
অনুব্রত মণ্ডল ছিলেন বীরভূমের বেতাজ বাদশা। বিখ্যাত উক্তি চড়াম-চড়াম। নরমে গরমে বীরভূমকে কার্যত বিরোধীশূন্য করে ছেড়েছিলেন। রাস্তায় উন্নয়ন দাঁড়িয়ে আছে বলেছিলেন। খুব হইচই হয়েছিল সে সময়। খুনের চেষ্টার অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। শঙ্খ ঘোষ লিখেছিলেন, "খড়্গ হাতে দাঁড়িয়ে আছে উন্নয়ন।" অনুব্রত আবার বলেছিলেন, কে এই কবি? সেই নিয়ে প্রচুর লেখালিখি। এই অধমও লিখেছিল কিছু। তারপর এলো ইডি-সিবিআই যুগ। গরু পাচারের দায়ে গ্রেপ্তার করা হল অনুব্রতকে। নতুন আইনের বলে। যাতে কোনো প্রমাণ লাগেনা। মিডিয়া হইচই করে লাফালেও আমি বলেছিলাম, সারা ভারতের মতো এটাও সম্পূর্ণ 'ফাঁসানো'র কেস। তার উপর গরু পাচার, সাম্প্রদায়িকতার তকমা লাগানো একদম। গুন্ডামি-জবরদখল, সবকটা ঠিক, তার বিরুদ্ধে জনসমাজে হইচই ফেলাও উচিত, কিন্তু এটা একেবারেই সেই কেস না। এর বিরোধিতা করা প্রয়োজন। তাতে অনেকেই খুব রেগে গিয়েছিলেন। মনীশ, কেজরি, প্রবীর সব কেসেই এজেন্সি ক্ষমতার অপব্যবহার করে খালি অনুব্রতর কেসে নয়, এই ছিল বক্তব্য। ... ...

অভিজিৎ মণ্ডল এবং সন্দীপ ঘোষকে কাল আবার তোলা হয় আদালতে। তাঁরা জামিন পাননি। শুনানির বিশদ বিবরণ পাওয়া যায়নি। যা পাওয় গেছে সেটা খুবই কৌতুহলোদ্দীপক। মোটামুটি এইঃ আদালতঃ এই মামলায় দু’টি দিক আছে। ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় সহ-যড়যন্ত্রকারী? না কি সাক্ষ্যপ্রমাণ লোপাটের সহ-ষড়যন্ত্রকারী? এমন কোনও প্রমাণ আছে? অভিযুক্তেরা কোনও অ্যালিবাই দিচ্ছেন? সিবিআইঃ হ্যাঁ, দিচ্ছেন। সিবিআইঃ টালা থানার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, উনি (অভিজিৎ মণ্ডল) ঘটনার দিন, অর্থাৎ ৯ অগস্ট সকাল ১০টার সময় থানায় ছিলেন না। কোথায় ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আদালতঃ আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার আগাম খবর কি সন্দীপ ঘোষদের কাছে ছিল? সিবিআইঃ এখনও পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনও তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে ব্যাপারটা উড়িয়ে দেওয়া যায়না। ... ...

কলতান দাশগুপ্ত দীর্ঘ শুনানির পর হাইকোর্টে জামিন পেয়েছেন। বিচারক রায়ে বেশ কটি কারণ দেখিয়েছেন। মোটামুটি ভাবে এই, যে, গ্রেপ্তারটি পদ্ধতিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ। সর্বোচ্চ সাত বছরের কম সাজা হতে পারে, এরকম মামলায় জামিন দেওয়াই বৈধ। এছাড়াও অভিযুক্তের কোনো অপরাধমূলক অতীত নেই। কাউকে হুমকি দেবার আশঙ্কা নেই, কারণ অভিযোগকারী পুলিশ। পালিয়ে যাবার আশঙ্কা নেই, কারণ তিনি একটি পত্রিকার সম্পাদক। এরকম অনেকগুলি কারণ দেখানো হয়েছে। শেষে বলা হয়েছে, "বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ধরে রাখতে এবং পুনরুদ্ধার করতে এফআইআরে নাম উল্লেখিত অভিযুক্তকে জামিনে মুক্তি দেওয়া উচিত।" কৌতুহলোদ্দীপক ব্যাপার হল, সঞ্জীব ওই একই অভিযোগে জামিন পাননি। কেউ তাঁর হয়ে বোধহয় সওয়ালও করেননি, বিচারকও মাথায় রাখেননি। আরও কৌতুহলোদ্দীপক ব্যাপার হল, কলতানের উকিলরা অডিওটেপ যে বানানো, বলেননি। শুধু বলেছেন, ওটা কলতান বা সঞ্জীবের রেকর্ড করা নয়। সরকারপক্ষের উকিল বলেছেন, কলতান স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন এবং তাঁর কল লিস্ট যাচাই করেই এগোনো হয়েছে। এটারও কেউ বিরুদ্ধতা করেননি। ... ...

