Surajit Dasgupta কে? পবিত্র জাহ্নবীতীরে, গোধূলী বেলায় আলাপরত দানবীর কর্ণ এবং পাণ্ডব কুলমাতা কুন্তী - এ হয়তো কবির কল্পনা বা মহাভারতের লেখকের কল্পনা। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শুরু হতে চলেছে, সেই প্রেক্ষাপটে দানবীর কর্ণ ইতিমধ্যেই রিক্ত। প্রায় অপরাজেয় স্তর থেকে তিনি ধরিত্রীর কাছাকাছি নেমে এসেছেন বাসুদেবের ছলনায়। বীরশ্রেষ্ঠ কর্ণের অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং মানসিকতাকে দুমড়ে, মুচড়ে এক সাধারণ স্তরে নামিয়ে আনার শেষ প্রচেষ্টাকেই কবির কল্পনায় "কর্ণ - কুন্তী সংবাদ" নাম ... ...
নবান্ন অর্থে নব অন্ন, অর্থাৎ নতুন অন্ন। নতুন অন্ন বলতে আদিম আমল ধরলে বলা যায়, দীর্ঘক্ষণ বা দীর্ঘদিন অভুক্ত থাকার পরে কোনো খাদ্যের সংস্থান হওয়াটাকে নতুন অন্ন বলা যায়। আবার মধ্যযুগ বা আধুনিক যুগের কথা মানে, চাষবাস রপ্ত হওয়ার পরের কথা ধরলে বলা যায়, নতুন ফসল ওঠার পরে নতুন করে খাদ্যের সংস্থান হওয়া। মানুষের প্রাথমিক চাহিদাগুলো অর্থাৎ খাদ্য, বাসস্থান, জন্মের পর থেকে গড়ে ওঠা মৃত্যুভয় ইত্যাদির মধ্যে কিন্তু অদ্ভুতভাবে লক্ষ করা যায় ধর্মের অনুপস্থিতি ... ...
আহা! কি আনন্দ ছিল মানুষের, যখন এই পৃথিবীতে সময়ের কোনো হিসেব রাখা হতো না। সেটা খুব বেশীদিন আগের কথা নয়, হাজার চারেক বছর আগে অব্দি মানুষের হাতে অঢেল সময় ছিল। ভাবতেই অবাক লাগে, তখন মানুষের বয়সের কোনো হিসেব ছিল না। দিন, মাস, বছর আসা যাওয়াতে মানুষের কোনো মাথা ব্যাথা ছিল না। মাঝে মাঝে হিসেব করে যখন দেখি, মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলাম চল্লিশ বছর আগে, মনের মধ্যে বিরাট চাপ তৈরী হয়ে যায় নিজের অজান্তেই। প্রথম যে চিন্তাটা আসে সেটা হলো, বয়স বেড়ে গেলো, বুড়ো হয়ে গেলাম, মৃত্যু তারমানে এগিয়ে আসছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এই হিসেব করার ব্যাপারটাই ছিল না হাজার চারেক বছর আগে। ... ...
গঙ্গা এবং বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থল, অর্থাৎ আত্মার সাথে পরমাত্মার মিলনস্থল, ভক্তের সাথে ভগবানের মিলনস্থল, ভগবতপুরাণ অনুযায়ী ভগবান বিষ্ণুর অবতার কপিলমুনির তপস্যাক্ষেত্র, আবার আদি শঙ্করাচার্য, শ্রীমৎ তোতাপুরী এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর পদধূলিতে সম্পৃক্ত জায়গাটি হলো দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার মুড়িগঙ্গা, মূল গঙ্গা এবং বঙ্গোপসাগর পরিবেষ্ঠিত বিস্তীর্ণ দ্বীপ এলাকা সাগরদ্বীপ। সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার। কলকাতা থেকে সড়কপথে ডায়মন্ড হারবার রোড ধরে সোজা ডায়মন্ড হারবার হয়ে কাকদ্বীপ আসা যায় আবার আমতলার পরে শিরাকোল থেকে বামদিকে বেঁকে উস্থি হয়ে ডায়মন্ড হারবার - কাকদ্বীপ রোডের হটুগঞ্জ মোড়ে গিয়ে ওঠা যায়। এরপরে সোজা কাকদ্বীপ লট এইট ঘাট। সেখানে গাড়ী সহ পারাপার করা যায় ভেসেলে। আবার শিয়ালদহ দক্ষিণ ... ...
