প্লেট থেকে একমুঠো ডালমুট তুলে মুখে ফেলে লালমোহনবাবু বললেন, "আচ্ছা মশাই, টিভিতে সিরিয়ালের জন্যে গপ্প লিখলে কীরকম পয়সা যায় বলুন তো?" গেল কবছর ধরে বাংলা ছবিতে একের পর এক গোয়েন্দা গল্পর আগমনে লালমোহনবাবুর মনে আশা ছিল যে ওনার গল্প নিয়েও ডিরেক্টরদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যাবে। কিন্তু এখনও অব্দি সেরকম কোন উৎসাহ না দেখায় লালমোহনবাবু বেশ মুষড়ে পড়েছেন। যদিও ওনার বইয়ের কাটতির কোন কমতি নেই। বছরের পর বছর পুজোর সময়ে একটা আর পয়লা বৈশাখ একটা করে বই বের করে চলেছেন। আর সেই বই বেরোতে না বেরোতেই ফুরিয়েও যায়। কোন বইয়ের ... ...
এখন যেখানে সল্ট লেক সিটি সেন্টারের আইল্যান্ড - মানে যাকে গোলচক্করও বলা হয়, সাহেবরা বলে ট্র্যাফিক টার্ন-আউট, এবং এখন যার এক কোণে 'বল্লে বল্লে ধাবা', অন্য কোণে পি-এন্ড-টি কোয়ার্টার, তৃতীয় কোণে কল্যাণ জুয়েলার্স আর চতুর্থ কোণে গোল্ড'স জিম - সেই গোলচক্কর আশির দশকে ছিল আমাদের ঠেক। ৮৭-সালের ওয়ার্ল্ড কাপে পাকিস্তান হারবার পর এই অকুস্থলেই বাস থামিয়ে উদ্দাম নৃত্য প্রদর্শন করা হয়েছিল। 'সান্থাল টুইস্ট' না হলেও তার কাছাকাছি। তবে কেউই নেশা করেনি। এবং বাসে শর্মিলা ঠাকুরও ছিলনা, কাবেরী বোসও নয়।
আজ থেকে ... ...
অ্যামেরিকায় যখন একটেরে বইয়ের দোকানগুলো উড়ে-পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে, স্যান ফ্র্যানসিস্কো শহরে একটা পঁয়ষট্টি বছরের পুরোন বইয়ের দোকান শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে রমরম করে চলছে। শত্রু বলতে আগে ছিল বার্নস-অ্যান্ড-নোবেল, বর্ডারস ধরণের চেন বুকস্টোরগুলো। এখন সবাইয়ের শত্রু অ্যামাজনের মতন অনলাইন বুকস্টোর। সে যুদ্ধে হেরে বর্ডারস শয্যা নিয়েছে। বার্নস-অ্যান্ড-নোবেল অনলাইন বিক্কিরিতে জোর দিয়েছে। এমতাবস্থায় এই পঁয়ষট্টি বছরের বৃদ্ধ দোকানটি যে কী যাদুতে এখনও হইহই করে চলছে, সেটা বুঝতে গেলে ইতিহাস জানতে হবে।
কলাম্বা ... ...
আমার জীবনে, যে কোন কারণেই হোক, সেলিব্রিটি ক্যাংলাপনা অতি সীমিত। তিনজন তথাকথিত সেলিব্রিটি সংস্পর্শ করার বাসনা হয়েছিল। তখন অবশ্য আমরা সেলিব্রিটি শব্দটাই শুনিনি। বিখ্যাত লোক বলেই জানতাম। সে তিনজন হলেন সৈয়দ মুজতবা আলী, দেবব্রত বিশ্বাস আর সলিল চৌধুরী। মুজতবা যখন মারা গেছেন তখনও আমি ঘুন্সি পরি। দেবব্রতর মৃত্যুর সময়ে আমার বয়েস এগারো-বারো। কাজেই এনাদের মূল্য আমি বুঝেছি অনেক পরে। সলিল চৌধুরী অবশ্য আমার যৈবনকাল অব্দি জীবিত ছিলেন, কিন্তু শেষ অব্দি আর সাক্ষাৎ করে উঠতে পারিনি।
এখন মনে হয় এনাদের কারু ... ...
অভিজিৎ বন্দোপাধ্যায় লিখেছেন রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুতে নাকি সলিল চৌধুরী অশৌচ পালন করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথকে বাংলা নাগরিক সঙ্গীতের বাবা ধরলে সলিল নিশ্চয়ই তাঁর উজ্জ্বলতম পুত্র। সেই হিসেবে পিতৃবিয়োগে কাছা-ধারণের মধ্যে আশ্চর্য কিছু নেই। অথচ সলিলের গান শুনে আর যার গানের কথাই মনে হোক, রবীন্দ্রনাথের কথা মনে পড়ে না। হিমাংশু দত্তর কথা মনে পড়তে পারে, দ্বিজেন্দ্রলালের কথা মনে পড়লেও পড়তে পারে - কিন্তু রবীন্দ্রনাথ নন। সঙ্গীতের অ্যাপ্রোচে এতটাই তাদের তফাত। অনেকটা যেন শচীনকর্তার "শ্যামরূপ ধরিয়া এসেছে মরণ" শোনার পরে ... ...
