বিজেপি শেষ বেলায় দুটো জিনিস করছে। প্রথমটা হল গল্প ছড়ানো। শুরু হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গে এবার রেকর্ড ভোট পড়েছে, এই দিয়ে। তারপর শুরু হল, এর পুরোটাই প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা। সঙ্গে ছেঁটেকেটে ছড়ানো হল বায়রন বিশ্বাসের ভিডিও, যেখানে তিনি বলছেন, তিনি তো হেরেই গেছেন। এবার কান পাতলেই শুনতে পাবেন, উত্তরবঙ্গ তো বিজেপি জিতেই গেছে। এই গুল্প তৈরির গোদি মিডিয়া আর হোআ ইউনিভার্সিটিকে আমরা যারা অনুসরণ করি, তারা বিলক্ষণ জানি, এসব কিছুই না পারসেপশন তৈরির খেলা। গুজব তৈরির যে সেলগুলো গত বছর দুয়েক নান গুজব তৈরি করেছে, সবাইকে এবার একসঙ্গে নামানো হয়েছে। বস্তুত এটাই প্রমাণ করে যে, উত্তরবঙ্গটা ওরা জিতে যায়নি। বরং উল্টো। জিতে গেলে অমিত শাহ ... ...
সন্ধেবেলায় দেখা হল আবারদেখেই বললি, ‘কেমন আছিস তুই?’তোর মুখে যে শান্ত আবহাওয়া—তার ওপরেই নিছক এমনি শুই। মনে পড়ছে ১৯ সালের কথাসোম শুক্রয় দেখা একটিবার... বছর সাতেক পরে এখন ভাবি, আগের মতো আমরা নেই আর! সন্ধেগুলো কাটিয়েছিলাম চুপ... পাশেই ছিলিস, অথচ কী একা! দেখা হল আবার আমাদের– যখন আমরা সন্ধেবেলায় একা ... ...
এখন কি দারুণ ভুলে যেতে পারি আমরা।আদালতে অজস্র ঘটনার স্বাক্ষী হতে হয় আমাদের। এসব দেখতে দেখতে আমাদের ও অনুভূতি ভোতা হয়ে গেছে। এখন আর প্রথমদিকের মতো মায়া হয় না, কারণ এসবের ফলাফল হরহামেশাই দেখতে হয়। ফৌজদারি মামলার বিচারে পারিবারিক কারণে মামলার সংখ্যা ভয়াবহ প্রায়। বিদ্যমান সমাজব্যবস্থা, নারীর কথিত স্বাবলম্বী তকমা, পারিবারিক কুশিক্ষা, রুচিবোধ, শিক্ষা নামের কুশিক্ষা, নিজেকে সবার চেয়ে উন্নতর চিন্তা ভাবনা, পাশ্চাত্য সমাজের সাথে তাল মেলানো, সর্বোপরি একটা অশুভ প্রতিযোগিতাই প্রধানতম উপকরণ বলে ধরে নেয়া যায়। আর এসবের চাপ এসে পড়ে আদালতের ঘাড়ে। নীলফামারি আদালতে আমার সামনে ঘটে যাওয়া একটা সাম্প্রতিক ঘটনা কেন জানি নতুন এক অভিজ্ঞতার খোরাক হয়ে ... ...
পলিটিকাল উইসডম অব তারেক রহমান।Conciliation with America) হলো আইরিশ রাষ্ট্রনায়ক ও দার্শনিক এডমন্ড বার্ক-এর দেওয়া একটি অত্যন্ত বিখ্যাত ভাষণ। আমাদের সময়ে অনার্স এর পাঠ্যবই ছিলো। পাঠ্যবই নিয়ে আমার ব্যক্তিগত সমালোচনা অনন্তকাল থাকবে। ১৯/২০ বছরের বালক বালিকার কাছে এই গভীর দার্শনিক ভাষন তত্ত্ব বুঝার মতো মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা থাকে না। অহেতুক এসব ভার দিয়ে লেজেগোবরে শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে নতুন প্রজন্মের খুব একটা কাজে আসে না কখনো। যাইহোক সেসময় বুঝতে না পারলেও আরও অনেক দেরি করে তা বুঝতে চেষ্টা করি। ১৭৭৫ সালের ২২ মার্চ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে (House of Commons) এই ভাষণটি প্রদান করেন। ১৭৭৫ সালে ব্রিটিশ শাসনের অধীনে থাকা ১৩টি আমেরিকান উপনিবেশের সঙ্গে ... ...
