সমকালীন ভারতের গেরুয়া রাজনীতি যে আখ্যানের চালকপুরুষোত্তম সিংহআদ্যন্ত রাজনৈতিক বয়ান গড়ে তুলেছেন সাদিক হোসেন হোসেন ‘ভারতবর্ষ’ (২০২৪) উপন্যাসে। বহুত্ববাদের দেশ ভারতে রাষ্ট্রশক্তি বলপ্রদত্ত নিজস্ব ধর্মকে কীভাবে কেন্দ্রে রেখে অন্যধর্মসহ বিরোধী জনমতকে পরাজিত করতে বদ্ধপরিকর তার গোপন পাঠ আখ্যানকে বহুমুখী সত্যে ভাসিয়েছে। রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম থাকতে পারে না। সংখ্যাতত্ত্বের নিরিখে জয়ী রাষ্ট্রপ্রধানেরও নির্দিষ্ট ধর্মের ঊর্ধ্বে মানবিক হওয়া প্রয়োজন। অথচ আজকের প্রধানমন্ত্রী ধর্ম নিরপেক্ষতার বদলে ধর্মের বেশে ভেল্কি নাচন দেখাচ্ছেন। পুরো জোকার সুলভ আচরণ করে, ধর্মীয় গোঁড়ামি দ্বারা দেশকে যেমন ধ্বংস করছে তেমনি দেশের সুমহান ঐতিহ্য, সম্প্রীতিকে ধ্বংস করছে। এই ভাঙনকালে একজন লেখক কী করবেন? সাদিক হোসেন এই ভাঙনের ফাঁকফোকর যেমন আবিষ্কার ... ...
২২। আবে হালায় ! কাগো লগে চলি ?বেকার থেকে ব্যাগার খাটিট্যাক্সও জোগাড় করো –কার ঘাড়েতে কয়টা মাথাসেইটে চিন্তে করো। চিন্তা চিন্তা করো-চিন্তা মণি কর,ভেবে সেধে সে বলেছে‘সিদ্ধ পুরুষ ধর্। “সিদ্ধ পুরুষ”!– মোক্ষ যাঁহারআলোর কারিয়াতি ?দীক্ষাগুরু শিক্ষাব্রতীরবিবর চেরা বাতি। বাতির খোঁজে রাতের বেলায়সমস্ত কারওয়াই, মিটিয়ে দিয়ে-মিলিয়ে গেছেনকিছসু বলার নাই। ১১।জল তেষ্টা জল তেষ্টাজল তেষ্টা, জল তেষ্টাজলের আগে চলেলোকে নাকি মরার আগেজলের কথা বলে। জলের ভিতর জিওল গাছেজিওল মাছের শিং,জিওল মানুষ খাটছে ব্যাগারঅহোরাত্র দিন !কারুর নাকি জলের স্বভাবআধপাতে ধায়, গরম হলে স্বভাব দোষেহওয়ায় উবে যায়। ২ / ফিনমেনলজি। (বাংলাদেশি কেন্দ্ৰীয় ব্যাঙ্ক ভোল্ট থেকে সোনা চুরি যাওয়া প্রসঙ্গে )পান্তা ভাতে নুন জোটে না,বেগুন পোড়ায় ... ...
‘কোনো একদিন’ : কথাবৃত্তের নতুন সমীক্ষাপুরুষোত্তম সিংহবাংলা উপন্যাসের মোড় ঘুরিয়েছেন সাধন চট্টোপাধ্যায় ‘কোনো একদিন’ (২০২০) আখ্যানে। শুধু এ উপন্যাস নয় সাধন চট্টোপাধ্যায়ের সমস্ত উপন্যাসই সারাজীবনের পরীক্ষা নিরীক্ষার ফসল। খুব সচেতনভাবে বাংলা উপন্যাসের বলিষ্ট পাঠক হিসেবে তিনি উপন্যাসের জমি নির্মাণে পদার্পণ করেন। অস্তিত্বের বহু সংরূপময় সত্তাকে নির্ভেজাল আড্ডায় বসিয়ে দিয়ে জীবনের গভীর তলদেশের সংবাদ খুঁজতে অগ্রসর হয়েছেন ‘কোনো একদিন’ উপন্যাসে। আমিত্বের দ্বিরালাপে ছদ্মময় জীবনের সংযত-অসংযত পাঠের বিন্যস্ত-অবিন্যস্ত সজ্জা কেমন হতে পারে, ব্যক্তির সংরূপময় সত্তা ব্যক্তিকে কীভাবে আক্রমণ করে, দংশন করে, সঙ্গী হয়ে পথ চালায় তার বহুস্তরীয় ভাষ্য ‘কোনো একদিন’ আখ্যান। ইলিয়াসের ‘চিলেকোঠার সেপাই’ উপন্যাসে ওসমানের দুই সত্তা। রমানাথ রায়ের ‘আমি রমানাথ ... ...
