এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • শেখ মুজিবের উপর খ্যাপা কেনো চিনাপন্থীরা?

    কুলদা রায়
    অন্যান্য | ২৩ নভেম্বর ২০১২ | ৯১২৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • ranjan roy | ২৭ নভেম্বর ২০১২ ০২:১৫576869
  • দেব ও ডিডির সঙ্গে একমত। আজকে কেউ চীনপন্থী আছেন কি? চীন ছাড়া?
    একটু আশ্চর্য্য হয়েছি পিটির বক্তব্যে।
    যেহেতু একদলীয় ব্যবস্থার চেয়ে বহুদলীয় ব্যবস্থা, পিটির বক্তব্য অনুযায়ী, বিশেষ কোন উন্নয়ন দেখাতে পারেনি তাই একদলীয় ব্যব্স্থাকে গাল দেয়া অনুচিত?
    সমতুল্যঃ
    ১) প্রেম করা অনেক বিয়েও টেঁকে ন,- ডিভোর্স হয়।
    --কাজেই ট্র্যাডিশনাল বিয়ের থেকে প্রেম করে বিয়েকে সুপিরিয়র ভাবার কারণ নেই।
    ২) ডাক্তারি চিকিৎসাতেও অনেক সময় রোগী মরে। তাই জলপড়া-মাদুলি- আশীর্বাদি ফুলবেলপাতা নিতে দোষ কি?
    ৩) আজকাল যেমন শিশুমৃত্যু, ধর্ষণ, হাসপাতালে অব্যব্স্থা, দলতন্ত্র, পুলিশের পক্ষপাতিত্ব এসব নিয়ে কিছু বললেই শুনতে হয়-- সিপিএমের রাজত্বে কি এগুলো ছিল না?
    ৪) ইন্দিরা গান্ধীর জরুরী-অব্স্থা সরিয়ে অনেকগুলো বিরোধী দলমিলে যে খিচুড়ি শাসন এনেছিল তার খেয়োখেয়ি আর মাৎস্যন্যায়ে আম জনতার কোন উবগারটা হয়েছিল? এর চে' এমার্জেন্সি ভালো, তখন ট্রেনগুলো ঠিক সময়ে চলত, হরতাল-বন্ধ ছিল না। লোকে কাজ করত! ইত্যাদি-ইত্যাদি।

    একদলীয় ব্যব্স্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র কাম্য এ'জন্যে নয় যে এতে দ্রুত উন্নয়নের পথ সুনিশ্চিত হয়, বরং এই জন্যে যে দ্বিতীয় পদ্ধতিতে ব্যক্তিমানুষের কাছে অনেক বেশি অপশন থাকে, ফলে তাদের স্বাধীনতার ক্ষেত্র অনেক বেশি হয়।
    গোদা বাংলায়,-- ধরে নিলাম দুটো ব্যব্স্থাতেই আধপেটা খাচ্ছি, কিন্তু দ্বিতীয় ব্যবস্থাতে খালি গলায় চ্যাঁচাতে পারছি, তো দ্বিতীয়টাকে বেছে নেব।
  • ranjan roy | ২৭ নভেম্বর ২০১২ ০২:২০576870
  • কুলদা রায়,
    যদিও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কোন গণ অভ্যুত্থানে প্রাণ হারান নি। হারিয়েছিলেন কিছু জেনারেলের ক্যুদেতায়। কিন্তু তখন যে সব কানে আসতো-- যেমন পরিবারতন্ত্র, ওনার জ্যেষ্ঠ পুত্রের, প্রায় ভারতে ইন্দিরার সন্তান প্রয়াত সঞ্জয়ের মত। ক্ষমতার অপব্যবহার ও বে-আইনী সম্পত্তি অর্জন--এগুলো কতটুকু সত্যি? জানতে আগ্রহী।
  • lcm | ২৭ নভেম্বর ২০১২ ১০:৪৫576871
  • একদলীয় শাসনে কিন্তু অনেক অ্যাডভান্টেজ থাকে, অনেক পজিটিভ দিক আছে।
    যেমন ধরুন, চায়না। অন্কে পন্ডিতের মতে ১৯৪০-৫০ এর চীন একদলীয় শাসন ছাড়া ২০১২-র চীনে আসত পারত না।
    রাশিয়ায় ওয়ান-পার্টি শাসনের ৭০ বছরে ঐ দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানের একেবারে উন্নতি হয় নি তা নয়, অনেক কাজ হয়েছে যেটা মাল্টিপার্টি ডেমোক্রেসিতে থাকলে হত না বা অনেক সময় লাগত।
    সকলের চেঁচানোর সমান অধিকার যেমন মানবধিকারের পয়েন্ট থেকে দেখলে আদর্শ ব্যবস্থা ঠিক - কিন্তু...
  • কল্লোল | ২৭ নভেম্বর ২০১২ ১১:৫০576872
  • টইটা অন্যদিকে যাচ্ছে। বাকশাল নিয়ে বা বহুদলীয় গণতন্ত্র বানাম একদলীয় শাসন নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। কিন্তু এসব অনেক পরের ব্যাপার। একদলীয় শাসনতন্ত্রে চীনপন্থীদের আপত্তির কোন কারন নেই। বরং সমর্থনই করা উচিৎ ছিলো।
    কিন্তু চীনপন্থীরা তো সেই মুক্তি যুদ্ধের সময় থেকেই মুজিব বিরোধী।
    দেব Date:27 Nov 2012 -- 12:03 AM
    এর পোস্টে ওর মতামত দিয়েছে। আমি কুলদার মত জানতে আগ্রহী, কেন চীনপন্থীরা প্রথম থেকেই মুজিবের বিরোধীতা করেছিলো।
  • ম্যাক্সিমিন | ২৭ নভেম্বর ২০১২ ১২:৫৩576873
  • মুক্তিযুদ্ধের পর নদীতে অনেক জল বয়ে গেছে। বর্তমান মুহূর্তে এপারের র‍্যাডিকাল মাওবাদিরা কেন বাংলাদেশে ইন্টারেস্টেড, এবং কেন তারা আওয়ামি লীগেরই বিরোধী, এই প্রশ্নটাও আছে বোধ হয়।
  • ম্যাক্সিমিন | ২৭ নভেম্বর ২০১২ ১৩:০০576874
  • 'একাত্তরের পর থেকে এরাই বেশীদিন ক্ষমতায় ছিলেন। এখন প্রশ্ন হল -- আলোচনায় বাংলাদেশ প্রশ্ন এলেই চিনাপন্থীরা এদের নাম কখনোই নেন না। সোজা গালি দিয়ে বসেন শেখ মুজিবকে। শেখ মুজিবের চেয়ে কী এরা কী ভালো ছিলেন?' প্রশ্নটা করা হচ্ছে বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে।
  • PT | ২৭ নভেম্বর ২০১২ ১৩:৪৪576875
  • RR-এর অনেকগুলো উদাহরণই অপ্রাসঙ্গিক তাই উত্তর দেবনা।

