যেতে তো ইচ্ছে করে, কিন্তু যাওয়া কি কম ঝক্কি? রেঁধে বেড়ে, খেয়ে গুছিয়ে, ঢাউস জামা কাপড়ের ব্যাগ, হাত ব্যাগে জলের বোতল,ছাতা, সব নিয়ে বেরোতে বেরোতে বেলা বেশ বেড়ে গেল। দুটি ভাতে ভাত বাচ্চা দুটোকে গিলিয়ে দিতে পারলে নিশ্চিন্তি। হাওড়া যেতেই সে ঘন্টা দেড়েক, কোন ট্রেন তারপর পাবে, সিটিও ঠিক সময়ে আসবে কিনা, রবিবারে জায়গায় জায়গায় লাইনের কাজ…সব ফিরিস্তি মিটলে তবে নাবতে পারবে তুমি দিনের আলো থাকতে থাকতে। মরা আলো, সেও ভালো, তাও তো খানিক দু চোখ ভরে দেখতে পাবে আদরের স্টেশনটির চারপাশের চেনা পথঘাট,গাছপালা,দোকান বাজার, মন্দির মসজিদ! আলো জ্বলে গেলে কি আর সেই মুখগুলি দেখা যায়? তখন কেবল আঁধার বনাম ... ...
শীতের আলিঙ্গন ————— সুপ্রিয়া চৌধুরী ————— এসো শীত ! আলিঙ্গন করো উষ্ণ পৃথিবীকে সাজাও প্রকৃতিকে নব পরিধানে ‘মাঘের সন্ন্যাসী’ রূপে আরো একটিবার। মেঘ বিহীন নীলাকাশে কুয়াশার
কুসুম জীবনসুদীপ ঘোষাল সেতারবাদকের মেয়ে কুসুম। কুসুম কান পেতে শোনে জীবনের সুর।কুসুম বাড়িতে ফিরে বলল, বাবা, আমাকে এম এ পাশ করতে দাও। তারপর আমি চাকরি করব। এখনই বিয়ে করব না।বাবা বললেন, চাকরি করার প্রয়োজন নেই মা। এম এ পাশ কর। পাত্র বিদেশে থাকে। পাশ করার পর তোর বিয়ে দেব। আমার বয়স হয়েছে। কবে মরে যাব ঠিক নেই।কুসুম আর কোনো কথা বলতে পারল না। কুসুম বিছানায় শুয়ে ভাবে, অসিম তাকে ... ...
মনের কথা সুদীপ ঘোষাল বাড়ছে বয়স, কমছে আয়ু মরণ ধ্রুবসত্য বইছে নদী বইছে বায়ু ছবিগুলোই তথ্য চোখ বন্ধ কেন? মৃত্যুর কাছে হার স্বীকার জমি, টাকা হাসছে, একবার বলো সব আমার। মাটির গন্ধে ভুর ভুর করে কৃষকের
ক্রিকেট মাঠের শব্দেরাউপল মুখোপাধ্যায়এসব উচ্চারণকে কি বলবে বুঝতেই পারছে না সুবীর। এসবকে কোন অর্থবহ বলে মনে হয় নি তার। একি শুধু কথা, কথার কথা আর তার জড়ানো উচ্চারণ? সব শেষে কথাই শুধু পড়ে থাকে বলে কেনই বা মনে হচ্ছে তার? সে শুধু শুনছিল 'আই ল ল ল ল... লা, আই ল ল ল ল... লা আওয়াজ। সুজিত স্যার যা অনবরত বলে চলে তিনটি ক্রিকেট নেটকে কভার করতে করতে। আরো অনেক কিছু বলে, হিন্দী-বাংলা মিশিয়ে বলতেই থাকে সুজিত ... ...
অনতি দূরে ডিজে বাজছে ঘরের ভিতরে মাটি কাঁপছে হাত-পা ছুঁড়ে মা কালি নাচছে ভক্ত গণের হৃদয় জুড়ে! ডিজের তালে, বিকট সুরে গান বাজছে! ডিজে, ডিজে, ডিজে! মজা পাচ্ছে, মজা
লেবানন ২০১৯ সাল থেকে একটি গুরুতর এবং চলমান সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, যাকে একরকম নাটকীয় অর্থনৈতিক মন্দা দ্বারা চিহ্নিত করা যায়। এই সময়ের মধ্যে, লেবাননের মুদ্রার পতন হয়েছে, দেশের জিডিপি অর্ধেক হয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ৫০০০% বৃদ্ধি পেয়েছে, আর লক্ষ লক্ষ লোককে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে। লেবাননের পতনের দ্রুততা এবং তীব্রতা বিস্ময়কর, যেখানে বিশেষত মাত্র কয়েক বছর ... ...
