আজি হিসাব মিলাতে …. আরও একটা বছর বিদায় নিতে চলেছে। সময় তোরণের বাইরে অপেক্ষমাণ আরও একটি নতুন বছর। রাত পোহালেই দরজা ঠেলে ঢুকে পড়বে আমাদের জীবনের পরিসরে। তাকে আগলেই পায়ে পায়ে তিনশো পঁয়ষট্টি দিনের একটা দীর্ঘ পথে পাড়ি দিতে হবে আমাদের। ফেলে আসা দিনগুলো কেমন কাটলো আমাদের পৃথিবীর ? ঠাকুর অবশ্য বলেছেন – হিসাব মিলাতে মন মোর নহে রাজি …… হিসাব নয়,আমরা বরং একটু ফিরে দেখি আমাদের পৃথিবীর বিগত বছরের আখ্যাননামা। পৃথিবী ভালো নেই। দেখে নিই কেমন গেল ফেলে আসা বছরটা!কেবলমাত্র বিগত বছরটা নয় শেষ কয়েকটা বছর ধরেই পৃথিবীর বুকে ঘটে চলেছে নানান ঘটনা, বিপর্যয় যা আমাদের পরিচিত অভিজ্ঞতার বাইরে। নানান ... ...
গ্রাম বাংলায় শীত আসে বড্ড লাজুক পায়ে। শহরের মত আড়ম্বর আর আলোক সজ্জার ট্রেন্ডি ফ্যাশনে নয়। আজও গাঁ পাড়ায় শীতরাণী আট পৌরে শাড়ি গায়ে বড্ড মমতায় জড়িয়ে রাখে শীতকে। রস ভর্তি খেজুর হাঁড়ি আর মখমলের শিশির ভেজা নরম ঘাসে কান পাতলেই এখনো বুঝি শোনা যায়, কেউ বলছে - ' সুপর্ণা, শীত এসেছে '... শীতকাল, খেজুর রস, নতুন গুর আর আগুন পোহানোর গ্রাম্য রীতির সঙ্গে সঙ্গে বছর পনেরো আগে পর্যন্ত অঙ্গাঅঙ্গী ভাবে জড়িয়ে ছিল ধুনুরির শব্দ।শীত এলেই ধুনুরিদের দিয়ে নতুন লেপ বা পুরনো লেপের জট ছাড়ানো উৎসবের চেহারা নিত ঘরে ঘরে। লাল নরম নতুন ... ...
দুর্গাপূজা শেষ। আজ লক্ষ্মীপুজো। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মা লক্ষ্মী এখন বাংলার প্রতিটি ঘরে অধিষ্ঠিতা। তাই তিনি বেশ মুডে আছেন। পালদের ঘর থেকে রিকশায় চড়ে ভক্তদের বাড়িতে যাওয়ার পথে দেয়ালে চোখ পড়তেই লক্ষ্মীর নজরে এলো নতুন এক জিনিস—“লক্ষী ভাণ্ডার।” হাতের ছোট্ট ঝাঁপিটি যে আজ এত বড় ভাণ্ডারে রূপান্তরিত হয়ে গ্রামেগঞ্জে লক্ষ্মীমনিদের হাতে হাতে পৌঁছে গেছে, তা ভেবে মা লক্ষ্মীর মন আনন্দে ভরে উঠল। মৃদু হাসি ফুটে উঠল তাঁর ঠোঁটে। রিকশা থেকে নেমে মা লক্ষ্মী ভক্তের বাড়িতে গ্যাট হয়ে বসলেন। সন্ধ্যা হয়ে এলো। সারাদিন কিছুই খাওয়া হয়নি। ভক্তদের কথা শুনে বুঝলেন, পুজোর পর খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা হবে। কিন্তু বড় সমস্যা হল পুরোহিতের কোনো পাত্তা নেই। রাত ... ...
