"আমি এখন সেইখানেই আছি ;যেখান থেকে নিজেরই খবর আর, পাই না। 'লালন' তুই জানিস, এই বৃক্ষ'কে!সে বীজ'ই, খুঁজে, পায় না..."~। শুভঙ্কর বৃক্ষ
ধন তরাসের কাউন্টডাউনগতবছর ধনতরাসের মাতামাতি নিয়ে একটা রম্যরচনা প্রকাশিত হয়েছিল গুরুর পাতায়। আজকের লেখাটি তারই অনুষঙ্গে লেখা। পাঠকেরা এই আখ্যান পড়ে রমিত হলে জানবো আমার কলম ধরা সার্থক হয়েছে। লেখাটি পড়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেবার অনুরোধ রইলো।অনেকদিন পর রাধাকান্ত একটু খোস মেজাজেই আছেন। চারজনের সংসারে তিনজনই উপস্থিত আউট অফ স্টেশন, মানে একটু এদিক ওদিক চড়ে বেড়াতে গেছে। বাড়িতে তাই এখন অখণ্ড শান্তি। ছেলে কালাচাঁদ আর বৌমা ললিতা গেছে ছুটি কাটাতে ডুয়ার্সের কোন্ এক নিভৃতাবাসে। সারা বছর কাজ করে করে একেবারে হেদিয়ে গেছে। তাই ছুটি পড়তেই বাক্স প্যাটরা বেঁধে সোজা ধা। ললিতাই দেখেশুনে সব ঠিকঠাক করেছে–কোথায় যাবে, কোথায় গিয়ে উঠবে, সাইট ... ...
( ৭ ) সাগর কানুদের বাড়িতে গিয়ে কড়া নাড়ল। সঙ্গে পাঁচটা ছেলে আছে। মাণিক,বাদল, শম্ভু ছাড়াও মজিদ আর বাবলু আছে। এই সময় বদলের মধ্যেও মোনা মজুমদার কিন্তু সাগরের খোঁজখবর রাখে কারও না কারও মারফত। মাণিকরা বেশ খানিকটা দূরত্বে দাঁড়িয়ে আছে। ওখান থেকে সাগরের ওপর দৃষ্টি রাখছে। সাগর দরজায় কড়া নাড়ল। প্রীতিময় বেরিয়ে এসে বলল, ' ও আপনি এসেছেন ... ' ---- ' আসার তো কথাই ছিল। ' ---- ' হ্যাঁ। সে তো ... ...
বাংলার সোশাল মিডিয়াতে গণপরিবহন নিয়ে কথাবার্তা বিশেষ শুনি না। কোভিডের সময়ে সরকারী বাস-ট্রেন বন্ধ ছিল, লোকজন কয়েকটা বেসরকারী দূরপাল্লার বাসে বাদুড়ঝোলা হয়ে সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং করছিল, তখনও খুব বেশী আওয়াজটাওয়াজ শুনিনি। এমনকি, বেসরকারীকরণের আপাত বিরোধী বামেরাও বেশী ট্যাঁ-ফো করেন না, সম্ভবত এ রাজ্যে সরকারী গণপরিবহন ব্যবস্থা লাটে ওঠার পেছনে তাঁদের ভূমিকা সামনে এসে যাবে বলেই। আমাকে নিয়মিত বাসে যাতায়াত ... ...
কবিতা কবির অর্ধেক মুখ। শুধু কবিতায় একজন কবি কে দেখা যায় না চেনা যায় না ধরা যায় না ছোঁয়াও যায় না। কবি থেকে যান সবার ধরা ছোঁয়ার ঊর্ধ্বে। কবি তার মনের ভাব প্রকাশ করেন কাঁটাছেঁড়া কিছু শব্দ দিয়ে। সমাজের অভ্যন্তরে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা সামাজিক অসামাজিক প্রাকৃতিক ও অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে তার অভ্যন্তরে অহরহ যে দ্বন্দ্ব সংঘাতের জন্ম হয় তারই বিচ্ছিন্ন প্রকাশ কবিতা। কবিতা পড়তে পড়তে পাঠকের মস্তিষ্ক তার নিজের মধ্যে ঘটে চলা ... ...