আর এই দৃষ্টিকোন থেকেই সম্ভবত ইসলাম-পূর্ববর্তী আরব উপদ্বীপের ভাষাগত পরিস্থিতির উপর পশ্চিমা আরব-তাত্ত্বিকদের মতামতে বড় ধরণের গরমিল দেখা যায়। অধিকাংশ পশ্চিমা আরব-তাত্ত্বিকদের মতে, জাহিলিয়ার অন্ধকার যুগে গোত্রগুলোর দৈনন্দিন কথ্যভাষার সাথে কোরান ও কাব্যসাহিত্যের ভাষার একটি প্রণিধানযোগ্য পার্থক্য ছিল। পরবর্তী ধরণটিকে সাধারণত আখ্যায়িত করা হত ইসলাম-পরবর্তী উপভাষা বা ‘পোয়েটিকো-কোরানিক কোইন’ হিসেবে। আর আরব সম্প্রদায়গুলোর মুখের কথ্যভাষাকে ফেলা হত ‘ইসলাম পূর্ববর্তী’ উপভাষার শ্রেণীতে। আর উপরোক্ত তাত্ত্বিকদের ভাষ্য অনুসারে, এই কণ্ঠ নিঃসৃত উপভাষাগুলো ইতিমধ্যেই হারাতে শুরু করেছিল ধ্রুপদী আরবীর অল্পস্বল্প বৈশিষ্ট্য, বিশেষ করে, কারক সমাপ্তির মত বিষয়গুলোতে। ... ...

পা চাটা শব্দটা দিয়ে একটা সর্বজনীন নিকৃষ্ট মানের চাটুকারদের চিহ্নিত করা যেত। একটা হীনমানের মনোবৃত্তিকে চিহ্নিত করা যেত। তার ভেতরে পৃথক কোন দল গোষ্ঠী সম্প্রদায় বোঝাতো না। ধরুন পা চাটা বললে সিদ্ধার্থ শংকরের পা চাটা হতে পারে, আবার জ্যোতি বসুর পা চাটা হতে পারে, দুইই। ধরুন না, দেবকান্ত বড়ুয়া যখন বলেন "ইন্ডিয়া ইজ ইন্দিরা এন্ড ইন্দিরা ইজ ইন্ডিয়া" এটা পা চাটার একটা নমুনা বলা যায়। কিন্তু পা চাটা শব্দটা নিজে দেবকান্ত বড়ুয়া বা ইন্দিরা গান্ধী এদের নির্দিষ্ট করে না। আবার যখন সম্বিত পাত্র বলেন "জগন্নাথ দেব নিজেই নরেন্দ্র মোদির ভক্ত" কেউতো পা চাটলো। কিন্তু পা চাটা শব্দটা নিজে এখানে সম্বিত বা মোদি কে নির্দিষ্ট করে না। সেই বিচারে চটি চাটা শব্দটা অনেক বেশি সুনির্দিষ্ট। আপনি বলতেই পারেন তর্কের খাতিরে বুদ্ধদেব বাবুও চটি পড়তেন। তবে কি চটি চাটা বলতে অন্ধ সিপিএম ভক্তকে বোঝায়? নিশ্চয়ই না, বোঝায় না। ... ...

