উপলব্ধিঅম্লান সরকারগিন্নী, তোমার পুত্ররত্নটির হাবভাব কিন্তু আমার খুব একটা সুবিধার ঠেকছে না। কি সব অসঙ্গে কুসঙ্গে মিশছে। শুনতে পাচ্ছি হেরোইন খাওয়াও নাকি শুরু করে দিয়েছে।হিরোইন? হিরোইন কি করে খাবে শুনি? সেতো জলজ্যান্ত সব মেয়েমানুষ। হিরোইন খাওয়া যায় কি? উদ্ভূতুরে কথা বলার পুরনো অভ্যাসটা তোমার আর গেল না। নিজের ছেলেকে যে তুমি দুচক্ষে দেখতে পারো না সেটা ... ...
চট্টগ্রামের পথে পথে (শেষাংশ)বাংলাদেশ বা চট্টগ্রাম গেলে কক্সবাজারে একবার না গেলে হয়! আমরা এপার বাংলার ঘটিবাটিরা কক্সবাজারের সঙ্গে পরিচিত অন্যভাবে এবং অনেক আগে থেকেই। আকাশবাণীর সেই সংবাদ পাঠক দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়কে মনে পড়ে? শেষ পাতে সেই আবহাওয়ার খবর: "বঙ্গোপসাগরে উত্থিত ঘূর্ণিঝড় এখন সুন্দরবন অতিক্রম করে কক্সবাজারের দিকে..." স্বার্থপরের মতো ভাবতাম, যাক, আমাদের তো ফাঁড়া ... ...
ঔরঙ্গজেব আলমগীরের প্রধান বউ দিলরাস বানু বেগমের কুড়ি বছরে পাঁচ ছেলেমেয়ে হয়। তাঁদের জন্মের গড় পার্থক্য চার বছর। শাজাহানের প্রধান বউ মুমতাজের হয় উনিশ বছরে চোদ্দ জন ছেলেমেয়ে। দুই বেগমই পোস্টপার্টাম - সন্তান জন্মের পরের জটিলতায় অকাল মৃত্যু বরণ করলেন। মধ্য বা প্রাক আধুনিক যুগে জন্ম নিয়ন্ত্রনের কথা ভেবেছে কে? অতএব শাজাহান বা ঔরঙ্গজেবের মাথাতেই বা তা কেন ঢুকবে? অন্য ... ...
আরে মশাই, আপনি কোন্ দিকে আছেন বলুন তো ! আপনি কী ধর্মেও আছেন, আবার জিরাফেও আছেন?- কেন? যেমন ছিলাম তেমনই আছি, আমি বিজ্ঞানমনস্ক, যুক্তিবাদী এবং ধার্মিক।ডোন্ট মাইন্ড, মাই ডিয়ার। আসলে মাঘ চতুর্দশীর রাতে বাড়িতে কালী পূজো হলো কিনা, তাই বলছিলাম !- আসলে ডারউইন সাহেব শিখিয়েছেন কিনা! তাই একটু জিরাফ দেখার ইচ্ছে হলো।হাঁ, হাঁ, হাঁ। বেশ তো ... ...
শুনিয়াছি লুচি শব্দটি নাকি চৈনিক। অবগত নই, বেঁটে খাটো চক্ষু পিট পিট করা মানব সম্প্রদায় লুচির মর্ম কি বুঝিয়াছিল ! আমি যাহা বুঝি লুচি হইল আদ্যোপান্ত ভারতীয় খাদ্য বস্তু। হিন্দিতে পুরি। বাঙ্গালাতে লুচি। দেশী গব্য ঘৃত অথবা বনস্পতি কিংবা তৈল সহযোগে ভাজিয়া উষ্ণ পরিবেশিত দ্রব্যের কি যে মহিমা, তাহা সে জানেনা যে না ভক্ষণ করিয়াছে। লুচির সহিত আলুরদম ব্যঞ্জন, আহঃ লিখিতে অপারগ হইয়া পড়িতেছি। জিহ্বা সিক্ত হইয়া ... ...
কালো চুল সাদা হইলদাঁত ভাঙিলো মনটা রাঙা রইল গো আমি যে বাউল মানুষ রঙীন ফানুস কেউ বুঝল না গোকেউ বুঝলা না শ্যাষের দিনে মরণ বিনে আর কেউ নাই গো আর কেউ নাই আমার মনের ব্যথা প্রাণের কথা কেউ বুঝিল না গো কেউ বুঝিল
রিচার্ড ইটন ভারতের ইতিহাসের দুই যুগের কথা বলেছেন -চতুর্থ থেকে চতুর্দশ শতক সংস্কৃত যুগ। দশম থেকে অষ্টাদশ পারসিক যুগ। শেলডন পোলক বলেছেন সংস্কৃত ও পারসিক কসমোপলিস বা ভাবনা কেন্দ্রের কথা। ওনাদের কথা বললাম এ জন্য যে ওনারা হিস্ট্রিকে অর্থাৎ অতীতের সত্যিকে ডিকলোনাইজ বা কলোনির প্রভাব মুক্ত করেছেন। এটা করলেই দেখা যাবে ভারতে চারশো বছর সংস্কৃত ... ...