    আলোচনাটা সীমাবদ্ধ থাকা উচিৎ বাকশাল গঠনের সময়কালটিতে। সুইডেনে থাকাকালীন আমার বেশীর ভাগ সময়ই কেটেছে বাংলাদেশী বন্ধুদের সঙ্গে। এদের মধ্যে অনেকেই আওয়ামী লীগ বা সরাসরি বাকশালের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাদের এবং তাদের বিপক্ষ দলের সমর্থকদের সঙ্গে তক্কাতক্কি করে যা বুঝেছি তা হল যে মুজিবকে হেয় করার কম্ম বাকশাল গঠনের আগে থেকেই শুরু হয়েছিল।

    প্রথম ধূয়ো ওঠে ভারতীয় সৈনিকদের নিয়ে-তারা নাকি বাংলাদেশ থেকে সব লুঠে নিয়ে চলে আসছে। আওয়ামী লীগ ভারতের দালাল নামক আঠা এই দলটির সঙ্গে এখনো লেগে আছে।

    ১৯৭৩-এর ভোটে আওয়ামী লীগের জয়ের পরে ১৯৭৩-৭৪-এর দুর্ভিক্ষ কারো কারো মতে আমেরিকার উপহার। আমার চেনা অনেকে সরকারের বদনাম কমানোর জন্য রাস্তা থেকে মৃতদেহ সরানোর কাজও করেছে।

    অনেকে মনে করেন যে মুজিব ক্রমশঃ কাস্ত্রোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছিলেন, কাস্ত্রোর উপদেশও শুনতেন। কাস্ত্রো "নাকি" মুজিবকে সঙ্গে অস্ত্র রাখতে বলাতে মুজিব "আমারে কেডা মারব" জাতীয় উত্তর দেন। মুজিব কাস্ত্রোর ঘনিষ্ঠ হলে কার মাথাব্যাথা সব চাইতে বেশী হয় তা সহজেই অনুমেয়।

    এই প্রেক্ষিতে বাকশাল-কে গাল দেওয়া অবান্তর। সত্তর দশকে মাঝসময়ে যখন "ঠাণ্ডা-লড়াই" বেশ জম-জমাট অবস্থায় তখন "কুকুরটাকে মারার আগে বদনাম দাও" তত্বের প্রয়োগ খুবই যুক্তিযুক্ত।

    কাজেই একদলীয় শাসনের কুফল মানুষ বুঝতে পারার আগেই মাত্র ছমাসের মধ্যেই জনগণের প্রতিনিধি মিলিটারি অফিসারেরা বাচ্চা রাসেলকে পর্যন্ত কার হয়ে সাবড়ে দিল তার আসল উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ সৃষ্টির সময়ে যাদের সাহায্য না চাইতেই পাওয়া গিয়েছিল তারাই বা কেন আবার মিলিটারি পাঠায়নি তার উত্তরই বা কে দেবে?