পর্ব ৪ :স্বামীজি বন্ধনমুক্ত মানুষের বন্দনা করেছেন – জ্ঞানে-কর্মে ও হৃদয়ধর্মে মহতো মহীয়ান মানুষ | যুক্তিশুদ্ধ কুসংস্কারহীন বৈজ্ঞানিক ভাবে ভাস্বর সমান সাত্ত্বিক ও রাজস্ব উপাদানে গঠিত মজবুত নতুন ভারতীয় সমাজ l এই সর্ব সম্পন্ন বিকশিত সমাজেরই স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ | অসন্বয়বাদী দৃষ্টিভঙ্গির উদারতা তাঁর মধ্যে ছিল | তাই বৈদ্যান্তিক আধ্যাত্মিকতা ও ইসলামের শক্তির অসঞ্জনকে মূর্ত হতে দেখার জন্য স্বল্পকালস্থায়ী জীবন আকুলিবিকুলি করেছিল | তাঁর সংস্কারহীন মানবিকতাবোধসঞ্জাত উদার দৃষ্টি প্রয়োজনীয় উপকরণ থেকে মানবসমাজকে বিচ্যুত করতে চাননি, একটি চিঠিতে লিখেছিলেন –“ We talk foolishly against the material civilization, may even luxury, is necessary to create work for the pour. Bread! I ... ...
যে আমি ওই ভেসে চলে.. হিমেল হাওয়ার কনকনানি একেবারে জাপটে ধরেছে যেন। শান্তিনিকেতনে যাওয়ার পর, সেই প্রথম শীত। সীমান্তপল্লীতে ঢুকে কিছুদূর এগোতেই, ডান হাতে লাল কাঁকুড়ে ঢালু এক পথ নেমে গেছে। দু দিকে থামের মাঝে কালো রঙের গেটের ওপর লেখা সেই 'লক্ষ্মী নারায়ণ' বাড়ি।গেট পেরোতেই দু পাশে দুটো বক ফুল গাছ।শীতের রুক্ষতায় তার ঝরা পাতাদের ছন্নছাড়া, ভালোবাসা ছড়ানো পথ পেরিয়ে চলে আসা যায় ঘরের দিকে। দুই রুমমেট, কলি আর বিনি। ঘরের বাইরেই খোলা চত্বরে কুঁয়োতলা। সেখানে আখ গাছের ফাঁক দিয়ে শিরশিরে শীতের হাওয়ার গান।কুঁয়োতলার ডান দিকে সদ্য তৈরী স্নানঘর। কুঁয়ো থেকে তোলা জলে স্নান। সেই স্নানঘরের মোজাইক করা মেঝেতে জল পড়লেই সিঁ সিঁ আওয়াজ। মেঝের ... ...
Post capitalism কিন্তু বাবা ভবের বাজার হাজার সুদের দেনা, তার উপরে মামলাবাজ ঐ বৈদ্য নাথের নানা। বৈদ্যনাথের অনেক জ্ঞাতি জমিদার সবগুলা, বিজাতগুনাক গুলিয়ে খাবে লাম্পটের খেলা। ২৫। পোস্ট্রাকচারাল ছড়া জানেন নাকি বেশ্যাগামী পুরুষ কাকে বলে? যারে বলে বিট ও শঠ লাম্পটের খোলে। খল স্বভাবের মিনসে ওজাত দারুণ কাপুরুষ, ডিমও ভীষণ ধূর্ত-ফিচেল, ডরায় সুপুরুষ। সুদুরাতীত কালেরও আগে যেইটে ছিল ভাল, সেটার মতই সু আর গুণী সুগন্ধি আর আলো। ভগবানের নাম ... ...