সুপ্রিম কোর্ট এবং শিয়ালদা কোর্ট, সব মিলিয়ে দেখলে নানারকম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এখনও একজনই অভিযুক্ত, তিনি যে নন কেউ বলছেনা। প্রমাণ লোপাটে জড়িত যাঁরা, তাঁদের সংগ্রহ করা প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার সেই অভিযুক্ত। তাহলে লোপাট হল কী? এই নিয়ে নানা জল্পনা বাজারে চলছে। সেসব এখানে উল্লেখ করা হলনা, তবে আন্দাজ করা যায়, হয় ভয়াবহতম কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা একেবারেই প্রকাশ করা যাচ্ছেনা, তেমন হলে সেটা প্রশাসনের ভিত নাড়িয়ে দেবে। অথবা এজেন্সি পরস্পরবিরোধী কথা বলছে, যেটা হলে এজেন্সির বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে ঠেকবে। কোনটা জানার কোনো উপায় নেই। কারণ কোনো আপডেট নেই। ... ...

এই পর্যায়ে এইরকম অদ্ভুত শুনানি আমি শুনিনি। স্ট্রিমিং শুরু হয় দেরিতে, বিভিন্ন জায়গায় নানা টুকরো। শুনে, জুড়ে টুড়ে হয়তো করা যেত, কিন্তু অতটা চাপ নিলে অনেকদিন লাগবে, তাই লাইভ-ল এর উপরেই ভরসা করতে হল। তারা যদি এক আধটা কথা বাদ দিয়ে থাকে, তো সেটা অনুবাদেও নেই। দ্বিতীয় আরেকটা কথা না বললেই নয়, যে, এটা শুনতে, পড়তে এবং অনুবাদ করতে গিয়ে কীকরকম নেটফ্লিক্সের ওয়েব-সিরিজের কথা মনে হচ্ছিল। নির্যাতিতার বাবার চিঠি, তদন্তের কিছু গভীর ব্যাপার, যা কিছুতেই প্রকাশ করা যাবেনা, কিন্তু তার অদ্ভুত সব ইঙ্গিত দেওয়া হবে, যা থেকে সবরকম মানে করা যায়। জল্পনা, সূত্র কোনোকিছুরই কোনো আদি বা অন্ত নেই, সেটাকেই বস্তুত ধোঁয়া দেওয়া হল, এবং নানা জল্পনা আবার ছড়িয়েও পড়েছে। সিবিআই আজ অবধি কোনো আপডেট দেয়নি। কোর্টেও তদন্ত নিয়ে স্রেফ অদ্ভুত সব ইঙ্গিত, ঠিক যেন পরের এপিসোড পর্যন্ত আগ্রহ জিইয়ে রাখার জন্য। ... ...

সকাল থেকেই কুনাল ঘোষ এবং দেবাংশু ভট্টাচার্যের একটি অবমাননাকর আলাপ নিয়ে ইন্টারনেট তোলপাড়। এক অভিনেত্রী এবং আন্দোলনকারীর ছবি বা ভিডিও দিয়ে ( জানা মুশকিল, কারণ পোস্ট মুছে দেওয়া হয়েছে) কুনাল দেবাংশুকে জিজ্ঞাসা করেন, পাত্রী হিসেবে কেমন? দেবাংশু লেখেন, দজ্জাল, কাজ নেই, বদন বিগড়ে গেছে, ইত্যাদি। কী কারণে এই রসালাপ? কুনাল দাবী করেন, পরে মিলিয়েও দেখা গেছে, ওই অভিনেত্রী একটি চ্যানেলে অন ক্যামেরা এই দুজনকে গালিগালাজ করেন। দেবাংশুকে বলেন 'কালিঘাটের কুলি'। কুনাল এবং দেবাংশুকে গণধোলাই দিলে কে বাঁচায় তিনি দেখবেন। এবং ডাক্তারদেরও চিকিৎসা করতে বারণ করেন। এই বক্তব্যটা নিয়ে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ... ...

