কয়েক বছর আগের ঘটনা। আমি তখন প্রতিলিপিতে নিয়মিত ছিলাম। অনেক লেখকদের সাথে জানাশোনার সুযোগ ঘটে যারা সিংহভাগই ভারতীয় বিভিন্ন প্রদেশের মানুষ। মাঝে মাঝে টপিক নিয়ে আলোচনা হতো, যুক্তি হতো, তর্ক হতো। সেই লেবেলের আলোচনা সমালোচনা। যদি ও আমি ছিলাম সবচেয়ে নবীন আর অজ্ঞ। কিন্তু সবার স্নেহময় হয়ে উঠে পড়ি দ্রুত। রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে আমি কোন এক লেখকের পোস্টে রবীন্দ্রনাথের ভারত ভাগ নিয়ে খোঁচা দেই। তারপর যা দেখলাম সেটা আমার জানার বাহিরে ছিলো এতকাল। মুহুর্তের মধ্যে আরো কয়েকজন ঝাপিয়ে পড়ে আমার উপর। তারপর তীর্যক আলোচনা চলে রবীন্দ্রনাথের উপরে। ভারতীয় বাঙ্গালীদের মনে প্রানে রবীন্দ্রনাথের যে স্থান তা তাদের সাথে আলোচনা না করলে জানা ... ...
জর্জ অরওয়েলের 1984 উপন্যাসটা যারা পড়েছেন তাদের নিশ্চয়ই জানা আছে ওই উপন্যাসে এমানুয়েল গোল্ডস্টেইন নামে একটা রহস্যময় চরিত্র আছে। .ওই বইয়ে অরওয়েল দেখিয়েছেন কিভাবে একটা টোটালিটারিয়ান রাষ্ট্র টিকে থাকতে হলে, একটা ছদ্ম শত্রুর ( Shadow Enemy ) উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরী। গোল্ডস্টেইন হচ্ছে অরওয়েলের সেই ছদ্ম শত্রু।.টোটালিটারিয়ান রাষ্ট্রের যাবতীয় ব্যর্থতার দায়ভার কৌশলে ঐ ছদ্ম শত্রুর উপর চাপানো হয়ে থাকে। যার ফলে রাষ্ট্রযন্ত্র নিরাপদ থাকে এবং জনগণের উপর আরো অধিক নিয়ন্ত্রণ লাভ করে।.জনগণের উপর যত বেশি নিয়ন্ত্রণ টোটালিটারিয়ান রাষ্ট্র তত নিরাপদ। উপন্যাসের একদম শেষে এসে নায়ক জানতে পারে ওই ছদ্ম শত্রু আর কিছুই না। বরং হেড অফ স্টেট সিকিউরিটির একটা ফেক আইডি মাত্র।.আজ ... ...
গল্প চকের ধুলোয় নীরব বিপ্লবলেখক : শংকর হালদার শৈলবালা রচনাকাল : ১১ মে, ২০২৬ কলকাতা শহরের এক জীর্ণ বস্তির শেষ প্রান্তে ছোট একটি ঘর। স্যাঁতসেঁতে দেওয়ালের চারপাশ জুড়ে কেবল বই আর খাতার স্তূপ। ঘরের ভেতর এক চিলতে হলুদ আলোয় বসে আছেন বৃদ্ধ শিক্ষক “সরোজ ভট্টাচার্য”। হুগলী জেলার আরামবাগ মহকুমার আরান্ডি গ্রাম থেকে আসা সেই জেদি তরুণটি আজ সত্তরোর্ধ্ব এক অভিজ্ঞ মানুষ। আশুতোষ কলেজের স্নাতক সরোজবাবু গত পঞ্চাশ বছর ধরে এই বস্তির নিরক্ষর অন্ধকারের মাঝে জ্বালিয়ে রেখেছেন শিক্ষার প্রদীপ। বিগত কয়েক দশকে বাংলার রাজনীতিতে অনেক বসন্ত এসেছে এবং গেছে। কিন্তু সরোজবাবুর মতো প্রশিক্ষিত ও যোগ্য শিক্ষকদের ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি। পিটিটিআই (PTTI) ট্রেনিং থাকা সত্ত্বেও বিগত ... ...
