রক্তিম বিপ্লবী নাম দিয়ে একজন মুক্তমনা লিখেছেন:ইরানের এক নারী এখন প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিষয়টি হল ইরানের ইসলামিক আজাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ঠিকঠাক হিজাব না পরার কারণে ইরানি নীতি পুলিশেরা এই ছাত্রীকে অপমান করে।এই অপমানের প্রতিবাদ স্বরূপ ইরানের এই ছাত্রীটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হিজাব, বোরখা খুলে অন্তর্বাস পরে ঘুরতে থাকে। শেষ পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা যায় ইরানের নীতি পুলিশ এই মহিলাকে গ্রেফতার করে। এই মহিলা আদেও ... ...
( ১০ ) সাগরকে তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীমায় দেখা গেল। গঙ্গাকে আদেশের সুরে বলল, ' ওর বাড়িতে খবর দাও। আর আপনারা এখানে দাঁড়িয়ে গুলতুনি না পাকিয়ে একটা ট্যাক্সি ডেকে আনুন। একে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। আর জি করেই যাওয়া ভাল। তাছাড়া আর কোন জায়গার বা আছে কাছাকাছির মধ্যে ? ' ভিড়ের মধ্যে উসখুস শুরু হল। যা হয় আর কি ... বেশির ভাগই কেটে পড়ার ... ...
মনের খেয়াল মনের খেয়ালে লিখেছি তোমার নামটি আমার মনে একে ভালোবাসা বলে কিনা জানি না। ভালোবাসা পেলে যায় না বলা কিছুই আশ্চর্য আর গোপনীয় সে! কথাকে অতিক্রম করে প্রেম তুমি সুখ্যাত প্রেমিকের মতো একা নির্বাসিত দারুচিনি দ্বীপে ...প্রেম তোমাকে সবকথার শেষ কথা বলে জানি! এই পৃথিবীর ভালোবাসা ও কথাগুলো দেখেশুনে কিছুক্ষণ চুপ থাকি, আহ্লাদে আটখানা হয়ে কিছু্ক্ষণ অট্টহাস্য করি। ... ...
ভিড়ের প্রতিটা মুখ তার মতো ছিল, আমি বারবার খুঁজে হয়রান হয়ে গেছি, কোথায় খুঁজিনি তাকে! নদীর মোহনায়, ইউক্যালিপটাস গাছের বিরল ছায়ায়, দুর্দান্ত গোবির বুকে, কিংবা মালয়েশিয়ার পাম বাগানে, কিন্তু না, সে কোথাও ছিল না। যখন প্রথমবার তাকে দেখেছিলাম, তেমন গুরুত্ব দিইনি, ভেবেছিলাম, "এ মুখ তো সবার হয়।" পরে খুঁজতে গিয়ে যখন সবার মুখে তার ... ...
জীর্ণতার একশেষ। দিনের আলো, রাতের আঁধার, গোধূলির মায়া -সবই, এই ভুবনের বাইরে। জানলা দরজাহীন এক নড়বড়ে পরিকাঠামো। যেকোনো মুহূর্তে নিজেকে উজাড় করে মাটিতে মিলিয়ে দিতে পারে সে। তবু, টিকে থাকার অদম্য বাসনায়, জীর্ণ শরীরেও রাজকীয় অহংকার মেখে তার অদৃশ্য জয় পতাকা, দূরের কোনো পথিক কে আহ্বান করে। একবার দেখে যাও, ছুঁয়ে যাও ... ...
শম্ভাজি মহারাজের সংস্কৃত শেখার গল্পটা হয়ত অনেকটা এইরকম : আগ্রা থেকে শিশু শম্ভাজিকে নিয়ে পালাচ্ছেন শিবাজি মহারাজ। তাঁকে ধরতে আসছে ঔরঙ্গজেব আলমগীরের ফৌজ। চতুর্দিকে ছড়ানো গুপ্তচর নেটওয়ার্কের থাবা থেকে বাঁচতে বেনারসের সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত কাশী পন্থের হাতে গভীর এক রাতে ছেলেকে সপেঁ দিলেন শিবাজি মহারাজ, বললেন, ''পণ্ডিতমশাই ছেলেটাকে নিয়ে এইভাবে পালাতে গেলে নিঘাৎ ধরা খাব।" ---- কিচ্ছু চিন্তা করবেন না মহারাজ। ---- মহারাজ ! ---- আপনি হিন্দুকূলপতি ... ...
হ্যাঁ, সব সেরে গেছে ‘কেনো মৃত্যুরে খোঁজ তুমি’ ? চেপে ঠোঁট বলেন দূর কৌতুকী আকাশ। ‘ঠিকানা আর বিবিধ প্রয়োজন লিখবার বাঁধানো ডাইরিটা ভিড় বাসে ফেলে এসেছিলেন? ’বললেন কোন অচেনা কণ্ঠ বহুদূর থেকে – আক্ষেপটা স্পষ্ট ছুঁড়ে দিয়েজুড়ে দিয়ে বিরক্তি – ত্রস্ততা আর সমস্ত ব্যস্ততা নিয়ে সেতু অফিস যাবার আগে সারা সকাল খুঁজলেন বাড়িতে রাখা তার একমাত্র ছাতাটাকে, মরশুমের প্রথম বর্ষায় তাকে ভিজতেই হল ... ...
