
পারভারশান - এমনও হয়৷৷ সত্য ঘটনা অবলম্বনে৷ চরিত্রের নাম, স্থান, কাল কাল্পনিক৷ ... ...

ধাত্রী পান্নার গল্প ও কয়েকটি প্রশ্ন ... ...

পৃথিবীতে কিছু শিশু নানান ধরনের সমস্যা/অক্ষমতা নিয়ে জন্মায় এবং বড় হয়। যাদের আমরা "বিশেষ শিশু" বলে থাকি। তাদের সম্পর্কিত বিষয়ে ইংরাজী ভাষার বইপত্তর থাকলেও সহজ বাংলায় তার বেশ অভাব। যেটুকু আছে তাতে সবসময় সব সঠিক তথ্যও থাকে না। নিজের বহুবছরের অভিজ্ঞতার নিরিখে এবং এক শুভান্যুধায়ীর অনুপ্রেরনায় নানান ধরনের সমস্যা/অক্ষমতা নিয়ে সহজবোধ্য ভাবে কয়েকটি পর্বে ধারাবাহিক হিসেবে লেখার প্রচেষ্ঠা করেছি৷ আজ প্রথম পর্ব৷ ... ...

আমি অসৎ হলে বলতাম ওর গায়ের রং ছিল আবলুশ কাঠের মতন কালো। কিন্তু আমি সৎ, আর আমি জীবনে আবলুশ কাঠ দেখিনি। অনিতার গায়ের রং কালো ছিল নিঃসন্দেহে, তবে ওরকম কালো শেডের কাঠ আমি কখনো দেখি নি। ... ...

কোনো চাকা আবিষ্কার, বড়শির হুক আবিষ্কার, এমনকি আগুন ব্যবহার করতে শেখার জ্ঞান থেকেও এই সভ্যতার যাত্রা শুরু হয়নি, অপরকে সাহায্য করবার মন-মানসিকতা তৈরি হওয়া থেকেই শুরু হয়েছে এই যাত্রা। ঠিক এভাবেই অপর সম্পর্কে উদাসীনতাই যে এই যাত্রাভঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়াবে, সে বিষয়েও কোনো সন্দেহ নেই আজ আর। ... ...

প্রতিটা তারের এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্ত পর্যন্ত জুড়ে রয়েছে ঝুলতে থাকা সারি সারি ছোট বড় জলের ফোঁটা। বৃষ্টি থেমে গেছে বেশ কিছুক্ষণ আগে, তবে হাওয়া দিচ্ছে না বলে এখনও ফোঁটাগুলো আটকে আছে, মনে হল আমার জন্যই আটকে আছে। একটা ফোঁটায় আঙুল ছোঁয়াতে গিয়ে হাত লেগে গেল তারে, জলের বিন্দুরা ভিজে ছাদের ওপর টুপটুপ করে ঝরে পড়ল। ... ...

টার্মিনাল লাংস ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন মধ্য ত্রিশের তরুণ নিউরোসার্জন পল কালানিথির মেমোয়ার 'হোয়েন ব্রিদ বিকামস এয়ার'। কৃতবিদ্য মেধাবী স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির এই তরুণ নিউরোসার্জন তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনের একটি গতিময় স্মৃতিচারণই করেননি শুধু এখানে, বরং মৃত্যুর এই মহাগ্রন্থটিতে একটি পুরনো অথচ চির-আবেদনময় ডিসকোর্সকে পুনরায় পরীক্ষা করতে চেয়েছেন 'ঠিক কিসের জন্য বেঁচে থাকা যায়?' ... ...

কৃষিকাজের জন্য হেবার-পদ্ধতিতে অ্যামোনিয়া উৎপাদন আজ একটি বিশাল শিল্প। প্রতিটি মানুষের দেহে যে নাইট্রোজেন, তার সবচেয়ে বড় অংশটাই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদিত হয়। এটা খুবই সম্ভব যে, আমি এবং আমার মতো অধিকাংশ মানুষই জন্মাতই না, যদি না ফ্রিটজ হাবের, হেবার প্রসেস আবিষ্কার করতেন। ... ...

আমার একটি প্রবন্ধ সংকলন প্রকাশিত হয়েছে। যার বেশীরভাগ প্রবন্ধই এই ব্লগে প্রকাশিত। সেই বই বিষয়ে দু'চার কথা ভাগ করে নিলাম আমার পাঠকদের সাথে। নিজের বই নিয়ে ফেসবুক জাতীয় সমাজমাধ্যমে আলোচনা করাটাই রীতি। কিন্তু আমি ফেসবুক বা অন্য প্রচলিত সমাজমাধ্যম থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসন নিয়েছি। গুরুচন্ডালিই আমার একমাত্র মাধ্যম নিজের কথা বলার জন্য। আশা করি নিজের ব্লগে, নিজের বই নিয়ে লেখা একটু রীতি বহির্ভুত হলেও নীতি বহির্ভুত বলে বিবেচিত হবে না। ... ...