আজব সভ্য সমাজে বাস লেখক : শংকর হালদার শৈলবালা রচনাকাল : ১৭ জানুয়ারি ২০২৫ আজব সভ্যতার বোঝা, বুকে চাপা দেই, মানবতার নামে কত কুসংস্কার চলে! দেবর-বৌদি, শালী-জামাই, সব সম্পর্কের ফাঁক, স্বার্থের জালে আটকে, হারিয়ে যায় মানবিকতা। প্রেমের নামে ব্যবসা, বিশ্বাসের বাজার, স্বার্থের লেনদেনে, মন হয়ে যায় শুষ্ক। ধর্মের আড়ালে, কত কুকর্ম ঘটে, মানুষের মুখোশ খুলে, সত্যিটা দেখে। মা, বাবা, ভাই, বোন, সবাই আজ বিচ্ছিন্ন, স্বার্থের ছুরি চলে, মনের মধ্যে। একাকীতার অন্ধকারে, হারিয়ে যাই, কোথায় খুঁজি, মানবতার ছায়া? ... ...
অনন্ত খোঁজ লেখক : শংকর হালদার শৈলবালা রচনাকাল : ১৭ জানুয়ারি ২০২৫ নিঃশব্দ রাতে, মন খুঁজে চলে, এক অজানা স্বপ্নের পথে। শত শত চোখে তাকিয়েও, খুঁজে পাই না নিজের ছায়া। মনের গহীনে খুঁজতে থাকি, একান্তের সন্ধানে রাত জাগি। তোমাকে যে আপন বলে, সে কি সত্যি তোমার কাছে? শত শত মানুষের ভিড়ে, একজনকে খুঁজে পাই, সে আমার মনের আপনজন, সেই যাকে আমি চাই। আমি তাঁরই ছোঁয়া, তিনি আমার সব, তাঁর করুণায়, মন পায় ... ...
জীবন সাগরের তীরে লেখক : শংকর হালদার শৈলবালা রচনাকাল : ১৭ জানুয়ারি ২০২৫ কৃষ্ণ পদে মাথা রেখে, জীবন সাগরে ডুবে যাই, ঢেউয়ের পর ঢেউয়ের খেলায়, মন হারিয়ে যাই। প্রতিটি ঢেউই এক নতুন শিক্ষা, প্রতিটি তরঙ্গই এক নতুন আশা। জীবনের সমুদ্র, অসীম বিস্তৃত, তার গভীরে রয়েছে রহস্যের গুপ্ত কথা। ধর্মের আলোকিত পথে, এগিয়ে যাই, প্রকৃতির কোলে শান্তি খুঁজি, প্রতিদিন। আকাশের নীলাকার, মনের আকাশে ছড়িয়ে পড়ে, পৃথিবীর সবুজ, হৃদয়কে শান্ত করে। সূর্যের উদয়, নতুন আশার সূচনা, চাঁদের আলোয়, মন পায় নিবিড় শান্তি। বৃষ্টির ফোঁটা, পাপ ধুয়ে ... ...
কলমের কণ্ঠস্বর লেখক: শংকর হালদার শৈলবালা রচনাকাল : ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ নদীয়ার ধারে, কলমের জোয়ার, কবিতা উঠেছে, নতুন সুরে। পুস্তকমেলায়, স্টলে ১১৩, মিলবে কবিতা, স্বপ্নের গানে। আহ্বানের সাড়া, মনের কোলাহল, কবিদের কণ্ঠ, মিশেছে একত্রে। সন্দেহের ছায়া, দূর হয়ে গেছে, আশার আলো, মনে জ্বলে উঠেছে। দুশোরও বেশি, কবির সারি, কবিতার জগৎ, নতুন চেহারা। শব্দের খেলা, অনুভূতির জোয়ার, পৃষ্ঠা পাতায়, মনের দাগা। একশ নয় কবির, কবিতা গাঁথা, দুশো আট পৃষ্ঠায়, স্বপ্নের ... ...
