে এ কিসের ইঙ্গিত? স্বস্তি না শঙ্কা? পাঁচ এক পেয়ালা চাযেন জাদুর মতো, তন মন চাঙা। ছয় কাছে থাকলে
খড়দায় এলেই তমাল একবারের জন্য হলেও আমার সঙ্গে দেখা করে। যত যাই হোক স্কুলের বন্ধুকে ভোলা খুব কঠিন। তমাল বেহালায় শ্বশুরবাড়ির পাড়ায় ফ্ল্যাট কিনে চলে গেছে। আমার অন্য অনেক বন্ধুই খড়দা ছেড়ে ভাগ্যের সন্ধানে বহুদিন হল বেরিয়ে গেছে। আমি কোথাও যাইনি। বলা ভাল, যাবার জায়গাও নেই। তমাল এলেই শ্যামের মন্দিরে ঢুঁ মারবেই। ওর জন্য আমারও এখানে আসা হয়ে যায়। নাহলে ... ...
বিমলবাবু বাড়ির বাইরে এসে উদভ্রান্ত দৃষ্টিতে এদিকে ওদিকে তাকাতে লাগলেন। সমস্ত ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে যে তিনি এবং এর পরবর্তী পরিণতি কতটা বিপজ্জনক হতে পারে ভেবে তার হাত পা ছেড়ে যেতে লাগল। সাগর আর কানু তার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। ----- ' দাদা চিন্তায় পড়ে গেছেন মনে হচ্ছে ... অত কি ভাবছেন
এক বিমনা সময়, আরো এলোমেলো হয় বিষণ্ণ চিন্তায়। দুই জল দর্পণে স্মৃতি হাতড়ে দেখি - তোমায়। তিন তোমার দুখে আমি ব্যথিত হই, সম্বেদনায়। চার শীতের কামড় বাড়তে না বাড়তেই, পাতা ঝরে যায়। পাঁচ যা হারিয়েছি, তার জন্য আমার আক্ষেপ নেই। ছয়
অলীক ফিনিক্স গাছে অঘ্রাণের শেষে - জয়নগর তৈরি হচ্ছে খাঁটি জিরেন রসে! ধূ ধূ মাঠে, কুয়াশা তে, শাখাপ্রশাখা হীন রাতভর সুধা ঢেলে ভোরের আলোয় ঋণ। রসিক নাগর ঝুলছে গাছে
ফিরে এলাম তোমার কাছে থাকবো বলে ফিরে এলাম তোমায় ভালোবাসবো বলে ফিরে এলাম তোমার সাথে
মাগো জাহ্নবীর জলে, কাল তোমার অস্থি ভাসিয়ে এলাম। নদীতে তখন বিদায়ী ভাঁটার টান। অথচ আমাদের সবার হৃদয়ে তোমার অজস্র স্মৃতির, উদ্বেলিত
পান্নালাল নানা অনৈতিক কর্মের বৃত্তে ঘোরাফেরা করা লোক, সে সাগরের নাম শুনেছে কিন্তু চোখে দেখেনি কখনও। এই এলাকায় তাকে হাত নেড়ে কোন নির্দেশ দেবার ক্ষমতা যে কারো থাকতে পারে সেটা তার জানা ছিল না। তার এবং তার জ্যাঠতুতো ভাইয়ের বদ্ধমূল ধারণা পৃথিবীতে একটা জিনিসই শেষ কথা বলে, তা হল ---- টাকা। সে তাই একটা বিড়ি খাওয়া লোক তাকে ... ...
পোড়া ঘা শুখিয়ে আসে শাহাজাদি জাহানারার। মুখে হাসি ফোটে তাঁর, গান হয়, সুর বেজে ওঠে মহলের কোনায় কোনায় আনন্দের বাতাস বইতে থাকে মনে মনে। শাজাহান ভাবেন সে বাতাস সত্যি হবে কবে।আবার ঘা ফিরে এল, কিছু কিছু জায়গায় পুঁজ গড়াচ্ছে, এই করে করে মাস গড়িয়ে বছর পার হয়ে যায় – আট মাস আট দিন বিছানায় শুয়ে থাকার পর বেগম সাহেব নিজে উঠে এলেন শাহেনশাহের ... ...
