
এখন হয়তো কাউন্সেলিং ব্যবস্থা অনেক পাল্টেছে। আসলে এইচ আই ভি কাউন্সেলিং এর ভাবনা চিন্তা এখনকার মত তখন ছিল না। এইচ আই ভি প্রোগ্রামের খোলনলচে বদলেছে অনেক পরে। তখন অনেকেই মনে করত এইচ আই ভি আক্রান্তের যৌনজীবন থাকা উচিত না, আজও অনেকে করে। কাউন্সেলিং ব্যবস্থায় কন্ডোমের ব্যবহার করতে বলা হত নীতি পুলিশি দেখিয়ে, বলা হত, "কন্ডোম ব্যবহার না করলে, তোমার থেকে অন্যের এইচ আইভি ছড়াতে পারে" বিষয়টা যতটা সত্যি ততটাই এইচ আই ভি আক্রান্ত ব্যক্তির পুনঃসংক্রমণ বা অন্যান্য যৌনসংক্রমনের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা সব পরিসরে হত না। আজও অনেক কম হয়। দুজন এইচ আই ভি আক্রান্তেরও যে যৌনমিলনে কন্ডোম ব্যবহার প্রয়োজন তা নিয়েও কথা কমই হয়। আরও একটা অদ্ভুত বিষয় লোকজন মনে করে কারও এইচ আই ভি আছে তা বাকীদের জানালে বোধহয় বাকীরা সুরক্ষিত থাকবে। আসলে অনেকেই নিজের রক্তপরীক্ষা করায় না, নিজের অজান্তেই তারাও এইচ আই ভি-র বাহক হতে পারে তাদের থেকেও এইচ আই ভি ছড়াতে পারে এ সত্যটা মেনে নিতে মানুষজন কিছুতেই পারেনা। সকলেরই নিজেকে এইচ আই ভি বা যৌনরোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে কন্ডোমের ব্যবহার জরুরি এই সহজ তথ্যটা সকলের বোধগম্য আজও নয়।আসলে যৌনতা বিষয়টা নিয়েই তো খোলাখুলি আলোচনা আমাদের সমাজে আজও কম হয়। ... ...

আসলে তখনও পর্যন্ত সকলেই মনে করত একটা নির্দিষ্ট শ্রেণীর লোকেদেরই এইচ আই ভি হয়। আজও বহু মানুষ মনে করে এইচ আই ভি থাকে যাদের তারা তথাকথিত সুস্থদের দলে নয়। কিছু না কিছু রোগলক্ষণ দেখা দেবেই। যা সবচেয়ে ভুল। আমাদের জীবনযাত্রা আমরাই জানি। আর কেবল মাত্র একজন যৌনসঙ্গী থাকলেও এইচ আইভি হতে পারে। যদি সেই সঙ্গীর কোনও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ থেকে থাকে। আজকাল যদিও কাউন্সেলর বা চিকিৎসকরা কারও এইচ আইভি ধরা পড়লে তাকে নিয়ে বসে আলোচনা করেন। কিন্তু সেদিন সেই মুহুর্তে আমার করনীয় কি আমি নিজেও বুঝে উঠতে পারছিলাম না। ... ...

কিশোর কবি সুকান্ত এসব ছড়া লিখেছিলেন সম্ভবতঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিনগুলিতে বেলেঘাটায় বসে। আমাদের বাড়িতে রেডিও এল ১৯৫৭ সালে, তখন ক্লাস টু’তে পড়ি। এর আগে কাকারা রেডিও ভাড়া করে আনতেন মহালয়ার একদিন আগে, বাড়ির সবাই ভোর চারটেয় উঠে ‘শ্রীমহিষাসুরমর্দিনী’ শুনবে যে! সেটা আসলে কালীবাবুর ইলেক্ট্রিকের দোকানে তৈরি লোক্যাল সেট, খালি কোলকাতা ক’ স্টেশন শোনা যায়। ... ...

