২০০৫ সাল আমার কাছে অত্যন্ত স্মরণীয় বছর এই কারণেই নয় যে এই বছর আমি প্রথম আমেরিকায় গিয়েছিলাম। স্মরণীয় এই কারণে যে ওই বছরই আমি আমার জীবনের পরম পবিত্র তীর্থস্থান শিকাগোতে আর্ট ইনস্টিটিউট অট্টালিকায় Fullerton Hall এ ১১ই সেপ্টেম্বর ১৮৯৩ সালে স্বামী বিবেকানন্দ যেখানে বিশ্বধর্ম মহাসম্মেলনে যুক্তি তর্ক তথ্যের স্বচ্ছন্দ সমাহার ঘটিয়ে আবেগ দিব্য ভাষায় ভারতের চিরন্তন ধর্ম ও মর্মের ব্যাখায় সকলকে স্তম্ভিত মুগ্ধ করে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন, সেই হল ঘরে অনেক জোরাজুরি করে ১৫ মিনিটের জন্য প্রবেশ করে মুহূর্তের জন্য হলেও আমার মধ্যে এক অপূর্ব অনুভূতির সঞ্চার ঘটেছিল বলে মনে পড়ছিল। প্রথমে সভাগৃহে অজ্ঞাতনামা স্বামীজীর প্রবেশের অনুমতি ... ...
"Their nature required war. In peace, the Albanian becomes sluggish and only half alive, like a snake in winter." সাহিত্যের জাদুবাস্তবতা ধারার সঙ্গে স্বৈরতন্ত্রের গভীর সম্পর্ক আছে। নানা রূপকথার মত রূপকের আড়ালে জাদুবাস্তব লেখাতে ইতিহাসকে লিখে রাখা হয়। পশ্চিম ইউরোপে এই ধারা প্রায় বিরল হলেও ঠান্ডা যুদ্ধের সময় সোভিয়েত প্রভাবিত পূর্ব ইউরোপের লেখায় এরকম জাদুবাস্তবতা দেখা যায়। ইসমায়েল ক্যাডার ছিলেন বলকান প্রদেশের আলবেনিয়ার লেখক। গ্রিসের উত্তরে তিনদিকে পাহাড় এবং একদিকে আড্রিয়াটিক সমুদ্র ঘেরা আলবানিয়া ঈগলদের দেশ বলে পুরাকালে পরিচিত। জাতীয় পতাকাও ... ...
শিল্পের সন্ধানে একটি সত্যিকালীন অফিসমূলক ঘটনার পদ্যলিপি বুদ্ধেশ্বরের ফিরে যাওয়া উচিত ছিল না সেদিন। যদিও আমি জানি যে, সে ফিরে আসবে। কয়েকটা পুরোনো এ-ফোর কাগজ আর একটা কালো কোট গায়ে বিডিও-ডিএম-ডিআরএম অফিসে ঘোরা বুদ্ধেশ্বর, ফিরে আসার আগে কিছু ভাববে না, জানি। ভূগোল-অবাধ্য যে হাওয়া প্রতি শুক্লপক্ষে আসে সুদূর শাখালিন আইল্যান্ড থেকে লক্ষণপুরের মাঠে, সেই হাওয়া চরিয়ে খায় বুদ্ধেশ্বর আর কোট গলিয়ে খোঁজে শিল্পের মাঠ, যেন সে প্রশাসনের কপাট ডিঙিয়ে ফুঁড়ে দেবে বাঁকুড়ার বুক। বুদ্ধেশ্বর চেয়েছিলো সেটাই, যেটা কেউ চায়নি,-"একটা কককারখানা, একটা হহহাসপাতাল, একটা ইলেকটিরিক রেল লাইন, একটা তাপবিদুত"-কেন্দ্রের ছাই যেন থেকে থেকে উড়ে ঢেকে দেবে নবান্নের পাকা ... ...
