এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • বাংলা বই এবং পরবর্তী প্রজন্ম

    jhumjhumi
    অন্যান্য | ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২ | ৩২৫৭৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • T | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০২:০৫532327
  • ১) বিপবাবু তে থামলাম কোথায়, থামলাম তো সামাজিক বিবর্তনে। যে যা ইচ্ছে করবে ইত্যাদি।
    ২) ঐ টি দা ফা বলার দরকার নেই। বয়সে ছোট হই।
    ৩) আমার হাত ধরলে আপনি গোডেল অবধি পৌঁছবেন। ঠাকুরের কাছে যেতে হলে অন্য গুরু খুঁজুন
  • aka | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০২:২৪532338
  • শিশু সাহিত্যে বাংলার কুমীর ছানা রায় পরিবারেই আটকে গেছে। আর বেরলো না, বেরবে এমন আশাও দেখি না।

    T র জন্য এই বইখানা রইল - http://www.amazon.com/Very-Hungry-Caterpillar-Eric-Carle/dp/0399226907
  • rimi | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০২:৩০532349
  • আপনি কোন বয়সের কথা বলছেন টিদা? শারীরিক বয়সের কথা নিশ্চয়ই নয়? কেননা উহা তো রাজনীতি নির্মিত স্বাভাবিকতা।

    আর, আমি তো আপনাকে হাত ধরে ঠাকুরের কাছে নিয়ে গেলাম। আপনাকে তো আমার হাত ধরে নিয়ে যেতে শুধৈ নি এঁজ্ঞে!!!

    ওহো, আর হাসতে পারছি না গো!!! শ্যাষে কিনা গোডেল!!! খিখিখিখি :-))))
  • rimi | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০২:৩৩532360
  • আরে ধুর টিদা এসব ছাই পাঁশ বই পড়েন না। নয়ত উনি তো কথামৃতই পড়তেন। ওঁকে অংকের বই বাতলাতে হবে।
    ওহ্‌হূহো
  • rimi | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০২:৩৫532371
  • টিদাকে চিন্তে পেরে গেছিইইইইই :-)
  • I | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০২:৩৭532393
  • আকা, অবন ঠাকুর। গৌরী ধর্মপাল। বিমল ঘোষ। শ্যামল গঙ্গো, শীর্ষেন্দু যদি বাদও দেন। অধীর বিশ্বাস। আর ভ্রমণ-এর সম্পাদক অমরেন্দ্র চক্রবর্তী। রবিবাবুকে বাদ দিলেও চলবে না।
    সব মিলিয়ে বেশী না। তবে অত কমও না।
  • T | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০২:৪৭532415
  • কি যে চলছে মাইরি। যাক গে। রিমিদেবী, যার যা বিদ্যেবুদ্ধিতে কুলোয় সে তো ততটুকুই যাবে বা নেবে। আমি অনেক কষ্টেসৃষ্টে কেঁদে কক্কে গোডেল অবধি পৌঁছেছি। এখন এট্টূস জিরিয়ে নিচ্ছি।
    আমাকে চিনেছেন নাকি? নামখানি বলুন দিকি।
    @আকা, আপেল কমলালেবু তুলনা টেনে লাভ কি?
    @বড়াই, গৌরী ধর্মপাল এঁর লেখা পড়িনি তো।
  • aka | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০২:৪৭532404
  • বিগাই, এগুলো নিয়ে কথা বলাই যায়, কিন্তু যদি ধরেও নিই এগুলো ভালো, আমি আমার স্টেটমেন্টটা বদলে নিই একটু? এরকম মাপের কাজ বাংলায় ছয় বা তার নীচের বাচ্ছাদের জন্য আর হয় না। ঠিক হল?
  • hu | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০২:৪৮532427
  • রিমিদির কথা শুনে ড: সিউসের বই নিয়ে গেলাম বন্ধুর ছেলের জন্য। বই দেখলেই দূরে পালনো সেই ছেলে ড: সিউস চেটেপুটে পড়ছে। আমি নিজেও পড়ে দেখলাম। দারুন লাগল।