দেবব্রত বিশ্বাস খুব সম্ভবত: সর্বোচ্চ আলোচিত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী। দিস্তে দিস্তে লেখা হয়েছে ওনার গান গাওয়া সম্পর্কে, তাঁর জনাদর সম্পর্কে, বিরুদ্ধতা ও তৎসহ তাঁর অভিমান সম্পর্কে। কিছু আমি পড়েছি।
ওনার গানের যে দুটো দিক নিয়ে আমি বিশেষ উৎসাহী, সে নিয়ে খুব লেখাপত্তর চোখে পড়েনি। এক, ওনার গানের যন্ত্রানুষঙ্গ ও বিন্যাস (arrangement) আর দুই, গানকে নিজের strength -এর জায়গা থেকে গড়ে নেওয়া।
প্রথমেই ধরুন যন্ত্রের ব্যবহার। শান্তিনিকেতনী ঐতিহ্যে রবীন্দ্র গানের সঙ্গে সঙ্গতে বেজেছে এসরাজ, তালে ক ... ...
ম্যাঘে ম্যাঘে ব্যালা গড়িয়ে আসে। নয় নয় করেও পঞ্চাশের ধাক্কা বয়েস হতে চলল জলধরবাবুর। তবে আজকাল পঞ্চাশ-টঞ্চাশ নস্যি। পঁচাশি-নব্বই পার করে দিচ্ছে লোকে হাসতে হাসতে। এ তো আর শরৎবাবুর আমলের নাটক-নবেল নয় যে চল্লিশ পেরোলেই পুরুষমানুষ সুযোগ্য ছেলের হাতে সংসারের দায়িত্ব তুলে দিয়ে বারমহলে বসে থেলো হুঁকোয় তামুক খেতে খেতে গ্রামের আর পাঁচজনের সঙ্গে সুখ-দুঃখের গল্প, মানে অন্যকে কাঠি, করবেন আর সেই পাপস্খালনে সময়ে সময়ে ঈশ্বরচিন্তা করবেন! সে কপাল করে কি আর এসেছেন জলধরবাবু? একে তো মেয়েদুটি ছোট ছোট। তাদের কলেজ-পার ন ... ...
ভাগ্যের ফেরে জলধরবাবু আবার পরভূমে নিজবাসী। সেও নয়-নয় করে আজ তিন বছর হতে চলল। আবার সেই সিলিকন ভ্যালি। আবার সেই হাঁপ-ধরানো ঊর্ধশ্বাস। আবার সেই জিনিসের দাম দেখে খাবি। আবার সেই চাকরি নট হবার ভয়। সাড়ে তিন বছর যে সময় দিয়ে ... ...
ইস্ট জর্জিয়া ও যাদবপুর
- কাচুমাচু রায়
---------------------------
ঊনিশশো বিরাশি সাল। আমি তখন মর্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইস্ট জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে
পিএইচডি করি। ইস্ট জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয় খুবই ডাকসাইটে বিশ্ববিদ্যালয়,
যাদবপুর-টুরের মতন হেজিপেজি নয়। যারা জানেন না, তাদের জানাই আমাদের মাননীয়া
মুখ্যমন্ত্রীর পিএইচডি এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। (সেই সঙ্গে তাদের এই প্রশ্নও করি,
জানেন না কেন? এরকম উচ্চশিক্ষিত, বিদ্বৎমনস্ক মুখ্যমন্ত্রী সারা ভারতে আজ অব্দি
আসেনি।) সেখানেও ... ...
[ লেখাটা অন্যত্র শুরু করেছিলাম ]
সলিল চৌধুরী আর রাহুল দেব বর্মন - মেলোডির দুই রাজা। দুজনেই কমার্শিয়াল গানের জগতে নিজেদের পেশাদার জীবন গড়ে তুলেছিলেন। অথচ সঙ্গীতের অপ্রোচে দুজনে দু পথের পথিক। সলিল চৌধুরীর আকর্ষণ জটিল সঙ্গীতিক নির্মাণে, অন্যদিকে রাহুল দেব বর্মন সুরের সহজ চলনে বিশ্বাসী। অ্যারেঞ্জমেন্টে সলিল প্রথম জীবনে ধ্রুপদী - বিশেষতঃ পশ্চিমী আঙ্গিকে, শেষের জীবনে তৎকলীন পশ্চিমী রক-পপ ঘরানার অনুসারী। রাহুল প্রথম থেকেই নিজের মতন পাঁচমিশেলি আঙ্গিক তৈরি করে নিয়েছেন। সলিল চৌধুরী যেখানে ঘ ... ...