চাকুরীতে ঢোকার বয়স মোটামুটিভাবে ২৫ ধরলে এবং অবসরের বয়স ৬০ (যদিও কলেজ শিক্ষকদের ৬৫ বছর) ধরলে চাকুরী করার সময়সীমাটা দাঁড়ায় ৩৫ বছর। কলেজ শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ৪০ বছর। অর্থাৎ বাম আমলে যারা চাকুরী পেয়েছিল তাদের বেশীরভাগই এখনও চাকুরী করছে। বাম আমলে চাকুরী পেয়েছে, চাকুরী পাওয়ার পরে বাম সংগঠন করতো আবার রাজনৈতিক পালাবদলের পরে রং পাল্টে ডান সংগঠনে নাম লিখিয়েছেন এইরকম চাকুরীজীবির সংখ্যা খুব কম নয়। যদিও এখনও অব্দি রাজ্য সরকারী কর্মচারী সংগঠনের ক্ষেত্রে ডানপন্থীরা খুব একটা বাম সংগঠনের ক্ষতি করতে পারেনি। তবুও সংগঠন পরিবর্তন করা চাকুরীক্ষেত্রের ব্যাপার, তার সাথে মূল রাজনীতির যোগ থাকার কথা নয়। সুতরাং তাদের রাজ্য সরকারী কর্মচারী হিসেবেই ... ...
এই বালকই যে আমার আসল গন্তব্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রাক্ষসকুলে জন্ম নিলেও সে যে প্রকৃত কৃষ্ণ ভক্ত সেটা বোঝাই যায়। যে বালক শ্রীকৃষ্ণের হাতে মৃত্যুবরণ করে মোক্ষলাভ করার আশায় তপস্যা করতে পারে, দেবতাদের সন্তুষ্ট করতে পারে, তাকে দেবতারাই বা বর না দিয়ে কি করে থাকে আর আমিই বা কি করে তাকে ইষ্ট না মেনে থাকতে পারি? একদিকে যেমন তার ধমনীতে বইছে ক্ষত্রিয় কুলের রক্ত, আর একদিকে বইছে রাক্ষসকুলের রক্ত আর মনে বইছে মোক্ষলাভের অদম্য বাসনা। সেই বালক যে কুরুক্ষেত্রের শ্রেষ্ঠ বীর হবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। কিন্তু সেই বালকের প্রতিজ্ঞা বা সংকল্পের কারণে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে অংশ নেওয়া পাণ্ডব ... ...
বারবার কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গন ছেড়ে মন চলে যাচ্ছে মানালির সেই জঙ্গলে, যেখানে হিড়িম্বা বাস করেন পুত্র ঘটোৎকচকে নিয়ে। ঘটোৎকচের বিবাহের পরে সংসারে পুত্রবধূ কামকালীকা এসেছেন। কিছুকালের মধ্যে ঘটোৎকচ এবং কামকালীকার একটি ফুটফুটে পুত্রসন্তান হয়। আঙিনা জুড়ে খেলে বেড়ায় সেই নতুন অতিথি, তার আগমনে জঙ্গলের পশুপাখিদের মধ্যে চঞ্চলতা ফিরে এসেছে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নির্দেশমত পিতামহী হিড়িম্বা তাকে ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জ্ঞান প্রদান করতে থাকেন। শিশুটি ছোটবেলা থেকেই শাস্ত্র, যুদ্ধবিদ্যা, অস্ত্রচালনা, ন্যায়শাস্ত্র ইত্যাদিতে বিদ্বান হয়ে উঠতে লাগল। কালক্রমে পিতামহী হিড়িম্বার প্রচেষ্টায়, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আশীর্বাদে এবং নিজের সাধনায় সেই শিশুটি এক মহাবীর হয়ে উঠলো। স্কন্ধপুরাণে এই শিশুটির উল্লেখ আছে, এছাড়াও দক্ষিণ ভারত থেকে ... ...