    বাংলা ভাষায় ভালো শিশুসাহিত্য নেই তা নয়। আমি নিজেও ব্যাংদি/রিমিদির মত বাংলা ইংরিজি দুরকম বই পাশাপাশি থাকলে বাংলাটাই বেছে নেব এখনও। আমার ছোটবেলায় আশেপাশে ইংরিজি বই বেশি ছিল না। বাংলা বই গল্পের আকর্ষনে গোগ্রাসে গিলতাম। এখন ইংরিজি বইগুলো দেখে মনে হয় এত সুন্দর ছবি থাকলে বোধহয় ভাষার ব্যবধান অগ্রাহ্য করেও এগুলো পড়ে নিতাম। অবশ্যই বাংলা বই বাদ দিয়ে নয়। কারন ওটাই নিজের ভাষা। এখনকার বাচ্চাদের ইংরিজি ভাষা নিয়ে সমস্যা নেই। বরং দেখা যাবে সিলেবাসে হয়ত বাংলাটাই জোর দিয়ে পড়ানো হয় না। আর ইংরিজি বইগুলোর মানও খুব ভালো (অবশ্য দেশে এই বইগুলো পাওয়া যায় কিনা জানি না)। এই সব মিলিয়েই...
  • aka | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০২:৫১532437
  • হু কে ক,ক, ....
  • aka | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০২:৫২532438
  • বিগাই এনাদের কোন বইগুলো ছয় বা তার নীচের বাচ্ছাদের জন্য?
  • T | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০২:৫৬532439
  • ছবছরের নীচের জনতার জন্য লেখা বলতে আগেকার জিনিসপত্র বাদ দিলে যা পড়ে থাকে বেশীর ভাগই রঙীন ছবি দেওয়া ছড়া ইত্যাদির বই। বাড়ী গেলে কলেজস্ট্রীটে এমন প্রচুর দেখতে পাই। কিছু বেশ ভালো আবার কিছুর অবস্থা অতি সাধারণ। মোটের ওপর পাঁচমিশেলি অবস্থা।
  • rimi | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৩:০৭532440
  • ইয়ে, অবন ঠাকুর আমার ভীষণ ভীষণ প্রিয় যদিও, তবু সত্যের খাতিরে একটা কথা বলে যাই: অবন ঠাকুরের সবচে ভালো লাগা গল্পটা (বুড়ো আংলা) একটা অন্য বইএর থেকে নেওয়া। The Wonderful Adventure of Nils - একজন সুইডিশ মহিলার লেখা। বইটার খোঁজ আমাকে দিয়েছে শিবুদা।

    অবন ঠাকুরের বুড়ো আংলার একটা স্বতন্ত্র্য সৌন্দর্য্য আছে। কিন্তু ঘটনাগুলো, আসল প্লট এবং সাবপ্লট সবই নিলসের।

    আর ইয়ে, আমি যেহেতু সব সময়ই গরুতে ফিরে ফিরে আসি, এখানেও না এলে ট্র্যাডিশন হারিয়ে যাবে। তাই বলে যাই, নিলের গল্পে হাঁসেদের সর্দার ছিল এক মেয়ে হাঁস, আক্কা, ফ্রম কেবনিকেইস, খুব শক্তিশালী, অনেক বয়স, আর কিছুটা নিষ্ঠুর। অবন ঠাকুর চকার চরিত্র ইত্যাদি একইরকম রেখেছেন, কিন্তু জেন্ডার বদলে তাকে ছেলে বানিয়েছেন।:-( আমার মনে হয়েছে মহিলা লিডার হিসেবে আক্কা অনেক বেশি ইন্টারেস্টিং ছিল।

    লিং দিলাম, পড়ে নিয়ো নিজেরা। http://www.archive.org/stream/wonderfuladventu001858#page/n7/mode/2up
    ইলাস্ট্রেশনটাও ভারি চমৎকার।