সামাজিক হিংস্রতার আঁধারে লেখক : শংকর হালদার শৈলবালা রচনাকাল : ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ অন্ধকার রাতে, ক্ষমতার লোভে, নৈতিকতা হারিয়ে, দিনের আলোয় মুখ লুকিয়ে রাখিস, সত্যের পথ ভুলে। লজ্জা শব্দটি তোর কাছে অচেনা, মানবতার মূল্য নাই, ক্ষমতার লোভে হারিয়ে গেছে তোর মন। ধন-সম্পত্তির পেছনে ছুটে চলে তোর জীবন, নিজের স্বার্থের জন্য অন্যকে কষ্ট দিচ্ছিস তুমি। যেন একটি শুষ্ক মরুভূমিতে হারিয়ে গেছে তোর মন, তুমি একটা রক্তপিপাসু জানোয়ারের মতো। তোর হৃদয়ের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, কোনো আলো ঢুকতে পারে না। তোর কর্মের ফল ভোগ করতে হবে-একদিন, সমাজ তোকে কখনো ক্ষমা করবে না। ধর্মের আঁচল জড়িয়ে, রাজনীতির ... ...
আশার সূর্য-সকালের স্বপ্ন লেখক শংকর হালদার শৈলবালা রচনাকাল ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ উদয়ের আলো যেন নতুন সকালের সুর, মনে করি ভালো কাজ, হৃদয়ের ভরে। গুরুজনের বাণী, তারকা যেমন আকাশে, মনের আকাশে জ্বলে, দিক দেখায় স্বপনে। ভাইবোনরা আমার, গাছের শাখা যেমন, মিলেমিশে থাকি, একই মূল থেকে। খেলাধুলায় মন, পাখির ডানা যেমন, পড়াশোনা জ্ঞানের, সমুদ্রের গভীরতা। দুঃখী দেখলে চোখ, মেঘে ভরা আকাশ, মিথ্যা কথা বলি না, সত্যের সূর্য যেমন। লোভকে দূরে রাখি, পাথরের মতন ... ...
শুভ জন্মদিন তোমাকে…ষাট বছরের একটা প্রতিষ্ঠান। আমাদের ইস্কুল। আজ তাঁর জন্মদিন। ষাটের ঘরে পা দেওয়া মানে কি সে খুব বুড়িয়ে গেলো? মনে হয় না। আসলে এখনতো আর মনোস্কোপ ঠেকিয়ে প্রতিদিন তাঁর মনের খবর নেওয়া হয়ে ওঠেনা। আর সে সুযোগই বা কোথায় এক রিটায়ার্ড মানুষের পক্ষে? অবশ্য একালের চেনা বুলি - বয়স হলো একটা সংখ্যা, মনের বয়স বাড়তে দিয়োনা। একথা মাথায় রাখলে বলতে হয় ষাট্ ষাট্, কী আর তেমন বয়স হয়েছে তোমার? এটা কোনো বয়স নাকি একটা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে? এখনও যে তাঁকে অনেক অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে, অনেক গরিমা আর নির্মাণের সাক্ষী হতে হবে। চরৈবেতি – এগিয়ে চলো, এগিয়ে চলো। ... ...
সেদ্ধ পিঠে বর্ধমানের আদি বাসিন্দারা করতেন নারকেলের পুর দিয়ে অথবা দুধের ছাঁচি বা ক্ষীর দিয়ে। চিতই/ আঁশকে, সরু চাকলি, কল পিঠে, চালের আটার রুটি, ধুঁকি, চুষি পিঠে, পাকান, গোঁজা বা পুর পিঠে বা সিদ্ধ পিঠে ছিল। ছিল সুন্দর নকশা করা নারকেলের পুর ভরা ছাই পিঠে। এটা ভাজা হতো তিলের তেলে। তখন সয়াবিন পাম এসব তেল আসেনি। কেউ কেউ পুর পিঠে মাংস দিয়েও বানাতেন। হিন্দু মুসলমান সব বাড়িতেই হতো। কেউ কেউ বলছেন, মুসলমান বাড়িতে নাকি পৌষ সংক্রান্তি হয় না। এত বুদ্ধি তাঁদের কোথায় রাখেন!!! সব পূর্ব বঙ্গ শেখায়নি। ... ...
