এডিট করতে চাই
আফ্রিকা, মা আমারকুণ্ঠিত পায়ে প্রবেশ করলে তুমি, কাঁচের বন্ধ দরজার বাধা ঠেলে,শীতের যন্ত্র দূরেই রেখেছে এখন,ধুলোবালিসহ যতেক আবর্জনা।তোমার সংগে দেখছি যাদের তারা,যুগ যুগ ধরে শুষেছে নারী ও ভূমি,দুই পুরুষের কণ্ঠলগ্না তুমি,আজ রাতে খাবে পেটপুরে দুই ছেলে।তুমি যে আমার চামেলী মেমসাহেব,তোমায় পেলাম অন্ধকারের দেশেমসৃণ কালো ত্বকের বন্য ঝিলিক,ঝলকে জানালো ইতিহাস একই আছে। ... ...
দেখতে দেখতে গুরুচণ্ডা৯-তে কবিতা জমা করছি একবছর হ’য়ে গেল। এই একবছরে আমি কবিতা কী, কবিতা কীভাবে লিখতে হয়, কবিতা কীভাবে আসে, কবিতা কীভাবে লেখা হয়— এসবের কিছুই জানিনি। শিখিওনি। শুধুমাত্র কবিতা কীভাবে ফিরে যায়, সে দৃশ্য দেখেছি কত না বার! কবিতাকে কিছুসময় ফিরিয়ে দেওয়াটাও আসলে একটা শিল্প। যে কবিতা লিখে আমি আগের তুলনায় এগোব না, এমনকী কবিতাও কোথাও এগোবে না— সে কবিতা লেখার চাইতে না লেখাই ভাল ব’লে মনে করি। এখন মনে হয় আরও বেশি। গুরুচণ্ডা৯-তে যখন নিজের কবিতা জমা করতে শুরু করেছিলাম, মনে আছে, রঞ্জন রায়, কেকে, যদুবাবু, র২হ, অরণ্য, রমিত, অরিন এবং আরও অনেকেই আমাকে ভরসা আর সাহস দিয়েছিলেন মনোযোগী ... ...
তোমাকে ভালবাসি ব’লে–গিয়েছ অজুহাতে চ’লে। এখন ফিরে আসা বারণ... অনামী কবি আজ আমি–শিল্পে বিরহ সময়ই। কলেজ ছেড়েছি তো, কারণ— আমার মন শুধু লেখায়। ঝড়ের গতিবিধি মেপে, ভাসিয়ে সাদাপাতা সঁপে—অরণি হাওয়া মোছে এখন... এখন ফিরে আসা বারণ... তোমাকে ভালবাসা বারণ... আমার মন শুধু লেখায়, তোমার নাম নেওয়া বারণ।
২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধের দিন। ওইদিন বেরিয়েছিলাম, উদ্দেশ্য ইতিহাসে খোঁজাখুঁজি। প্রথমে পলাশী যুদ্ধের আম বাগানে ইংরেজের তৈরি করা জয়স্তম্ভের কাছাকাছি গিয়ে দেখলাম পলাশী দিবস উদযাপিত হচ্ছে ভারত বাংলাদেশ পিপলস ফোরামের উদ্যোগে। কাছেই পিডব্লুডি গেস্ট হাউস, সেখানে আয়োজকদের দিনের বিশ্রাম আর মধ্যাহ্ন ভোজনের আয়োজন চলছে। ইংরেজ ঔপনিবেশিক তাত্ত্বিকরা পলাশীর জয়কে বিপ্লব মনে করে। সে নিয়ে তাদের লেখাপত্র আছে। ব্যাপারটা আমাদের ভালো লাগার কথা নয়। ওই জয়স্তম্ভটা সেই মতলবে বানানো। এখনও দিব্বি আছে। তার চারপাশে পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। যার গেটের ঠিক বাইরে আয়োজক সংগঠনের উদ্যোগে নবাব সিরাজ উদ দৌলার একটা আবক্ষ মূর্তি, পাশেই মোহনলাল আর মীরমদনের নামে একটা শহীদ স্মৃতি ফলক ... ...