এই এতো বড় আকাশ, আমাকে তোর থেকে আলাদা করে দিলো, রাণী। তুই লজ্জায় খিল খিল করে হাসছিলি বটে, বুকে তোর আকাশ প্রমান অভিমান!বয়সটা মানানসই ছিল,কিন্তু কাল করলোরক্তটা,কালা পাহাড়ের মত মাঝখানে... আইবুড়ো ভাত খাওয়ার দিনে আমি এক ছোট্ট আকাশ তৈরি করেছিলাম-কিন্তু
অঞ্জলির মামাতো ভাইয়ের ছেলে দীনবন্ধু, সেই যে কাটোয়া থেকে এসেছিল চাকরির ইন্টারভিউ দিতে, সে হঠাৎ রবিবার বিকেলে এসে হাজির হল। অঞ্জলি বলল, ' আরে দীনু যে ... হঠাৎ ! ' ------ ' হ্যাঁ পিসী ... চলে এলাম ... ওই যে ইন্টারভিউ দিতে এসেছিলাম, চাকরিটা হয়ে গেছে। কাল জয়েনিং ... ' ----- ' আরে এ তো দারুণ খবর ... দাঁড়া তোর পিসেমশাই ... ...
ভূষণ বড়ালরা সোনার বেনে হলে কি হবে, ওদের জাজ্বল্যমান বাসনের দোকান কড়েয়াপট্টির মোড়ে।ভূষণরা ভেন্নপাক হয়েছে বাপ মরতেই। ভূষণের বাপের আমলের মত রোজ খান পনেরোটা আনকা লোকের পাত না পড়লেও, দুচারটে বাড়তি লোক রোজই খেয়ে যায় এই বাড়িতে। ভূষণ যেহেতু বড় বড়াল, তাই মা রয়েছে তার সঙ্গেই। চারবোনের যে কেউ আসলেও এখেনেই ভাতটা খেয়ে অন্য ভাইদের বাড়ি ঘুরতে যায়। বাকি কুটুমও ... ...
আকাশ ক্রমে আড়ামোড়া ভেঙে খোলস খসিয়ে ফেলল। আলোয় ধোয়া অবারিত নীল সামিয়ানা থেকে নির্মল আলো ঝরে পড়ছে। বেলা বারোটা বাজল। বিস্তর ঘাসফড়িং স্ফূর্তিময় ওড়াওড়ি করছে। ঘাস, পাতায় একটু বসে আবার ঠিকরে যাচ্ছে। বৃন্দাবন কড়ায় মাংস কষছে। গন্ধে ম ম করছে
তীরে এসে তরী ডুবেই গেলো —————————— সুপ্রিয়া চৌধুরী —————————— সব কিছুই তো ঠিক ছিলো আজ সকালে দিন গড়াতেই রং পালটালো বুঝি কোথাও যে এক করুণ রাগিণী বাজে মনের মাঝে অর্থ তাহারই
চট্টগ্রামের পথে পথে-১২০২৩ খৃষ্টাব্দের মহালয়া। বেরিয়ে পড়লাম চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে। মাস্টারদা ও প্রীতিলতাদির জন্ম ও কর্মভূমিতে। উপলক্ষ্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগের সুবর্ণ জয়ন্তী কন্ফারেন্স। ১৬ অক্টোবর সারাদিন শুনবো অনেক বাঙালি-অবাঙালি বিদ্বজ্জনের কথা। আমার কথা ক্লোজিং সেশনে, হয়তো সকলকে শোনানোর জন্য, নয়তো বা সময়াভাবে দোহাই দিয়ে অতি সংক্ষেপে দায় সারার জন্য।সে যাই হোক, সব আলোচনাই ... ...