    তবে, সব মিলিয়ে, বুড়ো আংলা আমার এখনও বেশি প্রিয়। আফটার অল, ভাষাটা বাংলা, আর অবন ঠাকুরের বাংলা।
  • T | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৩:১৩532441
  • এই বুড়ো আংলা নিয়ে বোধহয় দেশ পত্রিকায় একটা প্রবন্ধ বেরিয়েছিল। কিংবা রবিবাসরীয়তে। খেয়াল নেই। বইদুটোর তুলনামূলক আলোচনাও ছিল বোধহয়।
    ইয়ে অবনঠাকুর কি কোথাও লিখেছেন নাকি যে 'চকা নিকোবর' ছেলে ছিল না মেয়ে ছিল। মনে পড়ছে না তো?
  • rimi | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৩:১৮532442
  • হু, শুনে খুব খুশি হলাম যে তোমার বন্ধুর ছেলের ড: সিউস ভালো লেগেছে। আসলে শুধু রং চং আর ছবি থাকলেই হয় না কিন্তু, মজাটাই আসল। ড: সিউস এত মজার যে কারুর ভালো লাগবে না এটা হতেই পারে না।

    তবে ইয়ে, সইত্যের খাতিরে কই, ড: সিউসের ছড়ার সঙ্গে দিদির ছড়ার অনেক মিল।
    যেমন: One fish, Two fish, Red fish, Blue fish,
    Black fish, Blue fish, Old fish, New fish.
    This one has a littlecar.
    This one has a little star.
    Say! What a lot of fish there are.


    কিম্বা,Some are red, and some are blue.
    Some are old and some are new.
    Some are sad, and some are glad,
    And some are very, very bad.
    Why are they sad and glad and bad?
    I do not know, go ask your dad.


    দিদির ছড়ার সঙ্গেও তেমন মজাদার ছবি জুড়ে দিতে পারলে, ভবিষ্যতে দিদির বই-ই বাংলা ভাষাকে জনপ্রিয় করবে। এখন যারা খিল্লি করছ, তারাই নাতি নাতনির আবদারে পাগল হয়ে রোজ রাতে দিদির ছড়া পড়ে শোনাবে ফোগলা দাঁতে। ইয়ার্কি নয়!!!
  • rimi | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৩:১৯532443
  • অবন লিখেছেন, চকা একশো বছরের বুড়ো হাঁস। বুড়ি তো লেখেন নি।
  • T | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৩:২৬532444
  • অ, 'বুড়ো' কথাটা লিখেছেন বুঝি। বাড়ী গেলে আবার পড়ে দেখতে হবে।
    যাক গে রিমিদেবী মোরে চিনেছেন বইলেন যে? আবার কই, নামখানা কন দেকি। নইলে আবার কার সাথে গোলালেন কে জানে।
  • hu | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৩:৪৯532448
  • গৌরী ধর্মপালের উপনিষদের গল্প খুব সুন্দর বই।
  • T | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৩:৪৯532447
  • পাইকে থাংকু। ও মা, এর কিছু কিছু অংশ ঐ মা মাসিদের মুখেই শুনতুম এককালে। গৌরী ধর্মপাল লিখেছেন বলে জানতাম না।
  • pi | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৩:৫০532449
  • উঁহু, এগুলো মডিফায়েড :)
  • T | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৩:৫৪532450
  • মডিফায়েড আবার কোনখানটা?
  • hu | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৪:০৭532451
  • রিমিদি, মজার কথাটা লিখলাম না আলাদা করে তার কারন ছোটবেলায় পড়া বাংলা বইগুলোর মধ্যেও মজার অভাব ছিল না। তবে এইরকম মজার গল্প এখনও বাংলায় লেখা হয় কিনা সেটা আমি জানি না।
    আরেকটা জিনিস খুব ভালো লাগে - একদম কুচি বাচ্চাদের জন্যেও বই পাওয়া যায়। এক বছুরেদের জন্যেও। দেখছিলাম একটা জন্তু জানোয়ারদের নিয়ে বই। তাতে বিভিন্ন টেক্সচারের কাপড় কেটে লাগিয়েছে ছবির সাথে। তারপর বলছে এই প্রাণীর গায়ে হাত দিলে এমন লাগবে। আমি তো বার্নস অ্যান্ড নোবেলসে গেলেই ছোটদের সেকশনে গিয়ে বইয়ে হাত বোলাই। একদম স্মরণাতীত কাল থেকেই বই নিয়ে শুতে যাওয়ার অভ্যাসটা এরা এইভাবে ধরিয়ে দিচ্ছে।