আমি একযুগ তার চুলে মুখ ডুবিয়ে বসেছিলাম,উঠে দেখি পৃথিবী পাল্টে গেছে,সেই মানুষ, গাছপালা, সমাজ, সংস্কার সব পাল্টে গেছে।আমি যাকে আমার প্রেয়সী বলতাম,যার চুলের গন্ধ আসমানী মেশকের গন্ধ লাগত,তার শুধু চুলগুলো এখনো আমার হাতে ধরা,হাড়গুলোও ক্ষয়ে গেছে কবে,আমি জানতে পারিনি।আমাকে সে প্রায়ই বলত,"তুমি আমাতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে না তো!"প্রতিবারে আমি বলেছি, "আমি সূর্যের মৃত্যু পর্যন্ত, ব্রহ্মান্ডের শীতল মৃত্যু পর্যন্ত শুধু তোমাকে ভালোবেসে কাটিয়ে দেব।"আমি কথা রেখেছি,কিন্তু যে প্রতিজ্ঞা আদায় করে নিয়েছিল,সে কোথায়?আমি ধীরপায়ে সেইদিকে এগিয়ে যাই,যেখানে একযুগ আগে আমরা থাকতাম,মনে হচ্ছে সেখানে সবই ওর স্মৃতি,আমি পাগল হয়ে যাব।আমি চিনতে পারছি না কিছুই,পথ নেই; যেখানে ছিল,সব পাল্টে গেছে!এখন আমার আফসোস হচ্ছে,ওর শেষ চিহ্নগুলোও ... ...
বি বি সি বাংলা থেকে 'ইসলামের নবীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ফেসবুকে কটূক্তিমূলক মন্তব্য' করার অভিযোগে সেনা হেফাজতে নেওয়া ফরিদপুর জেলার সেই কিশোর এখন জেল হাজতে। যদিও ফরিদপুরের স্থানীয় সাংবাদিক, কলজের শিক্ষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে যে কিশোরটি দাবি করেছেন – তিনি ওই কটূক্তিমূলক মন্তব্য করেননি, অন্য কেউ করেছে।এই ঘটনা আজ থেকে দুই দিন আগের। অন্যান্য দিনের মতো সেদিনও ক্লাস করতে গিয়েছিলেন জেলার বোয়ালমারী উপজেলার কাদিরদী ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ... ...
কুর্নিশ হে মহারাজ মসনদ দখল করে মোর ভাই চারিদিকে তাকিয়ে দেখি সে তো আর নাই মসনদে জ্বলে রোশনাই সিংহাসনে বসলে পরেই কুর্নিশ নিতে হয় বিদ্রোহ জ্বলে রক্ত তবুও লাল রঙে ভয় শব্দ করে ক্ষয় রাজপথ থেকে জয় শেষে কি তবে এমনই হয় হে মহারাজ আমরা তব ভক্ত ওয়াজের মাঠে খুশি মহাজন সুদি ভাই আমার বড় প্রিয়জন হায়াত দরাজ করো তাঁকে সে যেন ব্যাবসা দুধে ভাতে ... ...
( ৯ ) তোড়ে বৃষ্টি হবার পর আকাশ অবসন্ন হয়ে পড়ল। ফোঁটা ফোঁটা জল পড়তে লাগল। রাস্তা, ফুটপাথ ভিজে ভিজে। লোকজন বেরিয়ে পড়ছে ছাউনির তলা থেকে। রাত্রি বলল, ' চল ...কফি হাউসে যাবে বলছিলে ...' অমল কি যেন ভাবতে লাগল রাস্তার দিকে তাকিয়ে। রাত্রি আবার বলল, ' কি হল ... চল... ' ---- ' কোথায় ? ' ---- ' কেন ... কফি হাউসে ... ' ---- ' ও হ্যাঁ ... নাঃ থাক ... দরকার ... ...
তবুও যেতে হয়, কত রাত একসাথে তারা দেখা বাকি খোলা আকাশের নিচে শুয়ে, কত সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত দেখব বলে ভেবেছিলাম, আর দেখা হল না। আমি ভেবেছিলাম তুষার ছুঁয়ে দেখব, পাহাড়ের কোলে শুয়ে হার না মানা জেদি গাছটাকে দেখব কিছুদিন, কয়েকটা নাছোড়বান্দা মাকড়সা দেখে আশান্বিত হব। কিন্তু দেখো, কিছুই হল
ভূত চতুর্দশী তিথি, চোদ্দ প্রদীপ এবং চোদ্দ শাক মাহাত্ম্য। ত্রয়োদশীর সন্ধ্যা উৎরে যেতেই সিরিয়াল দেখার পর্ব মিটিয়ে গিন্নি তাঁর মনি ব্যগখানি কাঁধে ঝুলিয়ে চললেন ধন তরাসের তেতে থাকা বাজারের ওম নিতে। কয়েক দিন ধরেই এই দোকান সেই দোকানের তরফে সুললিত কন্ঠে আমন্ত্রণ জানানোর পর্ব চলছে – “Good Morning Mam, আমি …. জুয়েলার্স থেকে বলছি। আগামী মঙ্গল আর বুধবার আমাদের শো রুমে স্পেশাল ডিসকাউন্ট অফার ... ...