তরুণ কবি কোন দলে যোগ দেবে?—ভেবে জানাও আমায় তাড়াতাড়ি...তোমার লেখা যতই হোক না প্রেমের, সম্পাদকের দপ্তরও আজ বিলীন! যা লিখেছ, সেসব সর্বনাশী...শাসক যেমন বলছে তেমন লেখো–আবার যদি হঠাৎ হও স্বাধীন,তোমায় ক্ষমা করবে না কোনও দোষমৃত্যু দিয়ে ভয় দেখানো সহজজীবন নিয়ে লিখতে চাওয়াই কঠিনযখন ফিরে আসবে শিল্প রোজ,তখন তুমি কোন দলের কবি? ... ...
মা হওয়ার নাকি শত জালা, ছোটবেলা থেকে এই প্রবাদ টি শুনে আসছি, কথাটির অর্থ মা হওয়ার আগে কখনো তলিয়ে ভাবতাম না.. আজ মাতৃদিবস, সবাই সব জায়গায় মায়ের ছবি পোস্ট করছে, আমাদের ছোটবেলায় অবশ্য সে বালাই ছিল না, আমার মতে সব দিনই মায়ের জন্য তুলে রেখে দেওয়া উচিত, তবু সবাই মিলে যখন এই দিনটি বেছে নিয়েছে ছোটবেলার কিছু কথা আপনাদের বলি Iআমি তখন কথক নাচের তালিম নিই নাচের স্কুলটা ছিল আমাদের বাড়ি থেকে একটু দূরে অন্য্ পাড়ায়, ক্লাস শেষ হতে হতে রাত ৮ টা ৮:৩০ টা হয়ে যেত, মনে আছে সেই সময়টা আমাদের শহরে সন্ধ্যের পর থেকে বোমাবাজি লেগেই থাকতো, এক ... ...
( ২২ ) চাক বাঁধা ভিড় আস্তে আস্তে ছড়িয়ে আলগা হয়ে যাচ্ছে। সুধন্যবাবু একটা রিক্শায় চেপে বাসস্ট্যান্ডের দিকে রওয়ানা দিলেন। রিক্শায় বসে বিজয়কে বললেন, ' আসলাম। সুভাষদাকে আমার কথা বোল। ইলেকশানের দুদিন একটু নজরে রেখ সবকিছু। আর তো টাইম নেই হাতে ...' ছড়িয়ে ছিটিয়ে এখনও কিছু লোক দাঁড়িয়ে আছে। ক'জনে মিলে এখনও বেশ নিষ্ঠার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে এখানে ... ...
আমার এক বন্ধু ছিল। অমলকান্তি। এ অমলকান্তি কিন্তু কবির সেই অমলকান্তি নয়। ও খুবই সাধারণ ছিল। ঐ অমলকান্তির মত ও কখনও রোদ্দুর হতে চায়নি। আমার বন্ধু অমলকান্তি, রবি ঠাকুরের কবিতা আবৃত্তি করত। নিজেও কবিতা লিখত। নাটকে অভিনয় করত। বাঁশি বাজাতো। অমলকান্তি ছিল আধা গ্রাম আধা শহর মফঃস্বলের এক সরল সাদাসিধে ছেলে। বড় শহরের ইট কাঠ পাথরের ঝনঝনানি ওর সহ্য হত না। ও ভালোবাসত পাহাড়, জঙ্গল, নদীনালা, দিঘি.. এইসব। পড়াশোনার কচকচানিও অমলকান্তির পছন্দ ছিল না। স্কুলে ক্লাস চলার সময় ও জানলা দিয়ে বাইরে অন্যমনস্কভাবে তাকিয়ে থাকত। আমাদের স্কুলের পাশে দিগন্ত বিস্তৃত একটি সবুজ মাঠ ছিল। সেই মাঠে গরু চরত। অমলকান্তি পড়া ... ...