    তবে ঝুমঝুমির এই টই খোলার উদ্দেশ্য বোধহয় ছিল এটা আলোচনা করা যে বাংলা বই কি তাহলে হারিয়ে যাবে? আমার মনে হয় সেটা হবে না। আগে বই পড়ার ভালোবাসাটা থাকা দরকার। তার জন্য যে বইটা পড়তে সবচেয়ে ভালো লাগছে সেটা দিয়ে পড়ার অভ্যেসটা তৈরী করতে হবে। একবার অভ্যেস তৈরী হয়ে গেলে এ ভাষা, সে ভাষা খুঁজে মনের উপাদান মানুষ নিজে নিজেই যোগাড় করে নেয়। অবন ঠাকুরের বই ছোটবেলাতেই যে পড়তে হবে তার তো মানে নেই। এই তো কেমন রিমিদি বুড়ো বয়েসে ওয়াণ্ডারফুল অ্যাডভেঞ্চার্স অফ নীল পড়ে নিল। বইটা কি ছোটবেলায় পড়া হয় নি বলে হারিয়ে গেল নাকি? ইনফ্যাক্ট রিমিদির দেওয়া লিঙ্কটা থেকে আমিও শুরু করে দেব ভাবছি :-)
  • Tim | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৪:৩৫532452
  • হু'র পোস্ট খানিকটা অতিসরলীকৃত লাগলো। ইংরেজি যেভাবে সময়ের সাথে সাথে এমনিতেই শিখে নিতে হয় সেভাবে বাংলা শেখা হয়না আজকালকার বাচ্চাদের। আরোই হয়না তার অর্থকরী দিক নেই বলে। সুতরাং বাংলার মত একটা কমপ্লেক্স ভাষা বড়ো হয়ে কেউ নিজের তাগিদে ""শিখে নেবে"" এইটা মনে হয় একটু বেশিই দাবি। তাইলে আমরা সবাই, যারা কিনা সাহিত্য ভালোবাসি, তারা স্প্যানিশ, জার্মান ইত্যাদি শিখে সেইসব বইপত্তর পড়তে শুরু করে দিতাম। দিচ্ছি কি?
    ওভাবে হয়না। বাংলা ভাষা (বা যেকোনো প্রাদেশিক ভাষা, যা শিখলে চাকরি মেলেনা) ভালো করে শেখার সুযোগ ঐ ছোটোবেলাতেই। পরে জোড়াতালি দিয়ে শিখে কতদূর হয় সন্দেহ আছে।
  • aka | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৪:৩৭532453
  • হু কে আবারও অনেকগুলো ক। কি সুন্দর সব বই, কি ইনোভেটিভ আইডিয়া।

