
পশ্চিমি রূপকথা জগতে সবচেয়ে চেনা যে মেয়ে, তাকে নিয়েই প্রচুর কথাবার্তা আর আলোচনা। বারবার বদলে গেছে সে। কেন? কী কারণে? তাই নিয়েই আমার ভাবনা। ... ...

বাংলা শিশু-কিশোর সাহিত্যে রবি ঠাকুরের শ্রেষ্ঠ অবদান কী? আমার মতে তাঁর কবিতা। তাই নিয়েই দু'চার কথা লিখে রাখলাম এখানে। ... ...

ফলত, এই ২০১১ থেকে আফগানিস্তানের দুর্গম গ্রামগঞ্জ ভরে যেতে শুরু করে খোঁড়া, কানা, বিকলাঙ্গ মানুষে। এছাড়াও মাটির নিচে জমতে থাকে লাশ। আর কচি কচি বাচ্চারা ফুঁসতে থাকে প্রতিশোধের আকাঙ্খায়। তালিবান এদের হাতে অস্ত্র দিয়েছিল। মার্কিন বাহিনীর প্রতিটি বন্দুকের গুলি, প্রতিটি খুন, প্রতিটি সম্পত্তি নষ্ট, প্রতিটি ড্রোন আক্রমণ, এভাবেই জন্ম দিতে থাকে আরও অনেক অনেক তালিবানের। তারা তখন লড়ছিল প্রতিশোধের লড়াই। আর মার্কিনীরা কোনোক্রমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখছিল। ... ...

আত্মহত্যার ঠেকাতে গেলে সামগ্রিক সহমর্মিতা দরকার। ... ...

পরে অবশ্য জানা যায়, যে, হেলিকপ্টারে আদৌ মৃতদেহ ঝুলছিলনা। কান্দাহারের প্রশাসক-ভবনের পাশে লম্বা কিছু পতাকার খুঁটি ছিল। হেলিকপ্টারে ঝুলে একজন তালিবান কর্মী তাতে তালিবান পতাকা লাগানোর চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। স্থানীয় সাংবাদিকরা ব্যাপারটি জানান। পরে একটি ভিডিওও আসে। দুনিয়া জুড়ে সংবাদমাধ্যমের বিখ্যাত ব্যক্তিরা, যাঁরা খবরটি ছড়াচ্ছিলেন, তাঁদের কেউ-কেউ নিজেদের সামাজিক মাধ্যমে করা পোস্ট মুছেও দেন। কিন্তু সংবাদমাধ্যমগুলি, যারা সোৎসাহে খবরটি ছাপছিল, তাদের কাউকে সেভাবে ভুল স্বীকার করতে দেখা যায়নি। ... ...

অর্থমন্ত্রী অশোক মিত্র একবার ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণায় লিখেছিলেন, যে, দিল্লির যোজনা কমিশনের সহসচিবকে তিনি বলেছিলেন, কলকাতা থেকে দিল্লি এলে তাঁর মনে হয়, গ্রাম থেকে শহরে এলেন। অস্যার্থঃ পশ্চিমবঙ্গ থেকে সম্পদ চুষে নিয়েই দিল্লি এবং পশ্চিমাঞ্চলের রমরমা। অশোক মিত্রের বর্ণনা অনুযায়ী সে বছর যোজনা কমিশনের অবশেষে পশ্চিমবঙ্গকে তার যথাযথ ভাগ দিতে সুপারিশ করে। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী সেই সুপারিশ খারিজ করেন। এ কোনো রাজনৈতিক স্লোগান বা লাইন নয়, কিন্তু মূল ন্যারেটিভটি ছিল এইরকমই। যা লোকে বিশ্বাস করত। ... ...

সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিনেমা দেখার জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে। কোভিড জনিত লকডাউন পরিস্থিতিতে প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ থাকায় ওটিটি গুলি লাভবান হয়েছে। আগামী দিনে সিনেমা হল খুললেও দর্শক কতটা ফিরে আসবেন তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। এর ফলাফল কী হবে, কারা লাভবান হবেন আর কাদের হবে ক্ষতি সেটা নিয়ে নানা ভাবনা মাথাচাড়া দিচ্ছে। এই লাভ ক্ষতির হিসেবটা সবসময়ই আপেক্ষিক। দর্শক হিসেবে আমাদের কি প্রাপ্তি, সিনেমার ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে আর আর্ট হিসেবে বিকাশের পথে এই পরিস্থিতি কতটা সহায়ক তা নিয়ে নানা ভাবনার সমাবেশ দরকার। তার প্রাথমিক সূত্রপাত এই লেখাটি। ... ...

'ফাল্গুনী'তে চন্দ্রহাস আর তার দল হইহই করে বেরিয়ে পড়েছিল; 'ছেলেধরা' বুড়োকে ধরে আনবে বসন্তোৎসবে। কিন্তু বুড়োর টিকিটি কেউ কোনোদিন দৈবাৎ দেখে থাকলেও, তাকে পাওয়া কী আর অত সহজ! ... ...