আজ ১৯ শে মে। ৬৪ বছর আগে আজকের দিনে, বরাক উপত্যকার তারাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ( আজকের শিলচর) কাছে নীরবে হেঁটে চলেছিলেন কিছু সত্যাগ্রহী।ঠিক তার কয়েক মাস আগে আসামের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিমলা প্রসাদ চালিহা আসাম বিধানসভায় একটি বিল পাস করেছিলেন, যেখানে অসমিয়া ভাষাকে রাজ্যের একমাত্র ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।এটা সেই সময়ের আসাম, যেখানে বাংলা ভাষায় কথা বলেন ৬৬ শতাংশ মানুষ, অসমিয়া ৩৩ শতাংশ। আর বরাক উপত্যকার ৮০ শতাংশ মানুষ বাঙালি। বাংলা তাদের মাতৃভাষা।১৯ শে মে, বেলা দ্বিপ্রহর। নিরস্ত্র, নীরবে হেঁটে চলা, মাতৃভাষাতে কথা বলার অধিকারের দাবীতে হেঁটে চলা, সত্যাগ্রহীদের উপর বন্দুকের বাট আর ব্যাটন নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে আধাসেনা। তারপর কয়েক ... ...
( ৮ ) জোড়াসাঁকো থানার ওসির টেবিলের উল্টোদিকে সাগর আর পারস বসে আছে। পারস অনেক ভাবনা চিন্তা করে সাগরের সঙ্গে থানায় যাওয়াই ঠিক করল শেষ পর্যন্ত। ওসি সমরেন্দ্র কুন্ডুর বয়স পঞ্চাশ বাহান্ন বছর হবে। কর্ত্তব্য পালন করার থেকে দায়িত্ব এড়াতেই বেশি ভালবাসেন। আগে মুচিপাড়া থানায় ছিলেন। তখন ও সি হননি। সাগরকে অন্তত পনের বছর ধরে চেনেন। তিনি সাগরকে দেখে একটু ধাক্কা খেলেন তাতে ... ...
অদ- ভূত!..হেমন্তের বিকেলগুলো একদম আলাদা। উদাসী আলোয় ভেসে চলে যায়, স্বপ্নের মতো আলতো ছুঁয়ে। দিনশেষের আলোর কাছে, শেষ বিকেলে কাকেদের কা কা স্বরেও যেন ম্লান অনুযোগ। ধীর গতিতে যাত্রা করে বাসার দিকে। দূর আকাশের টিয়ার ঝাঁক খুব তাড়াতাড়ি পাড়ি দেয়, বনের মাঝে মনের মতো ঘরের দিকে। চড়াই, বুলবুলি, টুনটুনিরাও তাড়ায় থাকে নিস্তেজ আলোর দিকে তাকিয়ে।কিন্তু, ওই যে দোয়েলটা, ও কিন্তু শেষ বিকেলের মেহমান। আলোর পরিধি ... ...
ওরা গোমাংস কারখানা গড়ে বিদেশে গোমাংস রপ্তানি করবেন। আর দেশে যাতে সস্তায় গোমাংস মেলে তাই পিটিয়ে মানুষ মারবেন। গোমাংস খেলে মৃত্যুদণ্ডের আইন আনবেন ? পিঙ্ক রেভুলিউশন বলে খুব চেঁচামেচি করতেন কংগ্রেস আমলে। তখন গোমাংস রপ্তানিতে ভারত চার নম্বর ছিল। এখন গো প্রেমী সরকারের আমলে পৃথিবীতে দু নম্বর। আয় বেড়েছে। গোমাংস রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর রপ্তানি কারক সংস্থাগুলোর নাম আরবি। মালিক সং... পরিবারের।গোরক্ষার নামে মানুষ মারবেন। ওরা গো রক্ষক নন, গো সন্ত্রাসী। কিন্তু কথাটা লেখার বা বলার সাহস কারও নেই। ... ...
বড়লোকিপনা একটা বড় রোগের লক্ষণ। চোরপোরেট হাসপাতাল, পেরাইভেট ইস্কুলে গন্তব্য এইসব রোগের নিদর্শন। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত অভিভাবক থাকলে সরকারি বা সরকার পোষিত বিদ্যালয়ের শিক্ষকও বুঝে পড়াতেন। পড়ে আসতেন ক্লাসে। লোকে টাকা দিয়ে চাকরি কিনে শিক্ষকতাকে পেশা করার আগে পাঁচবার চিন্তা করতেন।ডাক্তাররাও সরকারি হাসপাতালে হেলাফেলা করতে পারতেন না। তুমি ইত্যাদি কম বলতেন।