    বাকশালের একদলীয় শাসন ব্যবস্থার বদলে অন্যধরণের একদলীয় শাসনব্যবস্থাই চলেছে প্রায় ১৫ বছর ধরে। আর বাকশাল যা বিন্দু মাত্রও করতে পারেনি, মুজিবের হত্যাকারীরা এবং বাকশালের বিরোধীরা সেটা কয়েক হাজার গুণে করে বাংলাদেশের সর্বনাশ করে দিয়ে গিয়েছে।
  • ranjan roy | ২৭ নভেম্বর ২০১২ ২২:২৪576876
  • একদলীয় শাসন বনাম বহুদলীয় শাসন নিয়েও কোন বিতর্ক হতে পারে ভাবিনি। যে কোন স্কুলপাঠ্য বইতে এগুলো থাকে যে একদলীয় ব্যব্স্থার গুণ হিসেবে একটি হল কুইক ডিসিশন নিতে পারা আর বহুদলীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যব্স্থারও কমজোর পক্ষ হল জরুরী ডিসিশন নিতে দেরি হওয়া-- যেমন মহিলা বিল, এফ ডি আই ইত্যাদি।
    এসব সত্ত্বেও বলা হয় (ডিটেইলস সবাই জানেন) যে সমস্ত খারাপ ব্যব্স্থার মধ্যে মাল্টি-পার্টি ডেমোক্র্যাসি হল কম খারাপ। এর বিকল্প বা এর চেয়ে কম খারাপ সিস্টেম আজও পাওয়া যায় নি।
    অমর্ত্য সেন দেখিয়েছেন যে গ্রেট লিপ ফরওয়ার্ডের সময় কিভাবে চীনে লক্ষ লক্ষ লোক দুর্ভিক্ষের সময় 'একদলীয় শাসনের ফলে' না খেতে পেয়ে মারা গেছল। উনি দেখিয়েছেন যে ভারতে দুর্ভিক্ষ হলেও 'বহুদলীয় ব্যবস্থার ফলে' কখনই ক্ষয়ক্ষতি ওই ম্যাগনিচুডে পৌঁছতে পারে না। আর জিয়া-খালেদার শাসন, যা মিলিটারি কন্ট্রোলের ফলে একদলীয় শাসনেরি নামান্তর, তার সঙ্গে মুজিবের বাকশালের তুলনা অবান্তর। মানুষ লড়েছিল কি স্বাধীন মুক্ত বাংলাদেশের জন্যে না বাকশালের জন্যে?
    হিটলার-মুসোলিনির শাসনও একদলীয় শাসন ছিল।
    যাকগে, আজও কেন চীনপন্থীরা মুজিবের নাম করে গাল দেয় জানিনা। কুলদাবাবুর মুখে শুনতে আগ্রহী।
  • আবুল খায়ের | ২৮ নভেম্বর ২০১২ ০০:৫৮576877
  • "শেখ মুজিবের উপর খ্যাপা কেনো চিনাপন্থীরা?" শিরোনাম পোস্টটির মন্তব্যগুলো আগ্রহোদ্দীপক। সবগুলো মন্তব্যপাঠে প্রতীতি জন্মেছে এরূপ যে, দুটি বিষয়ে স্ফটিকস্বচ্ছ ধারণা প্রয়োজন।
    ১। শেখ মুজিবের রাজনৈতিক দর্শন কী এবং
    ২। চীনাপন্থী কারা?
    ১। শেখ মুজিব কৃষক-গণতন্ত্রী; ইংরেজীতে রাজনৈতিক বর্গটিকে বলে পেঅসন্ত-দেমো্রত। কৃষক-গণতান্ত্রিক সংগ্রামের রয়েছে দুটো দিক। ক। সামন্তবাদ বিরোধী ও খ। সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী। মুজিব সূচীত বাংলাদেশের জাতীয় মুক্তিসংগ্রামটির দুটি দিক। ক। মর্মবস্তুগভাবে এটি সাবেকী সামন্ততন্ত্রের হালনাগাদ রূপ সামরিক-স্বৈরাচার বিরোধী; খ। পূর্ববঙ্গ শাসনে পাকিস্তানী শাসনের প্রত্যক্ষ রূপটি ঔপনিবেশিক বিধায় তা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী। সুতরাং, শুরু থেকেই অর্থাৎ '৪৭ থেকেই শেখ মুজিবের রাজনৈতিক কর্মসূচী কৃষক-গণতন্ত্রের দুটো শর্তই পরিপূর্ণভাবে পূরণ করেছে।

    কৃষক-গণতন্ত্রী শেখ মুজিবের চৈতন্যিক বিকাশে যাদের অবদান স্মর্তব্য, তাঁরা হচ্ছেন- ১। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী; ২। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী; ৩। শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক; ৪। আবুল হাশিম। ভাসানীর থেকে পেয়েছেন কৃষক দরদী মনন; সোহরাওয়ার্দীর থেকে ওয়েস্ট মিনিস্টার টাইপ অব ডেমোক্রাসির অনুশীলন; শেরেবাংলার থেকে নিয়েছেন জনসভা বা আলোচনায় অনলবর্ষী বক্তব্য উপস্থাপনের কলাকৌশল; আর আবুল হাশিমের সাংগঠনিক দক্ষতা। গুরু চতুষ্টয়ের একান্ত সান্নিধ্যে মুজিব এঁদের যা কিছু গুণবাচক তথা ইতিবাচক তার সবই পরিপূর্ণতায় অর্জন করে নিজ জীবনে প্রয়োগ করেছেন এবং গুরুচতুষ্টয়ের সকল সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে উঠেছেন হিমালয়সম উচ্চতায়; ক্রমেই হয়ে উঠেছেন ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বব্যাপী গণযুদ্ধের মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র রাষ্ট্র গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতির জনক।

    '৪৭ থেকে '৭৫ পর্যন্ত কালপর্বে কৃষক-গণতন্ত্রী মুজিবের রাজনৈতিক বিবর্তন মুসলিম জাতীয়তাবাদী থেকে গণতান্ত্রিক জাতীয়তাবাদীতে রূপান্তরের ইতিহাস। এই পরিবর্তন কেবল ব্যক্তি মুজিবের চৈতন্যিক পরিবর্তন নয়; জনসাধারণের সংখ্যাগরিষ্ঠের রাজনৈতিক রূপান্তরও বটে। আর এখানেই গণনায়ক মুজিবের স্বার্থকতা। জনসাধারণের সাথে তাঁর সম্পর্কের বন্ধন এতই নিবিড় যে, নিছক নিজের পরিবর্তন নয়, সমগ্র জনগোষ্ঠীকে তিনি পরিবর্তনের মধদিয়ে নিয়ে গেছেন।