শিক্ষাচার্য বিদ্যুৎকুমার মধ্যাহ্নের দিবাস্বপ্ন দেখছিলেন। এমন সময় প্রধানসেবক এসে কাঁচুমাচু মুখে জানালেন -- চারদিকে কি লেখা হচ্ছে জানেন স্যার? বিদ্যুতের বড্ড তেজ করে দেব লো ভোল্টেজ। শুনে বিদ্যুৎকুমারের স্থির ভ্রূ কিঞ্চিৎ কুঞ্চিত হল। তিনি দাঁত খিঁচিয়ে বললেন, লো-ভোল্টেজ? দেখাচ্ছি তোদের। যন্ত্রবিদ, ইধার আও। আজ থেকে গোটা বিশ্বভারতীতে সারা রাত গনগন করে আলো জ্বলবে। কোথাও কোনো আলো নিভলেই, তোমার চাকরি নট। ... ...

সেখানে কামাল পাশার সঙ্গে আনোয়ার পাশার নামও উল্লেখ করেছেন। এই আনোয়ার পাশা কামাল পাশার আগে তুরস্ক জয় করতে গিয়ে হেরে গিয়েছিলেন। যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারান, তাঁর সংগ্রামের রাস্তা কামাল পাশার থেকে আলাদা ছিল। তবু তিনি আনোয়ার এর নাম রেখেছিলেন তাঁর কারণ তিনি দেশের জন্য লড়াই করেছেন যে বীরেরা, তাঁদের বন্দনা করেছেন, শুধু জয়ীদের নয়। এ কথাও সত্যি কবিতাটি তিনি যখন লেখেন তখনও কামাল পাশা জয়ী হয়ে উঠতে পারেন নি। জয়লাভ করেছিলেন পরে। তিনি এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে শুধু জয়ীকেই বন্দনা নয়, সংগ্রামীকে বন্দনা করা হবে। সংগ্রামী মানেই সম্ভাবনা। ... ...

এই ন্যারেটিভের প্রথম লক্ষণ হল, আফগানিস্তানকে আফগানিস্তান বানানোর জন্য পাকিস্তান, চিন এবং কখনও সখনও দুষ্টু রাশিয়াকে দায়ী করা। আর আমেরিকাকে স্রেফ একটু ব্যর্থতার জন্য সমালোচনা করা। আমেরিকা আফগানিস্তানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে লাট করেছে, সে নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু উদ্দেশ্য তো ভালোই ছিল, গণতন্ত্রই তো গড়তে গিয়েছিল। মানুষকে ধর্মান্ধতা থেকে স্বাধীনতা দিয়েছিল, মেয়েদের দিয়েছিল ওড়ার আকাশ। কাইট রানার সেই পশ্চিমী স্বাধীনতার প্রতীক, মালালা হল মুখ। এখন আমেরিকার পিছিয়ে আসায় সে আকাশ ভেঙে পড়ে যাচ্ছে, এবার অ্যাসিড বৃষ্টি আসন্ন -- এরকম একটা ভাব। তো, এ ন্যারেটিভ এতই মোটাদাগের, এবং এতটাই অলীক, যে, আলাদা করে সমালোচনা করার এমনি কোনো কারণই নেই। তবু লেখা যখন হচ্ছে, তখন সংক্ষেপে, স্পষ্ট করেই বলা যাক, বাস্তবতা থেকে এসব অনেক দূরে। ইন্দোনেশিয়া থেকে আফগানিস্তান হয়ে আরব পর্যন্ত মৌলবাদীদের উত্থানে সক্রিয় ভূমিকা, মদৎ ছিল কাদের তা কোনো গোপন তথ্য নয়। আফগানিস্তানে মুজাহিদিনদের প্রশিক্ষণ, সৌদি আরবের অগাধ কনট্র্যাক্ট, এবং তালিবানদের সঙ্গে চলমান আলোচনা, এসব নিশ্চয়ই গণতন্ত্র এবং নারীর অধিকারের স্বার্থে করা হয়নি। বস্তুত জঙ্গী ইসলাম, মূলত প্রত্যক্ষভাবে পশ্চিমের তৈরি। ... ...

আমি আগ্রহ আরও হারিয়ে ফেললাম কারণ তিনি তখন মরিয়া হয়ে প্রথা ভাঙতে চাচ্ছেন। মৌলবাদের প্রতি প্রচণ্ড আক্রোশ তৈরি হয়েছে, ফলে ধর্মকে নানান ভাবে আঘাত করছেন, আঘাতের অস্ত্র সব সময় সুবিধার না। গাছে মাছে আক্রমণ চলছে তখন। এবং তখনই সম্ভবত দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। ধর্মকে আক্রমণ করে এর আগেও অনেকেই অনেক কথা বলেছেন। তাদের প্রতি মানুষ এই রকম বিরক্ত হয়নি। তাদের কথা পছন্দ হয়নি, হয়নি, চুপ করে থেকেছে। কারণ তাদের বলার ধরন অন্য রকম ছিল, তাতে সম্ভবত সাহিত্যের গুণাগুণ বেশি ছিল। তসলিমা নাসরিন কোনমতেই আহমেদ শরীফের চেয়ে বড় নাস্তিক ছিলেন না, হুমায়ুন আজাদের চেয়ে কঠোর কথা তিনি বলেন নাই তাও হয়ত বলা চলে। এরপরেও তাঁকে এঁদের চেয়ে বেশি গালাগালি শুনতে হয়েছে। এর কারণ এক যা বললাম, বলার ধরন অনেকের পছন্দ হয়নি আর দ্বিতীয়ত তিনি নারী! নারীর মুখে এই সব শুনতে আমরা রাজি না। ... ...

