আমি বুঝতে পারছি বহুদিন ধরেই লোকটা আমাকে অনুসরণ করছে। আমার পিছু পিছু সব সময় ছায়ার মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। সম্ভবত লোকটা আমাকে খুন করবে। কারোর কাছ থেকে সুপারি নিয়েছে নাকি সে নিজেই? তা আমি জানিনা, জানিনা আমি অনেক কিছুই। দিন বা রাত্তিরে রাস্তায় হাঁটতে গেলে আমি তার অস্তিত্ব টের পাই। নিঃশব্দে হুলো বিড়ালের মত সে আমাকে অনুসরণ করে। সিনেমার অন্ধকারে মনে হয় সে আমার কাছেই বসে আছে। গভীর জ্বরের মধ্যে মনে হয় জানলা দিয়ে ... ...
বছরের পর বছর ভিতরের ঘরে আছি পুরনো আসবাবগুলি যেন পবিত্রতম সম্পর্কে জড়িয়েছে আমায়। অতল থেকে স্মৃতিতে ডানা মেলেছে ভালালাগা খাটবিছানা, আলমারি, আয়নার গল্প লেগে আছে ঠোঁটে। ভিতরের ঘরে পিছুটানের মতো গল্প, আর অপরূপ কারুকার্যের মতো আমি তোমায় সাজাই
এটা অনেক আগে লিখেছিলাম। কিন্তু এত ন্যাকা ন্যাকা লাগছিল যে, প্রকাশ করিনি। সাহস করে দিয়ে দিলাম। সবাই নিশ্চিন্তে গালাগালি দিতে পারেন। এখানে পরীরা নামে রাতে, সবাই ঘুমিয়ে যখন নিজেদের নায়ক-নায়িকা ভাবে, স্বপ্নের দুনিয়ায়, ওরা খিলখিল করে হেসে হেসে গায়ে পড়ে, কয়েকটা তরুণ গাছের আড়াল থেকে দেখে, ওদের এখনো দাগ পড়েনি মনে, ওদের কেউ মন ভাঙেনি। রাতচরা পাখির শব্দ, যেগুলো শিরদাঁড়ায় হিমস্রোত ... ...
আমি যদি মানুষ না হয়ে পাথর হতাম! কয়েক দশক, শতক বা যুগ কেটে যেত, আমি চির, ধীর, স্থির, অনড়, অচল, স্থবির হয়ে রয়ে যেতাম। সৃষ্টির শুরু, শেষ সব দেখতাম চেয়ে। এত উদ্ধত হতাম, সব দেখতাম, তারপর - যদি ঈশ্বরও ডাকত সাক্ষী দিতে, আমি একদম চুপ করে কাটিয়ে
তুমি জানো বিনীতা, যেখানে আমরা বসে থাকতাম, কথা বলতাম জন্মজন্মান্তরের, সেখানে এখন লোকে যায় না আর, ঝোপে ঢেকে গেছে। হয়তো কিছু পথভোলা সাপ বুকে হেঁটে যায়..... কতদিন যাই না সেখানে আমি। আমি চলে গেছি বহুদূর দেশে। তুমিও তো নেই! তোমার মনে পড়ে? তুমি সূর্যাস্ত খুব ভালোবাসতে, পাখিদের ঘরে ফেরার দৃশ্যও। এখন দেখার সময় পাও? সাথী কি হয় কেউ? আমি আজকেই দেখলাম, সূর্য ডুবে গেল, একটু তাড়াতাড়িই যেন। কেউ নেই, কে দেখে! যদি আবার ফিরি, যদি আবার ভালবাসি ... ...
বাঙালির খাদ্য সিরিজ ৫বন্ধুরাও যোগ করুন (রোগ এসে যায়, যোগ লিখলেই!) বন্ধুরা আসেন। আসাম ত্রিপুরা বাংলাদেশ, জেলা এবং দু-একজন বিদেশ থেকে? কী আনবো? জিজ্ঞাসা। বলি, কিচ্ছু না। তবে এসে যায়: শুঁটকি, বই, ইলিশ, আরবিয় খেজুর, বিরিয়ানি এবং মিষ্টি ও চানাচুর। জামা এবং রঙিন পানীয়ও পেয়েছি। কিন্তু তাতে উৎসাহ কম। সম্প্রতি পেয়েছিলাম আরবিয় খেজুর। সাচ্চু ভাই ও নীতু ভাবি এনেছিলেন। মধুমেহ রোগী। তাও খেলাম। অপূর্ব। এত ভালো খেজুর আগে খুব একটা ... ...
“ন্যায়বিচার জিন্দাবাদ” শব্দগুচ্ছটি একটি বিশেষ সময়ের প্রতিচ্ছবি, যখন মানুষের হৃদয়ে ন্যায়বিচার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল প্রবল। এর পেছনে একটি সাহসী রূপক গল্প রয়েছে, যেটি ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করে। ঘরের দরজার ফাঁক দিয়ে দেয়ালে ঝুলানো ঘড়ি মনোযোগের সঙ্গে জলের কলের নিচে রাখা পাত্রের দিকে তাকিয়ে আছে। দেয়াল ঘড়ি নিয়মিত সময়ে কল থেকে পাত্রে জল পড়ার টুপটুপ শব্দ শোনে। হিংসায় জ্বলতে থাকে দেয়ালঘড়ি এবং আপনমনে ... ...