বিতান মনে করত ওর জায়গায় আমাকে বসিয়ে দিয়ে ও দূর থেকে নিজের মত করে সব কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করবে। আসলে সংগঠন যতই নেটওয়ার্কের অংশ হোক না কেন, প্রজেক্ট আর সংগঠন দুটো যে আলাদা বিষয় ও কিছুতেই মানতে চাইত না। এর জন্য শুধু মাত্র ওকে দোষ দিয়েও লাভ নেই। এই নেটওয়ার্কটার শুরুতেই তো গলদ ছিল। নামেই নেটওয়ার্ক, আর্থিক অনুদান পাওয়ার উদ্দেশ্যে আসলে তো কয়েকটা সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে তৈরী আর একটা সংগঠনমাত্র। যে যে সংগঠনের প্রতিনিধিরা মিলে এই নেটওয়ার্ক করেছিল তারা স্ব-স্ব এলাকায় প্রজেক্টের ড্রপ ইন সেন্টার কেই নিজের নিজের সংগঠনের অফিস মনে করত।সেখান থেকেই কেউ কেউ নিজেদের সংগঠনের কাজ চালাতো। কোনও একটি সংগঠনের রেজিষ্ট্রার্ড অফিস অ্যাড্রেস এবং এই তথাকথিত নেটওয়ার্কের রেজিষ্ট্রার্ড অফিস অ্যাড্রেসও তো এক ছিল। এমন কি অনেক এলাকার সংগঠন নেটওয়ার্কের অংশ হিসাবে প্রজেক্টের কাজকেই নিজের সংগঠনের কাজ বলে দাবি করে অন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার কাছে রিপোর্ট দাখিল করে আর্থিক সহায়তা নিত। সে এক আজব চিড়িয়াখানা। সাধে কি আর লোকে এন জি ও বললেই বাঁকা চোখে তাকায়। তবে এটাও সত্যি আমার দেখা বহু সংগঠন প্রথমদিন থেকেই আর্থিক সততার সাথে কাজ করে আসছে আজও। ওই জন্যেই বলে হাতের পাঁচটা আঙ্গুল সমান নয়, তাই মুড়ি মুড়কি এক করে দেখতে নেই। ... ...

গত ৫ তারিখে হোলি ফ্যামিলি হাসপাতালে মারা গেলেন স্ট্যান স্বামী; ৮৪ বছরের এক বুড়ো, যার পার্কিনসনগ্রস্ত হাতে জলের গেলাস ধরা মুশকিল, চামচ ধরে রাখতে পারেন না, লেখা বা টাইপ করা তো দূরের কথা। আদালত মেডিক্যাল রিপোর্ট থেকে জেনেছে যে উনি কানেও কম শুনছেন, চোখে দেখেছে যে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অভিযুক্ত লোকটি একজন দুর্বল অশক্ত বৃদ্ধ। তবু তার জামিনের আবেদন বারবার খারিজ হয়। ... ...

বিভিন্ন সময়ে শুরু থেকেই পশ্চিমবঙ্গে এল জি বি টি সংগঠনগুলোর মধ্যে আর্থিক অনুদান পাওয়া নিয়ে রেষারেষি ছিলই। তখনও ভারতবর্ষে ৩৭৭ বিদ্যমান।এল জি বি টি ইস্যুতে আর্থিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাও তো তখন অনেক কম ছিল। এমনকি যে সংগঠন তথা নেটওয়ার্কটায় আমার কর্মজীবনের শুরু, আর্থিক সহায়তা পাওয়ার উদ্দেশ্যে রাতারাতি তা তৈরির ইতিহাসেও একে অন্যকে বঞ্চিত করার মতো অনেক “কালিমাযুক্ত ঢাকঢাক গুড়গুড়” ছিল যে পরবর্তী কালে পশ্চিমবঙ্গে এল জি বি টি সংগঠনগুলোর মধ্যে আর কখনো সদ্ভাব তৈরী হলো না। এমনকি আজ যে এল জি বি টি কমিউনিটির মানুষ একে অন্যকে বিশ্বাস করেননা তার কারণও এর পিছনেই নিহিত আছে বলে আমি মনে করি। আর তাই " না আঁচালে বিশ্বাস নেই" এই আপ্তবাক্যে বিশ্বাসী ছিলাম সকলেই কমবেশি। অথচ এইচ আই ভি এডসের বাইরে গিয়ে, সংগঠনের জন্য সরাসরি আর্থিক সহায়তা আসুক এটা আমরা সকলেই চাইতাম। ... ...

