হাটে-বাটে, মাঠে-ঘাটে, রণে-বনে, জলে-জঙ্গলে লোকে আমায় জিগেস করে, "ন্যাড়াবাবু, আপনার এই অতুলনীয় গেম-রিডিং আপনি কোথা থেকে শিখলেন?" আমি মৌরি হেসে পাশ কাটিয়ে যাই। উত্তর দিইনা।
আজ বিবেক বলল, "এ কি সঙ্গে নিয়ে যাবি? বিলিয়ে দে, বিলিয়ে দে।" তাই আমার গোপন কথা আজ ফাঁস করেই দিই।
দেখুন বালকবৃন্দ ও স্নেহের হিজিবিজবিজ, আমরা যখন খেলার অ্যানালিসিস শিখছি তখন না ছিল কালার টেলিভিশন, না ছিল টাক-মাথায়-ঢেউ-খেলান-চুল নিয়ে হর্ষ ভোগলের দল। গাভাসকার-গাঙ্গুলির দল তখন ব্যাট নাবিয়েই কমেন্ট্রিবক্সে ছুটত না। আম ... ...
ইতিহাসে যদি প্রশ্ন আসত, "অ্যামেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের প্রভাব আলোচনা করো" আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ফেল করতাম। কিন্তু এখন এলে এই লিখব -
১৭৫৭ সালে যুদ্ধ নামক প্রহসনে বাংলা চলে গেলে লর্ড ক্লাইভের হাতে। শাসনের থেকেও বড় কথা যথেচ্ছ শোষণের ভার ক্লাইভ-সাহেব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। তখনকার হিসেবে শোনা যায় কুড়ি লাখ ডলারের তুল্য উপহার হাতবদল হয়েছিল। আজকের হিসেবে সে অংক না ভাবাই ভাল। বলা হয়, ক্লাইভ-সাহেব রাতারাতি বিশ্বের ধনীতম হয়ে পড়েছিলেন। সাহেবের খাঁই ্তাতে কিছুমাত্র কমেনি।
ছেলেবেলার কোন ইচ্ছে বড়বেলায় পূর্ণ হলে অনেক সময়েই তার স্বাদ খুব মুখরোচক হয়না। ছেলেবেলা থেকে ক্যাভিয়ারের নাম শুনে বড়বেলায় বেড়ালের ভাগ্যে শিকে ছিঁড়ে যখন খেতে পেলাম, তখন মনে হল, "এ বাবা, এই ক্যাভিয়ার!" সবারই বোধহয় এরকম কোন-না-কোন অভিজ্ঞতা আছে। আকাঙ্খা আর পরিপূর্ণতার তফাত যোজনখানেক। এর উল্টো অভিজ্ঞতা বরং কম হয়। মানে যেখানে অভিজ্ঞতা আকাঙ্খাকে শুধু মিটিয়েছে তাইই নয়, তার ওপরে কিছু ফাউও দিয়েছে। এরকম একটা উল্টো অভিজ্ঞতা আমার জিম করবেট পড়া।
ছেলেবেলায় বাড়িতে সত্যজিতের বহু-আলোচিত প্রচ্ছদওলা 'কু ... ...
আমার একটি প্রতিপাদ্য, বহুদিন ধরেই, ছিল এবং আছে। সেটি হল, বছর দশেকের জন্যে রবীন্দ্রসঙ্গীত ব্যাপারটা বাঙালির জীবন থেকে তুলে দেওয়া উচিত। কেউ গাইবে না, কেউ শুনবে না, কেউ শেখাবে না, কেউ শিখবে না, টিভিতে দেখাবে না, রেডিওতে শোনাবে না, বিজ্ঞাপনে লাইন দেবে না ইত্যাদি। দশ বছর ডিটক্সিকেশনের পরে বোঝা যাবে রবীন্দ্রনাথ কতটা নিজের জোরে দাঁড়াতে পারেন। নইলে গলায় একটু সুর খেললেই পয়সা দিয়ে রেকর্ড বের করে শিল্পী হয়ে গেলাম - এ অনেক হয়েছে। অনেক শুনেছি দুশোটি গানের চর্বিত-চর্বণ। গেল কুড়ি-তিরিশ বছরে একজন গায়কও কি উঠেছে ... ...
শার্লক হোমস সংক্রান্ত। ... ...
ভদ্রলোকের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল বালেশ্বরে। চাঁদিপুরে গেছিলাম সাতদিনের জন্যে। গিয়ে দেখি প্রেশারের ওষুধ আনিনি। বালেশ্বরে গেলাম ওষুধ কিনতে। বলল, "আনিয়ে দেব, কাল আসুন।" বাজারে চা খেতে গিয়ে আলাপ হল ভদ্রলোকের সঙ্গে। স্বাস্থ্যবান, দেহাতি চেহারা। খেটো ধুতির ওপর মোটা সুতির পাঞ্জাবি, গলায় তুষের উড়ুনি। ভদ্রলোক যে কোন প্রদেশের বোঝা মুশকিল। আমার সঙ্গে পরিষ্কার বাংলায় কথা বললেন, দোকানির সঙ্গে উড়িয়ায়, সঙ্গে দুজন আদিবাসী মজুর ছিল - তাদের সঙ্গে কোন এক উপভাষায়। আমার জঙ্গলপ্রীতির কথা জেনে বললেন, "আসুন না। জঙ্গল দেখে য ... ...