আমি সম্পূর্ণ কুসংস্কারমুক্ত, বিজ্ঞানমনস্ক। এমন কিচ্ছু নেই, যা আমার সামনে ঘটেছে বা আমার সাথে সম্পর্কিত অথচ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খুঁজিনি। ওটা আমার অসহায়তা। সে যে কী জিনিস, যে না জানে বুঝতে পারবে না। আমদের প্রত্যেকের এক বা একাধিক অ্যাজেন্ডা থাকে(অবশ্যই যারা একটু ভাবে), আমরা সারাজীবন আমাদের আশেপাশের লোকেদের সমর্থন পেতে এবং নিজের দলে টানতে চেষ্টা করি। বেশিরভাগই সমর্থ হই না। তার কারণ, হয় আমাদের অ্যাজেন্ডা সময়োপযোগী নয়, বা হলেও তা লোকের কাছে ঠিকঠাক তুলে ধরতে পারি না। আমার দমবন্ধ লাগে, রাগ হয়;এরকম কত মত ছিল, যারা জনসমক্ষে আসতে পারেনি। অথচ যদি তারা দিনের আলো দেখত, পৃথিবী কত বছর এগিয়ে যেত। আমিও একটু একটু ভাবার চেষ্টা করি, ভুল বললাম বোধহয়;আমি সারাদিন শুধু ভাবি। এলোপাথাড়ি, একনাগাড়ে, নিরন্তর - শুধু ভেবেই চলি। যেটুকু আমি লিখছি ... ...
আমি, আমি এত আত্মবিশ্বাসহীন, যে আমার মুখে করুণ ভাবটা ফুটিয়ে করো সহানুভূতি পাব, তাও হয় না। হাস্যকর হয়ে পড়ে। প্রেম পাইনি সেটা আমার দুঃখ নয়, আমার দুঃখ আমি কোনোদিন পাব না। জীবনের এই মোড়ে দাঁড়িয়ে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমার সেই যোগ্যতাই নেই। আমি মনে যা ভাবি, তার গভীরতা সাগরপ্রতিম, আকুলতা এক আকাশ। কিন্তু তা যখনই মুখে প্রকাশ করার বেলা আসে, আমি কেমন দিকশূণ্য হয়ে যায়, ভাষা যোগায় না মুখে। সবচেয়ে বড় কথা আমি পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারি না। যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি ভাবি আজ গিয়ে এটা বলব, বলবই। কিন্তু সামনে যে থাকে, সে এত বেশি সপ্রতিভ, আমি কেমন যেন মিইয়ে যাই, আর বলা হয় ওঠে না। আমি আবার হাসির পত্র হয়ে যাই, জোকার হয়ে যাই। এমনকি আমার সমস্যা, কষ্ট, বেদনা, যন্ত্রণা সব মজার জিনিস হয়ে যায়। আমি ভাবতাম, হয়তো ... ...
আমার মৃত্যু আসছে, সেই রাস্তা দিয়ে, যেখান দিয়ে আমি আসি-যাই। খুব ধীর পায়ে, তবে আসবে নিশ্চিত। আমি প্রতিদিন দেখি যাওয়া আসার সময়, ও একটু একটু করে আমার বাসার দিকে রওনা হচ্ছে, প্রতিদিন একটু করে এগিয়ে যায়। আমার বুক ধড়ফড় করে, আমি ভয় পাই। কখনো ভীত বিড়ালছানার মতো গুটি পাকিয়ে শুয়ে থাকি, করণ কান্নায় ঘরের বাতাস ভারী করে তুলি। আমায় মরতেই হবে, এর থেকে বড় সত্য আর কিছু নেই, আমি ভয় পাই না মৃত্যুকে। কিন্তু মৃত্যুযন্ত্রণা তা তো ভীষণ - তাকে ভয় পাই আমি। ... ...
প্রায় দশ বছর ঘুমিয়ে থাকার পর আমি ঘুম ভেঙে উঠলাম। নিজের গায়ের দুর্গন্ধে ভয় পাচ্ছি, ঘেন্নায় যদি কেউ আমাকে থুতু দেয়! একটা ঘর। বাড়ি। যে বাড়িটা কখনও আমার হবে নাসেটার কয়েকটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খুলে নিয়েছি, কতটা ঘাম কতটা রক্ত লেগে থাকলে তবে আমার বলা যায়, জিভ দিয়ে চেটে চেটে বোঝার চেষ্টা করছি। নোনতা বিস্বাদ স্বাদহীন আঁশটে গন্ধমাথাটা, মাথাটা... মাথাটায় অসংখ্য শকুন জড়ো হয়েছে। খুবলে খাচ্ছে বিড়ালটাকে... চেটে নিচ্ছিল থাবায় লেগে থাকা রক্ত... আমার নিজের মাংসের জানালা দরজা সিঁড়ি ছাদ ঘরগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে... বাড়িটার মরচের প্রলেপ উঠে গিয়ে থকথকে কাঁচা মাংসের গোলাপি।স্মৃতি মহাকর্ষ ছাড়িয়ে ছিটকে পড়ছে, কাদায়। দুর্গন্ধময়, পচা জমা জলে পোকার কিলবিল। ... ...