    মুজিবের বাকশাল বিষয়ক কর্মসূচীটিও একইসূত্রে গাঁথা। লক্ষণীয় যে, মুজিব '৭২ বা '৭৩-এ বাকশাল করেন নি, করেছেন '৭৫-এ। '৭১-এর মার্চে অসহযোগ চলাকালে বাংলাদেশে মুজিবের মুখের কথাই ছিল আইন। বাংলার জনসাধারণ মুজিবের কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে। অথচ মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তির পর' '৭২-এ যখন তাঁর দলের ৫ জন এমপিকে প্রকাশ্যে গুলী করে হত্যা করলো চীনপন্থী নকশালীরা তখনো মুজিব গণপরিষদের অধিবেশন চালু রেখে ৯ মাস সময় নিয়ে জাতিকে উপহার দিয়েছিল তৎকালীন সময়ের সেরা একটি সংবিধান; ইতিহাসে যা খ্যাত হয়ে আছে '৭২-এ সংবিধান নামে। এসব না করে তিনি প্রয়োজন মতো ফরমান জারী করে আইন করতে পারতেন এবং সেগুলিই হতো সংবিধান। কিন্তু তা তিনি করেন নি। গণপরিষদে জনপ্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে বলবৎ করলেন সংবিধান। তাঁর এই আচরণটি পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক।

    উপরন্তু তিনি সংবিধানের চার মূলনীতিতে অন্তর্ভূক্ত করলেন "সমাজতন্ত্র"; মুজিব তো সমাজতন্ত্রী নন। তবে কেন সংবিধানে সন্নিবেশিত করা হলো সমাজতন্ত্র? এ প্রশ্নের উত্তরটি নিহিত আছে মুজিবের রাজনৈতিক দর্শন কৃষক-গণতন্ত্রের মধ্যে। '৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ও পরবর্তীতে নবীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতিকে কেন্দ্র করে বিশ্ব শক্তি-সাম্যের যে অবস্থান, আন্তর্জাতিক রাজনীতির সেই বাস্তবতার অমোঘ নির্দেশনায় মুজিব পরিচালিত হয়েছিলেন। ভারতবর্ষ, সোভিয়েট ইউনিয়ন সহ বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপস্থিতি স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মদানে সহায়ক হয়েছিল বিধায় এবং দেশের অভ্যন্তরে সমাজতন্ত্রের দাবীতে দেশের যুবসমাজসহ সংখ্যাগরিষ্ঠের সরবতা মুজিবকে সংবিধানে সমাজতন্ত্র নীতি গ্রহণে উৎসাহিত করেছিল।

    কিন্তু '৭৩ ও '৭৪ জুড়ে আন্তর্জাতিক ও আভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র ভয়াবহ রূপ লাভ করে। আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নীলনকশা বাস্তবায়নে পাকিস্তান কন্ট্রাক্ট নেয়। এবং দেশের অভ্যন্তরে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চীনাপন্থী নকশালদের সাবকন্ট্রাক্ট দেয়। এসময় মুজিব দুটো গুরুতর রাজনৈতিক ভুল করে। ১। মুক্তিবাহিনী ও মুজিববাহিনীর সমন্বয়ে সেনাবাহিনী গঠন না করে সাবেকী স্টাইলে পাকিস্তান থেকে প্রত্যাগতদের নিয়ে সেনাবাহিনী গঠন। ২। মুজিবনগর সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোটি বাদ দিয়ে প্রাক্তন আমলাদের নিয়ে প্রশাসন গঠন। ফলে নবীন রাষ্ট্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সাবেকী পাকিস্তানী আদর্শে বহাল থাকলো এবং তাতে করে ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য তা হলো পোয়াবারো। ফলে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে বছর জুড়ে থানা লুট, ফাড়ি লুট, পাটের গুদামে আগুন, খুন, রাহাজানী, ব্যাংক লুট ইত্যাকার কুকর্ম চলতেই থাকলো। এর মধ্যে মড়ার উপর খাড়ার ঘা নেমে এলো '৭৪-এর বন্যা। দেখা দিল খাদ্য সংকট। ষড়যন্ত্রকারীরা খাদ্য সংকটের সুযোগ নিল বিশ্বাসঘাতকতা করে। এমতাবস্থায় ক্যস্ট্রো তো স্পষ্ট বলেই দিয়েছিল, "মুজিব, তোমাকে আমরা খরচের খাতায় ধরে রেখেছি। তোমাকে আলেন্দের পরিণতিই বরণ করতে হবে। তুমি ভুল করছো। কেবল মুক্তিযোদ্ধারাই তোমাকে রক্ষা করতে পারে। তুমি ওদের দিয়ে সেনাবাহিনী গঠন করো, প্রশাসনের দায়িত্ব ওদের হস্তে সমর্পণ করো।" এসব বাস্তবায়নে মুজিব '৭৫-এ বাকশাল গঠন করেছিলেন। কিন্তু তখন অনেক দেরী হয়ে গেছে। বুড়িগঙ্গার বয়স বৃদ্ধি পেয়েছে। জলভার সইবার ক্ষমতা লুপ্ত হয়েছে। বাকশালের মতো একটি গণমুখি কর্মসূচী সফলতার সাথে বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ দল হিসেবে তার সক্ষমতা হারিয়েছে। আর ধূর্ত হায়নার দল তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করছে মুজিব কবে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার ঘোষণা প্রদান করে সেই মাহেন্দ্রক্ষণটির দিকে। মুজিবকে নির্বিঘ্নে হত্যা করতে তারা প্রচুর সময় পেয়েছে। ফলে হত্যাকাণ্ডের দিনটি নির্বাচনেও তারা শতভাগ সফল।