দু-চার বছর জেলে পচানোর পর প্রমাণের অভাবে জামিনে মুক্তি পেয়েছে অনেক রাজনৈতিক নেতা। যেমন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র, পার্থ চ্যাটার্জি, কুনাল ঘোষ প্রমুখ। জামিন মানেই বেকসুর খালাস নয়। তাঁরা এখনো অভিযুক্ত হয়েই আছে আদালতের কাছে। তা সত্ত্বেও এরা দিব্যি সব কিছু করে বেড়াতে পারছে। বিচার চলছে কি না ভগাই জানে। অন্যদিকে জলজ্যান্ত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও নারদার অভিযুক্তরা কেউই গ্রেফতার হয়নি। জেল তো দূরের কথা। তারা বেশ ক্ষমতা ভোগ করছে বহাল তবিয়তে। কেউ বিধায়ক, কেউ সাংসদ, কেউ আবার মুখ্যমন্ত্রীও। তাঁরা রসেবশে দিন কাটাচ্ছে। অভিন্ন ফোজদারি বিধি কবে চালু হবে? অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন সরকার ও বিরোধীতে তফাত থাকবে? সরকার হলে ... ...
সাহস এবং আগুন পাশাপাশি—বানিয়েছিল অসীম তাড়না। দূরে গিয়েও আবার কাছে আসি, তখন তুমি আমায় চেনো না... প্রতীক এবং সহজ সোজাসুজি—ছাড়িয়েছিল দিগন্তের মন। এখন আমি ততটুকুই বুঝি, যতটা আজ বোঝার রাখি মন... দূরে গিয়েও আবার কাছে আসি, তখন তুমি আমায় চেনো না... আমার মুখে কবিসুলভ হাসি, তোমার ঠোঁটে শিকারছলনা!
আয় শত্রু যায় শত্রুখায় দস্যু বিদ্যুৎআয় সৃষ্টি যায় বৃষ্টিচাই নিম্নে চারখুঁতধ্যাৎ তন্বী থাক আর্তিহাতবন্যা মারকুটতুই চাইলে সব পারতিশোকশিল্প তোর দূত
আজ একটা বিশেষ দিন, আজ ফুটবল আবার প্রমান করে দিলো যে সে গরিব বর্ধীনসু সবাইকে এক চোখে দেখে | ২৬ এ জুন ২০২৬ -- ব্রাসেলস সময় ১২ :৫৪ | রুয়ে দে কর্নেল বোর্গ 152এ১৯৫০ বিশ্বকাপ এর ফাইনাল এর আগে উরুগুয়ে এর অধিনায়ক "ওব্দুলিও ভারেলা " বলেছিলেন "মাঠে আমরা এগারোজন থাকবো আর ওরা এগারো জন এর বেশি কিছু না "...আজও ইকুয়েডরদের এগারো প্লেয়ার ছিলো, জার্মানি র ছিল এগারো প্লেয়ার, ফুটবল আজ উচ্চ -নিচ কিছুই দেখেনি, গরিব -বড়োলোক এর ধার ধরেনি |. জার্মানি বিস্বাৰ্থনীতি তে কতটা শক্তিশালী সেটাও দেখেনি দেখেছে শুধু প্রতিভা , জেদ, জেতার অদম্য ইচ্ছা | মানুষ আজ বিস্ময় ... ...
