হেরে গেছো তুমি–অথচ তোমার স্নায়ু শান্ত মরুভূমি। রাত নেমে আসে। বাবার অফিস ছুটি। সন্ধেবেলা তাড়াতাড়িবৃষ্টি নেমে আসে। আমার সহজমা—সকালে কলেজে যায়, রাত্রে বাবাকে ভালবাসে। এইভাবে দিন হ’য়ে আসে। চারচাকা ক’রে বাবা, দূরেচ’লে যায়। মাও হাসে। কলেজে যাওয়ার আগে, মা আমায় ব’লে যায়— ‘সুতপা মুছবে ঘর। বিন্তি তোমাকেখেতে দেবে।’
(গুরুর প্রথম দিকে আমরা যারা নাইভ লিখিয়ের দল ছিলাম তাদের বেশীরভাগ লেখার বিষয়ের আধার হত সোজাসাপটা স্মৃতিচারণা, ফিরে দেখা সময়। অবশ্য তার জন্যে সমালোচনাও ভালোই শুনতে হত, জ্ঞানী তাত্ত্বিক লোকেরা সময়ে সময়ে এই নিয়ে বেশ নাক টাক কুঁচকে থাকতেন, কিন্তু নবীন উৎসাহীদের দমানো যেত না। টইয়ের পাতা ভরে ভরে আমরা খেয়াল খুশীর আঁচড় কেটে যেতাম মনের আনন্দে। তারপরে সময়ের সাথে সাথে আস্তে আস্তে অভিজ্ঞ নামী লিখিয়েদের ভিড় বাড়তে থাকল, সেসব দেখে শুনে মরা মরা শুনতে শুনতে আমাদেরও রামোদয় হল, নিজের পুরনো লেখা পড়ে মনে হল, নাঃ সত্যিই বড় কাঁচা কাজ হয়ে গেছে, এভাবে পাতা না ভরলেই ... ...
এদেশে মানুষ যেভাবে বেঁচে আছে, সেটা যে সম্মানজনক নয়, এ কথা সবাই মোটামুটি জানে। মধ্যবিত্তের অবশ্য সে নিয়ে বিশেষ মাথাব্যথা নেই, কীভাবে বাঁচবে ইত্যাদি সেই নিয়ে ভাবার কোনো ইচ্ছে অথবা চেষ্টাও তার নেই, সে শুধু উল্লাস করতে জানে অপরের দুঃসহ জীবনের দিকে তাকিয়ে। হকার উচ্ছেদ দেখলে তার উল্লাস হয়, রাষ্ট্র একবারে মুখ দেখা যাবার মতন চকচকে রেল স্টেশন বানিয়ে তাকে আদর করে ডেকে দেখাবে, এই সমস্ত সুস্বপ্ন দেখতে দেখতে সে ঘুমোতে যায়। সরকার উল্টে গেলে সে ভাবে এই বুঝি বিপ্লব, আর গরম বাড়লে ভাবে এসি কিনলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। সরকার যে মহিলাদের ঘাড় ধরে দেখিয়ে দিচ্ছে তারা তথাকথিত গৃহকর্তার ... ...
১চলো সন্তাপ ঘুরে আসি। চলো... আমার বাবার চাকরি, আমার মায়ের চাকরি আর আমার চাকরি মাথায় নিয়ে চলো শহর থেকে গ্রাম, দার্জিলিং থেকে পুরী.... আর মাঝখানে বাবা মা আর আমাকে রেখে যাও প্রজ্ঞার সামনে। প্রজ্ঞাকে আমি ভালবাসি না। কিন্তু প্রজ্ঞা আমাকে ভালবাসে। এটা কোনওভাবে হোক প্রজ্ঞা, মা আর বাবাকে বোঝাতেই হবে। যদি খুব এলোমেলো বাজেগন্ধে কথা বলি, তো মার্জনাফার্জনা কোরো, কেমন? ২তারপর রাজপুত্তুর গেল কন্ডোম কিনতে। ততক্ষণে আমি চান সেরে বেরিয়ে কাকের আওয়াজ শুনছি। যাচ্চলে! কাকের ডাক... যাইহোক! যে বৌদিরা দুপুরে একা একা শুয়ে থাকে..... না, শোয় না। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে... তাদেরকে আদর ক’রে আসি— আমাদের এই ছ’তলার ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে। এরইমধ্যে অ্যাম্বুলেন্স চলে এসেছে। পুলিশের ঝাঁক দিশাহারা ... ...