১অনুমতিহাওয়া বড্ড ঝামেলা আনেকখনও সুযোগ পেলে সময়টানে—আমাকে ভাবিয়ে যায়, কোনও গোপনে...২গর্ভবতীমেঘ জানি বন্ধু প্রেমেরআজ তবু স্বাদ নেই টুকরোমনের...জানতাম হবে তুমি অন্যজনের।৩বিপরীতে ঝগড়ায় বিচ্ছেদ ভালউপায় করেছি কিছু নতুন আলো–এখন আগুন শেষ, ছাইয়েরা কালো।
যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশগুলোতে আসা অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীই মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে আসে। এটা স্পষ্ট যে, তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে একটি উন্নত জীবন নিশ্চিত করা, যাকে আমরা প্রায়ই 'আমেরিকান ড্রিম' (American Dream) বলে থাকি। তাদের মেধা বা যোগ্যতা নিয়ে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই। নিঃসন্দেহে তারা নিজ নিজ দেশের সবচেয়ে মেধাবী মানুষদের কাতারে পড়েন।কিন্তু বিষয়টি একটু ভিন্ন দিক থেকে ভাবুন। আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এত বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে এত আগ্রহী কেন? কেন তারা গবেষণা ও পড়াশোনার এই সুযোগগুলো কেবল নিজেদের নাগরিকদের জন্যই সীমাবদ্ধ রাখে না?প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিপুল সংখ্যক গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী ভর্তি করে। অনেক প্রতিষ্ঠানেই দেখা যায়, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা খোদ ... ...
প্রেম বিষয়ক ছোটখাটো রিপোর্টঅয়ন মুখোপাধ্যায় তোমার সঙ্গে দেখা হলে আজকাল খুব ভদ্র হয়ে যাই,যেন পাড়ার লাইব্রেরিতে হঠাৎ প্রধান শিক্ষক ঢুকেছেন।হাসতে গিয়েও মাপজোক করে ফেলি—কোথাও বেশি হয়ে গেলে আমার প্রেম ধরা পড়ে যেতে পারে।তুমি বলেছিলে, “চা খাবে?”আমি সেই থেকে জীবনের সমস্ত তৃষ্ণাকেএকটা কাপের মধ্যে ভরে দেখতে শিখেছি।চায়ের দোকানদারও বিষয়টা বুঝে গেছে বোধহয়।তোমার ওড়না হাওয়ায় একদিন খুব উড়েছিল,আর আমি সেদিন থেকে আবহাওয়া দফতরের উপর কোনো আস্থা রাখতে পারি না।কারণ তারা ঝড়বৃষ্টির খবর দিলেওএই ধরনের ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের কথা বলে না।তুমি কাছে এলে পৃথিবী খুব সাধারণ লাগে,আর সাধারণ বলেই তুমি এতো প্রিয় —যেন তোমাকে ভালোবেসে ফেলাই আমার জীবনের সবচাইতে স্বাভাবিক ভুল। ... ...
ভূমিকা: যখন বিদ্যালয় বন্ধ হয়, তখন উৎসব খোলা থাকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার শিক্ষা নিয়ে কথা বলতে ভালোবাসে। "মা-মাটি-মানুষ" থেকে "বাংলার গর্ব" — স্লোগানের অভাব কখনো হয়নি। কিন্তু যে রাজ্যে গত দেড় দশকে হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় চিরতরে তালাবন্দি হয়ে গেছে, যেখানে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে, এবং যেখানে ২০২৬ সালের বাজেটে সাধারণ বিদ্যালয়ের তুলনায় মাদ্রাসা খাতে অনুপাতহীন বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে — সেই রাজ্যে শিক্ষার উৎসব পালন করা অনেকটা জ্বলন্ত ঘরে আলোর উৎসব পালনের মতো। প্রশ্ন হল, এই আগুন কে লাগিয়েছে — এবং কে বাঁচিয়ে রাখছে? --- তৃণমূলের ১৫ বছর: স্কুলের দরজা বন্ধ, স্লোগানের ... ...
ছোটবেলায় ভোট দেওয়ার দিনটাকে ছুটির দিন মনে করে মজা পেতাম। এমন একটা ছুটির দিন যখন মা-বাবা দু'জনেই খানিক ব্যস্ত থাকবে আর বাড়ি থেকে বেরিয়ে অনেকটা সময় পরে ফিরবে। একা থাকতে বড় ভালো লাগত আমার। মনে হতো সময়ের দখল পেয়েছি। আমার মতো বেবাক গোবর পোরা মাথায় (আমার বাবার সংলাপ অনুযায়ী) এবং স্বপ্নে ভেসে থাকা মনে ভোট বা রাজনীতি বিষয়টা কোনো প্রভাবই ফেলতে পারত না। ধর্মঘট হলেও ছুটি, ভোট হলেও ছুটি। শেষপর্যন্ত যেটা উল্লেখযোগ্য সেটা হল ছুটি। এক ছুটি থেকে অন্য ছুটির মধ্যে মাত্র কিছু দেওয়াল লিখন হয়। দেখতাম 'অমুক ব্যক্তিকে এই চিহ্নে ভোট দিয়ে জয়ী করুন' বাক্যের উপর নিপুণ তুলির টান ... ...