সুইডেন থেকে শিক্ষা …..? পৃথিবীর যে সব দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের পক্ষে আদর্শ, গ্রহণীয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা স্ক্যান্ডিনেভিয়ান উপদ্বীপের অন্যতম দেশ সুইডেন তাদের মধ্যে অন্যতম। প্রি স্কুল স্তর থেকেই ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের জন্য এক অন্য ধরনের তালিমের পর্ব শুরু হয়ে যায় একদম খোলামেলা পরিবেশে। খেলতে খেলতে শেখার আনন্দে বিভোর হয়ে যায় নবীন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তী স্তরের শিক্ষাও যে এই আনন্দময় ধারারই অনুসারী তা বোধহয় বুঝিয়ে বলার অপেক্ষা রাখেনা। এহেন সুইডেন থেকে এক উলট পুরাণের কাহিনি নজরে এল খুব সম্প্রতি। একটু পিছিয়ে যাই। ২০০৯ সালে স্কুল পড়ুয়াদের কম্পিউটার নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন করে এই দেশ। লক্ষ্য ছিল উন্নত যান্ত্রিক শিক্ষা ... ...
জেলের আখ্যান আমরা কম পড়িনি। কমবয়সে সতীনাথ ভাদুড়ির জাগরী পড়েছি। জুলিয়াস ফুচিক পড়েছি। জয়াদির হন্যমান পড়েছি। মীনাক্ষী সেনের জেলের ভিতরে জেল পড়েছি। কিন্তু সবই বহুদিন আগের। নিদেন পক্ষে সত্তরের দশকের। তাহলে জেল কী উঠে গেছে? রাষ্ট্র কি নরম-সরম-পেলব বার্বি-পুতুলে পরিণত? তাই যদি হবে, তো প্রায় পঙ্গু সাইবাবা জেল খাটতে খাটতে মরে গেলেন কেন? উমর খলিদ কদিনের মাত্র জামিন পেয়ে আবার জেলে কেন? আসলে রাষ্ট্র ততটা বদলায়নি, যতটা আমরা বদলে গেছি। যে মস্তিষ্কগুলো চল্লিশ-বছর আগে কিছু চিন্তাভাবনা করত, এখন টিভির সান্ধ্যকালীন খেউড়কেই রাজনীতি ভাবে। টিভি যদি দেখায় আফগানিস্তানে তালিবান খারাপ তো খারাপ, ইরানে খুব অনাচার তো অনাচার। নইলে কিছু নেই। পশ্চিমে এটা ... ...
পর্ব ৩ : তাই অন্তরের পরম আকুলতা ও প্রবল আত্মজিজ্ঞাসা নিয়ে পিছন ফিরে ভারতের বীরত্বব্যঞ্জক ও জীবনবৈদ্যুতীপূর্ণ সংস্কৃতিকে আবার নতুন করে বর্তমানে পাদপ্রদীপের সম্মুখে তুলে ধরতে হবে। সেটাই হবে প্রকৃত জাতীয় শিক্ষা। আর তার থেকেই জেগে উঠবে প্রকৃত জাতীয়তাবোধ। এই তীব্র দেশপ্রেমের উদাত্ত আহবানে যে পবিত্র যজ্ঞান্ন বিবেকানন্দ প্রজ্জ্বলিত করেছিলেন, তাতেই পুত সমিধ নিক্ষেপের জন্য স্বাধীনতাকামী দেশপ্রেমিকের, বিশেষ করে যুবসমাজের অন্তরাত্তা সহস্র শিখায় জ্বলে উঠেছিল। বঙ্কিমচন্দ্রের “আনন্দমঠ” উপন্যাসে সর্বস্ব-নিবেদিত প্রাণ যে সন্তানেরা দেশের জন্য আত্মবলিদানে উন্মত্ত হয়ে উঠেছিল। তিনি লিখেছিলেন — “সত্যানন্দ যে আহবান জালিয়া গেলেন তাহা সহজে নিভিল না।” বিবেকানন্দ দেশপ্রেমের সেই আগুনকে নিজের বুকের মধ্যে জ্বালিয়ে রেখে ঘুমিয়ে-পড়া জাতির ... ...