ধান জমি নাই শালকুর বাপের। মুখ ঢাকা রোগটার সময় থেকেই, যেবার শালকুর বউটার কাশি ধরলো, সেদিন থেকেই শালকু বুড়া বাপ মা কে আলাদা করলো হাঁড়ি সমেত। বাঁচাতে নাকি মারতে কে জানে। বুড়ো বুড়ির নতুন হানিমুন তখন থেকেই। শুনলাম সামন্ত দের লোকটা তখন থেকেই নাকি রেশন ফাঁকি দেয় এবাজারেও। তাও ক্ষুদ চাল আর সকালে মাহাতদের জমির লাল শাক। তাতেই বুড়া বুড়ির চেহারা ঠিক ... ...
বিভূতিবাবু রামকান্ত বোস স্ট্রিটে শ্বশুরবাড়িতে নিয়মমাফিক হাজির হলেন সকাল এগারোটা নাগাদ। এসে দেখলেন তার শ্বশুরমশাইয়ের ঘরে একজন বছর পঞ্চান্নর ভদ্রলোক বসে আছেন। শ্বশুরমশাই বললেন, ' অখিল, এই যে ... এ হল আমার জামাই ... হেদোর ওদিকে থাকে। বিভূতি, এ হল অখিল গাঙ্গুলি। আমার এক বন্ধু ছিল না ... পার্বতীচন্দ্র মুখার্জি ... তুমি হয়ত দু একবার দেখেছ ... ছেচল্লিশ সালে চলে ... ...
প্রথম যেদিন এই ফ্ল্যাটে আসি, সেদিন সবকিছু ছেড়ে মন ছুঁয়ে গিয়েছিল এই একফালি বারান্দাটুকু। দক্ষিণখোলা ফ্ল্যাটে এক টুকরো বারান্দা। তখন ফ্ল্যাটে ইন্টেরিয়র কাজ চলছিল। তাছাড়া আমার প্রথমদিন। তোমার ফ্ল্যাটে ঢুকে ভীষণ সলজ্জ ছিলাম। তুমি ঘুরে ঘুরে সব দেখাচ্ছিলে। এটা আমাদের বেডরুম। ওটা কিচেন। এটা অ্যাটাচড আর ওটা কমন বাথরুম। সবই দেখেছিলাম সলজ্জ দৃষ্টির অন্তরালে। তখন কি আর ... ...
দীপান্বিতার জ্বালাও আলো ————————— সুপ্রিয়া চৌধুরী ————————— দীপান্বিতায় সাজিয়েছো আলো দিকে দিকে আজ ঘোচাবে আঁধার ঘরের আঙিনাতে দেখেছো অদূরে আঁধারের কোলে ছোটো শিশু নিয়ে কত লোক বসে পাশেই ফুটপাতে ? খাওয়া নেই, নেই শীতের
যে পোষ্ট করচি সব মুছে দিচ্ছিস ? সত্যি কথা সহ্য করার সাহস নেই তোদের? বললেই তো পারতি নিজেদের মনের মত কথা না বললে 'খেলবো'না ! তোরা মূর্খের স্বর্গে রাজত্ব কর।
বৃদ্ধাশ্রম দ্যাখো আমাদের মানব সমাজ,বৃদ্ধাশ্রমকতটুকু হিসেবে শোধ হয় পিতৃঋণকতমূল্যে মাতৃঋণের মায়া কাটেহিসেব মেলায় ঋণী আজন্ম, বোঝে না প্রবাহ...একদিন তুমিও কড়ি নিয়ে খেলবে আত্মজের সাথেসেও নেবে তোমার কাছে বৃদ্ধাশ্রমের ঠিকানাছেঁড়া, হলুদ বিবর্ণ কাগজ দেঁতো হাসি