উভচর সাগরময় মণ্ডল ১ পুকুরঘাটে একগাদা এঁটো বাসন ঝনঝন করে নামিয়ে রেখে, উবু হয়ে বসে, ঘাটের পাশ থেকে এক খাবলা বালি তুলে, সঙ্গে নিয়ে আসা ঘুঁটের ছাইয়ের সঙ্গে বালি মিশিয়ে নিয়ে কমলার মা বাসন মাজতে বসলো। এটা নিত্য দিনের কাজ। সকাল, বিকেল, রাত্রি তিন বেলা এই পুকুর ঘাটে আসতে হয়। হয় বাসন মাজতে, নয় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে। কারণ সেকালে গ্রামের কোনো বাড়িতেই শৌচালয়ের ব্যবস্থা ছিল না। একমাত্র ভরসাস্থল ওই পুকুর পাড় আর পুকুর ... ...
লাল পাহাড়ির দেশের এক আশ্চর্য মানুষ সেটা ১৯৮৭ সাল, আমার শিক্ষকতা জীবনের একেবারে গোড়ার দিক। স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার পাট চুকতেই তল্পিতল্পা গুছিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম জনা দশেক ছাত্র আর আমরা দুজন মাস্টারমশাই মিলে। হেডমাস্টার মশাইও যাবেন। গন্তব্য লালপাহাড়ের দেশ পুরুলিয়া। ওখানেই তখন স্কুল অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চের উদ্যোগে এবং সংস্থার মুখ্য কর্ণধার তথা পরিবেশবিদ্ বিপ্লব ভূষণ বসুর নেতৃত্বে অযোধ্যা পরিক্রমার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্দেশ্য মানুষের মধ্যে ... ...
( ১৯ ) সিঁথির বাড়িতে নিতাইবাবুরা ভালই আছেন। যদিও বরানগরের দিকে রাজনৈতিক গন্ডগোল লেগেই আছে। এখান থেকে আরম্ভ করে বেলঘরিয়া পর্যন্ত নক্শালদের ঘাঁটি। এরা সি পি এম পার্টির চক্ষুশূল। দু দলে মিলে খোলা রাস্তাটা যখন তখন যুদ্ধের ময়দান বানিয়ে ফেলছে। এ ব্যাপারটা নিয়ে অবশ্য একটা অস্বস্তি আছে ওনাদের। নিতাইবাবুর এখনও দুবছর চাকরি আছে। বাড়িতে এখন স্বামী স্ত্রী দুজনই শুধু থাকেন। শ্রীলেখার বিয়ে হয়ে ... ...
মহারাষ্ট্রে বিজেপি হুলিয়ে জিতেছে, আর ঝাড়খণ্ডে গোহারা হেরেছে। মহারাষ্ট্রে বিজেপির প্রচারের একটা বড় অংশ ছিল তাদের 'লড়কি বহিন" প্রকল্প, যাতে ২১ থেকে ৬৫ বছরের মহিলা, যাঁরা কিছু আর্থসামাজিক অবস্থার ক্রাইটেরিয়া মিট করবেন, তাঁরা মাসে ১৫০০ টাকা করে পাবেন। এ হচ্ছে সেইরকমের প্রকল্প, যাকে পয়সাওয়ালা ডানপন্থীরা সোশ্যাল মিডিয়াতে "freebie" বলে গাল পাড়েন, যে গাল আজকাল পশ্চিমবঙ্গের ট্যাঁকভারী বামপন্থীরাও দিচ্ছেন মমতার বিভিন্ন প্রকল্পকে। আর সেটা এই বাস্তবের মুখে দাঁড়িয়ে, যেখানে শুধু পশ্চিমবঙ্গই নয়, সমস্ত ভারতের অধিকাংশই আর্থিক অনটনে ভুগছেন। এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া। এমনকি, যেটুকু স্বাচ্ছন্দ্য এককালে আমরা বিনাপয়সায় পেতাম, যেটুকুকে ছোটবেলা আলাদা করে স্বাচ্ছন্দ্য বলেই মনে হত না, সেগুলোও আজকাল ... ...
বর্তমান যুগটা একটা অলীক দুনিয়ায় চলছে, ডিজিটাল যুগ। এমন কি ঘুমোতে যাবার আগে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, whatsapp, করা এসব এখন একটা প্রথা হয়ে গেছে। আবার একবার চালু করলে সময়ের হিসাব থাকে না। রাত তখন প্রায় ২টো। আই প্রোটেক্টর অন করেও চোখের প্রতি অবিচারই করছিল রাকা, কেননা ঘুমকে কোনমতেই জমতে দেবে না সে। এটাই ট্রেন্ড, যে যত রাত-জাগানিয়া সে ততই মডার্ণ আর ততই ডিজিটাল। রাকার ফেসবুকে নতুন ছবি পোস্ট হয় রোজ। বৃষ্টি ঝেঁপে উত্তরাখন্ডে ... ...