মিশেছে মেঘে মেঘে আহত ঘোড়ারা... বাতিল বিচ্ছেদে, যৌনপরিধান! সেজেছে জলদোষ, কপালে বৈভব–বাতিল বিচ্ছেদে, লাজুক কৌরব। তবুও চোরাপথে রিকশা হৃদিবাঁক—বাতিল বিচ্ছেদে, ইশারা ছোঁবে হাত। মিশেছে মেঘে মেঘে আহত ঘোড়ারা... তোমাকে উপহারে, জাহাজ তোলা থাক।
শুনেছি মানুষ আকাশের চেয়ে বড়–বাতাস যেমন পথে নামে বিদ্রোহে। পাপ ক’রে বলি, ‘ভগবান ক্ষমা করো...’অথচ কিন্তু অবশেষ নেই মোহের। এই পৃথিবীতে বিশ্বাস ভাঙা সহজ–মানুষের কাছে পৌঁছিয়ে বুঝেছি।অবসরে গিয়ে আকাশের কাছে রোজ—মাথা নীচু ক’রে ঘরে ফিরে এসেছি।
তুমি বলেছিলে, শাল-মহুয়ার ছায়া মেলাক দূরেপলাশ ফোটা প্রান্তর আচ্ছাদিত থাক নববধূর লাল চেলীর সাজে।মাঝে যদি রাধাচূড়া তাকে গোটাকয়েক স্বর্ণালঙ্কার পরায়,তবে তো অভিমানের কিছু নেই।তবু বিকেলের ফেরিওয়ালার ডাকের সঙ্গে মিশে যায় বালিকার কাঁচের চুড়ির কামনা-কঙ্কনা?মায়াকোভস্কির শেষ সাতদিনের কথা মনে পড়লে এখনো সোভিয়েত অনুবাদ খোঁজো? গ্রীষ্মের ছাপোষা-দুপুরের জাদুমন্ত্রে একা হতে হতেদাঁতে দাঁত চেপে পণ করেছিলে, “অন্তরবাহিনী নদী হবো। মরুচারিণীর জীবন, মিলনমৃত্যু বালুস্তরে। উৎস আর মোহনা খুঁজে খুঁজে মরুক ভূতাত্ত্বিকের দল!” কুলটা চাঁদ হেসেছিলো চকোর-সইয়ের সঙ্গে ছড়া গেয়ে, “বুকে পাথরের ইতিহাস ছাড়া কি নদী হওয়া যায়, মেয়ে?” ... ...
জবাব দাও লিখতে না জানলেও, লেখার চেষ্টা করতে থাকে যারা— তাদেরই মধ্যে আজ দেখতে পাচ্ছি, শ্রীমল্লারকিশোর। যারা প্রাক্তনবান্ধবীর প্রশংসাকে পৌরসভার ময়লা নিতে আসার গাড়িতে তুলে দেয় আর গণ্ডির বাইরে না বেরোতে পেরে, বাবা-মা’র দিকে আঙুল তুলে প্রশ্ন করে— ‘কেন জন্ম দিয়েছিলে আমাকে? জবাব দাও!’ প্রশংসা আর ক্ষতি‘না রে আমার জীবনানন্দ পড়া হয়নি। দিব্যেন্দু পালিত অল্প অল্প জানি। এসবের বাইরে সিলভিয়া আর এলিয়ট আমার কাছেরপ্রিয়। আর তোর কবিতা পড়ছি। নতুন রকমের ভাবনা আর ছন্দ নিয়ে বেশ একটা ব্যাপার স্যাপার, বেশ লাগছে। তুই লেখ। লিখে চল...’ প্রাক্তনবান্ধবীর বর্তমানবার্তা এমন। কল্পনা করা যেতে পারে, কতটা গভীরভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, শ্রীমল্লারকিশোরেরা! ... ...
মাননীয় আপনি শুধু B.J.P নয় ট্রটস্কিবাদী হিসাবেও নাকি পরিচিত।[প্রাথমিকভাবে ট্রটস্কিবাদে আকৃষ্ট পরে ইংল্যান্ডে থাকাকালীন থ্যাচারপন্থী হয়ে ওঠেন।*]আমি নিজে ট্রটস্কিবাদী এবং ভারতে যে মূল সমস্যা গুলো দেখা যায় এর সাথে আপনি ও আশা করছি একমত হবেন ১. ব্যাংক, বীমা, এবং বৃহৎ শিল্পের জাতীয়করণ।২. ভূমি সংস্কার ও কৃষি সমবায় গঠন।৩. নারী শ্রমিকদের সমান মজুরি ও কাজের সমান সুযোগ।৪. বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মের গ্যারান্টি।৫. বিনামূল্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা ও নূন্যতম খাবারে যোগান। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আপনিকি চেষ্টা করবেন? যদি করেন তাহলে SOP টা কি হবে তা কি পাবলিকলি প্রকাশ করবেন? যদি না করেন তাহলে বলবেন কি কারণে এই মৌলিক সমস্যা গুলো এড়িয়ে যাচ্ছেন ?না কি সাবাল্টার্ন স্টাডিজ এর ... ...
THE SNOW OF THE DYING century still lay on the edge of the dark forest when Lajos von Lázár, the translucent child with water-blue eyes, first glimpsed the man he would believe to be his father for his whole life and beyond.ভাতের হাঁড়ি থেকে একটা ভাত টিপেই যেমন হাঁড়ির খবর পাওয়া যায়, তেমনই ভালো উপন্যাসের মণিমুক্তোর মত ছড়িয়ে থাকা এক আধটা লাইন কিংবা অনুচ্ছেদ থেকেই বোঝা যায় তার গুণমান। অনেক সময় ... ...
