
অনুষ্ঠানের নাম ঘরের বায়োস্কোপ। কদিন আগে হয়ে যাওয়া টিভি নাইন আয়োজিত বাংলা সিরিয়াল, ওটিটি এসবের পুরস্কার-প্রদান অনুষ্ঠান। এইসব গুচ্ছের হয় জানি, দেখিনা, কিন্তু প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের প্রত্যাখ্যান করার ঘোষণার পর আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় খানিকটা দেখেই ফেললাম। পুরোটা দেখিনি, অনেক লম্বা, কিন্তু যেটুকু দেখিলাম, জন্ম-জন্মান্তরে না হলেও, অনেকদিন ভুলবনা। প্রদীপ্ত কিছু ভুল বলেননি। রাজনীতিকরা যে টিভি-সিরিয়ালের জগতে এত গুরুত্বপূর্ণ, সে এই অনুষ্ঠান না দেখলে জানতেই পারতামনা। মঞ্চে যাঁদের দেখলাম, তাঁদের মধ্যে সবার উপরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। দিল্লিতে তখনও কুস্তিগীরদের ধর্ণা চলছে, কেন্দ্রীয় সরকারের দিল্লি পুলিশ তাঁদের ঠ্যাঙাচ্ছে, আর ক্রীড়া ও সম্প্রচার মন্ত্রী এসে মঞ্চ আলো করে বাণী দিচ্ছেন। তিনি সম্প্রচারের জগৎই বদলে দিচ্ছেন, অনূর্ধ উনিশ ক্রিকেট দলে ছিলেন, পরিচিতিতে এইসব বলা হল। খাঁটি ইংরিজিতে, আহা বেচারি বাংলা বোঝেননা। তিনিও প্রচুর ভালো-ভালো কথা বললেন ভাষণে। মিঠুন আর সত্যজিৎএর একই রকম প্রশংসা করলেন, রবীন্দ্রনাথকে রবিন্দরনাথ বললেন, নিজেরও পদবী ঠাকুর, তবু টেগোর বললেন, উচ্চারণটা শিখে নেবারও প্রয়োজন বোধ করেননি। বললেন অবশ্যই হিন্দিতে, পশ্চিমবঙ্গের সকল মানুষের হিন্দি জানার কথা, আর ওঁরা উচ্চারণ অবধি না জানলেও চলবে, এই বা কে না জানে। ... ...

ট্রাইবাল টেনেন্সি অ্যাক্টগুলো মেয়েদের উত্তরাধিকার আর বহির্বিবাহ দুইয়ের ক্ষেত্রেই বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ভারতের সাতশো খানা ট্রাইবের সাতশো আলাদা আলাদা বৈবাহিক আর উত্তরাধিকার আইন আছে। অনেক আইনই নথিবদ্ধ নয়। কিছু আইন ব্রিটিশরা লিখিত আকারে আনে।ইউনিফর্মিটি আনার জন্য প্রথম কাজ হবে সাতশোখানা আইন স্টাডি করা। ... ...

ট্রাইবাল স্টেটাস নিয়ে একটা বড় আর একটা ছোটখাটো সংঘাত দেশে চলছে। সমস্যাটা হল ট্রাইবালের সংজ্ঞা নির্ধারণে। ট্রাইবাল স্টেটাস শুধু চাকরি আর উচ্চশিক্ষায় সংরক্ষণ নয় সেখানে জমির অধিকারের প্রসঙ্গও আসে ... ...

ভারতীয় এবং পাশ্চাত্য মতে, শুদ্ধ সুর সাতটি। কোমল ধরলে বারোটি। সুর এই বারোটিই কেন, এ নিয়ে ফেসবুকের একটি গ্রুপে একটি প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলাম। সেখানে সংক্ষেপে লিখেছি। পুরো জিনিসটি এখানে লিখে রাখলাম, যদি কারো আগ্রহ থাকে তো পড়বেন। আঁক-টাক কষা আছে। অঙ্ক অপছন্দ হলে এর পরে আর এগোবেননা। আরও একটি কথা এখানে বলে রাখা দরকার। এই পুরো জিনিসটিই মূলত পাশ্চাত্য সঙ্গীততত্ত্বের নানা জায়গায় টুকরো-টাকরা করে পড়েছি। কিন্তু সেখানে অঙ্ক ছিলনা। হয়তো উচ্চতর শাস্ত্রে আছে। কিন্তু আমার বিদ্যে ততদূর গড়ায়নি। এছাড়া সঙ্গীত প্রযুক্তিতেও থাকা উচিত, কিন্তু তার তত্ত্বও আমার খুব কিছু পড়া আছে এমন না। ফলে এখানে যে অঙ্ক কষা হয়েছে, সবটাই আমার নিজের কষা। নিশ্চয়ই এর আগে কেউ কষে ফেলেছেন, কিন্তু জানা না থাকায় কৃতিত্ব দেওয়া গেলনা। আর যদি বাইচান্স না কষে থাকেন, তো আমি নিউটন। ... ...