( ৩৭ ) ফাল্গুন মাস পড়ে গেছে। সদানন্দবাবুর আনন্দের সীমা নেই। না, বসন্তের হিল্লোল উন্মাদনায় নয়। ওসব অশরীরি উচাটন তিনি তেমন বোঝেন না। ব্যাপার হল, তিনি আবার একটা নেমন্তন্ন পেয়েছেন। সীতেশ সাহার নাতির অন্নপ্রাশন। সীতেশবাবুর বাড়ি অবশ্য রামদুলাল সরকার স্ট্রিটে নয়। বেথুন রোয়ে। সদানন্দ আগে একসময়ে সাহাবাবুর বই বাঁধাইয়ের দোকানে কাজ করতেন। তার সাদা সিধে স্বভাবের জন্য সীতেশবাবু তাকে খুব পছন্দ করতেন। তাই তিনি সীতেশ সাহার নেমন্তন্নের লিস্টে রইলেন এবং সস্ত্রীক। এ ব্যাপারটা অবশ্য সদানন্দের ঠিক পছন্দ হল না। গিন্নীর ... ...
গাছটা আগের বছরেও ছিল। এখন নেই। ছায়া ছিল আগের বছর। এখন রোদ সোজা মাথার ওপরে। সেটা নিয়েই কথা হচ্ছিল চায়ের দোকানে। এখন গ্রীষ্ম। গাছটাকে সবার মনে পড়ছে। শোক নয়। বরং প্রয়োজনের স্মৃতি। গাছটায় অনেক পাখি থাকত। ওরাও আর নেই কিংবা আছে কোথাও। মরজগৎ য়ে দাঁড়িয়ে আছে গাছ, আছে অভিমানের ছায়া, হয়ত আছে আধো আধো নীড় গুলিও। একটা গাছের হারিয়ে যাওয়া কী এমন ব্যপার! সে চলে গিয়েছে তবুও যায়নি যেমন যায় না আসলে যে কেউ! ঠাকুমা শেষ বয়সে উন্মাদ হয়ে গেছিলেন। চিৎকার করে করে কাদের সব নাম ধরে ডাকতেন, আমরা কোনোদিন শুনিনি সেসব নাম। ঠাকুমার গাঁ ছিল বাংলাদেশে। হয়ত সেই মুছে ... ...
( ৩৬ ) মণিলাল চ্যাটার্জির বড়মামার কথাই ঠিক হল। ইন্দিরা গান্ধী ধৈর্য ধরে পাকিস্তানি সেনা সরকারের সঙ্গে কথাবার্তা চালাবার পরও ওদের হুঁশ না ফেরায় শেষ পর্যন্ত ভারতীয় সেনাবাহিনীকে যুদ্ধে নামিয়ে দিলেন। ডিসেম্বর মাস, কী শীত পড়েছে ! তিন তারিখে যুদ্ধ লাগল, ষোল তারিখে ফিনিশ। এই নিয়ে তিন তিনবার গোবেড়েন খেল পাকিস্তান। এর আগেরবার খেয়েছিল পঁয়ষট্টি সালে, লালবাহাদুর শাস্ত্রীর আমলে। মণিলালের বড়মামা অবশ্য বললেন, ' জহরলালের মেয়ে বলে কথা, রক্তের ধারা যাবে কোথায় ... '। কেউ অবশ্য তাকে আর বাষট্টি সালে চীন যুদ্ধে ... ...
১ বছর শেষে বছর যাবে চলে, যাবেই যদি যাক সে তবে। বাকসো প্যাটরা যতকিছু না যায় যেন ছেড়ে, ঘর তো আমার একফালি জানেনা কি সে ? ২ নতুন বছর আসবে যখন সাজাবে ঘর নিজের মতন। ৩ এক ফালি ঘরস্থান অকুলান! ভাবতে হবে হিসাব কষে থাকবে কিবা বছর শেষে।
রেখার পরে রেখা রঙ এর পরে রঙ তুলির ছোঁয়ায় আঁকছে ছবি সেই কবে থেকে আজও এখন। বয়স তাহার তিন কুড়ি পার বিরাম নেই একটুকু যেআঁকতে হবে আরও কত ছন্দ বিহীন বা ছন্দে রত ঘর ভরিয়ে ছবি শত রাখছে তুলে নিজের মত। আমি শুধু দেখছি তাকে ভাবছি বসে মন্দ নয় ঐ জনইতো আছে সহায় রঙ ধরিয়ে বেরঙ ঘোচায়। ... ...