১। সন্দীপ ঘোষ এবং অভিজিৎ মণ্ডলকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, আদালতে সিবিআইয়ের বক্তব্য থেকে। কার্যবিবরণী হাতে আসেনি। কিন্তু সংবাদপত্রের রিপোর্টে পাওয়া গেছে সাত দফা সন্দেহঃ ক। ওসি ঘটনাস্থলে দেরিতে পৌঁছেছিলেন। খ। দ্রুত ঘটনাস্থল ঘেরার কাজ করতে ব্যর্থ। গ। এফআইআরএ দেরি। ঘ। ভিডিওগ্রাফি ঠিকঠাক হয়নি। ঙ। পরিবারের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের দাবী না শুনেই দাহ। চ। মৃত্যুর শংসাপত্র দিতে দেরি। ছ। মৃত বুঝেও অভিযোগপত্রে ' অচৈতন্য' লেখা হয়েছে। ... ...

সকাল শুরু হল কলতান দিয়ে। আগেরদিন যে অডিও ক্লিপ 'ফাঁস' হয়েছিল, সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্তকে তার একটি কণ্ঠস্বর হিসেবে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করেছে পঃবঃ পুলিশ। তারা একটা সাংবাদিক সম্মেলনও করেছে, অভিযোগটা যথাযথ বলে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক ক্লিপটিকে জাল, এবং পুরোটাকেই চক্রান্ত বলেছেন। মোসাদ, সিআইএ, এদের কাছ থেকে ট্রেনিং নিচ্ছে কলকাতা পুলিশ, বলেও দাবী করেছেন (যদিও গ্রেপ্তারটা করেছে রাজ্য পুলিশ)। সেলিমের লিখিত বিবৃতিটি পুরো পাইনি। পেলে লিংক দিয়ে দেব। আপাতত মৌখিক বিবৃতিটি রইল। ... ...

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ডাক্তারদের আলোচনা হয়নি। এই ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী একটি লম্বা সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন। ডাক্তারাও গতকাল তাঁদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে একটি ভিডিও নিজেদের পাতায় প্রকাশ করেছেন। তাতে পাঁচটি দাবীর কথা বলা হয়েছে। সেগুলি সংক্ষেপে এরকমঃ (বিশদে জানার জন্য ভিডিওটি দেখে নিন) ১। ন্যায়বিচার এবং দ্রুত তদন্ত। ২। সন্দীপ ঘোষ সহ স্বাস্থ্য অধিকর্তারা, যাঁরা দুর্নীতিতে জড়িত তাঁদের শাস্তি। ৩। বিনীত গোয়েলের অপসারণ এবং ডিসিপি নর্থ, সেন্ট্রাল ইত্যাদির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা( তদন্তকে ভুল পথে চালনা করা, টাকা দিতে চাওয় ইত্যাদি কারণে)। ৪। হাসপাতালে নিরাপত্তা সুরক্ষা, বাথরুম, সিসিটিভি ইত্যাদি ৫। স্বাস্থ্যবববস্থার উন্নতির একগুচ্ছ প্রস্তাব। নির্বাচন। এগুলো আগের পাঁচ-দফা + কর্তাব্যক্তিদের পদত্যাগ থেকে কিছুটা আলাদা। এই বদলে যাওয়া, সংযোজন, ইত্যাদি এর আগেও হয়েছে। লিখিত আকারে দাবীগুলো কোথাও রেখে দিলে ওঁরা ভালো করতেন। হয়তো আছে, কিন্তু পাইনি। কেউ পেলে জানাবেন। এছাড়াও এই দাবীর এক থেকে তিন মূলত কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাছে হবার কথা। ওঁরা তাদের জানাবেনও বলেছেন। কিন্তু সেটা এখনও হয়নি, কবে কীভাবে হবে, বলেননি। ... ...