তিনি ছিলেন আমার রাঙামা। আসলে রাঙা ঠাকুমা। বাবার মেজ কাকিমা। কিন্তু সকলের কাছেই তিনি একডাকে পরিচিত ছিলেন এই রাঙামা নামেই। একেবারে টুকটুকে গায়ের রঙের সঙ্গে আদরের ডাকের কী মিল! মাথায় কালো চুলের বড়ি খোঁপা। ছোটখাটো চেহারা। সংসারের হাজারো কাজ সামলে ওই বয়সেও মসৃন ত্বক। আদতে দ্বারভাঙার কন্যা। কবি যদিও বলেছেন, "যব-ছাতু খেয়ে বাঁচে পশ্চিমের দীনে," পশ্চিমে কিন্তু লোকপ্রিয় ছোলার ছাতু। উত্তরবঙ্গে বলতে শুনেছি, বুটের ছাতু। তা রাঙামা ছিলেন এই ছোলার ছাতু মাখার স্পেশালিস্ট। তাঁর হাতের তারে সেই ছাতু মাখা গোল বলের মতো দলার যে কী সুস্বাদ ছিল তা এখনও ভুলতে পারি না। আজকের আধুনিক প্রজন্ম এমন সব আটপৌরে জলখাবারের মর্মই হয়ত বোঝে না। তবে আজও এই সব সাধারণ ঘরোয়া খাবার নিয়ে বসলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে পৃথিবী থেকে একে একে চলে যাওয়া প্রিয় মুখগুলি যাঁদের স্নেহ, আর ভালোবাসা আমাদের শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিকে এমন উজ্জ্বল করে রেখেছে। ... ...

আচ্ছা, ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে এই যে আমাদের এত কান্নাকাটি, এইটা আদৌ করছি কেন আমরা? শুধুই ওটা আমাদের সংবিধানে সসম্মানে উল্লিখিত আছে বলে? শুধুই কি এই কারণে যে, পশ্চিম একে এক অবশ্য-পালনীয় আদর্শ বলে মনে করে, এবং আমরা পশ্চিমকে অনুকরণ করতে ভালবাসি? শুধুই কি এই কারণে যে, ওর মধ্যে ‘নিরপেক্ষতা’ কথাটা আছে এবং সেটা শুনতে বেশ চমৎকার লাগে? ... ...

কাবলিওয়ালার ঝোলা যেমন হিং-সুর্মার গন্ধে আমোদিত হতো, এই সব ডাক্তার জ্যেঠুদের গ্ল্যাডস্টোন ব্যাগ --- না, ব্রিফ কেস নয় -- কালো বা বাদামি চামড়ার হাতে ঝোলানো গ্ল্যাডস্টোন ব্যাগ খুললেই ছড়িয়ে পড়ত স্পিরিট -- টিংচার আয়োডিন আর ইউকিলিপ্টাস অয়েলের মিশে যাওয়া একটি ঘ্রাণ। আর তখনই মনে হত -- এই তো আমি ভাল হয়ে যাচ্ছি। মা আজ বিকেলেই খেলতে যেতে দেবেন। ... ...

আমাদের দেশে এখনকার ভোগবাদ-তাড়িত মূল্যবোধহীন সমাজের সঙ্গে তখনকার ইউরোপীয় সমাজের বেজায় মিল। আজ এই করোনা অতিমারীর সময় জাল কোভিড ভ্যাকসিন, জাল স্যানিটাইজার, ইমিউনিটি বাড়ানোর বুজরুকি -- এসব যত দেখছি তত মনে পড়ে যাচ্ছে বেন জনসনের কথা। ১৬১০ সালে প্রথম মঞ্চস্থ হওয়া যাঁর 'দ্য অ্যালকেমিস্ট' নাটকটির প্রাসঙ্গিকতা আজ চারশ বছর পরেও বড় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটা সময় কলকাতার রঙ্গমঞ্চে সামাজিক, রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিচ্যুতিকে কষাঘাত করে মঞ্চস্থ হয়েছে কত বলিষ্ঠ নাটক। সামাজিক ও রাজনৈতিক ভণ্ডামি, ধর্মীয় প্রহসন, মানুষের লোভ, লালসা, দুর্নীতি, প্রতারণা, সমাজের অসঙ্গতিগুলি চোখে আঙুল দিয়ে দেখাবার জন্যে আমাদের এই বঙ্গেও তো ছিলেন হুতোম, টেকচাঁদ ঠাকুর, রূপচাঁদপক্ষী, পরে সজনীকান্ত দাস, 'অচলপত্রে'র দীপ্তেন সান্যাল, রূপদর্শী/গৌড়ানন্দ কবি। আর এই করোনার আবহে চিকিৎসা, অক্সিজেন সঙ্কট, জীবনদায়ী ওষুধ নিয়ে কালোবাজারি, কোটরগত মানুষের অসামাজিকতা, অসহায়তা আর টিকা নিয়ে ঠগবাজি, জীবিকা-খোয়ানোর মতো বিষয়গুলি নিয়ে কালজয়ী সাহিত্য বা চলচ্চিত্র কি সৃষ্টি হবে না? ... ...