গভীর জলের মাছ ————— সুপ্রিয়া চৌধুরী ————— ওগো, গভীর জলের জেলে ! সেই ভোর থেকে কোন সন্ধ্যে গড়ায় বসেছো টোপ ফেলে- কেঁচো শামুক ছোলা ছাতু অনেক হলো এবার ভাবো অন্য কিছু বদলে গেছে স্বাদ ! গভীর জলের মাছ যে ওরা এড়িয়ে চলে ফাঁদ ! ওগো, গভীর জলের জেলে ! চুনোপুঁটি দু একটাই মিলছে শুধু ! তবে … ধৈর্য্য ... ...
বিশুদা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার বেশ কয়েকবছর পর আমি একদিন ওর বাড়ি গেলাম। ছাত্র আন্দোলনের সময় থেকে ওনার সঙ্গে পরিচয়।কথায় কথায় ওকে জিজ্ঞাসা করলাম, আচ্ছা বিশুদা, তুমি ছবি আঁকতে পারো না, তাও ছবি এঁকে এগজিবিশন করো, কবিতা লিখতে পারো না তবু গাদা গাদা কাব্যগ্রন্থ বার করো, পুরো বেসুরো হয়েও গান গাও, গানে সুর দাও, প্রকাশ্যে দেব-দেবীর মন্ত্র ভুলভাল বলো, বিজ্ঞান-ইতিহাস নিয়ে মনগড়া তথ্য দাও। তোমার অদ্ভুত আলটপকা কথায়, আচরণে রাজ্যের মানুষ হাসে, হতাশায় কপাল চাপড়ায়, অথচ এতকিছুর পরেও ... ...
( ৬ ) সাগর ঘরে ঢুকে রাত্রিকে বলল, ' একটু বস, আমি একটু কথা বলে আসছি ... ' ---- ' ঠিক আছে ... ঠিক আছে, আমি আছি ... ' সাগর পারসকে নিয়ে পাশের ছোট ঘরটায় ঢুকল। পারস বলল, ' আপনার সময় নষ্ট করতে চাই না। একটা বিপদে পড়ে আপনার কাছে এসেছি ...' ---- ' সেটা বলার দরকার নেই। বিপদে না পড়লে কেউ আমার কাছে আসে না। তা বিপদটা কি ধরণের শুনি। মানে, আমার সাধ্যের মধ্যে থাকলে অবশ্যই সাহায্য করব ... ' ---- ' আপনি পারবেন জানি বলেই আপনার কাছে এসেছি। আপনার জানা নেই, ডাফ স্ট্রিটে বিমল চক্রবর্তীর সেই কেসটা আমার নিজের চোখে দেখা। বংশীলালরা আমাদের রিস্তেদার হয়। কিন্তু ওরকম হারামিদের সঙ্গে আমরা কোনদিন সম্পর্ক রাখিনি। আমরা কোনদিন ... ...
২৪ অক্টোবর, ২০২৩ -------------- খুব সাদামাটা জীবনে ঘটনা,ফটনা তেমন একটা পাওয়া যায় না। সাধারণত, সিম্পল ঘটনাকেই মশলা ফশলা দিয়ে স্পাইসি বানাতে হয়। এই বিষয়কে মাথায় রেখেই ডেইলি সোপ তৈরি করা হয়। একটা ডেইলিকার ঘটনাকে জল মেরে ফ্যানা ওঠানোর নামই, ডেইলি সোপ। সকাল বেলা। পরিবারের সবাই ব্রেকফাস্ট টেবিলে ওয়েট করছে। ঘড়ির কাঁটা আটটা ছুঁয়ে ফেললো! নতুন বৌ আসেনি। মানে লজিক্যালি না আসাটাই স্বাভাবিক। সে রাত দশটায় ঘুমোতেও ... ...
( ৫ ) আজ গুড ফ্রাইডে। ছুটির দিন। রাত্রি সকাল সাড়ে নটা নাগাদ সাগরের বাড়ি এসে হাজির হল। একটু দূরে মাইকে কি একটা সিনেমার নতুন হিট গান ভেসে আসছে .... ' ওগো কাজল নয়না হরিণী, তুমি দাও না ও দুটি আঁখি .... '। বাতাসে পাক খেতে খেতে ঘন মীড় মাখা হেমন্ত স্বর ভেসে আসছে বাতাসে। রাত্রি সাগরের বাড়িতে গিয়ে ঢুকল। সাগর তখন হিটারে চা ... ...