এ গুলোতে আমরা স্বভাবতই নিসচুপ নিরুত্তর ও যথাসম্ভব নিত্তাপ থাকবো কেননা এটাই আমাদের এ যাবত কালের শিক্ষা বিপদ বাড়িয়ে আর কি লাভ ? তাই না বলুন ? বড় জোর পারবেন বলতে ''চা ওয়ালিটা মুখে মুখে তর্ক করে কেন আজকাল!’’ছেলেটা কথা শোনে না, স্ত্রী রত্নটির সংসার কর্মে মন নেই দারোয়ান -ড্রাইভারগুলো চোর , রাজনীতিকগুলো ছ্যাঁচড়া আর প্রশাসনিক গুন্ডা নিয়ে দুকথা তো মেয়েগুলোর লাম্পট্য নিয়ে বিষোদগার আর তারপর ফেইস বুকে একটা জ্বালাময়ী পোস্ট দিয়ে যারা লাইক কমেন্ট করলেন না তাদের গণহারে দালাল- হিপক্রেট বলে লিস্ট থেকে আনফ্রেন্ড করে দিতে আপনার পরিবেশ ও মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক বন্ধুটি আপনাকে মামলার পরামর্শ দিতেই পারেন আর পাশে বসা ... ...
হাসি দেখলে আজকাল দুঃখ হয় বড্ড, হরিদাসীকে দেখে ... কেউ বলে হরি, কেউ দাসী। জঙ্গলের রাস্তাটা যেখানে ফর্সা হয় খানিক, সেখানে রোজ উদোম গায়ে পড়ে থাকে একবাটি মুড়ী নিয়ে। কাজে যাবার রাস্তায় দেখি রোজ। চোখের ইশারা ছাড়া কোনদিন কথা হয়নি। হওয়ার কথাও ছিল না। কয়েকদিন আগে তাড়াতাড়ি কাজের ছুটি পাওয়ায় ফেরার সময় সুযোগ হল।শুনলাম, বয়স আশির ওপর। শুনলাম, কেউ নাই দু কুলে। পাড়ার নাতবৌ তিনবেলা পেট ভরে। বদলে ছাগল দেখে সাঁঝবেলা অব্দি নাতবৌদের। সব কথা গুলো বললো মুখে হাসি নিয়ে। এতদিন মানুষ পড়ে বুঝেছি এরা মেকি হাসি হাসেনা খুব একটা। এই বয়সের বুড়ি দেখলে আমার আগের নানীর কথা ... ...
পর্ব ২ কি বোধ, কি আত্মপ্রত্যয়, কি আমর্ম উপলব্ধি নিয়ে দেশমাতৃকার চরণ বন্দনা করতে হবে সেই বিষয়ে তাঁর সুস্পষ্ট ধারণা ও নির্দেশ ছিল। শুধু বায়বীয় উচ্ছ্বাস আবেগে গাল ভরা দেশপ্রেমের রঙিন বেলুনকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে আকাশে উড়িয়ে দিয়ে দূর থেকে তাকে নিরীক্ষণ করা নয়, দেশকে জানতে গেলে, তাকে ভালবাসতে গেলে,নিবিষ্ট চিত্তে তার গভীরে পদ্মাসনে বসতে হবে, তার অতীত ইতিহাসে হারিয়ে যাওয়া গৌরবময় অধ্যায় গুলিকে তুলে ধরতে হবে, দেশের ইতিহাসকে বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে আর তা না পারলে জাতীয়তাবোধ ঠিকমতো গড়ে উঠবে না নিজের হারানো ছেলেকে ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত মানুষ যেমন অস্থির ... ...