মঞ্চ থেকেই প্রতিশ্রুতি আসেউড়তে উড়তে পাখিরা থমকায়ভক্তেরাও সবাই দলদাসের মোহগ্রস্ত গেরুয়া টোটকায়ক্ষমতাদখল মিনিট দু’য়ের ব্যাপারহিংস্র হ’তে এক সেকেন্ড লাগেজয় শ্রীরাম না বললে এবার–তৃণমূলের দালাল ভাববে লোকেহয়তো তোমায় জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেবে,যদি মুখে জয় শ্রীরাম না বলো...তাই এখনই ব’লে রাখছি আগে—সময় থাকতে হিন্দু হ’তে পারো
হিংসা বনাম শ্রী রামের অহিংস ধর্মতত্ত্ব।বিধানসভার নির্বাচনের মেহেদীর রঙ এখনো উঠেনি। কোথাও কোথাও শপথের প্রস্তুতি চলছে। যে কয়টি রাজ্যে নির্বাচন হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার ঝড় বইছে কোলকাতায়। স্বভাবতই তাই হওয়ার কথা। কখনো পশ্চিমবাংলায় সবচেয়ে ধর্মীয় উগ্রবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি শাসন করতে পারবে তা হয়তো বহুকাল সেখানকার মানুষ কল্পনায় আনেনি। কিন্তু কোন ক্ষমতাই চিরন্তন নয়। বামদের দীর্ঘ শাসন মানুষ দেখেছে। একটা সময়ে মানুষ মুক্তি চেয়েছিলেন তাদের হাত থেকে। পরবর্তীতে তাই হয়েছে। সহনশীল বামফ্রন্টের মতো একই সমীকরণ নিয়ে ক্ষমতায় আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পনের বছর পরে ভোটের হার নিয়ে সরে পড়ে গেছে। রাজনৈতিক এই উত্থান পতন স্বাভাবিক ব্যাপার মাত্র। ভোটারের ... ...
একদা 'দোলান পাম্প' নামে পৃথিবীতে এক স্বৈরাচারী শাসক ছিল। এক নম্বরের হারামজাদা লোক। এই একে বোম মারছে তো সেই তাকে মিসাইল ঝাড়ছে। আজ কাউকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে তো কাল আবার কারুর বাড়ির সামনে নর্দমা জ্যাম করিয়ে দিচ্ছে। লোকের বাড়ির চাল-ডাল-তেল চুরি থেকে গলির মুখে মাসমাইনে করা মস্তান দাঁড় করিয়ে রেখে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া, কোনওকিছুতেই সে পিছপা ছিল না। এমনকি মহিলাদের ব্যপারেও দোলান বাবু আর তাঁর সাঙ্গপাঙ্গদের বেশ বদনাম শোনা যেত। এককথায় বলতে গেলে খুব খারাপ লোক বলতে যা বোঝায় পাম্পসাহেব ছিলেন এক্কেবারে সেরকম।উল্টোদিকে ছিল একদল ... ...
রবীন্দ্র জয়ন্তী সেদিনের আকাশও ছিল কালো মেঘে ঢাকাবৈশাখ মাসে নেমেছিল ঝিরঝির বৃষ্টি একটা দোতলা বাড়ির একতলা থেকে ভেসে আসছিল শোরগোল, হাসি, গান আর গানের তালে তালে পা ফেলার শব্দ.. কাল রবীন্দ্রজয়ন্তী সেই উপলক্ষে মহড়া বসেছে আজ শোরগোল একটু বাড়তেই দোতলা থেকে নিচে নেমে এলেন তরুণ অধ্যাপক গম্ভীর গলা, ভারী পায়ের আওয়াজ lএই দলের সবচেয়ে ছোট যে মেয়েটি নাচছে, তার বাবা মেয়েটি যতো না নাচছিল হাসছিল আরও বেশি তার ভাগে পড়েছে “মেঘের কোলে রোদ হেসেছে বাদল গেছে টুটি “এই নাচটি করার.. অধ্যাপক মেয়ের মাথায় হাত রেখে অসীম স্নেহে বললেন, “তোমায় হাসতে হবে ওপরের দিকে তাকিয়ে, মেঘের দিকে চেয়ে, তাহলে তোমার হাসিতে বাদল যাবে কেটে l”অধ্যাপক আবৃত্তি করলেন প্রথম দুটি লাইন মেয়ের কাছে মেয়েটি জানলো না.. কোন ... ...
কালকে যারা সুরক্ষিত ছিলামআজকে তাদের বিপদ আসছে ফিরেউপহারের তেমন আর কী দাম?মানুষ নিজের মাংস খেতে পারেএখন মানুষ ধর্ষণের জনকমিডিয়া সেটা ভাল মতোই জানেতবু বলব মানুষের জয় হোকমানুষ হওয়ার লজ্জা হয় গোপনেতাও ইদানীং অন্ধকার ঘরেজ্বালিয়ে রাখছি একটা মোমবাতি—আগামীকাল থাকবে হেডলাইনেহিন্দু সাজা কিছু মৌলবাদী...