একটা রক্তজমানো চিৎকার অন্ধকারকে খান খান করে দিল। আবার, আবার! তারপর সব চুপ। দু’সেকেন্ড। পকেট থেকে রিভলবার বের করে আমি দৌড়ুতে থাকি যুবরাজের আবাসের দিকে। চিৎকারটা ওদিক থেকেই আসছে, প্রথম আওয়াজটি স্পষ্টতঃ কোন নারী কন্ঠের। ... ...

আমার তখন এসব গা সওয়া হয়ে গেছে। মোটামুটি জামাকাপড় পাল্টানোর মত করে সকলে শরীর পাল্টায়, আমিও ততদিনে বুঝতে শিখেছি জোর করে আটকানো যায়না কিছুই। এ জগতে শরীরের ছড়াছড়ি, আর যে যত নষ্ট সে তত ভাল। পুরুষমানুষ আবার নষ্ট হয় নাকি। বস্তাপচা সতীত্ব আসলে ন্যাকামি। বিপ্রদাসকে এসব বলতে গেলে সে তো আর এক কাঠি ওপরে, পারলে আমাকেও বেচে টেচে দেয়। এ বৃন্দাবনে সবাই সতী। নিজেকেও বোঝাই ভালবাসা তো মনে মনে, মনটাই সব। কোলাকুলি হাত মেলানো সেটাও তো শরীর আর, গোপন অঙ্গ সেটাও শরীর। তবুও মন মানে না। এ সমাজে যেমন কেউ সম্পর্কে আছে জানার পরেও তার সঙ্গে লোকে কিছু করে বেড়ায় তেমনই তার সঙ্গীর কান ভাঙাতেও ছাড়েনা এই বলে যে "তোমার ভালবাসার মানুষটা মোটেও লয়াল নয়।" অন্যের মুখ থেকে কিছু শুনে অপ্রস্তুত হয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে আমি চাই নি কোনওদিন। ... ...

দরজার গুমগুম আওয়াজ থামল। আমি কান খাড়া করে রয়েছি। ওপাশে একটু ফিসফিস কথাবার্তা। তারপর উঁচুগলায় — আমরা, সৌরভবাবু। দরজা খুলুন। ডাইনিং হলে গিয়ে একসঙ্গে চা খাব। আমি চটপট রিভলবার আমার এয়ারব্যাগে চালান করে দিয়ে দরজাটা খুলি। প্রায় ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়েন দুই বোন - শৈবলিনী ও কুন্দনন্দিনী। ... ...

আমার বাড়ীতে না জানলেও বিতানের বাড়ীতে আমাদের সম্পর্ক গোপন ছিলনা। বিতানের মা আর দাদাভাই প্রথম থেকেই সাদরে মেনে নিয়েছিলেন আমাকে, যদিও ওর বাবার মেনে নিতে অনেক সময় লেগেছিল। সেদিন বিতানের বাড়ী গিয়ে পৌঁছে বেল বাজাতেই কাকিমা দরজা খুলল আর পিছনে কাকুর গলা, "বিতান তো বাড়ীতে নেই।" আমি দুজনকেই জড়িয়ে ধরে বললাম,"বিতান ছাড়া আমি যেন এ বাড়িতে আসিনা, আর তোমরা বুঝি আমার কেউ নয়।" আর তারপর যখন ওনাদের অবাক করে বিবাহবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানালাম সত্যিই অবাক হয়েছিলেন দুজনেই। দুজনের চোখে মুখে লজ্জা, আনন্দ ভাললাগার মিশেলে যে আলো সেদিন দেখেছিলাম তা আমার জীবনেও সেরা প্রাপ্তি। দাদাভাই ও অবাক হয়েছিল খুব। যে দিনটা ওরা জানত না, জানার কথাও ভাবেনি কোনওদিন সেটা এভাবে উদযাপন হবে কল্পনাও করেনি। আনন্দে আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল। বিতানকে ফোন করে দাদাভাই সবটাই বলেছিল। আর জীবনে প্রথম বার কেক কাটার আনন্দে চোখে জল এসেছিল কাকুরও, আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন," এভাবে আমাদের জন্য তুমি ভাবতে পার, আমি আগে কোনওদিন ভাবিনি, আমাদের দেখা সম্পর্কের বাইরে ছেলে ছেলের সম্পর্ক মানতে পারিনি, তাই হয়তো তোমাকে নিয়ে অসুবিধা ছিল। তুমি আমার ছেলের থেকেও বেশি।" কাকু কাকিমা দুজনেই চেয়েছিলেন আমাদের সম্পর্কটা যেন অটুট থাকে। যদিও ২০০৬ সালে আমার এইচ এই ভি ধরা পড়ার পর আমার আর বিতানের মাঝে সম্পর্কটা আর থাকেনি। তবে কাকু কাকিমার বিয়ের দিনটাতে আজও আমি ওই দিনটাতে ওদের ফোন করতে ভুলি না। ... ...