এটুকু পর্যন্ত গল্পটি যা ছিল, তা অসাধারণ অবশ্যই, কিন্তু একজন ডুবুরি পাঠককে ভেঙে তস্নস্ করার মত যথেষ্ট না। তার জন্য তাকে গল্পটি শেষ পর্যন্ত পড়ে যেতে হবে যেখানে সে দেখবে মন্নু গল্পের উত্তম চরিত্রের ভাবনার সাথে সঙ্গত না করে, লাল ঝান্ডার গোলযোগে রক্তে-ধোঁয়া-জেল-জুলুমে নিমজ্জিত না হয়ে, পরেরদিন পার্কে উপবিষ্ট একটি ‘সিন্দুর গোলাপি আভায়’ রঞ্জিত মহিলার সাথে ভ্রমন করতে আসা একটি জমকালো কুকুরের গলার বেল্টটা বাঁ হাতে চেপে ধরে এত জোরে জোরে ঘষতে থাকে যে স্নিগ্ধ সহানুভূতির হাসিতে মহিলাটিকে বলতে হয়, “এক জায়গায় অত মেহনত করলে দোস্রা জায়গায় কাজ করবি কি করে?” ... ...

সমস্যাটা হল ইন্টারমিটেন্সির। সৌর বিদ্যুতের কথাই ধরুন। ভোরবেলা থেকে সন্ধ্যা বেলা পর্যন্ত সূর্যের আলো আছে বলে সোলার প্যানেলগুলি না হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হচ্ছে, কিন্তু রাত হয়ে গেলেই তারা কার্যত অকেজো। কিন্তু বিদ্যুতের চাহিদা তো রাত্রেবেলাও থাকছে...... ... ...

এখানেই শেষ নয়। প্রচুর প্রাইভেট কোম্পানি আছে যেখানে কর্মীদের বসেরা 'বাপের চাকরে'র মতো করে ট্রিট করে। প্রচুর কোম্পানিতে লোকজনকে তাদের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলে। এটা বিশেষ করে ঘটে একজন জুনিয়র এমপ্লয়ির সাথে। একটি কল সেন্টারের কথা শুনেছিলাম যেখানে জুনিয়র বা সদ্য জয়েন করা কর্মীরা সময়মতো পৌঁছেও কোন এক রহস্যময় কারণে কিছুতেই যথাসময়ে লগইন করতে পারতেন না। ফলে, সিস্টেমে সর্বদাই তাদেরকে দেখানো হতো লেট হিসেবে। এইভাবে সারাদিন কাজ করেও তারা দিনের শেষে বাড়ি ফিরতেন অর্ধেক কাজের স্যালারি নিয়ে। ... ...

আগের বার পোস্ট গোলমাল হয়ে গিয়েছিল। আবার ট্রাই করলুম। ... ...

কে এই ভক্ত? কিসে তাঁর ভক্তি? চিত্তটিই বা কার কাছে প্রণত? ... ...

হয়তো ২০৫০ এর আগেই বিশ্বজুড়ে ক্লাইমেট ক্রাইসিস এমন একটা চেহারা নেবে যে গোটা পৃথিবী আর সবকিছু লাটে তুলে এই বিপদ কি করে সামলানো যায় সেই দিকে ফোকাস করতে বাধ্য হবে! অর্থাৎ, Covid প্যান্ডেমিকের সময় যেমন সারা পৃথিবীর ডাক্তার, বিজ্ঞানী, রাজনীতিবিদ, পুলিশ এবং আরো অনেকে এক হয়ে গিয়েছিলেন পরিস্থিতি সামাল দিতে, তেমনই আর একটা অবস্থা হয়তো আমরা আমাদের জীবদ্দশায় দেখতে চলেছি এই বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে। তবে ব্যাপারটা কিন্তু মোটেই সস্তা হবেনা। ... ...