    আমার পুত্র হয়েছিল বস্টনে। শেখানে হসপিটালে টিভি চ্যানেলে বই পড়া নিয়ে বলেছিল ইট ইজ নেভার টু আর্লি। বই পড়ো, পড়ো আর পড়ো। আর এই আইডিওলজি সাপোর্ট করার জন্য ভালো বইয়েরও অভাব নেই। একমাসের বাচ্ছার জন্যও বই আছে।
  • byaang | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৭:৫৯532454
  • আকা তোকে মাইরি আমি টাঙিয়ে দেব বাংলায় ছোটোদের জন্য রঙ্‌চঙে বই নেই বললে। তুই কোলকাতায় আয়, আচ্ছা, কোলকাতা অব্দিও যেতে হবে না, তুই লুরুতেই আমার বাড়ি থেকে ঘুরে যা, তোকে দুই সুটকেস ভর্তি করে রঙচঙে বাংলা বই দিয়ে দেব তোর ঐ ছয়বছরের নীচের বাচ্চাদের জন্য। তবে কিনা এক-দুই বছরের বাচ্চার হাতে রঙ্‌চঙে গল্পের বই দেওয়াও যা আর লাল শালু দিয়ে মোড়া গীতা দেওয়াও তাই। খানিকক্ষণ রঙ দেখে ইন্টারেস্ট পাবে, আর বোর হয়ে গেলে বইয়ের পাতাগুলো ছিঁড়ে খাবে।
    এই টইয়ে যেসব ছোটোদের বাঙলা বই/লেখক নিয়ে আলোচনা হয়েছে ইতি মধ্যে, এরা কেউই সেই হিসেবে একদম ছোটোদের নিয়ে লেখেন নি উপেন্দ্রকিশোর ছাড়া। লীম, সু রা, অ ঠা, শী মু এদের লেখার মজা পেতে হলে বয়সটা আটের আশপাশে বা উপরে হলে তবে মজাটা পাওয়া যায়। কিন্তু এদের বাইরে আরো অনেক লেখাক রয়েছেন যারা একদম ছোটদের জন্য লিখেছেন বা নতুন করে সেইসব বই-গল্পগুলো নতুন করে ইলাস্ট্রেশন দিয়ে প্রাকাশ করার কাজ চলছে। কয়েকজনের নাম তো বড়াই লিখেই দিয়েছে। ঐ অধীর বিশ্বাস অসম্ভব ভালো কাজ করছেন ছোটদের বই নিয়ে। উ কি, সু রা, লী মর বাইরে গিয়ে। সংসদও ইদানীং অসম্ভব ভালো কাজ করছে ছোটোদের বই নিয়ে। বড়াই যেমন বলল অমরেন্দ্রাবাবুও ভালৈ চিন্তাভাবনা করছেন পাঁচ বছুরেদের আশপাশের পুঁচকেদের নিয়ে। এখন যদি তুলনাটা ড: সিউস আর কুমীরসাহেবের মধ্যে হয়, তাহলে অবিশ্যি আমাকে চুপ করে যেতেই হয়। কারণ এখনো অব্দি বাংলায় ওরকম কোনো সিরিজ নেই। কিন্তু শুধু এরিক কার্ল আর ড: সিউস-ই কি মাপ্‌দন্ড? বাচ্চাদের বই বাছার সময়ে আর কোনো কিছুই দেখা হবে না? বাংলা বই পড়বে যেসব বাচ্চা তাদের বাবা-মাদের ক্রয়ক্ষমতা ইত্যাদি দেখা হবে না? এরিক কার্লের বইঅগুলো যদি বাংলায় অনুবাদ করে ঠিক ঐ একই প্যাকেজিং বজায় রেখে বিক্রি করা হয়, তার দাম কত দাঁড়াবে আকা? কতজন বাঙালী বাবা-মা সেটা কিনে দিতে রাজি হবেন বাচ্চাকে? লোকে আজও বইয়ের দোকানে গিয়ে ৫০টাকার নীচে বই খোঁজে, সেখানে বিদেশী বইঅগুলোর মত প্যাকেজিং কীকরে আশা করা যায়? আর সেক্ষেত্রে পাবলিশারদেরই বা ইনসেন্সিটিভ কী ঐ ধরণের বই ছাপার জন্য?
  • rimi | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৮:২১532456
  • আম্রিগায় একই বইএর তিন চার রকম ভার্সন বের করে, তিন চার রকম দামে। এরিক কার্লের বইএর ছোটো ভার্সন আছে, যেগুলো বড় ভার্সনের থেকে অনেক কম দামে পাওয়া যায়। আর সিউসের তো ছোটো বড় সাইজ ছাড়াও পেপারব্যাক, হার্ডকভার ইত্যাদি নানা দামের নানা ভার্সন। এমনকি টিনটিনেরও দেখলাম তাই।