আমষ্টারডামে ট্যুরিজিমের সমীক্ষায় দেখা গেছে এই শহরে বাইরের দেশ থেকে যে সব পর্যটকেরা আসেন তাঁদের থাকার মেয়াদ গড়ে মোটামুটি ৩ থেকে ৪ রাত। তো এত কম সময়ের মধ্যে রেড লাইট ডিষ্ট্রিক্ট সম্পর্কে বিশাল কিছু জ্ঞান সঞ্চয় করা সম্ভব নয় যদি না আগে থেকে এই বিষয়ে ইন্টারেষ্ট নিয়ে পড়াশুনা করে থাকেন। হাতে খুব বেশী ঘুরে ফিরে দেখার সময় নেই, কিন্তু এদিকে ইচ্ছে আছে আমষ্টারডামের এই বিখ্যাত এলাকার সম্পর্কে কিছু জানতে এবং ঘুরে দেখতে। তাহলে কি করবেন? বেশীর ভাগ পর্যটক যেটা করে সেটাই – একটা রেড লাইট ডিষ্ট্রিক্ট হেঁটে দেখার গাইডেড ট্যুর নিয়ে নেবেন! ... ...

ছোটবেলায় কাজ ছিল, নতুন নতুন রাস্তায় গিয়ে সে রাস্তার নাম দেওয়া দেশের মতো করে। তখন মাথায় সবে সবে কলম্বাস! একটা কানাগলির নাম ছিল বারান্দাপুরী, সে গলির বাড়িগুলোর বারান্দা আমরা কিনে নেব। ঝিলের পাশের যে ঘরোয়া আলোছায়া রাস্তা, তার নাম দি রেখেছিল দীঘিনগর। এই দীঘিনগর নাকি অভিশপ্ত। দীঘিতে যারা যারা আজ অব্দি ডুবে গেছে, রাত্রে ঘড়ির কাঁটা বারোটা ছুঁলে জলে নাকি আজও বুদবুদ ওঠে, জলে কি যেন ভেসে ওঠে … ... ...

সত্যি কথা, পার্কসার্কাসের ওই ১/সি সার্কাস মার্কেট প্লেসের তিনকামরার ছোট্ট ফ্ল্যাট, যার ভেতরে গাদাগাদি করে আমরা অন্ততঃ আঠেরো জন থাকি, তাতে চলতে ফিরতে কারও না কারও গায়ে ধাক্কা লাগার কথা। লাগত না, তার দুটো কারণ। এক, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষের সংখ্যা কমতে থাকত। সবাই এক এক করে স্কুল-কলেজে বা অফিস-কাচারিত, একেবারে ‘যাও সবে নিজ নিজ কাজে’। ... ...