সিনে নস্টাল ... ...

ফাদার্স ডে ইস্পেশাল ... ...

ভোজনরসিক বাঙালি ... ...

মানুষের চোখ যে এত সুন্দর তা এই অতিমারী না হলে হয়তো জানতেই পারতাম না। মহিলা, পুরুষ, শিশু, কিশোর, বৃদ্ধ - সবার চোখ দৃশ্যমান। নাকের নিচ থেকে ঢাকা মুখোশে, মাথা আর কপালও অনেকেরই টুপির নিচে চলে গেছে। বাজারে ঢোকার মুখের রাস্তায় পাঁচটা মিনিট দাঁড়িয়ে যান, দেখুন আশপাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষের চোখ। কারও চোখ যামিনী রায়ের ক্যানভাসের মত, কারোর আবার রবি ঠাকুরের কালোহরিণ। কারও চোখে সরু কাজলের টান, কারোর চোখের উজ্জ্বলতা আবার চশমার ভিতর দিয়েও স্পষ্ট। কারও চোখ আবার অন্য গল্পও বলে। ... ...

আব্বাকে নিয়ে একলা থাকার সময়টা আব্বা অসুস্থ হয়ে থাকার পুরো তিন বছর দশ মাস সময়ের মধ্যে অন্যতম সেরা সময় ছিল আমার। বারান্দায় বসায় দিতাম। উনি নানান দিক নির্দেশনা দিতেন আমাকে, ওই গাছের গোরায় একটু পানি দেও, এইখানে একটু পানি দেও, পাখিরা খাবে, গোসল করবে! আমি বলতাম, আল্লার দুনিয়ায় পাখির গোসলের জায়গার অভাব? আমি এইখানে পানি না দিলে গোসল হব না পাখির? উনি বলতেন হব, তবে তাতে তোমার কোন অবদান থাকব না, এই যা! আমি পানি দিতাম। আরেকদিন মাটির নিচে কি জানি একটা মাথা উঁচু করে রয়েছে, ওইটা উনার চোখে পড়ছে। ওইটা কী? আমি কী জানি ওইটা কী? বললাম আমি। কিন্তু কাজ হল না, ওইটা তুলে আনো! হুকুম হয়ে গেছে, তুলে না এনে গতি নাই। তুলে আনলাম, কী জানি একটা আবর্জনা জাতীয় কিছু ছিল। উনি হতাশ হয়ে বললেন, ধুর! আমি ভাবছি অন্য কিছু! লেবু গাছটা মরে গেল কেন এই চিন্তা সম্ভবত মারা যাওয়ার আগের দিন পর্যন্ত করে গেছেন। কেউ না বলে চুরি করে লেবু নিছে বুঝছ? এই জন্য লেবু ধরা বন্ধ হয়ে গেছে! আমি এই তত্ত্ব উড়িয়ে দিলাম। চুরি করলে লেবু গাছ মাইন্ড করে নাকি? উনি হা হা করে হাসি দিয়ে বললেন, তুমি বুঝবা এগুলা, দেও, পিঠটা একটু চুলকায় দেও! ... ...

জনা পনেরো ডাক্তার-নার্স-আয়া-ওয়ার্ডবয়ের 'টিপিন' মাখতেন হাসিমুখে। একেবারে শেষ পর্যায়ে তিনি বাড়ি থেকে নিয়ে আসা 'কিছুমিছু' আচারের তেল আর পেটমোটা লংকার অন্তর্বাসী মশলা (উনি হেসে বলতেন "মশল্লা") মেশাতেন - অতো জোড়া উৎসুক, খিদে খিদে দৃষ্টির সামনে। তারপর... যাহ্, লঙ্কা আনা হয়নি ! ... ...

আজ সন্ধ্যার ঝোঁকে মেঘ করে এসেছিল। চৈতালী মেঘ। সঙ্গে এক পশলা ভিজে বাতাস। গ্রীন-ভার্জের আধা শুকনো নারকেল গাছের টঙে বাসা বেঁধেছিল এক গর্ভিণী চিল। ডিম ফুটে কয়েকটা বাচ্চা বেরিয়েছে কিছুদিন হলো। সন্ধ্যেবেলা মা ফিরে না আসা অবধি উদগ্রীব হয়ে থাকে তারা। জীবনের প্রথম ঝোড়ো বাতাসের ছোঁয়া আজ লেগেছিল তাদের ছোট্ট পাঁজরাগুলিতে। ভয়ে জড়সড় হয়ে ক্রমাগত ডেকে যাচ্ছিল সোনালী কিংবা কালো কিংবা বাদামী ডানার মা- চিলটিকে। কেন জানি রহস্য-রোমাঞ্চর কথা মনে পড়ল আজ। ... ...