নতুন কলম ! বরবরই শিহরণ ছিল মনে কোথাও কোনভাবে পাওয়া অথবা বাগিয়ে নেওয়ার অপেক্ষা তারপর ! পাতার পর পাতা শুধু লেখা। আজ ও কলম পেলাম, মেয়ের দেওয়া উপহার যেমন পেতাম অনেক আগে আজ ও সেই একই শিহরণ! পাতায় পাতায় আঁকড়ে ধরে এই জীবন। আজ আবার একটা জন্মদিন নদীপথে নৌকার পালে হাওয়া দাঁড় বিহীন। ফেলে আসা ধূসর দ্বীপের হাতছানি জানি অর্থহীন তবু ভালো লাগে আজ আবার একটা জন্মদিন। ... ...
১ বছর শেষে বছর যাবে চলে, যাবেই যদি যাক সে তবে। বাকসো প্যাটরা যতকিছু না যায় যেন ছেড়ে, ঘরতো আমার একফালি জানেনা কি সে ? ২ নতুন বছর আসবে যখন সাজাবে ঘর নিজের মতন। ৩ এক ফালি ঘরস্থান অকুলান ! ভাবতে হবে হিসাব কষে থাকবে কিবা বছর শেষে।
কি বললেন ঃ দুঃখ কিন্তূ ওসব জলাঞ্জলি দিয়েছি যে অনেকদিন ভাবতে হবে তাই শব্দ। কি বললেন ঃ সুখ না মশাই রেহাই নেই ও দুয়ারে ত' কুলুপিই আঁটা। দেখছেন কি? ভাবছেন পাগল? ভাবুন, ভাবুন, যতখুশি ভাবুন হাতের ও পিঠেই ত' আগুন। আপনারও ত' আসছে দিন ভাঙবে যখন সুখের নীড় যতই আপনি এ শরীর বাহারাতে ঢাকুন। আমার এই চুল দাড়িতে অনেক দিনের জজ্ঞাল নখের নীচে গরল। এ বড় ছোঁয়াচে রোগ সংক্রামক ব্যাধিতে ভুগছে শহর। ... ...
বেঞ্চ বেঞ্চ একটি মনোড্রামা। পার্কের এককোণায় পাতা একটা বেঞ্চ এই একক নাটকের মুখ্য পটভূমি। এই বেঞ্চকে ঘিরে কত না মানুষের আনাগোনা, প্রতিদিনের জীবনের কত সুখ দুঃখের, আনন্দ বেদনার আলোচনা। নানান ধরনের মানুষের কথোপকথনের সূত্র ধরেই পার্কের এককোণায় থাকা এক সামান্য বেঞ্চ যেন হয়ে ওঠে হারিয়ে যাওয়া সময়ের অনন্য এক বেঞ্চমার্ক। বিদায়ী বছরের শেষ প্রহরে এই নতুন নাটক যেন আবাহন জানায় নতুন বছরকে। সামান্য এক বেঞ্চ হয়ে ওঠে বহমান সময়ের প্রতিনিধি। পার্ক। তারই একপাশে একটা বেঞ্চ পাতা। পার্ক জুড়ে হরেক ব্যস্ততা নজরে পড়ে। সব ... ...
এক বন্ধু প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে বললো, "ঐ সিনেমাটা দেখিস নি, বেঁচে আছিস কেন?"আরেক বন্ধু বললো, "এই ওয়েব সিরিজটা দেখ ভাই, জীবন পাল্টে যাবে।"পাড়ার দিদি বললো, "এই বইটা এখনো পড়িস নি? নাবালক হয়ে আছিস তো! ছ্যাঃ!"পাশের ফ্ল্যাটের বোন বললো, "এই র্যাপটা শোনো, দাদা। যা দিয়েছে না—উফফ্!"এক ভাই বললো, "এই গেমটা খেলো নি এখনো, এ বাবা!" এরসাথে পড়ে আছে হাজারটা বন্ধুর ইউটিউব চ্যানেলের কন্টেন্ট, তার সাথে নাটক করা বন্ধুদের শোয়ের বিজ্ঞাপন—কারো লেখা গল্প, কবিতা, বই, ছবি ইত্যাদি। এই চক্করে কত গান ভালোভাবে শোনা হয় নি, খেলার মাঠে নামা হয় নি, নাচটা তোলা হয় নি, দুর্দান্ত গল্পের কনসেপ্টটা নিয়ে লেখা শুরু করা হয় নি—আরো ... ...