সবাই জানেন, তবু টুকতে গেলে টুকে রাখতেই হবে, যে, ডাক্তার-সরকার দড়ি-টানাটানি গত দুদিনে প্রচুর মিডিয়া টিআরপি তৈরি করলেও নিট ফল শূন্য। মঙ্গলবার নবান্নের তরফে মেল করে জুনিয়র চিকিৎসকদের বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। তার বয়ানও বেরিয়েছে। আন্দোলনকারীদের তরফে বলা হয়েছিল, মেলের বয়ান অপমানজনক। তাঁরা উত্তর দেবেননা। কিন্তু উত্তর দেন। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সাংবাদিক সম্মেলনে রাত ৩ঃ৪৫ এ আসা মেল নিয়ে কটাক্ষ করেন। বুধবার নবান্ন আবার মেল করে। আন্দোলনকারীদের তরফে উত্তরও দেওয়া হয়। বলা হয়, তাঁদের চারটি শর্ত মানতে হবে, যাঁর মধ্যে অন্যতম হল, মুখ্যমন্ত্রীকে বৈঠকে উপস্থিত থাকতে হবে। এর পর বৃহস্পতিবার মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ আবার মেল পাঠান আন্দোলনকারীদের। জানিয়ে দেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রীও। তবে বৈঠকের সরাসরি সম্প্রচার চেয়ে জুনিয়র ডাক্তারেরা যে শর্ত দিয়েছিলেন, তা মানা হবে না। ১৫ জনকে আসতে বলা হয়। এরপর আন্দোলনকারীদের ৩০ বা ৩৫ (দুটো বয়ানই পড়েছি) জনের প্রতিনিধিদল নবান্নে উপস্থিত হয়। কিন্তু সরাসরি সম্প্রচার না হলে আলোচনায় যোগ দেবেন না, বলা হয়। সরকারের তরফে ভিডিও রেকর্ড করার কথা বলা হয়, যা সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া হবে। কিন্তু আলোচনায় রাজি হননি আন্দোলনকারীরা। ফলে আলোচনা হয়নি। ... ...

সীতারাম ইয়েচুরিকে প্রথম দেখি, খুব নিশ্চিত নই যদিও, ১৯৮২ সাল নাগাদ। দিল্লিতে বেড়াতে গিয়ে ছিলাম এক মাস, তখন আমাকে প্রায় তীর্থ দর্শনের মতো সিপিএমের সেন্ট্রাল কমিটির আপিস দেখানো হয়েছিল। সেই অফিসটা ছিল রাজেন্দ্রপ্রসাদ রোডের ধারেকাছে, দেখতে যাবার সময় আমার হাতে ছিল একটা ক্রিকেট ব্যাট, খেলতে খেলতেই চলে গিয়েছিলাম, কারণ যেখানে থাকতাম, তার থেকে হেঁটে মিনিট দুই। ব্যাট দেখে গোটা কেন্দ্রীয় কমিটির অফিস খুব উৎসাহিত হয়ে পড়ে, তার পর থেকে মাঝে-মধ্যেই হানা দিতাম। কোনো কোনো দিন অনেক প্লেয়ার জুটতো, কোনো কোনোদিন জুটতনা। নিরাপত্তার দায়িত্বে যিনি ছিলেন, তিনিই সম্ভাব্য খেলোয়াড়দের ডাকাডাকি করতেন। এরকম একজন খেলোয়াড়ের কথা মনে করতে পারি, যার ঝাঁকড়া চুল, সবই কালো। ইয়েচুরিই কিনা বলা শক্ত, নামের ব্যাপারটা জানতামই না, উনি কেন্দ্রীয় কমিটির অফিসে অতদিন আগে কী করছিলেন তাও জানিনা, তবে যদি উনিই তিনি হন, তো খুব খারাপ বল করতেন। কেমন ব্যাট করতেন জানিনা, কারণ সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির কাউকে ব্যাট করতে দিইনি, আমিই করতাম। ... ...