বন্ধুরা, আমি সোমা বলছি। এত কষ্ট হচ্ছে, যে, এইভাবে আর বসে থাকতে পারছিনা। এই ধরণের জিনিস যে ঘটতে পারে, কখনও ভাবিনি। ওরা বলছে দীঘায় কিছু হয়নি, সব নাকি উড়িষ্যায় হয়েছে। কোনো ফ্লাডের কোনো ছবি তোরা দেখতে পাবিনা। কিন্তু সত্যি কী ঘটেছে, তোদের বলি। তোরা তো সবাই জানিস, দীঘায় একটা গার্ডওয়াল আছে। পাথরও ফেলা আছে। ওটার উপর দিয়ে বন্যার ছবি তুলবে বলে তিনদিন ধরে ঠিক করে রেখেছিল কিছু ভ্লগার। ওদের তাই বারণ করা হয়েছিল ... ...
ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস সরকারের এমার্জেন্সি দেখেছে ভারত। বিরোধী পক্ষের শুধু নয় নিজেদের দলের বিরুদ্ধমতকেও হেলায় বন্দি করতে কুন্ঠা বোধ করেন নি ইন্দিরা গান্ধী। গণতন্ত্র থেকে এক লহমায় একনায়কতন্ত্রে বদলাতে থাকা ভারতীয় শাসন ব্যাবস্থাকে দৃঢ় হাতে ঋজুতার সাথে মোকাবিলা করেছিল ভারতীয় আইন ব্যাবস্থা, নির্দিস্ট করে বললে বলতে হবে 'দি সুপ্রিম কোর্ট অফ ইন্ডিয়া'।মজদুর কিষান শক্তি সংগঠনের মামলার আদেশ দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ১৯৬১ সালের বাবুলাল পারাতে বনাম স্টেট অফ মহারাষ্ট্র ... ...
নিরুদ্বিগ্ন শুকনা আর খটখটে ছাঁদেসে-ই কেবল প্রাণবান।প্রাণবান ফণীমনসা খোলা ছাঁদেসেই পরিত্যক্ত বেতের চেয়ারটাকোণায় খালি টব - প্লাস্টিক জঞ্জালসবকিছুর মাঝে প্রাণবানসবুজের প্রতীক হয়েকোন এক প্রান্তবাসী।সে সমস্ত নিঃসঙ্গতাকে নিয়েআকাশের উন্মুক্ততায় ঊর্ধ্বলোকেদু’বাহু যেন ছেড়ে দিয়েছে।এটা কেবল তার একার সমস্যা না।এ বোধ আমার ভিতর জন্মাবার পর থেকেঅন্য কোন এক বারান্দা থেকে জরীপ চালাই –আর তাকে নিঃসঙ্গ মনে হওয়াটারপেছনে যুক্তি দাড় করাই,কেননা এটাও (অবোধ্য) এক জিজ্ঞাসা।তাই রাতে প্লেনিং এর বিড়ি সিগারেটফুঁকতে যাবার অবকাশে,অবমুক্ত কালো রাত্রির অনুবাদেসেই আকাশের দিকে উদ্ধপানেতাকে ঐ একই ভঙ্গিতেপুনরাবিষ্কার করে পুলক বোধ করিপুনরায় আবিষ্কার করি পাশের বাড়ীরওয়াচ ম্যান কাম কেয়ার গিভার ছোকরাটারঅসম্ভব বেয়াড়া রকম ভঙ্গিতেসেল ফউনে কথা বলা আরঘন ঘন অন্যদিকের আরেকটা ... ...
সবাই আমার সাথে একমত হবেন এমন নয়। তবুও লিখছি, ফেসবুকে কদিন ধরে একটা লেখা ঘুরছে, 'জনসংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু ভালো মানুষের সংখ্যা কমছে'। আমার প্রশ্ন বাংলা কবিতার ক্ষেত্রেও এ কথা খাটে না কি? প্রতিদিন দুই বাংলায় যে পরিমাণ মানব শিশু জন্মায়। তার থেকে বেশি বাংলা কবিতা জন্মায়। যদি কবিতার নাম করে যা লেখা হয়, সবগুলোকে একসঙ্গে ধরা হয়। দুই বাংলায় যত শিশু অনাহার আর অপুষ্টিতে কিংবা বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। তার থেকে বেশি সংখ্যায় অপমৃত্যুর স্বীকার ... ...