কেন, কারণকঠিননালিশ কাজল দিলিকাজল দিলি বান্ধবীকেহতে পারিস পছন্দঝোঁকআমাকে নে নিজের কোরে।জব্দহন্যে মেঘ মোছালিমেঘ মোছালি বৈঋণীকেযেমনভাবে আহাদারুণবলিস চ’লে যাওয়ার পরে।গতিশীতল চোট লেখালিচোট লেখালি নবীনফাঁদেকারণ জানা উচিত ছিল,‘কেন’ হওয়ার অনেক আগেই... চলো, এক্ষুনিদাওদরিদ্র, পাওদরিদ্রসাধ্য মতোই ভরিয়ে দাওনাওআনন্দ, যাওআনন্দশিক্ষা দেওয়ার সাহস নাওখাওঅপূর্ব, চাওঅপূর্বসময় মতোই খাবার খাওদাওদরিদ্র, যাওআনন্দ—রোদের মধ্যে লাইন দাও
১৯৫২ সালে কেন্দ্রীয় বোর্ড CBSE তৈরী হয়েছিল বাকি রাজ্যের বোর্ডগুলির মতোই, যার এক্তিয়ারে ছিল শুধুমাত্র কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। ১৯৬২ সালে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ছেলেমেয়েদের এর আওতায় আনা হয়। ভারতের সংবিধানে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষা কেবল রাজ্যের বিষয় থাকলেও অন্য আরো অনেক কিছুর মত ৪২তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে একে যৌথ তালিকাভুক্ত করা হয় এবং রাজ্যগুলির শিক্ষায় কেন্দ্রের নাক গলানোর শুরু। এক রাষ্ট্র এক শিক্ষার প্রকল্প আরো গতি পায় ২০১৪ সালের পর থেকে। ২০১৭ সালে তৈরি হয় NTA - যাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয় - 'সর্বভারতীয়' ডাক্তারি স্নাতক, ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক এবং UGC CSIR NET এইসব পরীক্ষা নেবার ভার। এই এনটিএ একটি 'সোসাইটি' !![১] UGCর মত স্ট্যাচুটরি সংস্থা ... ...
বাল্মিকী রামায়ণের উত্তরকাণ্ডে শ্রীরামচন্দ্রের শম্বুক বধের কাহিনী আছে। রামায়ণের মূল গল্পের সঙ্গে এই ছোট্টো আখ্যানের বিশেষ কোনো সম্পর্ক আছে এমনটা নয়। যাদের স্মরণে নেই তাদের মনে করিয়ে দিচ্ছি গল্পটা। যুদ্ধজয় করে এসে রামচন্দ্র তখন আদর্শ রাজা হিসেবে অযোধ্যায় রাজত্ব করছেন। প্রজা মনোরঞ্জনার্থে সীতার নির্বাসন ইতিমধ্যে সম্পন্ন। এমন সময় এক ব্রাহ্মণ তার পঞ্চদশবর্ষীয় পুত্রের মৃতদেহ নিয়ে হাজির। তাঁর বক্তব্য সৎ, ধর্মনিষ্ঠ ব্রাহ্মণ হওয়া সত্ত্বেও তার বালক পুত্রের যে অকাল মৃত্যু হয়েছে তার জন্য শ্রীরামচন্দ্রই দায়ী। তাঁর রামরাজ্যে নিশ্চয় কোনো অধর্ম হচ্ছে যার ফলস্বরূপ ব্রাহ্মণের ছেলের প্রাণ গেছে। রাম তাঁর পরামর্শদাতাদের সঙ্গে বসলেন। নারদ জানালেন তারই রাজ্যের প্রান্তসীমায় এক নির্বোধ শূদ্র কঠোর তপস্যা ... ...
জিভ পোড়ানো গরম হতে হবে। বাদামী রঙা কড়া করে ভাজা.. বিস্কুটের গুঁড়ো ও আরও নানাবিধ উপাদান দিয়ে কোটিং করা আসলি ভেটকির ফিলে বা ফিলেটকে ডোবা তেলে ভেজে খাওয়ার মাধুর্য যা এক তুরীয় অনুভূতি। স্বর্গীয় সুখ বললে কোনো অংশে অত্যুক্তি হবে না। যার জন্য এ স্বাদের ভাগ হবে না, এই আপ্তবাক্যটি খুব সহজেই বলে ফেলা যায়। এহেন ফিশফ্রাই সাধারণত কাসুন্দি ও স্যালাড সহযোগে মোক্ষম জমে। ভাল গুণমানের অর্থাৎ অথেনটিক দোকানের অথেনটিক ফিশফ্রাই খেতে হলে, এই দুর্মূল্যের বাজারে বেশ ভালোই মূল্য দিতে হয়। কলকাতার এক নামী রেস্তোরাঁর ডায়মন্ড(চৌকোনা বরফি আকারের) ফিশফ্রাইয়ের দাম তিনশোর আশেপাশে ঘোরাফেরা করে। ভাল ফিশফ্রাইয়ের স্বাদ পেতে হলে ভাল ... ...