    আমেরিকায় কিন্তু মোটেও সবাই এরিক কার্লের বই কিনে ঘর ভরাতে পারে না। (সিউসের দাম এরিক কার্লের থেকে অনেক কম)। এখানে যেটা প্রচুর ব্যবহার হয় সেটা হল লাইব্রেরী। পাব্লিক স্কুলে লাইব্রেরি আছে, প্রতিদিন দুটো করে গল্পের বই তোলা যায়। এছাড়া প্রত্যেক শহরে আছে অ্যাট লিস্ট একটা পাব্লিক লাইব্রেরি। সেখানে বাচ্চাদের জন্যে অসাধারণ সব বই পাওয়া যায়। একেকবারে ২৫টা করে বই তোলা যায়। স্কুলগামী প্রায় সব বাচ্চাই পাব্লিক লাইব্রেরী প্রচুর ব্যবহার করে। আমার তো বই কেনার দরকারই হয় না, লাইব্রেরী থেকেই সব বই পড়া হয়ে যায়। যেগুলো একেবারে ক্লাসিক, বারবার পড়া যায়, সব বয়সে পড়া যায়, শুধু সেই বইগুলৈ কিনে রাখি আমি।
  • byaang | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৮:২১532455
  • কলেজ স্ট্রীটে রঙচঙে ছড়ার বইয়ের বাইরেও প্রচুর গল্পের বই পাওয়া যায় ছয় বছরের নীচের বাচ্চাদের জন্য। আর ঠিক সেই কারণেই এগুলো বিক্রি হয় না তেমন বিশেষ একটা। কোন বাঙালী বাবা-মার অত ধৈর্য্য এবং উৎসাহ আছে, ছয় বছরের নীচের বাচ্চাদের জন্য বাংলা গল্পের বই খুঁজে কিনে আনার মতন? এই গুচতেই কজন আছেন, হাত তুলুন? এবারে তো বইমেলায় প্রথম বুক্সের স্টল ছিল, কজন বাবামা সেখান থেকে ছোটদের বাংলা বই কিনে দিয়েছেন? বা অন্তত: সেইটুকু খবর রেখেছেন যে ওখানে এক-দুই বছরের বাচ্চাদের জন্যও বই পাওয়া যায়? বইয়ের পাতায় বানানের ভুল থাকলে কজন বাবা-মা ঐটুকু কষ্ট করেন সেটা পাবলিশারকে ইমেল করে জানানোর মতন? পাঁচ বছরের নীচের বাছাদের খেলনা আর টিভি খুলে দিয়ে বসিয়ে রাখা সবচেয়ে সহজ আর আমরা সেটাই করি। তিনবছরের বাচ্চাকে বই কিনে দিলে তো সে নিজে নিজে পড়তে পারবে না। বাবা-মাকে সেগুলো পড়ে দিতে হবে, ঐটুকু সময়ই বা কজন বাবামা দেন তদের বাচ্চাদের? আমি এখানে ভারতবর্ষে বাস করা বাবামাদের কথ বলছি। বাবামারা ঐটুকু বাচ্চাদের বই কিনে না দিলে, ঐ বইগুলো বিক্রি হবে না, আর আগের স্টকই পড়ে থাকলে পাবলিশারদের ভারি দায় পড়েছে ঐ বয়সের বাচ্চাদের জন্য চিন্তাভাবনা করার। আমার আম্রিগান সিনেমা দেখে একটা ধারণা হয়েছে আম্রিগান বাচ্চাদের সন্ধ্যেবেলার অনেকটা সময় কাটে বাবামার সঙ্গে একসাথে বই পড়ে বা শুনে। একটা রিচুয়ালের মতন ব্যাপারটা। ভারতীয়দের মধ্যে সেই কালচারটা নেই। এখন কেউ তক্কো করতেই পারেন, আমার মা-বাবা আমাকে বই পড়ে দিত বা আমি আমার বাচ্চাদের বই পড়ে দিই বলে, কিন্তু সেটা কতজন? এইভাবে কোনো তুলনা চলে না।