    বাকশাল বিষয়ে মুজিবের অবস্থান ছিল পরিষ্কার। তিনি সমাজতন্ত্রী না হয়েও সমগ্র বিশ্ব্যবাপী সমাজতন্ত্রের অগ্রযাত্রার পরিস্থিতিকে স্যালুট করে স্বাগত জানিয়ে বলেছিলেন, "বাকশাল হচ্ছে শোষিতের গণতন্ত্র।" সুতরাং, মুজিব ট্রু ন্যাশনালিস্ট, খাঁটি জাতীয়তাবাদী! যেমনটা সান-ইয়াৎ সেন; কামাল আতাতুর্ক; গান্ধীজী; নক্রুমা; আলেন্দে; লুমুম্বা।।।। মুজিবের সমালোচনা হতে পারে বিস্তর। কিন্তু তিনি কখনোই একনায়ক ছিলেন না; আপাদমস্তক গণতন্ত্রী; গণমানুষের একান্ত আপনজন।

    ২। দ্বিতীয়ত, চীনপন্থী বা পিকিংপন্থী হিসেবে যারা বুদ্ধিজীবী মহলে পরিচিত তারা সাধারণ্যে গলাকাটা নকশালী হিসেবে অভিহিত। এদের পুরো দঙ্গলটি ছিল মূলত কট্টর হিন্দু বিরোধী, ভারত বিরোধী, সাম্প্রদায়িক; মনে প্রাণে খাঁটি মোসলমান পীর-দরবেশ এবং জমিদার-জোতাদারের সন্তানেরা হয়েছেন কমিউনিস্ট। এবংবিধ অবস্থান থেকেই এদের পাকিস্তান প্রীতি। এই পাকিস্তান প্রীতিই তাদের ঠেলে দিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ বিরোধীতায় এবং কট্টর মুজিব বিরোধীতায়। এরা "মুক্তিযুদ্ধকে দ্ই কুকুরের লড়াই" স্বাধীন বাংলাদেশ ভারতের করদ রাজ্য ইত্যাদি প্রচার করে জনসাধারণকে মুজিব বিরোধীতায় নামানোর মরীয়া প্রচেষ্টা চালিয়ে নিজেরাই লুপ্ত হয়ে গেছে। ভাগ্যান্বেষীদের দঙ্গলদের কোন রাজনৈতিক নীতিই ছিল না। এদের সার্বিক কর্মকাণ্ড এককথায় প্রভুর তুষ্টিতে নিবেদিত কুকুরের ন্যায়। ফলে কুকুরের পেটে ঘি হজম হবার নয় এবং হয়ও নি।
  • lcm | ২৮ নভেম্বর ২০১২ ০৯:২৫576879
  • বাহ, আবুল খায়ের মহাশয় গুছিয়ে লিখেছেন।
    যদিও, বাকশাল হল শোষিতের গণতন্ত্র - যদিও এই দাবী খুবই ইউনিভার্সাল - বল্শেভিক, চায়্না কম্যুনিস্ট পার্টি, ইন্দিরা কংগ্রেস, সিপিএম থেকে আমেরিকার ডেমোক্র্যাটিক পার্টি - সকলেরই এই দাবী।
  • কল্লোল | ২৮ নভেম্বর ২০১২ ১১:০৪576880
  • বন্ধু কুলদা ও শ্রদ্ধেয় আবুল খায়ের সমীপেষু,
    ১) লক্ষণীয় যে, মুজিব '৭২ বা '৭৩-এ বাকশাল করেন নি, করেছেন '৭৫-এ।
    ২) উপরন্তু তিনি সংবিধানের চার মূলনীতিতে অন্তর্ভূক্ত করলেন "সমাজতন্ত্র"
    ৩) বাকশালের মতো একটি গণমুখি কর্মসূচী সফলতার সাথে বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ দল হিসেবে তার সক্ষমতা হারিয়েছে।
    ৪)যারা বাকশালকে একদলীয় ব্যবস্থা বলেন, তাদের স্মরণ করতে বলি, ইসলামে ক’টি দল ছিলো? ইসলামী ব্যবস্থায় একটি মাত্র দলের অস্তিত্ব ছিলো, আর তা হলো খেলাফত তথা খেলাফতে রাশেদীন। মার্কসবাদও একটি মাত্র দলের অনুমোদন দিয়েছে। চীন, রাশিয়া, কিউবা, ভিয়েতনাম কিংবা অন্যান্য ইসলামী রাষ্ট্রে কতটি করে দল আছে? এইসব ইসলামী রাষ্ট্রসমূহকে বাদ দাও, ওখানে মহানবীর ইসলাম নেই। বস্তুত প্রকৃত গণতন্ত্র বা সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই একটি একক জাতীয় রাজনৈতিক সংস্থা থাকা বাঞ্ছনীয়।