তখনও যৌবন, হাঁটা পথে অনেকটা দূর। বিকেলের নরমরোধ মাড়িয়ে, এস্ত পদে প্রেম এসেছিল বেশ। আজও মনে পড়ে কিশোর বেলার আলোছায়ার রেশ। তখনও কাম, পায়ে পায়ে ছড়িয়ে থাকে নির্ভেজাল তুষারপাতের মতো, হালকা হাতের নরমছোঁয়ায় প্রেম, দিয়েছিল উষ্ণতার আবেশ। তখনই প্রেম, আড়চোখে দেখেছিলাম তাকে, চলা ফেরার পথে ছড়িয়ে থাকা বনফুলের মতো হাসনুহানার অমোঘ নির্যাশে।এখনও জীবন, ফ্লাশব্যাকে সরে সরে যায়, হলুদ পাতায় নীল প্রজাপতির ডানায় ভর করে আসে কম্পিত হ্নদয়ের হাতছানি। আমি তাকে আজও আগের মতোই জানি। ... ...
( ৩৫ ) জন্মেজয়বাবুর ছেলে অখিলদের অনেক স্বজন পূর্ব পাকিস্তানে আছে এখনও। হয়ত ভালই আছে। কিন্তু অখিলের পিসতুতো ভাই চন্ডীদাস ইন্ডিয়ায় এসেছে চিকিৎসার জন্য। সে বলল ... বড় গন্ডগোল বাধসে ঢাকার দিকে। এহনে আমাগো ওদিকেও ছড়িয়ে পড়তাসে ... ' আরও অনেক খবর দিল। ইয়াহিয়া খান নাকি ওদিক থেকে প্রচুর মিলিটারি পাঠাচ্ছে। ' হালায় অনেক অত্যাচার শুরু করসে। আওয়ামী লীগের নেতা মুজিবর রহমান লড়াইয়ের ডাক ... ...
( ৩৪ ) প্রতিবিম্ব দেশে ফিরে এসেছে। ছেলে স্কটিশ চার্চ স্কুলে ভর্তি হয়েছে। শশীকলার মতো দিনে দিনে বেড়ে উঠছে ছেলে। স্কুলে দিয়ে আসা, নিয়ে আসার কাজটা সুমনাকেই করতে হয়। সে আবার পরমানন্দবাবুর বাড়িতেই ফিরে গেছে। অলোকেন্দুবাবু মাঝে মাঝে এসে দেখে যান। তিনি চান তার ছোট মেয়ের যেন কোনরকম অসুবিধে না হয়। তার এই ঘড়ি ঘড়ি খোঁজখবর নেওয়াটা সুমনা ঠিক নিতে পারে না। কেমন একটা অস্বস্তি বোধ করে। তার মনে হয় এতে প্রতিবিম্বকে ছোট করা হচ্ছে। সে ভাবে, প্রতিবিম্বর মতো ছেলের জন্য ... ...
করোনার যুগে ঘর বন্দী অবস্থায় ফেসবুকে লিখেছিলাম। মোবাইলে খুট খুট করে। হয়তো কেউ কেউ পড়েছেন। আন্ড্রোমেডা ছায়াপথ ঘুরে এলামপ্রবীরজিৎ সরকারঘরের পাশের শিশির বিন্দু দেখা হল না। সারা বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ অদেখা রয়ে গেল। সেই আমি চললাম আমাদের এই ছায়াপথ মিল্কি ওয়ে ছাড়িয়ে পাশের আন্ড্রোমেডা ছায়া পথের একটা গ্রহে। চলে গেলাম না বলা ভাল ধরে নিয়ে গেল। ব্যাপারটা খুলে বলি।করোনার যুগে কোথাও বেড়াতে যাই না। আমার দৌড় গল্ফ গ্রিনের সেন্ট্রাল পার্ক আর আসেপাশের কয়েকটা নতুন গজিয়ে ওঠা ক্যাফে। রোজ বিকালে রোদ চলে গেলে বেরোই। কোনদিন শুধু হাঁটি। আমার আবার ওই পার্ক বেষ্টন করে দশ বিশ পাক দিতে ভালো লাগে না। অনেকেই ... ...