    আমার ছেলে কোলকাতায় থাকে না, কিন্তু বছরের বেশ কিছুটা সময় সে কোলকাতায় কাটায়। তার বাড়ির লোকজনরা সবাই বাংলায় কথা বলে, বাংলা বইয়ের খোঁজ রাখে, ইংরেজি বইঅগুলোর বাংলা অনুবাদ পড়তে বেশি পচ্ছন্দ করে। আমার ছেলের কাছে প্রচুর অপশন ছিল বাংলা এবং ইংরেজি বইয়ের মধ্যে বেছে নেওয়ার জন্য। তার ছোটোদের বাংলা বই এবং ছোটোদের ইংরেজি বইয়ের কালেকশন দেখার মতন। স্কুলেও সে বাংলাই শিখছে। যতদিন তার বিশেষ বন্ধুবান্ধব ছিল না, মা-দিদিমা ছাড়া বাংলা বই নিয়ে আলোচনা করার মতন লোক ছিল না, সে লী ম পড়ে খুব মজা পেত, সু রা পড়ে হাসত কিন্তু বলত কিচ্ছু বুঝলাম না, এমনি এমনিই হাসি পেয়ে গেল। কিন্তু এখন সে যত বড় হচ্ছে তার সামনে বাংলা এবং ইংরেজি বই সাজিয়ে রাখলে সে ইংরেজি বইটা আগে টানবে। কারণ সে চিন্তা করে ইংরাজিতে। বাড়িতে বাংলায় কথা বললেও আগে ইংরেজি বাক্যটা ভেবে নিয়ে বাংলায় তার অনুবাদ করে বলে। তার বন্ধুবান্ধবরাও একই রকম। বাড়িতে যে ভাষায়ে্‌তই কথা বলুক না কেন, বন্ধুদের মধ্যে ইংরাজিতেই বলে, এরা সবাই তাই ইংরেজি বইই আগে টানবে। আর আমরা ছিলাম এদের ঠিক উল্টো মেরুতে। ইংরেজি বলতে হলে আগে বাংলাটা ভেবে নিয়ে সেটা অনুবাদ করে বলতম। আমরা তাই বাংলা বই কেন পড়ছে না বলে হাহুতাশ করি।
  • byaang | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৮:৩২532458
  • আর বাচ্চারা কেন গল্পের বই না পড়ে টিভিতে অখাদ্য কার্টুন দেখে, এই প্রশ্নটার উতার আমাদের সবার জানা। যে কারণে টিভিতে শোলে দিলে আমরা বঙ্কিম রচনাবলীটা তুলে রেখে শোলে দেখতে বসব এই বুড়ো বয়সেও। ঠিক সেই কারণী বাচ্চারা কার্টুন দেখে কমিক্স পড়ে ইত্যাদি। বচ্চারা যাই করে সেটাই কী খারাপ? আর বাবামারা তাদের বাচ্চাদের জন্য যেগুলো ভালো বলে মনে করছে শুধু সেগুলৈ ভালো। আমার মাবাবা মনে করত ইন্দ্রজাল কমিক্স পড়া খারাপ। আমাকে কিছুতেই কিনে দিত না। বছরে দুটো ইন্দ্রজাল কমিক্স পেতাম তাও অনেক কান্নাকাটি করে। কবে কবে? না, যেদিন হাফিয়ার্লি শেষ হবে আর যেদিন অ্যানুয়াল পরীক্ষা শেষ হবে। এখন আমরা মনে করছি ডোরেইমন দেখা খারাপ, সেই জন্য বাচ্চাদেরও সেটা খারাপ লাগতে হবে। এই কমিক্স বা কার্টুন নিয়ে রে ব্র্যাডবেরির একটা খুব মজার প্রবন্ধ পড়েছিলাম ওনার ছোটোবেলা নিয়ে। ওনার ছোটবেলায় ওনার বিশাল একাঅ কালেকশন ছিল কমিসের বইয়ের আর কার্টুন স্ট্রিপের। কিন্তু ওনার তুতো ভাইবোনেরা, বড়রা এমনকি ওনার বন্ধুবান্ধবরাও খুব হাসাহাসি করত ওনার এই ঝোঁক দেখে। একদিন বন্ধুবান্ধবরা ওনাকে নিয়ে এতই খিল্লি করে কমিক্স জমানোর জন্য উনি বাড়ি এসে রেগে সব নষ্ট করে ফেলেন। তারপরে ওনার মনে হয়, ঐ ছাগলগুলোর কথায় আমি এটা কী করলাম। ওরা যেটার মজা জানে না, সেটা নিয়ে ওরা হাসাহাসি করল বলে আমি সেটার ভিতরের আসল মজা জানা সঙ্কেÄও নিজেই নিজেকে সেই মজা থেকে বঞ্চিত করলাম। তারপর থেকে সারা জীবন উনি গ্রাফিক নভেল, কমিক্স ইত্যাদি খুঁজে বেড়াতেন এবং খোঁজ পেলেই সেটি জোগাড় করে ফেলতেন। টিভির কার্টুন সিরিজগুলো অ্যানিমেটেড কমিক্স ছাড়া আর কী! আজও যদি টিভিতে ব্যোমকেশ বক্সী দেখায় আমি তো শরদিন্দু পড়ার থেকে টিভি সিরিজটা বেশি উপভোগ করব। বাচ্চাদের নিয়ে এত হাহুতাশ করার কী আছে বাপু!!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় প্রতিক্রিয়া দিন