নাগরিকের কাঁধে হাত যারা ফতোয়া দিচ্ছে তারা অন্ধ, আর যারা তদারকি করছে তারা জন্ম থেকেই বধির।অথচ রাজপথে পুলিশের ব্যারিকেড আর নাকা-চেকিংয়ে তিল ধারণের ঠাঁই নেই।রাষ্ট্রের চোখে আমরা সবাই সম্ভাব্য অপরাধী, পকেটে ভোটার কার্ড নিয়েও আমরা ‘পরদেশি’।কেন এই বন্দিদশা আর কার আদেশে এই অপমান—তার উত্তর কারোরই জানা নেই। ঠিক তখনই আদালত হাত রাখল আমার কাঁধে—এক নিমেষে এই আজব দেশের জাদুমন্ত্র যেন সব ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।আমি বুঝতে পারলাম, আমি মরে যাইনি, আমি কেবল ফাইলে বন্দি কোনো নম্বরও নই—আমি এ দেশের মালিক, যার নিজের চাকার ওপর নিজেরই পূর্ণ অধিকার আছে।এখন আর আমাকে ‘দেশদ্রোহী’ মনে হচ্ছে না, আয়নার সামনে আমি এখন একজন শান্ত নাগরিক। ... ...
“ডুম ডুম ডুম তাক তা ধিনা তা ধিনা তাকসোনালী জরির ঝালর নেড়ে উঠলো বেজে ঢাক।”রঙ বেরঙের শামিয়ানা ঢেকেছে গ্রীষ্মের বিধুর আকাশ,কাজের শেষে আবালবৃদ্ধবণিতা বসেছে ধুলিধূসরিত শতরঞ্চিত ওপরে।ক্লান্ত দেহে ফতুয়া কারোর, ছাপা শাড়ির আধঘোমটার আড়ালে কৌতুহলী মলিন চোখ,কেউ বা এসেছে শার্ট প্যান্টে ধোপদুরস্ত হয়ে। দিগবধূরা দিগন্ত জুড়ে শেষবেলার আবির ছড়িয়ে দিয়ে অস্তাচলে ফেরার অপেক্ষায়…সূর্যমশাইয়ের দরবার থেকে তাদের সোয়ামী সুতীব্র কিরণদল ছুটি পেলেই হলো।মিনসের আক্কেল দ্যাখো!মানুষের পালাগান শুরু হওয়া পর্যন্ত কোন্ মুখে আলোকে আকাশে থাকতে আছে?ওদের লজ্জায় বিকেলের পূর্বাচল লাল হয়ে ওঠে।এদিকে লাল-নীল লন্ঠনের আলোয় বাঁশের মাচায় একে একে এসে দাঁড়িয়েছেরাজপুত্র, সেপাই, ঘোড়ারাজকন্যা সোনায় মোড়া।খোলের গাবকানিতে চাঁটি পড়ে আবার,“ফাগ-চত্তিরে বউল এলো মধুক্ষরা আমে পুতুলগুনো ... ...
আবাপ থেকে তথ্য নিয়ে ভাটিয়ালিতে লেখার পরে এখানে সেখানে চোখে পড়ছিল তথ্যের তফাত। দেখলাম, ডেরেক ও ব্রায়েন কিছু সংখ্যা দিয়েছে, এনডিটিভির একট লেখায় কিছু দেখলাম, এগুলোর মধ্যে মিলের অভাব চোখে পড়ছিল। ইলেকশন কমিশনের পুরোন ওয়েবসাইটে ২০২১ এর ডেটা পাওয়া যায়, নামিয়ে ১৫২ টা সীটের তথ্য যা দেখলাম ও যা মনে হলঃ ১। ঐ ১৫২ টা সীটে ২০২১ সালে সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ছিলঃ ৩,৭৮, ৫০, ৪৯৫ ২। ঐ ১৫২ টা সীটে ২০২১ সালে সর্বমোট ভোট পড়েছিলঃ ৩,১৫,২৯, ৪৪৪ ৩। ভোট শতাংশঃ ৮৩% ৪। এবারে কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সর্বমোট ভোটার সংখ্যা : ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৫। মোটামুটি ৯৩% ভোট পড়লে, সর্বমোট ভোট পড়েছে, এইবারেঃ ৩,৩৪,৮০,০০০ অর্থাৎ, এবারে ১৮ লক্ষ কম ভোটার কিন্তু গতবারের তুলনায় ... ...