ক্যানো ক্রিস্টলসের অবস্থান আন্দিজ পর্বত মালার পূর্বে, মধ্য কলম্বিয়ায়। ১০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নদীটিকে তরল রংধনু নামেও চেনে স্থানীয় কলাম্বিয়ানরা। বছরের কয়েকটা মাস লাল নীল হলুদ কমলা সবুজ এমন নানা রঙের ছটায় বর্ণিল হয়ে ওঠে নদী। অনেকে মনে করেন এই আশ্চর্য রং আসে শৈবাল কিংবা শেওলা
ইউনিফর্ম পরা সেন্ট মার্গারেটের মেয়েরা ঢুকছে স্কুলের ভিতরে। বাইরে কিছু ছাত্রীর মায়েরা তাদের মেয়েদের লেখাপড়া সংক্রান্ত ব্যাপারে গুরুগম্ভীর আলোচনা করছে। দুটো রিক্শাওয়ালা রিক্শা নিয়ে বসে আছে। আইসক্রিম, কামরাঙা,আমড়া, হজমিগুলি এবং ঝালমুড়িওয়ালাদের এখনও বসার সময় হয়নি। দুপুর একটার আগে ওদের দেখা
দীর্ঘদিন বেকার থাকার পর অবশেষে একটা চাকরি পেয়েছি। ফিনাইল কোম্পানিতে সেলসম্যানের চাকরি। "একাই একশো" ব্র্যান্ডের ফিনাইল। এই ফিনাইল জাদু করে। মানে সব সমস্যার সমাধান... বাথরুম থেকে ঘরদোর সব পোস্কার তো করবেই। তারসাথে এমন অনেক কাজ করবে, যা আপনি ভাবতেই পারবেন না। এই যেমন ধরুন, আপনার কদিন ধরে পেট ক্লিয়ার হচ্ছে না। এক ছিপি খেয়ে নিন। সব হড়হড়িয়ে নেমে যাবে। আবার ধরুন ... ...
খোসে আলবের্তো গুতিয়েররেস। কলোম্বিয়ার বোগোতা শহরের আর পাঁচজন আবর্জনা সংগ্রহকারী ট্রাক ড্রাইভারের মতো একজন।না, একটু ভুল বললাম। আর সবার মতো নিশ্চয় নন।স্কুলের গণ্ডী পেরোননি গুতিয়েররেস তবে ছোটো বেলায় মায়ের কাছে গল্প শুনতে শুনতে সাহিত্যপ্রীতি গড়ে উঠেছিল। যখন যেমন পেতেন বই পড়তে বসে যেতেন।সময়টা ১৯৯৭-র শেষদিক। অন্যদিনের মতো আবর্জনা সংগ্রহ করতে ... ...
আমি মেঘ হতে চাইতাম মেঘ হলে আকাশ ছুঁতে পারতাম। কিন্তু মেঘেরও তো মৃত্যু হয় বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে। অমন ক্ষুদ্র জীবন
আমি যদি মাটি হতাম তাহলে পৃথিবীতে থাকতাম। আমি যদি পৃথিবী হতাম তাহলে সৌরমন্ডলে থাকতাম। আমি যদি সৌরমন্ডলে
৪৮ ঘন্টা। কি ৭২ ঘন্টা। তারপর থাকার কথা ছিল না বিট্টুর। ডাক্তার তাই বলেছিলেন। আমি শুনে কেঁদে ফেলায় বললেন, আমি শেষ চেষ্টা করছি। দেখি। বিট্টু এখনও আছে। অল্প অল্প হাঁটতে পারছে গত পাঁচ দিনে ১৫ হাজার টাকার ওষুধ কিনেছি। চার হাজার টাকা দিয়েছি স্যালাইন দেওয়ার মানুষদের। স্যালাইন দেওয়াই দেখছি শিখতে হবে। এত ফুটিয়ে ফেলছে। পা ফুলে উঠছে। এখন গরম জলের ... ...
আবার ফিরে কখনো যদি আসো। শুনতেও পারো আমি আর নেই। তোমার কি মনে হবে, ভাবি শুধু এই !যখন শুনবে আমি নেই। স্মৃতিগুলো যদি ফিরে আসে, মনের আকাশেমেঘ হয়ে ভাসে। পুরনো কথাগুলো মনে পড়ে যাবে যেই, তোমার কি মনে হবে, ভাবি শুধু এই। যখন শুনবে আমি নেই। ফ্যাকাসে
করোনা আবহের আগেও কি জানতেন, "আপনার জীবন ক'ঘণ্টার?" কোনোকালেই মানুষ জানতে পারে না তার আয়ু বা জীবনকাল কতটুকু? দু চারঘন্টা বাদে কি ঘটে যেতে পারে তার আন্দাজই করতে পারি না... তো পরেরদিন কি হবে? দেখবেন বহু মানুষ আছেন, আগামী বিশ বছর বাদে বুড়ো বয়েসে কিভাবে তিনি বাঁচবেন? তার পরিকল্পনা করে, আজকে মাথা খুঁড়ে চলেছেন। আমি এমন বহু মানুষকে জানি যাঁরা জীবনে কখনও সমুদ্র পাহাড় এসব কিস্যু ... ...