জ্যোতিষে আমার কোনদিনই সেরকম বিশ্বাস ছিল না, ভবিষ্যতেও হবার সম্ভাবনা এখনো অবধি দেখছি না। তবু জ্যোতিষীদের সংস্পর্শে এলে যেন মনে হয় - একবার জানলে হয় ভবিষ্যতে কী আছে কপালে। না মিললে না মিলবে, লটারির টিকিটের মত কাটলেই যে পুরস্কার উঠবে তার তো কোনো নিশ্চয়তা নেই।ছোটবেলায় একবার বাবার সাথে গেছিলাম শ্যামবাজারের কাছে এক পন্ডিতের কাছে। তিনি আমার হাত দেখে বলেছিলেন - বিদ্যালাভের জন্য এ ছেলের ভাগ্যে বিদেশযাত্রা আছে। সেই ... ...
আজকাল শব্দ করে শব্দ ধরি শব্দজব্দে ডুবে মরি মাঝে মাঝে মনে হয় কিলোখানেক হাসি যদি কেনা যেত বাজার থেকে অসাবধানে হারিয়ে গেলেও চিন্তার কিছু নেই। আজকাল শব্দ করে শব্দ ধরি শব্দজব্দে ডুবে মরি সেদিন গড়িয়াহটে পথ চলতে পেয়েগেছি সিলিকনের মানিপ্লান সূর্যমুখী ও ছিল, নেওয়া যেতদামে পোষালোনা তাই।.... শুকনো মানি প্ল্যান বদলেনতুনের সংস্থাপন। শুধু হৃদপিন্ডের গঠনটা বড়ই জটিল না হলে পাল্টে নিতাম এখনই। আজকাল শব্দ করে শব্দ ধরি শব্দজব্দে ডুবে মরি। ... ...
তোমার কথা, আমার কথা কথা অনেক বেশী এবার কিন্তূ হারিয়ে যাবে তোমার আমার রশি। তার চেয়ে বরং এসো আমরা নিশ্চুপ হয়ে বসি। সমঝোতা এক জটীল অঙ্ক মন দিয়ে তা কষি। এক জীবনে ধন্দ কত দম্ভটাও আছে শত হিসেব নিকেষ করেও এত আমরা কেমন একই বৃন্তে বসি। এইতো বেশ ভালো আছি মন্দ কিন্তূ নয় মন্দ টা মনের মধ্যে বুড়ো ঘুনপোকাটার ভয়। ... ...
আমার মৃতদেহের উপর দিয়ে যখন তোমার পুলিশ, তোমার সৈন্য হেঁটে গেল নির্দ্বিধায়, তুমি কোথায় ছিলে? সামনে থেকে আমি যখন অসীম বিশ্বাসে বুক পেতে দিলাম, আমার পুলিশ আমার উপর গুলি চালাতে পারবে না, হোক না সে সশস্ত্র, আমার ভাই তো!যখন গুলি চালিয়ে দিল, তমহন আমার চোখ বিস্ফারিত, যন্ত্রণার চেয়ে অবিশ্বাস বেশি সেখানে। তুমি চেয়েও দেখো না, ক্ষমতা তোমার চোখে ঠুলি পরিয়ে দিয়েছে। ... ...
( ১৮ ) অমল ফিরল মিনিট দশেক পরে। সঙ্গে পাঁচ বছরের ছেলে। রাত্রিকে দেখে বলল, ' আরে ... হোয়াট আ প্লেজ্যান্ট সারপ্রাইজ ! কতক্ষণ ? ' রাত্রি অমলের দিকে তাকিয়ে বলল, ' এই ... কিছুক্ষণ হল ... কথা দিয়েছিলাম ... রাখলাম ... 'এ কথাটার অবশ্য কোন সরস প্রতিক্রিয়া এল না। কিছু থাকলেও এত লোকের মাঝে তা সম্ভব ছিল না। অমল নৈর্ব্যক্তিকভাবে বলল, ' হ্যাঁ ... সেটা ঠিক। আজকাল কারও কথার দাম নেই। খুব খারাপ ... খুব খারাপ ... 'ঘটনাক্রমে অমলের মনে অন্য কিছু থাকার একটা সম্ভাবনা ... ...
আমায় তুমি দিও একটু সময়। দিও আমাকে কিছু অজ্ঞাত নিস্তব্দতা। তোমার স্নিগ্ধ ঠোটের ছোয়ায় একটু খুনসুটি, একটু সঙ্গতি আর বাকিটা কল্পনা। তোমার নিবিড় বক্ষে দিও আমায় এক চিলতে অধিকারের জমি। তোমার চোখের নগ্নতায় দিও আমায় অধীর
আগে, যখন এই দৌড়ে বেরিয়েছিলাম, তখন আমার প্রতিদ্বন্দ্বী অনেক, আমি প্রাণপণে ছুটেছিলাম, এগিয়ে গিয়েছিলাম অনেককে, অনেকে এগিয়ে গিয়েছিল আমাকে। তারপর পিছু ফিরে তাকাইনি