তর্ক/বাদ/বিতণ্ডা বাংলার নিজের সম্পত্তি নিয়ে আলোচনায় প্রথমেই উঠে আসে যে তিনটি বিষয়ের নাম,তারা হল: হিমসাগর আম, কীর্তন আর নব্য ন্যায়। হিমসাগর আম নিয়ে আর নতুন করে কী বা বলি? কীর্তন কী? সে হল নাড়ীর গভীর থেকে উঠে আসা হাহাকার : রাধে... এ.! সে বুঝি মানব জনমের সেই সার্থক অনুভূতি যেখানে সব খুইয়ে সব পেয়েছির অভিযান! বাকি রইল নব্য ন্যায়। সে কী দিলে আমাদের? সে দিলে প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে চিন্তা ভাবনার বাস্তব তলোয়ার! সে তলোয়ারের সাথে প্রাচীন ন্যায় আমাদের চেনা করিয়ে দিলেও নব্য ন্যায় তাতে শান দিয়ে দিয়ে কোন কাজে কোনটি কেমন ভাবে ব্যবহার করব সেটি হাতে কলমে শিখিয়ে ছেড়েছে! প্রয়োজনমাফিক আসে ... ...
ভোটের 'লাইফ সার্টিফিকেট': শতাংশের সার্কাস আর অস্তিত্বের লড়াই গবেষক থেকে শুরু করে পাড়ার মোড়ের জিতেন কাকা—সবাই এখন ক্যালকুলেটর নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। এবারের ভোটের এই ৯২ শতাংশের গগনচুম্বী ফিগার দেখে মনে হচ্ছে, বাংলা যেন একটা পেল্লায় সাইজের অংকের ল্যাবরেটরিতে পরিণত হয়েছে। সোজা কথায় বললে, রাষ্ট্র যখন ডাস্টার দিয়ে ভোটার তালিকার ‘হর’ কমিয়ে ছোট করে দিল, তখন লাইনে চারটে লোক বাড়লেও ‘লব’ এমন লাফ মারল যে স্বয়ং আর্যভট্টও দ্বিতীয়বার জিরো আবিষ্কারের নেশায় বুঁদ হতেন। কিন্তু এই সংখ্যার ভেল্কির আড়ালে উঁকি দিলে দেখা যায় এক অদ্ভুত মনের লড়াই—যার পোশাকি নাম ‘বিস্মৃতির ভয়’। সবচেয়ে করুণ অথচ কড়া দৃশ্যটা দেখা ... ...
পারমিতানিছক দুর্বলতায় চোখের উপর ভালোবাসা কালশিটে হয়ে যায় জানলায় দাঁড়িয়ে দূরের দৃষ্টিতে পারমিতা- পারমিতার ডানাগুলি এখন সাদা কালো তথ্যচিত্রপারমিতার শাড়ির আঁচলে মৃত পায়রা পারমিতার কবিতাগুলি এখন শুধুই পারমিতা- বৃষ্টি পড়লেই ছাতার ভিতরে হুস্ বাইরে তরুণ বৃষ্টি- ভিজে যাচ্ছে শহরের সব কৃষ্ণচূড়া- ঘরে আদুল ঋতুর শুকনো আবহাওয়া বৃষ্টি নেই, রোদ নেই, মেঘও ঢোকে নাশুধু পুরনো পালঙ্ক দোলে শরীরের ভারে- সেও যেন হৃদয়ের লাব-ডুব সঞ্চালনাএরপর একটা চূড়ান্ত বাঁকে গল্প বদলে না দিলে, পারমিতার চোখের ভিতরে স্থবির পারমিতা ... ...
মুষ্টিমেয় বাঙালি এখন আর চায়ের দোকানে তুফান তোলে না। তারা এখন ফেসবুকের পাতায় ভবিষ্যদ্বাণী বিলায়। কারোর দাবি দুইশ ত্রিশ আসন, কারোর দাবি তেষট্টি। সঙ্গে অমোঘ নির্দেশ—"স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন"। যেন ভোট গণনার দিন গণৎকারের ভবিষ্যৎবাণী না মিললে ওই স্ক্রিনশট দেখিয়ে পাড়ার রেশনে দু-কিলো চাল বেশি পাওয়া যাবে। অথচ প্রোফাইল নামের বানান ভুল। 'হার্টথ্রব হারু' লিখতে গিয়ে যে থ্রম্বোসিসে হারুর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলে, তার কাছে রাষ্ট্রনীতির জটিল সমীকরণ আশা করা আর ডোডো পাখির কাছে ওড়ার কায়দা শেখা একই কথা। এই 'স্ক্রিনশট' সংস্কৃতি আসলে আমাদের এক অদ্ভুত নিরাপত্তাহীনতার বহিঃপ্রকাশ। আমরা বিশ্বাস করি, ডিজিটাল দলিলে যদি একবার লিখে রাখা যায় যে অমুক পক্ষ জয়ী ... ...