বন্ধ বাতাস। একলা জীবন। সমীক্ষা ভুল।কবির কাছে সকালবেলার আকাশও ভুল।মেঘ পুরোনো। উটকো ব্যথা। হৃদয়গণিত। কবির কাছে নতুন লেখাও অপেক্ষানীল। সন্ধে নামে। সূর্য লুকোয়। বৃষ্টিসহজ। কবির প্রতি দুঃখ এলে, করবে কী মন?জানছে সময়। ছদ্মগোপন। অরণ্যশীত। তরুণ কবির স্বীকৃতিও অপেক্ষানীল।
বীজমুহাম্মদ ফজলুল হকচৈত্রের দুপুর। কড়া রোদ মাথায় নিয়ে জমিতে ধান বীজ রোপন করছিল আলম, হোসেনসহ আরো কয়েকজন। হঠাৎ নীরবতা ভেঙ্গে গান গেয়ে ওঠে হোসেন, "তোমার দিল কি দয়া হয় না"। দিন দুপুরে হোসেনের গান শুনে চমকে ওঠে কাঁদা-জলে নুইয়ে থাকা আলম। সে জানে এটা হোসনের শয়তানি। নিশ্চয়ই চন্দনা খাবার নিয়ে আসছে। চন্দনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই হোসেনের যত প্রচেষ্টা। মেজাজ বিগরে যায় আলমের। সে বীজ রোপন থামিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দেখে চন্দনা আসছে। এক হাতে কাপড়ে বাঁধা ভাতের বাটি ও পানির জগ অন্য হাতে ছাতা।আলমের শরীর রাগে ফুঁস করে ওঠে। হোসেনের নজরটা চন্দনার দিকে সেটা সে বেশ ভালো করেই জানে। সূর্য ... ...
তথাকথিত ভালোবাসা। তার বিশ্রামে অবশেষ। বিপদে আঁখিভাসা। ভবঘুরের নেই কোনও দেশ। চেনা সীমান্তমেঘ। ফরাসি মেয়ে লাস্যময়ী। মোছে কে আবেগ? সততা এমনিতে বিবক্ষয়ী। শোয়ানো পুতুল। খ্যালেনা ফুটফুটে হাত। বিরহে আকুল। মিনারের পতনে প্রভাত। তারকা বিচ্ছেদ। যায় মুক্তি আকাঙ্ক্ষা থেমে। দ্যাখো এই ছেদ—ধারাবাহিকতা থেকে নামে...
সম্প্রতি কলকাতার একটি রাস্তার নাম পরিবর্তন নিয়ে খুব বিতর্ক হচ্ছে। রাস্তাটির নাম সোহরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউ। রাস্তাটি পার্ক স্ট্রিটের কাছে একটি রাস্তা। এই রাস্তার পাশে আছে লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্যার হাসান সোহরাওয়ার্দির একটি অট্টালিকা। এটা থেকে অনেকে মনে করেন রাস্তাটি স্যার হাসান সোহরাওয়ার্দির নামেই। আবার অনেকেই মনে করেন রাস্তাটি তৎকালীন বঙ্গপ্রদেশের শাসক হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দির নামে হয়েছে। ক্যালকাটা গ্রেট কিলিংয়ের নায়ক এই হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দির নামে কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গ তথা গোটা ভারতবর্ষে কোথাও কোনো স্মৃতিফলক নেই। থাকার কথাও নয়। তবে আমাদের প্রতিবেশী বাংলদেশে "গণহত্যাকারী" হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দির নামাঙ্কনে হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, উদ্যান, রাজপথ ইত্যাদি অনেক কিছু আছে। সেটাই স্বাভাবিক। ভারতে তথা পশ্চিমবঙ্গে সোহরাওয়ার্দিকে সুরাবর্দি ... ...
ভূতপূর্ব সরকারের এক স্বাত্তিক নিরামিষাশী অফিসার, তাঁর গায়ে ডিম ছুঁড়েছে। নিরামিষ আহার তাঁর ধর্মীয় আচরণের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইচ্ছাকৃত ভাবে তার গায়ে আমিষ দেওয়াকে ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।তিনি কি আদালতে কেস করতে পারেন?