( ৪ ) ওমপ্রকাশের বড় ছেলে পারস অনেক ভেবে চিন্তে ঠিক করল পুলিশের কাছে গিয়ে কাজ নেই। কাউকে কিছু বিশ্বাস নেই। খবর লিক হলে বিপদ আসতে পারে। পারস ভাবল, তার চেয়ে বরং অন্য একজনের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। ওমপ্রকাশ বলল, ' কৌন হ্যায় উও ... ' ---- ' উও আপ পয়চানোগে নেহি। সাগর মন্ডল কহা যাতা হ্যায় উনকো ... আপন বহুত মানতে হ্যায় উনকো ... ' ---- ' ও আচ্ছা ... ...
( ৩ ) নিখিল স্যার বললেন, ' তা ভাল। কিছু জিনিস জানতে না পারলেই জীবন ভাল কাটে। জানা হয়ে গেলে আর কোন আকর্ষণ থাকে না, বরং অস্বস্তি বাড়ে। কি ... বুঝলি কিছু ? ' কাবেরী একটা চেয়ারে বসে পড়ল। গৌতমও ওদিকের একটা চেয়ারে বসল। তার মুখে নরম প্রসন্নতা মাখানো। না হাসলেও মনে হয় মিটিমিটি হাসছে। কাবেরী বলল, ' মোটামুটি বুঝতে পেরেছি। আপনার কোন কথাই ... ...
নব্বইয়ের মাঝামাঝি থেকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বেসরকারিকরণে উৎসাহ দেয় বামফ্রন্ট সরকার। তার আগে থেকেই কংগ্রেস আমল থেকেই প্রত্যক্ষ সরকারী মদতে বেসরকারী হাসপাতাল নার্সিং হোমকে সরকারী মদত দেওয়া হচ্ছিল এক টাকায় জমি দিয়ে। নব্বইয়ের মাঝামাঝি থেকে বামফ্রন্ট ওই কংগ্রেসী রাস্তাতেই পিপিপি বা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপের নামে অজস্র সরকারী হাসপাতালকে জমি দিতে থাকে এক টাকায়। আগের মতোই দুটো শর্তে ... ...
( ২ ) শিবতোষবাবুর প্রায় পঁয়ষট্টি বছর বয়েস হল। তবে, শরীর স্বাস্থ্য এখনও মোটামুটি ভালই আছে। তার সারাক্ষণের চিন্তা রাত্রিকে নিয়ে। সাগরের সঙ্গে তার সম্পর্কটা এখনও সঠিক রূপ পেল না। ইদানীং রাত্রির স্কুলের কাজের চাপ খুব বেড়েছে, বিশেষ করে বছরে চারবার করে গাদাগাদা হরেক প্রকারের টেস্টের খাতা দেখা। সে বলে, ' বাবা তুমি অত চিন্তা ক'র না ... কিছুদিনের মধ্যেই আমরা বিয়ে করে ... ...
হোআ থেকে এল। বেশ লাগলো। তাই পোস্ট করছি: মুঘল বাদশাহ্ জালাল-উদ-দীন আকবর এবং রসিক চূড়ামণি বীরবলের নামে একটা চুটকি প্রচলিত আছে। একদিন বাদশাহ্ বীরবলকে প্রশ্ন করলেন, টাকা আর বুদ্ধি দুটোর মধ্যে একটা নিতে বললে, তুমি কোনটা বলবে? বীরবলের এক কথার উত্তর, টাকা। এমন জুতসই সুযোগ পেয়ে জালালুদ্দিন খোঁচা মারলেন, আমি হলে কিন্তু বুদ্ধিই নিতাম। বীরবল হাজির জবাব: আজ্ঞে জাঁহাপনা, যার যেটা কম আছে, সে তো সেটাই চাইবে। অর্থনীতির হিসেবে এই চুটকিকে ... ...
( ১ ) রামমন্দির আর মহাজাতি সদনের মাঝামাঝি ওমপ্রকাশ আগরওয়ালের বাড়ি। ছোট বড় মিলিয়ে হরেক রকম ব্যবসা তাদের। ওমপ্রকাশরা কলকাতায় বাস করছে চার পুরুষ ধরে। আদি বাস ছিল রাজস্থানের বিকানীরে। কলকাতাতেই ওমপ্রকাশের জন্ম ভারত স্বাধীন হবার ঢের আগে। পঁয়ষট্টি বছর বয়স হয়ে গেল তার। জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়ি তার বাড়ি থেকে দশ মিনিটের রাস্তা। একবার গেছিলেন ওখানে ওখানে পঁচিশ বৈশাখের ... ...