    ১) কেন মুজিবর রহমান ৭৫-এই বাকশাল করলেন।
    সে সময়ে আশেপাশের দিকে তাকানো যাক।
    ১৯৭৫ ভারতে ইন্দিরা গান্ধী আভ্যন্তরীণ জরুরী অবস্থা জারী করলেন। তাকে সমর্থন সোভিয়েৎ রাশিয়া। সে সময় ব্রেজনেভ ভারতের বহুদলীয় গণতন্ত্র নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন ও মত প্রকাশ করেন যে ভারতে একদলীয় শাসনই কাম্য।
    বিরোধী স্বরের কন্ঠরোধ করাই ও একদলীয় শাসনকে মান্যতা দেওয়া ছিলো সে সময়ে সোভিয়েৎএর অ্যাজেন্ডা। তাকেই মেনে নিয়ে ৭৫এ ভারতে ও বাংলাদেশে জরুরী অবস্থা ও বাকশাল। ইন্দিরার রাজনৈতিক বাধ্যতা থেকে আইন করে অন্য দলগুলিকে অবলুপ্ত করতে পারেন নি, যা মুজিবর পেরেছিলেন। কিন্তু ভারতে জরুরী অবস্থায় প্রকৃত অর্থে বিরোধী দলগুলিকে মুছে দেওয়া হয়েছিলো।
    ২) কেন সংবিধানে "সমাজতন্ত্র" অন্তর্ভুক্ত করা হলো।
    আবারও সে সময়ে আশেপাশের দিকে তাকানো যাক।
    ১৯৭৬ সালে ভারতের সংবিধানের ৪২তম সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানের প্রিঅ্যাম্বেলে "সমাজতান্ত্রিক" শব্দটি যুক্ত হয়।
    এ কি সমপাতন? নাকি আবারও সোভিয়েৎ অ্যাজেন্ডা?
    ৩) আওয়ামী লীগ দল হিসাবে দল হিসাবে তার কর্মসূচী রূপায়নের সক্ষমতা হারালো কেন?
    কারন ততোদিনে (৭১-৭৫) ক্ষমতায় থাকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসাবে দল দুর্নীতিপরায়ণ মানুষের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। উপরন্তু পাকিস্তান আমলের আমলা ও পুলিশ-সেনাবাহিনীর উপর নির্ভরতা চরমে পোঁছেছে।
    কাস্ত্রোর অভিমতকে উপেক্ষা করে মুজিব তার মুক্তিবাহিনীকে অবিশ্বাস করেছিলেন, আর বিশ্বাস রেখেছিলেন প্রাক্তন পাকিস্তানী রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর। এটাই প্রমাণ করে মুজিব চাটুকারদের পাল্লায় পড়েছিলেন, ও বিরোধীতা সহ্য করার মানসিকতা হরিয়ে ফেলেছিলেন।
    ৪) বাকশালের সাফাই গাইতে মুজিব কাদের উদাহরণ টানছেন? চীন, রাশিয়া, কিউবা, ভিয়েতনাম ও অন্যান্য ইসলামী রাষ্ট্রের !! তাহলে মুজিবও কি রাশিয়া/চীনপন্থী ছিলেন? নাকি ইসলামপন্থী? আর যাই হোক গণতন্ত্র বা ধর্মনিরপেক্ষতায় ততো আস্থা তার ছিলো না, দেখাই যাচ্ছে
  • PT | ২৮ নভেম্বর ২০১২ ১২:৪৫576881
  • দাদারা, আমরা মধ্য সত্তরের কথা আলোচনা করছি। সারা বিশ্ব জুড়ে তখন গণতান্ত্রিক আমেরিকা ও পঃ ইউরোপ কতগুলো নচ্ছাড় ডিক্টেটরকে প্রতিপালন করছিল বা তাদের ক্ষমতায় রেখে দিয়েছিল? বিশেষতঃ আমেরিকার কাছে পাকিস্থানকে স্নেহাবিষ্ট করে রাখা ভীষণ জরুরী ছিল। এবং পাকিস্থানকে খুশী রাখতে যেকোন উপায়ে মুজিবকে উৎখাত করা আমেরিকার পরম কর্তব্য ছিল। মুজিবকে বাঁচতে গেলে এবং ক্ষমতায় থাকতে গেলে এক্ধরণের একদলীয় শাসন করতেই হত। মনে রাখা ভাল যে এশিয়ার যে দেশগুলো ৭০ থেকে ৯০ দশকের মধ্যে অর্থিক অব্স্থার প্রভূত উন্নতি করেছিল সেগুলো সকলেই প্রায় একদলীয় শাসন ব্যবস্থাতেই বেড়ে উঠেছে। তবে সেগুলো আমেরিকা-পন্থী হওয়ায় তাদের না-গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে বিশ্বের মানুষ খুব একটা মাথা ঘামায়নি। মুজিবের একটিই দোষ ছিল-তিনি আমেরিকাপন্থী হয়ে উঠতে পারেননি।
  • dd | ২৮ নভেম্বর ২০১২ ১২:৫০576882
  • "১৯৭৩-এর ভোটে আওয়ামী লীগের জয়ের পরে ১৯৭৩-৭৪-এর দুর্ভিক্ষ কারো কারো মতে আমেরিকার উপহার" ... তো আমেরিকা কেমনে দুর্ভিক্ষ উপহার দিলো বাংলাদেশকে? ক্লাইমেট কন্ট্রোল? বায়লজিক্যাল ওয়ারফেয়ার? কি ভাবে এটা সম্ভব হয়েছিলো সেই "কারো কারো" মতে?