এই মরশুমের অন্য খেলাটি কৌতুহলোদ্দীপক। আফগানিস্তানের অর্থনীতি চলে আফিম, ফল ও বন্দুকের কুটির শিল্পের উপর। ফল ছাড়া দুটি পণ্যই আন্তর্জাতিক বাজারে বেআইনী। কিন্তু কিন্তু কিন্তু - আজারবাইজানের তেল করাচীর বন্দরে আনতে গেলে আফগানিস্তানের জমিনে কব্জা লাগবে। চীন-পাকিস্তান সেই কারনেই তালিবানের পাশে। করাচী থেকে রাস্তা তৈরীর কাজ বহুকাল ধরে চীন চালাচ্ছে। এই সাফল্য যতটা তালিবানেদের তার চেয়ে বেশী চীনের। ... ...


কামাখ্যার যোনিপূজার ধুপেরধোঁয়ার সঙ্গে আজকের সতীর যোনি থেকে টেনে বের করা অন্ত্রের কুন্ডলীতে স্বাধীনতা পরাধীনতা মিলেমিশে এক হয়ে যায়। এখনকার দুর্গার লড়াইটা সেখান থেকেই– ... ...


নায়িকা দুধে ধোয়া তুলশী পাতা? না, তা নাই হতে পারে। সমস্যা হচ্ছে কেউই দুধে ধোয়া তুলশী পাতা না। রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিষ, শিরায় শিরায় দুর্নীতি। আপনে সব কিছু ফেলে ঝাঁপিয়ে পড়লেন নায়িকার উপরে। সমাজ নষ্ট করে দিচ্ছে, ছেলেপেলে উচ্ছন্নে যাচ্ছে সব। তরুণ সমাজকে উদ্ধার করতে নায়িকাকে বন্দী কর। নায়িকা বন্দী, এখন আর চিন্তা নাই, সমাজ রক্ষা পেল, দেশ উদ্ধার হয়ে গেল। দেশের আর কোন সমস্যা থাকল না, দুই তিনশ করে মানুষ এখন আর করোনায় মারা যাবে না, কালকে থেকে গণহারে সবাই টিকা পেয়ে যাবে, প্রতিটা হাসপাতালে আইসিউ বসে যাবে, অক্সিজেনের নহর বয়ে যাবে এখন থেকে। আমরা মূর্খ সুর্খ মানুষ, আমরা ভেদের খবর কি অত জানি? সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গেছে বাংলাদেশে, প্রতিটা নিউজ পোর্টাল ব্যস্ত নায়িকার বাসার ভিতরের ভিডিও নিয়ে, শোয়ার আর হাগার ঘরের ভিডিও নিয়ে! এমন সুযোগ বারেবারে আসে? এখন এইটাই খবর, বাকি সব ভুলে যাও। এক জিনিস বেশিদিন মনে রাখতে পারবেন না, তাই সামনে আরও নায়িকা, মডেল ধরা হবে। লকডাউন উপভোগ করতে থাকুন, আপনার বিনোদনের দায়িত্ব নিয়ে নেওয়া হয়েছে। ... ...

বলপূর্বক টীকাকরণ সহ বলপূর্বক যে কোনও কিছু চাপিয়ে দেওয়ার "রাষ্ট্রীয় ইচ্ছা"টির সর্বৈব বিরোধিতা হওয়া প্রয়োজন; তা টীকা হোক কিংবা ভাষা অথবা মতাদর্শ। ... ...

বিদেশিদের ইতিহাসে তিনি ‘বিশে ডাকাত’ হলেও আমাদের শ্রদ্ধায় মুছে যাক সে ইতিহাস, অক্ষয় হোক শহিদ বিশ্বনাথ সর্দারের নাম স্বাধীনদেশের ইতিহাসের পাতায়। ... ...

কিউবার বিপ্লবকে নতুন আলোয় দেখার চেষ্টা করা আজ প্রয়োজন। তার বৈশিষ্ট্যকে অনুধাবন করে, তার প্রাণবস্তুকে আহরণ করে ভারতীয় বাস্তবতার সঙ্গে তাকে অন্বিত করার চেষ্টা খুব জরুরী। হয়তো সেই স্বপ্নসম্ভব রোমান্টিক আদর্শবাদের স্ফূরণের কাল আজ নেই, কিন্তু আদর্শবাদ আর শুদ্ধতার আবাহন, সংকীর্ণতার বিসর্জনের অনেক সম্ভাবনা রয়ে গেছে যার উৎসভূমিতে কিউবার সেই রূপকথাসম বিপ্লবের ইতিহাসমন্থন আমাদের ফিরে যেতে প্ররোচিত করে। ... ...