কলকাতার উপকণ্ঠে রাত নামলে একটা অদ্ভুত শব্দ শোনা যায়। সেটা কুকুরের ডাক নয়, ট্রেনের হুইসেলও নয়। সেটা আসলে ক্ষমতার সাইলেন্সার-লাগানো হাঁপানি। বহু বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এমন এক চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে পোস্টারগুলো গণতন্ত্রের কথা বলে, আর গলিগুলো ফিসফিসিয়ে বলে, “মুখটা বন্ধ রাখ, না হলে বন্ধ করে দেব।” এই রাজ্যে বিরোধী রাজনীতি করা এখন অনেকটা পুরনো ফ্রিজে আইসক্রিম রাখার মতো। বাইরে থেকে ঠান্ডা দেখায়, ভিতরে সব গলে যাচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে মধ্যমগ্রামে গুলি করে খুন করা হয়েছে। বাইকে আসা দুষ্কৃতীরা গাড়ি আটকে পরপর গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে রক্ত, ভাঙা কাচ, কার্তুজ, আর যথারীতি “তদন্ত চলছে” নামক ভারতীয় গণতন্ত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় লোরি। কিন্তু ... ...
২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর আমেরিকার কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের নিউটাউন শহরে অবস্থিত স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে এক ভয়াবহ বন্দুকধারী হামলার ঘটনা ঘটে। এটি মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক শিক্ষা প্রাতিষ্ঠানিক ট্র্যাজেডি। হামলাকারী ২০ বছর বয়সী এডাম ল্যান্জা নামে এক শ্বেতাঙ্গ ক্রিশ্চিয়ান যুবক প্রথমে নিজ বাড়িতে তার মাকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর সে তার মায়ের আইনসম্মতভাবে কেনা রাইফেল ও পিস্তল নিয়ে স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে যায়। হামলাকারী স্কুলের সামনের কাঁচের দরজা গুলি করে ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তখন বেশ কড়াকড়ি ছিল, কিন্তু সে গায়ের জোরে ভেতরে ঢোকে। সে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা এবং স্কুল সাইকোলজিস্টকে প্রথমে গুলি করে, যারা গুলির শব্দ শুনে বারান্দায় বেরিয়ে ... ...
আমরা সবাই অহংকারের পথিকদু’চোখ দিয়ে আস্ফালন ওড়াইবদলে গেছে আবহাওয়ার গতিতোমায় এখন পাত্তা দেব থোড়াইআমরা সবাই ধ্বংস চেয়ে হাসিনিতেও জানি প্রথম সারির দখলমাঝেমধ্যে জীবন কী সাংঘাতিকঅভিধানেও মনুষ্যত্ব নকলআমরা সবাই মিথ্যে অনুরাগীনতুন কোনও মুখোশ পেলেই খুশিঅন্যভাবে চলছে ভিতর-বাহিরএক নিমেষে অতীত ভুলে আসিআমরা সবাই অপরাধের বাহকহিংসাপ্রিয় গেরুয়া এই আবিররাজনীতি আজ কোথায় যাচ্ছে ভাবোধর্মটাই ভোটকে কেনার চাবিআমরা যারা ফুল কুড়োতাম ভোরে—এখন তারা শিখব খুনোখুনি... মরব আমরা আর কিছুদিন পরেই, দূরের থেকে শত্রুদল গুনি ... ...
( ২১ ) বিজয় দুপুরবেলায় বাড়ির সামনের বারান্দায় বসে ছিল। এখন দুপুর দুটো। বাইরে গনগনে রোদ। বিজয়ের বেরনোর দরকার আছে। ভাবছে রোদটা একটু পড়লে বেরবে। ওর মনে একটা গভীর আক্ষেপ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের প্রচার সব জায়গায় জোরদার হচ্ছে। কিন্তু এখানে প্রচারের ঢেউ তেমনভাবে উঠল না। এ দিকটায় বোধহয় নির্বাচনী সম্ভাবনা তেমন কিছু নেই। নিষ্ফলা জমিতে কষ্ট করে বীজ ছড়িয়ে লাভ কী? বিজয়ের মত হল কঠিন লড়াই ... ...
সারা বিশ্বেই এই ইতিহাস পড়ানো হয় যে, ক্রিস্টোফার কলম্বাস প্রথম আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন। কিন্তু জানেন কি, ভাইকিংরা কলম্বাসের প্রায় ৫০০ বছর আগে, অর্থাৎ ১০০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে উত্তর আমেরিকার মাটিতে পা রেখেছিল। এই অভিযানের মূল নায়ক ছিলেন লিফ এরিকসন (Leif Erikson)। তারা মূলত আইসল্যান্ড এবং গ্রিনল্যান্ড থেকে যাত্রা শুরু করে বর্তমান কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে পৌঁছেছিল।ভাইকিংদের এই সফলতার পেছনে প্রধান কারণ উন্নত জাহাজ নির্মাণ শৈলী। ভাইকিংদের বিখ্যাত 'লংশিপ' (Longships) ছিল অত্যন্ত মজবুত এবং সমুদ্রজয়ী। এই জাহাজগুলো আটলান্টিকের উত্তাল ঢেউ সহ্য করতে পারত এবং এদের ড্রাফট (তলার গভীরতা) কম হওয়ায় এগুলো সমুদ্র থেকে সরাসরি অগভীর তীরের খুব কাছাকাছি পৌঁছাতে পারতো।ভাইকিংরা সরাসরি বিশাল মহাসমুদ্র পাড়ি দেয়নি। ... ...