পাখি যেন কীভাবে আটকে পড়েছে শহরের চৌরাস্তায়। এইখানে উঁচু উঁচু লোহার থাম, তাতে ইলেকট্রিকের তারের কুন্ডলি, নির্বিষ সাপের মতো ঝুলে আছে। একটার সাথে আর একটা, তার সাথে আর একটা, আরো অনেক, অনেক তার, কেউ পাশপাশি চলতে চেয়ে, কেউ অপরকে বাধা দিতে চেয়ে, কেউ আগে, কেউ পরে যেতে চেয়ে, শেষে জড়িয়ে মড়িয়ে মৃত বটগাছের ঝুরির মতো আক্ষেপে জট পাকিয়েছে দূর থেকে বোঝা যায় না তাদের ভিতর থেকে বয়ে যায় কোন তড়িৎ প্রবাহ। বোঝা যায় না এরা যে কোন সময়ে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে গোটা শহর জুড়ে টানানো সব নিশান পুড়িয়ে দিতে পারে, সেইখানে, আকাশ হারানো ফিঙে খানিক লাফিয়ে, খানিক উড়ে, ... ...
সরি বলো ট্রাম্প। সিলসিয়া। খুব করে ভাবতে গিয়ে তোমার মুখচ্ছবিতে হঠাৎ করে ট্রাম্পের ছবি টা ভেসে উঠে। ওহ তাইতো। প্রচন্ড প্রতাপশালী, কিছু বললেই যে হিরোশিমা নাগাসাকির ছবি আরেকবার স্বরন করিয়ে দেয়। যে আমার সাথে লাগাতে আসে তাকে জ্যন্ত সমাহিত করার মানুষ আমি। কিচ্ছু রাখবো না, কিচ্ছু না, আর একটা কি যেন প্রাচীন যুগের কথা বলে? ওম। না মনে করতে পারছি না। ইদানীং স্বরন শক্তি নিম্নগামী হয়েছে বেশ। ওহ প্রস্তর যুগ। যাইহোক দেরি করে ও মনে হলো। তাবত ব্রিজ আর তেল শোধনাগারগুলো মাটিতে মিশে দেব। কি যে দম্ভকারী মানুষ। আরজিআর সি চুপ। তারা জানে যতটা গর্জে ততটা বরষে না। সকালে যা বলে, ... ...
( ২০ ) অনুমিত রেপিডোর বাইকটা বাতিল করল। হাঁটতে লাগল দেশপ্রিয় পার্কের দিকে। ওখানে সঞ্জীব খান্না থাকে। তার বাবার রিয়েল এস্টেটের বিজনেস। ছেলেও ব্যবসা ধরে নিয়েছে। কসবার দিকে বড় কাজ চলছে সঞ্জীবের। চল্লিশ কোটি টাকার টার্নওভার। আরও বাড়তে পারে। অনুমিত জানে সঞ্জীব তার মতো দশটা জজের ছেলেকে কিনতে পারে। কিন্তু তার স্বভাব অতি ধীর স্থির অহমিকাশূন্য এবং আন্তরিকভাবে বন্ধুবৎসল। তার ওপর অনেকের রাগ থাকলেও, তার কিন্তু কারও ওপর রাগ ... ...
গ্ৰীষ্মের দাবদাহে তুমি কাতর নও-বিরল তোমার অবিচল সংকল্প;যেকোনো মূল্যে অভীষ্ট কেই পেতে চাও-ছয় ঋতুরই মেয়াদ-কাল যে অল্প।কখনো আকাশে সূর্য দারুণ প্রখর-কখনো সেই সোনার আভা মেঘে ঢাকা!পৃথিবীর সব লাবন্য নয় অমর!শোভাহীন করে কালের রথের চাকা।সিন্দুকে স্মৃতি তারার মত অগনন।কেউ তোমাকে মলিন করতে পারে না।রঙিন সেই প্রথম কথোপকথন -আমার লেখায় অমর সেই বর্ননা।এই পৃথিবীর যা কিছু সব নশ্বর;প্রেম ছাড়া আর মানি না কোনো ... ...