Number of poems- 5 Under review : Dr. Swapan Kumar Nath The Immortal Glory of the Bengali LanguageAuthor : Sankar Halder ShailbalaDate of Composition : January 1, 2025 Bengali, a language of thirty million tongues,Echoes in every corner of the world, in songs.A new chapter in civilization's story,Bengali language stands tall, with glory. From ancient times, words have flowed and grown,Born from meditation, a soulful tone.Charyapada's verses, deep in the heart,Bengali's ancient history, a work of art. Rabindranath's words, Bengali's pride,Nobel Prize, shining bright, far and wide.In the light of literature, it burns forever,Bengali language, enduring forever. In the light of education, in the ocean of ... ...
( ৩৩ ) স্নেহাংশু মিত্র, অমিতাভ সেন, সুনির্মল বরাট। অমিতাভদের লিটল ম্যাগাজিনটা বন্ধ হয়ে গেল। নৈঋত অনেকদিন চালিয়েছিল ওরা। পরের দিকে আর টানতে পারছিল না। ওদের মধ্যে সুনির্মল কবি হিসেবে বেশ নাম করেছে। দেশ পত্রিকায় তার কবিতা মাঝে মাঝেই বেরোয়। চার পাঁচটা বইও বেরিয়ে গেছে। লাইনের নিন্দুকেরা অনেকে বলে সুনির্মল কবিতা কেমন লেখে তা সবাই জানি, তবে সে যে ধামা ধরার শৈলিতে এক্সপার্ট হয়ে উঠেছে সেটা একেবারে পাক্কা। অমিতাভ লেখালেখি পুরোপুরি ... ...
কফি হাউসের আড্ডায় উনিশ শতকের নয়ের দশকে এক বন্ধু বলেছিলেন, জার্মানির কমিউনিস্ট শাসক এরিখ হোনেকার যদি জিনস পরার এত বিরোধী না হতেন ক্ষমতায় থেকে যেতেন। আজ জানলাম, বিশ্বের এক নম্বর দাবাড়ু ম্যাগনাম কার্লসেনকে নিউ ইয়র্কে বিশ্ব রাপিড ও ব্লিৎজ প্র তিযোগিতায় নবম রাউন্ডে খেলতে দেওয়া হয়নি।কেন? জিনস পরে এসেছিলেন বলে।কার্লসেন ক্ষুব্ধ। আর বিশ্ব দাবা সংস্থা ফিডে বলেছে, জিনস পরা নিয়মের মধ্যে নেই। আবার পরে এলে ২০০ ডলার জরিমানা করা হবে। জিনস তৈরিতে শুনেছি ৭০০০ থেকে ১০ হাজার লিটার জল লাগে। ... ...
ধরুন নিদিষ্ট একটা সাধারণ একক আমাদের এক ও অভিন্ন সেই চিরন্তন অবিনাশী চাঁদ যার শুক্লপক্ষ আর কৃষ্ণপক্ষ পূর্ণতা আর ক্ষয়ের দুটা দিকই আছে- এর সাথে আপনার শহর বা নাগরিক জীবন, নটিপাড়া, চায়ের দোকান আর সেই আপনার দিনের শেষ সিগারেট শলাকা। দৈনিক পত্রিকা সমেত ছোট শহরের দিকে ছোটা রাতের গাড়ি এবং আপনার মোবাইল ফোন সেগুলো আপনার সময় ও মনোযোগ কতটুকু নস্যাৎ করেছে জানি না, তবুও এসব নৈমিত্তিকতায় একদিন আমি আমার পেয়িং গেস্টটি ... ...