আর যেটা আরো প্রাথমিক, বা বলা ভালো, সত্যিকারের দরকার সেটা হ'ল "ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং"। একটু তলিয়ে, গভীরে গিয়ে ভাবা। বেশির ভাগ ভুয়ো খবর-ই কিন্তু অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য অন্ততঃ একেবারে ভয়ানক অবিশ্বাস্য না। সেই জন্য নিজের বায়াসকেও প্রশ্ন করতে হবে প্রতিনিয়ত। এই যেমন আমার সামান্য বাঁদিকে কান্নিক, আমাকে কেউ যদি বলে বিজেপির প্রোটেস্ট মিছিলে চটুল নাচ হচ্ছে স্টেজে, বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হবে। যেমন হয়েছিল গুচ্ছ লোকের। আমার বন্ধুদের-ও কেউ কেউ শেয়ার করেছিলেন। পরে জানা গেলো ঐটা নবদ্বীপের একটা মেলার ভিডিও। এই প্রোটেস্টের সাথে সম্পর্কহীন। কাজেই “এমনটা হতেই তো পারে” ভাবা-ই যথেষ্ট না, আপনার বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছে কি না সেটাও হয়তো আসলে ভুল দিকেই নিয়ে যাচ্ছে, নিজের বায়াস সরিয়ে রেখেই যাচাই করতে হবে প্রত্যেকটি খবর। আসলে সব ফেক নিউজ-ও এইরকম-ই। এতো সুচারু ভাবে সেগুলো বানানো যে শুনে মনে হবে কী জানি হতেও তো পারে। আজকালকার সমাজে কী-ই না সম্ভব? কিন্তু ঐরকম-ই একটা ফেক নিউজ়ের ফলে গণরোষের শিকার হতে পারেন নির্দোষ কেউ, বা সাঙ্ঘাতিক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যেতে পারে কোথাও। জীবন-মরণের প্রশ্ন। ... ...

মৃত্যুর পর ইঞ্জেকশন দিয়ে ‘অভয়া’র যোনিতে ঢোকানো হয়েছিল নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তির বীর্য? এই নিয়ে ব্রেকিং 'খবর' রিপাবলিক বাংলার। তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলে ওঁরা জানাচ্ছেন, সম্ভবত মৃত্যুর পরে নির্যাতিতার শরীরে খুলের পর ইনজেক্ট করে দেওয়া হয় কারো বীর্য। ওঁরা বলেননি, কীকরে কারো বীর্য পাওয়া গেল, স্পার্ম-ব্যাংক থেকে কিনা। সেই লোকটিকে ঠিক সময়ে অকুস্থলে পাঠানোই বা হল কীকরে। যদি গণধর্ষণ হয়েই থাকে তো বাকিদের বীর্য কোথায় গেল। সেটাও কি ইনজেকশনে করে তুলে নেওয়া হয়েছিল? আই এমএর যুগ্ম সম্পাদক রঞ্জন ভট্টাচার্য শোয় ছিলেন। বললেন, ১৫০ মিলি বীর্য যোনিদ্বারে পাওয়া গেছে। এত বীর্য কিভাবে পাওয়া গেছে, এবং কীভাবে ঢোকানো হয়েছে, সেটার তদন্ত প্রয়োজন। ... ...

কর্মবিরতিতে রোগীমৃত্যু নিয়ে নানারকম দাবী শোনা যাচ্ছিল। আগের পর্বে আছে। ডাক্তারদের সংগঠন অফিশিয়ালি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি প্রকাশ করেছেন। তাতে বলা আছে, অভিষেক (এবং রোগীর পরিবারের) দাবী ঠিক নয়। কোন্নগরের ছেলেটি উপযুক্ত পরিমানে চিকিৎসা পেয়েছিল। মিথ্যা এবং বিপজ্জনক খবর ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে অভিষেকের বিরুদ্ধে। এরপর পাল্টা দাবীতে শ্রীরামপুরের মৃত ছেলেটির মায়ের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। মিডিয়ায় এসেছে এবং মিডিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও দিয়েছেন। সেখানে মা ডাক্তারদের সংগঠনের নেতা পুণ্যব্রত গুণকে ফোন করে অসত্যভাষণের অভিযোগ করছেন। ... ...

গত কালের প্রায় পূর্ণাঙ্গ আদালতের বিবরণী। এআই এর অনুবাদ নয়। কানে ইংরিজি শুনতে শুনতে তাৎক্ষণিক অনুবাদ। ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভাবানুবাদ। কিছু অংশ ছোটো করা হয়েছে। মোটামুটি কী হয়েছে বুঝতে পারবেন। তাতেও মিডিয়ার বিবরণের থেকে ভালো। কারণ, তারা শুধু পছন্দমতো টুকরো তোলে। আর আরেকটা কথা। ছাত্রদের আইনজীবী আসলে ছিলেন দুজন। তাঁরা ছাত্র এবং ডাক্তারদের প্রতিনিধি। লেখা হয়েছে ছাত্রদের আইনজীবী বলে। ... ...