উপনিবেশ কী? একটা জাতির বা জনগোষ্ঠীর উপর যখন অন্য কারো চূড়ান্ত প্রভুত্ব করে। কী করে করে? এক, জনগোষ্ঠীর নিজস্ব পুঁজি এবং উৎপাদন ধ্বংস করে দেওয়া হয়, সম্পদ চালান করে দেওয়া হয় অন্যত্র। দুই, তার গোটা বাজার দখল করে ফেলা হয়। তার পুঁজি দিয়ে মাল বানিয়ে তাকেই বেচা হয়, কিন্তু মুনাফাটা পকেটে পোরে অন্য পাড়ার বড়দা। এবং তিন, সবচেয়ে গুরুত্ব্পূর্ণ, সাংস্কৃতিকভাবে এই পুরো প্রক্রিয়াটাকে বৈধতা দেওয়া হয়। তার জন্য তৈরি হয় এক 'শিক্ষিত' শ্রেণী। যারা তোতাপাখির মতো
ভালয় ভালয় নিতাইবাবুর বাড়ির গৃহপ্রবেশের কাজ মিটে গেল। বিভূতিবাবু সস্ত্রীক এসেছিলেন। উৎপল আর সমীরণও এসেছিল। নিবারণ সাহা এবং শশীভূষণবাবু সারাক্ষণ ছিলেন। বিভূতিজায়া রমাদেবী বললেন, 'জায়গাটা পিকনিক করার পক্ষে খুব ভাল। কুলগাছগুলোয় কেমন কুল ধরেছে দেখ ....এখানে ওখানে কেমন গাঁদা ফুল
গলসি গিন্নিকে আমরা কেউই দেখিনি। মা বুঝি দেখেছিলো সেই ছোটবেলায়। কিন্তু তার ঘরটি আছে। রাড় দেশের শক্ত মাটি, সহজে টলেনা। সে ঘর একলা দাঁড়িয়ে আছে শ্রীক্ষেত্র-র উল্টো দিকে। শ্রীক্ষেত্র-র ফটক পেরিয়ে উঠান, উঠান পেরিয়ে খড়ের চাল, দুতলা কোঠা ঘর। এক তলায় গৌর নিতাই, ধূপ ধুনো, পুরোনো ফটো --- ছেলেপুলেদের, জোয়ান আর বয়স্ক পুরুষ মানুষদের। সদ্য বিয়ে করে আসা ... ...
কয়েক বছর আগের কথা। শীতশেষের বিকেল। শ্মশ্রুময় এক প্রখ্যাত কবির সঙ্গে কথা হচ্ছে। নেহাৎই কেজো কথা। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে হবে-হবে, বিষণ্ণ যে সব সন্ধ্যায় কৈশোরের কথা মনে পড়ে যায়, হঠাৎই কবি বললেন, ওই গানটা একটু করুন তো। ওই পৌষ-ফাগুনের মেলা। উনি চিরকালই এভাবে দ্রুত প্রসঙ্গান্তরে যান। এছাড়াও আমাকে আপনি বলেন, কেন কে জানে। যা হোক, গান করতে আর কী আছে। আমি শুরু করে দিলাম, কান্না হাসির ... ...
আঁধারের দীপাবলি ————— সুপ্রিয়া চৌধুরী ————— দিকে দিকে আজ আলোর রোশনাই আঁধার যে নেই রবির কিরণ ও লজ্জায় বুঝি হার মেনে গেছে কৃত্রিম আলোর কাছে। আকাশে ওই দেখো আলোর মিছিল বাতাসে গন্ধ আতশবাজির
গ্রামের বন্ধুরা যারা কেনারামকে পেটরোগা বলে বিদ্রুপ করত, তারাও মজা দেখার জন্য হাজির হল। শুরু হল কুস্তির আসর। গ্রুপ ক, থেকে একজন সেমি ফাইনালে গেল। গ্রুপ খ থেকে একজন সেমি ফাইনালে উঠল। গ্রুপ গ আর ঘ থেকে উঠল দু’জন। মোট চারজন সেমিফাইনালে গেল। এর পর দু’জন ফাইনালে উঠবে।লড়াই শুরু হল। কেনারাম সেমিফাইনালে উঠেছে।এখন ফাইনালে ওঠার জন্য লড়াই শুরু হল। বেশ কঠিন ... ...