( ৩২ ) সাগর আর রাত্রি পরদিন সকাল নটা নাগাদ নিখিল ব্যানার্জীর বাড়ি গিয়ে খবরটা পেল। একজন গৃহ পরিচারিকা কোচিং ঘরের বাইরের বারান্দাটা ঝাট দিচ্ছিল। ' স্যার আছেন ? ' শুনে সে বলল, ' ওমা ! এত কান্ড হয়ে গেল ... আপনারা কিছু জানেন না ? ' সরস্বতী মাসি তো আকাশ থেকে পড়ল। রাত্রি আর সাগরের হৃদপিন্ডে দ্রুতগতিতে ঘা পড়তে লাগল। নির্বাক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল সরস্বতীর মুখের দিকে। সৌভাগ্যবশত সে ঘটনা পরম্পরা অসংলগ্নভাবে বর্ণনা করলেও কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের হদিশটা ঠিকঠাক দিতে পারল। রুদ্ধশ্বাস অবস্থায় প্রায় ছুটতে ছুটতে ... ...
[ ভূমিকা: সুভাষ চন্দ্র গাঙ্গুলী-র একটিমাত্র লেখা ―“পর্বতের উপরে আমারর ক্ষাকর্তা” ― বাইশে এপ্রিল ২০২৩ গুরুচন্ডালি-র “হরিদাস পাল” বিভাগে প্রকাশিত হয়েছিল। ছয়ই নভেম্বর ২০২৩ তিনি প্রয়াত হয়েছেন। প্রয়াত সুভাষ চন্দ্র গাঙ্গুলী-র অন্যান্য বাংলা লেখাগুলো তাঁর বন্ধুরা একে একে “হরিদাস পাল” বিভাগে প্রকাশ করার চেষ্টা করবেন। নিচের লেখাটি দিয়ে এই প্রকাশনা পর্ব শুরু হোলো। ] ‘উত্স মানুষ’ প্রকাশিত নিরঞ্জন ধর-এর "বিবেকানন্দ অন্য চোখে" বইতে বছরের পর বছর ধরে আমার চিঠির বিকৃত রূপ ... ...
( ৩১ ) নিখিলবাবুকে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি করারই সিদ্ধান্ত নিলেন তার বাড়ির লোকেরা। তার চোখের দৃষ্টি কাল বিকেল থেকে কেমন শূন্য ভাবলেশহীন হয়ে গেছে। কোন কথা তিনি শুনতে পাচ্ছেন বলেও মনে হয় না। আস্তে আস্তে ধরে তাকে শুইয়ে দেওয়া হল। তার চোখের পাতা বুজে এল। তিনি যেন তলিয়ে গেলেন গহন ঘুমের ঘোরে। বাড়ির ডাক্তারবাবু এসে পরীক্ষা নীরিক্ষা করে বললেন, ' সেরিব্রাল অ্যাটাক হয়েছে ... ইমিডিয়েটলি হসপিটালাইজ করুন ... '। কে একজন বললেন ... ...
ভেবলি সাগরময় মণ্ডল ১ গুরুচরন কবিরাজের ডিসপেনসারির মাটির দাওয়ায় বসে গদাই বায়েন একমনে বিড়ি টানছিল। ঘরের ভিতরে জনা দুই রুগী, কবিরাজমশায়, সহকারী বিলাস আর কবিরাজকন্যা ভেবলি। তারা রুগী আর রোগ নিয়ে কথাবার্তা বলছে। বিড়ি টানতে টানতে গদাই বায়েন হঠাৎ করে কাসতে শুরু করে। সে এমন কাসি যে থামতেই চায় না। কাসির চোটে তার মুখ-চোখ লাল হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে চোখদুটো ঠিকরে বেরিয়ে আসবে। কাশতে কাশতে গদাই মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। ব্যাপারটা ঘর থেকে দেখতে পেয়ে ভেবলি তাড়াতাড়ি ডিসপেনসারির জলের জাগটা নিয়ে গদাইএর চোখে মুখে দিতে গেলে পিছন থেকে বিলাস তাকে নিরস্ত্র করে। জলের জাগটা কেড়ে নিয়ে তাকে ধমক দেয় -- এই ভেবলি, তুই থাম। তুই ... ...