    পিটি স্যারকে আমার প্রশ্ন।
  • তাতিন | ২৮ নভেম্বর ২০১২ ১২:৫৬576883
  • ্সিপিয়াই কি এইজাতীয় লজিকেই মুক্তিসূর্যের গণতন্ত্রকে সাপোর্ট করেছিল?
  • PT | ২৮ নভেম্বর ২০১২ ১৩:০১576884
  • বাকশালী বন্ধুদের কাছে শোনা যে আমেরিকার গম বা চাল ভর্তি জাহাজকে বন্দরে ভিড়তে বারণ করা হয়েছিল। লিংক দিতে পারব না। তবে এটা উইকিতে আছে।

    The second failure was external: the US had withheld 2.2 million tonnes of food aid to 'ensure that it abandoned plans to try Pakistani war criminals'. And a year later, when Bangladesh was faced with severe monsoons and imminent floods, the then US Ambassador to Bangladesh made it abundantly clear that the US probably could not commit food aid because of Bangladesh's policy of exporting jute to Cuba. And by the time Bangladesh succumbed to the American pressure, and stopped jute exports to Cuba, the food aid in transit was "too late for famine victims". http://en.wikipedia.org/wiki/Bangladesh_famine_of_1974
  • কল্লোল | ২৮ নভেম্বর ২০১২ ১৩:০৩576885
  • পিটি যে ইন্দিরার জরুরী অবস্থারও সমর্থক, তা জানতুম না।
    আর একদলীয় শাসন মুজিবকে বাঁচাতে পারে নি, ইন্দিরাকেও না।
  • কল্লোল | ২৮ নভেম্বর ২০১২ ১৩:০৬576886
  • ভারত ও বাংলাদেশকে গম তো তখন রাশিয়া দিতো। আমেরিকা কোদ্দিয়ে এলো? পিএল ৪৮০ তো প্রাক ইন্দিরা প্রাক বাংলাদেশ গল্প।
  • PT | ২৮ নভেম্বর ২০১২ ১৩:১৩576887
  • কল্লোলদা

    আলোচনা হচ্ছিল বাংলাদেশকে নিয়ে-আমি কোথায় লিখলাম যে আমি ইন্দিরার জরুরী অবস্থার সমর্থক ছিলাম? আর একটু ভাল করে পড়ে দেখ, উইকির সুতোটা ১৯৭৪-এর বাংলাদেশকে নিয়ে।

    আরো একটা কথা। মুজিবের একদলীয় শাসনে বাংলাদেশের ভাল হত না সে দেশটা গোল্লায় যেত তা নিয়ে আমি কিছু লিখিনি। আমি সে সময়ের প্রেক্ষিতে মুজিবের অবস্থানটাকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছি।
  • dd | ২৮ নভেম্বর ২০১২ ১৩:২২576888
  • এ তো "উপহার' নয়।

    এই দুর্ভিক্ষ চলছিলো বাংলাদেশে। দুর্ভিক্ষের কারন অজানা।

    আমেরিকা চাল বা গম aid দিয়ে উদ্ধার করতে পারতো। করে নি। অন্য দেশ যেমন চীন রাশা ভারত কিউবা, ইওরোপ .... এরাও করে নি। ভারত সম্পর্কে ঐ উইকির ঐ নিবন্ধেরই বক্তব্য In addition, neighboring India declined to cooperate with the government of Bangladesh।

    সেই লজিকে সারা দুনিয়াই এই "উপহার' দিয়েছিলো এই দুর্ভিক্ষ। শুধু আমেরিকা কেনো ?

    QED
  • PT | ২৮ নভেম্বর ২০১২ ১৩:৪০576890
  • ঠিকই বলেছেন ডিডি স্যার। বাংলাদেশ জন্মানোর পর থেকে ভারতের উদাসীনতা নিয়ে আমার মনে সংশয় আছে। সেকথা আগের একটি পোস্টিংএ বলেছি। তবে সেই সময়ে ভারতের কৃষি উৎপাদন খাদ্য-শস্য পাঠানোর মত অবস্থাতে ছিল কিনা সেটা নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। চিনের সম্পর্কেও ঐ একই কথা বলা যায়।

    কিউবা অন্যভাবে সাহায্য করছিল-সেটাও ঐ উইকিতে লেখা আছে। আর কিউবাকে পাট রপ্তানি করা নিয়ে ধমক দেওয়াটাও ঐতিহাসিক সত্য বলেই মনে হচ্ছে।

    আমেরিকা একেবারেই নিষ্পাপ নাবালক হলে উইকিই বা এই ভাবে লিখবে কেন কে জানে-অবিশ্যি আমেরিকা-নিন্দায় আপনি যদি দুঃখ পান তো সেকথা ভিন্ন!!
  • lcm | ২৮ নভেম্বর ২০১২ ১৩:৪২576891
  • সব দুর্ভিক্ষের জন্য পরোক্ষভাবে আমেরিকা দায়ী - উইকি বলেছে।
  • PT | ২৮ নভেম্বর ২০১২ ১৩:৪৪576892
  • এবার কি তাহলে দল পাকিয়ে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আমেরিকার নিষ্পাপ অবস্থানকে প্রতিস্থাপিত করার চেষ্টা শুরু হল?
  • lcm | ২৮ নভেম্বর ২০১২ ১৩:৪৫576893
  • আমেরিকা মহাপাপী। উইকি বলেছে।
  • lcm | ২৮ নভেম্বর ২০১২ ১৩:৪৬576894
  • রাশিয়া ভালো, ইন্দিরার বন্ধু - উইকি বলেছে।
  • dd | ২৮ নভেম্বর ২০১২ ১৪:০১576895
  • বাংলা পড়ুন স্যার বাংলা পড়ুন।

    দুর্ভিক্ষ হয়েছিলো প্রাকৃতিক কারনে। আমেরিকা খাদ্য শষ্য AID দিয়ে সেটাকে সামলাতে পারতো। করে নি। নিছক পলিটিক্যাল কারনে করে নি। খুবই পাপী ও দুষ্টু তো।

    কিন্তু এই দুর্ভিক্ষ তাহলে আমেরিকার "উপহার' হয় কোন কাব্যিক যুক্তিতে ? আর তামাম দুনিয়ার আর কোনো দেশেই বাড়তি খাদ্য ছিলো না ? কি মনে হয় আপনের ? শুধু আমেরিকাকেই সিংগল আউট করা কেনো?