বঙ্কিমের রাজসিংহ কেন বাঙলা ঐতিহাসিক উপন্যাসের পুরো গুষ্টিটাই গুলগাপ্পার জঞ্জালে ভরা। বড় সাহিত্যিকরা নানা এজেন্ডা নিয়ে গুলই মেরেছেন আর আমরা এখনো সেসব গিলছি। ১৯৯২এর বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার পর দক্ষিণ এশিয়ার মিশ্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের যা গঙ্গা যামুনি তেহজিব বলে পরিচিত তার নানা দিক নিয়ে প্রচুর কৌতূহলদীপক আলোচনা/গবেষণা হয়েছে আর আমরা হিন্দুত্ব দূরস্থান, নেহেরু প্রমুখ জাতীয়তাবাদেৱ নির্মাতাদের পচা ন্যারেটিভগুলো হিস্ট্রি বলে এখনো গিলছি। এতে অবিরত দেশভাগের ন্যারেটিভই জিতছে আর হিন্দুত্ব সেটাই চায়। এর বাইরে গিয়ে সত্যকে সামনে আনতেই হবে। এটাই এযুগের সবচেয়ে বড় গোয়েন্দা কাহিনীর প্রজেক্ট। সত্যমেব জয়তে। জয় হিন্দ। ... ...
পরপর দুটো ক্লাস হয়ে গেল। তারপর পনের মিনিটের একটা ফাঁক আছে। সুমনা আর থাকতে পারল না। অনেকক্ষণ ধরে উসখুস করছিল। এবার আর না বলে থাকতে পারল না। ----- ' কিরে কাবেরী, তোর কি খবর? ' কাবেরী স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে অকপট জবাব
প্রথম বিয়ের পর শাহাজাদা ঔরঙ্গজেব মাস তিন মহা আনন্দে আগ্রায় কাটিয়েছিলেন তারপর তাঁর ছুটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ষোলোশো সাঁইতিরিশের চৌঠা সেপ্টেম্বর। তিনি রওনা হচ্ছেন দাক্ষিণাত্যে সুবেদারি সামলাতে। এই সন তারিখ শাজাহান পাদশানামায় লিখিয়ে রেখেছিলেন এর থেকে তাঁর কড়া অনুশাসনের একটা আন্দাজ পাওয়া যায়, বাদশাহী যতেক তম্বি সুড় সুড় করে মানতে হচ্ছে নববিবাহিত শাহাজাদা ঔরঙ্গজেবকেও, অগত্যা নতুন বউ নিয়ে তিনি ধূলো মেখে ... ...
ভগবানজী বহুবার বলেছেন তাঁর সাথে কবি নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠতার কথা। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে নেতাজীর ঘনিষ্ঠতার কথা আমরা অনেকেই জানি কিন্তু নজরুলের সাথে ঘনিষ্ঠতা সম্পর্কে খুব বেশী কিছু জানা যায় না। আসলে এখানেও সেই আধ্যাত্মিকতা, যাকে আমরা খুব একটা মানতে চাই না। সেই কারণেই বোধহয় বহুল প্রচারিত নয় এই কাহিনী। নেতাজী এবং নজরুলের ঘনিষ্ঠতা তৈরী হয়েছিল যোগীরাজ বরদাচরণ ... ...
সুমনা কাবেরীদের দিকে নজর রেখে বলল, ' দাঁড়াও এদিকেই আসছে হাঁটতে হাঁটতে। ডানদিকে ঘুরে মনে হয় এখান দিয়েই যাবে যদি না রামদুলালের দিকের গেট দিয়ে বেরিয়ে যায় ... ' ----- ' আরে, বাদ দাও না ওসব ... তোমার দরকার কি? ' প্রতিবিম্ব বিরক্ত বোধ করে। কিন্তু কে কার কথা শোনে। ফেমিনিন কিউরিওসিটি বলে কথা। সুমনা ... ...
ক্রিকেটটা ফুটবলের মতো বড় হয়েছে - বেকহ্যামকে দেখা যাচ্ছে দর্শক আসনে; গণশাকে তাই অষ্টপ্রহর মাঠে থাকতে বলা - বিশ্বকাপ, যে পায় পাক টিকিট আসল খেলা।
গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে পশ্চিমা শহর ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই বিক্ষোভগুলির ক্ষেত্রে কেবল এগুলোর বিস্তৃতিই উল্লেখযোগ্য নয়, সেই সাথে বিক্ষোভকারীদের তারুণ্য বা তরুণ বয়সের ব্যাপারটাও একটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার। এই প্রবণতাটি জরিপের তথ্য দ্বারা সমর্থিত, যা দেখায় যে আজকের তরুণদের মধ্যে ইসরায়েলের চেয়ে ফিলিস্তিনকে সমর্থন করার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা পুরানো প্রজন্মের সাথে একটি পার্থক্যকে চিহ্নিত করে। এই লেখাটিতে অনুসন্ধান করা হবে যে, ইজরায়েল সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি আজকের পুরানো প্রজন্ম এবং অতীতের তরুণদের থেকে কীভাবে আলাদা, সেই সাথে এদের দৃষ্টিভঙ্গির এই পরিবর্তনের পেছনের কারণগুলিও পরীক্ষা করা হবে।জরিপের তথ্যগুলোর দিকে ... ...