হ্যাঃ, এই নাকি যুবরাজ। সঙ্গে গতকাল পরিচয় হওয়া রাজবাড়ির ড্রাইভার শান্তিরাম না থাকলে বুশশার্ট ও প্যান্ট পরা বছর চল্লিশের ভদ্রলোকটিকে যুবরাজ বলে ভাবতে কষ্ট হত। প্ল্যাটফর্মে বেশ ভীড়, তবে ফার্স্টক্লাস কোচের সামনে তেমন কিছু না। কালো কোট গায়ে কন্ডাকটরের সঙ্গে শান্তিরাম টিকিট দেখিয়ে কিছু কথা বলছিল। তারপর দেখি ঢোলা খাকি ইউনিফর্ম পরা ... ...

আমাদের মত মানুষদের একটা বড় অংশই তথাকথিত মেয়েলি হাবভাবাপন্ন। আবার এর একটা বড় অংশ নিজেকে সিনেমার হিরোইনদের সঙ্গে তুলনা করে মনে মনে হিরোকে নিয়ে স্বপ্নও দেখে। যেমন লাক্স সাবানের বিজ্ঞাপনে তাবড় তাবড় সিনেসুন্দরীদের দেখে অনেক মানুষ লাক্স ব্যবহারে নিজের না পাওয়া বোধটা চরিতার্থ করে। মনে মনে নিজেকে ওই সিনেসুন্দরীদের সমতুল ভেবে আনন্দ পায় তেমনই এই মেয়েলি ছেলেরাও নাচ বা ঠমকে নিজেদের মনে মনে ওই হিরোইন ভাবতে থাকে। আবার বেশির ভাগেরই মনের মধ্যে মর্দ পুরুষ হিসাবে পরিশ্রমী খেটে খাওয়া পুরুষমানুষের ছবি আঁকা থাকে। আর এই মর্দ পুরুষদের বিনোদনে সিনেসু্ন্দরীর কল্প-কামের পোলাওতে ঘি ঢালতে থাকে এই সকল মেয়েলী হাবভাবের রূপান্তরকামী পুরুষরা। এ এক অদ্ভুত ইক্যুয়েশন। বেশিরভাগ মানুষই পরিবার ও সামাজিক ব্যুলিড হতে হতে পড়াশোনার চৌহদ্দি থেকে সরে আসে। অথচ একটু নাচের প্রতি আগ্রহ, মঞ্চের হাতছানি, সঙ্গে দুয়সা রোজগারের স্বপ্ন সবমিলিয়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে পিছপা হয়না আজও অনেকেই। বিহার, উত্তর প্রদেশের বিয়ে শাদী শুভ অনুষ্ঠানে বা লগনে এক প্রথা লণ্ডা নাচ। এই লন্ডা নাচে প্রতিবছরই ভিড় জমায় পূর্বভারত, নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলের রূপান্তরকামী পুরুষেরা। ... ...

এই গাঁয়ে গয়াদীন বলে এক ভদ্রজনের নিবাস। ও যোগ-বিয়োগ, গুণ-ভাগের হিসেবে ভারি দক্ষ, কারণ ওর পেশা হোল সুদখোরি। ওর একটা দোকান আছে, তাতে কাপড় কেনাবেচা হয়, আবার টাকাপয়সার লেনদেনের কারোবারও খুব চলে। ঘরে আছে যুবতী মেয়ে, ওর নাম বেলা। আর আছে এক বিধবা বোন। এক বৌ ছিল, যে মরে হেজে গেছে। বেলা মেয়েটি, দেখতে সুন্দর, স্বাস্থ্য ভাল, রামায়ণ আর মায়া-মনোহর কহানিয়া (নবকল্লোল ধরণের পত্রিকা) জাতীয় ম্যাগাজিন পড়ার মত লেখাপড়া জানে। ... ...