হস্তিনাপুরকে কেন্দ্র করে বিবদমান কৌরব এবং পাণ্ডব, দুপক্ষই উত্তীর্ণ কুরুক্ষেত্র রণাঙ্গনে। বেদব্যাসের কৃপায় দিব্যদৃষ্টি প্রাপ্ত সঞ্জয় যুদ্ধের বর্ণনা করছেন অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের কাছে, মোহিত হয়ে শ্রীকৃষ্ণের বৈদান্তিক দর্শনের ব্যাখ্যা শুনছেন অর্জুন, কপিধ্বজের মাথায় বসে শুনছেন রামভক্ত হনুমান। কিন্তু সেইদিকেও মন যেতে চাইছে না কিছুতেই। রণাঙ্গনের নৈসর্গিকতাকে ভঙ্গ করতে ইচ্ছে করছে না। বরং যুদ্ধক্ষেত্রের ওই কোনায় যে উঁচু টিলা দেখা যাচ্ছে, যেখান থেকে সমস্ত রণাঙ্গন স্পষ্ট এবং সুন্দরভাবে দেখা যায়, মন ছুটে চলেছে সেই টিলায়। শান্ত যুদ্ধক্ষেত্র, রণাঙ্গনের মাঝখানে অর্জুনের সারথি হিসেবে যুদ্ধে অবতীর্ণ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বোঝাচ্ছেন অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যত, এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের মায়া। পরবর্তীতে যা আমরা গীতার বাণী হিসেবে পাবো। ... ...
পুরাণ এবং ইতিহাসকে পরস্পরের বিরোধী বলতে পারেন অনেকেই, কিন্তু পুরাণের বা মহাকাব্যের অনেক চরিত্রের এই পৃথিবীতে বসবাস ছিল এটার সত্যতা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। আবার সময়ের হিসেবেও পুরাণ এবং ইতিহাস বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই একই ফলাফল দেয়, যা বড়ই আশ্চর্য্যের। স্থানীয় লোকেদের কাছে সেইসব চরিত্রের যেসব কাহিনী জানা যায় বা স্থানীয় যেসব নিদর্শন পাওয়া যায় তা পুরাণের বর্ণনার সাথে বেশীরভাগই মিলে যায়। লোককাহিনী মিলে যাওয়ার কারণ হয়তো তারাও সেই পুরাণের কথাই বলছেন কিন্তু নিদর্শনগুলো মিথ্যা বলতে পারে না কোনোভাবেই। পৌরাণিক নাম হয়তো বা পাল্টে গেছে, অবক্ষয় হয়েও থাকতে পারে। আবার যুক্তি দিয়ে বিচার করলে সেইসমস্ত স্থান এই পৃথিবীর কোথায় হতে পারে তার হিসেবেও পাওয়া ... ...
'শাম্ব' উপন্যাসভাগবত পুরাণ এবং ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুযায়ী ভল্লুকরাজের কন্যা এবং শ্রীকৃষ্ণের অষ্ঠভার্যার অন্যতম জাম্ববতীর জৈষ্ঠ্যপুত্র ছিলেন শাম্ব। পুরাণ অনুযায়ী শ্রীকৃষ্ণের মোট ১৬১০৮ জন রমণী ছিলেন যাঁদের ওপর শ্রীকৃষ্ণের পূর্ণ অধিকার ছিল। রুক্মিণী, সত্যভামা, জাম্ববতী, গান্ধারী (ধৃতরাষ্ট্র পত্নী নন), হৈমবতী, শৈবা, প্রস্বাসিনী এবং ব্রতিনী ছিলেন শ্রীকৃষ্ণের অষ্ঠভার্যা (মতান্তরে রুক্মিণী, সত্যভামা, জাম্ববতী, কালিন্দি, মিত্রবৃন্দা, নগ্নাজিতি, ভদ্রা এবং লক্ষণা)। এছাড়াও শ্রীকৃষ্ণ প্রাগজ্যোতিষপুরে নরকাসুরকে বধ করে তার প্রাসাদ থেকে ১৬১০০ রমণীকে উদ্ধার করে গ্রহণ করেছিলেন। পুরাণ বা মহাভারতে অনেক বর্ণনা থাকলেও শ্রীকৃষ্ণের পরিবার সম্পর্কে জনমানসে খুব বেশী ধারণা নেই। বিগত শতকের আশির দশকে ধারাবাহিক ভাবে দেশ পত্রিকায় উপন্যাস বেড়িয়েছিল 'শাম্ব', অতি পরিচিত এবং ভালোবাসার ... ...