    তবে এটা ঠিক কথা যে আমেরিকার নিন্দায় আমি খুব দুঃখ পাই।
  • PT | ২৮ নভেম্বর ২০১২ ১৪:১৬576896
  • বাংলা ইংরিজি দুটো-ই পড়েছি স্যার। বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষের কারণ নিয়ে রাশি রাশি ডকু আছে-যেখানে দেশজ বন্যা এমনকি ভারতীয় কালো টাকার মুদ্রাস্ফীতির উপহারের কথাও আছে। সে রচনা তো লিখব বলে বসিনি।

    কথা হচ্ছিল বাকশাল-মুজিব-একদলীয় শাসন ইত্যাদি নিয়ে। আমেরিকা ফুড-এইড উইথ্হেল্ড না করলে ঐ দুর্ভিক্ষ সামলানো যেত, মুজিব অতটা আনপপুলার হতেন না ইত্যাদি ইত্যাদি।

    তামাম দুনিয়ার সব দেশে যদি অনেক বাড়তি খাদ্য থেকেও থাকে তা দিয়ে ১৯৭৪-এ বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষের প্রসঙ্গে আমেরিকার বাঁদরামি ঢাকা-চাপা দেওয়া যায়না। তা সে আমেরিকা আপনার যত পেয়ারেরই হোক না কেন।
  • dd | ২৮ নভেম্বর ২০১২ ১৪:৩০576897
  • সর্ব সমক্ষে বলিবো আমেরিকাই আমার প্রাণেশ্বর।

    আপ্নে যে লিখেছেন সুইডেনে কার কাছ থেকে শুনেছেন ঐ দুর্ভিক্ষ আমেরিকার উপহার .... এ সবই তো আপনেরই কথা স্যার,সেও ও সুইডেনে বসে শোনা.... আমার তো নয়। আমি শুধু কোট করেছি মাত্র সত্যের খাতিরে।

    ঐ লেখার প্রেক্ষিতেই আমার দক্ষিনপন্থী প্রশ্ন ছিলো ঐ প্রাকৃতিক কারনে দুর্ভিক্ষকে আমেরিকার এবং শুধুমাত্র আমেরিকারই উপহার এই অশৈরনী বক্তব্য নিয়ে।

    আর আমি চেন্নাইতে বসেও কিছুটি শুনি নি এই নিয়ে। তো কি কোরবো?
  • PT | ২৮ নভেম্বর ২০১২ ১৪:৩১576898
  • The question might be posed as to why no serious food crisis or famine conditions occurred in Bangladesh in some later years, even though there were severe floods and damage to crops. There was a great scare and fear of shortages following crop failures in 1979, 1984, 1988 and 1998. If the speculative fever in 1974, arising from flood damages and expectations of a short fall in Aman crop, led to such spectacular rise in price, why it was not repeated in the later years? Paradoxically, in all these years, whereas in 1974 the reverse had happened i.e. output was larger than in previous years. The answer was that, in all these years, imports (commercial and food aid) were available to dampen speculation.

    In 1979, there was a severe incidence of drought during the early months affecting all the three crops. Ex. ante exaggerated fears of crop damage ran very high all throughout, even though crop damage was not quite so high as that in 1974. Yet increase in the price of rice was only 30 percent, as against 100-200 percent in 1974. During 1984 again, there were great fears of crop damage because of several rounds of floods, threatening to reduce four successive crops. In both years, foreign exchange reserves were adequate and food aid climate for Bangladesh was favorable.
    http://www.scholarsbangladesh.com/nurulislam1.php
  • lcm | ২৮ নভেম্বর ২০১২ ১৪:৪৬576899
  • ১৯৭৪-এ ব্রহ্মপুত্রে ভয়াবহ বন্যা, পাটের ক্ষেত জলের তলায়.... দুর্ভিক্ষ, মহামারী...
    বাংলাদেশের ৭৫% জমির উচ্চতা সমুদ্রতল থেকে ১০মি এর কম, ৮০% এলাকা বন্যাপ্রবণ।
    Bangladesh, in which lies 7 per cent of the Ganga-Brahmaputra-Meghna basin, takes the burden of 92 per cent of floodwater flow as a result of rainfall occurring outside the country: an area 15 times larger than Bangladesh....
  • কল্লোল | ২৮ নভেম্বর ২০১২ ১৪:৪৮576901
  • ভায়া পিটি।
    সে সময় তো রাশিয়ার অবস্থাও বেশ ভালো। তারা গমটম পাঠালো না। কে জানে ইচ্ছে না অনিচ্ছে করে। শুধু নন্দ ঘোষ কেন, সুনন্দ মিত্রও তো ঐ কেলাবেই পড়ে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে মতামত দিন