সূর্য অস্ত যাওয়ার ঠিক পরে,উন্নতশীষ বটগাছখানা ধ্বসে পড়ল হঠাৎ। এতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল,চারিদিক প্রকাশিত,অবকাশ ছিল অনেক,তার ঝরে পড়া,ধরা পড়ে যেত ফাঁকি,অবহেলা সওয়া। কিছুই ছিল না অবশেষ,ভেতরের গুঁড়িখানা জর্জর,জীর্ণ বহুকাল,শুধু বাইরের বাকলের আবরণ ছিল টিকে।তাতে ঝুরিগুলো আবছায়া নিয়ে,একটু একটু করে অনেকখানি আড়াল করেছিল কবে থেকে।স্নায়ু বিকল হল আজ দুপুরে - তারপর আর কিচ্ছু ছিল না বাঁচানোর,লজ্জা ছাড়া,আর একটু আশা -না এর পরেও ঠিক হয়ে যাবে।হল না।মরে যেতে হল।কাউকে দেখানোর নেই,চিৎকার,সমবেদনা,সহানুভূতি সব অসার।মুক্তি চাই শুধু,নিঃসঙ্গ,নিঃশব্দ মুক্তি।এরা দিতে পারবে না কেউ। তাই রাতের অপেক্ষা করা। ... ...
পশ্চিম বঙ্গ রাজ্য বাজেটের প্রগতিশীল দিকগুলো নিয়ে অনেকে আলোচনা করছেন। তাই আমিও ভাবলাম একটু আলোচনায় আসা যাক। বিধানসভা ভোটের আগেই আমি আশঙ্কা করেছিলাম। রাজ্যে বিজেপি সরকার আসলে জমি নীতিকে শিথিল করা হবে। বাজেট দেখে যা মনে হচ্ছে ভবিষ্যতে সে রকমই কিছু হতে চলেছে। এবার অনেকে মনে করতেই পারে যে, ভালোই তো হয়েছে। রাজ্যে শিল্প আসবে। অসুবিধা কী? শিল্প এলে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু কথা হল কোন দ্রব্য বা সেবা নির্ভর শিল্প আসবে? শিল্পের প্রকৃতি কী? একটু সোজা ভাবে বোঝা যাক।শিল্প কী? ব্যবসা বা ট্রেডিং করার জন্য, দ্রব্য উৎপাদনের স্বার্থে, উৎপাদন ব্যবস্থার নামই হল শিল্প। ব্যবসা কী? মানুষ তার নিত্য-প্রয়োজনীয় দ্রব্য ... ...
খোলামেলা পাখি তুমি। বন্ধ জানলা। আমাকে ভাবিয়ে তুমি, কিনে আনলা। খোলামেলা মনে আজ, ডেকে আনলা। তোমাকে শনাক্ত করি, ঘাসে আর ফুলে। জীবন বন্ধ। তবু, মেঘ নামে স্কুলে।খোলামেলা মন তুমি। রূপমুগ্ধ চুলে... আমাকে শনাক্ত ক’রে, গিয়েছ না-ব’লে—আমার তফাত নেই জলে আর স্থলে।
১৭৫৭ র ২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধ হয়। সমকালে দু দুটো গিরিয়ার ( প্রথমটায় ১৭৪০ এ মুর্শিদকুলির নাতি নবাব সরফরাজ খানকে পটকে দেন আলিবর্দি আর দ্বিতীয়টায় ১৭৬৩ সালে মির কাশেমকে নির্ধারক ভাবে হারায় কোম্পানির বেঙ্গল আর্মি ) যুদ্ধের তুলনায় পলাশী নেহাৎই ছোটখাট মারামারি গোছের ছিল যাতে যুদ্ধ কৌশলের থেকে ষড়যন্ত্র আর নগদ লাভের লালসাই বড়। ষড়যন্ত্রের বলি হয়েছিলেন নবাব সিরাজ। যে ষড়যন্ত্রে ক্ষমতাশালীদের সব্বাই মিরজাফরের মতো মোঘল অভিজাত, খোজা ওয়াজেদের মতো ধনী সওদাগর,মুর্শিদকুলির আমলে ফুলেফেঁপে ওঠা হিন্দু জমিদাররা, রাষ্ট্রীয় ব্যাঙ্কার জগত শেঠরা আর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া সব্বাই সিরাজের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগে। সিরাজ না হয় হঠে গেলেন কিন্তু দেখা গেল লাভ ... ...