সেদিন বুঝেছিলাম সিঁদুর নিয়ে স্বীকৃতির যে চাহিদা মনে মনে লালন করি যা নিয়ে আগের দিন অত মনখারাপ, তা আসলে বহুগামিতার মাঝে ভালবাসার স্বীকৃতি। এ সমাজে বহুগামিতা অনেক বেশি সহজ, না আছে আইনি দায়, না আছে সন্তানধারণের দায় না আছে সামাজিক দায়। শুধু মাত্র মনটাই সব নয়, আজকের কুসুমদের শরীর দিয়েও তো ভালবাসা মেলে না। সুখের লাগি প্রেম চাইলেও প্রেম মেলেনা শুধু সুখ চলে যায়। তাই ভালবাসার মানুষকে শুধুই ভালবাসায় আগলে রাখা যায় নিজের মধ্যে এ বিশ্বাস আনা বড় কঠিন। তবে কোথাও যেন একটা জেদ তৈরী হচ্ছিল মনে মনে। কেউ জানতে চাইলে চোখে চোখ রেখে উত্তর দেওয়াটা ততদিনে অভ্যেস হয়ে গেছে। কোলকাতার আশে পাশে কাজ করা সংগঠনগুলোর সাথেও একটা বন্ধুত্ব হয়েছে কাজের সুত্রে। রিকির সূত্রে আলাপ হয়েছে সমকামী মহিলাদের নিয়ে কাজ করা পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র সংগঠন "স্যাফো" র সাথে। বইমেলায় হাতে এসেছে স্যাফোর প্রকাশিত "স্বকন্ঠে" পত্রিকা। ওদের দেখেছি সারা বইমেলার মাঠ ঘুরে ঘুরে মানুষের সাথে কথা বলে তাদের কাছে "স্বকন্ঠে" পৌঁছে দিতে কতটা কষ্ট করতে হচ্ছে। অনুভব করতে পারছি ক্রমশঃ ভালবাসার জন্য জীবনের জন্য প্রতিটা মানুষের পথ চলা। আর সে পথে শরিক হয়ে গেছি নিজের অজান্তেই। ... ...

ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুর শহরের পেনসনবাড়া এলাকায় সরকারি কোয়ার্টারের সারি। এফ ব্লকে শুধু কলেজের প্রফেসারদের দুই বেডরুমের আবাসন, সঙ্গে একটু বাগানের জায়গা। একটির গেটে লেখা - এফ/৪, শৈবলিনী চট্টোপাধ্যায়, সংস্কৃত বিভাগ। ভেতর থেকে টিভির আওয়াজ আসছে। ... ...

বাবা আমার নাম রেখেছিল কুন্দনন্দিনী, বিষবৃক্ষের নায়িকা। কিন্তু আমার বয়ে গেছে অমন ন্যাকাবোকা মেয়ে হতে। আমি একেবারে রোহিণী, হ্যাঁ, ‘কৃষ্ণকান্তের উইলে’র রোহিণী। আমি যা চাই তা আদায় করে নিতে পিছপা হই না।আমি দিদির মত অত ভাবের ঘোরে থাকি না। বেশি সংস্কৃত সাহিত্য আর বৈষ্ণব পদাবলী পড়লে অমন হয়। দিদির ওই ‘মথুরা নগরে প্রতি ঘরে ঘরে যাইব যোগিনী হইয়ে’ ভাব আমার পোষায় না। আসলে ওই যারা অমন ‘ধরি ধরি মনে করি ধরতে গেলে আর পেলাম না’ ভাবে থাকে তারা হয় নিজেকে ঠকায়, নয় হিপোক্রিট। ... ...

দলগঞ্জন সিং কোসলে বা ডি এস কোসলে রিটায়ার হওয়ার আগে বিলাসপুর জেলার ক্রাইম ব্র্যাঞ্চের বড়কর্তা ছিলেন। র্যাঙ্ক ছিল ডেপুটি সুপারিন্ডেন্ট অফ পুলিস, সংক্ষেপে ডিএসপি। উনি আইপিএস ন’ন; খেটেখুটে সারাজীবন পরিশ্রম করে রিটায়ার হবার তিনবছর আগে ডিএসপি র্যাংক পান। চাকরি আরম্ভ হয়েছিল অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর হয়ে। কোসলে রিটায়ার করেছেন বছর পাঁচ, কিন্তু এখনও ‘ডিএসপি স্যার’ সম্বোধন শুনতে ভালবাসেন। ... ...