সেঙ্গোল যতখানি রাজতন্ত্রের প্রতীক, ততখানিই ব্রাহ্মণ্যবাদের। যে ব্রাহ্মণ্যবাদকে নেহরু বাতিল করেছিলেন, মোদি এখন তাকেই সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করছেন। ... ...

প্রতিবছর দেশপ্রেমের নূতন নূতন পরীক্ষা এসে হাজির হচ্ছে। নামমাহাত্ম্য, দেশভক্তি, আবেগ, ইতিহাস আর প্রযুক্তির এক জোরদার ককটেল এখন তৈরি হচ্ছে। ... ...

এমনকি যা পরিস্থিতি আসছে তাতে ভবিষ্যতে প্রচণ্ড গরমে একেবারে হতদরিদ্র মানুষেরও সাময়িকভাবে আশ্রয় নেবার জন্য কিছু কিছু এয়ারকন্ডিশনড জায়গার ব্যবস্থা করতে হলেও আশ্চর্য হব না। তো, এই সময়ে লোকজনকে এসি ব্যবহারের এবং এসি ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে উস্কোনো একটি অত্যন্ত বড় অসভ্যতা ছাড়া আর কিছু নয়..... ... ...

নেহরুর ভারত ভাবনার মধ্যে আমাদের বেঁচে ওঠার সঞ্জীবনমন্ত্র নিহিত আছে যদিও আজ তা সর্বাপেক্ষা আক্রান্ত, আজাদীর এই অমৃতকালেই আরো বেশি করে যেন বা। আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পণ্ডিত নেহরুকে পেয়েছিলাম। নেহেরু সংবিধানের অবজেকটিভ রেজোলিউশন উপস্থাপন করেছিলেন কনস্টিটিউশনাল অ্যাসেম্বলির কাছে। হিন্দুত্ববাদীদের মিথ্যা ট্রোলগুলি, হোয়াটস অ্যাপের মিথ্যাগুলিকে একটু অনুসন্ধান করলেই মিথ্যের বেসাতিটা ধরা পড়ে। ভারত ভাবনার মূল রূপকার পণ্ডিত নেহরু এদের আক্রমণের অন্যতম লক্ষ্য। ... ...




তামাম বাংলা-বাঙালি তথা ভারতীয় উপমহাদেশের মনের জমিতে ক্রিকেট খেলাটিকে যিনি প্রথম রোপণ করেছিলেন সেই সারদারঞ্জন রায়ের আজ ১৬৫তম জন্মদিন। আজ সারাদিন কাজী নজরুলের জন্মতিথিতে তো সব্বাই তাঁকে স্মরণ করেছেন নানা ভাবে। আমি বরং "ভারতীয় ক্রিকেটের W. G GRACE". তথা ক্রিকেটার-অধ্যাপক-সংগঠক সারদারঞ্জন রায়কে আজ স্মরণ করি। 'ক্রিকেটপাগল' বাঙালিকে যিনি 'পাগল' হতে শিখিয়েছিলেন এই আই পি এলের ভরা মরশুমে বরং বিস্মৃতির ধুলোয় আবছা হয়ে যাওয়া সেই সারদারঞ্জনের কৃতি জীবন আর অনন্য উদ্যোগগুলিকে আরেকবার ফিরে দেখি আজ। ... ...

গ্রিনল্যান্ডের অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি সায়েন্স স্টেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ওখানকার গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রার বৃদ্ধি হয়েছে ১১° সেলসিয়াস! লাইনটা পড়ে যদি চমকে না গিয়ে থাকেন তাহলে আরেকবার ভালো করে পড়ুন....... ... ...

আজ মৃণাল সেনের জন্মশতবর্ষ শুরু হল।প্রতিবাদ আর আত্মসমালোচনার যে যুগল সাধনার পথ তিনি দেখিয়ে গেছেন তার কোনো বিকল্প আজ পর্যন্ত পাই নি আমরা। এমনকি সেই পথে সঠিকভাবে হাঁটার সাহসটুকু পর্যন্ত দেখাতে পারিনি ঠিকভাবে, যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এই দুঃসময়ে। ... ...