( ৩০ ) দুর্বার ঠিক করেছে কাল শনিবার অফিস করে বর্ধমানের মেমারিতে দেশের বাড়িতে যাবে। সোমবার বিকেলে ফিরবে। সোমবার একটা ছুটি নেবে। ওরা চারজন অনেক দিন ধরে একসঙ্গে থাকার সুবাদে পারস্পরিক সম্বোধনটা 'তুমি' থেকে 'তুই' তে পৌঁছেছে। অবশ্য সুভাষ এদের মধ্যে সামান্য বড় বলে বাকি তিনজন তাকে 'তুমি' বলে। সুভাষ বলল, ' ঠিক আছে, বিকেলে তখন তো আমরা কেউ থাকব না। তোর কাছে একটা চাবি রেখে দিস। ---- ' হুঁ হুঁ ... ' ---- ' আমিও অবশ্য সোমবার হাফ ডে নিতে পারি। বউবাজারে একটা কাজ ... ...
আজ দুর্গাষ্টমী। সবার অঞ্জলি হয়ে গেছে, শুধু এক যুগল বাকি। ঠাকুর মশাই প্রবীণ মানুষ, ধর্ম ব্যবসায়ী। পুজো-অর্চনা করেই তাঁর সংসার চলে। “নাও মা, অঞ্জলি দাও,” বললেন ঠাকুর মশাই।মেয়েটি অঞ্জলি শেষে একটি একশো টাকার নোট প্রণামি হিসেবে ঠাকুর মশাইকে দিল। ঠাকুর মশাই বেজায় খুশি হলেন। মেয়েটি বেরোতে যাবে, তখন হঠাৎ কে যেন কানের কাছে বলে উঠল,“কিরে, সবাইকে অঞ্জলি দিলি, শুধু আমি বাদ?” মেয়েটি চমকে প্রতিমার দিকে তাকাল। দেখল, সিংহ মামা হাসছে।“ঠিক কথাই তো,” ভাবল সে। “কেউ তো কখনও সিংহ মামাকে অঞ্জলি দেয় না।” সে ফিরে এসে বলল, “ও ঠাকুর মশাই, আমি সিংহকে অঞ্জলি দেব। আমায় একটু ফুল, বেলপাতা দিন আর সিংহের অঞ্জলির মন্ত্র বলুন।” ঠাকুর মশাই ... ...
আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা ২০২৫-এ আমার একটি চলচ্চিত্র সংক্রান্ত গ্রন্থ আসতে চলেছে। চলচ্চিত্র ও চলচ্চিত্রবিদ্যা নিয়ে আগ্রহী পাঠক ও সিনেফাইল'রা পৃষ্ঠা উলটে-পালটে দেখতে পারেন। ব্লার্ব: চলচ্চিত্র কি শুধুই চলমান চিত্রমালার প্রবাহ, নাকি তার মধ্যে ধরা থাকে সময়, স্মৃতি এবং ইতিহাসের অনন্য নথি? এরই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে এই গ্রন্থ। এখানে দর্শনতত্ত্বের আলোকে চলচ্চিত্রে সময়ের ধ্বংসাবশেষ, স্মৃতির স্থাপত্য এবং যন্ত্রণার ইতিহাসকে এক গভীর বীক্ষণের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে চলচ্চিত্র হয়ে ওঠে মানব অভিজ্ঞতার অনন্য সম্পদ। আলোচনায় উঠে এসেছে চলচ্চিত্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি, যেমন আন্দ্রেই তারকোভস্কি'র 'নস্টালজিয়া', ক্রিস মার্কারের 'লা জেটে' ... ...
সফল প্রেমিক, তাই বিফল জীবন।