তখন আমি এফডি ব্লকে মুস্তাফির নেটে খেলতে যাই। আমার নিজের কোন ব্যাট ছিল না। ইংলিশ উইলো আর কোত্থেকে পাব! বাবা কাশ্মীরে কাজে গেছিল। একটা কাশ্মীর উইলোর ব্যাট এনে দিয়েছিল। সে ব্যাটে খেলা হয়নি। আসলে ব্যাটটা একেবারে কাঁচা, কারখানা থেকে কেনা। দেশের সব ভাল ব্যাট কাশ্মীরে তৈরি হয়। সেখান থেকে বম্বে-দিল্লি-কলকাতায় গিয়ে মহাজন কি সাইমন্ডস ব্র্যান্ডে বিক্কিরি হয়। বাবা জানত না যে ব্যাটে তখন অয়েলিং-ও হয়নি। অয়েলিং করে নকিং করে খেলব, এই ছিল বাসনা। সে সব আর করে ওঠা হয়নি। কাজেই একেবারে আনকোরা, নতুন অবস্থাতেই ওটা ছিল। ... ...
নিউ ইয়র্কের জেএফকে এয়ারপোর্টে যখন নেবেছি তখন বেলা প্রায় দেড়টা। নাবার কথা ছিল সকাল নটায়। স্যান ফ্র্যান্সিসকো থেকে সোজা নিউ ইয়র্ক। বাজে আবহাওয়ার জন্যে প্লেন ঘুরে এল ডেনভার দিয়ে। ব্যস সাড়ে চার ঘন্টা মায়া। আমরা যাব নায়াগ্রা ফলস। এয়ারপোর্ট থেকে সময় লাগবে সাত ঘন্টা। নটায় নাবলে পথে থেমে-টেমেও ছটার মধ্যে হোটেলে ঢুকে যাবার কথা। হতচ্ছাড়া শীতকাল।
অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল শীতের মাঝে একবার নায়াগ্রা ফলস দেখতে যাব। চতুর্দিক সাদা, নায়াগ্রারও অনেক অংশ জমে গেছে, তারই মাঝে সে ঝিরঝিরি বয়ে আচমকা দেড়শো ফুট ঝাঁপ দ ... ...
একটা লোক মোটা গলায় গাইছে "সুদূর, বিপুল সুদূর"। আর আমি দেখছি আদিগন্ত মাঠ, চোত মাসের ঠাঠা রোদ্দুরে দগ্ধ হচ্ছে। সেই লোকটাই আবার যেই বলেছে, "সেদিন এমনি মেঘের ঘটা রেবা নদীর তীরে", অমনি গায়ে ভিজে হাওয়ার ঝাপটা এসে লেগেছে। হাট করে খোলা ঘরদোর, হুহু করে ছাট এসে বিছানা-টিছানা সব ভিজিয়ে দিল। বেয়াক্কেলে লোক!
গলা শুনলে মনে হত একটা লোক থ্রি-পিস স্যুট-টাই পরে গান গাইছে, পায়ে চকচকে জুতো। পরিচ্ছন্ন করে দাড়ি-গোঁফ কাটা। ধারালো, চকচকে কিন্তু সমাহিত চেহারা। গানে সাহেবি পরিশীলন। আমার তখন কতই বা বয়েস হবে? বছর ... ...
ভদ্রলোকের সঙ্গে ট্রেনে আলাপ হয়েছিল। সেটা নব্বই দশকের প্রথমদিক। আমাদের তখন কলেজে ফাইনাল ইয়ার। ষোলজনের দল গেছিলাম বম্বে-পুনা-গোয়া। ফেরার সময়ে বম্বে থেকে ট্রেন ধরেছি। একসঙ্গে সব জায়গা পাওয়া যায়নি। আমি, অসীম আর শেখর আলাদা হয়ে গেছি বাকি তেরজনের থেকে। টু-টিয়ার কামরায় আমাদের সঙ্গে ওই ভদ্রলোক। মিস্টার সেনগুপ্ত। মাঝবয়েসী, বছর পঁয়তিরিশ বয়েস। ব্যবসার কাজে বম্বে গেছিলেন, ফিরছেন। খুব মাইডিয়ার লোক। তখন আমাদের যা বয়েস তাতে কেউ বড়দের মতন ব্যবহার করলে কি সিগারেট অফার করলেই দারুণ ভাল লেগে যায়। সেনগুপ্তবাবু সেসব ... ...