ব্যাপারটা হল, আমি কবিতা খারাপ লিখিনা। কিন্তু জাস্ট সাহসের অভাব আছে বলে প্রকাশ করিনা (অনেকেই ভাবেন আমি খুব সাহসী, কিন্তু সেটা গুল)। সাহসের অভাব কেন বুঝিয়ে বলি। কদিন আগেই 'এখনও যে দর্শক, সে ব্যাটাই ধর্ষক' শুনে অনুপ্রাণিত হয়ে একটা বিখ্যাত রবীন্দ্রকাব্য লিখেছিলামঃ অন্যায় যে কহে আর অন্যায় যে সহে তব ঘৃণা তারে যেন 'তৃণ'সম দহে। ... ...

কর্মবিরতির জেরে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রবল সংকট সংক্রান্ত কিছু খবর এবং ভিডিও সামনে এসেছে। এর আগেই খবর ছিল বিচা চিকিৎসায় সাতজন রোগির মৃত্যুর (টেলিগ্রাফ)। আজক একটি খবর এসএসকেএম এর। সেখানে বলা হয়েছে, কার্ডিওলজিতে মাত্র একজন ডাক্তার উপস্থিত (বর্তমান)। আরজিকরেও রোগী ভর্তি হচ্ছেনা বলে অভিযোগ (বর্তমান)। একটি ভিডিওও সামনে এসেছে। দুর্ঘটনায় আহত হন এক যুবক। তাঁকে আরজিকরে পাঠানো হলে ভর্তি করা যায়নি। কোনো ডাক্তার ছিলেননা। বিনা চিকিৎসায় মারা যান যুবক। অভিযোগ জানিয়ে মা বলেছেন, সুবিচার চাই। আন্দোলনরত ডাক্তাররা একে অস্বীকার করে কোনো বিবৃতি এখনও দেননি। দিলে আপডেট করে দেওয়া হবে। ... ...

দুর্নীতি নিয়ে অনেক অভিযোগ আসছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পক্ষের নাম-ধাম করে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাইনি (এর আগে কিছু থাকলে দেখিয়ে দেবেন, জুড়ে দেব)। আজ ডাক্তার নেতা বিষাণ বসুর লেখা পেলাম। পুরোটা প্রাসঙ্গিক নয়, বড়ও, তাই নিজের মতো করে ছোটো করে লিখলাম। মূল পোস্টের লিংকও থাকবে নিচে, পুরোটা পড়ে নিতে পারেন। বিষাণ লিখেছেন, গত কয়েকবছর ধরেই ডাক্তারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মেডিকেল কলেজগুলোয় বিক্রি হয়। পরীক্ষার কত ঘণ্টা আগে কে প্রশ্ন পাবে, তার উপর দাম নির্ভর করে। অর্থাৎ পরীক্ষার আধঘন্টা আগে পেলে একরকম দাম, দুই ঘণ্টা আগে পেলে আরেকরকম (বেশি দাম)।কেনাবেচা কিন্তু সবার জন্য নয়। প্রশ্নপত্র বিক্রির সার্কিটের মূল কেন্দ্র - রাজ্য স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়। সুহৃতা পাল যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, তখন থেকেই এই ব্যবস্থার শুরু। সঙ্গে চক্রের পরিচালক হিসেবে মূল - অভীক দে এবং বিরূপাক্ষ বিশ্বাস। সুহৃতা উপাচার্য থাকাকালীন নিজের ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মেন্টর’ হিসেবে নিয়োগ করেন - ছেলে নিয়মিত মাসোহারাও পেত - নিয়োগ ঘটে পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ ছাড়াই। এছাড়াও ছেলের নবগঠিত কোম্পানিকে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কাউন্সিলের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের কন্ট্র্যাক্ট পাইয়ে দেন। সন্দীপ ঘোষ, সুশান্ত রায়, অভীক দে, বিরূপাক্ষ বিশ্বাস প্রমুখ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। ... ...