“De omnibus dubitandum”, অর্থাৎ “doubt everything”, সবকিছুকেই সন্দেহের চোখে দেখতে হবে। তাঁর প্রিয় আদর্শ ছিলো দেকার্তের সন্দেহবাদ। আজ থেকে একশো বছরের-ও বেশী আগে তিনি শিখিয়েছিলেন, সমাজে ‘নারীর মর্যাদা কতখানি সেইটিই মাপকাঠি সমাজ কতখানি এগিয়েছে তা বোঝার’। এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে তিনি বিশ্বাস করতেন আমাদের সমাজব্যবস্থা এমন-ই ঘুণধরা যাতে একজন লোক স্রেফ আরেকজনকে খাটিয়ে সবটুকু মুনাফা শুষে নিতে পারে, আর সেই চক্রটিকে চালু রাখার জন্য মাঝে মাঝে দরকার হয় যুদ্ধের, দরকার হয় বেকারিত্ব, কর্মহীনতার সঙ্কট। তবুও তার মধ্যে কী করে যেন আশাবাদ ছিলো ধ্বংসস্তূপে চারার মতো, তিনিই ভাবতে পেরেছিলেন, ‘শিশুরাই পারবে তাদের বাপমাকে মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে’।সভ্যতার যে ইতিহাস পাণ্ডিত্যের চাপে ... ...
বাঙালি লেখক সংসদ : এক সৃজনশীল পথচলার ইতিবৃত্ত কলমে : বিষ্ণুপদ ভৌমিক ( বাঙালি লেখক সংসদ : সহ সম্পাদক) ◆ ভূমিকা : বাংলা সাহিত্যের অবিনাশী যাত্রায় শব্দ ও ছন্দের আলপনায় এক অনন্য মাইলফলক হলো ‘কবিকণ্ঠ’। শংকর হালদার শৈলবালা-এর সূক্ষ্ম পর্যালোচনা ও সুযোগ্য সম্পাদনায় এই সংকলনটি আজ নবম ভাগে পদার্পণ করল। ‘বাঙালি লেখক সংসদ’-এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০২০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই সাহিত্যিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আমরা আজ এক গর্বিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সাহিত্যের বাতিঘর 'বাঙালি লেখক সংসদ' সৃষ্টিশীলতা যেখানে প্রাণের স্পন্দন এবং শব্দ যেখানে অজেয় শক্তি, সেখানেই জন্ম নেয় নতুন কোনো ইতিবৃত্ত। বাংলা সাহিত্যের সেই শাশ্বত উত্তরাধিকারকে সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে ... ...
আমি এখন রক্ত চাই। আমি আগুনের মেয়ে, কিন্তু আগুন নিভে গেছে। নিভিয়েছে তারা, যারা বলে ‘ধর্ম’, ‘ন্যায়’, ‘কর্তব্য’। আমি সেই শব্দগুলো চিবিয়ে খেয়েছি, গিলেছি, বমি করেছি, আবার খেয়েছি, এখন আমি শুধু রক্ত চাই, গরম, সজীব, ধমকানো রক্ত, যা আমার ঠোঁটে লেগে আমাকে জাগায়, আমাকে বলে, “তুই আর রাজ্ঞী নই, তুই শিকারিনী, তুই রাতের বাঘিনী, তুই শূন্যতার দেবী, যার পূজা হয় মৃতদেহের ওপর, যার মন্ত্র হয় আর্তনাদ, যার প্রসাদ হয় মাংস।”সে মরে গেছে। আমি দেখেছি। আমি দাঁড়িয়েছিলাম রথের উপরে, দূর থেকে, আমার চোখে ধুলো, আমার মুখে রক্তের গন্ধ, আমার কানে তার শেষ নিঃশ্বাসের শব্দ – একটি ক্ষীণ “হা”, যেন সে বলতে ... ...